নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী ৩ অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শ্রী মায়াপুর ধাম, ভারতে প্রদান করেছিলেন। এই প্রবচনটি শুরু হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতের ১ম স্কন্ধ, ৩য় অধ্যায়, ৩ শ্লোক পাঠের মাধ্যমে।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
গোবর্ধন ধরং বন্দে গোপালং গোপ রূপিনং
গোকুলৎসব মে ঈশানম গোবিন্দং গোপিকা প্রিয়ম্
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
শ্লোক ১.৩.৩
যস্যাবয়বসংস্থানৈঃ কল্পিতো লোকবিস্তরঃ।
তদ্বৈ ভগবতো রূপং বিশুদ্ধং সত্ত্বমূর্জিতম্॥
অনুবাদ: সমগ্র বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড পুরুষের বিরাট শরীরে অবস্থিত, কিন্তু তাঁর সৃষ্ট এই জড় উপাদানের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্বন্ধ নেই। তাঁর শরীর পরম উৎকর্ষ সহকারে পরা-প্রকৃতিতে অবস্থিত।
তাৎপর্য: পরমেশ্বর ভগবানের বিরাট রূপ অথবা বিশ্বরূপের ধারণা নির্দিষ্ট হয়েছে বিশেষ করে কনিষ্ঠ অধিকারী ভক্তদের জন্য, যাদের পক্ষে ভগবানের দিব্য স্বরূপ হৃদয়ঙ্গম করা অত্যন্ত কঠিন। তারা মনে করে যে, রূপ মানে হচ্ছে প্রাকৃত জগতের কোনও বস্তু। তাই প্রারম্ভিক স্তরে অদ্বয় তত্ত্ব সম্বন্ধে একটি বিপরীত ধারণার প্রয়োজন হয়ে পড়ে, যাতে তারা ভগবানের শক্তি বিস্তারের ধ্যানে মনকে নিবদ্ধ করতে পারে। পূর্বেই বলা হয়েছে যে, ভগবান মহত্তত্ত্বরূপে তাঁর শক্তি বিস্তার করেন, যা হচ্ছে সমস্ত জড় উপাদানের আধার। একদিক দিয়ে বিচার করলে স্বয়ং ভগবান এবং তাঁর শক্তি একই, কিন্তু তা সত্ত্বেও মহত্তত্ত্ব ভগবান থেকে ভিন্ন। তাই ভগবানের শক্তি বা ভগবান স্বয়ং একাধারে ভিন্ন এবং অভিন্ন। তাই বিশেষ করে নির্বিশেষবাদীদের জন্য বিরাট রূপের ধারণা ভগবানের নিত্য রূপ থেকে অভিন্ন। ভগবানের নিত্য বিগ্রহ মহত্তত্ত্বের সৃষ্টির পূর্বেও বর্তমান ছিল এবং তাই এখানে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, ভগবানের নিত্য রূপ হচ্ছে জড়া প্রকৃতির অতীত পরম উৎকর্ষ সমন্বিত চিন্ময় রূপ। ভগবানের এই দিব্য রূপ তাঁর অন্তরঙ্গা প্রকৃতিতে প্রকাশিত হয় এবং তাঁর অসংখ্য অবতারসমূহ সর্বদাই সেই অপ্রাকৃত স্তরেই প্রকাশিত এবং তাঁরা কখনই মহত্তত্ত্বের দ্বারা প্রভাবিত নন।
***
জয়পতাকা স্বামী: আমরা দেখি যে এই জড়জগতের আগেও ভগবান ছিলেন। সেই জন্য তিনি জড়জাগতিক উপাদানের উপর নির্ভরশীল নন কারণ এই জড়জাগতিক উপাদানসমূহ সৃষ্টির পূর্বেও ভগবানের অস্তিত্ব ছিল। যদি মানুষেরা মনে করে যে তিনি হচ্ছেন জড় শক্তির এক প্রকাশ, তাহলে তা ভুল কারণ যদি তিনি জড় শক্তির কোনো প্রকাশ হতেন, তাহলে কিভাবে জড়শক্তির পরেও ভগবান থাকতে পারেন? তবে তিনি আগেও ছিলেন, সেই জন্য তিনি জড় জাগতিক শক্তির উপর নির্ভরশীল নন। চৈতন্য মহাপ্রভু এই অচিন্ত্যভেদাভেদ তত্ত্ব শিক্ষা দিয়েছেন যে — অবিশ্বাস্যভাবে, যুগপৎভাবে শক্তি ভগবানের থেকে ভিন্ন ও অভিন্ন। নির্বিশেষবাদীরা কোনভাবে এটা মনে করে যে ভগবানের স্বরূপ হচ্ছে সত্ত্ব গুণের কিন্তু তিনি হচ্ছেন সচ্চিদানন্দ। তিনি হচ্ছেন দিব্য, নিত্য আনন্দময়, জ্ঞানযুক্ত। ঋগবেদে এটি বলা আছে — অহং কৃষ্ণ গুণ সচ্চিদানন্দ গণ কৃষ্ণ আদি পুরুষ — কৃষ্ণ হচ্ছে সচ্চিদানন্দ গুণযুক্ত, তিনি হচ্ছেন আদি ভগবান, সকলের পূর্বে তাঁর অস্তিত্ব ছিল, সেই জন্য তিনি হচ্ছেন সকলের উৎস। এটি ভগবদগীতাতে বর্ণনা করা আছে — “সর্বস্য চাহং হৃদি সন্নিবিষ্টো” — সবকিছু আমার থেকে আসছে, এছাড়া ব্রহ্মসংহিতাতে এটি বর্ণনা করা আছে যে কৃষ্ণ হচ্ছে সর্বকারণের পরম কারণ, তিনি হচ্ছেন পরম নিয়ন্ত্রক।
ঈশ্বর পরম কৃষ্ণ সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ।
অনাদির আদি গোবিন্দ সর্বকারণ কারণম্।।
এটা বোঝা সহজ যে কৃষ্ণ হচ্ছেন আসলে অপ্রাকৃত। শংকরাচার্যও ব্যাখ্যা করেছেন যে নারায়ণ হচ্ছেন জড় জাগতিক শক্তির ঊর্ধ্বে। নারায়ণঃ পরাব্যক্তাত (শংকর-গীতা-ভাষ্য) কিন্তু তবুও নির্বিশেষবাদীরা মনে করে যে যা কিছুর রূপ আছে তা নিশ্চিতরূপে জড়জাগতিক এবং সেই জন্য তারা মনে করে আধ্যাত্মিক মানে স্বরূপহীন। এই হচ্ছে নির্বিশেষবাদীদের বিভ্রান্তি, যদি ভক্তরা নির্বিশেষবাদীদের কথা শোনে, তাহলে তারাও বিভ্রান্ত হয়ে যাবে। সেই জন্য চৈতন্য মহাপ্রভু নির্দেশ দিয়েছেন যে আমাদের মায়াবাদীদের থেকে শ্রবণ করা উচিত নয়। “মায়াবাদী হয় কৃষ্ণের অপরাধী” — মায়াবাদীরা হচ্ছে কৃষ্ণের প্রতি অপরাধী। আমার এটার কিছু উপলব্ধি আছে। মায়াবাদী, তাদের মস্তিষ্ক হচ্ছে মানসিক বিকারগস্তের মতো। তারা পরমেশ্বর ভগবানকে বুঝতে পারে না, তখন শ্রীল প্রভুপাদ নির্দেশ দিয়েছিলেন যে তাদেরকে ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত কর, এর দ্বারা তারা ধীরে ধীরে শুদ্ধ হবে এবং তাই হয়েছিল। কিছু মায়াবাদীরা, তাদেরকে ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত করার পর সে কিছু সময় পর বলল যে, “এখন আপনি যা বলছেন তা আমি বুঝতে পারছি।” এতে তার কিছু বছর সময় লেগেছিল এবং তারা এই ধারণায় এত আবদ্ধ যে যা কিছুর রূপ আছে তা নিশ্চয়ই জাগতিক, তাই তারা বুঝতে পারে না যে কিভাবে কৃষ্ণ পরমেশ্বর ভগবান হওয়ায় তিনি আসলে দিব্য এবং এটা এখানে এই শ্লোকে বর্ণনা করা আছে যে যদিও তাঁর শ্রীঅঙ্গ আছে, কিন্তু তাঁর শরীর আধ্যাত্মিকভাবে স্থিত, আসলে তাঁর নিজের এবং তাঁর শরীরের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আমাদের ক্ষেত্রে সেই পার্থক্য আছে। এই জড়জগতে আত্মা শরীরের থেকে ভিন্ন। যখন আত্মা শরীর ছেড়ে দেয়, তখন শরীর মৃত। কেবল আত্মা এই শরীরকে জীবিত রাখে। কৃষ্ণ হচ্ছেন শুদ্ধ আত্মা, তাঁর কোন জাগতিক শরীর নেই, সেটা নির্বিশেষবাদীরা বুঝতে পারে না এই কারণে বিরাট রূপ প্রকাশ করা হয়েছে যাতে ধীরে ধীরে তারা ভগবানের দিব্য রূপের প্রশংসা করতে শুরু করতে পারে।
চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি অবতীর্ণ হয়েছিলেন এটি দেখানোর জন্য যে কিভাবে ভক্তিযোগ অনুশীলন করতে হয় এবং ঠিক যেমন কখনও কখনও শিক্ষক চক নিয়ে বোর্ডে লেখেন, একইভাবে কৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুরূপে এসেছিলেন এটি দেখানোর জন্য যে কিভাবে ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত হতে হয়। এই কারণে চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা সমূহ কত অসাধারণ। তিনি মহাপ্রভুরূপে এসেছিলেন, এক মহান শিক্ষক যিনি প্রত্যেককে শিক্ষা দিচ্ছেন যে কিভাবে কৃষ্ণকে ভালবাসতে হয়। তিনি ক্রন্দন করতেন, তিনি ভাবেবিভোর হয়ে যেতেন, আর সব ভক্তরা তাঁকে দর্শন করে গভীর মহাভাব অনুভব করতেন। তিনি বৈষ্ণব রাজা, বৈষ্ণবদের রাজা হিসেবে পরিচিত। রাজার তার সভা আছে। বৈষ্ণব রাজ্যসভা হচ্ছে যেসব বৈষ্ণবদের অস্তিত্ব আছে, তাদের জন্য সার্বজনীন। তিনি হচ্ছেন রাজা ও তাদেরকে সুরক্ষিত রাখার জন্য এবং পথপ্রদর্শনের জন্য বিভিন্ন আচার্যরা বিভিন্ন যুগে তাদের ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। যখন চৈতন্য মহাপ্রভু চলে আসেন, তাঁর অপ্রকটের পর সমগ্র বিশ্ব অন্ধকারাচ্ছন্ন দেখাচ্ছিল, তখন রূপ গোস্বামী সেই বিশ্ব বৈষ্ণব রাজ্যসভার রক্ষক হন এবং তারপরে হন জীব গোস্বামী। এইভাবে বিভিন্ন আচার্যদের পরম্পরা হয়, তারা বিশ্ব বৈষ্ণব রাজ্যসভা সুরক্ষিত রাখেন, যেমন বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ঠাকুর, আসলে এটি আবার শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের দ্বারা পুনরায় করা হয় এবং তিনি বিভিন্ন অপসম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে বৈষ্ণব সম্প্রদায়কে রক্ষা করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন এবং তারপরে ছিলেন শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী প্রভুপাদ ঠাকুর, তিনি এই পন্থা দিয়েছেন যে কিভাবে তিনি চেয়েছিলেন সভার সকল বৈষ্ণবগণ একে অপরের সহযোগিতা করবে, এই সভার বিভিন্ন কার্য পরিচালনা করবে, তা হবে সম্মিলিতভাবে গভর্নিং বডি কমিশনের দারা, কিন্তু কিছু সময় পর তারা ওঁনার নির্দেশ অনুসরণ করা বন্ধ করে দেয়, এই কারণে কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ তিনি বলেছেন যে এটা তাদের ভুল ছিল। যাই হোক আমি আশা করি যে আপনারা তা জানেন, আমরা আমাদের গুরুবর্গ বা বরিষ্ঠদের সম্পর্কে কিছু বলতে পারি না, কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ আমাদেরকে কিছু বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন শুধু এই নির্দেশ দেওয়ার জন্য যে আমরা যাতে তাঁকে অনুসরণ করি, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে চৈতন্য মহাপ্রভুর বার্তা সমগ্র বিশ্বের কাছে আনার মাধ্যমে তা হচ্ছে পূর্ববর্তী আচার্য, চৈতন্য মহাপ্রভু, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভবিষ্যৎ বাণীর এক বিরাট পরিপূর্ণতা। তিনি আসলে সমগ্র গুরুপরম্পরাকে রক্ষা করছিলেন। শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী প্রভুপাদ ঠাকুরের বাণী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি চেয়েছিলেন যে সারস্বত পরিবার যাতে একত্রিত হয়। তিনি আমাকে বলেছিলেন ভক্তিবেদান্ত স্বামী চ্যারিটি ট্রাস্টে সদস্য যুক্ত করার মাধ্যমে তা করতে। আমরা সেটার প্রয়াস করছি, কিন্তু তা তত সহজ নয়। যদি আপনার কাছে একটি পাত্র থাকে এবং তা ভেঙ্গে যায়, তাহলে আপনি আসলে ঠিক একইভাবে তা জোড়া লাগাতে পারবেন না। আমাদের নিজেদেরকে একত্রে আনার জন্য কিছু অনন্য পন্থার কথা ভাবতে হবে।
আমরা দেখি যে এখানে শ্রীমদ্ভাগবতের এই শ্লোকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে প্রত্যেকে বৈষ্ণব তত্ত্ব বুঝতে সক্ষম নয়, সেই জন্য শ্রীমদ্ভাগবতে এই সব কিছু খুব ধীরে ধীরে ক্রমিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু আসলে ভক্তরা তারা বুঝতে পারে যে ভগবান হচ্ছেন দিব্য, তিনি পুরোপুরি আধ্যাত্মিক, সর্বশ্রেষ্ঠ। সেই জন্য বৈষ্ণব রাজ্যসভার রক্ষা হওয়া দরকার এবং অগ্রসর হওয়া দরকার। আমরা দেখতে পাই যে আজকাল বিভিন্ন কিছু হচ্ছে, মানুষেরা জানে না এর সমাধান কি কিন্তু তারা বলে যে কিছু সমস্যা আছে এবং তারা তা বুঝতে পারছে। একইভাবে তারা দেখে যে জাতিভেদ প্রথার মধ্যে কিছু সমস্যা আছে কারণ নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিদের নিজ জাতির বলে মনে করা হয় এবং কিছুজনকে উচ্চ জাতির বলে মনে করা হয় কিন্তু প্রকৃত প্রথাটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দ্বারা দেওয়া হয়েছে, যা হচ্ছে একজন ব্যক্তি যে গুনের কর্মে নিযুক্ত সেই অনুসারে বিভক্ত — “গুণকর্মবিভাগাশ”। তিনি জন্ম কর্ম বলেননি, কিন্তু মানুষেরা তাদের জন্ম এবং তারা যে অপরাধমূলক কাজকর্ম করছে তার জন্য সম্মান পাচ্ছে। যেমন সাম্প্রতিক একটি ঘটনা হয়েছে যে একজন তরুণ বালিকা, ১৯ বছর বয়সী, সে উচ্চ জাতের হিন্দুদের দলের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছে, এই অভিযোগ হয়েছে এবং সে মারা গেছে। এটা এক বড় সমস্যা সৃষ্টি করেছে, মানুষেরা মনে করছে যে এটা জাত প্রথার জন্য হয়েছে। কিন্তু এটা জাত প্রথার এক ভুল ভাবনা, এই সমস্ত ব্যক্তিদেরকে বলা হয় ব্রহ্মবন্ধু বা ব্রাহ্মণদের পারিবারিক সদস্য হওয়ার অযোগ্য এবং তারা হচ্ছে অপরাধী। আমরা দেখি যে অর্জুন অশ্বত্থামাকে গ্রেপ্তার করেছিল কারণ সে ছিল হত্যাকারী, সে ব্রাহ্মণের মত কাজ করেনি, তাই তাকে একটা পশুর মতো আটক করা হয়েছিল। এইভাবে যদি মানুষেরা কোন ভুল আচরণ করে, তাহলে পূর্ববর্তী নিয়ম অনুসারে তাদেরকে কোন ধরনের সম্মান দেওয়ার কথা নয়। কিন্তু এখন তাদের জন্ম অনুসারে তারা কিছু বিশেষ অধিকার দাবি করছে এবং তারা সেটার যোগ্য নয়, এটা এক বড় সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী প্রভুপাদ ঠাকুর, তিনি কিছু বৈষ্ণবদের ব্রাহ্মণ দীক্ষা প্রদান করা শুরু করেন তা তারা জন্মগতভাবে যেই জাতিরই হন না কেন, যদি তারা বৈষ্ণব হতেন, তাহলে তিনি তাদেরকে ব্রাহ্মণ রূপে যোগ্য মেনে ছিলেন। এটা সেই সময় প্রয়োজন ছিল সবাই যাতে বৈষ্ণব হয়, সবাই যাতে ভক্ত হয় আর তাদের কাজের উপর ভিত্তি করে তারা তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে পারে। যদি কেউ শিক্ষক রূপে কাজ করছে, যা হচ্ছে আসলে ব্রাহ্মণীয় ধরনের সেবা, তাহলে তাদের ব্রাহ্মণের কর্তব্য পালন করা উচিত, নিরামিষভোজী হওয়া উচিত ও কোন নেশা গ্রহণ না করা, মিথ্যা না বলা, অসৎ না হওয়া উচিত। কিন্তু আজকালকার শিক্ষকেরা যা করছে তা তাদের কাজ নয়। যেহেতু তাদের উপাধি আছে, সেটাই যথেষ্ট নয়! এই নিয়মটি ছিল যে একজন শিক্ষক হচ্ছে এক পুরোহিত, তাদের কেবল শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই হবে না, তাদের আচরণও তেমন হওয়া উচিত। একজন ক্ষত্রিয় বা প্রশাসকের সাধারনদের রক্ষা করা উচিত, তার কখনও দান গ্রহণ করা উচিত নয়, ঘুষের কথা আর কি বলার আছে! তাই মানদন্ড আপনার কার্যের উপর নির্ভর করে। কেউ একজন সেনা বা প্রশাসক বা পুলিশ, সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু গুণ আছে যা তাদের থাকা উচিত, আমরা দেখি যে পাশ্চাত্যে ‘ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটার’ বলে আন্দোলন হয়েছিল কারণ পুলিশেরা, যাদের মানুষদের রক্ষা করার কথা, তারা তাদের কর্তৃত্বের অপব্যবহার করছিল। তাদের মধ্যে কিছু জন অন্য বর্ণের মানুষদের সাথে বাজে আচরণ করে, সেই জন্য সেটা সমগ্র বিশ্বে এই প্রতিবাদ জাগিয়ে তোলে। এইভাবে সমাজ আজকাল এই সব কিছুর সম্মুখীন হচ্ছে। কৃষ্ণভাবনামৃত হচ্ছে এক দৈব সমাধান, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে ভক্তরা যাতে শ্রীমদ্ভাগবতের এইসব শিক্ষা বোঝে, কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের এই বাণী বোঝে এবং এই জ্ঞান সমাজে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে, যা আসলে স্থায়ী সমাধান আনবে।
জাগতিক বৈজ্ঞানিকেরা, যারা প্রকৃতি সম্বন্ধে অধ্যায়ন করে, তারা মনে করে যে কোনভাবে প্রকৃতি জীবন সৃষ্টি করেছে কিন্তু তা কখনই হয় না। শ্রীল প্রভুপাদ এই শিক্ষা দিয়েছেন যে জীবন আসে জীবন থেকে। আত্মা হচ্ছে পরমাত্মার ক্ষুদ্র অংশ এবং সেই জন্য আত্মা এই জড় জগতে প্রবেশ করে এবং আরেকটি শরীরে প্রাণ সঞ্চার করে। আত্মা ছাড়া কোন জীবন নেই, জড়জাগতিক বৈজ্ঞানিকেরা মনে করে যে প্রকৃতি থেকে জীবনের সৃষ্টি হয়, কিন্তু এর কোন প্রমাণ নেই আর বেদ আমাদেরকে বলেন যে কিভাবে জীবন আসে পরমেশ্বর ভগবান থেকে, জীব তাঁর শক্তির ক্ষুদ্র অংশ, যা জড়জগতে প্রবেশ করে এবং জীবন প্রদান করে, নয়ত জড়শক্তির দ্বারা তা সম্ভব নয়। বিভিন্ন গাছপালা, জলজ প্রানী, পোকা, সরীসৃপ, পাখি, স্তন্যপায়ী জীব এবং মনুষ্য, আত্মা ছাড়া কোন জীবন নেই। এখন বৈজ্ঞানিকেরা এটি উপলব্ধি করেছে, আগে তারা বলত যে এটি হচ্ছে কেবল কোষ কিন্তু এখন তারা উপলব্ধি করেছে যে কোষ অত্যন্ত জটিল, এমনকি এটা এত জটিল যে তা অসাধারণ এক ব্যাপার! আসলে তা দুর্ঘটনাক্রমে সৃষ্টি করা সম্ভব নয়, নিশ্চিতরূপে এর পিছনে বুদ্ধি আছে। মহান চিন্তাবিদ আইনস্টাইন এই সিদ্ধান্তে এসেছিলেন যে এর পিছনে নিশ্চয়ই কারও মাথা আছে, কারও বুদ্ধি ছাড়া এই সমগ্র বিশ্ব কার্য করতে পারে না। আমরা এইসব বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের গ্রহ মণ্ডলীকে দেখি, শুধু বোঝার জন্য সেগুলিকে পুরুষের আধ্যাত্মিক শরীরে বিস্তারিত অংশ হিসেবে দেখি, এই কারণে বিশ্বরূপ বা বিরাট পুরুষের মাধ্যমে কেউ ভগবানের অপ্রাকৃত কার্যকলাপের মধ্যে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। যেমন এটা হচ্ছে সাধারণ ব্যক্তিগত বিষয় যে ভগবান হচ্ছেন অপ্রাকৃত। আমরা পরমেশ্বর ভগবানের কার্যকলাপ সম্বন্ধীয় এইসব বিষয়গুলো বিভিন্ন স্কন্ধে খুঁজে পাই। এখন আমাদেরকে বিরাট রূপে প্রথম প্রবেশ দেওয়া হয়েছে এটি বোঝার জন্য যে কিভাবে সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড পরমেশ্বর ভগবানের উপর নির্ভরশীল, এরপর আমরা যত অগ্রসর হব, আমরা ভগবানের বিভিন্ন লীলা পড়ব এবং এই সব কিছুকে আরও পূর্ণভাবে বুঝতে শুরু করব, তা হবে দশম স্কন্ধ পর্যন্ত যেখানে আমাদেরকে শ্রীকৃষ্ণের লীলা সম্বন্ধে বলা হয়েছে, কিন্তু সেটা বোঝার জন্য তা মনুষ্য কার্যকলাপের মত একই রকমের কিন্তু তা আসলে দিব্য। কাউকে সম্পূর্ণ শ্রীমদ্ভাগবতমের এক একটি স্কন্ধ পরপর পড়তে হবে, তাহলে আমরা উপলব্ধি করতে পারব যে কিভাবে ভগবান হচ্ছেন আসলে অপ্রাকৃত।
এখন আমরা কিছু প্রশ্ন নিতে পারি।
প্রশ্ন:- জড় এবং আধ্যাত্মিক বিরহের মধ্যে কি পার্থক্য আছে? গুরুর প্রতি বিরহের কি কি ভাব আছে? গুরুদেবের প্রতি যে বিরহ অনুভব হয় তা কি গৌরাঙ্গের প্রতি বিরহ অনুভাবের মত একই? — আপনার আশ্রিত আধ্যাত্মিক কন্যা পূজা
জয়পতাকা স্বামী:- দেখ জড়জাগতিক বিরহ নিজেকে এই শরীর হিসেবে শনাক্ত করার জন্য হয়। বলা যাক আমাদের এই শরীর আছে, তা মা ও বাবার থেকে এসেছে, কিন্তু সেই একই মা এবং বাবার থেকে ভাই বা বোনও এসেছে, এইভাবে আমরা শারীরিক সম্বন্ধের কারণে বিরাহ অনুভব করি, সেটা হচ্ছে জরজগতের কারণ প্রত্যেক জন্মে আমাদের ভিন্ন মা এবং বাবা থাকে, ভিন্ন দাদা ও বোন থাকে। কখনও কখনও আমরা মহিলার শরীরে জন্মগ্রহণ করি, কখনও আবার পুরুষের শরীরে। আমরা হয়ত অন্য কোন যোনিতেও জন্ম গ্রহণ করতে পারি, ইন্দ্র একবার তাঁর গুরুর প্রতি অপরাধ করেছিলেন এবং গুরু তাকে এক শুকর হওয়ার অভিশাপ দেন এবং তারপর তিনি এই জগতে এক শুকর হয়ে গিয়েছিলেন, তার অনেক স্ত্রী ছিল, অনেক শুকর শিশু ছিল এবং তিনি কাদার ওপর শুয়ে ছিলেন। তারপর গুরু তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে আসেন, কিন্তু তিনি ফিরে যেতে চাইছিলেন না, তিনি তার শুকর স্ত্রী এবং সন্তানদের প্রতি বিরহ অনুভব করছিলেন। তখন গুরু তাকে সেই স্মৃতি প্রদান করেন যে তিনি কে ছিলেন। তিনি চিন্তা করছিলেন “কিভাবে আমি এই ভয়ানক স্থানে এলাম?” এই হচ্ছে জড় বিরহ আর আধ্যাত্মিক বিরহ হচ্ছে যেখানে আমরা ভগবানের সঙ্গে যুক্ত, এটা আধ্যাত্মিক ভাবে, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের, আপনার সাথে পরমাত্মার সম্পর্কের ফলে হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই আমরা গুরু বা বৈষ্ণবদের প্রতি এই ধরনের বিরহ অনুভব করি, এটা হচ্ছে দিব্য, সেটা দেহ ভিত্তিক নয়।
প্রশ্ন:- ভগবদগীতার ৪.৩৪ এর তাৎপর্যে শ্রীল প্রভুপাদ উল্লেখ করেছেন যে আত্ম উপলব্ধ আধ্যাত্মিক গুরুর সন্তুষ্টিবিধান হচ্ছে আধ্যাত্মিক জীবনে অগ্রগতির রহস্য। আমাদের কিভাবে গুরুদেবকে সন্তুষ্ট করার এবং তাঁকে প্রসন্ন করার চেষ্টা করা উচিত? — হরিহর কৃষ্ণ চৈতন্য দাস।
জয়পতাকা স্বামী:- একজন ইসকনের গুরু স্বাভাবিকভাবেই প্রসন্ন হন যখন তুমি শ্রীল প্রভুপাদের বাসনা সন্তুষ্ট করছ। শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর গুরুর ইচ্ছা পূরণ করতে চান, তাঁর গুরু তাঁর গুরুর ইচ্ছা পূরণ করতে চান, এইভাবে তা ব্রহ্মা পর্যন্ত যাবে এবং তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছা পূরণ করতে চান, এইভাবে আমরা গুরু এবং কৃষ্ণের প্রতিবিধানের চেষ্টা করি এবং সেটাই হচ্ছে আধ্যাত্মিক জীবনের সফলতা, কিন্তু হয়ত আধ্যাত্মিক গুরু কিছু বিশেষ নির্দেশ প্রদান করতে পারেন যা আমাদের জন্য উপযুক্ত। ঠিক যেমন কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ, তিনি তাঁর কিছু ভক্তদের নির্দিষ্ট কিছু সেবা দিয়েছিলেন তাদের কার্যক্ষমতার উপর ভিত্তি করে। এইভাবে আধ্যাত্মিক গুরু হয়ত তোমাকে কিছু নির্দিষ্ট সেবা দিতে পারেন বা হয়ত কোন সাধারণ সেবা হতে পারে। সাধারণত আমরা মন্দির অধ্যক্ষ বা আধ্যাত্মিক কর্তৃপক্ষের সেবা করার চেষ্টা করি কিন্তু কখনও কখনও আমরা হয়ত আধ্যাত্মিক গুরুর থেকেও নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশ পেতে পারি।
প্রশ্ন:- কিভাবে আমরা আমাদের ভক্তি জীবনে জড়জাগতিক আবেগ এড়িয়ে চলব? কিভাবে ভালভাবে মনোযোগ সহকারে সেবা করতে পারব? — নিবেদিতা
জয়পতাকা স্বামী:- আধ্যাত্মিক জ্ঞানের দ্বারা আমরা জড়জাগতিক বিষয় এড়িয়ে চলতে পারি।
কৃষ্ণ- সূর্য সম, মায়া হয় অন্ধকার।
যাহা কৃষ্ণ তাহা নাহি মায়ার অধিকার।।
(চৈ চ মধ্য ২২.৩১)
যেখানে কৃষ্ণ আছেন, তিনি হচ্ছেন সূর্যের মতো, সেখানে কোন অন্ধকার থাকতে পারে না এবং জড় জাগতিক জীবন হচ্ছে যেন অন্ধকারের মত। সেই অন্ধকারকে নির্মূল করতে আমাদের কৃষ্ণের আলোক নিয়ে আসার দরকার আছে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সমস্যার সমাধান হবে, কিন্তু নতুন ভক্তদের ক্ষেত্রে তাদের পক্ষে এটি বোঝা কঠিন যে কোনটি আধ্যাত্মিক কোনটি জড়জাগতিক। সেই জন্য তাদের আরও জ্ঞানের দরকার যাতে তারা এই বিভেদ বুঝতে পারে, তা খুব একটা কঠিন নয়, কিন্তু এটা এক নতুন পন্থা, যে রকম ভাবে ভাবার আমরা অভ্যস্ত নই।
প্রশ্ন:- যখন আমি সেবার পরিমাণ বাড়াই, তখন তাতে সেই সেবার মান প্রভাবিত হয়। আমি কিভাবে তাতে ভারসাম্য আনব? বিভিন্ন কাজ একসাথে করা কঠিন, আমি কিভাবে আমার মধ্যে সেই গুণ আনতে পারব? — আনন্দময় গোপীনাথ দাস।
জয়পতাকা স্বামী:- এটা এক খুবই জটিল প্রশ্নের মত শোনাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে কোন উদাহরণ ছাড়া এর উত্তর দেওয়া কঠিন। যেমন যদি তুমি আরও গ্রন্থ বিতরণ কর, এর মানে কি এমন যে গ্রন্থ বিতরণের গুণ নিম্নগামী হবে? ৫০০০ ব্যক্তির জন্য রন্ধন করা বা পাঁচজন ব্যক্তির জন্য রন্ধন করা, হয়ত তুমি অধিক কৌশল দক্ষতা পাঁচজনের জন্য রন্ধনের ক্ষেত্রে দিতে পারবে কিন্তু বিভিন্ন ধরনের সেবা আছে। তুমি যদি ৫০০০ জনের জন্য রান্না কর, তাহলে কেউই এটা আশা করতে পারেনা যে তুমি তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে করতে পারবে কিন্তু যদি তুমি তা ভালোভাবে করতে পারো সেটা খুব ভালো। তবে তুমি যখন ৫ জনের জন্য রান্না করবে, সেক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই তুমি তা আরো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে করতে পারবে।
প্রশ্ন:- আমি সব সময় যে কাজ করেছি তার জন্য কিছু প্রশংসা পেতে চাই, তা হয়তো আধ্যাত্মিক বা জড়জাগতিক। যেমন আমি ভাবি কেন আমি নই? কেন আমার জন্য সেই সেবাটা নয়? তাই কিভাবে এই অহংকার ছেড়ে পূর্ণহৃদয় দিয়ে আপনার এবং গৌরাঙ্গের সেবা করতে পারব? — কবিতা
জয়পতাকা স্বামী:- আমরা এমন মনে করি না যে যদি আমরা কোন কিছু ঠিক করি তাহলে তার কৃতিত্ব আমাদের। আমরা মনে করি যে তা গুরু এবং কৃষ্ণের কৃপায় হয়েছে এবং সেই জন্য আমরা কোন কিছু ভালভাবে করতে সক্ষম ভেবে এইভাবে মিথ্যা অহংকারী হই না। যদি আমরা কোন ভুল করি, তাহলে আমরা সেই সেই দোষ গ্রহণ করি। যদি আমরা কোন কিছু ভালো করি, তাহলে আমরা সেই কৃতিত্ব গুরু এবং কৃষ্ণকে দেই।
হরিবোল!
প্রশ্ন:- গৌড়ীয় মঠের সাথে একত্রিত হওয়ার বিষয়ে, তাদের সাথে একত্রিত হওয়ার অর্থ কি? আমাদের কি তাদের সাথে অবাধে মেলামেশা করা উচিত, তাদের কথা শোনা উচিত, ইত্যাদি? — বসন্ত রঞ্জনি
জয়পতাকা স্বামী:- আমরা শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী প্রভুপাদ ঠাকুর এবং শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের আবির্ভাব ও তিরভাব তিথিতে সম্মিলিত অনুষ্ঠানের আয়োজন করি, আমার মনে হয় সেইসব অনুষ্ঠান গুলিতে অংশগ্রহণ করা যেতে পারে এবং আমরা ধীরে ধীরে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য বিস্তার করার চেষ্টা করছি। তাই আমরা অবশেষে এটা অর্জন করতে চাইব যে একে অপরের থেকে শ্রবণ করা, কিন্তু আমার মনে হয় প্রত্যেকেই খুবই সতর্ক থাকতে চায় কারণ যদি কোন ভিন্ন নির্দেশ প্রদান করা হয়, তাহলে তা তাদেরকে বিপথগামী করতে পারে। একই সাথে যদি একত্রে সম্মুখীন হই, তাহলে আমরা আরও শক্তিশালী হব। তাই আমরা তা ধাপে ধাপে করছি।
হরিবোল!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ