নিম্নোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী ১১ নভেম্বর, ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ, ভারতের শ্রীধাম মায়াপুরে প্রদান করেছেন। এই প্রবচন শুরু হয়েছে বাংলা অনুবাদ সহ শ্রীমদ্ভাগবতের ৪র্থ স্কন্ধ ১ম অধ্যায় ৫৯তম শ্লোক পাঠের মাধ্যমে।
শ্রীমদ্ভাগবতম ৪.১.৫৯
তাবিমৌ বৈ ভগবতো হরেরংশাবিহাগতৌ ।
ভারব্যয়ায় চ ভুবঃ কৃষ্ণৌ যদুকুরূদ্ধহৌ॥
অনুবাদ: সেই নর-নারায়ণ ঋষি, যাঁরা হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণের অংশ-প্রকাশ, সম্প্রতি তাঁরা ভূভার হরণের জন্য যদু এবং কুরুবংশে কৃষ্ণ ও অর্জুনরূপে আবির্ভূত হয়েছেন।
তাৎপর্য: নারায়ণ হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান, এবং নর হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান নারায়ণের অংশ। এইভাবে শক্তি এবং শক্তিমান একত্রে হয়েছেন পরমেশ্বর ভগবান। মৈত্রেয় বিদুরকে জানিয়েছিলেন যে, নারায়ণের অংশ নর কুরুবংশে আবির্ভূত হয়েছেন এবং শ্রীকৃষ্ণের অংশ নারায়ণ যদুবংশে ভগবান শ্রীকৃষ্ণরূপে আবির্ভূত হয়েছেন জড় জগতের দুঃখ-দুর্দশাক্লিষ্ট মানুষদের উদ্ধার করার জন্য। অর্থাৎ, নর-নারায়ণ ঋষি এখন পৃথিবীতে কৃষ্ণ এবং অর্জুনরূপে বিরাজ করছেন।
জয়পতাকা স্বামী: এখানে পরম পুরুষোত্তম ভগবান এবং তাঁর অংশস্বরূপ জীবাত্মাদের প্রকৃতি সম্পর্কে বহু প্রযুক্তিগত তথ্য প্রদান করা হয়েছে। এটি ব্যাখ্যা করছে যে, এই বিশেষ অবতারে তাঁরা দুই রূপে আবির্ভূত হন—নর ও নারায়ণ। ‘নর’ হলেন মানব স্বরূপ, এবং ‘নারায়ণ’ হলেন ভগবৎ স্বরূপ। অর্থাৎ, নর হচ্ছেন নারায়ণের অংশ, মানব স্বরূপ ভগবানেরই অংশ। অন্যভাবে বললে, প্রত্যেক জীবাত্মাই হচ্ছেন পরম সত্যের অংশ-প্রকাশ। যেমন সূর্য ও সূর্যালোক—দু’টি সবসময় একত্রে থাকে। দেখুন, যদি সূর্যের আলো ও তাপ না থাকে, তাহলে সূর্যের কী অর্থ আছে? একটি সহজ উদাহরণ দেওয়া হয়—যদি সূর্য আমাদের ঘরে প্রবেশ করে, আমরা সূর্যের আলো অনুভব করতে পারি, তখন আমরা বলি না সূর্য ঘরে এসেছে, বলি সূর্যালোক এসেছে। অতএব, সূর্য ও সূর্যালোকের মধ্যে পার্থক্য আছে, যদিও তারা পরস্পর সংযুক্ত। যদিও আমরা সূর্যের সঙ্গে সংযোগ অনুভব করতে পারি, কিন্তু সূর্য স্বয়ং এখানে উপস্থিত নয়। আরেকটি বিষয় এখানে উল্লেখ আছে—যখন নর-নারায়ণ আবির্ভূত হয়েছিলেন, তা ছিল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের সহস্রাধিক বছর আগের ঘটনা। কিন্তু এই ভাগবতের কথোপকথন এমন সময় হয়েছে, যখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তখনও এই ধরাধামে বিরাজমান ছিলেন। তাই যখন এই নির্দিষ্ট প্রসঙ্গে কথা হচ্ছিল, তখন তারা বলছিলেন যে সেই নর এবং নারায়ণই এখন শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনরূপে আবির্ভূত হয়েছেন।
এখানে তখন শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুন একই সময়ে একসঙ্গে পৃথিবীতে বিরাজ করছেন। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন—“আমি যখন সূর্যদেবকে এই ভাগবদ্গীতার জ্ঞান উপদেশ দিয়েছিলাম, তখন তুমিও সেখানে উপস্থিত ছিলে।” তখন অর্জুন বললেন—“এটা কীভাবে সম্ভব?” অর্জুন বললেন, “সূর্যদেব বিবস্বান-এর আবির্ভাব তোমার আবির্ভাবের বহু পূর্বে হয়েছে, তাহলে আমি কীভাবে বুঝব যে তুমি প্রথমে তাঁকে এই জ্ঞান উপদেশ দিয়েছিলে?”
তখন শ্রীকৃষ্ণ উত্তর দিয়েছিলেন,
বহূনি মে ব্যতীতানি জন্মানি তব চার্জুন।
তান্যহং বেদ সর্বাণি ন ত্বং বেত্থ পরন্তপ॥
(গীতা ৪.৫)
অনুবাদ: পরমেশ্বর ভগবান বললেন—“হে পরন্তপ অর্জুন! আমার ও তোমার বহু জন্ম অতীত হয়েছে। আমি সেই সমস্ত জন্মের কথা স্মরণ করতে পারি, কিন্তু তুমি পার না।”
জয়পতাকা স্বামী: এইটাই হচ্ছে পার্থক্য যে জীবাত্মা, প্রত্যেক আত্মা নিত্য বিরাজমান, তাদের কখনও ধ্বংস হয় না। ঠিক তেমনই ভগবান শ্রীকৃষ্ণও নিত্য। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ কখনও কিছু বিস্মৃত হন না, তবে আমরা বিস্মৃত হই। শ্রীকৃষ্ণ ভগবদ্গীতায় বলেছেন—
বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায়
নবানি গৃহ্ণাতি নরোঽপরাণি।
তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণান্য-
ন্যানি সংযাতি নবানি দেহী॥
(ভগবদ্গীতা ২.২২)
“মানুষ যেমন জীর্ণ বস্ত্র পরিত্যাগ করে নতুন বস্ত্র পরিধান করে, দেহীও তেমনই জীর্ণ শরীর ত্যাগ করে নতুন দেহ ধারণ করেন।”
এইভাবে দেখা যায়, জড় জগতে একটি বিরাট দ্বৈততা রয়েছে—যদিও আমরা দেহ নই, এবং যতই আমরা দেহকে পরিতুষ্ট করার চেষ্টা করি না কেন, আমরা কখনই পূর্ণতৃপ্ত হব না, কারণ আমরা এই দেহ নই, আমরা হচ্ছি এই দেহের অভ্যন্তরে থাকা চেতন স্ফুলিঙ্গ, আমরা হচ্ছি সেই চেতনা যা দেহকে জীবিত রেখেছে। বর্তমানে আধুনিক বিশ্বের ভগবদ্গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবতমে প্রদত্ত আধ্যাত্মিক জ্ঞান সম্বন্ধে সামান্যতমও ধারণা নেই। তাই শরীরের ঊর্ধ্বে চেতনার উপলব্ধি লাভের প্রচেষ্টা অথবা নিত্য সত্য উপলব্ধির প্রচেষ্টা করার পরিবর্তে, সবাই কেবল শারীরিক আনন্দবিধানের কার্যে নিযুক্ত, শারীরিক স্বাচ্ছন্দ বৃদ্ধির চেষ্টায় রত।
আমি ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ড-এ একটি বিশাল প্রদর্শনী দেখেছিলাম, যার নাম ছিল “এপকট”, অর্থাৎ ভবিষ্যত জগৎ। সেখানে তারা দেখাতে চেয়েছে যে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ পরিপূর্ণতার স্তরে পৌঁছে গেছে। আসলে বিষয়টি হল, ইন্দ্রিয় উপভোগের আকাঙ্ক্ষা যত অত্যাধিক বৃদ্ধি পাচ্ছে, ব্যবহারিকভাবে বলতে গেলে, ততই জীবনের গতি এমন এক উন্মত্ত দৌড়ের রূপ নিচ্ছে, যার কেবল এই মুহূর্তের ইন্দ্রিয়তৃপ্তির ও অর্থনৈতিক প্রয়োজন মেটানো ছাড়া আর কোনও লক্ষ্য বা দিকনির্দেশ নেই। এর পরিবর্তে আমরা দেখতে পাই যে, সুখী হওয়ার পরিকল্পনা করতে গিয়ে তারা পৃথিবীর এই আবাসক্ষেত্রকে আরও এক ভয়ঙ্কর স্থান করে তুলছে।
সম্প্রতি, পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, হয়ত জাতিসংঘ অথবা আমেরিকা সরকার ঘোষণা করেছে যে, ১৯৯০ সাল থেকে শুরু করে পরবর্তী আট বছর পর্যন্ত বড় কোন পারমাণবিক দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ছিল ২%, যেই বড় পারমানবিক দুর্ঘটনায় ন্যূনতম ১ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারাতে পারত। সাম্প্রতিক আমি যখন নিউ অরলেন্সে ছিলাম, এক ট্রেনচালক তার বান্ধবীকে ট্রেনে নিয়ে যাচ্ছিল। তারা একসাথে মদ্যপান করেছিল, এবং সেই মেয়েটি চালকের আসনে বসেছিল। সে ভুল পথে ট্রেন চালিয়ে ফেলেছিল এবং এতে পুরো ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পড়েছিল। এর ফলে ১৭টি রাসায়নিক বহনকারী বগি উল্টে যায় এবং পুরো শহর খালি করতে হয়, ১ লক্ষ মানুষকে স্থানান্তরিত করতে হয়। সেই রাসায়নিক এতটাই বিষাক্ত ছিল যে কেউ যদি এর ঘ্রাণ গ্রহণ করে, তাহলে তৎক্ষণাৎ তার মৃত্যু হবে। তাই বিজ্ঞানীরা এখন ধনবান শিল্পপতিদের প্রসন্ন করার জন্য তাদের অর্থে ইচ্ছা-খুশি মত গবেষণা করছে এবং তারা কত বিভিন্ন পরিকল্পনা করার চেষ্টা করছে, কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে এর ফলে এই জগত বসবাস করা আরো অধিক থেকে অধিকতর বিপদজনক হয়ে উঠছে। কিন্তু আসল সমাধান হচ্ছে যে—মানুষকে তাদের চেতনা পরিবর্তন করতে হবে এবং আসলে অধিক সরলভাবে জীবনযাপনের প্রতি অভ্যস্ত হতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি বিজ্ঞানী বা শিল্পপতিদের দোষারোপ করতে পারবেন না, কারণ যাই হোক না কেন মানষেরা তাদের তৈরি দ্রব্য ক্রয় করছে। মানুষ যা ক্রয় করতে চায়, তারা তাই বানাচ্ছে। তাই যতক্ষণ না মানুষেরা নিজেরা অধিক সরল জীবনযাপন করার নেতৃত্বদানের শিক্ষা গ্রহণ করছে, ততক্ষণ বিশ্বের এই কার্যধারা পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনা নেই।
অবশ্য যেমন দেখা যাচ্ছে যে, এইরূপ ধারায় চলতে থাকলে অচিরেই একটি বিশ্ব যুদ্ধ, যা বর্তমান সভ্যতাকে ধ্বংস করবে, সেই পরিস্থিতি আসন্ন, এবং তখন মানুষ হয় সরল জীবনযাপন করতে, আর না হয় মৃত্যুবরণ করতে বাধ্য হবে। অতএব, যদি কেউ সমাজের দোষত্রুটি দর্শনও করে, যতক্ষণ না তার আধ্যাত্মিক জ্ঞান হবে এবং যতক্ষণ না তিনি আত্মজ্ঞান লাভের প্রচেষ্টা করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই ব্যক্তি কোন সাহায্য করতে পারবে না এবং কেবল নিজ ইন্দ্রিয়তর্পণে নিযুক্ত থাকবে, যার অর্থ হচ্ছে—সে স্বার্থসিদ্ধির প্রতিযোগিতায় সংগ্রাম করতে বাধ্য হবে এবং পূর্ণরূপে মায়িক কার্যকলাপের মধ্যে নিমগ্ন হয়ে পড়বে।
তাই, এখানে বলা হয়েছে যে, অবতার, অর্থাৎ পরমেশ্বর—এই জড় জগতে অবতীর্ণ হন ক্লেশক্লিষ্ট মানবজাতিকে জড়জগতের কষ্টভার থেকে মুক্তি প্রদানের জন্য। সেই একইভাবে, চৈতন্য মহাপ্রভুও এই শ্রীধাম মায়াপুরে আবির্ভূত হয়েছিলেন, বিশেষত যন্ত্রবিশিষ্ট লৌহ যুগের মানুষদের উদ্ধার করার জন্য।
একবার, একজন সচিব শ্রীল প্রভুপাদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে, “একটা যুদ্ধ আসছে, সামনে অনেক কষ্ট আসছে, এখন কী করব?”
তখন প্রভুপাদ বলেছিলেন, “আমরা সবাই গঙ্গার এই পাড়ে শ্রীধাম মায়াপুরে থাকতে পারি এবং হরে কৃষ্ণ নাম জপ করতে পারি।”
তিনি বললেন, “না, না, এটা সম্ভব না! আমি শহরের বাইরে থাকতে পারব না। আমি যন্ত্রের প্রতি নির্ভরশীল। আমি যদি রাত্রে ফ্রিজের আওয়াজ না পাই, তাহলে আমার ঘুম আসবে না!”
প্রভুপাদ বললেন, “হ্যাঁ, তোমরা পাশ্চাত্যবাসীরা যন্ত্রের প্রতি আসক্ত।” এরপর তিনি বললেন, “বাংলায় একটি গল্প আছে, তোমাকে বলি —”
“একবার এক গৃহস্থ ছিলেন, তিনি লোকেদের ডাকছিলেন যে কেউ ক্ষুধার্ত আছে নাকি। বৈদিক প্রথা অনুসারে গৃহস্থদের নিজের আহার করার পূর্বে যদি কেউ ক্ষুধার্ত থাকে, তাকে আহার করানো উচিত।” আসলে, বৈদিক সমাজে কোনও সামাজিক সুরক্ষা বা ভাতার প্রয়োজন ছিল না। যদি কেউ সত্যি ক্ষুধার্ত হতেন,... সেক্ষেত্রে সবাই যদি রাস্তায় থাকা ক্ষুধার্তকে আহার করার জন্য আহ্বান করেন, তাহলে কেবল কিছু শতাংশ মানুষই শুধু ক্ষুধার্ত অবস্থায় থাকবে, বাকি স্বাভাবিকভাবে সমাজই স্বয়ং তাদের ভারবহন করত।
“সেই সময় এক জেলে এল, তার হাতে মাছভরা ঝুঁড়ি ছিল। সে বলল, ‘আমি এখনও কিছু খাইনি।’ সেই গৃহস্থ বললেন, ‘আচ্ছা এসো! কিন্তু তোমার ঝুঁড়িটা বাইরে রাখ, এর গন্ধ ভিশন বাজে।’ এরপর তিনি সেই জেলেকে উঠোনে বসিয়ে ভালোভাবে আহার করালেন। এরপর তিনি সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, রাত্রে তার থাকার মতো কোন স্থান আছে নাকি? তিনি বলল, ‘না, আমার থাকার কোন স্থান নেই।’ তখন তিনি বললেন, ‘দয়া করে আজকে রাত্রে তুমি এখানে থেকে যাও।’
সেই জেলে ঘুমাতে গেল, গৃহস্থও ঘুমাতে গেলেন। মাঝ রাত্রে প্রায় ভোর একটার সময় শৌচকার্যের জন্য গৃহস্থ উঠে দেখেন যে জেলে এদিকে ওদিকে ফিরছে, ঘুমোতে পারছে না। গৃহস্থ বললেন, ‘এই! কি হয়েছে? ঘুমোচ্ছ না কেন?’
‘আমি ঘুমাতে পারছিনা।’
তখন গৃহস্থ বললেন, ‘কেন! কেন! কেন তুমি ঘুমোতে পারছ না?’
এরপর তিনি বলল, ‘পুরো জীবন ধরে সবসময় আমার ঝুড়ি আমার সাথে ছিল এবং সেই ঝুড়ির গন্ধ না পেলে আমি ঘুমাতে পারি না! (হাসি) পচা মাছের গন্ধ না পেলে আমার ঘুম আসে না।’
গৃহস্থ বললেন, ‘ঠিক আছে! তোমার ঝুড়ি নিয়ে এসো, আমি চাইনা আমার গৃহে একজন অতিথি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হোক।’ তারপর তৎক্ষণাৎ জেলে ঘুমিয়ে পড়ল।”
শ্রীল প্রভুপাদ এই কাহিনীটি বলছিলেন এবং তিনি হাসছিলেন, “হা! হা!” এইভাবে তিনি তার পায়ের উপর চাপড় মেরে বলেছিলেন, “তোমরা পাশ্চাত্যবাসীরা হচ্ছ এইরকম। তোমরা তেল বা কোন যন্ত্রের গন্ধ না পেলে, তোমাদের ঘুম আসবে না।” তাই আসলে যেটি করার প্রয়োজন আছে, তা হচ্ছে কেবল মুখ্য বিষয়ের ধারণা পরিবর্তন করা। একবার আমরা যখন এটি বুঝতে পারব যে আমরা এই শরীর নই, তখন তৎক্ষণাৎ সবকিছুই পরিবর্তন হয়ে যাবে। ঠিক যেমন একটি কথা আছে— “তুমি কি বেঁচে থাকার জন্য খবর খাও? নাকি খাবার খাওয়ার জন্য বেঁচে থাকো?”
এইভাবে, আজকাল মানুষ আহারের জন্যই বেঁচে থাকছে, তারা কেবল শরীরকে উপভোগ করার জন্য বেঁচে আছে। কিন্তু আসলে শরীর এমনভাবে ব্যবহৃত হওয়ার কথা যাতে আমরা আমাদের আত্মাকে উপলব্ধি করার মাধ্যমে, শ্রীকৃষ্ণকে উপলব্ধি করার মাধ্যমে, পারমার্থিক সত্য উপলব্ধি করার মাধ্যমে, নিত্য জীবন লাভ করতে পারি। দেখুন, প্রথম বিষয় যা একজন মানুষের প্রশ্ন করা উচিত, তা হচ্ছে— “আমি কে?” এরপর যথার্থ বুদ্ধি দিয়ে বিচার করার মাধ্যমে কেউ সহজেই এটি অনুধাবন করতে সক্ষম হবে যে আমরা এই শরীর নই। ঠিক যেমন যদি আমরা আমাদের হাত টর্নিকেট বা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখি, তাহলে হঠাৎ করে যখনই সেখানে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে, তখন আমরা আমাদের হাতের সমস্ত অনুভূতি হারাতে শুরু করব। ব্যবহারিকভাবে বলতে গেলে তখন হাতটি মৃত। ভগবদগীতাতে বলা হয়েছে যে— জিবাত্মা, পারমার্থিক স্ফুলিঙ্গ হৃদয়ের মধ্যে অবস্থিত এবং রক্ত, চেতনার মাধ্যমে তা সমগ্র শরীরে বিস্তৃত আছে। পারমার্থিক স্ফুলিঙ্গ, জিবাত্মা। আসলে শরীর হচ্ছে মৃত, এটি জীবিত আছে কেবল আধ্যাত্মিক শক্তি শরীরের মধ্যে আছে সেই জন্য। শরীর হচ্ছে জড়জাগতিক শক্তি দ্বারা উৎপন্ন জটিল যন্ত্র, দেখুন আসল শক্তির উৎস, সংকেন্দ্রীভূত শক্তি, সেটি আধ্যাত্মিক শক্তি রূপে আছে। সেটিই হচ্ছে আমাদের স্বরূপ, আমরা হচ্ছি আধ্যাত্মিক শক্তি। মৃত্যু হচ্ছে কেবল সেইসময় যখন আধ্যাত্মিক স্ফুলিঙ্গ দেহ ত্যাগ করে, তখন কোনভাবেই দেহ আর সক্রিয় থাকে না। প্রত্যেক শরীর ছয়টি পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায়। এটি বেদে বর্ণনা করা হয়েছে যে, জীবাত্মা যেই জীবন লাভ করবে, তার ভিত্তিতে একবার তা বীজ অথবা ভ্রূণ অথবা ডিম্ব-এর মধ্যে প্রবেশ করলে, তখন থেকেই তা ছটি পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে পরিবর্তিত হয়। প্রথম হচ্ছে জন্ম, এরপর বৃদ্ধি, এরপর সাময়িকভাবে স্থায়ীত্ব, নতুন জীব সৃষ্টি বা উদাহরণস্বরূপ সন্তান-সন্ততি সৃষ্টি, এরপর দেহের ক্ষয়প্রাপ্তি ও অবশেষে মৃত্যু। দেখুন মৃত্যুর সময় জীবাত্মা আবার শরীর থেকে মুক্ত এবং তখন সূক্ষ্ম মানসিক শরীরটি পুনরায় আরেকটি ডিম্বানু বা আরেকজনের গর্ভে প্রবেশ করে, এবং পুনরায় এই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি শুরু হয়।
তাই, যদি আমরা কেবল এই নির্দিষ্ট শরীরটিকে বজায় রাখার জন্য বেঁচে থাকি, তাহলে এটিকে সবথেকে বড় বোকামি বলা যেতে পারে, কারণ আগে হোক বা পরে, এই শরীর নিশ্চিতরূপে নিঃশেষিত হবেই। তাই, এর পরিবর্তে আমরা শরীরকে সুস্বাস্থ্যে রাখি, শরীরকে ভালো রাখি, কিন্তু ভক্ত হিসেবে আমাদের সকল শক্তি হচ্ছে এর উর্ধ্বে নিজেদের অস্তিত্বের প্রকৃত আধ্যাত্মিক প্রকৃতি, নিত্য অস্তিত্বের প্রকৃতিকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে অনুধাবন করার জন্য। নয়ত জড় জগতে তিনগুণ আছে এবং এই তিনগুণ বদ্ধ, জড়জাগতিক, ও জড়জাগতিকভাবে আবদ্ধ জীবদের চেতনা বিভিন্ন প্রকার মানসিকতায় নিয়ে যায়। এইভাবে জড় জাগতিকভাবে বদ্ধ জীবদের বিভিন্ন ধরনের মানসিকতায় নিয়ে যায়। সত্ত্ব গুণ হচ্ছে যেখানে কেউ অন্যান্য ব্যক্তিদেরকে সাহায্য করতে চায়, কেউ ভালো কর্ম করতে চায়। রজো গুণ এমন মানসিকতা তৈরি করে, যেখানে কেউ কেবল নিজের তাৎক্ষণিক লাভের জন্য কার্য করে, অথবা নিজের পরিবারের সুবিধার জন্য, দেশের সুবিধার জন্য বা লাভ গ্রহণ করার জন্য কার্য করে। তম গুণে কেউ তিক্ত স্বভাবের এবং ক্রোধি হয়ে পড়ে এবং তারা বিভিন্ন বিষয়ে বিরক্ত হয়ে পড়ে, তারা সেই জন্য নেশায় মত্ত হয়, অথবা ক্রোধ, প্রতিহিংসা বা বিভিন্ন ধরনের তিক্ততা, উন্মত্ত তা দেখা যায়। আপনি কোন ব্যক্তিকে কেবল একটি গুণের সকল গুণাবলী সহ দেখতে পারবেন না, সাধারণত আপনি কাউকে প্রত্যেকটি গুণের বিভিন্ন শতাংশের এক সংমিশ্রণ সহ খুঁজে পাবেন। কিন্তু এই তিন প্রকার চেতনাই শারীরিক স্তরের, যেখানে অন্য ব্যক্তির শরীরের জন্য ভালো করা, নিজের শরীরের জন্য লাভ পাওয়া অথবা দুঃখ বা কষ্ট দ্বারা বিরক্ত হয়ে শরীরের অপব্যবহার করার কার্য পরিলক্ষিত হয়। এই কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের দৃষ্টিভঙ্গি যেহেতু সম্পূর্ণ শারীরিক স্তরের ঊর্ধ্বে, তাই আমরা আসলে আধ্যাত্মিক শক্তি বা জীবনী শক্তি সম্বন্ধে বলি, যা এই সমস্ত শরীরকে চালিত করছে। এইজন্য এর সাথে জড়জগতের কোন সম্পর্ক নেই। আসলে এটিই হচ্ছে কারণ যে কেন মনুষ্য জাতি উন্নত বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন—যাতে তারা জড়জাগতিক দ্বৈততা, জড়জগতিক ভ্রমের ঊর্ধ্বে উঠে প্রকৃত নিত্য স্থিতি দর্শন করতে সক্ষম হয়।
যদি একজন ব্যক্তি কেবল বিভিন্ন শারীরিক ইচ্ছাপূর্তির পিছনে ধাবিত হওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তার জীবন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হিসেবে বিবেচিত। এটি হচ্ছে মনুষ্য জন্মের সুযোগের সম্পূর্ণ অপব্যবহার। ভারতে এই প্রকৃত সংস্কৃতি হচ্ছে আধ্যাত্মিক উপলব্ধি অর্জনের উপর ভিত্তি করে গঠিত, কারণ যখন মানুষ জানে যে আমাদের এর পরবর্তীতে আরেকটি জীবন আছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তারা পরবর্তী জীবনের কথাও সমানভাবে অথবা বর্তমান জীবনের থেকেও অধিকভাবে চিন্তা করে। আজকাল অবশ্য বর্তমান কৃত্রিম যুগের প্রভাব এত দৃঢ় যে এমনকি যদিও ভারতে এই রীতিনীতি বজায় রাখা হয়েছে, কিন্তু এর অভ্যন্তরীণ তত্ত্ব ধীরে ধীরে বিরাট মাত্রায় স্মরণাতীত হয়ে পড়ছে। তাই, ভারতে আমাদের যেটি করতে হবে, তা হচ্ছে কেবল মানুষদেরকে তত্ত্ব সম্বন্ধে স্মরণ করাতে হবে। তাদের ইতিমধ্যেই এই সাধারণ ধারণা আছে, কিন্তু তারা তত্ত্ব বিস্মৃত হয়েছে। তারা আধ্যাত্মিক জ্ঞান বিস্মৃত হয়েছে। দেখুন, এমনকি যদি কেউ তা জানেনও, তবুও তা কেবল লিখিত ধারনা হয়ে আছে, প্রকৃতপক্ষে পাশ্চাত্য প্রভাবের কারণে তারা আর তা বিশ্বাস করে না।
পাশ্চাত্যে এই দর্শন আমরা খুব আগ্রহের সাথে গ্রহণ করেছি, কারণ আমরা আরো ভালো কিছু লাভের খোঁজ করছিলাম, এবং যখন আমরা তা অনুশীলন করেছি, তখন আমরা এর প্রভাব উপলব্ধি করেছি। তখন আমরা এর ভিন্নতা অনুভব করতে পেরেছিলাম। যখন কেউ তা অনুশীলন করেন, তখন তিনি এর প্রভাব বুঝতে পারেন। ঠিক যেমন কেবল মুখে বললে তা কোন কাজে দেবে না। যিনি শ্রীকৃষ্ণের সেবা-পূজা করেন, যিনি বাস্তবে আত্ম-উপলব্ধি লাভ করেছেন, তিনি উন্নত স্তরে অধিষ্ঠিত হবেন এবং যারা কেবল এই সম্পর্কে কথা বলে, অথবা এই সম্পর্কে কোন কিছু জানেনা, তারা কেবল জাগতিক প্রভাবেরই অধীন থাকবে। তারা জড়জাগতিক ভ্রমের উর্ধ্বে কোন কিছু দেখতে সক্ষম নয়। এমন কি যদি এখানে কারও আধ্যাত্মিক, কোন তত্ত্বগত ধারণা থাকেও, তবুও যদি তারা এটি অনুশীলন না করে, নিজেদের জীবনে তা কার্যকর না করে, তাহলে তারা আসলে ইহলোকে অথবা অন্যত্র কোথাও প্রকৃত লাভ পায় না। ভগবদগীতায় সেই জন্য বলা হয়েছে যে জ্ঞানের থেকে উর্ধ্বে হচ্ছে আসলে যজ্ঞ অনুষ্ঠান করা, বাস্তবিক উপলব্ধির পন্থা অনুশীলন করা, কারণ সেটিই হচ্ছে জ্ঞানের ফল।
অতএব, পরিসমাপ্তিতে বলা যেতে পারে, যেহেতু বর্তমান কৃত্রিম যুগে আত্ম-উপলব্ধি অনুশীলনের জন্য কোন আদর্শ পরিবেশ খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর, তাই এক অতি সরল পন্থা প্রদান করা হয়েছে, যা সর্বত্র, সবসময়, সর্বস্থানে, যে কেউ অনুশীলন করতে পারেন। আপনি পাহাড়ের উপরে থাকুন বা গর্তের নিচে থাকুন, যে কেউ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রদত্ত এই পন্থা অনুশীলন করতে পারেন। কেউ যদি এইরূপ ইচ্ছা করেন, তাহলে যে কেউ নাম কীর্তন করতে পারেন—
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে
এটি খুব একটা কঠিন নয়। শিশুদের দেখুন, এমনকি শিশুরাও এই নাম জপ করতে পারে। দেখুন এই বিশ্বের যেকোন স্থান—তা চীন হোক বা আমেরিকা বা যেকোন স্থান হোক, যখনই কেউ আন্তরিকভাবে এই ধ্যান অনুশীলনের চেষ্টা করেন, ভগবদগীতা অধ্যয়ন করেন, তখন তারা তৎক্ষণাৎ আধ্যাত্মিক শক্তির সাথে সংযোগ অনুভব করতে পারেন। কিন্তু যদি কেউ এমনকি ভক্তের সাথে থাকে, অথবা হয়ত কিছু তত্ত্বকথা শ্রবণ করে, কিন্তু তারা যদি নাম জপ না করে, যদি আসলে আত্মা উপলব্ধির বিষয়ে মনোযোগী না হয়, তাহলে তারা জড়জাগতিক ব্যাপকতার ঊর্ধ্বে কি ঘটছে সেই প্রকৃত ধারণা থেকে সর্বদা দূরেই থাকবে।
সেজন্য শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলছেন, “জীব জাগো জীব জাগো গৌরচন্দ্র বলে, কত নিদ্রা যাও মায়া পিশাচীর কোলে”— “ঘুমন্ত জীবেরা জেগে ওঠো, কেন তোমরা মায়া পিশাচীর কোলে ঘুমন্ত অবস্থায় আছ?” মায়া মানে হচ্ছে জড়জাগতিক ভ্রম। এই ভ্রম থেকে জেগে ওঠো। দেখো এই অস্থায়ী জগতের ঊর্ধ্বে কি আছে। জেগে ওঠার বিষয়টি আমাদের উপর নির্ভর করে। দেখুন যদি আমাদেরকে জাগিয়ে তোলা হয়, তাহলে আমরা জেগে উঠি, কিন্তু যদি আমরা ইতিমধ্যেই জেগে থাকি এবং আমরা এই বিশ্বাস নিয়ে চলি যে আমরা ঘুমিয়ে আছি, তাহলে সেই ব্যক্তিকে জাগিয়ে তোলা খুবই কঠিন। তখন তা অসম্ভব! যদি কোন ব্যক্তি ভ্রম দর্শন করতে পারে, এটি বুঝতে পারে যে এর উর্ধ্বে নিশ্চয়ই কিছু আছে, কিন্তু তবুও যদি আসক্তির কারণে, কোন কৃত্রিম আসক্তির কারণে, অলসতার কারণে বা কোন জড়জাগতিক পূর্ব পরিস্থিতির কারণে আধ্যাত্মিক উপলব্ধি লাভ করার চেষ্টার প্রতি অবজ্ঞা করে। অন্যভাবে বলতে গেলে, সেই ব্যক্তি ইতিমধ্যেই ভ্রমের মধ্যে জেগে আছে, কিন্তু ঘুমন্ত হওয়ার ভান করছে, তখন আপনি সেই ব্যক্তিকে জাগিয়ে তুলতে পারবেন না। তিনি আন্তরিক নয়, তিনি কপটাচারী।
এইজন্য শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, আসলে তাঁর কৃপা প্রত্যেকের জন্য আছে, যে কেউ আত্ম উপলব্ধিতে অত্যন্ত উন্নত হতে পারেন, স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারেন, পরমেশ্বর ভগবানকে উপলব্ধি করতে পারেন, সরাসরি পরম সত্যকে দর্শন করতে পারেন, আধ্যাত্মিক আলো, আধ্যাত্মিক বিস্তার, আধ্যাত্মিক জগৎ দর্শন করতে পারেন, যদি কেবল সেই ব্যক্তি আন্তরিক হন, যদি কেবল সেই ব্যাক্তি কপটাচারী না হয়, তাহলে তার পক্ষে এই সমস্ত উপলব্ধি অর্জন করা খুবই সহজ। কিন্তু এমনকি এই জড় জগতের মিথ্যা উপলব্ধি করার পরও, যদি কোন ব্যক্তি জাগতিক স্তরে থাকতে চায়, তাহলে কি করা যেতে পারে? সেজন্য শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন, “জেগে ওঠো! কৃষ্ণ নাম কর এবং সুখী হও।”
তোমাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ!
[বিরতি]
… এই দুঃখ কষ্ট, ঠিক যেমন শ্রীল প্রভুপাদ এখানে বলেছেন যে উদ্দেশ্য হচ্ছে দুঃখ-দুর্দশাপীড়িত মানব সমাজকে জড়জাগতিক দায়ভারের তীব্র যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করা।
কোনো প্রশ্ন আছে?
প্রশ্ন: (শ্রুতিহীন)... মহাপ্রকাশ?
জয়পতাকা স্বামী: না, এটি বলা হয়েছে যে তিনি উপস্থিত আছেন। বলা হয়েছে যে নর-নারায়ন কৃষ্ণের মধ্যে অবস্থান করছেন। সেই নর অর্জুনরূপে এবং নারায়ণ কৃষ্ণরূপে উপস্থিত, কারণ শ্রীকৃষ্ণ অগণনীয় রূপ বিস্তার করতে সক্ষম। প্রত্যেক অবতারে তিনি ভিন্নরূপ ধারণ করেন, কিন্তু তিনি তাঁর প্রকৃত স্বরূপ হারিয়ে ফেলেন না, তিনি কখনই সেই সবকিছু বিস্মৃত হন না। সেইভাবে, কৃষ্ণের মধ্যে সবকিছু আছে, কারণ তিনি হচ্ছেন অন্যান্য সকল স্বরূপের আদি স্বরূপ। যেমন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর স্বরূপের মধ্যে রামের স্বরূপ প্রকাশ করেছিলেন, বরাহ, নরসিংহ ও অন্যান্য স্বরূপ প্রকাশ করেছিলেন। তাই নর-নারায়ণ কৃষ্ণের মধ্যে আছেন।
এমন নয় যে কৃষ্ণ,... এটি বলা হয়েছে যে নর-নারায়ণ হচ্ছেন অংশ, বলা হয়েছে যে তিনি হচ্ছেন অংশ। শ্রীমদ্ভাগবতের আরেকটি অংশে এটি বলা হয়েছে যে কৃষ্ণ হচ্ছেন অংশী, তিনি হচ্ছেন স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাই অংশ নিশ্চিতরূপে পূর্ণের মধ্যে অবস্থান করছে। নর-নারায়ন, এই বিভিন্ন অবতাররা হচ্ছেন মহান ঋষি, যাঁরা শ্রীকৃষ্ণের অভ্যন্তরে অবস্থিত। নর-নারায়ন এক নির্দিষ্ট সময়, নির্দিষ্ট স্থানে, মানুষদের আত্ম-উপলব্ধির ধারণা লাভে সাহায্য করতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। একইভাবে কৃষ্ণ তাঁর স্বরূপে আছেন, তাঁর মধ্যে নারায়নও আছেন এবং অর্জুনও আছেন, নর সেখানে উপস্থিত আছেন এবং অর্জুন হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণের অংশ, এইভাবে আপনি পুরো বিষয়টি দেখলে বুঝতে পারবেন, এটি খুবই স্পষ্ট, কেবল প্রযুক্তিকভাবে তা লিখিত আছে।
এটি বলা হয়েছে যে, নারায়ণ হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণের বিস্তার, যিনি শ্রীকৃষ্ণরূপে আবির্ভূত হয়েছেন। নারায়ণ শ্রীকৃষ্ণ, বরাহ, এই প্রত্যেক ষ্বরূপে আবির্ভূত হয়েছেন, কিন্তু তাঁরা সকলেই হচ্ছেন তাঁর(শ্রীকৃষ্ণের) অংশ। এর অর্থ হচ্ছে কৃষ্ণের মধ্যে সকল অবতারগণ রয়েছেন। কৃষ্ণ, তিনি সেইরূপে যেকোন নির্দিষ্ট মনোভাব প্রকাশ করতে পারেন। দেখুন, আপনি নরসিংহদেবকে গোপিদের সঙ্গে নৃত্য করতে দেখবেন না, এটি তাঁর ভাব নয়। আপনি বরাহদেবকে মাখন মন্থন করতে বা এমন কোন কার্য করতে দেখবেন না। আপনি এটি দেখতে পাবেন না! তাদের প্রত্যেকের এক নির্দিষ্ট ভাব আছে, এমন কিছু নির্দিষ্ট বিষয় আছে, যা কেবলমাত্র কৃষ্ণ করেন, তাঁরা করেন না, তবে শ্রীকৃষ্ণের ক্ষেত্রে আপনি দেখবেন যে তাঁর অবতারে তিনি ক্রোধ প্রকাশ করতে পারেন ও পরাস্তও করতে পারেন। যদিও সেটি কৃষ্ণের ভাব নয়, কিন্তু সেই নির্দিষ্টভাব তখন প্রকাশিত হয়, যখন কেবল কৃষ্ণ সেই ভাবটি প্রকাশ করেন, যা শ্রীশ্রীনরসিংহদেবের মধ্যেও উপস্থিত অথবা অন্য কোন অবতারের মধ্যেও উপস্থিত। তাই, শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে তাঁর বিভিন্ন রূপ, বিভিন্ন স্বরূপ, এবং বিভিন্ন ভাব উপস্থিত আছে।
তাই আপনি বলতে পারেন যে… আপনি অন্যভাবে এটি বলতে পারেন যে, আপনি বলতে পারেন নারায়ণ কৃষ্ণের মধ্যে আছেন, অথবা আপনি বলতে পারেন যে নারায়ণ হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণের অংশ। তিনি অবতরণ করেছেন, এটি হচ্ছে প্রযুক্তিক ব্যাখ্যা। (শ্রুতিহীন)
প্রশ্ন: তিনি বলছেন, “নরনারায়ণ রূপে তাঁর অবতার” ?
জয়পতাকা স্বামী: হ্যাঁ! কৃষ্ণ এবং অর্জুন। এর মানে হচ্ছে কৃষ্ণ বলেছেন—“বহূনি মে ব্যতীতানি জন্মানি তব চার্জুন।” দেখুন, তিনি বলছেন, “তুমি বহু জন্মগ্রহণ করেছ, আমিও, কিন্তু তুমি সেই সব বিস্তৃত হয়েছ, আমি হইনি।” এর অর্থ কৃষ্ণ এর পূর্বে নর-নারায়নরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এটাই হচ্ছে ভিন্নতা, তিনি সেই একই কৃষ্ণ। এর অর্থ এই নয় যে ভিন্ন ভগবান। পরম সত্য এক, কিন্তু কখনও কখনও বিভিন্ন স্বরূপে আবির্ভূত হন। শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সম্পূর্ণ শক্তির কেবল অতি ক্ষুদ্রংশ প্রকাশ করেন। তিনি হচ্ছেন সেই একই ব্যক্তিত্ব, তবে তিনি যা করতে পারেন, তা সম্পূর্ণরূপে প্রদর্শন করেন না।
একজন ব্যক্তি মঞ্চে গিয়ে হয়ত কেবল একটি ভূমিকায় গীত গাইলেন, তবে তিনি আসলে গান করতে, নৃত্য করতে, তার মাথার উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতে, দড়ির উপর দিয়ে হেঁটে যেতে পারেন। কিন্তু তিনি কেবল একটি দিক প্রদর্শন করলেন। দেখুন, এটি তার সমগ্র শক্তি প্রদর্শন নয়, এটি তার সম্পূর্ণ কার্যানুষ্ঠান নয়, তিনি আরও অনেক কিছু করতে পারেন। তেমনই নর-নারায়ণ কেবল তাঁদের তপস্যা এবং জ্ঞান প্রদর্শন করেছিলেন, মূলত তপস্যার ভাব প্রদর্শন করেছিলেন এবং নর তার সাথে আবির্ভূত হয়েছিলেন, অর্জুন হিসেবে সেই একইভাবে তাঁরা আবির্ভূত হয়েছেন, কিন্তু কখনও কখনও শ্রীকৃষ্ণ আংশিকভাবে প্রকাশিত হন, কখনো কখনো পূর্ণরূপে প্রকাশিত হন। পূর্ণ প্রকাশ, আদি প্রকাশ হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণ। তিনি হচ্ছেন সেই একই ব্যক্তিত্ব, এটি হচ্ছে কেবল বিভিন্ন শতাংশ অনুসারে কিভাবে তিনি নিজেকে প্রকাশ করছেন।
প্রশ্ন: আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে—যখন শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হন, তিনি সরাসরি আধ্যাত্মিক জগৎ থেকে আসেন, কিন্তু ‘লীলা পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ’ গ্রন্থে এটি বলা হয়েছে যে তিনি হচ্ছেন নারায়ণের অবতার।
জয়পতাকা স্বামী: এটি এক এবং একই জিনিস। এক এবং একই। যখন শ্রীকৃষ্ণ আধ্যাত্মিক জগৎ থেকে আবির্ভূত হন, তখন তাঁর মধ্যে নর-নারায়ন রয়েছেন। বিষয়টি হচ্ছে—কেন মহাবিষ্ণুর কথা বলা হচ্ছে, কারণ নর-নারায়ন ভিন্ন আত্মা এবং নারায়ণ একই সাথে আছেন। তাঁরা হচ্ছেন একটি দল এবং তাঁরা একসাথে আধ্যাত্মিক জ্ঞান প্রদান করেছিলেন। যখন বরাহদেব আবির্ভূত হয়েছিলেন, তিনি সম্পূর্ণ একা ছিলেন এবং তিনি কেবল আবির্ভূত হয়েছিলেন। যখন ভগবান ত্রিবিক্রম আবির্ভূত হয়েছিলেন, সেই পরম ব্যক্তিত্ব আবির্ভূত হয়েছিলেন, তখন কিন্তু তাঁর কোন পরিপূরক ছিল না। তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন, একই সময়ে জ্ঞান প্রচার করতে, এগুলি হচ্ছে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন লীলা, কিন্তু নর এবং নারায়নের যে পরিস্থিতি—যখন নারায়ন আবির্ভূত হয়েছিলেন, তখন তাঁর সাথে এক অন্য জীবাত্মা, যিনি তাঁর নিত্য সঙ্গী, তিনি তাঁর সাথে আধ্যাত্মিক জ্ঞান প্রচার করেছিলেন এবং তাঁরা কখনোই একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। কৃষ্ণ এবং অর্জুন এর ক্ষেত্রে—একবার কৃষ্ণ বৃন্দাবন ছেড়ে এলে, তিনি সবসময় অর্জনের সাথেই ছিলেন, বাস্তবে সবসময় তারা একত্রে বসতেন, আহার করতেন, একে অপরের সাথে লড়াই করতেন, তারা সবকিছু একসাথে করতেন। তিনি ভগবদগীতা তাকে বলেছিলেন, তিনি তার বিবাহের ব্যবস্থা করেছিলেন, এইভাবে যা কিছুই হয়েছে সবক্ষেত্রেই তাঁরা একসাথে ছিলেন।
সেই অর্থে আপনি দেখতে পারেন যে বিভু আত্মা এবং অনু আত্মার যে নির্দিষ্ট ভাব, সেই ধরনের একই সম্বন্ধ নর-নারায়ণের মধ্যে রয়েছে বা ঠিক সেইরূপই কৃষ্ণ এবং অর্জুনের মধ্যে রয়েছে। মহাবিষ্ণুর কথা মূলত সেই সম্বন্ধের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, কারণ যেহেতু কৃষ্ণ এবং অর্জুন উভয়ই আবির্ভূত হয়েছেন, এক্ষেত্রে আমরা বুঝতে পারি যে কৃষ্ণ এবং অর্জুনের মধ্যে যে সম্পর্ক তা নিত্য। এমনকি অন্যান্য অবতারের ক্ষেত্রেও, যেমন কিছু নির্দিষ্ট অবতারে যখন কৃষ্ণ আবির্ভূত হন, তখন তাঁর একজন নিত্য সঙ্গী থাকে, সেক্ষেত্রে তিনি হচ্ছেন অর্জুনের অবতার।
শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন নর-নারায়ণের অবতার এবং নর-নারায়ন হচ্ছেন কৃষ্ণের অংশ। এর অর্থ নর-নারায়ন যারা কৃষ্ণের সেবা করেছেন, কৃষ্ণ তাঁদের সেবা করছেন। কিন্তু এটি এখানেই সীমিত নয়। এখানে সমাপ্ত নয়। একটি সেমিকোলন মাত্র, এরপর বলা যেতে পারে যে এর উর্ধ্বে অনেক উদ্দেশ্য আছে, যেমন অন্যান্য স্থানে আপনি দেখবেন যে শ্রীরাম শ্রীকৃষ্ণ রূপে এসেছেন। সেখানে আপনি অন্যান্য উদ্ধৃতি পাবেন। অন্যান্য অবতার যারা এসেছেন, তারা কৃষ্ণ এবং এরপর আপনি দেখবেন যে কিভাবে এটি সম্ভব হতে পারে যে নর-নারায়ণ কৃষ্ণ রূপে এসেছেন? নারায়ন কৃষ্ণ রূপে এসেছেন? বিষ্ণু কৃষ্ণ রূপে এসেছেন? রাম কৃষ্ণ রূপে এসেছেন? এটি এখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে—“কৃষ্ণস্তু ভগবান্ স্বয়ম্” (শ্রী.ভা. ১.৩.২৮) শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন প্রকৃত স্বরূপ। অন্যান্য সকল স্বরূপ তাঁর মধ্যে উপস্থিত আছে।
যখন তিনি একই ব্যক্তিত্ব, তখন আপনি বলতে পারেন যে প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, তিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তাই তিনি গাড়ির চালক হিসেবে এসেছেন। আপনি বলতে পারেন যে গাড়ি চালক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এসেছেন। এখানে এই জড়জগতে দু’জন ভিন্ন ব্যক্তি, অর্থাৎ আপনার কাছে গাড়ির চালক আছেন এবং প্রধানমন্ত্রী আছেন, কিন্তু কৃষ্ণ এবং নর-নারায়ণের ক্ষেত্রে কোনো ভিন্নতা নেই। আপনি বলতে পারেন নর-নারায়ণ শ্রীকৃষ্ণ রূপে এসেছেন বা কৃষ্ণ নর-নারায়ণ রূপে এসেছেন। এটি একই বিষয়, কারণ তাহলে আপনি এই ভুল করবেন না। সংস্কৃততে বলা হচ্ছে, প্রথমে যিনি হচ্ছেন উৎস, এটি বলা হয়েছে—হরের অংশ, যিনি হচ্ছেন অংশ এবং যিনি হচ্ছেন পূর্ণ “হরেরংশাবিহাগতৌ” সেই নরনারায়ন হচ্ছেন অংশ। তাই, পরে যখন এটি বলা হয়েছে যে তাঁরা সেই একই কৃষ্ণরূপেঅবতরিত হয়েছেন, তখন এর অর্থ হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণ এই অবতারের মতো সেই একই উদ্দেশ্য পূর্ণ করছেন, কিন্তু আপনি বিভ্রান্ত হবেন না এবং এটি ভাববেন না যে নর-নারায়ণ হচ্ছেন উৎস। তিনি প্রথমত এটি বৈশিষ্ট্যযুক্ত করেছেন যে তাঁরা হচ্ছেন অংশ, এটি বলা হয়নি যে কৃষ্ণ হচ্ছেন অংশ। অন্যান্য জায়গায় এটি আছে যে কৃষ্ণ হচ্ছেন পূর্ণ, সেটি সমগ্র ভাগবতের সেই একই লেখক লিখেছেন।
ঠিক আছে? আচ্ছা বেশ, আর কোনো প্রশ্ন আছে? এই কারণে আমি বলি যে এই সমস্ত শ্লোকগুলিতে অনেক প্রযুক্তিক বিষয় আছে।
জয়পতাকা স্বামী: ছয়টি পরিবর্তন—জন্ম, বৃদ্ধি, সাময়িক স্থায়িত্ব, জীব সৃষ্টি, ক্ষয় এবং অবশেষে ধ্বংস প্রাপ্তি, মৃত্যু। শিশু জন্মগ্রহণ করে, বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়, ২০-৪০ বছর স্থায়ী হয়, আপনিও কম বেশি একই সময়কাল পর্যন্ত স্থায়ী থাকেন, কোন সন্তান উৎপন্ন হয়, জীব, এরপর ধীরে ধীরে বৃদ্ধ হন ও তারপর মৃত্যু হয়। মনুষ্য প্রজাতির সাথেও এই একই বিষয় হয়, গাছের সাথেও একই হয়। গাছের বীজ অঙ্কুরিত হয়, বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়, ফুল ফোটে, ফল হয়, এরপর তা সতেজতা হারিয়ে ফেলে, এরপর মৃত্যু হয়। গাছ, মাছ, মানুষ—জড় জাগতিক জীবনে সকল প্রজাতির ক্ষেত্রেই, তা সে যেই জীবই থাকুক না কেন, আপনি দেখবেন দেহের এই ছয়টি পরিবর্তন হয়েছে। এই সমস্ত পরিবর্তন আপনি স্টিল, চেয়ার, দেওয়াল-এর ক্ষেত্রে দেখতে পারবেন না, কারণ তাদের মধ্যে জীবনী শক্তি নেই, তাদের মধ্যে চেতনা নেই, তাই তাদেরকে এইসব পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় না। এটি হচ্ছে জড়বস্তু এবং চেতনের মধ্যে পার্থক্য, চেতনের উপস্থিতির কারণে জড়বস্তুর পরিবর্তন হয়।
ঠিক আছে? আপনারা অনুসরণ করতে পারবেন?
আমরা দর্শন লাভের জন্য প্রস্তুত। হরে কৃষ্ণ!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees