Text Size

২০২১০৩২৮ শ্রী গৌর পূর্নিমা: শ্রীমদ্ভাগবত ১১.৫.৩২

28 Mar 2021|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

 

শ্রীমদ্ভাগবতম ১১.৫.৩২

কৃষ্ণবর্ণং ত্বিষাকৃষ্ণং সাঙ্গোপাঙ্গাস্ত্রপার্ষদম্ 
যজ্ঞৈঃ সঙ্কীর্তনপ্রায়ৈর্যজন্তি হি সুমেধসঃ 

অনুবাদ: কলিযুগে যেসব বুদ্ধিমান মানুষেরা ভগবৎ-আরাধনার উদ্দেশ্যে সঙ্কীর্তন যজ্ঞানুষ্ঠান করেন, তাঁরা অবিরাম শ্রীকৃষ্ণের নামগানের মাধ্যমে ভগবৎ-অবতারের আরাধনা করে থাকেন। যদিও তাঁর দেহ কৃষ্ণবর্ণ নয়, তাহলেও তিনি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর সঙ্গে পার্ষদরূপে রয়েছেন তাঁর অন্তরঙ্গ সঙ্গীরা, সেবকগণ, অস্ত্র এবং সহযোগীবৃন্দ। 

তাৎপর্য: এই একই শ্লোক শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থের আদিলীলা খণ্ড, ৩য় অধ্যায়ের ৫২ শ্লোকে শ্রী কৃষ্ণ দাস কবিরাজ কর্তৃক উল্লেখিত হয়েছে। এই শ্লোকটির নিন্মরূপ ব্যাখ্যা দিয়েছেন কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ।এই শ্লোকটি শ্রীমদ্ভাগবত (১১/৫/৩২) থেকে উদ্ধৃত হয়েছে। শ্রীল জীব গোস্বামী ভাগবতের ভাষ্য প্রদান প্রসঙ্গেকর্মসন্দর্ভনামে অভিহিত রচনার মাধ্যমে এই শ্লোকটির ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গৌর বর্ণ ধারণ করেও আবির্ভূত হন। সেই গৌর বর্ণ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হলেন শ্রীচৈতন্যদেব, যিনি এই যুগের বুদ্ধিমান মানুষদের কাছে পূজিত হয়ে থাকেন। গর্গ মুনিও শ্রীমদ্ভাগবতে তা প্রতিপন্ন করেছে, যিনি বলেছেন যে, শিশু কৃষ্ণ যদিও কৃষ্ণবর্ণের, তাহলেও তিনি অন্য তিনটি বর্ণেও আবির্ভূত হন — যেমন, রক্তবর্ণ, শ্বেতবর্ণ এবং গৌরবর্ণ। শ্রীভগবান তাঁর শ্বেত এবং রক্ত বর্ণের রূপ প্রকাশ করেন যথাক্রমে সত্য ও ত্রেতা যুগে। গৌরহরি নামে শ্রদ্ধান্বিত শ্রীচৈতন্যদেব আবির্ভূত না হওয়া পর্যন্ত শ্রীভগবান গৌরবর্ণ প্রকাশের ইচ্ছা করেননি। 

“শ্রীল জীব গোস্বামী ব্যাখ্যা করেছেন যে, কৃষ্ণবর্ণ মানে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য। কৃষ্ণবর্ণম্ এবং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য সমমর্যাদাসম্পন্ন অভিধা। শ্রীকৃষ্ণ নামটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু উভয়ের সাথেই আবির্ভূত হন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু পরম পুরুষোত্তম শ্রীভগবান, তবে তিনি সদাসর্বদাই শ্রীকৃষ্ণের লীলা বর্ণনায় নিয়োজিত থাকেন এবং সেইভাবেই তাঁর নাম ও রূপের কীর্তন ও মননের দিব্য আনন্দ আস্বাদন করে থাকেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং সর্বশ্রেষ্ঠ ভগবৎ-বাণী প্রচারের উদ্দেশ্যে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুরূপে আবির্ভূত হন। বর্ণয়তি মানে ‘উচ্চারণ করেন’ অথবা ‘বর্ণনা করেন’ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নিয়তই শ্রীকৃষ্ণের পুণ্য পবিত্র নামকীর্তন করেন এবং তাঁর বর্ণনাও করেন, এবং যেহেতু তিনি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ, তাই তাঁর দর্শন যিনিই লাভ করেন, তিনিও স্বপ্রবৃত্ত হয়ে শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র নাম জপকীর্তন করতে থাকেন এবং পরে সকলের কাছে তা বর্ণনাও করেন। তিনি মানুষকে দিব্য কৃষ্ণভাবনামৃতে সঞ্জীবিত করেন, যার ফলে কীর্তনকারী দিব্য আনন্দে মগ্ন হন। সর্ব বিষয়ে তাই তিনি প্রত্যেকের সামনেই রূপ শব্দের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণরূপে আবির্ভূত হন। শ্রীচেতন্য মহাপ্রভুকে দর্শনমাত্রই মানুষ শ্রীকৃষকে স্মরণ করে থাকে। অতএব তাঁকে বিষ্ণুতত্ব রূপে মর্যাদা দিতে পারা যায়। পক্ষান্তরে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রতুই স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ

“সাঙ্গোপাঙ্গাস্ত্রপার্ষদম্ শব্দটি আরও বোঝায় যে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর শরীর সদা সর্বদাই চন্দনকাষ্ঠের অলঙ্কারাদি দ্বারা শোভিত হয়ে থাকে এবং চন্দনচর্চিত হয়। তাঁর অপরূপ সৌন্দর্যের মাধ্যমে তিনি তাঁর যুগের সকল মানুষকেই অভিভূত করেন। অন্যান্য আবির্ভাবকালে শ্রীভগবান কখনও আসুরিক জীবকে পরাভূত করার জন্য অস্ত্রশস্ত্রাদি প্রয়োগ করেন, কিন্ত এইযুগে শ্রীভগবান সেইগুলি তাঁর সর্বাকর্ষক শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু রূপে অবদমিত করেন। শ্রীল জীব গোস্বামী ব্যাখ্যা করেছেন যে, অসুরাদি দমনের উদ্দেশ্যেই তাঁর রূপসৌন্দর্য হয়েছে তাঁর অস্ত্র। যেহেতু তিনি পরম মনোহর চিত্রহারী রূপময়, তাই বোঝা যায় যে, তাঁর পার্ষদ হয়ে সমস্ত দেবতাগণও তাঁর সাথে বিদ্যমান হয়েছিলেন। তাঁর ক্রিয়াকর্মগুলি ছিল অসামান্য এবং তাঁর পার্ষদবর্গও অত্যাশ্চর্য যখন তিনি সংকীর্তন আন্দোলন প্রচার করেন, তখন তিনি বহু বিশিষ্ট বিদ্বান পণ্ডিত ও আচারযবর্গকে বিশেষত বঙ্গদেশ ও উড়ষ্যা থেকে আকৃষ্ট করেছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভু সর্বদাই শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু, শ্রীঅদ্বৈত আচার্য প্রভু, শ্রীগদাধর পণ্ডিত এবং শ্রীবাস পণ্ডিতের মতো একান্ত পার্ষদবর্গের সঙ্গলাভ করতেন।

“শ্রীল জীব গোস্বামী বৈদিক শাস্ত্র থেকে একটি শ্লোক উদ্ধৃত করে বলেছেন যে, যজ্ঞানুষ্ঠান কিংবা উৎসবানুষ্ঠানের কোনই প্রয়োজন নেই। তিনি অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের বাহ্যিক আড়ম্বরপূরণ প্রদর্শন না করে সমস্ত মানুষ জাতিধর্মবর্ণনির্বিশেষে হরেকৃষ্ণ নামজপকীর্তনের মাধ্যমে সমবেতভাবে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আরাধনা করতে পারেন। কৃষণবর্ণং ত্বিষাকৃষ্ণং শব্দসমষ্টি থেকে বোঝায় যে, শ্রীকৃষ্ণনামেই প্রাধান্য দিতে হবে। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কৃষ্ণভাবনামৃত শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং কৃষ্ণনাম কীর্তন করতেন। সুতরাং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আরাধনা করতে হলে “হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে / হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে” মহামন্ত্র প্রত্যেককেই সঙ্ঘবদ্ধভাবে জপকীর্তন করতে হবে। গির্জায়, মন্দিরে কিংবা মসজিদে গিয়ে সকলের পক্ষে ভগবৎ-আরাধনার কথা প্রচার করা আর সম্ভব নয়, কারণ মানুষ তাতে সব আগ্রহ হারিয়েছে কিন্তু মানুষ সর্বত্রই সকল সময়ে হরেকৃষ্ণ নাম জপ ও কীর্তন করতে পারে। এইভাবেই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আরাধনার মাধ্যমে, তারা সর্বোচ্চ কর্তব্য সাধন করতে পারবে এবং পরমেশ্বর ভগবানের প্রীতিসাধনের জন্য সর্বোত্তম ধর্মকর্মের উদ্দেশ্য সাধন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠবে।

“শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রখ্যাত শিষ্য শ্রীল সার্বভৌম ভট্টাচার্য বলেছিলেন, “দিব্য ভগবদ্ভক্তি সেবা অনুশীলনের নীতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ফলে, শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ভগবদ্ভক্তির পদ্ধতি আবার বিতরণের উদ্দেশ্যে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি এমনই কৃপাময় যে, তিনি কৃষ্ণপ্রেম বিতরণ করছেন। যেভাবে পদ্মফুলের দিকে মৌমাছির গুণ্‌গুণ্‌ করে আকৃষ্ট হয়ে থাকে, সেইভাবেই প্রত্যেক মানুষ তাঁর পাদপদ্মের দিকে কৃষ্ণনামের আকর্ষণে এগিয়ে যাবে।”

মহাভারতের দানধর্ম পর্বের ১৮৯ অধ্যায়ের মধ্যে উল্লিখিত শ্রীবিষ্ণুসহস্রনাম অংশেও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অবতারের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রীল জীব গোস্বামী এই প্রসঙ্গটি নিন্মরূপে উদ্ধৃত করেছেন —সুবর্ণবর্ণো হেমাঙ্গো বরাঙ্গশ্চন্দনাঙ্গদী।—তাঁর পূর্বলীলায় তিনি গৌরবর্ণ গৃহস্থ রূপে আবির্ভূত হন। তাঁর সুন্দর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, এবং তাঁর চন্দনচর্চিত দেহ গলিত স্বর্ণের মতো উজ্জ্বল মনে হত।” তিনি আরও উদ্ধৃত করেছেন যে, সন্ন্যাসকৃচ্ছ্রমঃ শান্তো নিষ্ঠাশান্তিপরায়ণঃ—তাঁর পরবর্তী লীলায় তিনি সন্ন্যাস-আশ্রম গ্রহণ করেন, এবং তিনি শান্ত ও নিষ্ঠাবান হয়ে ওঠেন। নিরাকার নির্বিশেষবাদী অভক্তদের স্তব্ধ করে দিয়ে তিনি পরম শান্তি এবং ভক্তির পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন।”

জয়পতাকা স্বামী:  গৌরাঙ্গ! আজ অতি পবিত্র দিন! এই শ্লোকটি বর্ণনা করে যে আমরা কত ভাগ্যবান। ভগবান কৃষ্ণ এসেছেন আমাদের কৃষ্ণপ্রেম প্রদান করার জন্য। আগে কৃষ্ণের কৃপা পেতে হলে কাউকে শরণাগত হতে হতো। কিন্তু এখন চৈতন্য মহাপ্রভু কৃষ্ণপ্রেম প্রদান করছেন। কি বিশাল সুযোগ! যদি আমরা এই সুযোগটি গ্রহণ না করি, তাহলে এটি কিছুই না মহামূর্খতা মাত্র। চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি এসেছিলেন, নাম কীর্তন এবং নৃত্য করেছিলেন। তিনি প্রত্যেককে আলিঙ্গন করতেন এবং কৃষ্ণ প্রেম বিতরণ করতেন। সার্বভৌম ভট্টাচার্য ছিলেন মায়াবাদী। তারপর চৈতন্য মহাপ্রভু অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তাকে পরিবর্তন করেন। এক সপ্তাহের মধ্যে বা এইরকম সময়ের মধ্যে তিনি সার্বভৌম ভট্টাচার্যকে শুদ্ধ ভক্তে পরিণত করেন! এমনকি যখন তিনি মঙ্গলারতির পর তার কক্ষে আসেনতিনি তাকে কিছু মহাপ্রসাদ দেনএবং সার্বভৌম ভট্টাচার্য তার দন্ত মার্জন না করে, কোনোকিছু না করেই তা গ্রহণ করেন, তিনি তখনও বিছানাতেই ছিলেন। 

তারপর চৈতন্য মহাপ্রভু জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি আপনার স্মার্ত ব্রাহ্মণ হওয়ার নীতি অনুসরণ করলেন না?”

তারপর সার্বভৌম ভট্টাচার্য একটি শ্লোক উদৃতি করলেন, এবং বললেন, “যখনই আমরা কৃষ্ণ প্রসাদ পাইতৎক্ষণাৎ আমাদের তা গ্রহণ করা উচিত” এইভাবে, তিনি সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়েছিলেন এবং একজন ভক্তে পরিণত হন। 

তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন চন্দ্র গ্রহণের এই বিশেষ জ্যোতিষশাস্ত্রীয় সময়ে বা তিথিতে। সেই চন্দ্রগ্রহণের সময়, হিন্দুরা সকলে নদীতে নেমে ভগবানের নাম উচ্চারণ করছিলেন। কিন্তু প্রথাটি এমন ছিল যে একজনের ভগবানের দিব্যনাম উচ্চস্বরে কীর্তন করা উচিত নয়। কিন্তু একজন যখন গঙ্গায় থাকবেতখন ঠিক আছে। তাই, যখন চৈতন্য মহাপ্রভু এই জগতে আবির্ভূত হলেনপ্রত্যেকে ভগবানের দিব্যনাম জপ করছিলেন! এমনকি নবদ্বীপে অহিন্দুরা উপহাস করছিলেন যে কিভাবে হিন্দুরা জপ করছে হরেকৃষ্ণ! হরেকৃষ্ণ! হা! হা! এইভাবে, আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা স্মরণ করি এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর উপর মনোনিবেশও করি। তাই, এই কারণে আমরা প্রত্যেকদিন চৈতন্য মহাপ্রভুর সম্পর্কে আলোচনা করি। কারণ তাঁর লীলাগুলি আলোচনা করার মাধ্যমেআমরা তাঁর উপর মনোনিবেশ করি। এখন যখন চৈতন্য মহাপ্রভু আবির্ভূত হনতখন সেই সময় প্রতিবেশী মহিলারা শচীমাতার গৃহে আসেন এবং দেখেন যে তিনি একজন সুবর্ণ বালককে জন্ম দিয়েছেন। এমনকি উচ্চ গ্রহমন্ডলী থেকেও দেবীরা আসতেন এবং জাগতিক ব্রাহ্মণীদের রূপ গ্রহণ করতেন। 

ভগবান এ জগতে আধ্যাত্মিক জগত থেকে এসেছেন। নবদ্বীপে তিনি যেখানে আবির্ভূত হয়েছেন সেই স্থানটির নাম যোগ পীঠযেখানে ভগবান নিজেকে এই জগতের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন। অন্য যুগে, প্রভু পরম পুরুষোত্তম ভগবান রূপে আসেন। এই কারনে তাঁর অপর নাম হল ত্রিযুগ। কিন্তু এই কলিযুগে, তিনি আচ্ছাদিত হয়ে আবির্ভূত হন। তিনি ভক্ত রূপে আসেন। তাই, পরমেশ্বর ভগবানের সান্নিধ্য লাভ করার জন্য এটি হলো আমাদের কাছে এক দুর্লভ সুযোগ। যখন ভাগী মহারাজ গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে নামিয়ে আনেনতখন সেই সময় গঙ্গা জাহ্নু মুনির আশ্রম ভাসিয়ে দেন। তাই জাহ্নু মুনি সম্পূর্ণ গঙ্গাকে গ্রাস করেন! ভাগী মহারাজ, তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন, “গঙ্গা কোথায় গেল?!” তাই, নবদ্বীপের নয়টি দ্বীপের মধ্যে একটি হল জাহ্নু দ্বীপ। এবং তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে জাহ্নু মুনি গঙ্গাকে গ্রাস করেছেন। 

তিনি জাহ্নু মুনি কে জিজ্ঞেস করলেন, “দয়া করে গঙ্গাকে পুনরায় ফিরিয়ে দিন। আমি তাঁকে আপনার আশ্রম থেকে দূরে নিয়ে যাব।

কিন্তু তিনি বললেন, “আমি দুঃখিত, আমি তাঁকে গ্রাস করে ফেলেছি!!

তারপর ভাগী মহারাজ বললেন, “যদি আপনি গঙ্গাকে গ্রাস করতে পারেনতাহলে আপনি তাকে পুনরায় সৃষ্টি করতেও পারবেন।” 

তারপর জাহ্নু মুনি তার হাটু থেকে গঙ্গাকে পুনরায় প্রকাশিত করেন। সেই কারণেতিনি জাহ্নবী নামে পরিচিত। কিন্তু তারপর চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব স্থানে তিনি থেমে যান। ভাগী মহারাজ, অনেক সমস্যায় ছিলেন। 

গঙ্গা বললেন যে, “খুব শীঘ্রই তাঁর আবির্ভাব তিথি আসছে এবং তা উদযাপন করার জন্য আমি এখানে থাকবো।  কারণ যে এই তিথিতে স্নান করবে, তারা কৃষ্ণপ্রেম প্রাপ্ত হবেন।যদি তারা গৌরাঙ্গের আবির্ভাব স্থানে গঙ্গায় স্নান করেন।  এখানে সর্বদা সমস্যা যেমন আজ হল হলি এবং গঙ্গা রঙ্গিন যদি আপনি গঙ্গায় স্নান করতে যান। অন্ততপক্ষে দিনের মধ্য সময় পর্যন্ত। তাহলে, আমরা দেখতে পাই চৈতন্য মহাপ্রভুর সাথে গঙ্গার বিশেষ কিছু লীলা আছে। প্রতিদিন তিনি যেতেন এবং গঙ্গায় স্নান করতেন। 

এবং যখন তিনি শ্রীবাস ঠাকুরের গৃহে কীর্তন করছিলেনতখন শ্রীবাস ঠাকুরের গৃহপরিচারিকা, দুঃখিনী তিনি পাত্রে করে গঙ্গার জল আনতেন। সেই গঙ্গা জল দিয়ে তারা চৈতন্য মহাপ্রভুর অভিষেক করতেন। চৈতন্য মহাপ্রভু বললেন যে, “ তাকে দুঃখিনী বলে ডাকা উচিত নয়, তাকে সুখিনী বলে ডাকা উচিত।”  চৈতন্য মহাপ্রভু ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম সর্বত্র প্রচার হইবে মোর নাম —  আমার নাম পৃথিবীর প্রতি নগরে ও গ্রামে প্রচারিত হবে। শ্রীল প্রভুপাদ সেটির সূচনা করেনএখন আমাদের সেটি সমাপ্ত করতে হবে! এই মহামারি লোকেদের বড় পরীক্ষায় ফেলেছে। এটা আমাদের সুযোগ যে আমরা প্রত্যেককে দিয়ে ভগবানের দিব্যনাম কীর্তন করাব। 

এটি হলো অত্যন্ত বিশেষ দিন।অনুত্তম প্রভুর [এসিবিএসপি] অভিমত অনুসারে, চৈতন্য মহাপ্রভু এই জগতে ৫৩৫ বছর আগে আবির্ভূত হয়েছিলেন! এইবার হল শ্রীল প্রভুপাদের ১২৫তম আবির্ভাব তিথি। এই বছর আমাদের উচিত শ্রীল প্রভুপাদ এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর এই আন্দোলনের বিস্তারে মনোনিবেশ করা। শ্রীল প্রভুপাদের ইতিহাস বিস্তার করা এবং তার সম্পর্কে বর্ণনা করা মানে চৈতন্য মহাপ্রভুর মহিমা বর্ণনা করা। কারণ শ্রীল প্রভুপাদের আবির্ভাব হয়েছিল শুধু চৈতন্য মহাপ্রভুর সেবার জন্য।

চৈতন্য মহাপ্রভু সকলকে ভগবানের দিব্যনাম কীর্তন করার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন, সে তিনি গৃহস্থ হন বা সন্ন্যাসী। শঙ্করাচার্য, তিনি শিক্ষা দিয়েছেন যদি আপনি মুক্তি পেতে চান, তাহলে আপনাকে সন্ন্যাসী হতে হবে। চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেনগৃহে থাক বনে থাক সদা হরি বলে ডাক —  চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন আপনি গৃহে থাকুন অথবা বনে সর্বদা ভগবান শ্রীহরির নাম জপ করুন। তাহলে আপনি কৃষ্ণ প্রেম পেতে পারবেন যেটি হল মুক্তির ওপরে! এটি হলো এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামীর শিক্ষা এবং শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের শিক্ষা। শ্রীল প্রভুপাদ চেয়েছিলেন যে শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের সকল অনুসারীদের এই সংকীর্তন আন্দোলনের বিস্তার করার জন্য একে অপরের সাথে সহযোগিতা করা উচিত। যাইহোক, এটি হলো আমাদের ইস্‌কনে আদেশপত্র। 

আমরা দেখি যে চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেনভারত ভূমিতে হইল মনুষ্য জন্ম যার/ জন্ম সার্থক করি করো পর উপকার। আমরা দেখি যে চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন যে যিনি ভারতের পবিত্র ভূমিতে জন্মগ্রহণ করেছেনতাদের সকলের উচিত নিজের জীবন সার্থক করা এবং অন্যদের হিত কার্যে নিযুক্ত হওয়া। তাই আমরা দেখতে পাই যে বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন ভক্তরা এখন ভারতে আসছেন। এটি তাদের কর্তব্য যে নিজেদের জীবন সার্থক করা এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর বাণী প্রসার করা। 

এখন আটটা বাজে, দর্শন আরতির সময়। মায়াপুরের শ্রীবিগ্রহগণ একটি নতুন পোশাক পরিধান করেছেন! একটি ছোট বিরতির পর আমি পূর্বভাগের ভক্তদের দর্শন দেব। 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions