২০২০১০১৩ জুমের মাধ্যমে বাঁকুড়া পুরুলিয়া নামহট্ট ভক্তদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত প্রবচন
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী:
গোবর্ধন ধরং বন্দে গোপাল গোপরূপীনং
গোকুলোৎসবম ঈষানাং গোবিন্দম্ গোপিকাপ্রিয়ম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয় হোক বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া ভক্তবৃন্দ! আমরা প্রত্যেকদিন রাত্রিবেলা প্রায় ৭টার সময় এই চৈতন্য লীলা ক্লাস আছে। এটা ফেসবুক বাংলাতে বাংলায় পাওয়া যায়। চৈতন্যদেব সন্ন্যাস নিয়েছেন কাটোয়াতে গিয়ে, তারপরে তিনি ফিরে এলেন শান্তিপুরে। এবং সেখানে তিনি অদ্বৈত গোঁসাইয়ের বাড়িতে আছেন। প্রায় ১০ দিন তিনি থাকেন, এবং সেখানে প্রত্যেকদিন রাত্রিবেলা কীর্তন-নৃত্য হয়। এবং শচীমাতা ওঁনার জন্য রান্না করছেন।
তাই পরমা একাদশী বলে আমরা একটু কীর্তন করলাম এবং সমস্ত ভক্তবৃন্দ কীর্তনে যোগদান করলেন। এই পরমা একাদশীতে সন্ধের পর রাত্রিবেলা কীর্তন করা উচিত। কীর্তনের সাথে একটু নৃত্য করা।
এখন অন্য যুগে—সত্য যুগে ধ্যান ছিল, ত্রেতা যুগে ছিল হোম, আর দ্বাপর যুগে ছিল মন্দিরে পূজা, কিন্তু কলিযুগে আমরা এই সমস্ত ব্রত করতে অধিকার নেই। তাই এখানে, কলিযুগে ভগবান এসেছেন তাঁর দিব্য নাম রূপে। এবং ওঁনার নাম কীর্তন করলে আমরা চৈতন্যদেবের সম্পূর্ণ আশীর্বাদ পাই এবং কৃষ্ণ নাম এবং কৃষ্ণের মধ্যে তফাৎ নেই। এই কৃষ্ণ নাম করলে কৃষ্ণকৃপা পাওয়া যায়।
এই মাস পুরুষোত্তম মাস, ব্রত করলে ভগবানের কৃপা হয়। এখন আজকে পরমা একাদশী, এই পাঁচ দিন পালন করলে বিশেষভাবে একটা ব্রত হয়। ভগবানের বিশেষ কিছু সেবা করলে, আমরা ভগবানের আশীর্বাদ পাই। এখন অধিকাংশ লোক বিভিন্ন কাজকর্মে ব্যস্ত এবং ভগবানের চিন্তা মনে আসে না। বিপদ হলে হয়ত পুণ্যবান ব্যক্তি তারা ভগবানের চিন্তা করে। কিছু অর্থ চাইলে তখন ভগবানের চিন্তা আসে। বা কেউ জানার জন্য ইচ্ছা। যারা জ্ঞানবান, তারা ভগবানকে চিন্তা করে। এখন শুদ্ধ ভক্ত এইভাবে সবসময় ভগবানের চিন্তা করে। কিন্তু সাধারণ লোকের ভগবানের কথা মনে আসে না।
এইভাবে, নামহট্টের মধ্যে সাপ্তাহিক মিলন হয়, কিন্তু আমরা যেন প্রতিদিন নিজের বাড়িতে থেকে ভগবানের নাম করি। সবসময় ভগবানের স্মরণ হয়। নিয়ম আছে—সবসময় ভগবানকে মনে রাখতে হয় এবং কখনও ভুলতে হয় না। এটা হচ্ছে প্রধান নিয়ম! এইভাবে ভগবানের নাম করলে, সবসময় ভগবানের চিন্তা হবে।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে
আশা করি সব ভক্ত এই কলিযুগের সুযোগ নেবে এবং কৃষ্ণ নাম করবে। এখন আমরা অনেক কষ্ট করে অনেক কোটি কোটি জন্ম পর মনুষ্য জন্ম পেয়েছি। এখন এই মনুষ্য জন্ম পেয়ে সুযোগ আছে ভগবানকে অর্চনা, ভগবানকে সেবা করা, ভগবানের নাম করা। ভগবানের কাছে ফিরে যেতে পারি।
আজকে অনেক ভক্ত কিছু দান করেছে ভগবানের উদ্দেশ্যে। এইভাবে ভগবানের একান্ত সেবা এই পুরুষোত্তম মাসের মধ্যে দান করা গৃহস্থের বিশেষ নিয়ম, কেননা গৃহস্থ তাদের অত্যন্ত সাধ্য কৃষ্ণ সেবা করবার জন্য, করা উচিত। স্ত্রী হচ্ছে সহধর্মিণী, একসাথে স্বামীর সঙ্গে ধর্ম করবে। এখন যদি সকালে কৃষ্ণ নাম করা হয়, গীতা-ভাগবত অধ্যয়ন করা হয়, এবং কৃষ্ণের সেবা ভজন করা হয়—এটা হচ্ছে বিশেষভাবে চৈতন্যদেবের আদেশ। “ভজ কৃষ্ণ বলো কৃষ্ণ করো কৃষ্ণ শিক্ষা শিক্ষা” ।
আশা করি আপনারা সবাই কৃষ্ণ নাম করে বিপুল আনন্দ আশ্বাদন করবেন। এই জড় জগতে থাকার সময় আমাদের বিভিন্ন অসুবিধা হবে—আধ্যাত্মিক, আধিভৌতিক, আধিদৈবিক। নিজের শরীর থেকে রোগ ইত্যাদি কষ্ট হয়, আধিভৌতিক হচ্ছে অন্য লোকের শরীর থেকে—কুকুর কামড়ানো, মশা, হিংস্র লোক—চোর, ডাকাত, বদমাশ, এটা হচ্ছে আধিভৌতিক ক্লেশ। তারপরে আছে আধিদৈবেক—মহামারী, বন্যা, ঘূর্ণি হওয়া, বেশি গরম, বেশি ঠান্ডা, বৃষ্টি নাই, বেশি বৃষ্টি, এটায় আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই, এটা ভগবানের ইচ্ছা, প্রকৃতির ইচ্ছা। যেহেতু আমরা ভগবানের আইন ভেঙেছি, তাই বলে আধিদৈবিক ক্লেশ হয়। এখন এই মহামারী হচ্ছে যেহেতু আমরা মনুষ্য পশু খাচ্ছি। পশু থেকে এই রোগ চলে এসেছে। কিন্তু যদি সবাই কৃষ্ণপ্রসাদ পায়, নিরামিষী হয়, এই সব আমরা শুনি না যে টমেটো, আলুরোগ ইত্যাদি। ছিলকা কি বলে? ব্যাট? চীনা লোক নাকি খাচ্ছিল এবং সেই জন্য এই রোগ চলে এসেছে।
কিন্তু এখন একাদশীর দিন কমপক্ষে আমাদের বিশেষভাবে খাওয়া উচিত (অনুকল্প মহাপ্রসাদ)। আমরা কোন শস্য বা কোন ডাল ইত্যাদি খাই না। কেউ আবার বেশি উপবাসও করতে পারে। যাইহোক, এই পরমা একাদশী, এই হচ্ছে সমস্ত একাদশীর মধ্যে এটা প্রধান।
আমি এই বাঁকুড়া, পুরুলিয়া আসতে পেরে আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করি।
হরে কৃষ্ণ!
Lecture Suggetions
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ