নিম্নোক্ত প্রবচনটি শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ, হনুলুলু, হাওয়াইয়ে প্রদান করেছেন। এই প্রবচন শুরু হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতের ৩য় স্কন্ধ, ১ম অধ্যায়, ৪১তম শ্লোক পাঠের মাধ্যমে।
অনুবাদ: হে সৌম্য। যে ধৃতরাষ্ট্র মৃত ভ্রাতা পাণ্ডুর অনাথ সন্তানদের প্রতি বিদ্রোহ আচরণ করে ভ্রাতার দ্রোহ করেছেন, যিনি তাঁর পুত্রদের অনুবর্তী হয়ে আমাকে তাঁর গৃহ থেকে নির্বাসিত করেছেন, যদিও আমি হচ্ছি তাঁর যথার্থ হিতাকাঙ্ক্ষী, সেই অধঃপতিত ধৃতরাষ্ট্রের জন্য আমি অনুশোচনা করি।
(অনুবাদ পুনরাবৃত্তি করা হল)
তাৎপর্য: বিদুর তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার কুশল সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেননি, কেননা তার কুশলের কোন সম্ভাবনা ছিল না, তার তো কেবল নরকে অধঃপতিত হওয়ারই সংবাদ ছিল। বিদুর ছিলেন ধৃতরাষ্ট্রের একজন ঐকান্তিক শুভাকাঙ্ক্ষী, এবং তাঁর হৃদয়ের কোণে তাঁর চিন্তা জাগরূক ছিল। তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন যে, ধৃতরাষ্ট্র তাঁর স্বর্গীয় ভ্রাতা পাণ্ডুর পুত্রদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে পারেন এবং তাঁর কুটিল পুত্রদের প্ররোচনায় তাঁকে (বিদুরকে) তাঁর গৃহ থেকে বার করে দিতে পারেন। এই সমস্ত দুর্ব্যবহার সত্ত্বেও বিদুর কখনও ধৃতরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শত্রুতাপোষণ করেননি, পক্ষান্তরে তিনিই তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। বিদুর যে ধৃতরাষ্ট্রের প্রকৃত বন্ধু ছিলেন তা ধৃতরাষ্ট্রের জীবনের অন্তিম অবস্থায় প্রমাণিত হয়েছিল। বিদুরের মতো বৈষ্ণবের আচরণ এমনই—তিনি সকলের মঙ্গলের কামনা করেন, এমনকি তাঁর শত্রুদের প্রতিও।
ইতি ‘বিদুরের প্রশ্ন’ নামক শ্রীমদ্ভাগবতের ৩য় স্কন্ধ, ১ম অধ্যায়, ৪১তম শ্লোকের তাৎপর্য।
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: এখানে আমরা একজন ভক্তের গুণ দেখতে পারছি। অনেক সময় আমরা চিন্তা করি যে শুভাকাঙ্ক্ষী হওয়ার অর্থ কি, কিভাবে একজন ভক্ত এমনকি শত্রুরও শুভাকাঙ্ক্ষী হতে পারেন? যখন কোন ব্যক্তি শত্রু হয়, স্বাভাবিকভাবেই সে তার শত্রুর ক্ষতি করতে চেষ্টা করে, সেই ব্যক্তির জন্য কোন প্রকার দুর্ভাগ্য সৃষ্টির চেষ্টা করে, কিন্তু ভক্ত এমন কোন ইচ্ছা করেন না, এমনকি বিশেষত তার শত্রুর ক্ষেত্রেও তিনি চিন্তা করেন যে দুর্ভাগ্যজনক কোন কিছু হওয়া উচিত নয় ও এর পরিবর্তে তিনি দেখেন যে এমনকি হয়ত শত্রুও যেন কৃষ্ণভাবনাময় হওয়ার আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়। এমনকি শত্রু, তথাকথিত শত্রু, যে নিজেকে ভক্তের শত্রু ভাবে, সেও হয়ত কোন না কোনভাবে তার ঈর্ষাপরায়ন ভাব ত্যাগ করে দেয়।
এই জড়জগতে আমরা দেখতে পাই যে—এমনকি ইন্দ্র ও মহান দেবতাগণ অসুরদের থেকে নিজেদের সুরক্ষার প্রার্থনা করেন, অবশ্য তারা কেবল এটি চান যে যত শীঘ্র সম্ভব অসুরেরা যাতে সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়। কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্তদের মনোভাব হচ্ছে, তারা দেখতে চান যে অসুরেরাও যেন ভক্তে পরিণত হয়। এমনকি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ, যখন অসুরেরা তাঁর কাছে আসত, তিনি এমনকি অসুরদেরও মুক্তি প্রদান করতেন এবং যদি তারা সামান্য ভক্তিমূলক সেবাভাব প্রদর্শন করত, যেমন বিষাক্ত স্তন পান করার জন্য নিবেদন করা বা অন্য কোন সামান্য সেবা, তাহলে এমনকি কৃষ্ণও কোন না কোনভাবে সেই ব্যক্তিকে উদ্ধার করতেন এবং তাদেরকে ভক্তিমূলক সেবা প্রদান করতেন। এর থেকে আমরা বুঝতে পারি যে—শ্রীকৃষ্ণ কত কৃপালু এবং তাঁর ভক্তগণ কত কৃপালু।
অবশ্য, মহান ঋষি ও মহাত্মাগণ এই দেখে বিলাপ করেন না, তারা প্রকৃতপক্ষে স্বস্তি বোধ করেন, যখন তারা এটি দেখেন যে সাপ বা বৃশ্চিককে হত্যা করা হয়েছে। এটি অপ্রাসঙ্গিক নয়, অবশ্য অত্যন্ত হিংসুক ব্যক্তি জড়াপ্রকৃতির দ্বারা বিনষ্ট হয় বা এর জন্য ভক্ত বিলাপ করেন না, কারণ তা তার ভগবত চেতনা প্রচারের পথ স্বচ্ছ করছে। কিন্তু এমনকি তবুও যদি বিকল্প প্রদান করা হয়, তাহলে ভক্তের মনোভাব হচ্ছে, তিনি কাউকে বিনষ্ট করার মত কোন তামসিক ইচ্ছার দ্বারা পরিচালিত না হয়ে প্রকৃতপক্ষে বিদ্বেষমূলক লোকেরাও যেন কৃষ্ণ ভাবনামৃতে উন্নীত হতে পারেন, অবশেষে এই ভাবনার দ্বারা পরিচালিত হন। যদি এমন কোন বিকল্প থাকে যে—সেই ব্যক্তিকে বিনষ্ট করা অথবা তাকে ভক্তে পরিণত করা, তাহলে ভক্ত অবশ্যই সবসময় সেই বিকল্প গ্রহণ করবেন এবং সেই ব্যক্তিকে আসলেই শুদ্ধ হতে দিতে চাইবেন।
এটি সাধারণ চেতনা থেকে ভিন্ন। সাধারণ চেতনায়, যখন কোন শত্রু থাকবে, তখন আপনি তাকে বিনষ্ট করতে চাইবেন, আপনি তাকে সাহায্য করার বিষয়ে যত্নশীল হবেন না। তবে সংকীর্তন আন্দোলনে অনুকম্পার মনোভাবটি হচ্ছে এমন, যা বিশেষত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর এক দিব্যগুণ। এটিকে বলা হয় ঔদার্য। শ্রীশ্রীজগন্নাথ, সুভদ্রা, বলরাম—তাঁদের সেবা পূজা হয় ঐশ্বর্যভাবে, তাঁরা ঐশ্বর্যভাব সহ পূজিত হন, যেমন দ্বারকায় শ্রীকৃষ্ণের হয় এবং শ্রীশ্রী রাধা-কৃষ্ণের সেবাপূজা হয় মাধুর্যভাবে। মাধুর্য অর্থাৎ মধুর প্রেম, এটি শুদ্ধ প্রেমের অতি মধুর সম্বন্ধযুক্ত দিব্য ভাব, বিশেষত এই মনোভাব দ্বারা তাঁরা অর্চিত হন, কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ঔদার্য বিগ্রহ হিসেবে পরিচিত।
শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর বিরচিত একটি ভজন, যা শ্রীল প্রভুপাদ কীর্তন করেছিলেন, যেখানে শ্রীমন্ নিত্যানন্দ প্রভু এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা বর্ণিত হয়েছে। তাঁরা হচ্ছেন ভূরিদা। ভূরিদা—এর অর্থ কি? দা, দাতা মানে এক মহান হিতকারী। যিনি আশীর্বাদ প্রদান করেন। ভূরিদা মানে হচ্ছে ঠিক যেমন উন্মুক্ত ঘর। একপ্রকার উন্মুক্ত ঘরের মতো... ভূরিদা, অর্থাৎ সীমাহীন দানের মনোভাব। ঠিক যেমন আমেরিকাতে একটি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন শো, আমি জানিনা তাদের এখনও তা আছে নাকি, মিলিয়নিয়ার বা এমন কিছু নাম ছিল? একজন ব্যক্তি মানুষের কাছে হেঁটে আসত এবং কোন ব্যক্তিকে একটি চেক দিত, “এই হচ্ছে আপনার জন্য মিলিয়ন ডলার।” এবং তারপর তিনি দেখত যে সেই ব্যক্তি সেই অর্থ দিয়ে কি করে।
এটাই হচ্ছে মনুষ্য চেতনায় তাদের মনোভাব। তাদের ধারণা হচ্ছে—কাউকে অনেক বিশাল কিছু অনুদান দেওয়া যাক, কাউকে কিছু সাহায্য করা যাক, তা খুবই উদার ভাবাপণ্য। ঠিক যেমন, শ্রীল প্রভুপাদ এই উদাহরণ দিয়েছিলেন যে, কোন এক অত্যন্ত উদার ধনী ব্যক্তি, ঠিক যেমন মেঘ সর্বত্র বহুল পরিমাণে বর্ষা করে, তিনিও সর্বত্র দান করেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মনোভাব হচ্ছে সেই রকম যে ভূরিদা। নিতাই গৌরের মনোভাব হচ্ছে কেবল কৃপা প্রদান করা, এটিই হচ্ছে ঔদার্যের অর্থ—কেবল দয়া, কেবল কৃপা। এমনকি একজন ব্যক্তি, যার চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা ব্যতীত কৃষ্ণভাবনাময় হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই, সেই ব্যক্তিও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা লাভ করতে পারে এবং উদ্ধার পেতে পারে। এটাই হচ্ছে মনোভাব। এমনকি শ্রীমন্ নিত্যানন্দ প্রভু, যখন তিনি মাধাই, জগাই-মাধাই দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন, সেইসময় শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু অধীর হয়ে পড়েছিলেন এবং তিনি সুদর্শন চক্রকে আহ্বান করেছিলেন। সুদর্শন চক্র আগমন করেছিলেন, তিনি আকস্মিক আঘাত হেনে সেই দুই ভ্রাতাকে তাদের নিত্যানন্দ প্রভুর প্রতি অপরাধের জন্য হত্যা করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু তখন শ্রীমন্ নিত্যানন্দ প্রভু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে স্তব্ধ করেছিলেন, “তুমি কি করছ? তুমি কি ভুলে গিয়েছ যে এখন তোমার মনোভাব এটি নয়। তুমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছ যে তুমি কলিযুগে কোন অস্ত্র ধারণ করবে না। তোমার কেবল তাদেরকে কৃপা প্রদান করার কথা।”
তিনি বললেন, “আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, যখন আমার ভক্তকে আক্রমণ করা হয়, তখন তা আমার প্রতিশ্রুতির উর্ধ্বে।”
কিন্তু শ্রীমন্ নিত্যানন্দ প্রভু তাঁর কাছে অনুনয়-বিনয় করছিলেন, “না! না! এটি কলিযুগ, যদি তুমি এই দুজনকে আঘাত কর, তাহলে তুমি কিভাবে প্রত্যেককে উদ্ধার করবে? কারণ এগুলিই হচ্ছে এখন মানুষদের লক্ষণ।” তাই অবশেষে জগাই মাধাই, তাদের বুদ্ধি ফেরে এবং তারা প্রণাম নিবেদন করেছিলেন, ক্ষমা ভিক্ষা চাইছিলেন যে—“দয়া করে, দয়া করে আমাদের ক্ষমা করে দিন।”
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বললেন, “আমি তোমাদের ক্ষমা করব, যদি তোমরা আবার কোন পাপকর্ম না করার প্রতিশ্রুতি দাও তাহলে।” এমনকি যদিও তারা কত পাপি ছিল, কিন্তু যেহেতু তারা আবার পাপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেজন্য একবার তাদেরকে আশ্রয় প্রদান করা হলে, তারা আর সেই একই কার্য করেননি। এরপর তারা সম্পূর্ণ অব্যাহতি ও ক্ষমা প্রাপ্ত হয়েছিলেন।
অবশ্য কিছু সময় পর মাধাই শ্রীমন্ নিত্যানন্দ প্রভুর কাছে যান, যেখানে তিনি বলছিলেন যে—“হে আমার প্রভু, আপনি আমাকে ক্ষমা করেছেন, আপনি আমাকে আপনার কৃপা প্রদান করেছেন, কিন্তু আমি এই চিন্তায় আচ্ছন্ন যে আমার হাত দিয়ে আমি আপনাকে আঘাত করেছি, আমি আপনার রক্তক্ষরণের কারণ হয়েছি, আমি এই চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড়েছি যে আমি আপনার প্রতি এইরূপ অপরাধ করেছি, তাই কিভাবে আসলে আমার ক্ষমা হতে পারে? এমনকি যদিও আপনি প্রকাশ্যে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, তবুও আমি সর্বদা চিন্তা করছি যে আমি কত জঘন্য, আমি কত অধঃপতিত, আমি কত ঈর্ষান্বিত, কিভাবে আমি এমন কাজ করতে পারলাম।”
এরপর নিত্যানন্দ তাকে তুললেন, তিনি তাকে তাঁর শ্রীপাদপদ্মের আশ্রয় প্রদান করলেন, তিনি বললেন যে, “আমি কোন অপরাধ গ্রহণ করিনি, কারণ আমি মনে করি তুমি হচ্ছ আমার সন্তানের মত। যদি ছোট শিশু তার বাবাকে আঘাত করে, তাহলে বাবা কি কোন অপরাধ নেয়? আমিও এটি মনে করছি যে তুমি আমার শিশু, তুমি আমার সন্তান, তাই তুমি আমার প্রতি কি অপরাধ করতে পার? তুমি কোন অপরাধ করনি, মূর্খতাবশত তুমি এরূপ কার্য করেছিলে।”
এইভাবে নিত্যানন্দ প্রভু কোন অপরাধ গ্রহণ করেননি। এটিই ছিল তাঁর মনোভাব যে, “ঠিক আছে তোমরা সবাই আমার সন্তান। ঠিক আছে তারা কোন কুকার্য করেছে, কিন্তু আমি কোন অপরাধ গ্রহণ করিনি। কোন অপরাধ গ্রহণ করিনি।”
তখন মাধাই বললেন, “ঠিক আছে কিন্তু আমি অন্যান্য কত জীবের প্রতি কত অপরাধ করেছি। আমি কত পাপ কার্য করেছি, আমি সেই সমস্ত অপরাধ থেকে কিভাবে মুক্ত হব? আমি প্রত্যেক জীব— কুকুর, বিড়াল, মনুষ্য, পুরুষ, নারী, শিশু, সবার প্রতি কত হিংসুক ছিলাম। আমি কি ছিলাম না? আমি কত অত্যাচার করেছি, নিপীড়ন করেছি, এই সমস্ত ব্যক্তিদের প্রতি কত কত পাপ করেছি, তাই আমি কিভাবে এইসব জীবের প্রতি করা অপরাধ-এর জন্য ক্ষমা পাব?”
তখন নিত্যানন্দ প্রভু, তিনি এটি বিবেচনা করলেন। এরপর তিনি তাকে বললেন যে, “তুমি নিজে হাতে গঙ্গার পাশে একটি স্নান ঘাট নির্মাণ করতে পার এবং এত মানুষেরা, এত জীবেরা সেখানে যেতে পারবে ও স্নান করতে পারবে এবং সেখানে এসে গঙ্গায় স্নান করার মাধ্যমে তারা তাদের পাপকর্ম থেকে মুক্ত হবে। ঘাট নির্মাণ করার জন্য তুমি তাদের পাপ মুক্তির এক যন্ত্ররূপ হবে ও এইভাবে তুমি তোমার পাপ কর্মের জন্য, অন্যান্য জীবদের প্রতি তোমার অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রাপ্ত হবে।”
তখন মাধাই, অবশ্য তিনি অন্যান্য মানুষদের থেকে সাহায্য পেতে পারতেন, কিন্তু মাধাই তা করার প্রতি এত আগ্রহী ছিলেন যে, তিনি নিজেই খনন সরঞ্জাম এবং সবকিছু দিয়ে সেই ঘাট খনন করেছিলেন এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে পাথর বসিয়েছিলেন ও সুন্দর স্নান ঘাট নির্মাণ করেছিলেন। ঘাট হচ্ছে যেমন সেখানে সিঁড়ি আছে এবং স্নানের জায়গা আছে। ঘাট— আমি জানিনা আপনারা ইংরেজিতে এটিকে কি বলেন—স্নান করার স্থান ও নদীর ধার। তিনি নিচ পর্যন্ত সিঁড়ি তৈরি করেছিলেন এবং এটিকে বলা হয় ঘাট। জলের মধ্যে সিঁড়ি তৈরি করা, কারণ সাধারণত যখন আপনি নদীর ধারে যান, তখন আপনার পা কাদামাটিতে আটকে যায়, এবং তারপর আপনি গিয়ে স্নান করে বেরিয়ে আসেন ও আবার যদি আপনার পা মাটিতে আটকে যায়, তাহলে আপনার শরীর আবার নোংরা হয়ে যাবে, তাই তারা জলের মধ্যেই সিঁড়ির পথ তৈরি করেছিলেন, যাতে স্নান করা খুবই সুবিধাজনক হবে, নয়ত নদীর ধারে স্নান করা কঠিন। তাই এটি নিচ পর্যন্ত, জলের গভীর পর্যন্ত যায়। মাধাই ব্যক্তিগতভাবে খনন করে তা নির্মাণ করেছিলেন এবং তারপর মহান ভক্তদের দ্বারা সেটি উদ্বোধন করিয়েছিলেন এবং এটি মাধাই ঘাট হিসেবে বিখ্যাত হয়।
এটি হচ্ছে নবদ্বীপের পাঁচটি মুখ্য ঘাটের মধ্যে একটি: বকুনা ঘাট, মহাপ্রভু ঘাট, মাধাই ঘাট… অন্য দুটি আমি ভুলে গেছি, কিন্তু পাঁচটি মুখ্য ঘাট আছে এবং মাধাই ঘাট হচ্ছে সেগুলির মধ্যে একটি মুখ্য ঘাট। এইভাবে মাধাই অন্যান্য জীবের প্রতি কৃত অপরাধের জন্য পূর্ণরূপে ক্ষমা প্রাপ্ত হয়েছিলেন।
শ্রীল প্রভুপাদ এতই কৃপালু, কারণ পাশ্চাত্য জগতে প্রাত্যহিক জীবনে আমরা কোন সাহায্য করতে পারি না, তবে অন্যান্য জীবের প্রতি কত কত অপরাধ করি। এখানে কত গো-হত্যা হয়, নিজেদের শরীরের প্রতি কত অত্যাচার হয়, অন্যান্যদের শরীরের প্রতি কত বিভিন্নভাবে অত্যাচার করা হয়। এটি ভগবদ্গীতাতে বর্ণিত আছে যে, যদি কেউ তার শরীরের যন্ত্রণার কারণ হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি হচ্ছে অসুর প্রকৃতির এবং সে তার নিজের শরীরের প্রতি ও নিজের প্রতি খুবই হিংসাপরায়ণ, যা হচ্ছে চরমে শ্রীকৃষ্ণ বিরুদ্ধ। এখানে ইন্দ্রিয়তৃপ্তির জন্য শরীর দ্বারা অতিরিক্ত কার্য করা আসলে স্বাভাবিক এবং ড্রাগ বা এরকম কোন কিছু গ্রহণ করলে তা আসলে শরীরকে কিছুটা বিষাক্ত করে তোলে এবং আরও কত বিভিন্ন বিষয় আছে, যা হচ্ছে আসলে তাদের নিজেদের এবং কৃষ্ণের বিরুদ্ধে হিংসুক কার্য।
কত বিভিন্নভাবে মানুষেরা, বিশেষত পাশ্চাত্য জগতে এবং সমগ্র বিশ্বে তারা অত্যন্ত হিংসামূলক কার্যকলাপে নিযুক্ত হচ্ছে, যা অন্যান্য জীবের প্রতি, কৃষ্ণের প্রতি এবং এমনকি তাদের নিজেদের প্রতিও খুবই অপরাধজনক। তাই এর জন্য কিভাবে ক্ষমাপ্রাপ্ত হওয়া যাবে? কিভাবে সম্পূর্ণরূপে শুদ্ধ হওয়া যাবে? অন্যান্যদের জন্য কল্যাণমূলক কার্য করার মাধ্যমে, তা করা যাবে। ঠিক যেমন মাধাই প্রভু, যিনি পরে শ্রী মাধব দাস ব্রহ্মচারী হয়েছিলেন, তিনি অন্যান্যদের কল্যাণের জন্য কার্য করেছিলেন, তিনি স্নান ঘাট নির্মাণ করেছিলেন, এমন সুবিধা করেছিলেন যার দ্বারা অন্যরা শুদ্ধ হতে পারবেন। তাই, দিব্য শাস্ত্রগ্রন্থ বিতরণের মাধ্যমে, হরিনাম সংকীর্তন প্রচারের মাধ্যমে, কত মানুষেরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পবিত্র নামে, শ্রীল প্রভুপাদের অমৃতময় মধুর শব্দাবলির মধ্যে, ভাগবতের দিব্য শব্দাবলির মধ্যে অবগাহন করার সুযোগ প্রাপ্ত হচ্ছে।
আমরা শ্রীগুরুদেবের কৃপাকে বলি—“সংসার-দাবানল-লিঢ়-লোক”—ঠিক যেমন জলপূর্ণ মেঘ দাবানলের উপর বর্ষিত হয়, অগ্নি নির্বাপিত করে। তাই দিব্য শাস্ত্রগ্রন্থ বিতরণ করার মাধ্যমে, হরিনাম সংকীর্তন করার মাধ্যমে, কত কত জীব চরম লাভবান হচ্ছে। এইভাবে কৃষ্ণভাবনামৃতে অগ্রসর হওয়া খুবই সহজ, কারণ এর ফলে কেউ তাড়াতাড়ি ক্ষমা প্রাপ্ত হন। ব্যক্তি না কেবল পাপকর্মের জন্য, এমনকি সূক্ষ্ম অপরাধ—যা আমরা অপর জীবের প্রতি, কৃষ্ণের প্রতি ও বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের প্রতি করেছি, যে সমস্ত অপরাধ হয়ত দীর্ঘ যাত্রায় বাধা স্বরূপ,তার জন্যও ক্ষমা প্রাপ্ত হই।
অবশ্য মোক্ষ-র ক্ষেত্রে যদি কেউ পাপ থেকে মুক্ত হয়, তাহলে সেটাই যথেষ্ট, কিন্তু অপরাধের বিপদ হচ্ছে যে—তা কারও শুদ্ধ কৃষ্ণ ভক্তি হ্রাস করে তা নির্বিশেষ ধারণার স্তরে নামিয়ে আনতে পারে। তাই সকলকে অপরাধ এড়িয়ে চলতে হবে। ঠিক যেমন আজকে আমরা পবিত্র নামের দশবিধ অপরাধের কথা উল্লেখ করেছি। এমন নয় যে কেউ গর্বিত হবে কারণ তিনি প্রচার করছে, এবং তিনি এটি অনুভব করবে যে, “আমি অন্যান্য ভক্তদের প্রতি অপরাধ করতে পারি।” অবশ্য তাহলে সেটি হবে আরেক ধরনের বিকৃতি। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা বিতরণের মনোভাবের মধ্যেই সবকিছু আছে, এটি ইতিমধ্যেই নিখুঁত, যার দ্বারা একইসাথে কেউ শুদ্ধ হতে পারে, স্বচ্ছ হতে পারে। এবং এটি শুদ্ধ ভগবত প্রেম প্রাপ্তির দ্বার উন্মুক্ত করে। এটিই হচ্ছে পূর্ণ পন্থা, যার মধ্যে যুগপৎভাবে সব কিছু বিদ্যমান।
এখানে আমরা দেখতে পারছি যে ধৃতরাষ্ট্র, আমরা জানি যে তার অপরাধের কারণে পরে তিনি ভক্তিমূলক সেবা করতে পারেননি, এর পরিবর্তে বিদুর পরবর্তী শ্রেষ্ঠ যে পন্থাটি তিনি অনুশীলন করতে পারতেন, তাকে তা প্রদান করেছিলেন। তিনি তাকে যোগ অনুশীলনের পন্থা দিয়েছিলেন, যোগ অনুশীলনের মাধ্যমে অন্তত তিনি মুক্ত হতে পারতেন, যেহেতু তিনি ভক্তদের বিরুদ্ধে, শ্রীকৃষ্ণের বিরুদ্ধে কত অপরাধ করেছেন, তাই এরপর কিভাবে তিনি ভক্তিমূলক সেবা অনুশীলন করতে পারবেন? এটি ছিল অসম্ভব! অবশ্য আমরা দেখি যে যেমন জামাই মাধাই, তারা কত অপরাধ করেছিল, কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা এমন যে তারা ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত হতে পেরেছিলেন। এইভাবে তাতে যমরাজ সম্পূর্ণ হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। অবশ্য বিদুরই হচ্ছেন যমরাজ, তিনি এমনকি তার নিজের ভ্রাতাকে ভক্তিমূলক সেবার পন্থা প্রদান করতে পারেননি, কারণ তিনি অনেক অপরাধ করেছিলেন, যেহেতু সেই যুগ, দ্বাপর যুগে শ্রীকৃষ্ণ এই অপরাধ ক্ষমা করার মত তত করুণ ছিলেন না, কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু এমনকি শ্রীকৃষ্ণের থেকেও অধিক কৃপালু।
“নমো মহাবদান্যায় কৃষ্ণপ্রেম প্রদায় তে।
কৃষ্ণায় কৃষ্ণচৈতন্যানাম্নে গৌরত্বিষে নমঃ।”
তিনি এমনকি শ্রীকৃষ্ণের থেকেও অধিক কৃপালু। তিনি কৃপা বিতরণ করছেন। এমনকি অপরাধ সত্ত্বেও তিনি কৃপা বিতরণ করছেন, এমন কি অপরাধের জন্য কাউকে ক্ষমাও করছেন। এমনকি মানুষেরা এই নাম-কীর্তন করছে—“নিতাই গৌর রাধে শ্যাম/ হরে কৃষ্ণ হরে রাম” এবং আরও কত সমস্ত মনধর্মপ্রসূত মন্ত্র তারা বলছে, কিন্তু যেহেতু কোন না কোনভাবে তারা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নাম নিচ্ছে, সেজন্য তারাও এমনকি কিছু দিব্য আনন্দ লাভ করছে। তবে দুর্ভাগ্যবশত, তারা মানুষদের তত্ত্ব সম্বন্ধে বিভ্রান্ত করছে, তাই সেই অর্থে তাদের সম্পূর্ণ শুদ্ধ হতে কিছু সময় লাগবে, কিন্তু এমনকি তবুও যখন তারা নাম জপ করে, তখন নিঃসন্দেহে তারা কিছু অনুভব করে। এটিই হচ্ছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা, তিনি খুব সহজে কোন অপরাধ গ্রহণ করেন না।
এখানে আমরা দেখতে পারছি যে যখন জগাই মাধাইকে ক্ষমা করা হয়েছিল…সাম্প্রতিক বাংলাদেশে তারা এমন একটি নাটক প্রদর্শন করেছিলেন, সেখানে তাদের চিত্রগুপ্ত ছিল। চিত্রগুপ্ত হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি যমরাজের কার্যে নিযুক্ত হিসাব-রক্ষক, তিনি হচ্ছেন মুখ্য হিসাব রক্ষক, হিসাব-পরীক্ষক। যখন কেউ যমরাজের কাছে বিচারের জন্য আসে, তখন উনি সেই ব্যক্তির হিসাব জিজ্ঞেস করেন এবং চিত্রগুপ্তের কাছে আরো কতজন আছে যারা তার নির্দেশানুসারে কাজ করে, এবং তারা প্রত্যেকের কর্মের হিসাব রাখে, তাদের কাছে সেই সবকিছু লিপিবদ্ধ আছে তাদের নিজেদের পদ্ধতিতে। এইভাবে যমরাজ এবং অন্যান্য দেবতারা তারা ছদ্মবেশে লুক্কায়িত ছিলেন, তারা পর্যবেক্ষণ করছিলেন, আসলে তারা ছদ্মবেশে ছিলেন, যেটিকে আপনারা বলেন গুপ্তবেশ, এর অর্থ তারা অদৃশ্য ছিলেন, তারা সেখানে গিয়েছিলেন এবং এই সমস্ত লীলা দর্শন করছিলেন। যখন জামরাজ এই সমস্ত লীলা দর্শন করছিলেন, তখন তিনি এসে চিত্রগুপ্তকে তখনকার খবরাখবর ও সবকিছুই জিজ্ঞেস করছিলেন, তখন চিত্রগুপ্ত তাঁর কাছে বর্ণনা করেছিলেন যে কিভাবে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, নিত্যানন্দ প্রভু জগাই মাধাইকে উদ্ধার করেছেন এবং এখন তাদের হিসেবের খাতা সম্পূর্ণ পরিষ্কার। তখন যমরাজ জিজ্ঞেস করলেন—“তারা কত পাপ কর্ম সঞ্চিত করেছিল?” এরপর চিত্রগুপ্ত বর্ণনা করছিলেন যে তারা কত পাপ করেছিল, যার লিখিত হিসাব রাখার জন্য কত হাজার হাজার কর্মচারী কত যুগ যুগ ধরে তা লিখছিল এবং এই সবকিছু স্তূপীকৃত ছিল, এই সবকিছু কাগজে লিখিত রাখা হয়েছিল যে তারা কত পাপ কর্ম সঞ্চিত করেছে, কারণ সেই দিনের পূর্বে তারা যা কিছু করেছে তা ছিল পাপ কার্য, হিংসামূলক কাজ, তাই তিনি এরূপ ব্যাখ্যা করছিলেন ও আসলে যমরাজ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ও নিত্যানন্দ প্রভুর ভাবে মগ্ন হন ও সেই চিন্তায় এত নিমগ্ন হয়ে পড়েন যে তিনি হতচকিত হয়ে পড়েছিলেন এবং যেহেতু তিনি হচ্ছেন একজন শুদ্ধ ভক্ত, তাই তিনি সমাধিস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। তখন চিত্রগুপ্ত ও অন্যরা ছিলেন, তারা ভাবছিলেন যে এত পাপী ব্যক্তিকেও ক্ষমা করা হয়েছে, তাতে তিনি এতই আশ্চর্য হয়েছেন যে এজন্য তিনি হতভম্ব হয়ে অচেতন হয়ে পড়েছেন, তাই তারা তাঁকে বাতাস করেন, তাঁর মস্তকে শীতলতা দিয়ে তাঁকে তাঁর স্থিতিতে নিয়ে আসার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু তাঁর চেতনা ফিরছিল না, তিনি আসলে সমাধিতে ছিলেন। এরই মধ্যে মহাদেব শিব ও অন্যান্য দেবতারা, যাঁরা সুবিধা মত অদৃশ্য হয়ে সম্পূর্ণ লীলা দর্শন করেছিলেন, তখন তারাও নিত্যানন্দ প্রভু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা দেখে সম্পূর্ণ হতচকিত হয়ে পড়েছিলেন, তারা যাওয়ার পথে যমরাজকে দেখে থেমেছিলেন। তারা দেখলেন যে যমরাজ অচেতন হয়ে পড়েছেন এবং তারা বললেন, “কি হয়েছে?”
“আমরা তাকে জগাই মাধাই-এর উদ্ধার সম্পর্কে বলেছি এবং তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়েছেন। তিনি নিশ্চয়ই অভিঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন, কারণ তারা ছিল প্রধান দণ্ডপ্রার্থী।” এই ছিল তাদের দৃষ্টিভঙ্গি, তখন তৎক্ষণাৎ মহাদেব বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি অভিঘাত প্রাপ্ত হননি, তিনি ভাবে বিভোর হয়ে পড়েছেন, সম্পূর্ণ সমাধিতে আছেন, তাই তখন তিনি প্রত্যেককে বললেন—“ঠিক আছে, এখন একমাত্র যেই উপায়ে আমরা তাকে চেতনায় ফিরিয়ে আনতে পারব, তা হচ্ছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নাম-কীর্তন এর দ্বারা। নাম কীর্তন করো—জয় গৌরাঙ্গ! জয় নিত্যানন্দ!
কীর্তন করো—
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।
এইভাবে তিনি যমরাজের পুরো দলকে দিয়ে পবিত্র নাম কীর্তন করানো শুরু করেছিলেন, এরপর যমরাজের চেতনা ফেরে এবং মহাদেব শিব ও যমরাজ ও দেবতাগণ হরিনাম সংকীর্তন করতে শুরু করেন এবং তারা সকলেই কীর্তন করছিলেন এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, শ্রীমন্ নিত্যানন্দ প্রভুর দিব্য মহিমা গান করছিলেন।
এইভাবে চৈতন্য মহাপ্রভুর সংকীর্তন আন্দোলন সমগ্র বিশ্বে প্রসারিত হয়েছিল। শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর এই কীর্তন করেছিলেন—“নারদ মুনি বাজায় বীনা” যেই ভজনটিতে এটিও বর্ণিত আছে যে, পঞ্চমুখে শিব এবং চতুর্মুখে ব্রহ্মা ও সকলেই হরিনাম সংকীর্তনে নিযুক্ত হয়েছিলেন। এটি ছিল এক মহান সুযোগ, এমন কি দেবতারাও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা দেখে সম্পূর্ণ অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁরাও দিব্য আনন্দে পূর্ণ হয়েছিলেন, তাঁরা দিব্য প্রশংসায় মুখরিত হয়েছিলেন, এবং এটি এক মহান সুযোগ, আমাদের সৌভাগ্য যে কোনো না কোনোভাবে আমরাও ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত হতে পারছি, পবিত্র নাম কীর্তন করতে পারছে, এবং উপরন্তু এই কৃপা অন্যান্যদের মধ্যে বিতরণ করতে পারছি।
ঠিক যেমন, চৈতন্য-চরিতামৃতে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি বলেছেন—“আমি হচ্ছি বৃক্ষ এবং আমি হচ্ছি মালি। আমি এই সমস্ত ফুল, ফল উৎপাদন করছি। কত ফল আমি খেতে পারব, এবং কত ফল আমি বিতরণ করতে পারব? তাই প্রত্যেকের আসা উচিত, হৃদয় ভরে তা আস্বাদন করা উচিত এবং নিজের ক্ষমতা অনুসারে তা আস্বাদন করার পর অন্যান্যদের কাছে সেই ফল বিতরণ করা উচিত।”
এটি হচ্ছে সবথেকে অসাধারণ উদাহরণ: আমরা আসি, আপনারা জানেন যে ব্যক্তিরা তা আস্বাদন করেন, ঠিক যেমন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি সবসময় প্রথমে ভক্তদেরকে ভোজন করাতেন, তারপর তিনি ভক্তদের দ্বারা জনসাধারণের কাছে প্রসাদ বিতরণ করতেন। অবশ্য আমরা কিছু সময় এইরূপ চেষ্টা করেছিলাম এবং কখনো কখনো ভক্তরা এত প্রসাদ গ্রহণ করেন যে তারা আর তা বিতরণ করতে পারেন না! (হাসি) আমি জানি যে আপনি আপনার ক্ষমতার ঊর্ধ্বে প্রসাদ গ্রহণ করতে পারবেন না। অবশ্য ভক্তরা যথেষ্ট সচেতন ছিলেন নিজে ক্ষমতা অনুসারে ভোজন করার ক্ষেত্রে এবং এরপর তা অন্যান্যদের কাছে বিতরণ করার ক্ষেত্রে। অন্তত হরিনামের ক্ষেত্রে আপনারা এমন করুন। প্রসাদের ক্ষেত্রে কখনো কখনো এই সমস্যা হয় যে কেউ ক্ষমতার ঊর্ধ্বে অধিক আহার করেন, এই মনোভাবটি ভক্ত এমনভাবে গ্রহণ করেন যে—তিনি অনেক অধ্যয়নের মাধ্যমে, আগ্রহীভাবে নাম জপের মাধ্যমে, সেবা করার মাধ্যমে নিজেকে পূর্ণ করেন, যার দ্বারা তিনি আধ্যাত্মিক সম্পদে পূর্ণ হয়ে ওঠেন এবং এরপর যখন তিনি তা বিতরণ করতে বের হন, তখন তিনি এক স্বচ্ছ মাধ্যমরূপে কার্য করেন, যার দ্বারা সেই ভক্তের উপর এমনকি অধিক কৃপা বর্ষিত হয় এবং আধ্যাত্মিক প্রগতির দ্বার আরো অনেক উন্নত হয় এবং তার আগ্রহ, প্রেরণা আরো অধিক থেকে অধিকতর বর্ধিত হয়।
তাই এটি হচ্ছে মহান সুযোগ, বিশেষত বর্তমানে যখন ম্যারাথন শুরু হওয়ার পুরোপুরি বন্দোবস্ত হয়েছে। অবশ্য ম্যারাথন কোন না কোনভাবে চলছে, কিন্তু এখন ১০ দিন হচ্ছে পূর্ণ শক্তিসহ এগিয়ে যাওয়ার সময়, যেখানে সবাই তাদের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করবে। এটি এক ভালো সুযোগ! শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন—“যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্”—“তুমি যেমনভাবে আমার প্রতি শরণাগত হবে, আমি সেইভাবে তোমার সাথে ভাববিনিময় করব।” তাই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রচার আন্দোলনের ক্ষেত্রে, তাঁর কৃপা প্রদান করার ক্ষেত্রে আপনার সমস্ত শক্তিসহ পূর্ণরূপে মনোযোগী হন। এটিই হচ্ছে এক মহান সুযোগ। নিজেকে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা বিতরণের ভাবে পূর্ণরূপে নিমগ্ন করুণ এবং তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি ভাববিনিময় করবেন এবং এর ফলে আমরা তাকে যা নিবেদন করতে সক্ষম, তার থেকেও তা লক্ষাধিক গুন বেশি প্রভাবশীল হবে। তবে এইভাবে নিজেদের শক্তিকে সবথেকে তীব্রভাবে মনোযোগী করার ক্ষেত্রে এটি আমাদের জন্য এক ভালো সুযোগ। একই সাথে অবশ্য আমরা সবস্থানেই অধিক ভাব বিনিময় অনুভব করছি, এমনকি জড়বাদীদের থেকেও! আমি জানি না কেউ একজন বলছিলেন যে, “হাওয়াইতে তেমন মনোভাব নেই” অবশ্য আমি মনে করি তা থাইল্যান্ড বা ভারতে থেকে একটু বেশি আছে। অবশ্য (হাসি) তাদের পঞ্জিকায় এমনকি ক্রিসমাসের দিনের উল্লেখও নেই, তবে সাধারণত বলতে গেলে মানুষেরা একটু বেশি ভাববিনিময়ের এবং বিতরণের মনোভাবে আছেন। এটি হচ্ছে তাদেরকে কৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত করার জন্য এক ভালো সুযোগ। প্রত্যেক ব্যক্তি যাদেরকে আমরা নিযুক্ত করতে পারি, যখন তারা আরও একটু বেশি গ্রহনীয় মনভাবে থাকে, তখন তার অর্থ আরও এক জীবাত্মাকে কৃষ্ণের নিয়ন্ত্রণাভ্যন্তরে আনা হল।
ঠিক যেমন কিছু উল্কাপিণ্ড, কিছু ধূমকেতু আছে যারা কেবল হাজার হাজার বছর পর... পৃথিবীর কাছাকাছি বা সূর্যের কাছাকাছি আসে, এবং আবার বেরিয়ে যায়; কিন্তু তবুও তারা কক্ষপথের মধ্যেই থাকে। এখন এই সমস্ত সাধারণ জীবেরা কখনই কৃষ্ণের প্রতি কোন ভক্তিমূলক সেবা নিবেদন করেনি, তাই তারা এমনকি কক্ষপথের মধ্যে ছিল না, কিন্তু এমনকি যদি তারা কোন একটি সেবাও করে, তাহলে তারা উন্নীত হয়েছে; তারা তখন কক্ষপথের মধ্যে অবস্থান করছে এবং তাদের জীবনের কোনো কোনো সময় আবার তাদেরকে কৃষ্ণের কাছাকাছি আনা হবে, প্রতিবারই তারা যে সামান্য পরিমাণ সেবা করার সুযোগ লাভ করবে, এর ফলে তারা আরো আরো অধিক নিকটবর্তী হবে, যতক্ষণ না অবশেষে তারা পূর্ণরূপে শরণাগতির সুযোগ গ্রহণ করছে। যদি আপনি তাদেরকে সেবা করার তেমন অনেক সুযোগ প্রদান করতে পারেন, তাহলে এমনকি এই জীবনেই…
মানুষেরা কিভাবে শুদ্ধ হবে? আপনি যত তাদেরকে সেবায় নিযুক্ত করবেন, যত শ্রবণ-কীর্তনের ভক্তি সেবায় নিযুক্ত করবেন, স্বাভাবিকভাবেই তারা ততই আরো আরো শুদ্ধ হবে, তাদের চেতনা সমস্ত জাগতিক কলুষতা থেকে মুক্ত হবে এবং তখন কৃষ্ণের প্রতি স্বাভাবিক প্রেম প্রকাশিত হবে।
নিত্যসিদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম ‘সাধ্য’ কভু নয়।
শ্রবণাদি-শুদ্ধচিত্তে করয়ে উদয়॥
(চৈ. চ. মধ্য ২২.১০৭)
কৃষ্ণপ্রেম এমন কিছু নয় যা আপনি প্রাপ্ত হবেন, যেমন আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলেন বা এটি এমন কিছু না যা লাভ করার জন্য আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে। তা ইতিমধ্যেই আপনার কাছে আছে, নিত্য সিদ্ধ, এমন কিছু যা আমাদের মধ্যে আছে। এমন হয় যে এটি বাইরে থেকে নিয়ে আসা হবে। এটি ইতিমধ্যেই আছে, কিন্তু আচ্ছাদিত অবস্থায় আছে। আমাদেরকে কেবল তা অনাচ্ছাদিত করতে হবে। এটি হচ্ছে যেন সম্পদ আছে, কিন্তু লুক্কায়িত অবস্থায় আছে। আমাদেরকে তা খনন করে বের করতে হবে, আপনাকে তা অনাচ্ছাদিত করতে হবে। স্তূপ—কর্মের স্তূপ, অপরাধের স্তূপ, বিভিন্ন ধরনের কলুষ সেই শুদ্ধ চেতনাকে আচ্ছাদিত করে রেখেছে। তবে, ভক্তদের থেকে শ্রবণ এবং কীর্তনের মাধ্যমে শুদ্ধ চেতনা, কৃষ্ণপ্রেম, কৃষ্ণকে সেবা করার বাসনা প্রকাশিত হয়। তাই প্রথম ধাপটি হচ্ছে যখন কেউ কৃষ্ণের কোন সেবায় নিযুক্ত হয়। কৃষ্ণের প্রতি নিবেদিত যে কোন সেবা, এমনকি তা অজ্ঞানতাবশত নিবেদিত হলে, তবুও তা তাদেরকে লাভবান করবে।
আমার মনে হয় আমি দক্ষিণ ভারতের সেই শ্রীবিগ্রহের কাহিনীটি উল্লেখ করেছিলাম—দুর্গা, মীনাক্ষী দেবীর বিবাহের কথা? সেখানে পার্বতী দেবীর এক অবতার ছিলেন। কোন একজন রাজা ভগবানের পূজা করেছিলেন এবং তিনি পুত্র কামনা করেছিলেন, কিন্তু এর পরিবর্তে তিনি মীনাক্ষীকে লাভ করেন, যিনি ছিলেন এক কন্যা, কিন্তু তার কাছে এই আশীর্বাদ ছিল যে যতক্ষণ না তিনি তাঁর স্বামীকে দর্শন করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি তাঁর নারীসুলভ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করবেন না। এইভাবে সবকিছুই চাপা ছিল (নারী স্তন এবং এমন ধরনের দৈহিক বৈশিষ্ট্য) তিনি যুদ্ধ করেছিলেন এবং রাজার হয়ে বিজয় লাভ করেছিলেন, তিনি সব শত্রুদের পরাস্ত করেছিলেন এবং সেই সময় বৈদিক সংস্কৃতিকে রক্ষা করেছিলেন, যতদিন না তিনি মহাদেব শিবের দর্শন লাভ করেন। তিনি কৈলাসে বা এমন এক স্থানে গিয়েছিলেন ও কোন না কোনভাবে মহাদেব শিবের দর্শন লাভ করেছিলেন, তারপর তিনি মীনাক্ষী দেবী হন (ভক্তরা হাসছেন) এরপর আর তিনি যুদ্ধ করতে পারেননি। সেই সময় তারা সবাই বিবাহ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানাদির ব্যবস্থা করেছিলেন এবং ভগবান শ্রীবিষ্ণু স্বয়ং শিব ও মীনাক্ষী দেবীর বিবাহ দিয়েছিলেন। এই স্মরণে দক্ষিণ ভারতে একটি মন্দির রয়েছে। আমি জানি না তারা কিভাবে পুনরায় শ্রীবিগ্রহগণকে লাভ করেছিলেন, কিন্তু সেখানে সকল বৈষ্ণব, শিবাইত, শাক্ত ও প্রত্যেকের জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরসমূহ আছে। একটি মন্দিরের শ্রীবিগ্রহ দেখাশোনা করার জন্য তারা আমাদেরকে বলেছিলেন, কিন্তু এটি একটু জটিল। আমি জানিনা আমরা আসলে সেই প্রস্তাবটি গ্রহণ করব নাকি; কারণ সেখানে সরকারের অনেক বিধি-নিষেধ আছে ও আরো অন্যান্য সব বিষয় আছে। কিন্তু এমনকি আজও প্রতিবছর, হাজার হাজার যুগ ধরে এটি চলে আসছে যে, তারা এই শ্রীবিগ্রহকে নিয়ে প্রকাশ্যে বিবাহের জন্য শোভাযাত্রায় বের হন ও শ্রীবিগ্রহগণের বিবাহ হয়। সেখানকার পূজারীবর্গ আমাদেরকে বলেছিলেন যে এই শ্রীবিগ্রহের একটি লীলা ছিল যে, কত হাজার বছর পূর্বে যখন শ্রীবিগ্রহ বিবাহের পর ফিরে আসছিলেন, তখন ডাকাতদের পুরো দল আক্রমণ করেছিল। এবং ডাকাত সে সেই কার্যে এতই নিমগ্ন ছিল যে সে বিগ্রহকে দেখতে পায়নি, সে শ্রীবিগ্রহকে একজন ব্যক্তি মনে করেছিল ও তৎক্ষণাৎ সেখানে এসে বলছিল, “ঠিক আছে থাম! আমি হচ্ছি এক ডাকাত। আমি হচ্ছি চোর। আমার তোমার সব গয়না চাই। আমাকে তোমার গয়নাগুলো দাও। এইভাবে সে শ্রীবিগ্রহের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে, এবং বিগ্রহও পূর্ণরূপে ভাব-বিনিময় করেছিলেন, “যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে” (গীতা ৪.১১) (ভক্তরা হাসছেন) এরপর তিনিও কথা বলা শুরু করেন, তিনি তার সাথে কথা বলছিলেন, তিনি ভাব-বিনিময় করে বলছিলেন, “আমি বিবাহ থেকে ফিরছি, তুমি নিশ্চয়ই বিবাহ যাত্রীদের দলে আক্রমণ করতে চাও না। (হাসি) তুমি চুরি করতে চাও না, কারণ আমি পবিত্র স্থান থেকে আসছি। সেখানে বিবাহ ছিল। তুমি নিশ্চয়ই এমন কারও থেকে চুরি করতে চাও না, যিনি বিবাহ থেকে ফিরছেন, তুমি কি চাও?” (হাসি) এবং তখন সেই ডাকাত কয়েক মুহূর্তের জন্য চিন্তা করল এবং বলল, “না আমার এমন কোন নিষেধ নেই।” (হাসি) “এমন কোন বারণ নেই।” (হাসি) “তুমি কি লড়াই করবে নাকি তুমি আমাকে তোমার গয়নাগুলো দেবে? তুমি কেবল আমাকে এটা বলো।”
“না আমরা লড়াই করব না... তুমি গয়নাগুলি নিতে পারো।”
এরপর সেই চোর, সে বলছিল, “ঠিক আছে, আমি তোমাকে বিশ্বাস করছি।” যেহেতু তিনি যুদ্ধ করবেন না, তাই ঠিক আছে, এরপর ব্যাগ ও অন্যান্য সবকিছু জোগাড় করার জন্য তখন সে বলল, “ঠিক আছে আমার বর্শাটা একটু ধরো।” এইভাবে সে তার বর্শা তার হাতে দিয়েছিল, এবং তারপর সে ব্যাগের খোঁজ করছিল। যখনই সে শ্রীবিগ্রহের কাছে বর্শাটা দিল, অর্থাৎ সে শ্রীকৃষ্ণকে কোন কিছু প্রদান করল। (হাসি) এটি হচ্ছে এক ভক্তিমূলক সেবা, এমনকি কিছু একটা, কোন একটা কিছু এক তরফ থেকে আরেক তরফে গেছে, কৃষ্ণের কাছে গেছে। যখন সে কৃষ্ণকে কিছু দিল, তৎক্ষণাৎ সে ভক্তিমূলক সেবার দ্বারা এই উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে—শ্রীকৃষ্ণ কে ও সেই শ্রীবিগ্রহ হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণ, তিনি হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের এক বিগ্রহ এবং সে পরম পুরুষোত্তম ভগবানের অবতার শ্রীবিগ্রহের সঙ্গে কথা বলছিল। এইভাবে তৎক্ষণাৎ এই সবকিছু হয়, কেবল সামান্য সেবা নিবেদনের দ্বারা এবং তখন এই সমস্ত উপলব্ধির কারণে তৎক্ষণাৎ সে শরণাগত হয়েছিল এবং সামান্য ভক্তিমূলক সেবার দ্বারা সে এক মহান ভক্তে পরিণত হয়েছিল।
তাই আমরা বুঝতে পারি যে এমনকি কোন ব্যক্তি সামান্য ভক্তিমূলক সেবা করলে, এমনকি ঠিক আছে কখনো কখনো মানুষেরা বলে, এই জল বালতির(নোংরা) মধ্যে আছে, (ভক্তরা হাসছেন) কিন্তু এটি কোন ব্যাপার নয়। ঠিক আছে। শ্রীল প্রভুপাদ একজন ব্রহ্মচারীর কাহিনী বলেছিলেন, যিনি প্রত্যেকের কাছে যেতেন, কৃষ্ণের জন্য কোন কিছু ভিক্ষা করার চেষ্টা করতেন এবং কেউই তাকে কিছু দিত না। অবশেষে তিনি একজন গৃহস্থের কাছে গিয়েছিলেন, স্ত্রী বেরিয়ে এলে তিনি তাকে বললেন—“আমাদের কাছে কিছু নেই। কেউ কিছু দেয়নি। সারাদিনে কোন কিছুই পাইনি, এমনকি একটি শস্য বা অন্নের দানাও নয়, কিছুই নয়।” তারাও দিত না, তবে তখন স্ত্রী তার স্বামীকে বলল, “আমাদের কাছে কি কিছু আছে?” সে বলল, “তাকে বলো যে আমরা তাকে আমাদের উনন থেকে ভস্ম দিতে পারি।” তাই তখন সে বলল, “আমাদের কাছে ছাই ছাড়া আর কিছু নেই।” তখন সেই ব্রহ্মচারী বললেন, “শুনুন, এই বিষয়ে কথা বলা বন্ধ করে, আপনি কি দয়া করে তা দিতে পারেন?” প্রভুপাদ যখন এই কাহিনী বলছিলেন, তখন তিনি হাসছিলেন। আমাকে ছাই দাও, কথা বন্ধ কর। আমরাও এমন ধরনের মানুষকে পাই। এমন কি আমি ছাই গ্রহণ করছি, কিছু অন্তত দিন। যদি আপনি কিছু দান করেন, তাহলে এর দ্বারা আপনার সৌভাগ্যের উদয় হবে। এমনকি যদি তারা ছাই দেয়, অন্তত আমরা কোনকিছু দেওয়ার কথা বলছি, ফলে তারা দান করার এই অভ্যাসের মধ্যে আসে। এইভাবে ভক্তদের দ্বারা মানুষদের কৃষ্ণভাবনামৃত প্রদান করা হয় এবং এটি তাদের জন্য এক বিশাল সুযোগ। (ভক্তরা হাসছেন) এবং যখন এই জীবনে তারা এটি দান করছে, যদি তাদের সেরকম ধরনের অপরাধজনক মানসিকতা না থাকে, তাহলে এমনকি এই জীবনেই তাদের পক্ষে কৃষ্ণভাবনাময় হওয়া বা ভক্তিমূলক সেবা সম্পাদন করা সহজ। এবং অবশ্য যদি তারা এই জীবনে আরো ভক্তিমূলক সেবা না করে, তাহলে তবুও তা চিরস্থায়ী সঞ্চয় হিসেবে তাদের সাথে থেকে যায়। এটি হচ্ছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বিশেষ কৃপা এবং এখানে আজকের এই শ্লোকটিতে আমরা সেটি দেখতে পারছি যে ভক্তরা হচ্ছেন নিত্য শুভাকাঙ্ক্ষী এবং এখন আমাদের কাছে এই বিশেষ সুযোগ আছে যার দ্বারা আমরা সত্যি দেখতে পারি যে মানুষেরা যেন কৃষ্ণভাবনামৃতের দ্বারা উদ্ধার প্রাপ্ত হন। আমি অনেক সংকীর্তন লীলা শ্রবণ করেছি, যেখানে এমনকি হিংসুক ব্যক্তিদেরও প্রতিদিন প্রসাদ গ্রহণ করার মাধ্যমে, ভক্তদের সঙ্গ করার মাধ্যমে, তাদের হৃদয় পরিবর্তন হয়েছে।
যাইহোক, আমি আর বেশি সময় নিতে চাই না, তবে আমরা কেবল পঞ্চতত্ত্বের নাম স্মরণ করতে পারি এবং এই দিব্য কৃপা প্রদানের কার্যভার গ্রহণের মনোভাবে নিজেদেরকে শরণাগত করতে পারি।
জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু-নিত্যানন্দ
শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ॥
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
কোন প্রশ্ন আছে?
ভক্ত: এর কি উপযোগিতা আছে যখন কেউ ভক্তিমূলক সেবা করতে চান, কিন্তু তিনি নাম-জপ করতে চান না, তবে তিনি সেবা করতে চান।
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: যদি কোন ব্যক্তি শ্রবণ-কীর্তন ব্যতীত ভক্তিমূলক সেবা করতে চান, তাহলে সেটি হচ্ছে সাধারণত কর্মযোগ। কিছু সেবা করা। অবশ্য কর্মযোগের ক্ষেত্রে হয়ত কেউ কার্য সম্পাদন করছে এবং এর ফল প্রদান করছে, তাই এক্ষেত্রে যদি তিনি এমন কোন কিছু করেন যা বিশেষত গুরুর নির্দেশ, তাহলে অবশ্য এটি ভক্তির মধ্যে পড়ছে। সমস্যা হচ্ছে শ্রবণ-কীর্তন ব্যতীত চেতনা শুদ্ধি হয় না। এই কলিযুগে শুদ্ধিকরণের শক্তি আছে হরে কৃষ্ণ নাম জপের মধ্যে, ঠিক যেমন প্রত্যেক যুগে একটি যুগ ধর্ম থাকে। তাই সাধারণভাবে বলতে গেলে ভক্তিমূলক সেবা সম্পাদন করতে হবে, কিন্তু ঠিক যেমন অন্যান্য যুগে ধ্যান, যজ্ঞ এবং মন্দিরে অর্চনের পন্থা ছিল, তেমনই এই যুগে চিত্ত শুদ্ধির জন্য শ্রবণ-কীর্তন এবং সংকীর্তনের পন্থা আছে। যদি কেউ শ্রবণ-কীর্তন ব্যতীত কেবল ভক্তিমূলক সেবা সম্পাদন করে, তাহলে বিপদ হচ্ছে যে সেই ব্যক্তি আধ্যাত্মিক সুকৃতি লাভ করছেন, কিন্তু জাগতিক কার্যকলাপে নিযুক্ত হওয়ার বাসনা হয়ত প্রতিহত হচ্ছে না। জড়জাগতিক কার্যকলাপে নিযুক্ত হওয়ার সেই বাসনা, সেই বীজ আমাদের হৃদয়ের মধ্যে আছে এবং প্রতিহত করার জন্য আমাদের নিত্যানন্দ প্রভুর কৃপা দরকার, আমাদের নিজেদের হৃদয় আধ্যাত্মিক আনন্দ দ্বারা পূর্ণ করা দরকার। তাই, ভক্তিমূলক সেবা হচ্ছে অনুভূতিশীল, কিন্তু তা পুরোপুরি আস্বাদন করার ক্ষেত্রে আমরা বেশ আচ্ছাদিত অবস্থায় আছি। এটির প্রকৃত লাভ আছে যে তিনি সেই সময় সেবা করছেন, কিন্তু বিপদ আছে যে সেই ব্যক্তি হয়ত আবার জাগতিক কার্যকলাপে বিপথগামী হতে পারেন। যখন আপনি কোন যুদ্ধজাহাজে আছেন, গোলাবর্শন করছেন, কিন্তু কোন র্যাডার না থাকে, তাহলে এর অর্থ কোন প্রতিরক্ষা নেই। এটি কেবল কাজ করছে, কিন্তু এর কোন প্রতিরক্ষা নেই। তেমনি নাম জপ হচ্ছে প্রতিরক্ষা এবং বেষ্টনী উভয়ই। তা আসলেই আমাদেরকে সুরক্ষিত রাখে এবং ভক্তিমূলক সেবা আস্বাদানের সেই সুযোগ প্রদান করে। এটি আমাদের সেই সেবার জন্য আধ্যাত্মিক উপলব্ধি প্রদান করে। এই নির্দিষ্টযুগে কারো পক্ষে পারমার্থিক আনন্দ এবং পারমার্থিক উপলব্ধি কেবল তাদের সেবার দ্বারা উপলব্ধি করা কঠিন।
ভক্ত: যদি কেউ কেবল হরেকৃষ্ণ নাম জপ করে, কিন্তু কোন ভক্তিমূলক সেবা না করে, তাহলে কি হবে?
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: একসময় মায়াপুরে একজন মাতাজি শ্রীল প্রভুপাদকে বলছিলেন যে, “আমি কোন সেবা করতে চাই না। আমি কেবল নাম জপ করতে চাই। আমি শুধুই নাম জপ করতে চাই।” শ্রীল প্রভুপাদ বললেন—“শুধু নাম জপ করো। এই নাম জপ করা কেবল জপ নয়, এই নাম জপ হচ্ছে আমাদের সমস্ত সেবার মধ্যে সর্বোত্তম। শ্রীল হরিদাস ঠাকুর কেবল নাম জপের মাধ্যমে নিখুঁত ছিলেন। তুমি কেবল নাম জপ করতে পারো। তুমি শুধুই নাম জপ করতে পারো। তুমি এখানে থাকতে পারো, দিনে ২-৪ ঘন্টা বিশ্রাম গ্রহণ করতে পারো এবং বাকি পুরো সময় তুমি নাম জপ করতে পারো ও দিনে একবার আহার করতে পারো। এই জন্যই আমি মায়াপুর, বৃন্দাবন তৈরি করেছি, এটা তাদের জন্য যারা কেবলই নাম জপ করতে চায়। যদি কেউ কেবল নাম জপ করতে চায়, তাহলে তাদেরকে এই পবিত্র ধামে আসতে দাও। এমন নয় যে তুমি নিউইয়র্ক শহর বা অন্য কোথাও তা করবে। পবিত্র ধামে নাম জব করো এবং তুমি আহার করবে না, দিনে কেবল একবার আহার করবে এবং তোমার নিদ্রা কমিয়ে দেবে ও পুরো সময় নাম জপ করবে।” তারপর শ্রীল প্রভুপাদ হাসলেন ও বললেন—“তুমি তা করতে পারবে না। তুমি দু’ঘণ্টা বা এক ঘন্টা নাম জপ করবে ও তারপর ঘুমিয়ে পড়বে। সেই জন্য আমি তোমাকে অনেক সেবা দিয়েছি।” এটা ভাববেন না যে নাম জপ করা সবথেকে কঠিন; পূর্ণ চেতনা সহ, পূর্ণ মনোযোগ সহ, পূর্ণ উৎসাহ সহ নাম জপ করা এবং চিত্ত বিক্ষিপ্ত না হওয়া সব থেকে কঠিন। এজন্যই শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে, “এখন সেবা, পরে সমাধি।”
প্রচার করার মাধ্যমে, সেবা করার মাধ্যমে আমরা শুদ্ধ হই, যার ফলে আমরা এই যোগ্যতা অর্জন করি যে আমরা আরও অধিক নাম জপ করতে পারব, তখন আমরা আরও অধিক গ্রন্থ অধ্যয়ন করতে পারি। আপনি আরো মনোযোগী হতে পারবেন। অন্য কোনভাবে তা হবে না। অবশ্য আমরা সবসময় নাম জপও করছি, কিন্তু প্রাথমিক স্তরে দিনে ১৬ মালার বেশি নাম করা, দিনের মধ্যে ২৪ ঘন্টা ভক্তিমূলক সেবায়, বিশেষত প্রচারকার্যে অবিরত নিযুক্ত থাকার মতো ফলদায়ক নয়। কেবল এটি কারণ নয় যে এখন জরুরী পরিস্থিতি আছে, ঠিক যেমন যখন বাড়িতে আগুন লাগে, তেমনই প্রচার হচ্ছে এখন সবথেকে অত্যাবশক সেবা, এটি বিশেষত প্রয়োজন, যদি সেই ব্যক্তি নাম জপ করতে সক্ষম হয় বা না হয়, এমনকি তবুও।
এক সময় আমরা কলকাতা মন্দিরে নাম জপ করছিলাম, আমার মনে পড়ে আমরা সবাই ৩২ মালা নাম জপ করছিলাম এবং তমাল কৃষ্ণ গোস্বামী এসে প্রভুপাদকে বললেন, “অচ্যুতানন্দ মহারাজ, জয়পতাকা, ইনি, তিনি, তারা সবাই ৩২ মালা জপ করছে।” এবং আমরা সেখানে ছিলাম, তারা আমাদেরকে এনেছিলেন।
“তুমি এবং জয় এটা করছো?”
“হ্যাঁ!” (হাসি)
তিনি বললেন, “যদি তুমি বসে ৩২ মালা জপ করো, তাহলে কে বাইরে গিয়ে প্রচার করবে? এটা আমার নির্দেশ যে তোমরা ১৬ মালা জপ করো, ও বাইরে বেরিয়ে গিয়ে প্রচার করো। নয়ত কে প্রচার করবে?”
এমনকি যদি আমরা নাম জপ করতে পারি, তবুও প্রভুপাদ এর দ্বারা খুব একটা প্রসন্ন ছিলেন না। অবশ্য এমন নয় যে… এটি সেই মুহূর্তের জন্য এক নির্দিষ্ট উপদেশ ছিল। অন্যান্য পরিস্থিতির ক্ষেত্রে অন্যান্য ব্যক্তিদের হয়ত অন্যান্য উপদেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি চেয়েছেন যে আমরা যাতে বাইরে গিয়ে ভারতে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রতিষ্ঠা করি এবং যদি আমরা সারাদিন বসে নাম জপ করি, তাহলে তা কিভাবে হবে? সেই অর্থে প্রভুপাদ এমনকি, যদি কোন ব্যক্তি নাম জপে সক্ষম হন, তবুও প্রভুপাদ চেয়েছিলেন আমরা যেন প্রচারকে অগ্রাধিকার দেই এবং আসলে কেউ নাম জপ করলে, প্রচারের মাধ্যমে তিনি এর আরও প্রশংসা করতে পারবেন। তাই প্রচার হচ্ছে খুবই অসাধারণ সেবা। এটি হচ্ছে আসলেই বিজ্ঞান, এটি হচ্ছে পুরোপুরি প্রচারের বিজ্ঞান, এটি হচ্ছে আমাদের খুব তাড়াতাড়ি অগ্রগতি করার এক বিশেষ আশীর্বাদ, এক বিশেষ সুযোগ।
বিশেষত কলিযুগে প্রচারের অসীম সুযোগ আছে। সত্য যুগে আপনি প্রচারের জন্য তেমন উৎসাহী হতে পারবেন না, কারণ এখন মায়া অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা অত্যন্ত মহৎ, এই দুইয়ের বৈপরীত্য খুবই স্পষ্ট। আপনি দেখতে পারবেন যে এটি হচ্ছে সর্বোত্তম কৃপা এবং একই সাথে এটিও দেখতে পারবেন যে বিশেষত সর্বাধিক পাপ কার্য হয়ে চলেছে এবং কোন ব্যক্তিকে দিয়ে যদি কোনো না কোনোভাবে হরে কৃষ্ণ নাম জপ করানো যায়, প্রভুপাদের গ্রন্থ অধ্যয়ন করানো যায়, যেকোন ভক্তিমূলক সেবা করানো যায়, তাহলে তারা ধীরে ধীরে সেই স্তরে উন্নীত হবে। এটি এক মহৎ সুযোগ, তখন প্রকৃতপক্ষেই আমরা নামজপের স্বাদ আস্বাদন করতে পারব। আমাদের সংগঠিত প্রয়াসের মাধ্যমে অন্যান্য আরো কত কাউকে দিয়ে নাম জপ করতে পারি, আর তখন আমরাও এর সুফল লাভ করি, যেমন প্রত্যেকের থেকে তাদের নাম জপের লাভ প্রাপ্ত হই। এটি হচ্ছে যেন পিরামিড চিঠি বা শৃঙ্খল চিঠির মতো যে—প্রত্যেক ব্যক্তি যারা ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত হয়েছেন, তার দ্বারা আপনিও অনেক দিব্য কৃপা লাভ করছেন!
হরেকৃষ্ণ, পঞ্চতত্ত্ব কি?
ভক্তবৃন্দ: জয়!
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: শ্রীল প্রভুপাদ কি?
ভক্তবৃন্দ: জয়!
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: শ্রীল রামেশ্বর স্বামী মহারাজ কি?
ভক্তবৃন্দ: জয়!
ভক্ত: শ্রীল আচার্যপাদ কি?
ভক্তবৃন্দ: জয়!
আপনারা জানেন যে শ্রীল রামেশ্বর স্বামী সংকীর্তন যজ্ঞে সম্পূর্ণ নিমগ্ন, তাই তিনি খুবই, আরো আরো অধিক প্রসন্ন হবেন যে হাওয়াই, নব নবদ্বীপ-এর ভক্তরা যদি এই ম্যারাথনে খুব উৎসাহী হন।
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees