মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী: আমরা বাংলাদেশ সাফারিতে হাজারের বেশি ভক্তদের সাথে এসেছি। স্বামীবাগ মন্দিরকে ধন্যবাদ! হরিবোল! ইসকন নরসিংদী মন্দির, হরিবোল! ৫৬ ভোগ, মহাভোজ, ১০৮ পদ! আমি প্রসাদ পেতে একটু ব্যস্ত। হরে কৃষ্ণ! হরে কৃষ্ণ!
আমি সকল বৈষ্ণবকে আমার প্রণতি নিবেদন করি। বাঞ্ছাকল্পতরুভ্যশ্চ কৃপাসিন্ধুভ্য এব চ।
পতিতানাং পাবনেভ্যো বৈষ্ণবেভ্যো নমো নমঃ।
আমরা শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি বিঘ্ন বিনাশক নরসিংহ মহারাজের থেকে শুনলাম রূপ এবং সনাতনের মহিমা কিন্তু তার বাংলাদেশের সাথে কি সংযোগ? তা বলা হয়নি। আমাদের রূপ এবং সনাতনের স্মৃতি তীর্থ আছে। যেটি রূপ এবং সনাতনের আবির্ভাব স্থান থেকে দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং বৈষ্ণব সংস্কৃতি অনুযায়ী কোন পুণ্যাত্মা সাধুর শ্রীপাট তিন মাইল ব্যাসার্ধ যুক্ত হবে তাই সনাতন স্মৃতি তীর্থ সেই দূরত্বের পরে প্রান্তদেশে অবস্থিত। তাদের পিতা মাতা ছিলেন সেখানকার জমির মালিক। তারা ছিলেন জমিদার। তাদের এক বৃহৎ জমি ছিল এবং ৯৬টি হিন্দু গ্রাম থাকার জন্য সেই জমিটি বিখ্যাত। তাই সেই গ্রামবাসীরা আমাদেরকে সেই জমি থেকে প্রায় ১০ একর দান করেছে, যা রূপ এবং সনাতনের পিতা-মাতার জমি। তাই আমরা সেখানে একটি আশ্রম এবং মন্দির তৈরি করেছি যা আমরা রূপ এবং সনাতনের স্মৃতি তীর্থ নামে ডাকি। সেই স্থান যেখানে আমরা রূপ এবং সনাতনের মহিমা স্মরণ করি। তা যশোর এবং খুলনার মাঝামাঝি অবস্থিত। আপনি যদি বেনাপোল বর্ডার থেকে যান তাহলে আপনি সেই জায়গায় যেতে পারবেন।
এছাড়াও খেতুরী গ্রাম আছে যা পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত। গঙ্গা দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে, ভাগীরথী যা মায়াপুরের পাশ দিয়ে গিয়ে সাগর দ্বীপে গেছে তাকে বলা হয় গঙ্গাসাগর এবং সেখানে কপিল দেবের শ্রীবিগ্রহ আছে। সেখানে সাগর মহারাজের পুত্ররা কপিল দেবের সাথে অসম্মানজনক আচরণ করেছিল তাই তিনি তাদেরকে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিলেন, তাই তাদের মুক্তির জন্য ভাগীরথ মহারাজ গঙ্গাকে স্বর্গ লোক থেকে এই পৃথিবীতে নামিয়ে আনেন। গঙ্গা দক্ষিনে যায়, গঙ্গার আরেকটি অংশ বাংলাদেশে যায় সেটাকে বলা হয় পদ্মা নদী। যদি কোন ভক্ত সেখানে স্নান করেন তাহলে তিনি কৃষ্ণ প্রেম প্রাপ্ত হন এবং যদি এমন কোন ব্যক্তি স্নান করেন যিনি বৈষ্ণবদের হিংসা করেন, তিনি কষ্ট পান। তাই এখানে একটি বৈপরীত্য আছে কেউ প্রেম পায়, কেউ কষ্ট পায়। চৈতন্য মহাপ্রভু পদ্মা নদীতে কৃষ্ণ প্রেম রেখে গিয়েছিলেন এবং নরোত্তম দাস সেখানে স্নান করেছিলেন ও তিনি কৃষ্ণ প্রেম প্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাই আপনি যদি ইউটিউবে খেতুরি গ্রাম সম্পর্কে খোঁজেন, সেখানে আপনি কিছু ভিডিও দেখতে পারবেন। যেমন ইতিমধ্যে বলা হয়েছে যে প্রথম গৌর পূর্ণিমা মহোৎসব সেখানে পালিত হয়েছিল এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর সকল পার্ষদরা সেখানে ছিলেন। নরোত্তম দাস তিনি বিরহে কীর্তন করছিলেন এবং তা এত গভীর ছিল যে মানুষেরা মনে করছিলেন তারা ঘি-এর উপর নৃত্য করছেন, আসতে ধীরে। হঠাৎ করে চৈতন্য মহাপ্রভু, নিত্যানন্দ প্রভু এবং তাঁদের সকল পার্ষদরা যারা এই পৃথিবী থেকে অপ্রকট হয়েছিলেন, তারা ফিরে আসেন। তারাও সেই কীর্তনে সেই ভক্তদের সঙ্গে যোগ দেন এবং প্রত্যেকে মহা আনন্দে বিভোর হয়ে উঠেছিলেন! গৌরাঙ্গ! এইভাবে তারা অনেক আনন্দ অনুভব করেছিলেন। তাই এই খেতুরী গ্রাম, এই সমস্ত অঞ্চলের মধ্যে অত্যন্ত বিশেষ। আপনি অদ্বৈতের আবির্ভাব স্থান, পূর্ণ তীর্থ, মাধবেন্দ্রপুরীর আবির্ভাব স্থানের কাছেই সেই স্থানে গিয়েছেন এবং আমরা সেই স্থানটি পেতে চেষ্টা করছি। আজকে আমরা যখন আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পূর্ণ তীর্থে যাই তখন শুনলাম তারা বলল যে তারা সেই তীর্থস্থানটি পেতে চেষ্টা করছে এবং তারা আশা করছে যে তারা সেটি পেয়ে যাবে।
বাংলাদেশে আমাদের অনেক স্থান আছে যা হল চৈতন্য মহাপ্রভুর পার্ষদদের স্থান। পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি, তিনি হলেন চৈতন্য বৃক্ষের তৃতীয় শাখা এবং তিনি বাংলাদেশে চট্টগ্রামের কাছে আবির্ভূত হয়েছিলেন। যদি ইউটিউবে ইস্কন পুণ্ডরিক ধাম দেখেন, তাহলে আপনি পুণ্ডরিক ধাম দর্শন করতে পাবেন। আমি জানিনা মরীচির কাছে সেই ভিডিওটি আছে নাকি, যেখানে বার্ষোভানবিমুরারি এবং গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর শ্রী বিগ্রহ দেখাচ্ছে। পুন্ডরিক বিদ্যানিধি পুণ্ডরিক প্রেমনিধি নামেও পরিচিত। তিনি হলেন কৃষ্ণ লীলায় বৃষভানু মহারাজ। যেহেতু রাধারানী কৃষ্ণের নিত্য সঙ্গী। তাই ওঁনার পিতা হলেন তাঁরও পিতা। তিনি তাকে বাপ বলে ডাকতেন এবং তিনি গদাধর পণ্ডিতের গুরু হন। গদাধর হলেন রাধারানীর অবতার। তাই বৃষভানু যিনি শ্রী রাধার পিতা, পুন্ডরিক বিদ্যানিধি হিসেবে তিনি শ্রী গদাধরের গুরু। আমাদের কাছে এই আবির্ভাব স্থানে আছে। মোঘল গ্রাম এবং চট্টগ্রামের কাছেই প্রায় ৫০০ মিটার দূরে বাসুদেব দত্ত এবং মুকুন্দ দত্তের আশ্রম রয়েছে। আমরা বাসুদেব দত্ত এবং মুকুন্দ দত্তের জন্য একটি মন্দির নির্মাণ করেছি, যা এখনো সেখানে আছে। আমরা এছাড়াও সেই আবির্ভাব স্থানটি লাভ করতে পেরেছি যা সেখান থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে আছে। এইভাবে বাংলাদেশে বিভিন্ন পবিত্র তীর্থ স্থান আছে। শচী দেবীর আবির্ভাব স্থান, জগন্নাথ মিশ্রের এবং মুরারি গুপ্ত, শ্রীবাস ঠাকুরের অনেক পবিত্র তীর্থস্থান সমূহ আছে এবং কুমিল্লাতে ভক্তদের ৩০০ বছর পুরনো জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা রয়েছেন। সেই শ্রী বিগ্রহ এখনো সেখানে আছে। বাংলাদেশে অনেক স্থান দেখার আছে। কালকে সকালে আমি যখন পাঠ দিচ্ছিলাম, আমি বাংলাদেশের অনেক ভক্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। যারা পাঠ শুনছিল এবং চট্টগ্রামে দুটি মন্দির রয়েছে, একটি হল প্রবর্তক এবং আরেকটি হল নন্দনকানন। তারপর আমরা সিলেট দর্শন করলাম যা শচীমাতা এবং জগন্নাথ মিশ্রের সেই স্থানের কাছে অবস্থিত। সেখানে অনেক ভক্তরা ছিলেন। সেই মন্দিরটা পাহাড়ের উপর অবস্থিত। এইভাবে বাংলাদেশে আমাদের প্রায় ১০৮টি মন্দির রয়েছে। উত্তর বাংলায় ঠাকুরগাঁও এবং অন্য পুরো এলাকায়। আমরা অত্যন্ত খুশি যে ভক্তরা বাংলাদেশের কিছু কিছু স্থানে ভ্রমণ করতে পেরেছেন। সেখানকার নেত্রীস্থানীয় ভক্তরা সেই পবিত্র স্থানসমূহ লাভের জন্য অত্যন্ত অনুরক্ত। বেনাপোলে হরিদাস ঠাকুরের আবির্ভাব স্থান আছে, আমাদের একটি স্থান রয়েছে যা সেই আবির্ভাব স্থানের অত্যন্ত কাছে অবস্থিত। এইভাবে অনেক মন্দির আছে। লোচন দাস ঠাকুর, এছাড়াও বাংলাদেশে অনেক মন্দির রয়েছে। আমরা সকল ভক্তদের চৈতন্য মহাপ্রভুর ঐতিহাসিক স্থানগুলি সংরক্ষণের জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই এবং আমরা সেই সকল ভক্তদেরকেও ধন্যবাদ জানতে চাই যারা এই বাংলাদেশ সাফারিতে এসেছেন। হরে কৃষ্ণ!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ