Text Size

২০২০১০১১ জুমের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের বাঙালি ভক্তদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত প্রবচন

11 Oct 2020|Duration: 00:37:26|Bengali|Zoom Sessions|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ 

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী:

গোবর্ধন ধরং বন্দে গোপাল গোপরূপীনং
গোকুলোৎসবম ঈষানাং গোবিন্দম্ গোপিকাপ্রিয়ম্

 হরি ওঁ তৎ সৎ !

আমি সিঙ্গাপুরে আসার জন্য অত্যন্ত খুশি আছি। আমি সকলকে শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানাচ্ছি। এখন শ্রীশ্রীমৎ ভক্তি চারু স্বামী মহারাজে দিব্য বপু মায়াপুরে চলে এসেছে। আমরা অপেক্ষা করছি জি.বি.সি. কি সিদ্ধান্ত নেবে। কত কিভাবে ওঁনার সমাধি করবে। এখন আমাদের মন্দির সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বন্ধ ছিল, এখন আস্তে আস্তে খুলে যাচ্ছে। এখানে সামাজিক দূরত্ব ৬ ফুট মানতে হয় এবং মাস্ক ইত্যাদি পড়তে হয়। আমাদের এই পুরুষোত্তম মাসে প্রত্যেকদিন ১৬ উপাচারে পূজা হচ্ছে। তারপরে রাধাকৃষ্ণকে দীপ দান করা হচ্ছে। এবং প্রায় ভক্ত এই মন্ত্র পাঠ করছে—

গোবর্ধন ধরং বন্দে গোপাল গোপরূপীনং
গোকুলোৎসবম ঈষানাং গোবিন্দম্ গোপিকাপ্রিয়ম্

আপনারা www.mayapur.com দেখতে পারেন, পুরুষোত্তম মাস এখনও ৭ দিন আছে। এখন প্রতিদিন ভার্চুয়াল নবদ্বীপ পরিক্রমা চলছে। আজকে দ্বিতীয় দ্বীপ গোদ্রুম দ্বীপ যাবে। এইভাবে মায়াপুরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হচ্ছে। 

মনুষ্য জীবন দুর্লভ জীবন। কিন্তু এই মনুষ্য জন্মের মধ্যে যদি পুরুষোত্তম মাস ঠিকমতো পালন করা হয়, তাহলে ভগবদ্ধাম গোলক বৃন্দাবনে ফিরে যাবে। জানিনা সিঙ্গাপুরে কি হচ্ছে। আশা করি, সবাই মিলেমিশেভাবে সেবা করবে এবং ভক্তিচারু স্বামী চেয়েছেন যে সবাই প্রভুপাদের চেতনা নিয়ে সেবা করবে। এখন প্রভুপাদ সারা পৃথিবীতে এই আন্দোলন বিস্তার করলেন এবং চৈতন্যদেবের বাণী প্রচার করলেন। আপনারা এই জ্ঞান, উদাহরণ পালন করে প্রভুপাদের মনোভীষ্ট পূরণে চেষ্টা করুন। 

এখনই এই জড়জগতে মানুষ কৃষ্ণকে জানে না, কৃষ্ণের সম্পর্কে বেশি চিন্তা করে না। যারা ভক্তিযোগ পালন করে, তাদের অনেক চিন্তা আছে। শ্রীল প্রভুপাদ মানুষের চিন্তাধারা পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। মানুষেরা মনে করে তারা দেহ এবং দেহকে ভিত্তি করে তারা সবকিছু করে। প্রভুপাদ চেয়েছেন যে আমরা বুঝব—আমরা দেহ নই এবং এই দেহ হচ্ছে একটা কাপড়ের মত। এইভাবে আত্মার সম্পর্ক আছে পরমাত্মার সাথে। এবং ভগবান চৈতন্যদেবের বিশেষ আদেশ পালন করে কৃষ্ণপ্রেম পাওয়া যায়। সাধারণত কৃষ্ণপ্রেম পাওয়া অত্যন্ত দুর্লভ। কিন্তু চৈতন্যদেবের,  নিতাই-গৌরের কৃপায় সহজে পাওয়া যায়। 

প্রত্যেকদিন রাত্রিবেলা হয়ত সিঙ্গাপুরে বেশি রাত হয়ে যায়, এখানে ৭ টার সময় পাঠ হচ্ছে চৈতন্য লীলার উপরে। 

চৈতন্যদেব যখন নবদ্বীপ ছেড়ে চলে গেলেন সন্ন্যাস নেওয়ার জন্য, নবদ্বীপবাসী অত্যন্ত বিরহের মধ্যে ছিলেন। শচীমাতা ১২দিন খাননি। কেবল চৈতন্যদেবের কৃপায় বেঁচে গেছেন। সবাই শান্তিপুরে গিয়ে সেখানে চৈতন্যদেবের সঙ্গে মেলাল। সেখানে কত লোক শান্তিপুরে এসেছে চৈতন্যদেবকে দেখার জন্য। এখন অদ্বৈত গোঁসাই চৈতন্যদেবকে বাড়িতে পেয়ে এক প্রহর—৩ ঘন্টা তিনি নেচেছে চৈতন্যের সাথে। ওঁনার সঙ্গে নিত্যানন্দ নেচেছে, নিত্যানন্দের পেছনে হরিদাস ঠাকুর নেচেছে। হটাৎ চৈতন্যদেবের এত বিরহ ছিল কৃষ্ণের কাছে যে উনি অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। অদ্বৈত গোঁসাই চেষ্টা করছে চৈতন্যদেবকে ওঠানোর জন্য। একই সময় মুকুন্দ দত্ত, তিনি চৈতন্যদেবের ভাব দেখে, তিনি সুন্দর গান করলেন। এখন এইভাবে চৈতন্যদেব আরও ভাবাপন্ন হয়ে গেলেন, আর উঠতে পারেননি। তাঁর নিশ্বাস দেখে ভয় পেয়েছে যে, চৈতন্যদেব আর নিশ্বাস করছে না। হঠাৎ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু উল্লম্ফন দিয়ে উঠলেন—“হরিবোল! হরিবোল!” এইভাবে লাফ মেরে উঠে, জোর করে বললেন, “হরিবোল!!” এইভাবে চৈতন্যদেবের লীলা। আমাদের ওঁনার লীলা দেখে এবং শোনা অত্যন্ত ভালো। 

এখন এই সুযোগ নিচ্ছে যে ম্যাঙ্গালুরু, চেন্নাই, ত্রিভেনড্রাম ইত্যাদি সব জায়গা ১০,০০০-১১,০০০ ছাত্র যোগদান করছে। আমি জানতে চাইছি এই সুযোগ আপনারা করছেন কিছু বাংলাদেশে? এইভাবে সব জায়গায় আমরা চৈতন্যদেব, শ্রীল প্রভুপাদের সেবা করার আমাদের ইচ্ছা থাকা উচিত। এখন আমাদের কাছে কিছু সময় আছে, যদি কারো কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে জিজ্ঞেস করতে পারেন। আপনার প্রশ্নটি চ্যাট বক্সে লিখুন। 

প্রশ্ন: গুরুমহারাজ দীক্ষাকালে আপনি বলেছিলেন যে চৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা গ্রহণ করে প্রভুপাদের মিশনের আরো অগ্রগতির জন্য আমাদেরকে আরো প্রচার সম্প্রসারণ করার জন্য, কিন্তু আমরা তো লকডাউনে আছি, আপনাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতি আমরা পালন করতে পারছি না, কোন প্রচার করতে পারছি না, এই মুহূর্তে আমাদের কি করনীয়?

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: আপনাদের যদি সম্ভব হয় সাহায্য করা লকডাউন-এর মধ্যে। এখন পদ্ধতি পরিবর্তন করা যেতে পারে—জুম, ইন্টারনেট। 

প্রশ্ন: হরে কৃষ্ণ! দণ্ডবৎ প্রণাম গুরুমহারাজ আপনার শ্রীচরণকমলে। গুরুমহারাজ আমার জিজ্ঞাসা হল—(২৮:২০) ভক্তি কমে গেছে, গ্রন্থ অধ্যয়ন করতে ইচ্ছা করছে না, এখন আমার কি করণীয়? (গুরুমহারাজ: কেন হচ্ছে না?) গুরুমহারাজ আগে খুব ইচ্ছা হত আরো বেশি বই পড়ি, কিন্তু এখন সেরকম ইচ্ছা হচ্ছে না। আমার এরকম মনে হয়, আমার কোন বৈষ্ণব চরণে অপরাধ হয়েছে।

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: সেটা চেষ্টা করো পরস্পর যাতে অপরাধ ক্ষমা করে দেয়। চৈতন্যদেবের,  পঞ্চতত্ত্ব মন্ত্র, নিতাই গৌরের কাছে প্রার্থনা করে এগিয়ে যাওয়া যায়। হরিবোল! 

প্রশ্ন: হরে কৃষ্ণ গুরু মহারাজ, দণ্ডবৎ প্রণাম আপনার শ্রীচরণে। গুরুমহারাজ আমি ভক্তি জীবনে কিভাবে অগ্রসর হতে পারব? (৩২:০০), এই ব্যাপারে কিভাবে আমি অগ্রসর হতে পারি এবং ভক্তিজীবনে যেন আমি উন্নতি করতে পারি, কৃপা করে আমার কৃপা করবেন। দণ্ডবৎ প্রণাম। 

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: কিছু একটা সময় প্রতিদিন যদি বই পড়া যায় এটা সুবিধা। দুজন পড়তে পারে, এভাবে দুজন পড়া, এতে বেশি একটু মনস্থির থাকে। তারপরে কিছু বই অডিও ভার্শন পাওয়া যায়, সেটা রান্নার সময় বা অন্য কাজ করার সময় অডিও ভার্শন শোনা যায়। 

প্রশ্ন: গুরুমহারাজ কিভাবে গৃহস্থ জীবনে একটি পরিবারে সবাইকে নিয়ে সুন্দরভাবে ভক্তি জীবন অনুশীলন করা যাবে?

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: এখন স্বামী-স্ত্রী যদি দু’জন ভক্ত হয়, এর অনেক সুবিধা আছে। যদি একজন একটু পিছিয়ে থাকে ভক্তি পথে, তাহলে সেইভাবে স্নেহ করে তাকে উৎসাহিত করা উচিত। এখন সেখানে রাগ করে, গালাগালি দিয়ে লাভ নেই, সেখানে পৃথকভাব বৃদ্ধি হবে। এখন চাতুরি বা কায়দা আছে যে সবাই একসাথে হরিনাম করবে বা বই পড়বে।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 22/07/25
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions