মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী: এই বছর এই সাফারিতে থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং আমরা ইসকন নেপালে ভ্রমণ করতে পারছি এই জন্য খুশি হয়েছি। আপনারা শুনেছেন যে নেপাল এক রহস্যময় স্থান। সেখানে অনেক মহান ব্যক্তিরা আবির্ভূত হয়েছেন এবং ভক্তদের মধ্যে রুপেশ্বর গৌর দাস, পাত্রী দাস আপনাদেরকে আসতে এবং নেপালে ভ্রমণ করার জন্য অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন। আপনারা শুনেছেন যে দুটি নদীর সংযোগে ব্যাসদেব আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাঁর পিতা ছিলেন পরাশর মুনি, যিনি এক মহান ভক্ত এবং বড় যোগী। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে কৃষ্ণ হলেন পরম পুরুষোত্তম ভগবান। তিনি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন যে ৬৪ গুণ আছে। কৃষ্ণ হলেন একমাত্র ব্যক্তি যাঁর এই ৬৪ কলা আছে। ব্রহ্মার ৫০টি গুন আছে, শিবের ৫৫টি এবং বিষ্ণুর ৬০টি গুণ আছে তবে কেবল কৃষ্ণের ৬৪ গুণ রয়েছে তাই কৃষ্ণ হলেন সর্বোচ্চ।
ব্যাসদেব, আমরা জানি যে তিনি হলেন নারদ মুনির শিষ্য, নারদ মুনি হলেন ব্রহ্মাজির শিষ্য। এই ব্যাসদেবের থেকে মাধ্বাচার্য দিব্য জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছিলেন। এইভাবে এই পরম্পরা ধারা নেমে এসেছে এবং মাধবেন্দ্র পুরী তিনি এই সম্প্রদায়ের ও তাঁর শিষ্য হলেন ঈশ্বর পুরী মহারাজ, যিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর গুরু। আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর ধারায় আছি এবং কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী এই সংকীর্তন আন্দোলনকে সমগ্র বিশ্বের কাছে নিয়ে এসেছেন। ব্যাসদেব নেপালে আবির্ভূত হয়েছিলেন তবে এটি জনক রাজ, যিনি ছিলেন সীতা দেবীর পিতা, তার রাজ্য নামে পরিচিত। সেই শহরটি এখনো সেখানে আছে, জনকপুর।
তারপর, ভগবান বুদ্ধ তিনিও নেপালে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এছাড়া শাড়িগ্রাম শিলা মূলত নেপালে প্রকাশিত হয়েছিল। আমি আশা করছিলাম যে আমাদের সাফারি গোবিন্দ কুণ্ডতে যাবে, সেই স্থানে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন এবং এটি পাহাড়ের শিখরে অবস্থিত। এখানে একটি স্থান রয়েছে যেখানে শালিগ্রাম শিলা প্রকাশিত হয়। আসলে, আমাদের মন্দিরে কাছেই মহা বিষ্ণুর শ্রীবিগ্রহ রয়েছে, তিনি শায়িত আছেন এবং তিনি হলেন বুদ্ধ নীলকন্ঠ স্বরূপ। এই কাঠমান্ডুতে অনেক মন্দির রয়েছে পশুপতি নাথ এবং এছাড়াও কিছু পুরাতন বুদ্ধ মন্দির আছে। অনেক মানুষদের কাছে এটি হল এক অস্বাভাবিক স্থান, এখানে অনেক রহস্যময় স্থান রয়েছে।
আমরা দেখি যে এখানে ভক্তরা হরে কৃষ্ণ কীর্তন করতে পছন্দ করে, যেমন পাত্রী প্রভু আপনাদেরকে দেখাচ্ছিলেন যে তিনি জপ করছিলেন, তিনি নেপালের স্থানীয় সহ-সভাপতি। আমাদের পূর্ববর্তী ভাগে, মধ্যভাগে, পর্বত এলাকায় মন্দির রয়েছে। নেপালে মাউন্ট এভারেস্ট ও সাগর মঠ রয়েছে যা হল পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত। নেপাল হল অত্যন্ত শীতল স্থান। সেখানে অনেক উচ্চ পর্বত শৃঙ্গ রয়েছ, পাদদেশে। আমাদের মন্দিরে রাধামাধবহরি, নিতাইগৌর, জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা আছেন। এখানে ভক্তরা অত্যন্ত আনন্দময় ও তারা কীর্তন করতে, নৃত্য করতে পছন্দ করে। আমরা আনন্দিত যে সকল ভক্তরা ইসকন নেপালে এসেছে। তবে আসলে, এই সব স্থানগুলি দর্শন করতে অনেক দিন সময় লাগে।
ভার্চুয়ালি আমরা এটা এক দিনে করছি। অবশ্য আমি ভাবছিলাম প্রত্যেকেই জুম কলে রয়েছে কিন্তু কিভাবে আমরা বিভিন্ন ভাষার সুযোগ প্রদান করতে পারব? চাইনিজ, হিন্দী, স্প্যানিশ এবং বিভিন্ন ভাষার মানুষেরা এখানে আছে। আমরা ভার্চুয়ালি রথযাত্রা করেছিলাম এবং সেখানে আমাদের সাথে অনেক মানুষেরা যুক্ত হয়েছিল ও আমাদের সাথে বিভিন্ন ভাষাভাষীর ৫০০জন মানুষ জুমে ছিলেন। এই ভাবে মানুষেরা রেজিস্টার করেছিল এবং কত জন রেজিস্টার করেছে তার ওপর ভিত্তি করে তারা তাদের ভাষা অনুযায়ী জুমের মধ্যে নির্দিষ্টভাবে যুক্ত হতে পেরেছিল। এটি মরীচি দাসের জন্য ভাবা অনেক কঠিন হবে যে কিভাবে তাদের সেই সুযোগ প্রদান করা যেতে পারে।
যাইহোক, নেপাল, যেহেতু আপনারা এখানে আছেন এবং এটি অত্যন্ত শীতল আবহাওয়া যুক্ত কারণ আমরা হিমালয়ের পাদদেশে রয়েছি। তাই, সেই সব মহাত্মাদের স্মরণ করুন যারা এখানে আবির্ভূত হয়েছিলেন, ও লীলা বিলাস করেছিলেন। যেমন সীতা দেবী, সেই ধনুক কোন সাধারণ ব্যক্তি তুলতে পারত না তবে ভগবান রাম সেই ধনুক তোলেন এবং প্রত্তঞ্চ টানান। তাই এইভাবে তিনি সীতা দেবীকে বিবাহ করেছিলেন। এরকম এখানে নেপালে বিভিন্ন লীলা স্থান রয়েছে। এটি এক দিব্য স্থান।
এই দিব্য সাফরির ভ্রমণে আমরা সকল ভক্তদের অভ্যর্থনা জানাতে চাই। আমাদের সত্যিকারের সাফারিতে অবশ্য কিছু তপস্যা থাকে এবং একই সাথে আমরা অনেক সার্বজনীন অনুষ্ঠান করি। আমরা ম্যাজিক শো দেখেছি, একইভাবে আমাদেরও ম্যাজিক শো হয়, নৃত্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং হরিনাম হয়। আমরা বিভিন্ন শহরে ভ্রমণ করি, আমাদের একটি সাফারি গান রয়েছে, “Going on a safari for another day, chanting dancing, staging a play” এই একটা জিনিস যা এই ভার্চুয়াল সাফারিতে অনুপস্থিত অনুভূত হচ্ছে। সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলি আমরা লোকেদের কাছে দেখাতে পারছি না। আমরা তাদেরকে বলি যে আমাদের সাথে ৩০, ৪০ বা ৪৫টি দেশের মানুষ রয়েছে আর সেখানে তারা তাদের দেশ এবং কৃষ্ণভাবনামৃত সম্পর্কে বলে। তাই এটি মানুষদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। দুর্ভাগ্যবশত এই ভার্চুয়াল সাফারিতে আমাদের সার্বজনীন অনুষ্ঠান হচ্ছে না। আমরা আশা করি যে, আমরা আপনাদের এই সমস্ত পবিত্র স্থানসমূহে নিয়ে গিয়ে সেই মহানন্দের স্বাদ আস্বাদন করাতে পারবো। আপনি দেখবেন যে নেপাল এলাকায় কিভাবে মানুষেরা অত্যন্ত সরল এবং খুব ভালো। তারা জানে না যে আমরা তাদের দেশে ভ্রমণ করছি। আমি নিশ্চিত যে যারা এটা জানে তারা অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছে।
নেপালে এটা অত্যন্ত অনন্য যে এখানে মানুষেরা সেইসব বাড়িতে বাস করে যার ছাদের দেওয়াল ৭ ফিট লম্বা। আমার জন্য এটা বদ্ধ অনুভূতি পূর্ণ কারণ আমি ৬ ফিট লম্বা এবং তা আমার মাথায় লাগে । তাই মানুষেরা অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই পরিস্থিতিতে বসবাস করেন আর আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে ভক্তরা বিমানবন্দরে কীর্তন, জপ এবং নৃত্য করেছিলেন। তাই তা ছিল এক দিব্য পরিবেশ এবং সেখানে তাদের রথযাত্রা হয়েছিল। হাজার হাজার মানুষেরা তাতে অংশগ্রহণ করেছিলেন যেমন আপনি দেখবেন এখানে তরুণরা কৃষ্ণভাবনামৃতে অত্যন্ত আগ্রহী। এইভাবে নেপাল হল এক অনন্য স্থান এবং আমরা এখানে সাফারিতে থাকতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। আমার এর থেকে বেশি আর কি বলার আছে?
আপনাদের ধন্যবাদ আমার জন্মদিনের শুভেচ্ছা প্রদানের জন্য। সেটি ছিল এক সৌর দিবস তাই আমি যখন জন্মগ্রহণ করেছিলাম সেই তিথি আসতে বাকি আছে। কারণ যেহেতু গত বছর সেখানে পুরুষোত্তম মাস ছিল তাই এইবারে সেই তিথিটি রাম নবমীর পর, এখন থেকে প্রায় দু সপ্তাহ পরে পড়েছে। এটি এভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু প্রভুপাদ আমাকে আগে বলেছিলেন যে, আমি ভারতে জন্মগ্রহণ করেছিলাম এবং কৃষ্ণের কৃপায় আমি এই জন্ম পেয়েছি তাই তারপর আমি আবার ভারতে ফিরে আসি ও শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশে ভারতীয় হই। সেই কারণে আমি যখন নেপালে যাই, তখন আমার ভিসা দরকার হয় না। ভারতীয়দের ভিসা লাগে না, নেপাল এক সুন্দর স্থান। মানুষেরা খুব ভালো। আমরা আনন্দিত যে প্রত্যেকে প্রথম দিনের নেপাল সাফারিতে অংশগ্রহণ করতে পেরেছে।
কালকে আমরা বাংলাদেশ সাফারিতে যাবো। বাংলাদেশে চৈতন্য মহাপ্রভুর অনেক পার্ষদরা আবির্ভূত হয়েছিলেন। আমরা আশা করি যে নেপালের প্রতি নগর ও গ্রামে কীর্তন হবে। যেমন শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু চেয়েছিলেন, সমগ্র বিশ্বতে তাঁর নাম কীর্তন হবে, প্রতি নগর আদি গ্রামে। এখন নেপাল হল সেই স্থান যেখানে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারিত হচ্ছে। এবং নেপালের মানুষেরা যদি পুরো বিশ্বের ভক্তদেরকে দেখে তাহলে তারা অনুপ্রাণিত হবে কারণ আগে এটি ছিল হিন্দু রাজ্য কিন্তু তারা জানতো না যে পুরো বিশ্বের মানুষেরা এই কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলন করছে! তবে এখন তারা তা জানে আর এটি তাদের জন্য এক বিরাট অহংকারের বিষয়। এইভাবে কৃষ্ণভাবনামৃত তাদেরকে এক অদ্বিতীয় পন্থা উপহার দিয়েছে। তাই যারা নেপালে ভ্রমণ করছে আমরা সেই সকল ভক্তদেরকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এবং আশা করি যে যখন আপনার সময় হবে, তখন শারীরিকভাবে আপনি নেপালে যেতে পারবেন। হরে কৃষ্ণ!
এই সাফারি অনুষ্ঠানটি করার জন্য ধন্যবাদ! কালকে আপনারা অদ্বৈত আচার্য, শ্রীবাস ঠাকুর, গদাধর পণ্ডিত, পুণ্ডরীক বিদ্যানিধি, রূপ এবং সনাতন, হরিদাস ঠাকুর, নরোত্তম দাস ঠাকুর ও অন্যান্যদের আবির্ভাব স্থান দেখবেন। অতএব কালকে বাংলাদেশ সাফারির সুযোগটি হাতছাড়া করবেন না। হরে কৃষ্ণ!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address