Text Size

২০২০১০০৫ কর্ণাটক নামহট্ট ভক্তদের সাথে জুম অধিবেশন

5 Oct 2020|Duration: 00:35:15|Bengali|Zoom Sessions|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ৫ অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে দিয়েছেন। এই জুম অধিবেশনটি কর্ণাটক নামহট্ট ভক্তদের সাথে হয়েছে।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী: আমি যা বলব তা কি কন্নড় ভাষায় অনুবাদ করা হবে? আমি এখানে কর্নাটকে এসে খুবই খুশি হয়েছি। আমরা জানি যে চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি অনেক সময় কর্নাটকের মাধ্যমে গিয়েছিলেন। তিনি উরুপির মাধ্যমে হেঁটেছিলেন, হাম্পিতে গিয়েছিলেন। তিনি নিশ্চয়ই কর্নাটকের বিভিন্ন স্থানেও গিয়েছেন। কর্নাটকবাসীরা চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা প্রাপ্ত, তিনি হচ্ছেন স্বয়ং কৃষ্ণ, যিনি ভক্তরূপে এসেছেন নিজের দৃষ্টান্তের মাধ্যমে শিক্ষা দিতে যে কিভাবে কৃষ্ণকে প্রেম করা যায়। তিনি কৃষ্ণপ্রেম অবাধে প্রদান করেছেন। তিনি দেখেননি কে যোগ্য কে অযোগ্য। তিনি প্রত্যেককে কৃপা প্রদান করেছেন। 

আমরা জানি যে তাঁর সংকীর্তন আন্দোলন চাঁদ কাজীর দ্বারা নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি সঠিক কারণে আইন অমান্য আন্দোলন করেছিলেন এবং তিনি যে কীর্তন সংগঠিত করেছিলেন, তাতে চারটি দল ছিল। একটি অদ্বৈত গোঁসাই নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, একটিতে হরিদাস ঠাকুর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, আরেকটি শ্রীবাস ঠাকুর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এবং চতুর্থটিতে তিনি নিত্যানন্দ প্রভু ও গদাধর পন্ডিত সহ ছিলেন। বলা হয়েছে যে সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষেরা ছিলেন এবং তারা মশাল ও তাতে পুনরায় ঢালার জন্য তেল বহন করছিলেন। কিন্তু এটা বলা হয়েছে যে, তারা হাতে তালি দিচ্ছিলেন এবং বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছিলেন। তারা মশাল এবং তেল বহন করাকালীন তা কিভাবে করতে পারেন? বলা হয়েছে যে, নবদ্বীপের ব্যক্তিরা চার হাত প্রকট করেছিলেন। তারা এমনকি তা উপলব্ধিও করতে পারেননি যে তাদের চার হাত ছিল, তারা এতই ভাবেবিভোর ছিলেন। 

সেই আধ্যাত্মিক শব্দ তরঙ্গ সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে পরিব্যপ্ত হয়েছিল, এমনকি তা এই জগতের ঊর্ধ্বে বৈকুন্ঠ লোকেও পৌঁছে গিয়েছিল। তারা চিন্তা করছিলেন, কত অতুলনীয় ব্যাপার যে পরমেশ্বর ভগবান পৃথিবীতে নাম কীর্তন করছেন আর ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবতারা তাঁকে দর্শন করতে এসেছিলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে এইভাবে মহাভাবে বিভোর হয়ে নৃত্য কীর্তন করতে দেখে তারা অচেতন হয়ে পড়ে যান। যখন আবার তাদের জ্ঞান ফেরে, তখন তারা মনুষ্য রূপ ধারণ করে কীর্তনে যুক্ত হয়েছিলেন এবং এমনকি নাস্তিকরা যারা আগে চৈতন্য মহাপ্রভুর নিন্দা করেছিল, তারাও কৃষ্ণ প্রেমে অভিভূত হয়ে পড়েছিল। কেউ কেউ তাদের বাহু উর্ধ্ব করেছিল, কেউ কেউ মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছিল, এইভাবে তারাও পবিত্র নাম কীর্তন করতে শুরু করেছিল। আকাশ থেকে অপ্সরাগণ পুষ্প বৃষ্টি করছিল। ঠিক যেমন যখন কৃষ্ণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ করেছিলেন, তেমন চৈতন্য মহাপ্রভু সারা জগতব্যাপী কীর্তন করেছিলেন। কোন না কোনভাবে সব গৃহ আম পাতা, কলা পাতা এবং অন্যান্য শুভ জিনিস দ্বারা সুসজ্জিত করা হয়েছিল। 

নবদ্বীপের মানুষেরা চৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রীবাস অঙ্গনে কীর্তন করাকালীন তা দর্শন করা থেকে বঞ্চিত ছিলেন, কিন্তু এখন প্রত্যেকেই চৈতন্য মহাপ্রভুকে দর্শন করতে পারছিলেন এবং তারা সবাই কীর্তনের যুক্ত হয়েছিলেন। চাঁদ কাজী তিনি ভেবেছিলেন…  তিনি দূর থেকে সেই শব্দ শুনতে পান, তিনি ভেবেছেন যে হিন্দুর ঘরে বিবাহ বা কোন কিছু হচ্ছে। তিনি তার রক্ষকদের সেখানে গিয়ে দেখতে বলেছিলেন  যে কি হচ্ছে। যখন তারা এত বিশাল জনগণকে দেখল, তখন তারা ভীত হল, তারা তাদের পাগড়ি খুলে দাড়ি লুকানোর চেষ্টা করল আর তাদের বাহু উর্ধ করে ভক্তদের কীর্তনের নকল করতে শুরু করল (হাসি) হরিবোল! হরিবোল! গৌরাঙ্গ! এইরকম ছিল শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কীর্তন। 

যাইহোক, তিনি চাঁদকাজিকে রাজি করিয়েছিলেন এবং চাঁদকাজি বলেছিলেন, “আপনি আপনার কীর্তন করতে পারেন, আমার কোন সমস্যা নেই।” আমরা আশা করি যে সমস্ত কেন্দ্রে এবং কর্ণাটকের নামহট্টে চৈতন্য মহাপ্রভুর এই ভাবকে গ্রহণ করা হবে। আমরা খুবই কৃতজ্ঞ যে সুধীর চৈতন্য দাস এই সংকীর্তন আন্দোলনের প্রসার করেছেন। আমরা আশা করি কর্ণাটক কৃষ্ণভক্তির কেন্দ্র হয়ে উঠবে। ঠিক যেমন, উরুপিতে তারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা করেন, তেমন আমরা আশা করি যে এখানে প্রত্যেকেই কৃষ্ণকে তাদের হৃদয়ে ধারণ করবেন এবং কৃষ্ণের বাণী প্রচার করবেন। যখন চৈতন্য মহাপ্রভু দক্ষিণ ভারতে গিয়েছিলেন, তখন তিনি এইরকম অনুরূপ নির্দেশ সকল গৃহে দিয়েছিলেন:

“যারে দেখ, তারে কহ 'কৃষ্ণ' উপদেশ
আমার আজ্ঞায় গুরু হঞা তার' এই দেশ।”
(চৈ. চ. মধ্য ৭.১২৮)

যার সাথেই আপনার সাক্ষাৎ হয়, তাদেরকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাণী বলুন। আমার আজ্ঞায় আধ্যাত্মিক গরু হন এবং ব্যক্তিদের উদ্ধার করুন। চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি ছয় বছর দক্ষিণ ভারতে অতিবাহিত করেছিলেন, তিনি অন্ধ্রপ্রদেশে যান, (এখন) যা তামিলনাড়ু, কেরালা এবং কর্ণাটক। আমরা আশা করি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা সব ব্যক্তিদের মধ্যে ছড়িয়ে যাবে। 

এই পুরুষোত্তম মাস হচ্ছে এক অতি বিশেষ মাস।এটা হচ্ছে অধিক মাস, যা ৩২ মাসে একবার আসে। এটা পুণ্য কর্মের জন্য ভালো নয়, কিন্তু ভক্তিযোগের জন্য খুব ভালো। এই পুরুষোত্তম মাসে কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলন করার ফলে কেউ গোলক বৃন্দাবনে ফিরে যেতে পারে, বিশেষত কোন ব্যক্তির প্রত্যেকদিন রাধাকৃষ্ণকে দীপ নিবেদন করা উচিত। আমাদের www.purusottamamonth.com বলে একটি ওয়েবসাইট আছে, সেখানে কিছু বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এটি বলা হয়েছে যে সব মাস একসাথে করলেও পুরুষোত্তম মাসে যা আশীর্বাদ লাভ করা যায়, তা তার ১৬ ভাগের ১ ভাগ নয়। স্মার্তরা এই মাসকে পছন্দ করে না। আমাদের ছোট্ট আবেগপূর্ণ একটি ভিডিও আছে, যেখানে পুরুষোত্তম মাস সম্বন্ধে বলা হয়েছে। আমি জানিনা আপনারা সেটি দেখেছেন কিনা বা আমি আপনাদের এইরকম কোন ভিডিও দেখিয়েছি কিনা, যাইহোক এই শুভ মাসে কর্নাটকে আসতে পেরে আমি খুবই খুশি। আপনাদের কোন প্রশ্ন আছে? 

ভক্ত: তাঁদের কি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কীর্তনের সেই নির্দিষ্ট লীলায় প্রবেশাধিকার ছিল না নাকি শ্রীবিষ্ণু, শংকর এবং সকল দেবতা … শ্রীবিষ্ণু, তারা সব রূপে উপস্থিত ছিলেন, ও এছাড়া তারা দর্শন করতে পারতেন না বা নাকি এটা কেবল তাদের কাছে তখন প্রকাশ হয়েছিল, যখন শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু বাইরে নগর সংকীর্তন করেছিলেন?

জয়পতাকা স্বামী: নবদ্বীপে তাদের কৃষ্ণভক্তি সম্বন্ধে অল্প কিছু ধারনা ছিল। তাই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সেই জন্য সমস্যা হয়েছিল, কারণ কেউই তাঁর মহাভাব বুঝতে পারছিলেন না। শ্রীবাস পণ্ডিত তাকে তাঁর গৃহে, তাঁর অঙ্গনে কীর্তন করার জন্য নিমন্ত্রন করেছিলেন। কেবলমাত্র অত্যন্ত উন্নত ভক্তরা, যারা ভক্তিযোগী, তাদেরই সেখানে প্রবেশাধিকার ছিল। কিছু সময় পরে চৈতন্য মহাপ্রভু বাইরে তাঁর কীর্তন করেছিলেন। সেটাই আমি আজকে রাতের ক্লাসে বর্ণনা করছিলাম। বিশেষত এটা বর্ণনা করা হয়েছে যে, দেবতারাও সেই কীর্তন দর্শন করার জন্য নিন্মে নেমে এসেছিলেন। যেহেতু কেবল কয়েকজন ভক্তই শ্রীবাস অঙ্গনে যেতে অনুমতি পেতেন, তাই সেখানে এটি উল্লেখ করা নেই যে কোনো দেবতা এসেছিলেন। তবে অবশ্য, দেবতারা চাইলে আকাশ থেকেও দর্শন করতে পারতেন। কিন্তু কীর্তনে যুক্ত হওয়া ক্ষেত্রে, নিশ্চিতরূপে তারা তা করেছিলেন যখন চৈতন্য মহাপ্রভু বাইরে কীর্তন করেছিলেন। বলা হয়েছে যে অদ্বৈত আচার্য হচ্ছেন মহাবিষ্ণু এবং সদাশিবের অবতার। আর হরিদাস ঠাকুর হচ্ছেন ব্রহ্মার অবতার। এইভাবে বিভিন্ন দেবতারা গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর কীর্তনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। শ্রীবাস হচ্ছেন নারদ মুনি, মুরারি গুপ্ত হচ্ছেন হনুমান। তাই সেখানে অনেক উন্নত ভক্তরা ছিলেন, যারা চৈতন্য মহাপ্রভুর সেই লীলায় অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া বৃহস্পতি এবং অন্যান্যরা, তারাও অংশগ্রহণ করেছিলেন। আধ্যাত্মিক জগত থেকেও কিছু জন এসেছিলেন, আর কেউ কেউ বিভিন্ন স্বর্গলোক থেকেও এসেছিলেন। হরিবোল!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 26 / Jan / 2025
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions