Text Size

২০২১০৪১১ ভার্চুয়াল পারমার্থিক সাফারি ৩য় দিন (শ্রী নরসিংহ সাফারি)

11 Apr 2021|Bengali|Safari Lectures|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:  আমি সকল বৈষ্ণবদের প্রণতি নিবেদন করতে চাই বাঞ্ছাকল্পতরুভ্যশ্চ কৃপাসিন্ধুভ্য এব চ। পতিতানাং পাবনেভ্যো বৈষ্ণবেভ্যো নমো নমঃ

আপনারা মায়াপুর, বিশাখাপত্তনম, সিংহাচল এবং মঙ্গল গিরিতেও ভগবান নরসিংহ দেবের বিভিন্ন পবিত্র স্থানসমূহ পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গল গিরিতে পাদদেশে সেখানে একটি নতুন মন্দির আছে যা যুধিষ্ঠির মহারাজ কর্তৃক স্থাপন করা হয়েছিল, নতুন এক মন্দির, ৫০০০ বছর আগে! মঙ্গল গিরি অনেক যুগ পুরনো সেই স্থানের লক্ষী নরসিংহদেব তুলনামূলক নতুন। কেবল ৫০০০ বছর পুরোনো! এবং সেখানে, আমার মনে হয় শ্রী শ্রীমদ্ ভক্তি ধীর দামোদর মহারাজ উল্লেখ করেছেন, দেখুন যদিও কলি যুগে, তারা গুড় ও জল মিশিয়ে দেয় তবে সেখানে কোন মৌমাছি দেখা যায় না! সাধারণত যদি আপনার কাছে গুড় থাকে তাতে অনেক মৌমাছি আসবে কিন্তু এখানে কোন মৌমাছি আসে না।

যাইহোক, আমরা সাম্প্রতিক মেলকোটের কাহানি শুনছিলাম এবং আমরা আহবিলাম সম্পর্কে শুনলাম। আসলে আমি আহবিলামে চৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রীপাদ চিহ্ন প্রতিষ্ঠা করেছি আমাদের পূর্বতন আচার্য তিনি চেয়েছিলেন শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর ১০৮টি শ্রীপাদ চিহ্ন প্রতিষ্ঠা করতে তাই তিনি প্রায় ৮টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তারপর তার কয়েকজন অনুগামীরা কিছু করেছিলেন তাই কমপক্ষে আমি দুটো করেছি, একটা আহবিলমে, আরেকটা তিরুবনন্তপুরামে সেখানে আমরা অনন্ত পদ্মনাভ স্বামীর শ্রী বিগ্রহের দর্শন করি যাইহোক, আমরা যেখানে যেখানে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু গিয়েছিলেন সেই সকল মন্দিরে তাঁর পদচিহ্ন রাখতে চাই।

ভগবানের প্রতি অবতারের এক নির্দিষ্ট ভাব আছে ভগবান নরসিংহদেব যেমন আপনারা শুনেছেন শ্রী শ্রীমদ্ ভক্তি বিঘ্ন বিনাশক নরসিংহ মহারাজের থেকে যে, তিনি আপনার ভক্তি পথের সকল বাঁধাকে দূরে করে দেন অ-ভক্তদের প্রতি তিনি সিংহের মতো অত্যন্ত হিংস্র। যেমন একটি সিংহ তার শাবকদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল এবং সে তার শাবকদের ঘাড়ে ধরে অন্যত্র নিয়ে যায় ও অত্যন্ত স্নেহভরে তাদেরকে সেখানে রেখে দেয়। তেমনি ভগবান নৃসিংহ দেব তিনি তাঁর ভক্তদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহময়। তিনি হলেন ভক্ত বত্সল কিন্তু একই সময় তিনি অসুরদের প্রতি অত্যন্ত ভয়ংকর তাই এটি বেশ আকর্ষণপূর্ন কারণ যখন নরসিংহদেব সেই সময় আবির্ভূত হয়েছিলেন তিনি হিরণ্যকশিপুকে মুক্তি প্রদান করেছিলেন সেই সময় লক্ষ্মী বা কেউ নরসিংহদেবের কাছে যেতে পারছিলেন না। কারণ তিনি অত্যন্ত ক্রোধান্বিত ছিলেন তাই ভগবান ব্রহ্মা প্রহ্লাদ মহারাজকে বলেন, “তোমার জন্য নরসিংহ দেব আবির্ভূত হয়েছেন তাই তোমার তাঁর কাছে যাওয়া উচিত এবং প্রার্থনা নিবেদন করা উচিত” তাই নরসিংহদেব প্রহ্লাদ মহারাজ ছাড়া অন্য সকলের কাছে অনধিগম্য ছিলেন।

যখন তিনি পৃথিবীর ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিলেন, তিনি নবদ্বীপ ধামকে দেখেন এবং তিনি জানতেন যে এটি তাঁর নিত্য আবাসস্থল তাই তিনি সেখানে নেমে এসেছিলেন, সেই স্থানটি নরসিংহ পল্লী নামে পরিচিত সেখানে নৃসিংহদেবের একটি শ্রী বিগ্রহ আছে এবং সেই স্থানে ভগবান নরসিংহদেব অত্যন্ত শান্ত তাই সকল দেব, সকল দেবতারা তারা একটি কুটির নির্মাণ করেন এবং সেখানে অবস্থান করেন সেই স্থানটি দেবপল্লী নামে পরিচিত। এবং প্রত্যেকদিন তারা সেখানে ভগবানের পূজার্চনা করতেন, তাদের স্ত্রীয়েরা ভগবানের জন্য প্রসাদ রন্ধন করতেন।

যখন মুরারি গুপ্ত ভগবান বিষ্ণুর সহস্র নাম পাঠ করছিলেন, তিনি ভগবান নরসিংহ দেবের নাম উচ্চারণ করেন, তখন চৈতন্য মহাপ্রভু নরসিংহ দেবের ভাব গ্রহণ করেন তিনি একটি দণ্ড নেন এবং নরসিংহ দেবের ভাব গ্রহণ করেন, তিনি একটি দণ্ড নেন এবং রাস্তায় দৌড়ে যান ও স্বজোরে বলতে থাকেন, “অসুরেরা কোথায়? অসুরেরা কোথায়?” মানুষেরা দেখে যে চৈতন্য মহাপ্রভু সেই দণ্ড নিয়ে আছেন এবং চিৎকার করে অসুরেরা কোথায় বলছেন, সেই দেখে তারা সেই স্থান থেকে পালিয়ে যায় তারপর চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি ভাবলেন, ওহ! আমি মানুষদের ভীত করেছি আমার এটি করা উচিত ছিল না তারপর শ্রীবাস ঠাকুর বলেন, “আপনার স্বরূপ দেখে, আপনার ক্রোধান্বিত রূপ দেখে, তারা সকলে উদ্ধারপ্রাপ্ত হয়েছে।” হরে কৃষ্ণ!

তো এমনই, চাঁদ কাজী যখন সংকীর্তন আন্দোলনে বাঁধা প্রদান করেছিলেন, তখন ভগবান নরসিংহ দেব স্বপ্নে তার কাছে আসেন এবং তাকে বলেন যে, “তুমি যদি আবার আমার কীর্তন বন্ধ করার চেষ্টা করো, তাহলে আমি তোমার বিনাশ করব।” এই বলে তিনি তার বক্ষ আঁচড়ে দেন এবং অবশ্য চাঁদ কাজী জানতেন না যে নরসিংহদেব কে তিনি বললেন, “একজন ব্যক্তি সিংহের মস্তক নিয়ে এবং মানুষের শরীর নিয়ে ছিলেন তিনি আমার কাছে এসেছিলেন” এবং চাঁদ কাজী তার বক্ষদেশের আঁচড় দেখান এইভাবে প্রত্যেক অবতারের একটি নির্দিষ্ট ভাব থাকে এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর অবতার হলেন কৃপাময় তিনি চান যে কিভাবে সমগ্র বিশ্বের মানুষেরা ভক্তে পরিণত হবে এই হলো তাঁর ভাব।

এখন মায়াপুরে, এই করুণা ভাবের কারণে এমনকি নরসিংহ দেবের কাছেও অত্যন্ত সহজেই যাওয়া যায় আমরা শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি বিঘ্ন বিনাশক নরসিংহ মহারাজের থেকে শুনেছি যে কিভাবে আমরা নরসিংহ দেবের কাছে আমাদের মধ্যে থাকা যেকোনো ধরনের আসুরিক প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য প্রার্থনা করতে পারি অসুরেরা উপভোগ করতে চায় এবং জড়জাগতিক শক্তির ওপর নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে চায় কিন্তু ভক্তরা ভগবানের সেবা করতে চায় প্রহ্লাদ মহারাজ ছিলেন বিশেষভাবে গোষ্ঠীয়ানন্দী। তিনি ভক্ত সংখ্যা বৃদ্ধি করতে চেয়েছিলেন, এমন কি তিনি অসুর  সন্তানদেরকেও প্রচার করেছিলেন তিনি তাদের সকলকে দিয়ে হরে কৃষ্ণ কীর্তন করিয়েছিলেন তাই আমরাও একজন প্রচারক হওয়ার জন্য এবং একইভাবে মানুষদের যত্ন নেওয়ার জন্য প্রহ্লাদ মহারাজের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হতে চাই। এবং যদিও প্রহ্লাদ মহারাজ তিনি অনেক বাঁধার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তবে তিনি হরে কৃষ্ণ কীর্তন অব্যাহত রাখতে দৃঢ় নিশ্চয় ছিলেন। কখনো কখনো মানুষেরা আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি করেন যখন আপনি জানেন বা ভাবেন যে আমি আপনার ক্ষতি করতে চাই, আমি আপনার সাথে কিছু বাজে করতে চাই? সেই ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, যদি আমি কখনো খারাপ অনুভব করি তাহলে কি করি প্রহ্লাদ মহারাজের ক্ষেত্রে, অনুভব করার সম্পর্কে আর কি বলার আছে, তার পিতা তাকে হত্যা করতে চেষ্টা করেছিলেন তাকে সাপের গর্তের মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন, উত্তপ্ত তেলের মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন, পাহাড় থেকে ফেলে দিয়েছিলেন, বিষ দিয়েছিলেন এবং আরো কত কিছু অবশেষে, তিনি বললেন আমি সন্ধ্যায় তোমাকে হত্যা করব এবং এই রকম বিভিন্ন লীলা হয়েছিল এবং সেই সব লীলাসমূহ শ্রীমদ্ভাগবতমে উল্লেখ করা আছে। ভগবান নরসিংহদেব স্তম্ভ থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন।

আমার মনে হয়, পদ্মপুরাণে সেখানে বিভিন্ন যুগের বিভিন্ন অবতার সম্পর্কে উল্লেখ করা আছে। ভগবান নরসিংহ দেব এসেছিলেন এবং হিরণ্যকশিপু সেখানে ছিলেন, তার এক বিশাল বাতানুকূল কক্ষ ছিল, যা প্রায় ৫০ কিলোমিটার লম্বা এবং ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং যদি কেউ সেখানে প্রবেশ করত, তাহলে তাদের সকল জড় জাগতিক কামনা বাসনা পরিতৃপ্ত হত। মহাভোজ এবং সমস্ত রকমের সুযোগ সুবিধা ছিল। তো হাজার হাজার মানুষেরা সেখানে সমবেত হত এবং বলতো, “জয় হিরণ্যকশিপু!” সেখানে তার সিংহাসন ছিল যেখান থেকে তিনি সকলকে দেখতে পারতেন। দেখুন এই নরসিংহ লীলা শ্রীমদ্ভাগবতমে রয়েছে এবং সেখানে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা আছে। তিনি বলেছিলেন যে, “৬টার সময় যদি তোমার ভগবান না আসে তাহলে আমি তোমাকে হত্যা করব” সেই নগরে সেই কক্ষের চারপাশে নরসিংহদেব উড়ে বেড়াচ্ছিলেন এবং যখন মানুষেরা তাঁকে দেখতে পায়, তখন তারা আশ্চর্যান্বিত হয়ে ছিল। তারপর তিনি এক বিশাল আকার হয়ে সেই কক্ষে প্রবেশ করলেন এবং উড়তে লাগলেন তারপর হিরণ্যকশিপু বললেন, “এখানে কোন পশুর প্রবেশ অনুমোদিত নয়” কিন্তু নরসিংহদেব হিরণ্যকশিপু যা বলছিলেন তার প্রতি অমনোযোগী থাকেন তারপর হিরণ্যকশিপু তার বিমান সেনা পাঠান আক্রমণের জন্য। তখন নরসিংহ দেব এই গোলমালের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং যখন সেই বিমান তাঁর কেশাগ্রে আঘাত করতে যায় তখন যেন সসহঃ!!! হয়ে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। নরসিংহ দেব সেই মিসাইল গুলিকে ধরেন এবং নিচে ছুড়ে ফেলে দেন তারপর অবশেষে হিরণ্যকশিপু তিনি ওঠেন এবং নরসিংহ দেবের সাথে যুদ্ধ করেন তখন নরসিংহদেব ঠিক সময়ে তিনি হিরণ্যকশিপুকে তাঁর কোলে নেন এবং হিরণ্যকশিপুর সিংহাসনে বসেন ও তাকে দ্বিখণ্ডিত করে দেন। দৃশ্যত সেই সময়টা ছিল সেরকম যেমন তিনি বলেছিলেন, না ভিতরে না বাইরে, দিন নয় রাত নয়, গোধূলি নরসিংহদেব সেই সময় হিরণ্যকশিপুকে দ্বিখণ্ডিত করে দেন তো এইভাবে সেখানে বিভিন্ন লীলা হয়েছিল

আমার মনে হয় এটা অত্যন্ত জরুরী, আমি নিতাই সবিনী দেবী দাসীকে সিংহাচলের মন্দিরে তার বিস্তারিত বর্ণনার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই আমি রেবতী রমন দাসকে সকল মানুষদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই এবং আমি সকল বক্তাদের যেমন পঙ্কজাঙ্ঘ্রী প্রভু, শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি বিঘ্ন বিনাশক নরসিংহ মহারাজ, শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি ধীর দামোদর স্বামী এবং তিরুবনন্তপুরম থেকে শ্রীপাদ জগত সাক্ষী প্রভুকে ধন্যবাদ জানাতে চাই

প্রত্যেককে অনুরোধ করা হচ্ছে ভগবান নরসিংহদেবের কাছে প্রার্থনা করার জন্য:

শ্রী নরসিংহ জয় নরসিংহ জয় জয় নরসিংহ!

আমরা দেখি যে কিভাবে ভগবান নরসিংহ দেব তিনি তাঁর কৃপা প্রদান করেন যাতে আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর কাছে যেতে পারি আসলে, চৈতন্য মহাপ্রভুর বিভিন্ন ষর-ভুজ রুপ আছে। আমরা জানি রাম, কৃষ্ণ এবং ভগবান চৈতন্য মহাপ্রভুর কথা তবে তাঁর ভগবান নরসিংহ দেব, কৃষ্ণ এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর একটি রূপ আছে তাই ভগবান চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপায় আমরা শুদ্ধ কৃষ্ণ প্রেম প্রাপ্ত হওয়ার আশা করি।  জগন্নাথ পুরীতে গুণ্ডিচা মন্দিরের মন্দিরের পাশে সেখানে একটি নরসিংহদেবের মন্দির আছে তাঁকে বলা হয় শান্ত নরসিংহ এবং সেখানে নরসিংহ দেবের দুটি রূপ আছে। একটি বাহ্যিক এবং একটি আভ্যন্তরীণ।

আমরা সেই মন্দিরের প্রবেশ করতে পারি। যদিও এখনো পর্যন্ত আমরা জগন্নাথ পুরী মন্দিরে বা গুণ্ডিচা মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি পাইনি অবশ্য ভারতীয়রা অনুমতি পায় কিন্তু আমরা নরসিংহ দেবের সেই মন্দিরে ঢোকার অনুমতি পাই তাই নরসিংহ দেবের কৃপায় আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর সেবা করতে পারি। হরে কৃষ্ণ!

আশা করছি সকল ভক্তরা পরের সপ্তাহে সাফারিতে যুক্ত হবেন। হরে কৃষ্ণ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions