নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী ১০ অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শ্রী মায়াপুর ধাম, ভারতে প্রদান করেছিলেন। এই প্রবচনটি শুরু হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতের ১ম স্কন্ধ, ৩য় অধ্যায়, ১০ শ্লোক পাঠের মাধ্যমে।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
শ্লোক ১.৩.১০
পঞ্চমঃ কপিলো নাম সিদ্ধেশঃ কালবিপ্লুতম্।
প্রোবাচাসুরয়ে সাংখ্যং তত্ত্বগ্রামবিনির্ণয়ম্॥
অনুবাদ: পঞ্চম অবতারে তিনি ঋষিশ্রেষ্ঠ শ্রীকপিল নামে অবতরণ করেন। তিনি আসুরি নামক ব্রাহ্মণকে সৃষ্টির উপাদানসমূহ বিশ্লেষণ করে সাংখ্য দর্শন প্রদান করেন, কেন না কালের প্রভাবে সেই জ্ঞান লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।
তাৎপর্য: সৃষ্টির উপাদানগুলির মোট সংখ্যা হচ্ছে চব্বিশটি। তার প্রতিটি উপাদানই সাংখ্য দর্শনে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশ্চাত্যের পণ্ডিতেরা এই সাংখ্য দর্শনকেই সাধারণত মেট্যাফিজিক্স বা অধিবিদ্যা বলে থাকেন। ‘সাংখ্য’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে “যা অত্যন্ত সরলভাবে জড় উপাদানগুলি সম্বন্ধে বিশ্লেষণ করে।” এই দর্শন সর্বপ্রথম শ্রীকপিলদেব প্রদান করেন, এখানে যাঁকে ভগবানের পঞ্চম অবতার বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
***
জয়পতাকা স্বামী: কপিল মুনি পরমেশ্বর ভগবানের পঞ্চম অবতার ছিলেন। যেহেতু আমি একজন বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম, তাই আমি কপিলদেবের বর্ণনার দ্বারা খুবই বিশ্বাসী হয়েছিলাম এবং তিনি জড় জগতের এমনভাবে বর্ণনা দিয়েছেন যে এমনকি আধুনিক বিজ্ঞানের কাছেও এখনো পর্যন্ত তত নিখুঁত ধারণা নেই। যেমন তিনি বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন যে কিভাবে মায়ের গর্ভে ভ্রুন বৃদ্ধি পায়। তিনদিন, এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ, এক মাস। আমার মনে হয় না আধুনিক বৈজ্ঞানিকেরা এখনও পর্যন্ত এই সব বর্ণনা জানে। তিনি এটি লক্ষ লক্ষ বছর আগে বলেছিলেন এবং এছাড়াও এটা শ্রীমদ্ভাগবতের তৃতীয় স্কন্ধে দেওয়া আছে, তিনি ছিলেন কর্দম মুনি এবং দেবহুতির পুত্র। কর্দম মুনি তার স্ত্রীকে কথা দিয়েছিলেন যে তাকে পুত্র সন্তান দেওয়ার পর তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করবেন কিন্তু প্রথমে তাদের কন্যা সন্তান ছিল, তারপর তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দেবহতি বললেন, “আপনি আমাকে পুত্র সন্তান দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।” তখন কপিল মুনি তাদের সন্তান রূপে আবির্ভূত হন এবং তখন কর্দম মুনি তাদের ছেড়ে গিয়েছিলেন। তিনি তার সন্তান কপিলের সাথে থাকার সুযোগ হারিয়েছিলেন। দেবহুতি উপলব্ধি করেছিলেন যে তার সন্তান হচ্ছেন একজন অবতার, তাই তখন তিনি তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেছিলেন। প্রশ্ন দিয়ে এইভাবে সংখ্য দর্শন প্রকাশ হল। যাই হোক, এইভাবে কপিলমুনিকে দেবহুতি প্রশ্ন দেওয়ার পর এইভাবে সবাই জগতকে দর্শন পাওয়া গেছে।
কপিলমুনি তিনি সাগর দ্বীপে ধ্যান করেছিলেন এবং সেখানে তিনি সাগর মহারাজের পুত্রদের পুড়িয়ে ভস্মীভূত করে দিয়েছিলেন। যেহেতু তারা কোন কারণবশত তাকে অসম্মান করেছিল এবং তাদের বংশ উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করছিল গঙ্গাকে নিয়ে আসার, অনেক বংশ। শেষকালে ভাগী মহারাজ পেরেছে, তিনি গঙ্গাকে নিন্মে নিয়ে এসেছিলেন, যা ভাগীরথী নামে পরিচিত। এখন সাগরদ্বীপে আমাদের একটি কেন্দ্র আছে, তা কপিল মুনির জন্য শুদ্ধ। কপিল মুনি তিনি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন যে কিভাবে একজন পুনরায় জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবর্তিত হয়। যে সমস্ত প্রশ্ন মানুষেরা জিজ্ঞেস করে যে কত দীর্ঘ সময় আমাদেরকে মাতৃগর্ভে থাকতে হয়, কখন আমরা চেতন হই, এই সমস্ত প্রশ্ন ইতিমধ্যেই আলোচনা করা আছে। কখন ভ্রূণে চেতনা আসে, ভ্রুণ অবস্থায় প্রার্থনা করে, “আমাকে এখান থেকে আমাকে মুক্তি দাও।” কিভাবে কৃমি খাচ্ছে, যেই জিনিস আমাদের খেয়াল নেই কিন্তু উনি সমস্ত বিস্তারিত বর্ণনা দিচ্ছেন। এটা হচ্ছে আসুরিক ব্রাহ্মণকে এই শিক্ষা দেওয়া হইল। জড়জাগতিক মানুষেরা মনে করে যে যা কিছুর অস্তিত্ব আছে সেগুলি হচ্ছে জড়জাগতিক কিন্তু তিনি খুব সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে কিভাবে আমাদেরকে বুঝতে হবে যে জীবনই হচ্ছে সবকিছুর উৎস।
এইভাবে কত বিভিন্ন ধরনের অবতারেরা রয়েছেন, তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষা দিয়েছেন, তাঁরা বিভিন্ন লীলা করেছেন। এইসব অনেক লীলা চৈতন্য মহাপ্রভুর দ্বারা করা হয়েছিল। ঠিক যেমন চৈতন্য মহাপ্রভু, যখন তিনি মুরারি গুপ্তের বিষ্ণুসহস্র নামের পাঠ শুনেছিলেন, তখন যখন তিনি নরসিংহদেবের নাম শুনেছিলেন, তিনি নরসিংহদেবের ভাবে এসে গিয়েছিলেন। তিনি একটা লাঠি ধরেন ও বাইরে বেরিয়ে যান, “অসুর কোথায়? অসুর কোথায়?” যখন মানুষ তাঁকে দেখেন, তারা ভয়ে পালিয়ে যান। কিন্তু যেহেতু চৈতন্যদেব দয়া ভাব, সবাইকে পালাতে দেখে দুঃখ পেয়েছেন। তিনি ভাবলেন হয়ত আমি এইসব ব্যক্তিদের প্রতি অপরাধ করেছি। কিন্তু শ্রীবাস, প্রভু মুরারি গুপ্ত বললেন, “এইসব ব্যক্তিরা আপনাকে দর্শন করে ধন্য। তারা সবাই উদ্ধার পেয়েছে।” কখনো কখনো তিনি বরাহ দেবের ভাব প্রকাশ করতেন, তিনি বরাহ দেবের চারটি ক্ষুর প্রকাশ করেছিলেন এবং একটি শুকরের রূপ গ্রহণ করেছিলেন। সেই তাৎপর্যতে এটি বলা আছে যে, যে সমস্ত মানুষেরা অবতার হওয়ার দাবি করে, তাদেরকেও শুকরের চারটি ক্ষুর দেখাতে দেওয়া হোক। (হাসি) বিশ্বরূপের কথা আর কি বলার আছে? কেবল চারটি শুকরের পা দেখান! (হাসি) কখনো কখনো চৈতন্য মহাপ্রভু বলরাম লীলা প্রকাশ করতেন, তিনি বলরামের ভাবে আসতেন, বলরামের ভাব নিয়ে তিনি ডাকতেন যে “বরুনি খাব!” শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি বিভিন্ন ভাব গ্রহণ করেছিলেন।
শ্রীমদ্ভাগবতের এই অংশে আমরা বিভিন্ন অবতারের কথা জানতে পারি। যেহেতু চৈতন্যদেব তিনি হচ্ছেন সমস্ত অবতারের মূল, তিনি সমস্ত অবতার বিভিন্ন রসভাব নিয়েছেন। আমরা কত সৌভাগ্যবান চৈতন্য মহাপ্রভুর এই আন্দোলনে থাকতে পেরে!! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! এইভাবে সব বিভিন্ন অবতারেরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কিছু নির্দিষ্ট গুণ প্রকাশ করেন। সাধারণত বিষ্ণু অবতারের মধ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৬৪ গুনের মধ্যে ৬০টি গুণ আছে, কেবল কৃষ্ণের এই পুরো ৬৪ গুণ আছে এবং চৈতন্য মহাপ্রভু হচ্ছেন স্বয়ং কৃষ্ণ কিন্তু প্রত্যেক অবতারের একটি নির্দিষ্ট ভাব আছে, সেই ভাব নিয়ে সেই অবতারের কাছে আসতে হয়। যেমন নরসিংহদেব অবতারে, তিনি অত্যন্ত ক্রোধী কিন্তু তিনি ভক্তবৎসল, তিনি ক্রোধী কারণ তার ভক্তের অবমাননা করা হয়েছে। কপিলমুনি তিনি সর্বাপেক্ষা আদর্শ ব্যক্তি এবং তিনি সংখ্য তত্ত্ব প্রদান করেছেন, এইভাবে আস্তিকতার দিক থেকে এই সবকিছু ব্যাখ্যা করেছেন। একজন নাস্তিক কপিল আছে, যে ওঁনার পরবর্তী সময়ে এসেছিল এবং মানুষেরা তাকে ভুল বোঝে। এটা আসল কপিল দেবের কথা বলা হয়েছে, যিনি হচ্ছেন অবতার এবং মনুষ্য হিসেবে আমরা এই বিভিন্ন অবতারদের দ্বারা আশীর্বাদ লাভ করেছি। কিছু অবতারেরা ভূলোকে আসেন, কিছু ঊর্ধ্বলোকে আসেন এবং কিছু অবতারের ক্ষেত্রে আমরা দেখি যে কপিলমুনি তিনি আমাদের এই গ্রহ লোকে ছিলেন এবং তাঁর কারণে গঙ্গা নিন্মে এসেছেন। মায়াপুর গঙ্গার তীরে আছে, সেই কারণে কপিল মুনি আমাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। আমাদের ভাগ্য হল যে সাগর দ্বীপে কপিল মুনির কাছে আমাদের একটা আশ্রম হয়েছে। কপিলমুনির অনেক অবদান ছিল, তিনি সংখ্য দর্শন দিয়েছিলেন, তাঁর কারণে গঙ্গা নিম্নে অবতীর্ণ হয়েছেন।
আমাদের শ্রীমদ্ভাগবতের শিক্ষা অধ্যয়ন করা উচিত, এইভাবে আমি দ্বিতীয় দীক্ষা পাওয়ার জন্য এই তৃতীয় স্কন্ধ ভাগবত পড়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি, কমপক্ষে। আসলে কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তী প্রভুপাদের গ্রন্থাবলী, সেগুলি হচ্ছে অধ্যয়নের জন্য অতি প্রয়োজনীয় বিষয়। চৈতন্যদেব বলেছেন—কর কৃষ্ণের শিক্ষা, তাই কৃষ্ণের শিক্ষা কি তা শ্রীল প্রভুপাদ ব্যাখ্যা করেছেন যে, ভগবদগীতা শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বাণী এবং শ্রীমদ্ভাগবতে কৃষ্ণের সম্বন্ধে বলা আছে। প্রভুপাদ গীতা এবং ভাগবত অনুবাদ করেছেন যা হচ্ছে কৃষ্ণের শিক্ষা এবং আমাদের তা পড়া উচিত, অধ্যয়ন করা উচিত, এইভাবে আমাদের চৈতন্যদেবের আজ্ঞা পালন করা উচিত। এটা এইরকম নয় যে অনেক ভগবান আছেন, ভগবান একজন এবং এগুলি হচ্ছে সেই ভগবানের বিভিন্ন অবতার, কেউ প্রতক্ষ অবতার, কিছু হচ্ছেন শক্ত্যবেশ অবতার এই সব শক্তি কৃষ্ণের থেকে আসছে। ভগবদগীতার ১০ম অধ্যায়ের ২৬ নং শ্লোকে তিনি বলেছেন, “সিদ্ধদের মধ্যে আমি হচ্ছি কপিলমুনি।” কৃষ্ণ কপিলমুনি হিসেবে আমাদের কাছে এসেছেন এই সংখ্য জ্ঞান প্রদান করার জন্য। তিনি বিভিন্ন অবতারে বিভিন্ন কারণে আবির্ভূত হন, তাই পরম গুরু সত্যম। ভগবানের অনেক রূপ আছে, “অনন্ত রূপম” হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবানের বর্ণনার মধ্যে একটি। এটি বলা আছে যে যেমন সমুদ্রের ঢেউ অসংখ্য, সেইভাবে অবতার অসংখ্য। আপনি সমুদ্রের ধারে বসতে পারেন এবং সেইসব ঢেউ গুনতে পারেন এবং আমাকে বলতে পারেন যে কত ঢেউ আছে! সেই রকমই অবতারেরা আছেন। এইভাবে তিনি বিভিন্ন রূপে বিভিন্নভাবে আসেন। তিনি জড়ো শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। যেমন আমরা নিয়ন্ত্রিত, তিনি সব সময় স্বতন্ত্র এবং তিনি এই জড় জগতের আগেও ছিলেন ও পরেও থাকবেন। কখনো কখনো তিনি এই জড় জগতের মধ্যে প্রবেশ করেন। ঠিক যেমন তিনি কপিলমুনি রূপে এসেছিলেন, কিন্তু যদিও তাঁকে একজন মানুষের মতো মনে হয় কিন্তু তিনি মানুষ্য নয়, তিনি দিব্য ব্যক্তিত্ব, কখনো কখনো ভগবান এইভাবে আসেন, তিনি বদ্ধ জীবদের কৃপা প্রদান করেন, “পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতম্।” (গীতা ৪.৮) তিনি ভক্তদের উদ্ধার করতে এবং অসুরদের বিনাশ করতে আসেন কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি কোন হিংসার অস্ত্র ব্যবহার করেননি, তিনি আমাদের মধ্যে যে অসুর ভাব আছে এটা উনি শুদ্ধ করলেন। সেই অসুর ভাব বিনষ্ট হইল ওঁনার দয়ায় যাতে আমাদের শুদ্ধ ভক্তি লাভ হয়। এখন আমাদের শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা অধ্যয়ন করতে হবে এবং এইভাবে আমাদের চৈতন্য মহাপ্রভুকে অনুসরণ করা উচিত।
সাধারণত কলি যুগের মানুষেরা উদ্ধার লাভ করতে পারে না। “কলৌ শূদ্র সম্ভবা:” এমনকি তথাকথিত ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য সকলেই শূদ্র হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছে। চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপায় তারা শুদ্ধ বৈষ্ণব হতে পারে। একজন শুদ্ধ বৈষ্ণব হচ্ছেন ব্রাহ্মণ থেকে উচ্চ, এই কারণে শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী প্রভুপাদ ঠাকুর, তিনি অব্রাহ্মণদেরও ব্রাহ্মণ দীক্ষা দিয়েছিলেন, যারা ছিলেন বৈষ্ণব। তিনি তাদেরকে উপনয়ন প্রদান করেছিলেন এটা দেখানোর জন্য যে যদি আপনি শুদ্ধ বৈষ্ণব ধর্ম অনুশীলন করেন, তাহলে আপনি শুদ্ধ হন।
কপিল মুনির জয় হোক! পঞ্চম অবতার কপিল মুনির জয় হোক!
আমি এক্ষুনি ফিরে আসব ও আপনারা আপনাদের প্রশ্নগুলি পাঠাতে পারেন।
প্রশ্ন:- দোষ দেখা কিভাবে বন্ধ করা যাবে? আমি তা করি, এমনকি যদিও আমি সেটা করতে চাই না। কিভাবে এই বাজে অভ্যাস ত্যাগ করতে পারব? দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন।
— হরিহর কৃষ্ণ চৈতন্য দাস
জয়পতাকা স্বামী:- এটা এক খুব ভালো অভ্যাস হতে পারে, যদি তুমি তা তোমার ক্ষেত্রে দেখো। যদি তুমি অন্যদের সব ভালো গুণ দেখো এবং তোমার মধ্যে সব বাজে গুণ দেখো। তুমি মাছির মতো হয়ো না, যারা ঘায়ের উপর বসে। আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষাষ্টকমের তৃতীয় নির্দেশ মেনে চলি, আমাদের অন্যদের সন্মান করা উচিত এবং নিজেদের জন্য কোন সম্মান আশা করা উচিত না।
প্রশ্ন:- (আমার আশ্রিত আধ্যাত্মিক কন্যা পূজার থেকে) এমন অনেক মানুষ আছে যারা কঠোরভাবে তথাকথিত ধর্ম পালন করে, যেমন জৈন ধর্ম এবং তারা তাদের সেই দর্শনে একগুঁয়ে। তাদেরকে কি আসুরিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়? তাদের কি আশা আছে? তারা কিভাবে চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা লাভ করবে?
জয়পতাকা স্বামী:- জৈন ধর্মের ক্ষেত্রে, সেই সম্পর্কে শ্রীমদ্ভাগবতে একটু উল্লেখ আছে যে প্রথম তীর্থঙ্কর ছিলেন ঋষভ দেব, তিনি হচ্ছেন কৃষ্ণের অবতার কিন্তু বর্তমান জৈনরা নাস্তিক হয়ে গেছে, তারা বৌদ্ধদের মতো সেই পথ অনুসরণ করে। যদি তুমি তাদেরকে শ্রীমদ্ভাগবত পড়ার ব্যাপারে উৎসাহিত কর, যেখানে ঋষভ দেবের প্রকৃত শিক্ষা আছে, তাহলে তাদের ভালো হবে। তারা এটি গ্রহণ করবে যে ঋষভ দেব হচ্ছেন প্রথম তীর্থঙ্কর, কিন্তু তারা তাঁর সম্পর্কে ততটা জানেনা যে তিনি আস্তিক ছিলেন, তিনি স্বয়ং হচ্ছেন ভগবান, তিনি হচ্ছেন ভরতের পিতা, সেই অনুসারে এই দেশের নাম হচ্ছে ভারতবর্ষ এবং তিনি হচ্ছেন ঋষভ দেবের পুত্র। তাই আমাদের ঋষভ দেব সম্বন্ধে অধ্যয়ন করা উচিত।
কৃষ্ণ করুণা-মূর্তি দাস:- আমরা কি অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় মালায় হরে কৃষ্ণ জপ করতে পারি?
জয়পতাকা স্বামী:- তোমার হাত পরিষ্কার হওয়া উচিত যদি তুমি অশুচি থাকো আর তোমার আত্মীয় মারা গেছে বা অন্য কোন কারণে হলে আমি কখনো শুনিনি যে আমাদের মালায় জপ করা উচিত নয়। হয়ত সেই রকম অসুচী সময়ে আমাদের মন্দিরে যাওয়ার কথা নয়, কিন্তু আমি কখনো শুনিনি যে আমাদের মালায় জপ করা উচিত নয়।
জয়রাশেশ্বরী দেবী দাসী:- বৈষ্ণব এবং শুদ্ধ বৈষ্ণব এর মধ্যে পার্থক্য কি? আপনি কি এই বিষয়ে একটু আলোকপাত করবেন? আপনাকে ধন্যবাদ গুরুদেব!
জয়পতাকা স্বামী:- যেই একবার নাম উচ্চারণ করে হরে কৃষ্ণ, তিনি একজন বৈষ্ণব কিন্তু একজন শুদ্ধ বৈষ্ণব হচ্ছে যিনি কর্ম মিশ্র ভক্তি করেন না, আমি বলছি না অশুদ্ধ, আমি বলছি কর্ম মিশ্র ভক্তি বা জ্ঞান মিশ্র ভক্তি ন্য, শুদ্ধ ভক্তি। একজন বৈষ্ণব কিভাবে অশুদ্ধ হতে পারে? কিন্তু আমরা শুদ্ধ ভক্তি চাই, তা কৃষ্ণ প্রেম প্রদান করে এবং কর্ম মিশ্র ভক্তি হয়ত এমন কিছু দিতে পারে যে স্বর্গলোক বা কোন ভালো কর্মফল, জ্ঞান মিশ্র ভক্তি হয়ত এমন কিছু দিতে পারে যে ব্রহ্মে লীন হয়ে যাওয়ার মুক্তি। আমরা শুদ্ধ ভক্তি চাই।
ঈশ্বর বিশ্বম্ভর দাস:- ভগবানের এক একটি অবতারের এক একটি উদ্দেশ্য রয়েছে, বৈষ্ণবরা কি সেই সব অবতারের পূজা করতে পারে সেই উদ্দেশ্যগুলি অর্জন করার জন্য? যেমন জড়জাগতিক লোকের লক্ষী পূজা করে ধন অর্জন করার জন্য, সরস্বতী দেবীর পূজা করে বিদ্যা অর্জন করার জন্য, আমাদের অনর্থগুলিকে বিনষ্ট করার জন্য ভগবানের বিশেষ কোনো অবতার রয়েছে কিনা, যেমন কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ ইত্যাদির জন্য কোন আলাদা আলাদা অবতার আছে কিনা?
জয়পতাকা স্বামী:- দেখো আমাদের এই লক্ষ্মীকে ধন লাভের জন্য পূজা করা উচিত না। এমনি কৃষ্ণের পূজা করলে তাঁর কাছে বহু লক্ষী আছেন। সরস্বতী দিব্য জ্ঞান পাওয়ার জন্য, কৃষ্ণ জ্ঞান, এটা ভালো। এখন কেশব কাশ্মীরে ছিলেন একটা দিক বিজয়ী, সমস্ত জায়গা তিনি জয় করলেন, সমস্ত পণ্ডিত তিনি জয় করল। কিন্তু তিনি এমন দয়া পেয়েছেন নিমাই পণ্ডিতের কাছে যে উনি পরাস্ত হল। তিনি প্রার্থনা করলেন সরস্বতীর কাছে যে, “আমি এই বাচ্চা, ছেলের কাছে পরাস্ত হয়ে গেলাম কি করে?” এবং সরস্বতী বললেন, “তিনি আমার স্বামী, তাই আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারছি না।” তারপরে তিনি চৈতন্যদেবের কাছে গেলেন এবং আত্মসমর্পণ করলেন। এবং তারপরে তিনি শুদ্ধ বৈষ্ণব হয়ে গেলেন। নিম্বার্ক সম্প্রদায়ে উনি একটা আচার্য হলেন। এখন তোমার প্রশ্ন কোন অবতারে সমস্ত অনর্থ দূর হবে, চৈতন্যদেবের কাছে সমর্পণ করলে সবকিছু অনর্থ দূর হয়। এবং এই চৈতন্যদেবের কৃপা পেতে গেলে নিত্যানন্দ কৃপা দরকার। নিতাই গৌর! নিত্যানন্দ হচ্ছেন আদি গুরু।
আমি এখানে আমার ক্লাস শেষ করব এবং সাড়ে নটা পর্যন্ত কিছু গৃহ পরিদর্শন করব।
হরে কৃষ্ণ!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ