শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য গ্রন্থ সংকলন
নিম্নলিখিতটি হল শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য গ্রন্থ সংকলন, যা পরম পূজ্য জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ২০২১ সালের ১৯শে মার্চ ভারতের শ্রীধাম মায়াপুরে প্রদান করেছিলেন।
মুখম করোতি বাচালম পংগুম লংঘায়তে গিরিম
ইয়াত-কৃপা তম অহম বন্দে শ্রী-গুরুম দীনা-তারমণম
পরমানন্দঃ মাধবং ইশরীত্য
চৈত্রম!
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য গ্রন্থের সংকলনের ধারাবাহিকতা , আজকের অধ্যায়ের শিরোনাম:
রাজা প্রতাপরুদ্র শ্রীচৈতন্যের ষড়ভুজ রূপ দর্শন করেন।
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেষ-খণ্ড 3.102
তোরা পড়ে দেখিবারে সাধে মো-সভারে
আজনা পাইলে হায়া সে কারণ-গোচরে
জয়পতাকা স্বামী: রাজা আপনার পাদপদ্ম দর্শন করতে চান এবং তিনি আমাদের সকলকে আপনার অনুমতি আনতে বলেছেন , যাতে তিনি আপনার পাদপদ্ম দর্শন করতে পারেন।
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেষ-খণ্ড 3.103
প্রভু বলে—সবজানা শুনাহ শূন্যস্থান
সন্ন্যাসীর ধর্ম নাহে রাজা-দর্শন
জয়পতাকা স্বামী: ভগবান চৈতন্য বললেন, “তোমরা সকলে আমার কথা শোনো। রাজার দর্শন করা কোনো সন্ন্যাসীর কর্তব্য বা ধর্ম নয় ।”
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেষ-খণ্ড 3.104
অমি তা' সন্ন্যাসী-সেই হায়া মহারাজা
দোহারা দর্শনে দোহার কিছু নাহি কাজ
জয়পতাকা স্বামী: আমি একজন সন্ন্যাসী। তিনি একজন রাজা। পরস্পরকে দেখার কোনো কাজ আমাদের নেই ।
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেষ-খণ্ড 3.105
পুরী-গোসানি বোলে-প্রভু কারা অবধান
ই বোলা শুনিলে রাজা হরিবে গিয়ানা
জয়পতাকা স্বামী: তখন পুরী গোস্বামী বললেন, “হে প্রভু , দয়া করে আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন । এই কথা শুনে রাজা জ্ঞান হারাবেন।”
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেষ-খণ্ড 3.106
ইয়ে দেখালা আমার তাহারা অনুরাগা ই কথা শুনিলে
জিউ চাইবে বিপাক
জয়পতাকা স্বামী: আমরা সকলেই দেখেছি তিনি আপনাকে কত গভীরভাবে ভালোবাসেন। এই কথা শুনে তিনি বিপদে পড়বেন এবং আত্মহত্যা করবেন।
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেষ-খণ্ড 3.107
আজি তা হাইবা রাজার দশা উপবাস
সবা চাদই 'পাডি' আচে কারণ-প্রত্যাশ
জয়পতাকা স্বামী: আজ রাজার উপবাসের দশম দিন। তিনি অন্য সবকিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তাঁর একমাত্র আকাঙ্ক্ষা আপনার পাদপদ্ম দর্শন করা।
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেষ-খণ্ড 3.108
কাতারা হাইয়া পুনাঃ বোলে সবজানা
রাজারা ব্যাগ্রতা দেখি' করিয়ে য়াতনা
জয়পতাকা স্বামী: “দুঃখে পূর্ণ হয়ে তিনি আমাদের সকলকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন। রাজার দুঃখ দেখে আমরা এখন তাঁর পক্ষ হয়ে কাজ করি।”
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেষ-খণ্ড 3.109
ই বোলা সুনিনা প্রভু কহিছে ভাকানা
আনাহা রাজারে, মুনি হাইলু পরসন্ন
জয়পতাকা স্বামী: এই কথা শুনে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বললেন, “রাজাকে নিয়ে এসো। আমি সন্তুষ্ট।”
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেস-খণ্ড 3.110
e bola suniñā sabhāra ভাইগেলা উল্লাস
ānila rājāre– প্রভু করে পরকাশ
জয়পতাকা স্বামী: এই কথা শুনে সকলে আনন্দিত হলেন। তাঁরা রাজাকে নিয়ে এলেন এবং ভগবান চৈতন্যদেব স্বয়ং আবির্ভূত হলেন।
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেষ-খণ্ড 3.111
প্রভুরে দেখায় রাজা পরণাম করে
প্রেমায়া বিহবলা রাজা আপানা পাসরে
জয়পতাকা স্বামী: শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে দর্শন করে রাজা সশ্রদ্ধ প্রণাম নিবেদন করলেন। ভাবসমাধিতে আপ্লুত হয়ে রাজা আত্মবিস্মৃত হলেন।
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেষ-খণ্ড 3.112
পুলকে ভরিলা অঙ্গ চালচল আংখি
প্রেমে গারা ভেলা গৌরা-অঙ্গ দেখি'
জয়পতাকা স্বামী: তাঁর শরীরের লোম খাড়া হয়ে গেল। চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। ভাবাবেগে তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে গেল। তিনি ভগবান গৌর-এর দিব্য রূপের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন।
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেষ-খণ্ড 3.113
রাজারে দেখিয়া প্রভু লাহু-লাহু হাস
ষদভুজা শারিরা রাজা দেখে পরকাশ
জয়পতাকা স্বামী: রাজার দিকে তাকিয়ে, ভগবান চৈতন্য, তিনি মৃদু হাসলেন। তখন রাজা দেখলেন ভগবান চৈতন্য ষড়ভুজাকৃতি রূপে আবির্ভূত হলেন।
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেস-খণ্ড 3.114
ষড়ভুজ দেখায় দন্ড-পরণাম করে
তৃলামলা করে অংগ অনুরাগভরে
জয়পতাকা স্বামী: সেই ষড়ভুজ রূপ দর্শন করে রাজা প্রণাম নিবেদন করে দণ্ডের মতো লুটিয়ে পড়লেন। পরমানন্দময় আধ্যাত্মিক প্রেমে বিভোর হয়ে রাজার দেহ কম্পিত হল।
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেস-খণ্ড 3.115
আভাশ শরীরা—নীরা ঝরে দু-নয়নে
চৌদিগে হরিধ্বনি পরশে গগনে
জয়পতাকা স্বামী: তিনি দেহ বিহ্বল হয়ে পড়লেন, তাঁর দুই চোখ থেকে অশ্রু ঝরে পড়ল। হরির গানে চারদিক ছেয়ে গিয়ে আকাশ ছুঁয়ে গেল।
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেষ-খণ্ড 3.116
ভুজ শরির দেখি' শ্রী-প্রতাপরুদ্র
আনন্দে বিহবলা ভাসে প্রেমার সমুদ্র
জয়পতাকা স্বামী: শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ষড়ভুজ রূপ দর্শন করে রাজা প্রতাপরুদ্র ভাবাবেশে বিভোর হলেন। তিনি পরমানন্দময় আধ্যাত্মিক প্রেমের এক মহাসাগরে ভাসতে লাগলেন।
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেস-খণ্ড 3.117
কণটকিতা সব অঙ্গ আপাদ-মস্তকে
গদা গদা ভাসে 'প্রভু প্রভু' বালি' ডাকে
জয়পতাকা স্বামী: তাঁর পা থেকে মাথা পর্যন্ত সারা শরীরের সমস্ত লোম খাড়া হয়ে গেল। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি ডেকে উঠলেন, “ প্রভু! প্রভু! প্রভু! প্রভু!”
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেস-খণ্ড 3.118
উভা-বহু করি' নাচে-বলে হরিবোলা
জনম সফল প্রভু পরসন্ন মোরা
জয়পতাকা স্বামী: তিনি বাহু তুলে নৃত্য করতে করতে কীর্তন করলেন, হরি বোল! এখন এই জগতে আমার জন্ম ফলপ্রসূ হয়েছে। ভগবান চৈতন্য আমার প্রতি প্রসন্ন হয়েছেন।
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেস-খণ্ড 3.119
আনন্দে ভাসিয়ে চৌদিগে ভক্তজন
প্রভু বোলে-রাজা হেরা শুনাহ ভাকান
জয়পতাকা স্বামী: চতুর্দিকের ভক্তগণ পরমানন্দ সাগরে ভাসছিলেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই কথা বললেন , “হে মহারাজ, অনুগ্রহ করে আমার কথা শ্রবণ করুন।”
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেষ-খণ্ড 3.120
প্রজারা পালানা তোরা ই বড ধর্ম
প্রজা পুত্র-রাজা পিতা-কহিলা ই মারমা
জয়পতাকা স্বামী: আপনার প্রধান ধর্ম হলো প্রজাদের রক্ষা করা। প্রজারা হলো সন্তান। রাজা হলেন পিতা। আমি যা বলছি তা একজন রাজার কর্তব্যের মর্ম।
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেষ-খণ্ড 3.121
কৃষ্ণের কেবলা দয়া সমা সর্বজীবে
দেহের স্বভাব নিজা জানি অনুভবে
জয়পতাকা স্বামী: ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সকল জীবের প্রতি সমানভাবে করুণাময়। প্রত্যেক জীব নিজ নিজ শরীর অনুসারে জগৎকে উপলব্ধি করে।
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেষ-খণ্ড 3.122
কিবা রাজা, কিবা প্রজা—সম সুখ-দুঃখ
কর্ম অনুরাগে জীব হয় গৌণ-মুখ্য
জয়পতাকা স্বামী: রাজা হোক বা প্রজা, সকল জীবই সুখ ও দুঃখ উভয়ই ভোগ করে। পূর্বজন্মের কর্ম অনুসারে এই জগতে প্রত্যেক জীবের একটি উচ্চ বা নিম্ন অবস্থান রয়েছে।
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেষ-খণ্ড 3.123
নিজ অনুমান করি ' ইয়ে জানে সবরে
সে সে কৃষ্ণের দাসা-কহিলা তোমারে
জয়পতাকা স্বামী: আমি তোমাদের বলছি যে, যিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রকৃত সেবক, তিনি সকল জীবের সঙ্গে ঠিক সেইরকম আচরণ করেন, যেমনটি তিনি নিজে অন্যের কাছ থেকে পেতে চান।
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেষ-খণ্ড 3.124
এটিকা উত্তরা প্রভু কৈলা উপদেশ পরানাম করে
রাজা আনন্দ বিষেশ
জয়পতাকা স্বামী: এইভাবে ভগবান চৈতন্য রাজাকে নির্দেশ দিলেন। বিশেষ আনন্দে পূর্ণ হয়ে রাজা শ্রদ্ধার সাথে প্রণাম করলেন ।
চৈতন্য-মঙ্গলা , শেস-খণ্ড 3.125
শুনা সর্বজন গৌরাচন্দের প্রকাশ
আনন্দে কাহায়ে গুণ ই লোকনাদাস
জয়পতাকা স্বামী: হে ভক্তগণ, শ্রবণ করুন, শ্রীচৈতন্যদেব কীভাবে সেই মহিমাময় ষড়ভুজ রূপ ধারণ করেছিলেন। লোচন দাস ঠাকুর এইভাবে শ্রীচৈতন্যদেবের মহিমা বর্ণনা করেন।
সুতরাং এই লীলাটি চৈতন্য-মঙ্গলে লেখা আছে, অন্য কোনো গ্রন্থে লেখা নেই, তাই এটি একটি বিশেষ লীলা।
এইভাবে, “রাজা প্রতাপরুদ্র শ্রীচৈতন্যের ষড়ভুজ রূপ দর্শন করেন” শীর্ষক অধ্যায়টি সমাপ্ত হলো ।
Lecture Suggetions
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ