Text Size

২০২১০৪১০ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

10 Apr 2021|Duration: 01:18:56|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

কেয়া রানী, শ্যাম দেশ:- আমি ভক্তদের থেকে শুনেছি যে যতক্ষণ না আমরা কৃষ্ণ প্রেম পাচ্ছি, ততক্ষণ আমাদের এই জড়জগতে ফিরে আসতে হবে অথবা আমরা যতক্ষণ না ধামে জন্মগ্রহণ করতে পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের জড়জগতে আসতে হবে। কিন্তু আমি আগে শুনেছিলাম যে, যদি আমরা ধামে দেহ ত্যাগ করি, তাহলে আমরা এই জড়জগতে আর ফিরে আসি না। দয়া করে কিছু বলুন গুরুদেব। 

জয়পতাকা স্বামী:- শ্রীকৃষ্ণ ভগবদ্‌গীতার শ্লোকে বলেছেন যে যিনি তাঁর দিব্য আবির্ভাব ও কর্ম সম্পর্কে জানেন, তিনি মৃত্যুর পর তাঁর কাছে ফিরে যান। এছাড়াও কেউ যদি জীবনের শেষে হরে কৃষ্ণ জপ করে, তাহলে তিনি ভগবদ্ধামে ফিরে যান। ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার অনেক সুযোগ আছে। যদি কারো কাছে কৃষ্ণপ্রেম থাকে, তাহলে তিনি জড় জগতে থাকুন বা আধ্যাত্মিক জগতে, এর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।  

কাকুলি রানী, দামোদর দেশ:- যদি গৃহের সিংহাসনে শ্রীকৃষ্ণের সাথে দেবতাদের এবং একইসাথে গুরুপরম্পরা রাখা হয়, তাহলে কি হয়

জয়পতাকা স্বামী:- দেখো, দেবতাদের অন্ন সিংহাসনে রাখা উচিত এবং তুমি দেবতাদের যেমন বিশ্বকসেন, পার্বতী, দেবাদিদেব শিব, গণেশ, কার্তিক এবং অন্যান্য শুদ্ধ ভক্ত ও সকাম ভক্তদের কৃষ্ণের প্রসাদ নিবেদন করতে পারো। তুমি তাদেরকে প্রসাদ নিবেদন করতে পারো, কিন্তু আমাদের এটি ভাবা উচিত নয় যে তারা ভগবানের সমান বা তাঁর থেকে শ্রেষ্ঠ। তবে তারা হচ্ছেন মহান বৈষ্ণব।

ত্রিলোকিনী সখী দেবী দাসী:- এখানে আমরা দেখছি যে চৈতন্য মহাপ্রভুকে প্রচুর প্রসাদ পেতে জোর করা হয়েছিল। তাই এমনকি যদি কোন ব্যক্তি না খেতে চান, তার নিয়ম ভঙ্গ করছেতাহলে তাকে কি প্রসাদ দেওয়া ঠিক হবে?

জয়পতাকা স্বামী:- আমরা দেখি যে তুমি যখন অতিথি হয়ে আসবে, তখন লোকেরা তোমাকে প্রসাদ দেবে। এমনকি তুমি যদি তা না চাও তবুও! আমরা শুনেছি যে এমনকি যদি কেউ বলে যে তারা আর প্রসাদ চায় না, তবুও তারা দেবে। যদি তারা তাদের হাত দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করে, তাহলে তবুও তারা প্রসাদ দেবে। কেবল যদি কেউ বাঘের মত গর্জন করে ওঠে, “না! না!তাহলে ঠিক আছে, তারা আর প্রসাদ দেবে না। ভারতে অতিথি সেবকরা তোমাকে প্রসাদের জন্য জোর করে। একই সময় আমরা তা নষ্ট করতে চাই না বলে সব প্রসাদ পেয়ে নিই। তাই আমাদেরকে খাবারের থালা তুলে নিতে বা বাঘের মতো গর্জন করতে শিখতে হবে! 

হেমাঙ্গী গোপী দেবী দাসী:- এটি কিভাবে হল যে সার্বভৌম ভট্টাচার্য শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপায় প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেনএটি কি গোপীনাথ আচার্যের ইচ্ছার কারণে হয়েছিল?

জয়পতাকা স্বামী:- হুম... আকর্ষণীয় প্রশ্ন! তিনি আসলে দেবতাদের গুরু বৃহস্পতির প্রকাশ। তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য অবতীর্ণ হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি ছলিত হন এবং মায়াবাদীতে পরিণত হন। তাই চৈতন্য মহাপ্রভু তা মনে রেখেছিলেন যে তিনি তাকে সেবা করার জন্য এসেছিলেন। সেই জন্য তিনি এসে তাকে ভক্তে রূপান্তরিত করেছিলেন। আজকে আমরা পড়েছি যে কিভাবে তিনি বলেছিলেন যে তিনি তার পূর্ব জীবনে কৃষ্ণ ভক্ত ছিলেন। আমি ভাবছিলাম যে চৈতন্য মহাপ্রভু হয়ত স্মরণ করছিলেন যে তিনি পূর্ব জীবনে বৃহস্পতি ছিলেন। যাইহোককোন না কোনভাবে তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা পেয়েছিলেন। এবং আমরা আশা করি যে তুমিও সেই কৃপা পাবে। 

প্রশ্ন:- স্প্যানীশ প্রশ্ন। 

জয়পতাকা স্বামী:- তোমার চৈতন্য মহাপ্রভুর এই আন্দোলনের প্রসারে সহায়তা করা দরকার এবং তিনি তোমাকে তাঁর পার্ষদরূপে গ্রহণ করবেন। হরিবোল!

আল্লাদিনি রাই দেবী দাসী:- আমি কিভাবে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থাবলী হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স ও কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করতে পারব?  

জয়পতাকা স্বামী:- তুমি কিভাবে গ্রন্থ বিতরণ করতে পারবে? কেন নয়? সর্বপ্রথম, তুমি যদি হাসপাতালে যেতে পারো। আমি জানি না। ডাক্তার, নার্স তারাও মানুষ এবং স্বাভাবিকভাবেই তাদেরও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা দরকার। এবং তারা মানব সমাজে শরীরের সেবা করছে। আমি তাদেরকে বলেছিলাম যে তোমাদের শুধু দেহের ডাক্তার হলে চলবে না, তোমাদেরকে আত্মারও ডাক্তার হতে হবে। এবং আমার অনেক শিষ্য আছে যারা ডাক্তার এবং নার্স। এবং তারা কোনভাবে ভগবানের কৃপা পাওয়ার জন্য অধিক সুগ্রাহী।

দেবেশ্বর কৃষ্ণ দাস:- ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শুদ্ধ সেবার ক্ষেত্রে গোলক বৃন্দাবনে থাকা বা জড়জগতে থাকার মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি? 

জয়পতাকা স্বামী:- একজন শুদ্ধ ভক্ত ভগবানের সেবা করতে চায় এবং তার জন্য জড়জগতে থেকে ভগবানের সেবা করা বা আধ্যাত্মিক জগতে থেকে ভগবানের সেবা করার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কিন্তু আমরা চাই ভক্তরা যাতে জরজগৎ থেকে আধ্যাত্মিক জগতে স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু যদি কৃষ্ণ তাকে দিয়ে সংকীর্তন আন্দোলন প্রচারে সাহায্য করাতে চান, তাহলে তিনি সেটিও করতে পারেন। যা কিছু ভগবান চান।

শ্রীমতি ললিতা দেবী দাসী:- কখনও কখনও আমাদের পরমার্থিক ইচ্ছা পূর্ণ হয় না। মনে হয় যেন এর বিপরীত ফল পাচ্ছি। আমি জানি যে ধৈর্য ধরলে হয়ত তা হবে। তাই কিভাবে পারমার্থিক ইচ্ছা পূরণের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরা যাবে ও আশাবাদী হওয়া যাবে

জয়পতাকা স্বামী:- আমি জানিনা তুমি কোনটিকে পারমার্থিক ইচ্ছা হিসেবে বিবেচনা করছ। আমরা জানি যে কৃষ্ণভাবনামৃত হচ্ছে ধীর পদ্ধতি। তাই কেউ হয়ত আধ্যাত্মিকভাবে কিছু কামনা করতে পারে, কিন্তু তাতে হয়ত কিছু সময় লাগবে। এবং কেউ হয়ত এমন কিছু ইচ্ছা করতে পারে, যা শুদ্ধভাবে পারমার্থিক নয় এবং কৃষ্ণ দেখতে চান যে সেই ইচ্ছা যেন তোমার বিনাশ না করে। তাই বিষয়টি হচ্ছে তুমি এটা পাওয়ার জন্য প্রস্তুত কিনা। শ্রীমতি ললিতা দেবী দাসী, এটি মনে হচ্ছে ব্যক্তিগত প্রশ্ন, তাই তুমি আমাকে লিখে জানাতে পারো।  

গৌরাঙ্গ প্রসাদ দাস:- মহামারীর সময় আমরা অনলাইনে প্রচার করেছি, কিন্তু কোনভাবেই আমরা তাদেরকে কোন সেবায় নিযুক্ত করতে পারছি না। আপনি কি কোনভাবে আমাদেরকে এটি করতে সাহায্য করবেন

জয়পতাকা স্বামী:- দেখো মানুষেরাভগবদ্‌গীতা মেড ইজি ইন 18 ডেসকোর্সটি করছে। প্রতিদিনে এক অধ্যায় করে। এইভাবে তারা অধ্যয়ন করার সেবায় নিযুক্ত হতে পারে। কিছু ভক্তদের প্রতিদিনের জপের ক্লাস থাকে এবং তারা প্রত্যেকদিন জপ করে ও কিছু মানুষেরা তাদের সাথে একসাথে জপ করে। এইভাবে মানুষেরা বিভিন্নকাজ করে এবং তাদের আমাকে শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশাবলী পূর্ণ করতে সাহায্য করার সুযোগ আছে আর এইভাবে বিভিন্ন ভক্তরা বিভিন্নদিকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এইভাবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা করা যেতে পারে। তুমি শ্যামরসিক দাসের সাথে কথা বলতে পারো, তার হয়ত আরো কিছু ধারণা থাকতে পারে।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 28/7/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions