২০২১০৩১৯ নবদ্বীপ মণ্ডল পরিক্রমা তৃতীয় দিবসে চম্পাহাট্টিতে ভক্তদের প্রদত্ত প্রবচন
নমো ওঁবিষ্ণুপাদায় কৃষ্ণপ্রেষ্ঠায় ভূতলে।
শ্রীমতে ভক্তিবেদান্ত স্বামীনিতি নামিনে॥
নমস্তে সারস্বতে দেবে গৌরবাণী প্রচারিনে।
নির্বিশেষ-শুন্যবাদী পাশ্চাত্যদেশ তারিণে॥
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
আপনারা গৌর গদাধর মন্দিরে এসেছেন। আপনারা এই শ্রীবিগ্রহের মহিমা শ্রবণ করেছেন। আপনারা ঋতুদ্বীপ সম্পর্কে শুনেছেন। অতএব, আপনারা অনেক কিছু শুনেছেন যে কিভাবে ভীম নবদ্বীপের এই স্থানে এসেছিলেন। আজ আপনারা তিনটে দ্বীপে ভ্রমন করেছেন ঋতুদ্বীপ, জাহ্নু দ্বীপ এবং মদাদ্রুম দ্বীপ। আমি শুনলাম — কালকে আপনারা কোল দ্বীপে যাবেন।
এখানে একটি লীলা হয়েছিল যে, জয়দেব গোস্বামী, হাজার বছর আগে, তিনি মায়াপুরে বাস করছিলেন, চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব স্থানের কাছে। বাংলার নবাব, তার রাজধানী ছিল নবদ্বীপে, তিনি জয়দেবকে দেখতে এসেছিলেন। জয়দেব একজন ব্রাহ্মণ হাওয়ায়, তিনি তাতে অপমানিত হয়েছিলেন, যেহেতু নবাব তার অনুমতি ছাড়াই তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তাই তিনি বললেন যে তিনি মায়াপুর ছেড়ে চলে যাবেন। নবাব ক্ষমা ভিক্ষা চেয়েছিলেন। যেহেতু নবাব অনুরোধ করেছিলেন, তাই যদিও জয়দেব মায়াপুর ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তবুও তিনি বললেন যে, তিনি নবদ্বীপে থাকতে পারেন, তিনি নবদ্বীপের অপর প্রান্তে থাকবেন, নদীর ওপারে। এই কারণে তিনি গৌর গদাধর মন্দিরের এই স্থানে বসবাস করছিলেন।
তিনি গীতগোবিন্দ লিখছিলেন। এক স্থানে তিনি দেখলেন যে কৃষ্ণ রাধারাণীর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাইছেন। তিনি ভাবলেন, “এটা কিভাবে সম্ভব? কারণ কৃষ্ণ হলেন পরম পুরুষোত্তম ভগবান। তিনি হলেন সর্বোচ্চ ব্যক্তিত্ব। তিনি কীভাবে রাধারানীর থেকে ক্ষমা চাইতে পারেন?” সেই জন্য, তিনি সেটা লেখেননি। তিনি তার স্ত্রীকে বললেন যে তিনি গঙ্গায় স্নান করতে যাচ্ছেন। তারপর তিনি চলে যান এবং গঙ্গায় গেলেন।
তারপর তিনি আবার বাড়িতে ফিরলেন এবং বললেন, “ আমি কিছু লিখতে চাই!” তিনি সেই গ্রন্থে কিছু লিখলেন। তারপর তিনি তার স্ত্রীকে বললেন, “আমাকে প্রসাদ দাও!” তিনি প্রসাদ পেলেন, চলে গেলেন। তিনি বললেন, “আমাকে এক জায়গায় যেতে হবে!” তার স্ত্রী প্রসাদ গ্রহণ করছিলেন। এরপর তিনি বাড়িতে ঢোকেন। তিনি বললেন, “তুমি কিভাবে প্রসাদ গ্রহণ করতে পারছো?” সে বলল, “আপনি আসলেন, গ্রন্থে কিছু একটা লিখলেন, এবং প্রসাদ চাইলেন, আমি আপনাকে প্রসাদ দিলাম এবং তারপর আপনি চলে গেলেন।”
তিনি গেলেন এবং গ্রন্থটা গিয়ে দেখলেন। সেই সময় তিনি তাল পাতায় লিখছিলেন। তিনি দেখলেন যে যেটা সম্পর্কে তিনি চিন্তা করছিলেন, সেইটা ইতিমধ্যেই ওখানে লেখা হয়েছে। তারপর তিনি তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, “তাকে কেমন দেখতে?” “একদম আপনার মত!” তিনি বললেন, “তুমি হলে এই সমগ্র বিশ্বে সর্বাপেক্ষা ভাগ্যবতী মেয়ে! কৃষ্ণ স্বয়ং এসেছিলেন, তিনি গ্রন্থে লিখেছেন! তিনি তোমার প্রসাদ গ্রহণ করেছেন এবং তারপর চলে গেছেন। তুমি হলে সর্বাপেক্ষা ভাগ্যবতী মেয়ে!” হরিবোল! হরিবোল! হরিবোল!
অতএব, যেটা সম্পর্কে তিনি ভেবেছিলেন, কৃষ্ণ সেটি গ্রন্থে লিখে দিয়েছেন। এটা হল অনেকগুলি লীলা স্থান। জয়দেব গোস্বামী, এছাড়া দ্বিজ বনীনাথ, গদাধর, চৈতন্য মহাপ্রভু এখানে ছিলেন। এছাড়াও কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর প্রভুপাদ কর্তৃক এই স্থানটি স্থাপিত হয়েছিল। এবং একজন শিষ্য বাল্যকাল থেকেই এখানে বসবাস করছিলেন, বৃদ্ধাবস্থা প্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, ১০০ বছর। তার জীবনের শেষে, তিনি বাবাজি পদ প্রাপ্ত হন, তিনি ছিলেন নয়নানন্দ বাবাজি। এবং যেই ব্রহ্মচারী এখন এখানে আছেন, তিনি ইস্কনের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ। আমরা আসলে তাকে কিছু অনুদান দেই। তিনি খুবই সদয়, তিনি প্যান্ডেল ও সব কিছু এখানে তৈরি করেন। আপনারা শ্রীবিগ্রহ দর্শন করতে পারেন, ও যদি আপনি চান তাহলে আপনিও কিছু প্রনামী দিতে পারেন।
আজকে আসলে, আপনারা তিনটি গ্রুপে ভ্রমণ করেছেন, সাধারণত এটা করতে দুই দিন সময় লাগে। যেহেতু আমরা এখানে থাকছি না, তাই আপনারা আজকে যাবেন। ঋতুদ্বীপ থেকে, আপনারা বিদ্যানগর দিয়ে গিয়ে, রাধাকুণ্ড দর্শন করবেন, সার্বভৌম ভট্টাচার্যের আবির্ভাব ধাম দর্শন করবেন, যে স্থানে বেদ প্রকাশিত হয়েছিল সেই স্থান দর্শন করবেন, বিদ্যানগর, দর্শন করবেন জাহ্নু মুনির আশ্রম, যেখানে গঙ্গা জাহ্নবী নাম প্রাপ্ত হয়েছিলেন। তোমরা ষড়ঙ্গ ঠাকুর ও বাসুদেব দত্তের আশ্রম দর্শন করবে এছাড়াও বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের আবির্ভাব স্থান এবং এইরকম আরো অন্যান্য পবিত্র স্থান সমূহ দর্শন করবে।
এটি সূর্য কুণ্ডের থেকে ভিন্ন নয়, অর্কটিলা, এবং সেই সব স্থান যেখানে পাণ্ডবেরা নবদ্বীপে ছিলেন, একচক্র, নিত্যানন্দ ধামে যাওয়ার আগে। সাধারনত, আমাদের জাহ্নুদ্বীপে থাকার জায়গা আছে, এবং মদাদ্রুম দ্বীপের পর, আমাদের আরেকটি থাকার জায়গা আছে, ও তারপর আমরা সোজা মায়াপুরের ফিরে যাব। এখন সরকার থাকার জন্য অনুমতি দিচ্ছেন না। তাই আমরা ফিরে যাবো।
কালকে আপনারা নবদ্বীপে যাবেন। যদি নবদ্দীপ বাসীরা অসুস্থ হন, তাহলে তারা ভক্তদের দোষারোপ করতে পারে। যদিও ভক্তরা হয়তো ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ নাও হতে পারে। যেহেতু মহারাষ্ট্র, গুজরাট, দিল্লি, দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশ, এবং বাংলায় কভিড-১৯ এর নতুন ঢেউ এসেছে, তাই প্রত্যেকে মাস্ক পড়লে ভালো। যদি এটা তোমাদের নিজেদের রক্ষার্থে নাও হয়, তবুও কমপক্ষে এটা লোকেদেরকে বোঝাবে যে আমরা খুবই সচেতন এবং তারা আমাদেরকে দোষারোপ করতে পারে না, যদি তারা রোগাক্রান্ত হয়, যা এমনি হচ্ছে! দয়া করে সচেতন থাকুন এবং হরেকৃষ্ণ জপ করুন, আশা করি নবদ্বীপ ধাম পরিক্রমায় আপনাদের সময় খুব সুন্দরভাবে অতিবাহিত হোক।
আমি শুধু একটা জিনিস বলতে চাই, আপনারা দেখবেন যে বৃন্দাবনে ষড়গোস্বামীগণ রাধা কৃষ্ণকে খুঁজতেন, এবং এটি বলা হয়েছে যে এখানে কোন বিভেদ নেই, যেহেতু কৃষ্ণ হলেন পূর্ণ, তাই কৃষ্ণকে খোঁজা অথবা কৃষ্ণকে দেখা এক বিষয়। যখন আপনি নবদ্বীপ পরিক্রমা যাচ্ছেন, গৌর গদাধর অথবা নিতাই গৌর দর্শন এবং তাঁদেরকে খুঁজে পাওয়া তাঁদের দর্শন করার মতো একই বিষয়! এবং আপনি তাঁদের খুঁজে পেতে পারেন! হরিবোল! হরিবোল!
আপনার নিত্য শুভেচ্ছক,
জয়পতাকা স্বামী
Lecture Suggetions
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।