নিম্নোক্ত প্রবচনটি শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ২৮ অক্টোবর, ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ, থাইল্যান্ডে প্রদান করেছেন। এই প্রবচন শুরু হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতের ২য় স্কন্ধ, ১ম অধ্যায়, ১১ শ্লোক পাঠের মাধ্যমে।
অনুবাদ
হে রাজন্ ! মহান আচার্যদের প্রদর্শিত পন্থা অনুসরণ করে নিরন্তর ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা সকলের জন্য সিদ্ধি লাভের নিশ্চিত তথা নির্ভীক মার্গ। এমনকি যাঁরা সমস্ত জড় কামনা-বাসনা থেকে মুক্ত হয়েছেন, যাঁরা সবরকম জড়-জাগতিক সুখভোগের প্রতি আসক্ত, এবং যাঁরা দিব্য জ্ঞান লাভ করার ফলে আত্ম-তৃপ্ত হয়েছেন, তাঁদের সকলের পক্ষেই এইটিই হচ্ছে সিদ্ধিলাভের সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা।
(অনুবাদ পুনরাবৃত্তি)
তাৎপর্য
পূর্ববর্তী শ্লোকে মুকুন্দের প্রতি আসক্ত হওয়ার নিতান্ত আবশ্যকতা প্রতিপাদিত হয়েছে। বিভিন্ন প্রকার মানুষ বিভিন্ন উপায়ে সিদ্ধিলাভের বাসনা করেন। সাধারণত যারা জড়বাদী, তারা পূর্ণরূপে জড় সুখভোগ করতে চায়। তাদের পরবর্তী স্তরে রয়েছেন সেই সমস্ত অধ্যাত্মবাদীরা, যাঁরা জড় সুখভোগের প্রকৃত স্বরূপ পূর্ণরূপে অবগত হয়েছেন এবং তাই মায়িক জীবন থেকে দূরে থাকেন। তাঁরা সাধারণত আত্মজ্ঞান লাভ করার ফলে আত্মতৃপ্ত। তাঁদের ঊর্ধ্বে রয়েছেন ভগবদ্ভক্ত, যাঁরা জড়-জাগতিক সুখভোগের আকাঙ্ক্ষা করেন না অথবা জড় জগৎ থেকে মুক্ত হওয়ার বাসনাও করেন না। তাঁরা কেবল পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের তৃপ্তি সাধন করতে চান। অর্থাৎ, ভগবদ্ভক্তেরা কখনও তাঁদের নিজেদের জন্য কিছু চান না। ভগবান যদি চান তাহলে ভক্তরা সবরকম জড় সুযোগ-সুবিধা স্বীকার করতে পারেন, এবং ভগবান যদি তা না চান তাহলে ভগবদ্ভক্তরা সমস্ত সুযোগ-সুবিধা হেলাভরে পরিত্যাগ করতে পারেন, এমন কি মুক্তি পর্যন্ত। তাঁরা আত্মারামত্বও পর্যন্ত কামনা করেন না, কেননা তাঁরা কেবল পরমেশ্বর ভগবানেরই সন্তুষ্টি কামনা করেন। এই শ্লোকে শ্রীল শুকদেব গোস্বামী ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করার পরামর্শ দিয়েছেন। নিরপরাধে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন এবং শ্রবণের ফলে ভগবানের অপ্রাকৃত রূপের সঙ্গে পরিচয় হয়, এবং তারপর ভগবানের গুণ, লীলা আদি দিব্য প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় হয়। এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে মহাজনদের শ্রীমুখ থেকে ভগবানের পবিত্র নাম শ্রবণ করার পর নিরন্তর তা কীর্তন করা উচিত। অর্থাৎ, মহাজনদের কাছ থেকে শ্রবণ করা প্রথম কর্তব্য। দিব্য নাম শ্রবণ থেকে ধীরে ধীরে তাঁর রূপ, গুণ, লীলা ইত্যাদি শ্রবণের স্তরে উন্নীত হওয়া যায়। এইভাবে উত্তরোত্তর তাঁর মহিমা কীর্তনের আবশ্যকতা উৎপন্ন হয়। এই বিধি কেবল সফলতা সহকারে ভক্তির অনুশীলনের ক্ষেত্রেই নয়, এমনকি যারা জড় বিষয়ে আসক্ত তাদের জন্যও। শ্রীল শুকদেব গোস্বামীর মতে, সাফল্য লাভের এইটিই যে সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা তা কেবল তাঁরই সিদ্ধান্ত নয়, পূর্ববর্তী আচার্যদেরও। তাই, আর অধিক প্রমাণের প্রয়োজন নেই। এই পন্থা কেবল বিভিন্ন স্তরের আদর্শবাদীদের সাফল্য লাভের জন্যই কেবল নয়, উপরন্তু কর্মী, জ্ঞানী অথবা ভক্তরূপে ইতিমধ্যেই সাফল্য লাভ যাঁরা করেছেন, তাঁদের জন্যও।
শ্রীল জীব গোস্বামী উচ্চৈঃস্বরে ভগবানের নাম কীর্তন করার নির্দেশ দিয়েছেন, এবং তা অবশ্যই নিরপরাধে করা উচিত। এই বিষয়ে পদ্মপুরাণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পরমেশ্বর ভগবানের শরণাগত হওয়ার ফলে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হওয়া যায়। ভগবানের পবিত্র নামের আশ্রয় গ্রহণ করার ফলে ভগবানের চরণে সমস্ত অপরাধ থেকেও মুক্ত হওয়া যায়। কিন্তু কেউ যদি ভগবানের পবিত্র নামের চরণে অপরাধ করে, তাহলে তা থেকে কোন মতেই রক্ষা পাওয়া যায় না। পদ্ম-পুরাণে এই প্রকার দশটি নাম অপরাধের উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম অপরাধ হচ্ছে, যে সমস্ত মহান ভক্ত ভগবানের মহিমা প্রচার করেন তাঁদের নিন্দা করা। দ্বিতীয় অপরাধ, জড়-জাগতিক বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে ভগবানের পবিত্র নামকে দর্শন করা। ভগবান সর্বলোক-মহেশ্বর, তাই বিভিন্ন স্থানে তিনি বিভিন্ন নামে পরিচিত হতে পারেন, কিন্তু তার দ্বারা কোনভাবে ভগবানের পূর্ণতা সিদ্ধ হয় না। ভগবানের যে কোন নাম ভগবানেরই মতো পবিত্র, কেননা তা ভগবানকে ইঙ্গিত করে। ভগবানের এই সমস্ত নাম ভগবানেরই মতো পূর্ণ শক্তি-সম্পন্ন, এবং এই জগতের যে কোন স্থানে ভগবানের কোন এক বিশেষ নামের কীর্তন করতে তথা ভগবানের মহিমা কীর্তন করতে কারো কোন বাধা নেই। ভগবানের সমস্ত নামই মঙ্গলময়, এবং সেই নামকে কখনও জড়জাগতিক বস্তু বলে মনে করা উচিত নয়। তৃতীয় অপরাধ হচ্ছে সদ্গুরু বা আচার্যদের নির্দেশের অবজ্ঞা করা। চতুর্থ অপরাধ হচ্ছে বৈদিক শাস্ত্রের নিন্দা করা। পঞ্চম অপরাধ, জড় বিচারের দ্বারা ভগবানের দিব্য নামের অর্থ নিরূপণ করা। ভগবানের নাম এবং ভগবান এক, এবং তাই ভগবানের নামকে ভগবান থেকে অভিন্ন বলে জানা উচিত। ষষ্ঠ অপরাধ হচ্ছে কল্পনার দ্বারা ভগবানের নামকে ব্যাখ্যা করা। ভগবান কাল্পনিক নন, এবং তাঁর পবিত্র নামও কাল্পনিক নয়। অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা মনে করে যে ভগবান হচ্ছেন তাঁর উপাসকদের কল্পনাপ্রসূত এবং তাই তাঁর নামও কল্পনাপ্রসূত। সেই মনোভাব নিয়ে যারা ভগবানের নাম কীর্তন করে, তারা কখনই নাম কীর্তনের বাঞ্ছিত সাফল্য লাভ করতে পারে না। সপ্তম অপরাধ হচ্ছে নামের বলে পাপ আচরণ করা। শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভগবানের নাম কীর্তন করার ফলে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হওয়া যায়। যারা সেই সুযোগ গ্রহণ করে পাপ আচরণ করতে থাকে এবং মনে করে যে ভগবানের নাম কীর্তন করার ফলে তাদের সমস্ত পাপ মোচন হয়ে যাবে, তারা নাম প্রভুর চরণে সবচাইতে বড় অপরাধী। সেই প্রকার অপরাধীদের কোনভাবেই অপরাধ মোচন হয় না। ভগবানের নাম কীর্তন করতে শুরু করার পূর্বে কেউ পাপী থাকতে পারে, কিন্তু নাম প্রভুর আশ্রয় গ্রহণ করার পর সমস্ত পাপ কার্য থেকে নিরস্ত হওয়া উচিত এবং আশা করা উচিত যে নাম কীর্তনের পন্থা তাকে রক্ষা করবে। অষ্টম অপরাধ হচ্ছে ভগবানের নাম কীর্তনকে জড়জাগতিক পুণ্য কর্মের সমতুল্য বলে মনে করা। জাগতিক সুবিধা লাভের জন্য নানাপ্রকার সৎকর্ম রয়েছে, কিন্তু ভগবানের নাম কীর্তন এই ধরনের কোন শুভ কর্ম নয়। ভগবানের নাম কীর্তন নিঃসন্দেহে মঙ্গলজনক, কিন্তু জাগতিক সুযোগ-সুবিধা লাভের জন্য কখনও নাম কীর্তনের এই পস্থাকে ব্যবহার করা উচিত নয়। যেহেতু ভগবানের নাম এবং ভগবান স্বয়ং অভিন্ন, তাই কখনও তথাকথিত মানব সেবার জন্য ভগবানের নামকে ব্যবহার করা উচিত নয়। পরমেশ্বর ভগবান হচ্ছেন পরম ভোক্তা, তিনি কারও ভৃত্য বা আজ্ঞাবহ দাস নন। তেমনই, ভগবানের নামও হচ্ছেন পরম ঈশ্বর, পরম ভোক্তা এবং পরম প্রভু, তাই ব্যক্তিগত সেবার উদ্দেশ্য নিয়ে পবিত্র নাম উচ্চারণ করা উচিত নয়।
নবম অপরাধ হচ্ছে নাম কীর্তনে পরাঙ্মুখ ব্যক্তিদের কাছে ভগবানের পবিত্র নামের দিব্য প্রকৃতির বিষয়ে উপদেশ দেওয়া। অনিচ্ছুক শ্রোতাদের কাছে যদি সেই উপদেশ দেওয়া হয়, তাহলে সেটি নাম প্রভুর চরণে একটি অপরাধ। দশম অপরাধ হচ্ছে পবিত্র নামের দিব্য প্রভাব সম্বন্ধে শ্রবণ করা সত্ত্বেও ভগবানের নামের প্রতি শ্রদ্ধাপরায়ণ না হওয়া। ভগবানের পবিত্র নাম প্রভাবে কীর্তনকারী ব্যক্তি মিথ্যা অহংকারের কবল থেকে মুক্ত হয়। নিজেকে জগতের ভোক্তা এবং জগতের সমস্ত বস্তুকে নিজের ভোগের সামগ্রী বলে মনে করাটাই হচ্ছে মিথ্যা অহংকার। সমগ্র জড় জগৎ আবর্তিত হচ্ছে এই মিথ্যা অহংকার প্রসূত “আমি” এবং “আমার” ভ্রান্ত ধারণার প্রভাবে। কিন্তু ভগবানের দিব্য নাম কীর্তনের ফলে সেই ভ্রান্তি থেকে মুক্ত হওয়া যায়।
জয়পতাকা স্বামী: এটি হচ্ছে অনাগ্রহী শ্রোতাদের কথা। কখনো কখনো এই প্রশ্ন উত্থাপিত হয় যে, “আমরা প্রবচন দেই এবং হয়ত সেখানে কেউ কেউ এমন আছে যারা তত বিশ্বাসী নয়।” তবে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে, “আমরা প্রচার করি এবং যদি তারা নিজে থেকে আসে, তখন আমরা বুঝতে পারি যে তারা ঈর্ষান্বিত নয়।” এবং এখানে এটি হচ্ছে অনাগ্রহী শ্রোতাদের কথা, যেমন কখনো কখনো মানুষেরা জোরপূর্বক অনুশীলন করানোর চেষ্টা করে। এমনকি তারা হয়ত শ্রবণ করতে চায় না, কিন্তু তারা আপনাকে বলার চেষ্টা করবে: “ধর্ম অবলম্বন অথবা নরক বাস কর।”
ভক্ত: আমিও কিছু সেবা করার কথা ভাবছিলাম (শ্রুতিহীন) যখন প্রচার করি কিছু অপরাধ করেছি (শ্রুতিহীন)
জয়পতাকা স্বামী: না! তাদের প্রতিক্রিয়া.. তারা আসে, তারা আসবে। তবুও আপনাকে জানতে হবে যে কিভাবে প্রচার করা যাবে: কাল, দেশ, পাত্র অনুযায়ী।
দশম অপরাধটি হচ্ছে এমনকি পবিত্র নামের দিব্য প্রকৃতি সম্বন্ধে অবগত হওয়ার পরও ভগবানের পবিত্র নাম করার প্রতি অনাগ্রহী হওয়া। ভগবদ্ভক্তের দ্বারা ভগবানের পবিত্র নাম জপের প্রভাব অনুভূত হয় মিথ্যা অহংকারের ধারণা থেকে মুক্তির মাধ্যমে। মিথ্যা অহংকার প্রদর্শিত হয় এই চিন্তার মাধ্যমে যে—আমি এই জগতের উপভোক্তা এবং এই জগতের সবকিছুই হচ্ছে আমার নিজের উপভোগের জন্য। এই সমগ্র জড়জগৎ “আমি” এবং “আমার” এই মিথ্যা অহংকার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। পবিত্র নাম জপের বাস্তব প্রভাবটি হচ্ছে এই ধরনের ভ্রান্ত ধারণা থেকে মুক্ত হওয়া।
জয়পতাকা স্বামী: বড় তাৎপর্য। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক। এখানে আমরা দেখতে পারছি যে —
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে
নাম-কীর্তন হচ্ছে সম্পূর্ণ অনুমোদিত পন্থা। এমন নয় যে, কেবল পাঁচ শত বছর পূর্বে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই পন্থার উপস্থাপন করেছেন। আমরা দেখতে পারছি যে, পাঁচ সহস্র বছর আগে শ্রীল শুকদেব গোস্বামীও শ্রীমদ্ভাগবতে এই পন্থার কথাই প্রতিপাদিত করেছেন যে, ভগবানের পবিত্র নাম নিরন্তর কীর্তন করাই হচ্ছে প্রত্যেকের সফলতা লাভের নিঃশংসয় ও নির্ভীক পন্থা।
দেখুন, কেউ সকল প্রকার জড়জাগতিক বাসনা মুক্ত হোক, বা জড়জাগতিক উপভোগের বাসনা যুক্ত হোক অথবা আত্মতৃপ্ত যোগী হোক—তিনি ভক্ত হোক, বিষয়ী হোক, বা যোগী হোক—হরে কৃষ্ণ নাম-কীর্তনের পন্থা সকলের জন্যই নির্দেশিত। এর সর্বোচ্চ প্রভাব লাভ করতে এটি নির্দেশিত হয়েছে যে.., শ্রীমদ্ভাগবত আমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন যে—আমাদের সকল প্রকার অপরাধ এড়িয়ে চলা উচিত। আমরা ভগবানের প্রতি কোন অপরাধ করতে পারি, তবে হরে কৃষ্ণ নাম জপের মাধ্যমে আমরা এর জন্য ক্ষমা প্রাপ্ত হতে পারি। কিন্তু আমাদের “হরে কৃষ্ণ” নামের প্রতি কোন অপরাধ করা এড়িয়ে চলা উচিত। ঠিক যেমন, কখনো কখনো ডাক্তারেরা প্লেগ মহামারী এলাকায় যায়, তারা মহামারীর দ্বারা কষ্ট ভোগ করছে এমন ব্যক্তিদের সাহায্য করার চেষ্টা করে। এটি হচ্ছে তার সুস্থ হওয়ার শেষ আশা। তবে যদি কোন প্লেগ সংক্রমিত ব্যক্তি সেই ডাক্তারকেই হত্যা করার চেষ্টা করে, তাহলে তার পরিত্রাণের আর কি আশা আছে? এটি হচ্ছে একটি ধরন, যাকে বলা হয়—“যেই হাত অন্ন যোগায়, সেই হাতেই দংশন করা।”
কেবল মানুষের ক্ষেত্রে, বলা হয়েছে যে এমনকি তাকে সমস্ত ভালো নির্দেশ দেওয়ার পর তবুও একজন ঈর্ষাপরায়ন ব্যক্তি পশুর থেকেও অধম, কারণ তাকে পরিবর্তন করতে পারা খুবই কঠিন। ঈর্ষা এক খুবই ভয়ংকর বিষয়। এটি খুবই বিপদসংকুল বিষয়। বিশেষত, যদি আমরা পবিত্র নাম এবং ভক্তদের প্রতি অপরাধ করি, যারা পবিত্র নাম প্রচার করছেন, অথবা এই দশবিধ নাম অপরাধের মধ্যে থাকা কোন অপরাধ করি, তাহলে আমাদের পরিত্রাণের কি আশা আছে? এজন্যেই যদিও এই পন্থাটি সকলের জন্যই নির্দেশিত, তবে একই সাথে কোন অপরাধ ছাড়া পবিত্র নাম জপ করাও এমনকি খুবই কঠিন। পবিত্র নাম জপ করা হচ্ছে সহজতম পন্থা, আবার একই সাথে যেহেতু কলিযুগে মানুষেরা এত পতিত, তাই কোন অপরাধ ছাড়া হরিনাম করতে পারা তাদের পক্ষে খুবই কঠিন। সেজন্য শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এত কৃপাপূর্বক অবতীর্ণ হয়েছিলেন, তাঁর কৃপায় ব্যক্তি কোন অপরাধ ছাড়াই ভগবানের পবিত্র নাম জপ করতে পারেন, হরে কৃষ্ণ নাম জপ করার পূর্বে এই নাম উচ্চারণ করার মাধ্যমে —
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু-নিত্যানন্দ শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ॥
তিনি এতই করুণাময় যে তিনি যে কোন অপরাধের প্রভাবকে কম করে দেন। তিনি তাঁর কৃপার মাধ্যমে কলি যুগের মানুষদের দ্বারা অপরাধমুক্তভাবে পবিত্র নাম জপ করাকে সম্ভবপর করে তুলছেন। অতএব, বাস্তবিকভাবে বলতে গেলে, যদিও এই নাম জপের পন্থা বিভিন্ন যুগে নির্দেশিত হয়েছে, কিন্তু এই যুগের মানুষদের শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা ব্যতীত হরে কৃষ্ণ নাম জপ করা সম্ভব নয়। এমনকি যদি তারা নাম জপ করে, তবুও তাদের কৃষ্ণের কাছে পৌঁছাতে সহস্র জন্ম লেগে যাবে, যদি তারা অপরাধ করতে থাকে। যদি অপরাধ মুক্তভাবে নাম জপ কারা যেতে পারে, তাহলে তৎক্ষণাৎ আপনি কৃষ্ণের কাছে পৌঁছাতে পারবেন, এমনকি ১ বার হরে কৃষ্ণ উচ্চারণের মাধ্যমে তা সম্ভব, যদি আপনি অপরাধ মুক্তভাবে তা উচ্চারণ করেন। কিন্তু আমাদের স্বভাব এত অপরাধজনক যে আমাদের মধ্যে বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই তা করা খুবই কঠিন। সেজন্য আমরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা গ্রহন করি এবং তাঁর কৃপা দ্বারা তা সম্ভব, যেহেতু তাঁর ভাব এতই কৃপাময় যে তিনি কোন অপরাধ গ্রহণ করেন না। এই কারণে শ্রীল প্রভুপাদ এমনকি আফ্রিকাতেও এই পন্থা অবলম্বন করতে নির্দেশ করেছেন, যেখানে মানুষেরা কত অপরাধ করছে—তারা গাভীর রক্ত দুগ্ধের সাথে পান করে—পুরোপুরি উন্মাদগ্রস্ত কার্যকলাপ। তিনি ব্রহ্মানন্দ স্বামীকে বলেছিলেন যে, “এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে তারা যেন হরে কৃষ্ণ নাম করার থেকেও শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য নাম উচ্চারণ করে।” কারণ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপার ফলে তারা এই সমস্ত অপরাধ থেকে মুক্ত হতে পারবে।
একবার আপনি হরেকৃষ্ণ নাম করলে, যদি আপনি অপরাধ করতে থাকেন, তাহলে নির্দিষ্টভাবেই এর প্রভাব নিষ্ক্রিয় হয়, আপনি তখন সম্পূর্ণ প্রভাব পেতে পারবেন না। সেই জন্যই সকলের চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা গ্রহণ করা প্রয়োজন, এটি কোন মিথ্যা সম্প্রদায় নয় যে এমন চিন্তাধারা পোষণ করা হবে যে, “যেহেতু চৈতন্য মহাপ্রভু এত কৃপালু..।” ঠিক যেমন খ্রিস্টানরা, তারা বলে—“যেহেতু যীশু খ্রিস্ট আমাদের জন্য প্রাণ ত্যাগ করেছেন, তাই আমরা অপরাধ করে যেতে পারি। খ্রিস্টান ধর্ম তত্ত্বে তারা বলে যে, আমরা এতই অধঃপতিত যে আমরা কখনই শুদ্ধ হতে পারব না। তাই যতটা সম্ভব ভালো হওয়ার চেষ্টা করুন এবং এক জড়জাগতিক জীবন যাপন করুন ও যীশু খ্রিষ্টকে স্মরণ করুন, তাহলে সেটাই যথেষ্ট।” এটি হচ্ছে সবথেকে খারাপ নির্দেশ! এটি হচ্ছে এক প্রকার দায়িত্ব বিমূখতা যে তারা এমনকি শুদ্ধ হওয়ার চেষ্টা পর্যন্ত করে না। মূল বিষয় হচ্ছে ব্যক্তিকে আন্তরিক হতে হবে। তাদের সেই স্তরে উন্নীত হওয়ার প্রচেষ্টা করা উচিত। কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এত কৃপালু যে এমনকি আপনি যদি সেই স্তরে নাও আসেন, তবুও আপনার ইচ্ছার কারণে তিনি আপনার সেবা গ্রহণ করেন।
এমন নয় যে আপনার মধ্যে কোন বাসনা নেই, আপনি শুধু চৈতন্য মহাপ্রভুর এবং কৃষ্ণের নাম করছেন, যদি আপনার কৃষ্ণের কাছে পৌঁছানোর কোন ইচ্ছা না থাকে তবুও আপনি তাঁর কাছেই যাবেন। আপনার কৃষ্ণের কাছে পৌঁছাতে বিলম্ব হবে, এতে বিলম্ব হবে, কিন্তু যদি আপনার এই ইচ্ছা থাকে, তাহলে এমনকি যদি আপনি অধঃপতিত হন, এমনকি যদি আপনি অযোগ্য হন, এমনকি যদি আপনি অনেক অপরাধ করে থাকেন, তবুও আপনার ইচ্ছা রয়েছে এবং আপনি প্রচেষ্টা করছেন, তাহলে এমনকি যদিও আপনি তা লাভ করতে সক্ষম নন, আপনি প্রচেষ্টা করছেন ও আপনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নাম, শ্রীকৃষ্ণের নাম জপ করছেন, আপনি প্রচেষ্টা করছেন কিন্তু সেই মানদণ্ডে উন্নীত হননি, তাহলে কৃষ্ণ নামের ক্ষেত্রে যতক্ষণ না আপনি সেই শুদ্ধ স্তরে উন্নীত হচ্ছেন, ততক্ষণ আপনি কোন সুকৃতি লাভ করবেন না, কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ক্ষেত্রে, যদি আপনি প্রচেষ্টা করেন এবং এমনকি যদি আপনি শুদ্ধ না হন, তবুও আপনি কৃপা লাভ করবেন, কেবল আপনার প্রচেষ্টার কারণে, আপনার যথাসাধ্য চেষ্টার কারণে। অবশ্য জড়বাদীরা যা চায় তার থেকে এটি কম ক্ষতিকর যে—“কোন প্রচেষ্টা ছাড়াই আমরা লাভ করতে পারব।” বাস্তবিকভাবে তা কোন প্রচেষ্টা ছাড়াই হচ্ছে, কারণ সেই চেষ্টার মাত্রা খুবই স্বল্প, কিন্তু তবুও কিছু না কিছু প্রচেষ্টা থাকতে হবে।
অবশ্য, অন্য বিষয়টি হচ্ছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং শ্রীল প্রভুপাদ এই কৃষ্ণভাবনামৃতকে জগতের কাছে এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন, তবে বাস্তবিকভাবে বলতে গেলে এটি হচ্ছে যেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেক্ষেত্রে আপনাকে খুব কঠিন কোনকিছু ইচ্ছা করতে হবে না। অন্তত যদি আপনি হরে কৃষ্ণ নাম জপ করেন, কৃষ্ণ প্রসাদ গ্রহণ করেন, ভক্ত সঙ্গ করেন, তাহলে এইভাবে কেবল সঙ্গ লাভের মাধ্যমে, প্রত্যেকদিন ভাগবত শ্রবণের মাধ্যমে—“নিত্যম ভাগবতম্ সেবয়া”—স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ব্যক্তির চেতনা শুদ্ধ হবে।
দুটি পদ্ধতি আছে—একটিকে বলা হয় পঞ্চরাত্রিকি বিধি এবং অন্যটিকে বলা হয় ভাগবত বিধি। ভাগবত বিধির অর্থ হচ্ছে প্রতিদিন ভগবানের পবিত্র নাম জপ করা, ভাগবত শ্রবণ করা। পঞ্চরাত্রিকি বিধির অর্থ হচ্ছে মঙ্গল আরতি, পূজা, ইত্যাদি করা। ব্যক্তিকে যেকোনো একটি অথবা উভয়ই সম্পাদন করতে হবে। এটি নির্দেশিত হয়েছে যে উভয় সেবা সম্পাদন করা হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ: সাধারণ পঞ্চরাত্রিকি বিধি ও সাধারণ ভাগবত বিধি অনুশীলন করা। কিন্তু যদি আপনি কোনটাই না করতে পারেন, তাহলে কোথায় আপনার আধ্যাত্মিক জীবন? যদি উভয় পন্থা অনুশীলন না করতে পারেন, তাহলে অন্তত একটি অনুশীলন করতে হবে। এই যুগে কেবল পঞ্চরাত্রিকি বিধি কাউকে পবিত্র করার ক্ষেত্রে তত শক্তিশালী নয়। হরে কৃষ্ণ নাম জপ এবং ভাগবত শ্রবণ ছাড়া, কেবল শ্রীবিগ্রহ অর্চন করলে তা শুদ্ধিকরণের ক্ষেত্রে খুবই ধীর পদ্ধতি, কারণ এতে অপরাধ হয়। নাম জপের মাধ্যমে অন্যান্য যেকোন অপরাধ থেকে খুব সহজেই মুক্তি পাওয়া যেতে পারে এবং আমরা শ্রীবিগ্রহ অর্চনের ক্ষেত্রে অপরাধ করতে বাধ্য। কেউ একজন বলেছিলেন, “আমরা কেন কেবল নাম জপ ও ভাগবত শ্রবণ করি না? কেন অর্চন করতে হবে?” বিষয়টি হচ্ছে এমন যে প্রকৃতিগতভাবে আমরা বিভিন্নভাবে নির্বিশেষবাদী ও জড়বিষয়ী। সেজন্য এটি হচ্ছে আমাদেরকে প্রশিক্ষিত করার জন্য, যেমনটি এখানে শেষে বলা হয়েছে —“আমি এই শরীর। আমি সবকিছুর মালিক, আমি হচ্ছি অধিপতি।”—এই মিথ্যা অহংকার থেকে মুক্তির জন্য কৃষ্ণের শ্রীবিগ্রহের সামনে মাথা নত করা, শ্রীকৃষ্ণের আরতী দর্শন করা, নিয়মনিষ্ঠভাবে শ্রীকৃষ্ণের পূজা করা আমাদের জন্য খুবই হিতকর। এটি আমাদের মনকে প্রতিদিন এক নির্দিষ্ট সময়ে শ্রীবগ্রহ অর্চনে প্রশিক্ষিত করে, কারণ সব সময় আমাদের মনের ধর্ম হচ্ছে একটু বেশি স্বাধীনতা পেলেই, সে আমাদেরকে ইন্দ্রিয়তৃপ্তির দিকে টেনে নিয়ে যাবে।
তাই, যদি আমরা ইতিমধ্যেই সেই স্তরে থাকি যে আমাদের নাম জপের প্রতি ও শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণের প্রতি রুচি আছে, তাহলে কেবল শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণের মাধ্যমে এবং নাম জপ করার মাধ্যমে আমাদের মন আধ্যাত্মিকভাবে কৃষ্ণভাবনামৃতে সম্পূর্ণরূপে নিমগ্ন হবে। যদি এটিই যথেষ্ট হয়, তাহলে আমরা এমনকি নিয়মনিষ্ঠভাবে অর্চনসেবায় মগ্ন নাও হতে পারি। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে যেহেতু আমাদের শ্রবণ-কীর্তনের প্রতি সেই পূর্ণমাত্রায় স্বতঃস্ফূর্ত আকর্ষণ নেই, সেজন্য নিয়মনিষ্টভাবে অর্চন পদ্ধতি অনুশীলন করা খুবই লাভপ্রদ এবং এমনকি উন্নত ভক্তরাও দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য নিয়মনিষ্ঠভাবে অর্চন অনুশীলন করেন, কিন্তু এমন নয় যে এই সেবা পদ্ধতি দিব্য কল্যাণকর বা আস্বাদনীয় নয়। এক্ষেত্রেও দিব্য অনুগ্রহ আছে, তবে একজন উন্নত ভক্ত তা কেবল অর্চন পদ্ধতির ক্ষেত্রেই উপলব্ধি করেন না, তিনি তার আধ্যাত্মিক গুরুর প্রতি নিবেদিত সকল সেবার ক্ষেত্রেই তা অনুভব করেন। তাই এটি গুরুত্বপূর্ণ যে আমাদের যাতে প্রতিদিন শ্রীবিগ্রহ অর্চন, হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করার নিয়ম থাকে এবং নাম জপ ছাড়া কেবল শ্রীবিগ্রহ অর্চন করলে, তা সফল হবে না, কারণ আমরা অপরাধ করি। তাই, বিশেষত আমাদের সবকিছুকে অব্যর্থভাবে প্রতিদিন গীতা-ভাগবত শ্রবণ ও হরে কৃষ্ণ নাম জপের মধ্যে কেন্দ্রীভূত রাখা উচিত।
যখন শ্রীল প্রভুপাদ আমেরিকাতে এসেছিলেন, তিনি প্রতিদিন ভাগবত পাঠ, গীতা পাঠ দিতেন। প্রতিদিন না হলে, অন্তত তিনি সপ্তাহে তিন দিন প্রবচন দিতেন এবং ভক্তরা বলতেন, তারা সেই সময় ছিলেন কর্মী। তারা জানলা দিয়ে দেখেছিলেন যে, শ্রীল প্রভুপাদ একা বসে ভাগবত পাঠ বা গীতা প্রবচন দিচ্ছেন। তারা দেখছিলেন যে ঘরের ভিতর কেউ নেই, কেবল শ্রীল প্রভুপাদ আছেন। তারা কাউকে দেখতে পাচ্ছিলেন না, কিন্তু তিনি প্রবচন দিচ্ছেন, তিনি কথা বলছেন। তিনি এমন করে উচ্চস্বরে বলছেন যেন পুরো ঘর লোকে ভর্তি এবং তারা দেখছিলেন, “এটা কি হচ্ছে?” তখন তারা এর প্রতি আকৃষ্ট হন, তারপর তারা আসেন এবং বসেন। তাই যদি শ্রীল প্রভুপাদ এমন ভাবতেন যে—“আজকে কেউ নেই, তাই আজ রাত্রিতে পাঠ হবে না।” তাহলে কারা আসত? তারা কেউ আসুক বা না আসুক, তবুও তিনি প্রবচন দিতেন এবং ধীরে ধীরে মানুষেরা সেখানে আসতে শুরু করেন, এর বিজ্ঞাপন হয়, তারপর তারা সেখানে আসতে শুরু করেন। তারা কেবল তাঁর সঙ্গ লাভের মাধ্যমে, কৃষ্ণপ্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে, পাঠ শ্রবণের মাধ্যমে এটি উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে তারা এই দেহ নয়।
আজকাল বিশ্বের যেকোন স্থানে শুদ্ধ কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করা বাস্তবে অসম্ভব, যদি আপনি যুক্তিগতভাবে তা দেখেন, কারণ এই জগতে প্রত্যেকেই হয় খ্রিস্টান, মুসলিম বা হিন্দু, যারা কোন এক সম্প্রদায়ে বিশ্বাসী অথবা বৌদ্ধ, নাস্তিক বা সাম্যবাদী, এমন কেউ। বাস্তবে বলতে গেলে আপনারা যুক্তিগতভাবে এটি ভেবে দেখতে পারেন যে কিভাবে এমন কোন জায়গায় কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করা সম্ভব? কিভাবে প্রভুপাদ পাশ্চাত্যে গিয়েছিলেন? যুক্তিগতভাবে, তথাকথিত ভারতীয় মহান গরুবর্গ শ্রীল প্রভুপাদকে বলেছিলেন যে, “আপনি পাশ্চাত্যবাসীদের কাছে এবং বিশ্বের অন্যান্য ব্যক্তিদের কাছে ভগবত চেতনা প্রচারের চেষ্টার মাধ্যমে নিজের সময় নষ্ট করছেন, আপনি সেখানে প্রচার করতে পারবেন না যেহেতু তাদের কাছে তাদের নিজস্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি আছে।” কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ যখন পাশ্চাত্যে এসেছিলেন, তখন প্রথম তিনি যা করেছিলেন, তা হচ্ছে তিনি মানুষদের বলেছিলেন, “তোমরা এই শরীর নও!” যখন তারা এটি বুঝতে পারবে যে তারা এই শরীর নয়, তারা আমেরিকার নয়, তারা জার্মান নয়, তারা ইংলিশম্যান নয়, তারা জাপানি বা চীনা বা থাইল্যান্ডবাসী নয়, যখনই তাদের এই সাধারণ ধারণা হবে যে তারা কত কত জন্ম লাভ করেছে এবং যেহেতু তারা এই নির্দিষ্ট দেশে জন্ম নিয়েছে, তাই কেন তাদের এই নির্দিষ্ট সংস্কৃতি দ্বারা নিজেদের শনাক্ত করা উচিত? যে সংস্কৃতিতে একজন জন্ম নেয়, তার সঙ্গে একাত্ম হওয়ার ততটাই কম মূল্য আছে, যতটা আগের জন্মে অন্য কোনো সংস্কৃতিতে জন্ম নেওয়ার সঙ্গে একাত্ম হওয়ার মূল্য কম ছিল। এর ফলে তখন তারা বিষয়টিকে আরো অধিক বিস্তীর্ণভাবে দর্শন করতে শুরু করে, এবং এর পরবর্তী ধাপ হচ্ছে তাদেরকে—এই মহাবিশ্ব কি, তারা কে, সেই সম্বন্ধীয় বাস্তবিক ধারণা প্রদান করা।
মূলত এখানে থাইল্যান্ডের মানুষেরা নামেই বৌদ্ধ, কিন্তু বাস্তবে অন্যান্য যে কোন জায়গার মতো এখানেও মানুষেরা তাদের সাধারণ জড়জাগতিক কার্যকলাপে নিমগ্ন। তারা তত বেশি তত্ত্ব জানেনা। তারা এই সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানে না যে তাদের জীবনের উদ্দেশ্য কি। কোন কোন ব্যক্তি হয়ত জগতের অনিত্য প্রকৃতি সম্বন্ধে কিছু জানতে পারে, কারণ সেখানে অনেক সাধু রয়েছে, কিন্তু তারা কতটা জানে তা বলা কঠিন, তাদের মধ্যে কতজন আসলেই জগতের অনিত্য প্রকৃতির উপর বিশ্বাস করে এবং এর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে?
শ্রীমদ্ভাগবতে একটি তাৎপর্যতে আপনারা দেখতে পারবেন যে শ্রীল প্রভুপাদ বর্ণনা করছেন… আমি কিছু মাস পূর্বে পড়ছিলাম, আমরা এমন তাৎপর্য পড়ছিলাম...আমার মনে হয় এটি দ্বিতীয় স্কন্ধতে আছে, ও হয়ত এটি অন্য কোন স্কন্ধতেও আছে, এতে মহৎতত্ত্ব সম্বন্ধে ব্যাখ্যা আছে যে কিভাবে কেউ এই মহৎতত্ত্বকে উপলব্ধি করতে পারবে? হয়ত এটি সেই প্রসঙ্গে আছে যখন পৃ্থু মহারাজ তার দৈহিক অবনমনের মাধ্যমে মহৎতত্ত্ব উপলব্ধি করেছিলেন, তাৎপর্যটি হয়ত সেখানে আছে অথবা আমার মনে হয় দ্বিতীয় স্কন্ধে এই বর্ণনা আছে যে, কিভাবে যখন আপনি আপনার জড়জাগতিক অহংকার ত্যাগ করেন, তখন সবকিছু শেষ, পূর্বে জড় অহংকারের কারণে আপনি জড়শক্তি: প্রধান, মহৎতত্ত্ব দ্বারা সনাক্ত করছিলেন। এটাই হচ্ছে নির্বাণের বৈশিষ্ট্য, দেখুন এটি হচ্ছে জাগতিক নির্বাণ। সেখান থেকে আপনি বিরজা পার করে তারপর ব্রহ্মজ্যোতিতে প্রবেশ করতে পারেন, তখন আপনি জড়জাগতিক অহংকার থেকে মুক্ত এবং আপনি আপনার আধ্যাত্মিক পরিচয় লাভ করেন। তবে কেবল যারা পরম পুরুষোত্তম ভগবান সম্বন্ধে, আধ্যাত্মিক জগত সম্বন্ধে অবগত, তারাই আধ্যাত্মিক জগতে যেতে পারেন।
শ্রীল প্রভুপাদ জাপান এবং অন্যান্য স্থানের প্রচারকদের উপদেশ দিয়েছিলেন যে, “একমাত্র উপায় যার দ্বারা তোমরা নির্বিশেষবাদের উর্ধ্বে উঠতে পারবে, তা হচ্ছে—যখন মানুষদের আধ্যাত্মিক জগতের দিব্য রস সম্বন্ধে অনুধাবন করানো যাবে। যখন তারা এটি বুঝতে পারবে যে আধ্যাত্মিক গুণযুক্ত দিব্য রস বর্তমান। তখন তারা এই নির্বিশেষবাদের ঊর্ধ্বে উন্নত হতে পারবে। যতক্ষণ না তারা এই দিব্য সঙ্গের আধ্যাত্মিক প্রকৃতি সম্বন্ধে উপলব্ধি করতে পারছে, ততক্ষণ তারা এই নির্বিশেষবাদের উর্ধ্বে উঠতে পারবে না।” কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এত কৃপালু যে, যদি কেউ কেবল “শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য”, “হরে কৃষ্ণ” নাম জপ করে, কৃষ্ণ প্রসাদ গ্রহণ করে, তাহলে এমনকি তাদের জানার পূর্বেই তারা ইতিমধ্যেই আধ্যাত্মিক আনন্দ অনুভব করেন, যা তাদেরকে ইতিমধ্যেই এক দৃঢ় অবস্থান প্রদান করে। আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত আধ্যাত্মিক রস সম্বন্ধে কথা বলে যেতে পারেন যতক্ষণ না আপনর মুখ নীল(ব্যাথা) হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু যদি কেউ সামান্যতম আধ্যাত্মিক আনন্দ, এমনকি এক বিন্দু অনুভব করেন, তাহলে তা এতকিছু আলোচনার থেকে অনেক বেশি মূল্যবান।
আমাদের কেবল সেইসব ব্যক্তির কাছে যেতে হবে, যারা শ্রবণ করার প্রতি উন্মুক্ত মনোভাব যুক্ত, “আসুন! ভাগবত শ্রবণ করুন, হরে কৃষ্ণ নাম জপ করুন, কৃষ্ণ প্রসাদ গ্রহণ করুন।” খুব কঠোর হতে হবে না অত্যন্ত নমনীয়ভাবে, কেবল সঙ্গ প্রদানের মাধ্যমে, প্রচারের মাধ্যমে, প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে, এইভাবে ভক্তদের খুব বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের দ্বারা ধীরে ধীরে তারা আরো উন্মুক্ত মনোভাবযুক্ত হতে পারবে এবং ভক্তিমূলক সেবায় দিব্য আনন্দ বা রস আস্বাদন করতে পারবে এবং যখন তারা তা আস্বাদন করবে, তখন তারা এটিকে উপলব্ধি করতে পারবে। ঠিক যেমন শ্রীল শুকদেব গোস্বামী ব্রহ্ম-উপলব্ধ ছিলেন, কিন্তু যখন তিনি শ্রীকৃষ্ণের বিষয়ে শ্রবণ করতে শুরু করলেন, তখন তিনি সবকিছু বিস্মৃত হয়েছিলেন এবং একজন কৃষ্ণ ভক্ত হয়েছিলেন। এই জগতে মানুষদের কি সুখ আছে? প্রত্যেকেই সুখ চায়। যখন তারা এমনকি নিতাই গৌরের কৃপায় এক বিন্দু আনন্দ আস্বাদন করে, তখন তারা কি ছিল, তারা কি চিন্তা করত, তারা সেইসব কিছু ভুলে যায়। তারা কেবল সামান্য মাত্রায় কৃষ্ণভাবনামৃত আস্বাদনের জন্য আমাদের সকলের মত উন্মত্ত হয়ে যায়। তাই এটাই হচ্ছে মুখ্য বিষয় যে আমাদেরকে কার্যক্রম করতে হবে এবং মনে হচ্ছে এখন তা কৃষ্ণই আমাদেরকে প্রদান করছেন যে মানুষেরা প্রত্যেকদিন আসবেন, কৃষ্ণ সম্বন্ধীয় কথা শ্রবণ করবেন, কৃষ্ণপ্রসাদ গ্রহণ করবেন, হরে কৃষ্ণ নাম জপ করবেন, সেটি আমরা মানুষদের যেখানে নিমন্ত্রণ করেছি সেখানে হবে—যেমন ইংরেজি ক্লাস হোক, জার্মান ক্লাস হোক বা যোগ ক্লাস হোক বা আমাদের প্রতিদিনের কার্যক্রম হোক। শ্রীল রামেশ্বর স্বামী এটিতে উৎসাহ দিচ্ছেন যে তারা ইতিমধ্যেই হংকং-এ নিমন্ত্রণপত্র ছাপিয়েছেন, যা হচ্ছে রবিবারের প্রীতিভোজের জন্য। তারা এখনো জাপানে এটি একত্রিতভাবে করতে সক্ষম হয়নি, কিন্তু মানুষেরা আসছে, গ্রন্থবিতরণ করছে, এবং অন্যান্যভাবেও মানুষেরা আসছে, কিন্তু মানুষেরা যদি কেবল এখানে আসে, তাহলে সেটা হচ্ছে সমগ্র বিশ্বের মতো সাধারণ বিষয় যে তারা আসছে, প্রসাদ গ্রহণ করছে ও হরি কথা শ্রবণ করছে। তাদের যেন আরো বেশি বন্ধু হয়, ও তারপর একবার তারা… প্রথমত আমাদের গ্রন্থ দরকার, ভক্ত দরকার, তারপর আপনারা অন্যান্য কার্যক্রম বিকশিত করতে পারেন।
আমি নিশ্চিত যে ভবিষ্যতে আমরা দেখব, আসলে ব্যাংককের বাইরের প্রচার বড় সাফল্য লাভ করেছে। মানুষেরা কেবল কৃষ্ণভাবনাময় সিনেমা দেখেই অত্যন্ত আকৃষ্ট হবে, আর যদি আপনাদের থাইল্যান্ডে এরকম ধরনের কোন গান থাকে এবং তারা কিছু প্রসাদ গ্রহণ করে তাহলেও এটি সফল হবে, এমনকি আমাদের খুবই সরল কিছু জিনিসও থাকতে হবে। এমনকি বৌদ্ধ তত্ত্ব… আমি বুদ্ধদেবের জীবনী শোনার পর জড়জাগতিক জীবনের প্রতি সম্পূর্ণ নিরাশক্ত হয়ে পড়েছিলাম। প্রথমবার আমি যখন তা শুনেছিলাম, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করার সমস্ত বাসনা সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি জড়জাগতিক জীবনের সব ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেছিলাম। যখন আমি বুদ্ধদেবের জীবনী শুনি, তখন তৎক্ষণাৎ আমি এটি অনুসন্ধান করতে চাইছিলাম যে জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কি। আমি যা কিছু করছিলাম, সেইসবের প্রতি আমি আমার রুচি সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে ফেলি। এমন নয় যে সেটিই কেবল আমাকে আধ্যাত্মিকতার প্রতি রুচি প্রদান করেছিল, তবে অন্তত এটি আমাকে জাগতিক বিষয়ের প্রতি সম্পূর্ণরূপে বিরক্ত করে দিয়েছিল যে আমি যা কিছু করছি তা ছিল পুরোপুরি ব্যর্থ কারণ ঠিক বুদ্ধের মতই সকলেই বার্ধক্য প্রাপ্ত হয়, তাই আমরাও মৃত্যুবরণ করতে চলেছি ও আবার জন্মগ্রহণ করতে হবে। সেই জন্য এই সবকিছুই হচ্ছে সময়ের অপচয় মাত্র। অবশ্য যতক্ষণ না আমি শ্রীল প্রভুপাদকে পেয়েছিলাম, ততক্ষণ আমি কোন শান্তি পাইনি। অনেক কিছু বুদ্ধদেব শিক্ষা দিয়েছিলেন, অন্তত আমাকে বিরক্তির পর্যায়ে উন্নীত করেছিলেন, সেই জন্য এই সমস্ত বিষয় মানুষের কাছে প্রচার করায় কোন ক্ষতি নেই, তবে আমাদেরকে খুবই সতর্ক হতে হবে, কারণ ঠিক যেমন শ্রীল প্রভুপাদ আমাদেরকে বাইবেল প্রচার করা এড়িয়ে চলতে বলেছেন, কারণ তখন মানুষ বাইবেল থেকে উদ্ধৃতি করে বলবে যে—“ঠিক আছে কৃষ্ণ এটি বলেছেন, কিন্তু যীশু এটি বলেননি। তিনি এটি বলেননি! তিনি সেটি বলেননি!” তখন বাইবেল সম্বন্ধে পুরো তর্ক-বিতর্ক সৃষ্টি হবে। সেই জন্য তিনি বলেছিলেন, এমনকি বাইবেল-এর কথা না বলা ভালো।
তাই আমাদেরকে এটি দেখতে হবে… আমি ঠিক জানিনা বুদ্ধদেবের শিক্ষাও কতটা আমাদেরকে এই ধরনের কোন সমস্যার মধ্যে ফেলতে পারে, তবে যদিও যতদূর আমি বুঝি যে তিনি সত্যি পুরোপুরি এটি অস্বীকার করেননি। তিনি এটি বলেননি যে ভগবান নেই, তিনি বলেননি যে এমন কেউ নেই, তিনি বলেছেন—“এই রকম কোন কিছু জিজ্ঞেস করবে না। যখন তুমি সেই স্তরে উন্নীত হবে, তখন তুমি নিজেই তা বুঝতে পারবে।” তিনি পুনর্জন্মের কথা বলেননি, তিনি কর্মের কথা বলেছেন। তিনি আমরা যা কিছু বলি, সেই সবকিছুই বলেছেন, শুধু এটি ছাড়া যে যখন পরমেশ্বর ভগবান বা আধ্যাত্মিক জগত সম্বন্ধে প্রশ্ন উঠেছে, তখন তিনি বলেছেন—তোমরা কেন এখন জিজ্ঞেস করছ? তোমরা এখনও সেই স্তরে পৌঁছাওনি। প্রথমে সেই স্তরে উন্নীত হও, তারপর এই বিষয়ে চিন্তা কর। এমন মূর্খতাপূর্ণ প্রশ্ন করবে না। তোমরা এমনকি প্রাথমিক স্তর সম্পর্কেও জানো না, আর তোমরা দশম স্তর সম্বন্ধে কথা প্রশ্ন করছ? তিনি এইরকম কিছু বলেছিলেন ও এইভাবে তিনি তাদেরকে চুপ করিয়ে দিয়েছিলেন।
মূল বিষয় হচ্ছে আমরা খ্রিস্টানদের প্রচার করলে, তারা সবসময় তর্ক করে, “পুনর্জন্মের বিষয়ে কি বলবেন? এটা কি? সেটা কি…” তারা কর্মে বিশ্বাস করে না, তারা পুনর্জন্মে বিশ্বাস করে না। তারা বলবে, “বাইবেল-এ এরকম বলা নেই।” তখন আমরা কিছু উদ্ধৃতি দেই। আবার তারা পুনরায় কিছু উদ্ধৃতি বলে। তখন তা এক খুবই খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করে। কিন্তু এক্ষেত্রে আমি এমন কোন বাধা দেখতে পারছি না, কারণ বৌদ্ধ তত্ত্ব সম্বন্ধীয় শিক্ষাও কিছুমাত্রায় আমাদের শিক্ষার সাথে একই রকম। তারা কেবল নির্বিশেষ উপলব্ধিতেই থেমে যায় এবং আমরা আরও অগ্রসর হয়ে বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করি যাতে তারা ক্ষুব্ধ না হয়। তবে তারা অন্তত এর সাথে মিল খুঁজে পাবে, আর যাই হোক না কেন, কোন না কোনভাবে এত খ্রিস্টানরা সেখানে আছে, অন্যান্য বিভিন্ন দল সেখানে আছে, তাই সরকারী সহায়তায় এই প্রচারকার্য শুরু করা যাক।
বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকায় আমরা একটি সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছি। রোমান ক্যাথলিকরা আমাদের বিরুদ্ধাচারণ করছিল যে, “তোমরা হচ্ছ একটি সংস্থা কিন্তু তোমরা কোন ধার্মিক কার্যকলাপ কর না। তোমরা এইসব করে বেড়াচ্ছ! তোমরা সেটা করছ।” আমাদের সরকারি তরফে কিছু বন্ধু আছে, তাই এখন আমরা সেখানে যা করেছি তা হচ্ছে—আমরা চার্চ হিসেবে পুনরায় নিবন্ধিত হয়েছি এবং সেখানে যেহেতু রোমান ক্যাথলিক চার্চ-এর সুরক্ষার আইন এত কড়া এবং এমন কোন সাম্প্রদায়িক আইন প্রণয়ন করা হয়নি যে সেই আইন শুধুমাত্র ক্যাথলিক চার্চ-এর জন্যই, তাই আমরা হরেকৃষ্ণ চার্চ হিসেবে সংস্থার নাম নথিভুক্ত করেছি এবং আমরাও ঠিক ক্যাথলিকদের মতই বিশাল সরকারি সাহায্য উপভোগ করি, আমরাও সেই সমস্ত লাভ পাই। এবং এর আগে তারা আমাদেরকে সতর্ক করেছিল, একজন ব্যক্তি এসে বলেছিল যে, “তারা এই সংস্থার বিরুদ্ধে কিছু করতে চলেছে।” তখন আমরা সবথেকে ভালো আইনজীবীকে এই কাজে নিযুক্ত করি এবং চার্চ হিসেবে নিবন্ধিত হই এবং এখন সবকিছু ঠিক আছে।
ঠিক যেমন বলিভিয়াতে আমাদের কিছু সমস্যা হয়েছিল, এইভাবে আমাদেরকে তখন নিজেদের আর্থিক অবস্থাও দেখতে হয়েছিল, আমাদেরকে নৈতিক বিষয়গুলিও দেখতে হয়েছিল যে— কিভাবে সংস্থাকে নথিভুক্ত করা যাবে, কিভাবে সবকিছু সঠিকভাবে করা যাবে, কিন্তু আমাদের মূল কার্যক্রম হচ্ছে এই নীতিগুলি যে— হরে কৃষ্ণ জপ করুন, প্রতিদিন শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণ করুন, কিছু কৃষ্ণ প্রসাদ গ্রহণ করুন, এইভাবে আমরা তাদেরকে দিয়ে কৃষ্ণের প্রতি মাথা নত করে প্রণাম করাতে পারব। যদি আমরা তাদেরকে অধিক থেকে অধিকতরভাবে কৃষ্ণভাবনামৃতের দ্বারা শনাক্ত করাতে পারি, তাহলে জড়জাগতিক বাসনা থাকুক বা তারা যোগী হোক বা বৈরাগী হোক, বৈরাগী যোগী হোক বা সাধু হোক, সেইসব ব্যক্তির আসক্তি থাকুক বা যাই হোক না কেন, যেমন আমাদের চীনের ব্যবসায়ী আছে, তারা ভক্ত হিসেবে কৃষ্ণ পূজা করতে আসলেই আকৃষ্ট হোক অথবা তারা যাই হোক না কেন, এই নাম জপের পন্থাটি সর্বজনীন —
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।
তাদেরকে এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে শ্রীল প্রভুপাদ আমাদেরকে এটি চালিয়ে যেতে সাহায্য করবেন। আমরা যত বেশি পতিত জীবাত্মাদের কাছে এই ঔষধ প্রকাশ করতে পারব, ততই আমরা তাদের উপর এর প্রভাব দেখতে পারব। যতক্ষণ না মানুষেরা প্রতিদিন ভাগবত শ্রবণ করছে, নাম জপ শ্রবণ করছে এবং কৃষ্ণ প্রসাদ গ্রহণ করছে, ততক্ষণ এর কোন প্রভাব হবে না। যখন এই ব্যবস্থা থাকবে, তখন প্রতিদিন মানুষ শ্রবণ করতে পারবে, নাম জপ করতে পারবে ও কৃষ্ণ প্রসাদ গ্রহণ করতে পারবে, এবং এমন অনুকূলভাবে ভক্তদের সঙ্গ করার মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই আপনারা এর প্রভাব দেখতে পারবেন। এটি এত শক্তিশালী যে এর আগে কলি টিকতে পারবে না। আপনাদের এই পন্থার প্রতি বিশ্বাস থাকতেই হবে যে কেবল নাম জপ, ভাগবত শ্রবণ এবং কৃষ্ণ নামের মাধ্যমেই সর্ব সফলতা লাভ হবে।
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন