Text Size

২০২০১০১০ বাংলাদেশ নমহট্টা-মেলায় জুম ভাষণ

10 Oct 2020|Duration: 00:20:43|Bengali|Others|Transcription|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

ভারতের শ্রী ধামা মায়াপুরে 10 ই অক্টোবর, 2020-এ পরম পবিত্র জয়পতাকা স্বামী মহারাজার বাংলাদেশ নামহট্ট মেলায় নিচের একটি জুম ঠিকানা।

গোবর্ধন ধরম বন্দে
গোপালম গোপ-রূপিনম
গোকুলোৎসব ঈশানম
গোবিন্দম গোপিকা-প্রিয়ম

মুখম করোতি ভ্যাচালম পংগুম লংঘায়তে গিরিম
ইয়াত-কৃপা তম অহম বন্দে শ্রী-গুরুম দীনা-তারমণম
পরমানন্দম মাধবংশশ্রীত্য চৈতন্য

Hariḥ oṁ tat sat!

জয়পতাকা স্বামী : আমি গতকাল বলেছিলাম যে ভক্তি-বৃক্ষ একটি ছোট নামহট্ট। এবং আমি বেশিরভাগ সময় ভক্তি-বৃক্ষ নিয়েই কথা বলেছি। আমি জানি না বাংলাদেশে কতগুলো ভক্তি-বৃক্ষ আছে এবং কতগুলো নামহট্ট আছে। সমগ্র ভারতে প্রায় ৩,৭০০টি নামহট্ট আছে। পশ্চিম ও পূর্ব মেদিনীপুরে প্রায় ৭০০টি করে নামহট্ট আছে। এখন পশ্চিম ও পূর্ব মেদিনীপুরে প্রায় ১৪৫০টি নামহট্ট আছে। আমরা চাই যে কিছু গ্রামবাসী গ্রামীণ এলাকায় জমি দিতে ইচ্ছুক হোক এবং আমরা সেখানে একটি কীর্তন-মহল তৈরি করব। বাংলাদেশে কী সম্ভব তা আমি শুনিনি। ভক্তি পুরুষোত্তম স্বামী পশ্চিমবঙ্গের জন্য একটি প্রস্তাব এনেছিলেন। আমি আশা করি বাংলাদেশে এর ব্যাপক প্রসার ঘটবে। নামহট্টে সাধারণত কীর্তন, ক্লাস, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং তারপর প্রসাদ বিতরণ করা হয়। অনেকে ভক্তিবৃক্ষের আদলে নামহট্ট করেন। লোকসংখ্যা বেশি হলে, নামহট্টে আলোচনার জন্য ছোট ছোট দল তৈরি করা হয়। যাইহোক, এই নামহট্ট মূলত গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত। এবং সেখানে কীর্তন, ক্লাস, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গ্রামগুলিতে নামহট্টের একটি খুব সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে। নামহট্টটি ভগবান নিত্যানন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু কিছু বছর পর, এটি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এরপর শ্রীলা ভক্তিবিনোদ ঠাকুর আবার নামহট্ট শুরু করেন। সেটাও কিছুকাল চলেছিল এবং তারপর ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে গেল। আমি শুনেছি এবং একটি পত্রিকায় দেখেছিলাম, শ্রীলা ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর লোকেদের নামহট্ট করতে বলছিলেন। গৌড়ীয় পত্রিকায় আমার গুরুদেব নামহট্ট সম্পর্কে বলেছিলেন। আমি গুরু-পরম্পরার আশীর্বাদ নিয়ে নামহট্ট পুনঃপ্রতিষ্ঠা করি। এখন এটি একটি বড় দালানের রূপ নিয়েছে। নামহট্ট শুধু ভারত ও বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশেও রয়েছে। যেখানে বেশি জমি আছে, সেখানেই নামহট্ট আছে। শহর এবং ছোট শহরে তাদের ভক্তি-বৃক্ষ রয়েছে। এই সবকিছুর মূলে রয়েছে কীর্তন। এবং ভগবান কৃষ্ণের শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা। এইভাবে সর্বদা আনন্দে থাকুন! বিভিন্ন নামহট্ট নেতাগণ নানা অনুষ্ঠান করে থাকেন। আমার মনে হয়, বাংলাদেশে তাঁরা সম্ভবত কৃষ্ণ কীর্তন করেন এবং বহু ভক্ত সেখানে গিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ভারতে পরম পূজ্য গৌরাঙ্গ প্রেম মহারাজ এবং অন্যান্যরা এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

এই মহামারীর সময়ে ভ্রমণ করা খুব একটা সমীচীন নয়। তাই আমরা জুম, ইউটিউব ইত্যাদির মাধ্যমে ভার্চুয়াল সভার আয়োজন করছি। সেইভাবে নামহট্ট ও ভক্তি-বৃক্ষে অনুষ্ঠানগুলো করা যেতে পারে। শ্রীলা ভক্তিবিনোদ ঠাকুর একটি সংবাদপত্র প্রকাশ করতেন। আমি সেটিকে বইয়ের মতো করে অনুবাদ করেছি। এর নাম গোদ্রুম কল্পটবী। নামহট্টের তিনটি শাখা আছে। একটি হলো সংঘ, কেন্দ্র এবং মন্দির। শ্রীলা ভক্তিবিনোদ ঠাকুর দুটি আশ্রমের মন্দিরের কথা বলেছেন । আমি দক্ষিণবঙ্গে এমন দুটি আশ্রম দেখেছি । সেখানে প্রপন্ন-আশ্রম লেখা হতো এবং দেব-দেবীও ছিলেন। কিন্তু সেখানে নামহট্টটি সফল হয়নি। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন নামহট্টটি চালু থাকে। যদি একটি নামহট্ট চালু থাকার কিছুদিন পরেই বন্ধ হয়ে যায়, তবে তা ঠিক নয়। ওড়িশার কিছু গ্রামে ভাগবত-তুঙ্গী নামে অনুষ্ঠান হতো, যেখানে শ্রীমদ্ভাগবতম পাঠ করা হতো। সেখানে লোকেরা একত্রিত হয়ে কীর্তন করত। এখন আর এসব হয় না। তার বদলে ছেলেরা একত্রিত হয়ে তাস ইত্যাদি খেলে। আমরা চাই নামহট্টটি যেন সমৃদ্ধি লাভ করতে থাকে।

ভগবান চৈতন্য বলেছেন, “গৃহে থাকো বনে থাকো সদা হরি বলে ডাকো ।” গৃহস্থদের কৃষ্ণের নাম জপ করা উচিত, এটাই আমাদের নিশ্চিত করা উচিত। তাঁদের জন্য প্রত্যেক গ্রামে নামহট্ট থাকা উচিত। আমাদের মানবজীবনের প্রধান লক্ষ্য হলো কৃষ্ণের সেবা করা। যদি আমরা কৃষ্ণের সেবা করি, তাহলে আমরা অসীম সুখ লাভ করি এবং এই জীবনের শেষে ভগবানের কাছে ফিরে যাই। আদিবাস দিনে কীর্তনের আগে আমরা একটি গান গাই – “ আনন্দের সীমা নাই, আনন্দের সীমা নাই, নিরানন্দ দূরে যাই নিরানন্দ দূরে যাই ।” আমরা চাই যে নামহট্টে কীর্তন করার মাধ্যমে প্রত্যেকে যেন অসীম আনন্দ লাভ করে। মানুষ সাধারণত জাগতিক কাজে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু ভগবানকে স্মরণ করা কঠিন নয়। যারা মাঠে বা অন্য কোথাও কাজ করে, তারাও ভগবানের নাম জপ করতে পারে। বিভিন্ন স্তরে পবিত্র নাম জপ করা যেতে পারে। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে হরিনাম করতে পারে। স্ত্রী সহধর্মিণী হলে তারা একসঙ্গে হরিনাম করতে পারে। তাই মানুষ নামহট্টে একত্রিত হয়ে কীর্তন করে এবং শাস্ত্র অধ্যয়ন করে। এটি অত্যন্ত উপকারী। আমাদের হৃদয়ে ঈশ্বর-চেতনার উদয় হবে।

আজ আমরা শুনলাম, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কীভাবে শান্তিপুরে গিয়েছিলেন। অদ্বৈত গোষাণী ভাবাবেশে তিন ঘণ্টা ধরে এক প্রহর নৃত্য করছিলেন। তারপর শ্রীনিৎয়ানন্দ নৃত্য শুরু করলেন। এরপর হরিদাস ঠাকুরও পেছনে নৃত্য করতে লাগলেন। এইভাবে সবাই নৃত্য ও কীর্তন করছিলেন। কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কৃষ্ণের বিরহে কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। সবাই নৃত্য থামিয়ে দিলেন। এভাবেই লীলাটি প্রকাশিত হয়েছিল। কয়েক মাস আগে আমরা শুনেছিলাম যে, তিনি নিমাই পণ্ডিত রূপে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি পদ্মা নদীতে স্নান করে শ্রীহট্টে গিয়েছিলেন। এইভাবে তিনি বিভিন্ন স্থানে গিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশের মানুষ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আগমনে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সকলকে তাঁর শিক্ষা প্রদান করেছিলেন এবং হরিনামের বিস্তার ঘটিয়েছিলেন। হরিবোল! হরিবোল! বাংলাদেশ একটি পবিত্র স্থান। গৌর-মণ্ডল ভূমি, যেব জানে চিন্তামণি, তার হয়ে ব্রজ-ভূমি বাস প্রায় সমগ্র বাংলাদেশই গৌর-মণ্ডল ভূমির মধ্যে অবস্থিত। আমরা জানি যে এটি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর লীলাভূমিও বটে। সেখানে যদি আমরা কৃষ্ণের নাম জপ করি, তবে খুব সহজেই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা লাভ করা যায়। কিন্তু যদি আমরা তা না করি, তবে তা আমাদেরই ক্ষতি হবে। তাই নামহট্ট যাতে ভালোভাবে প্রসারিত হয়, তা দেখার জন্য আপনাদের চেষ্টা করতে হবে। নামহট্ট, ভক্তি-বৃক্ষ—এগুলোর মাধ্যমে ধর্মপ্রচার হওয়া উচিত। জগৎ-গুরুর কাছ থেকে আমরা শুনব কোথায় কী আছে। আগামী বছর যদি আরও সম্প্রসারণ হয়, আমরা সে বিষয়ে শুনব।

হরে কৃষ্ণ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by Jps Archives
Verifyed by JPS Archives
Reviewed by JPS Archives

Lecture Suggetions