নিম্নোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ১৬ অক্টোবর, ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ, মুরারি সেবক ফার্ম, মালবেরী, টেনেসিতে প্রদান করেছেন। এই প্রবচন শুরু হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতের ১০ম স্কন্ধ, ৯ম অধ্যায়, ৯ম শ্লোক পাঠের মাধ্যমে।
অনুবাদ: শ্রীকৃষ্ণ যখন তাঁর মাকে ছড়ি হাতে সেখানে উপস্থিত দেখলেন, তখন তিনি দ্রুতবেগে উদ্খলের উপর থেকে লাফ দিয়ে নেমে এসে পলায়ন করেছিলেন, যেন তিনি অত্যন্ত ভয়ভীত হয়েছেন। যাঁকে যোগীরা কঠোর তপস্যার বলে পরমাত্মারূপে তাঁর ধ্যান করার দ্বারা ব্রহ্মে লীন হওয়ার চেষ্টা করেও তাঁকে প্রাপ্ত হয় না, মা যশোদা সেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে তাঁর পুত্র বলে মনে করে তাঁকে ধরার জন্য তাঁর পিছনে ধাবিত হয়েছিলেন।
তাৎপর্য: যোগীরা শ্রীকৃষ্ণকে পরমাত্মারূপে ধরতে চায়, এবং কঠোর তপস্যার দ্বারা তাঁকে পাওয়ার চেষ্টা করেও তাঁরা সফল হয় না। কিন্তু এখানে আমরা দেখছি যে, মা যশোদা শ্রীকৃষ্ণকে ধরে ফেলবেন সেই ভয়ে শ্রীকৃষ্ণ ছুটে পালাচ্ছেন। এটি ভক্ত এবং যোগীর পার্থক্য নিরূপণ করে। যোগীরা শ্রীকৃষ্ণকে পায় না, কিন্তু মা যশোদার মতো শুদ্ধ ভক্তের কাছে শ্রীকৃষ্ণ ইতিমধ্যেই ধরা পড়ে গেছেন। এমন কি শ্রীকৃষ্ণ মা যশোদার হাতের ছড়ির ভয়ে ভীত হয়েছিলেন। সেই কথা কুন্তিদেবী তাঁর প্রার্থনায় উল্লেখ করেছেন — ভয়ভাবনয়া স্থিতস্য (শ্রীমদ্ভাগবত ১/৮/৩১)। শ্রীকৃষ্ণ মা যশোদার ভয়ে ভীত, আর যোগীরা শ্রীকৃষ্ণের ভয়ে ভীত। যোগীরা জ্ঞানযোগ এবং অন্যান্য যোগের পন্থার দ্বারা শ্রীকৃষ্ণকে প্রাপ্ত হতে চেষ্টা করে, কিন্তু তারা সফল হয় না। কিন্তু মা যশোদা যদিও ছিলেন একজন স্ত্রীলোক, তবুও শ্রীকৃষ্ণ তাঁর ভয়ে ভীত, যে কথা এই শ্লোকে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
ইতি শ্রীমদ্ভাগবতের ১০ম স্কন্ধ ৯ম অধ্যায় ৯ম শ্লোকের ‘মা যশোদার রজ্জুর দ্বারা শ্রীকৃষ্ণকে বন্ধন’ নামক অধ্যায়ের ভক্তিবেদান্ত তাৎপর্য সমাপ্ত। ওঁ তৎ সৎ!
জয়পতাকা স্বামী: এখানে আমরা দেখতে পারছি এই শ্লোকটিতে বর্ণনা করা হচ্ছে যে কিভাবে… কার্তিক মাস বা দামোদর ব্রতের লীলা প্রারম্ভ হচ্ছে। প্রতিবছর, পরবর্তী মাস নভেম্বরের দিকে আমরা দামোদর মাস উদ্যাপন করি। আমরা শ্রীকৃষ্ণকে দীপ নিবেদন করি, দামোদরাষ্টকম কীর্তন করি। দামোদর মানে যাঁর দামবন্ধন করা হয়েছিল। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেকে তাঁর ভক্তের দ্বারা বাঁধতে দিয়েছিলেন, নিজেকে তাঁর ভক্তের দ্বারা বন্ধনগ্রস্থ হতে দিয়েছিলেন। যারা শ্রীকৃষ্ণের প্রকৃত স্থিতি জানেন, যেমন মা কুন্তী জানতেন যে, কিভাবে শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ভগবান, যা কিছুর অস্তিত্ব আছে তিনি হচ্ছেন সেই সবের সৃষ্টিকর্তা, তিনি হচ্ছেন সর্বকারণের পরম কারণ। তারা দেখেছিলেন যে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর ভক্তদেরকে তাঁকে বাঁধতে দিয়েছেন, যিনি মনে করছিলেন যে তিনি হচ্ছেন তাঁর মা। অবশ্য, শ্রীকৃষ্ণের কোন মাতা বা পিতা নেই, কারণ তিনি হচ্ছেন সকলের উৎস, তিনি সদাসর্বদা বিরাজমান, তিনি হচ্ছেন আদিপুরুষ। তাই এটি এক অসাধারণ বিষয় যে কিভাবে শ্রীকৃষ্ণ নিজেকে তাঁর ভক্তদের দ্বারা বন্ধনগ্রস্ত হতে দিয়েছিলেন।
মহান মহান যোগীরা, সাধু পুরুষেরা কঠোর তপস্যা করেন, ব্রত অনুষ্ঠান করেন ও যোগের অন্যান্য পন্থা অবলম্বন করেন। তারা এমনকি শ্রীকৃষ্ণের নিকটবর্তীও হতে পারেন না, তাহলে তাঁকে ধরার আর কি কথা? এর পরিবর্তে তারা শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভীত থাকেন, আর এখানে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর মায়ের ভয়ে ভীত। এটি এক অদ্ভুত অসাধারণ লীলা যা শ্রীকৃষ্ণ প্রকাশ করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণের লীলা এত অসাধারণ ও প্রেমময় যে তাঁর দ্বারা কে আকৃষ্ট না হয়ে থাকতে পারে? শ্রীকৃষ্ণ তাঁর ভক্তদের প্রতি কত অনুকূল তা জেনে, কে এত মূর্খ যে যোগের অন্যান্য পন্থা অবলম্বন করতে চাইবে? কে এত মূর্খ যে এই সুযোগ হারাতে চাইবে? এই লীলাটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যারা ভক্তি পথে আছেন। আমাদের এই লীলা স্মরণ করা উচিত। মা যশোদা শ্রীকৃষ্ণকে ধরার জন্য অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন, কিন্তু তিনি শ্রীকৃষ্ণকে তত সহজে ধরতে পারেননি। তবে অবশেষে শ্রীকৃষ্ণ নিজেকে তাঁর দ্বারা বন্দী হতে দিয়েছিলেন। এইভাবে কখনও কখনও ভক্তদেরকে অসুবিধায় ফেলা হয়, কিন্তু তা তাদের শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করাকে অধিক আস্বাদনীয় করে তোলে। অবশ্য তা একজন ভক্তকে এই পর্যায়ে দৃঢ় করে তোলেন যে তিনি বোঝেন শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া আর কোন আশ্রয় নেই। কখনও কখনও এমনকি ভক্তিমূলক সেবার ক্ষেত্রে মানুষদের অনেক বুদ্ধিমত্তা থাকে, যেখানে তারা মনে করে যে তারা এমন কোন সেবা করতে পারে, তবে তা আসলে অকাম্য বা বিশেষত শ্রীকৃষ্ণের দ্বারা অনুমোদিত নয়। এর ফলস্বরূপ কখনও কখনও ভক্তরা তাদের নিজেদের অনুমোদিত পরিকল্পনার শিকার হয়ে পড়ে, যা শুদ্ধভাবে ভক্তিমূলক সেবার সাথে সংযুক্ত নয় বা সম্পূর্ণ অনুমোদিত নয়। ঠিক যেমন কখনও কখনও আমরা নিজেদের উপর এত দায়িত্বের বোঝা দেখি যা আমরা সৃষ্টি করেছি। মূলত আমরা আধ্যাত্মিক গুরুকে অনুসরণ করিনি, ও সেই জন্য সেটা ঠিক করতে হলে আমাদেরকে কঠোর শ্রম করতে হবে। তবে, আসলে কোনো না কোনোভাবে ভক্তিমূলক সেবায় স্থির থাকলে, এই অবস্থিতিতে স্থির থাকলে তা আসলে ভক্তকে পরিপক্ব ও পরিশুদ্ধ করে তোলে। কখনও কখনও তা শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছায় সংঘটিত হয়, অথবা হয়ত নিজের ভুলের ফলে হয়। হয়ত আরও অন্যান্য বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, কিন্তু চরমে যা কিছু ঘটে তা শ্রীকৃষ্ণের অনুমোদনে সংঘটিত হয়, তিনি এটি ঘটতে দেন। এমনকি যদিও সরাসরি তা হয়ত ওঁনার দ্বারা সম্পাদিত হচ্ছে না, কিন্তু সবসময় সবকিছু তাঁর অনুমোদনেই হয়। তিনি কোন ভক্তকে বিনষ্ট হতে দেন না বা তিনি কোন ভক্তকে দূরে চলে যেতে দেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত ভক্ত তাঁর কাছে আসতে চান। ভগবান প্রতিজ্ঞা করেছেন — ন মে ভক্ত প্রণশ্যতি (গীতা ৯.৩১) — আমার ভক্ত কখনও বিনষ্ট হন না।
ঠিক যেমন কখনও কখনও অভিভাবক শিশুকে নিয়ে তাকে উপরে আকাশে ছুড়ে দেয় এবং তারা উপরে উঠে যায় (হা করে শ্বাস গ্রহণ) এবং তারপর তিনি আবার তাকে ধরে ফেলেন, কখনও কখনও জলে তারা শিশুকে হাতের উপর রাখেন বা হাত ছেড়ে দেন, “বাবা!” (হাসি) এইভাবে তারা তাদেরকে অভিভাবকের প্রতি অধিক নির্ভরশীল হতে বাধ্য করে, কিন্তু আসলে একই সময় মা বা বাবা শিশুকে ধরেও থাকেন। কখনও কখনও এমন পরিস্থিতি হয় যে যেখানে মনে হয় কেন এত সমস্যা আছে, কিন্তু আসলে নিত্য জীবনের ক্ষেত্রে দেখতে গেলে এটি হচ্ছে কেবল এক ঝলক মাত্র। তবে এই মুহূর্তে এটাই হচ্ছে আমাদের জন্য একটি সুযোগ যে আমরা যাতে প্রকৃতই শ্রীকৃষ্ণের প্রতি নির্ভরশীল হতে পারি এবং এটি উপলব্ধি করতে পারি যে আসলে তিনিই হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি আমাদেরকে গড়ছেন বা ভগ্ন করছেন। তিনি হচ্ছেন একমাত্র জন যিনি আসলে চরম নিয়ন্তা। কারণ আমাদের প্রবণতা হচ্ছে কেবল নিজেদের জড়জাগতিক বুদ্ধিমত্তার উপর, কেবল নিজেদের জড়জাগতিক সক্ষমতার উপর, কেবল এত কিছু জড়জাগতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল হওয়ার। এমন নয় যে ভক্ত বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ করেন না। তিনি সব কিছু করেন কিন্তু সফলতা বা ব্যর্থতার ক্ষেত্রে তিনি মূলত শ্রীকৃষ্ণের উপর নির্ভরশীল হন। ঠিক যেমন শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর প্রার্থনা করেছেন —
মানস দেহ গেহ যো কিছু মোর
অর্পিলু তুয়া পদে নন্দকিশোর
জীবনে মরণে বিপদে সম্পদে
দায় মম গেলা তুয়া ও পদ বরণে
অথবা সফলতা হোক বা ব্যর্থতা, জীবন হোক বা মরণ, আমার যা আছে, আমি কেবল তা আপনার প্রতি নিবেদন করছি নন্দকিশোর। সবকিছু.. আমি কেবল আপনার সেবায় নিযুক্ত করতে চাই। তাই এইসব লীলা অনুধাবনের মাধ্যমে আসলে বোঝা যায় যে এমন কেউ নেই যিনি শ্রীকৃষ্ণের থেকে অধিক দয়ালু। তিনি এত কৃপালু যে এমনকি কখনও কখনও তাঁর ভক্ত সমস্যায় থাকেন বা সেবার ক্ষেত্রে কঠিনতার সম্মুখীন হন, কিন্তু সেটি হচ্ছে আসলে একটি সুযোগ শ্রীকৃষ্ণের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিকশিত করার ও অধিক অন্তরঙ্গভাবে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শরণাগত হওয়ার। এটি আমাদের উপর নির্ভর করে যে প্রত্যেক পরিস্থিতি আমাদের এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে যাতে শ্রীকৃষ্ণ স্মরণ হয়। ঠিক যেমন, আপনি একটি গাড়িতে আছেন এবং হঠাৎ… বলা যাক কোন ব্যক্তির গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেই মুহূর্তে এটা সেই ব্যক্তির উপর নির্ভর করে যে তিনি এই বলে চিৎকার করবেন, “ওহ!” অবাক হয়ে (হাসি) নাকি “হরে কৃষ্ণ” বলবেন। ঠিক তো, তুমি কি ভাবছ স্টিভ? এবং যদি আপনি ‘হরে কৃষ্ণ’ উচ্চারণ করেন, তাহলে শ্রীকৃষ্ণ আপনাকে আশ্রয় প্রদান করবেন। যদি আপনি তা না করেন এবং আপনি বেঁচে যান, তাহলে আপনি এই শিক্ষা পেলেন যে পরবর্তী সময়ে আপনাকে ‘হরে কৃষ্ণ’-ই উচ্চারণ করতে হবে। এটি আসলে আমার সাথে একবার হয়েছে, না অনেকবার হয়েছে যে, আমি আসলে গাড়ি দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি, কিন্তু কোন না কোনোভাবে শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় আমরা সবসময় ‘হরে কৃষ্ণ’-ই বলেছি এবং কোনো না কোনোভাবে এটা বুঝেছি যে এক চুলের জন্য আমরা সাংঘাতিক আঘাত থেকে বেঁচে ফিরেছি। অবশ্য তা হয়েছিল আমাদের নিজেদের অবহেলার কারণে যে আমরা ঘুমিয়ে পড়েছিলাম বা কখনও কখনও তা সম্পূর্ণরূপে আমাদের নিয়ন্ত্রণের ঊর্ধ্বে ছিল, কিন্তু তা ঘটার আগে এক পলকে সামান্য আভাস পেয়ে আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছাচ্ছে, বিপদ আসছে। সেই সময় আমরা বলেছিলাম, “কৃষ্ণ! কৃষ্ণ! কৃষ্ণ! কৃষ্ণ!” আমরা শ্রীকৃষ্ণের নাম উচ্চারণ করেছিলাম ও সবকিছু ঠিক হয়ে গিয়েছিল। আগে হোক বা পরে, আমাদেরকে শরীর ত্যাগ করতেই হবে, তাই কখনও কখনও এমন হয়ে থাকে এবং সেটাই শেষ মুহূর্ত হয়। আবার এমন অনেক মহড়া হয় এবং আমাদের সেবার ক্ষেত্রেও আমরা যত শ্রীকৃষ্ণের প্রতি নির্ভর করতে শিখব, ততই আমরা ভক্তিমূলক সেবায় স্থির হব।
কখনও কখনও অবশ্য একজন ভক্ত হয়ত চিন্তা করতে পারেন যে, “ভালো হত যদি আমার পরিস্থিতি সহজ হত, তাহলে আমি আরও ভালোভাবে শ্রীকৃষ্ণের কথা চিন্তা করতে পারতাম।” কিন্তু আমি শুনছিলাম কিভাবে, আমার মনে হয় নিউ অরলেন্সের পঞ্চদ্রবির এটি উল্লেখ করেছিল.. না ব্রহ্মানন্দ স্বামী বলছিলেন, আমি আচার্যদেবকেও একবার এটি উল্লেখ করতে শুনেছি, এটা খুবই কৃত্রিম বা ভুল প্রস্তাব যে এই জগতে যখন সবকিছু সহজ হয়, তখন মানুষেরা ভগবানের কথা বেশি চিন্তা করে। তাই না? যুদ্ধের সময়, সব ধরনের সমস্যার সময়… প্রত্যেকে প্রার্থনা করে। ঠিক তো? যখনই সব সহজ হয়ে যায়, তখন ধীরে ধীরে তারা অধিক থেকে অধিকতর ভগবানকে বিস্মৃত হওয়ার দিকে এগিয়ে যায়। ঠিক যেমন, আমেরিকার ইতিহাস দেখুন, যখন তারা এখানে প্রথম মেফ্লাওয়ারে করে এসেছিল এবং বিভিন্ন কিছু… বিভিন্ন (উহ) তখন নৌকা ও সব তীর্থযাত্রীরা খুবই ধর্মীয় ব্যক্তি ছিল। আমরা দেখি যে অন্তত পূর্বসূরিরা অর্থ দিয়ে বলতেন, “আমরা ভগবানের প্রতি বিশ্বাসী!” তারা বিভিন্নভাবে প্রার্থনাকে উৎসাহিত করতেন। বর্তমান সময়ে কি হচ্ছে? এখন আমেরিকাতে অনেক অনেক অর্থ আছে, কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষেরা আরও আরও বেশি নাস্তিক হয়ে পড়ছে, তারা ভাবে —- “এখন আমাদের কাছে বিজ্ঞান আছে, এখন আমাদের কাছে অর্থ আছে, আমাদের ভগবানকে দরকার নেই! আমাদের বিদ্যালয়ে প্রার্থনার দরকার নেই। কেবল নিজেদের কিছু দক্ষতার কারণে তারা ভগবানকে সরিয়ে দিচ্ছে। ভগবানকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এই সব দক্ষতার কারণে, “কি এইসব প্রার্থনা, এই ওই?” এমনকি একটা দেশে এই আইন পাস করা হয়েছে যে, এক মিনিটের জন্য সবাই নীরব থাকবে। সেই সময়ে কেউ যদি চায়, তাহলে ঘুমাতে পারে, ধ্যান করতে পারে বা যা কিছু করতে পারে, কিন্তু ক্লাসে এক মিনিট নীরবতা থাকবে। তবে এটাও বাতিল করা হয়েছে কারণ কেউ হয়ত সেই সময় প্রার্থনা করতে পারে। তাই, সাধারণত বলতে গেলে প্রার্থনার বিষয়টিকেই বিতাড়িত করা হয়েছে। এমনকি এক মিনিটের নীরবতা, যেখানে কেউ যদি চায় তাহলে প্রার্থনা করতে পারে, সেটাও বাতিল হয়েছে। এইসব হয়েছে কারণ মানুষেরা এখন চিন্তা করছে যে আমাদের ভগবানকে প্রয়োজন নেই। তারা কখনও এইসব আইন করত না, যদি তারা মনে করত যে আমাদের আসলেই ভগবানকে প্রয়োজন, তাহলে তারা এটা করত না। তারা এইসব দক্ষতাপূর্ণ তর্ক-বিতর্ক অগ্রাহ্য করত। যেহেতু আমাদের কাছে যথেষ্ট অর্থ আছে, তাই আমাদের ভগবানকে প্রয়োজন নেই। আসলে যখন ব্যক্তির কম সমস্যা থাকে, তখন সাধারণত তাদের শ্রীকৃষ্ণকে ডাকার যে আন্তরিকতা তা কম লক্ষণীয় হয়।
মাতা কুন্তী যখন শ্রীকৃষ্ণকে বিদায় বলেছিলেন, তখন তিনি কি বলেছিলেন? তিনি বিলাপ করছিলেন যে, “এখন শাসন করার জন্য আমাদেরকে পুরো রাজত্ব দেওয়া হয়েছে, এখন আমরা আমাদের শত্রুদের পরাস্ত করেছি, আমরা সমস্ত কঠিনতা অতিক্রম করেছি, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ চলে যাচ্ছেন। তাই, এইসবের আর কি মূল্য আছে? আসলে শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন আমাদের কাছে সবথেকে প্রিয়।” তাই তিনি শ্রীকৃষ্ণকে বলেছিলেন, “আমাদেরকে এইসব জড়াজাগতিক ঐশ্বর্য প্রদান করে তুমি চলে যাওয়ার থেকে ভালো হবে যদি তুমি আমাদেরকে আরও সমস্যার মধ্যে রাখো ও তুমি আমাদের সাথে থেকে যাও, কারণ আমরা চাইনা যে তুমি আমাদেরকে ছেড়ে যাও।” এটি এক অত্যন্ত গভীর উপলব্ধি। তাই, আসলে যখন ভক্তদের উপর কোন চাপ পড়ে, সেটা এক বিশেষ কৃপা। কারণ যখন তাদের কাছে এইসব সমস্যা আসে, তখন যতক্ষণ তারা শ্রীকৃষ্ণের প্রতি নির্ভরশীল থাকেন, ততক্ষণ সেটা তাদের কাছে আরও এক সুযোগ যে তারা শ্রীকৃষ্ণের অতি কাছের হতে পারেন।
সংস্কৃততে একটি কথা আছে। আমি সব সময়, আমি কখনও মনে রাখতে পারি না কিন্তু মূলত এর মানে হচ্ছে যে… এটা খুবই সুন্দর। চন্দনং চন্দ গন্ধম গন্ধন পুনার কি পুরেই কাঞ্চনম কাঞ্চবনাম—সোনাকে আপনি যত উত্তপ্ত করবেন [পাশে: অবশ্য রিচার্ড আমাদেরকে সেই বিষয়ে বলতে পারেন] তা তত উজ্জ্বল হবে। যত উত্তপ্ত করবেন তত উজ্জ্বল হবে এবং শুভ্র দ্যুতি বের হবে। আপনি যত আঁখকে পিষবেন, ততই মধুর রস বের হয়ে আসবে। আপনি পাথরের মধ্যে চন্দন যত ঘষবেন, ঘ্রস্তম ঘ্রস্তম, ততই সুগন্ধ বের হবে। একইভাবে সাধু, তাদেরকে যত বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে ফেলা হবে, ততই তাদের দিব্য গুণাবলী প্রকাশিত হবে। ভক্তরা যত বিভিন্ন পরীক্ষার মধ্যে পড়ে, ততই তাদের দিব্য গুণসমূহ বের হয়ে আসে, এমনকি মৃত্যুর পরেও সেইসব প্রকাশমান থাকে। আধ্যাত্মিকক্রম অনুসারে কখনও কখনও সবকিছু অতি অতি সমৃদ্ধশালী এবং কখনও কখনও জড়জগতে উত্থান-পতন, উত্থান-পতন এমন হয়। কোন না কোনোভাবে যদি আমরা কখনও শ্রীকৃষ্ণকে বিস্মৃত না হই, এমনকি তাদের সফলতার সময়ও, তাহলে আপনাকে আসলে কঠিনতার সম্মুখীন হতে হবে না। যখন আমরা সমস্যায় থাকি, তখন এটা হচ্ছে এক বিশেষ সুযোগ যে কোন না কোনোভাবে আমরা অধিক আন্তরিকভাবে শ্রীকৃষ্ণ স্মরণ করব, কারণ ভক্তের ক্ষেত্রে সাধারণত তারা শ্রীকৃষ্ণের কথা চিন্তা করেন, যে শ্রীকৃষ্ণ বুদ্ধিমত্তা প্রদান করেন, শ্রীকৃষ্ণ উপায় বের করে দেবেন যাতে আমরা তাঁর সেবা অব্যাহত রাখতে পারি, নাহলে আর কেই বা সাহায্য করবেন? আমরা দেখি যে মা যশোদা শ্রীকৃষ্ণকে সুরক্ষা প্রদান করার ক্ষেত্রে খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন, তিনি চিন্তা করছিলেন যে শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন তাঁর পুত্র এবং শ্রীকৃষ্ণ তাঁর মাকে তাঁর পশ্চাতে ধাবিত হতে দিয়েছিলেন। এমনকি এমন ভঙ্গি করেছিলেন, যেন তিনি ভয়ে ভীত হয়েছেন। এটা সব ভক্তের কাছে খুবই আকর্ষণীয় কারণ এটি স্পষ্ট করে যে কিভাবে শ্রীকৃষ্ণ আসলে তাঁর ভক্তদের সাথে কত অন্তরঙ্গভাবে সম্পর্কিত। এটি বর্ণনা করে যে ভক্তিমূলক সেবা সম্পাদনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কি। যদি কেউ শ্রীকৃষ্ণের নিকটস্থ হন, তাহলে এর ফল কি। এর ফল হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণ আসলে নিজেকে তার কাছে ধরা দেন, অন্যথায় তিনি অজেয়। শ্রীকৃষ্ণ… ভক্ত, যেহেতু ভক্ত সম্পূর্নরূপে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি নির্ভরশীল থাকেন, সেই জন্য শ্রীকৃষ্ণ ভাব আদান-প্রদান হেতু তাঁর ভক্তের প্রতি নির্ভরশীল হন—“তুমি আমাকে বিশ্বাস কর, আমি তোমাকে বিশ্বাস করব।” যদি ভক্ত নিজেকে শ্রীকৃষ্ণের সংরক্ষণে রাখতে প্রস্তুত না হয়, তাহলে শ্রীকৃষ্ণ কিভাবে নিজেকে সেই ব্যক্তির সংরক্ষণে রাখার প্রতি আস্থা রাখবেন? ঠিক যেমন যদি এমন কোন ব্যক্তি থাকে যিনি বলেন, “তুমি কি আমাকে কিছু টাকা ধার দিতে পারবে?” কিন্তু সেই ব্যক্তি চিন্তা করছেন যে, “এই ব্যক্তি কি কখনও আমাকে কোন অর্থ ধার দেবেন? তিনি কি আসলে আমাকে বিশ্বাস করবেন?” এটা এক স্বাভাবিক বিষয় যা আপনি প্রতিদান হিসেবে ভাববেন। তাই, আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রেও তা হয়। যদি আপনি শ্রীকৃষ্ণকে বিশ্বাস করেন, তাহলে তিনি আপনাকে বিশ্বাস করবেন এবং যদি আপনি শ্রীকৃষ্ণকে বিশ্বাস না করেন, তাহলে এর ইঙ্গিত হচ্ছে যে এখনও আপনার মাথায় কোন পরিকল্পনা চলছে, কোন গোপন উদ্দেশ্য আছে, কোন কামনা-বাসনা বা এমনকিছু আছে। অবশ্য, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এত কৃপাময় যে এমনকি যদি ভক্তদের এই সর্বোচ্চ স্তরের শরণাগতি না থাকে, তবুও তিনি তাদের গ্রহণ করেন এবং তিনি তাদেরকে পবিত্র নাম জপের মাধ্যমে কৃষ্ণভাবনাময় হওয়ার সুযোগ প্রদান করেন, আর ভক্ত হিসেবে তারা নাম করে এবং নিতাই-গৌরের কৃপা লাভ করে। মুখ্য বিষয় হচ্ছে যে তারাও শুদ্ধ ভক্তির স্তরে উন্নীত হতে থাকে, এমনকি যদিও তারা হয়ত এমন ছিল না, পূর্ববর্তী জীবনে অনেক পতিত ছিল এবং সেই জন্য তারা অযোগ্য, কিন্তু নিতাই-গৌরের কৃপায় তাঁরা এই স্তরে আসেন। যদি কারও এই স্তরের ভক্তি না থাকে, তাহলে তার নিতাই গৌরের কাছে প্রার্থনা করা উচিত এবং তাঁদের প্রতিনিধি গুরুপরম্পরার কাছে প্রার্থনা করা উচিত সেই বিশেষ শক্তি প্রাপ্ত হওয়ার জন্য, কারণ এটাই হচ্ছে নিতাই-গৌরের বিশেষ কৃপা, তিনি শুদ্ধ ভক্তির স্তর খুব সহজেই প্রদান করেন। এমন নয় যে কেউ কোনো কৃত্রিম যোগ্যতার কারণেই শ্রীকৃষ্ণকে প্রাপ্ত হতে পারে, সেটা কোন যোগ্যতা নয়। ভক্ত তাঁর মন সম্পূর্ণরূপে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি স্থির করতে পারছে নাকি এবং সমস্ত কঠিনতার সময় ও আনন্দের সময় শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শরণাগত থাকতে পারছে নাকি এবং সফলতার দ্বারা মোহগ্রস্ত ও ব্যর্থতার ফলে অভিভূত না হলে সেটাই হচ্ছে যোগ্যতা। কেউই সবসময় প্রতিমুহূর্তে সফল হতে পারবে না, শ্রীকৃষ্ণ ব্যতীত তা সম্ভব নয়, কিন্তু এমনকি শ্রীকৃষ্ণের ভক্তরাও কখনও কখনও এক সাময়িক কষ্টের সম্মুখীন হন, কিন্তু তাঁরা কখনই পূর্ণরূপে পরাস্ত হন না। জড়জাগতিক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সবসময় তাদের চরম পরাজয় হচ্ছে মৃত্যু, যেখানে তারা সবকিছু হারিয়ে ফেলে। ভক্তদের ক্ষেত্রে মৃত্যু কোন পরাজয় নয়। তাদের জন্য তখন ভগবৎ ধামের দ্বার উন্মুক্ত হয়। এইভাবে, আমাদের কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনে আমরা শ্রীকৃষ্ণের সেবা করার জন্য নিতাই-গৌরের কৃপা গ্রহণ করি এবং আমরা প্রত্যেক সুযোগকে, প্রত্যেক পরিস্থিতিকে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আরও ভালোভাবে শরণাগত হওয়ার শিক্ষা গ্রহণের এক সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি।
কত দৃষ্টান্ত আছে। শ্রীল হরিদাস ঠাকুরকে যখন কারাগারে রাখা হয়েছিল, হরিনাম আচার্য। পবিত্র নামের মহান আচার্যকে কারাগারে রাখা হয়েছিল, কারণ তিনি হরে কৃষ্ণ নাম করেছিলেন। তখন তিনি কোথায় গিয়েছিলেন? তিনি কারাগারের মধ্যে প্রচার করেছিলেন এবং সব কয়েদিদেরকে কৃষ্ণভাবনাময় করে তুলেছিলেন। তাদেরকে এটি প্রচার করেছিলেন যে, তোমরা মনে করছ তোমরা এই কারাগারে আছ, কিন্তু সমগ্র বিশ্বই হচ্ছে একটি কারাগার। একবার তোমরা এখান থেকে বাইরে গেলে, আবার চৌর্যবৃত্তিতে পতিত হবে, এবং আবার ইন্দ্রিয়তৃপ্তিতে লিপ্ত হবে। এখানে তোমরা খুবই বৈরাগ্যের জীবনযাপন করছ, তা তোমাদের নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী নয়, তবে (হাসি) যেহেতু তোমরা কারাগারে জীবনযাপন করছো তাই। এটা খুবই কঠোর। কিন্তু তোমরা যদি এই তপস্যার পরিস্থিতিকে হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে নাম কীর্তন করতে ব্যবহার কর, তাহলে তোমরা খুব সহজেই আধ্যাত্মিক জীবনে উন্নতি করতে পারবে এবং আসলেই প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন করতে পারবে। এমন নয় যে কেবল এই কারাগার থেকে বড় কারাগারে যাবে, তোমরা এই জড়জাগতিক জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে বাইরে বের হতে পারবে। এই জড়জাগতিক কারাগার থেকে বাহির হতে পারবে। তখন তারা সকলে নাম করতে শুরু করেছিলেন। সেইসময় হরিদাস ঠাকুরকে ডাকা হল, “তুমি আমাদের কারাগারে সবাইকে দিয়ে নাম কীর্তন করাচ্ছ? তুমি নাম কীর্তন করেছো বলেই তোমাকে কারাগারে রাখা হয়েছে, আর এখন তুমি অন্যান্য সবাইকে দিয়ে নাম করাচ্ছ? (ভক্তরা হাসছেন) তোমাকে এটা বন্ধ করতে হবে, নয়ত আমরা তোমাকে মেরে ফেলব। নয়ত তুমি কঠোর দণ্ড ভোগ করবে।” হরিদাস ঠাকুর বললেন, এমনকি যদি তোমরা আমার দেহ সহস্রাধিক ভাগে বিভক্ত কর, তবুও আমি হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে নাম করা বন্ধ করব না। তারপর তারা সেটা করার চেষ্টা করেছিল। তারা বলল, “ঠিক আছে তাকে ২২ বাজারে আঘাত করা হবে।” এর ফলে তাঁর দেহ টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু এমনকি তখনও শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে রক্ষা করেছিলেন এবং তিনি সমস্ত চাবুকের আঘাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। অবশ্য, আমরা হরিদাস ঠাকুরের নকল কিভাবে করতে পারি? কিন্তু সেই জন্যই শ্রীকৃষ্ণ আমাদেরকে ২২ বাজারে চাবুকের আঘাত গ্রহণের পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেননি। তিনি আমাদেরকে এমন পরীক্ষার মধ্যে ফেলেননি। যদি কাউকে এমন কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলা হয়, তার মানে সেটা হচ্ছে এক ইঙ্গিত যে সেই ব্যক্তি সেই পরীক্ষা গ্রহণের জন্য যথেষ্ট শক্তিধর।
কোন ব্যক্তি যদি কেবল সম্পূর্ণরূপে শ্রীকৃষ্ণের উপর নির্ভর করেন, ঠিক যেমন কখনও কখনও আমাদের ভক্তদেরও আটক করা হয় এবং অল্প সময়ের জন্য কারাগারে রাখা হয়। কখনও কখনও তা করা হয় কেবল কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের জন্য, মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে এবং অন্যান্য কিছু কারণে। সেটা তাদের নিজেদের কর্মের কারণে নয়। কর্মফল কাজ করে তাদের ভক্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত। তাদেরকে সেখানে রাখা হয় কোন অপরাধের কারণে নয়, কেবল তারা প্রচার করছিলেন বলে সেই জন্য কখনও কখনও এমন ঘটে। ঠিক যেমন মায়াপুরে একবার কিছু সাম্যবাদী ও মুসলমান ব্যক্তিরা আক্রমণ করেছিল ও এর ফলস্বরূপ শুধু মন্দির রক্ষার জন্য ভবানন্দ গোস্বামী এবং অন্যান্য ভক্তদেরকে আটক করা হয়েছিল এবং সেইসময় শ্রীল প্রভুপাদ অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং এটা পত্রিকাতেও বের হয় যে হরে কৃষ্ণ ভক্তরা কারাগারে আছে। তখন পুরো কারাগারে সবাই হরে কৃষ্ণ নাম করছিল। আমরা ভক্তদের জন্য প্রসাদ নিয়ে গিয়েছিলাম, অন্য সব বন্দীদেরকেও কিছু প্রসাদ দেওয়া হয়েছিল, পুরো কারাগারে প্রত্যেকেই হরে কৃষ্ণ নাম করেছিল। এমনকি তারা বন্দীদের থেকে অন্যান্য সময়েও ভক্তদেরকে ছাড়ত যাতে তারা উঠোনে হেঁটে বেড়াতে পারে। তারা বলেছিল যে, এটা তাদের সুরক্ষার জন্য। যাইহোক, তারা আশেপাশে যেত এবং প্রত্যেককে প্রসাদ দিত, তবে ভারতে তাদের এখানে উচ্চ নিরাপত্তাযুক্ত বন্দিরাও আছে, যারা বেশ দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে আছে। আসলে শিকল দিয়ে তাদের হাত-পা বেঁধে রাখা হত, তারা হচ্ছে আতঙ্কবাদী, আতঙ্কবাদী গোষ্ঠী যারা সহস্র বিদ্রোহের মাধ্যমে সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টা করেছিল। তারা সবসময় চিৎকার করত, “লাল সালাম” এর মানে লাল সালাম! লাল সালাম! এইরকম ধরনের স্লোগান —লেলিন জিন্দাবাদ! সাম্যবাদের জয় হোক! এই রকম ধরনের, আমাকে নাম নিতেই হল। যখন ভক্তরা তাদের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতেন, তারা ভক্তদের দেখত ও এমনকি বলত হরে কৃষ্ণ সালাম! (হাসি), হরে কৃষ্ণ স্যালুট!
আমরা জানি যে ষড়্ গোস্বামীগণের ক্ষেত্রে এটি বলা হয়েছে যে, তাঁদেরকে দুর্বৃত্তরা, অসৎ ব্যক্তিরা ও সৎ ব্যক্তিরা সবাই পছন্দ করতেন; ভদ্র-অভদ্র… সেইজন্য আমরা মা যশোদা এবং এই সমস্ত মহান ভক্তদের পদাঙ্ক অনুসরণের চেষ্টা করি এবং তাদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি। সমস্ত পরিস্থিতিকে কেবল শ্রীকৃষ্ণের সেবার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা। আসলে এটাই হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণকে বন্ধনগ্রস্ত করার গোপন রহস্য। মানুষ তাদের সমস্যাকর পরিস্থিতিতে শ্রীকৃষ্ণের সেবা এড়িয়ে চললে, সেটা হচ্ছে একটি ইঙ্গিত যে সেই ব্যক্তি পরবর্তী জীবনে স্বর্গে উন্নীত হতে চায় বা মুক্তি লাভ করতে চায়, কিন্তু সে শুদ্ধ ভক্তিমূলক সেবায় স্থির নয়। কেউ যদি খুব আরামদায়ক জড়জাগতিক পরিস্থিতি কামনা করে, তাহলে সেইসব কামনা তাকে মৃত্যু পরবর্তীতে স্বর্গলোকে উন্নত করবে। যেখানে সে এক অতি অতি আরামদায়ক পরিস্থিতিতে থাকবে, কিন্তু তৎক্ষণাৎ শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করতে সক্ষম হবে না। সেইজন্য, ভক্ত যিনি মুক্তি চান, তারা সাধারণত সত্ত্ব গুণের স্তরে খুবই স্থির। তারা অপরিষ্কার কোন কিছু চান না, তারা বাইরে বের হতে চান না এবং এই সমস্ত কঠিন সেবা বা প্রচারের মতো কঠিন কার্য করতে চাননা। তারা কেবল খুব খুব, এক প্রকার অত্যন্ত সুরক্ষিত সেবায় থাকতে চান যে, সেই পরিস্থিতির ভারসাম্য যাতে বিপর্যস্ত না করা হয়, কারণ তারা ভীত থাকে যে কোন না কোনোভাবে তারা হয়ত পথবিচ্যুত হতে পারেন, এবং তাদেরকে হয়ত আবার জন্মগ্রহণ করতে হতে পারে। কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মনোভাব হচ্ছে যে শুদ্ধ ভক্তি আসলে আরও অধিক আস্বাদনীয় বিষয়। শুদ্ধ ভক্ত-র এইরকম ভাব থাকে যে—এমনকি যদি শ্রীকৃষ্ণ চান যে আমি আবার জন্মগ্রহণ করি, তাহলে আমি অন্তত একজন ভক্ত হতে চাই। আমি শুদ্ধ ভক্তিমূলক সেবা নিবেদন করতে চাই এবং ফলস্বরূপ তা খুব উপযুক্ত হোক বা না হোক, ভক্ত কেবল তার ভক্তিমূলক সেবায় স্থির থাকতে চান। তিনি কোনকিছুকেই ভক্তিমূলক সেবা প্রবাহে বাঁধা হতে দিতে চান না, সেটি তার ইচ্ছা হোক, মুক্তি লাভের বাসনাই হোক বা আরামদায়ক জড়জাগতিক পরিস্থিতির বাসনাই হোক বা যাইহোক না কেন। শুদ্ধ ভক্ত কেবল ভক্তিমূলক সেবা করার চেষ্টা করেন ও আরও অধিক থেকে অধিকতর শ্রীকৃষ্ণের নিকটস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কৃপা গ্রহণ করেন। এবং অবশ্য, ঠিক যেমন পাণ্ডবেরা চরমে তাঁরা যখন সমস্ত সমস্যা অতিক্রম করেছিলেন, এবং তাঁদের কাছে আরও সেবা করার সুযোগ ছিল, তখন তারা চিন্তা করছিলেন যে কিভাবে কঠিন পরিস্থিতি আমাকে শ্রীকৃষ্ণের অনেক কাছে এনেছিল। যখন সেই কঠিনতা একটু দূরীভূত হয়, তখন ভক্ত এমনকি চিন্তা করেন যে—আসলে সেই সময়টাই বিভিন্নভাবে অধিক আস্বাদনীয় ছিল। আমি শ্রীকৃষ্ণের কথা চিন্তা করতে বাধ্য ছিলাম, আমি শ্রীকৃষ্ণের অনেক সেবা করতে বাধ্য হয়েছিলাম এবং আসলে সেই অনুভূতি ছিল অধিক দিব্য আনন্দময়। ঠিক যেমন, যখন শ্রীকৃষ্ণ গোপিদেরকে লিখেছিলেন যে, “আসলে আমি তোমাদেরকে ছেড়ে এসেছি যাতে তোমরা আমার প্রতি এই প্রেমের বিরহ আরও গভীরভাবে অনুভব করতে পারো, কিন্তু আসলে তোমাদের আমার প্রতি এই তীব্র অনুরাগের কারণে আমরা অধিক অন্তরঙ্গভাবে সম্পর্কিত।” এই সমস্ত বিষয়গুলি জড়জাগতিক স্তরে সম্পূর্ণই অবিশ্বাসনীয়, কিন্তু আধ্যাত্মিক স্তরে এইসব বিপরীত দিকগুলি নিখুঁতভাবে সমতুল্য, নিখুঁতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ, নিখুঁতভাবে সংযুক্ত বা যেটিকে আপনারা বলেন একিভূত।
শ্রীকৃষ্ণের কৃপা ভক্তরা বিভিন্নভাবে উপলব্ধি করেন। কখনও আনন্দের মধ্যে, মহাআনন্দে ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণের কৃপা আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করেন এবং আবার তারা ভগবানের প্রতি বিরহ অনুভব করেন, কিন্তু আনন্দের মুহূর্তে শ্রীকৃষ্ণকে ভুলে যাওয়া আমাদের কাছে সহজ। ভক্ত অবশ্যই কখনও কখনও শ্রীকৃষ্ণকে ভুলে যেতে পারেন যখন সমস্যা উৎপন্ন হয়। এরপর তার বিলাপের প্রবণতা থাকে। কিন্তু যেহেতু আমরা আসলে নিত্য-শাশ্বত জীব এবং বাস্তবিকভাবে বলতে গেলে, আমরা জড়জাগতিক অভিনয়ের মধ্যে জীবনযাপন করছি, তাই আমাদের একজন ভক্তের অভিনয়ের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত এবং এটাই হচ্ছে এই মন্দ পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও সর্বোত্তম লাভ যে আসলে সম্পূর্ণ কৃষ্ণভাবনাময় হওয়া। চরমে এটি আমাদের প্রকৃত ভূমিকা নয় যা আমরা এই নির্দিষ্ট দেহে অভিনয় করছি। আমাদের প্রকৃত ভূমিকা হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তিমূলক সেবা করার। এটা হচ্ছে কেবল মঞ্চ প্রস্তুতীকরণ এবং আমরা হচ্ছি অভিনেতা। কিন্তু আমরা যদি শ্রীকৃষ্ণের সেবা সম্পাদন করে আমাদের নিত্য ভূমিকা পালন করি, তাহলে সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে, যেমন সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটায়, কিন্তু তবুও আমরা কখনোই শ্রীকৃষ্ণকে সেবা করার আমাদের যে ভূমিকা তা থেকে বঞ্চিত হব না। তখন আসলে আমরা নিজেদের নিত্য পরিস্থিতিতে স্থানান্তরিত হব। তখন আর আমাদের এই জড়াজাগতিক পরিস্থিতিতে অভিনয় করতে হবে না।
শুদ্ধ ভক্তের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি হয়ত যাইহোক না কেন, সেটা জড়জগতের সাময়িক পরিস্থিতি হোক বা আধ্যাত্মিক জগতের নিত্য পরিস্থিতি হোক, তাঁর চেতনা সবসময় একই থাকে, তা সবসময় স্থির থাকে—“একেহ কুরুনন্দন” তিনি শুদ্ধ ভক্তিমূলক সেবায় থাকেন। সেই জন্য শুদ্ধ ভক্তের ক্ষেত্রে এটি কোন পার্থক্য সৃষ্টি করে না যে তিনি জড় জগতে আছেন নাকি আধ্যাত্মিক জগতে আছেন। কেবল প্রশ্ন হচ্ছে তারা কোন স্তরে আছেন। ব্যক্তির ভূমিকা সবসময় একই, তা হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শুদ্ধ ভক্তিমূলক সেবা নিবেদন করা। এইভাবে সেই ভক্তের আসলে টিকাকরণ হয়ে যায়, তখন এই জড়জগতের বিষদাঁত তার ক্ষতিকর প্রভাব হারায় এবং যেকোনো পরিস্থিতিতেই ভক্ত উপলব্ধি করতে পারেন যে আমি কৃষ্ণভাবনাময় হব এবং কৃষ্ণভাবনাময় হওয়াই হচ্ছে আমার একমাত্র কর্তব্য। আমার সেবা চরমে সফল হোক বা না হোক, আমি কেন ভক্তিমূলক সেবা করছি সেটা তার কারণ নয়, আমি এই সেবা করছি কেবল আমার প্রিয় নিতাই গৌর, আমার প্রিয় শ্রীল প্রভুপাদ, আমার প্রিয় আধ্যাত্মিক গুরুদেবকে প্রসন্ন করার জন্য। আমি আমার সেবা কেবল আপনাদের প্রসন্নতার জন্য নিবেদন করছি। সফল হোক বা ব্যর্থ হোক, আমি হচ্ছি কেবল আপনার নিত্য সেবক। আমি আপনার শ্রীপাদপদ্মে শরণাগত, আমার সেবা আপনার প্রসন্নতার কারণ হোক। আমার শক্তির আপনার প্রতি সেবা নিবেদন ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই এবং ধীরে ধীরে এই মনোভাব আনয়নের মাধ্যমে কেউ এত দৃঢ় হতে পারেন যে তখন কোন কিছুই তাকে নাড়াতে পারেনা, এমনকি মৃত্যু যা সর্ববৃহৎ পরীক্ষা, তাও এমন একজন ভক্তকে বিক্ষুব্ধ করতে পারে না।
জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্ত বৃন্দ।।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।
কোনো প্রশ্ন আছে? হ্যাঁ?
ভক্ত: কখনও কখনও এমন মনে হয় যে আমরা সেবায় নিযুক্ত আছি, কিন্তু আমাদের সেটি করার প্রতি উৎসাহ নেই। আমরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলছি। আমি আশা করি যদি আমার আরও উৎসাহ থাকত; এটাই যা আমি বলতে পারি। তাই, আমি কিভাবে আরও সেবা করা শুরু করতে পারি? আমি আমার সংখ্যানাম জপ করছি, এই সমস্ত সেবা করছি, কিন্তু তবুও মনে হচ্ছে উৎসাহ কম আছে, এক্ষেত্রে কি কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে?
জয়পতাকা স্বামী: সাধারণত… কি?
ভক্ত: কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে?
জয়পতাকা স্বামী: একজন ভক্ত হিসেবে তুমি যত এটা উপলব্ধি করতে পারবে যে শ্রীকৃষ্ণ তোমার সেবা সরাসরি আধ্যাত্মিক গুরুর মাধ্যমে গ্রহণ করছেন, সেক্ষেত্রে মুখ্য বিষয় হচ্ছে তুমি কত উৎসাহের সাথে তা করছ তিনি সেটি গ্রহণ করছেন। কারণ চরমে তাঁর সেবার কোন প্রয়োজন নেই। তিনি যেটি উপভোগ করছেন, তা হচ্ছে তোমার তাঁকে সেবা করার বাসনা, তোমার ভক্তি, তোমার উৎসাহ। ঠিক যেমন যখন শ্রীকৃষ্ণ রন্ধনকক্ষে এসেছিলেন, তখন তাঁরা অত্যন্ত উৎসাহের সাথে তাঁকে কলার খোসা দিয়েছিলেন। কলা দেওয়ার পরিবর্তে, তাঁরা তাঁকে কলার খোসা দিয়েছিলেন এবং তিনি সেই কলার খোসা গ্রহণ করেছিলেন। তখন তারা দেখলেন যে, শ্রীকৃষ্ণকে আমি কলার খোসা দিয়েছি এবং কলা নিজের কাছে রেখে দিয়েছি, তিনি খোসা খাচ্ছেন! তখন তিনি বললেন, “আমার কাছে খোসা এবং আপেল সব একই। আমি যেটি উপভোগ করছি তা হচ্ছে আমাকে সেবা করার প্রতি তোমার উৎসাহ।” (হাসি)
আসলে শ্রীকৃষ্ণের কোনকিছু প্রয়োজন নেই। তিনি ইতিমধ্যেই “আত্মারামাশ্চ মুনয়ো” তিনি হচ্ছেন ইতিমধ্যেই পূর্ণ — “ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং” কিন্তু বিষয় হচ্ছে এত লক্ষাধিক বছর তাঁকে বিস্মৃত থাকার পর বদ্ধজীব তাঁকে সেবা করার দিকে এগিয়ে এসেছেন, শ্রীকৃষ্ণ সেই উৎসাহ এবং সেই বাসনার সবথেকে প্রশংসা করেন। এইজন্য, এমনকি যদি সেবা হয়ত নয়… কখনও কখনও ব্যক্তির সেবায় সামান্য পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। কখনও কখনও সেই সেবাই ঠিক আছে। এই সমস্ত বিষয়গুলি কেবল প্রত্যেক ভক্তের সাথে তার কর্তৃপক্ষই আলোচনা করতে পারে যে, সেই ব্যক্তিকে নিযুক্ত রাখার জন্য পর্যাপ্ত সেবা আছে নাকি সেই বিষয়ে। এটি এক ভিন্ন পরিস্থিতি। ব্যক্তি বিশেষে এর ব্যবস্থা হতে হবে। সেই পরিস্থিতিতেও ব্যক্তির খুবই উৎসাহী থাকা উচিত এবং অত্যন্ত উৎসাহী হওয়া সত্ত্বেও যদি সেই ব্যক্তি একঘেয়ে অনুভব করেন বা কেবল যুক্ত না থাকেন, তাহলে এটা সত্য যে তা যথেষ্ট সেবা নয় বা মনকে নিযুক্ত রাখার মতো যথেষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে এটা হচ্ছে এমন একটি বিষয় যা ব্যক্তিবিশেষে আধ্যাত্মিক গুরুর দ্বারা বা তাঁর প্রতিনিধির দ্বারা বা মন্দির কর্তৃপক্ষ দ্বারা ব্যবস্থাপনা গৃহীত হতে হবে। তবুও সেই ব্যক্তির উচিত পূর্ণ উৎসাহের সাথে সেবা নিবেদন করা। নয়ত আপনি কিভাবে বলতে পারবেন যে আপনি আপনার ক্ষমতা অনুযায়ী কার্য সম্পাদন করছেন নাকি?
ঠিক যেমন ধরুন আপনি গাড়ি চালাচ্ছেন এবং গাড়িতে গ্যাস পেডাল নিচে নেমে গেছে, গাড়ি এগোতে ব্যর্থ হচ্ছে। তখন আপনি বুঝবেন যে, “এই গাড়িতে কিছু সমস্যা আছে।” এরপর কখনও কখনও যখন গাড়ির ইঞ্জিন ঠান্ডা থাকে অথবা আপনি অতিরিক্ত ভার যুক্ত করলে, তখন আপনাকে অধিক গ্যাস ভরতে হবে। আপনি পাহাড়ের উপর যাচ্ছেন, আপনি পাহাড়ের রাস্তা দিয়ে যেতে থাকছেন, যখন আপনি পাহাড়ের উপরের দিকে যাচ্ছে, তখন তা যেতে ব্যর্থ হচ্ছে। তখন আপনি বলবেন, “কি ভুল হয়েছে?” আপনি গিয়ে আপনার গাড়ি ভালোভাবে সবকিছু দেখলে বুঝবেন যে আপনি যথেষ্ট গ্যাস পূর্ণ করেননি। তাই তো? যখন আপনি পাহাড়ে উপরের দিকে যাচ্ছেন, আপনাকে তখন গ্যাস ভরতেই হবে। হয়ত কখনও কখনও আপনি ইঞ্জিনের গতি কমাবেন, গ্যাস ভরবেন ও তখন আপনি উপরে যেতে পারবেন। ঠিক তো? যখন আপনি পাহাড়ের উপর যাবেন, যদি আপনি তখন বেশি গ্যাস না ভরেন তাহলে কি হবে? এই কারণেই কখনও কখনও শ্রীকৃষ্ণ একজন ব্যক্তিকে কিছুটা উপরে তোলেন, ঠিক যেমন আপনি গ্যাস ভরতে বাধ্য হয়েছেন। সাঁতার কাটার জন্য ডুব দেওয়া। সাধারণত যদি আপনি সবসময় গ্যাস ভরেন, তাহলে এতে কোন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হবে না। এই ধরনের পরীক্ষার তখন আর প্রকৃতপক্ষে প্রয়োজনীয়তা নেই। সেইজন্য, একজন ভক্তের আসলে যত পরীক্ষা হয়, এমনকি যদি তাকে অনেক পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়, তাতেও কোন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় না। তিনি কেবল উত্তীর্ণ হতে থাকেন, অন্যান্য ভক্তদেরকে দৃষ্টান্ত প্রদর্শনের জন্য। আপনারা দেখেছেন কেন প্রহ্লাদকে উত্তপ্ত তেলের মধ্যে রাখা হয়েছিল? কারণ তিনি হচ্ছেন এক মহান ভক্ত। এর তুলনায় আমরা খুবই অল্প কোন পরিস্থিতির সম্মুখীন হই, এবং শ্রীকৃষ্ণ আমাদেরকে এইসব পরিস্থিতি অতিক্রম করতে সাহায্য করেন।
উৎসাহ হচ্ছে এমন কিছু যে, কোন না কোনোভাবে ব্যক্তি যেন অধিরোহী হয়ে গমন করছেন বা একটি প্রতিযোগিতায় দৌড়াচ্ছেন। এক্ষেত্রে, আপনি কেমন উৎসাহী হবেন? কেউ নির্দেশের দ্বারা, সমালোচনার দ্বারা, পরিহাসের দ্বারা বা কোনো না কোনো কিছুর দ্বারা উত্তেজিত হয়ে বাহির হয়ে সেটি করে আসেন। অবশেষে বলতে গেলে, উৎসাহ এমনকিছু নয় যার জন্য আপনি প্রার্থনা করতে পারেন। অবশ্য, নিতাই-গৌর, নিত্যানন্দ আপনাকে অধিক উৎসাহী হতে সাহায্য করতে পারেন, কিন্তু উৎসাহ আসে ব্যক্তির স্ব-ইচ্ছা থেকে। যদি আপনি কোন কিছুর আকাঙ্ক্ষা করেন, তাহলে সেক্ষেত্রে আপনি উৎসাহী হবেন। যদি আপনি শ্রীকৃষ্ণের প্রীতিবিধান করতে চান, সেক্ষেত্রে আপনি উৎসাহী। এটা হচ্ছে মনোযোগের প্রশ্ন। আপনার ইচ্ছার প্রতি মনোযোগ দেওয়া, আপনার উদ্দেশ্যের প্রতি মনোযোগ দেওয়া — তীব্রেন ভক্তিযোগেন। যদি এটি এক দিকে পরিচালিত না হয়, তাহলে সেই শক্তি ছড়িয়ে পড়ে এবং তখন আপনি উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন।
ঠিক যেমন আমরা আলোচনা করছিলাম এখানে মুরারি ও অন্যান্য জায়গায় HAM রেডিও সেট রাখার কথা। এখন আমাদের কাছে অতি অল্প সময়ে অনুমতিপত্র লাভের একটি ব্যবস্থা আছে। আমরা কিছু ভালো উৎস পেয়েছি। সত্যনারায়ণ HAM রেডিও সেট-এর ব্যবস্থাপনা করছে এবং রুপানুগা প্রভুও এই বিষয়ে কিছু সেবা করছেন ও ইউরোপ এবং মায়াপুরের সর্বত্র এই ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলছেন। তারা এখন এক বিশেষ বিম অ্যান্টেনা সহ এসেছেন। সাধারণত, একটি অ্যান্টেনা সব দিকে—অর্থাৎ ৩৬০ ডিগ্রি জুড়ে—সংকেত সম্প্রচার করে, তাই না? কিন্তু তারা যা করে তা হল, অ্যান্টেনাটিকে এমনভাবে বানানো হয়েছে যে—আমি ইলেকট্রিক্যাল বিশেষজ্ঞ নই, তবে সাধারণভাবে বলছি—যাতে এটি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট পরিসরে, যেমন ৫০ বা ৬০ ডিগ্রির মধ্যে সংকেত পাঠায়। সুতরাং, যেহেতু এটি শুধুমাত্র সেই ৫০ ডিগ্রি পরিসরের মধ্যে সংকেত পাঠায়, অন্যদিকে সংকেতের খুব সামান্য অংশ যায়। বেশিরভাগ শক্তি সেই ৫০ ডিগ্রি এলাকার মধ্যে কেন্দ্রীভূত থাকে, আর বাকি অংশ খুবই সামান্য, তাই সম্ভবত মাত্র ১০% সংকেত অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাই, যেহেতু সমস্ত শক্তি সম্পূর্ণ ৩৬০ ডিগ্রির পরিবর্তে সেই ৫০ ডিগ্রি কোণের মধ্যে কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে, আপনি সেই নির্দিষ্টদিকে অনেক বেশি শক্তিশালী সংকেত পাচ্ছেন—যেমন, ৭ গুন বেশি বল বা শক্তি। এর কারণ হল, অ্যান্টেনা অন্য দিকে শক্তি অপচয় করছে না; সমস্ত শক্তি যেখানে প্রয়োজন সেখানে কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে। ঠিক তেমনভাবেই, আমাদের জড়জাগতিক জীবন আছে, ৩৬০ ডিগ্রি জুড়ে আছে। প্রত্যেক দিকেই আমাদের ইচ্ছা আছে, গাড়ি ইত্যাদি বিভিন্ন কিছু। ঠিক লক্ষ্যাধিক ইচ্ছা আছে, তবে ধীরে ধীরে এই পুরো ৩৬০ ডিগ্রি এক দিকে কেন্দ্রীভূত হলে যে, কেবল শ্রীকৃষ্ণ: একটি মুখ্য বিন্দু। তখন এত শক্তি উৎপন্ন হয় যে একজন বিষয়ী ব্যক্তির যা শক্তি থাকার কথা, তার থেকে আরও অধিক হয় এবং সেটি প্রবল আগ্রহের সৃষ্টি করে। তাই, আমরা যা করতে পারি সেটি হচ্ছে, আরও স্পষ্টভাবে মনঃসংযোগ করতে পারি।
আর কোন প্রশ্ন আছে?
তুমি কি উপস্থিত ছিলে যখন আমরা নিউ অরলেন্সে সূর্যের সম্বন্ধে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিলাম? সেখানে কি কেউ ছিলে? এখানে কি কেউ এমন আছে যে আমরা শ্রীকৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনে বা সেই তত্ত্বকথা ইত্যাদিতে ব্যবহার করি এমন উদাহরণের একটি উদাহরণ দিতে পারবে, যেখানে সূর্যকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে? এই বিষয়ে কি কেউ চিন্তা করতে পারবে?
ভক্ত: নিশ্চয়ই।
জয়পতাকা স্বামী: সেটা কি?
ভক্ত: শ্রীল প্রভুপাদ এই উদাহরণ দিয়েছেন, সূর্যকে তিনি পরমাত্মা ভগবানের সাথে তুলনা করেছেন।
জয়পতাকা স্বামী: তুমি পুরস্কার জিতলে।
ভক্ত: জয়!
জয়পতাকা স্বামী: অন্য কেউ হাত তোলো। হ্যাঁ!
ভক্ত: শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে সূর্য যখন তোমার ঘরে আসবে, তিনি বলেছিলেন যে সূর্যরশ্মি ও সূর্যালোক ভিন্ন।
জয়পতাকা স্বামী: হরে কৃষ্ণ!
ভক্ত: হরে কৃষ্ণ!
জয়পতাকা স্বামী: আর কেউ?
ভক্ত: যেখানে এই বিষয়টি আছে যে সূর্য শুদ্ধ, সূর্য প্রভাবিত হয় না।
জয়পতাকা স্বামী: হ্যাঁ বেদান্ত-কৃত?
বেদান্ত-কৃত: সাধারণ দৃষ্টিতে সূর্যকে ছোট চাকতির মতো দেখায়, যা আপনি আপনার আঙুল দিয়ে ঢেকে ফেলতে পারবেন, কিন্তু অবশ্য এটা অনেক অনেক বৃহৎ।
জয়পতাকা স্বামী: তাহলে এর মাধ্যমে কি স্পষ্ট হয়?
বেদান্ত-কৃত: ঠিক যেমন শ্রীকৃষ্ণ, এখানে হয়ত তাঁকে ক্ষুদ্র হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু আসলে তিনি হচ্ছেন বাসুদেব সর্বমিতি। তিনি প্রকৃতপক্ষেই আছেন।
জয়পতাকা স্বামী: অভিনন্দন!
ভক্ত: আমরা কি সম্ভবত পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে পারি? যেমন সূর্য এবং চন্দ্র। সূর্যের রশ্মি হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের শক্তি।
জয়পতাকা স্বামী: হ্যাঁ।
মহিলা ভক্ত: যেমন সূর্য কখনও কখনও মেঘের দ্বারা আচ্ছাদিত হয়, কিন্তু আসলে আমরা হচ্ছি আচ্ছাদিত, সূর্য নয়।
জয়পতাকা স্বামী: (অন্য একজন ভক্তকে) তোমার কাছে কোন উদাহরণ নেই?
ভক্ত: আমি কেবল একটু চিন্তামগ্ন (হাসি)
জয়পতাকা স্বামী: তাহলে কেন তুমি তোমার হাত তোলোনি? (হাসি) অন্য কিছু ভাবতে পারছ না? তুমি স্টিভের হয়ে একটা বলতে পারো।
স্টিভ: সূর্য হচ্ছে চক্ষু, শ্রীকৃষ্ণের নয়ন।
জয়পতাকা স্বামী: অন্যের প্রতিনিধিত্বের জন্য স্টিভকে অভিনন্দন! (হাসি) সেও?
স্টিভ: শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন সূর্যের মতো। যেখানে সূর্যালোক থাকে, সেখানে কোন অন্ধকার নেই। যেখানে শ্রীকৃষ্ণ আছেন, সেখানে কোন…
ভক্তবৃন্দ: হরিবোল! মায়া।
জয়পতাকা স্বামী: তুমি অন্য কিছু জানো?
ভক্ত: হ্যাঁ এই প্রসঙ্গে যে সূর্য রশ্মি হচ্ছে যেমন … অন্ধকার সূর্যালোকের কাছে বিজয়ী হতে পারে না। সূর্যরশ্মি বিজয়ী হয়। তাই যেখানে আলো আছে, সেখানে কোন অন্ধকার থাকবে না। অবশ্য, অন্ধকার… আমরা অন্ধকারের মধ্যে আছি।
জয়পতাকা স্বামী: সে তার জন্য একটি বানিয়েছে। (হাসি) তোমার শ্যালককে সমর্থন কর। তোমার কাছে কোন কিছু আছে পরীক্ষিত?
পরীক্ষিত: সবাই সব নিয়ে ফেলেছে। (হাসি)
জয়পতাকা স্বামী: নানা কত আছে… (হাসি)
পরীক্ষিত: আমি যা যা জানতাম তা সব হয়ে গেছে।
জয়পতাকা স্বামী: ঠিক আছে, বরাহকে তার হয়ে একটা বলতে দেওয়া হোক।
বরাহ: ঠিক আছে, দেখা যাক। প্রভুপাদ কখনও কখনও সূর্যের অস্ত যাওয়ার সাথে তুলনা করেছেন যে সূর্য আসলে সেখানে বিরাজমান থাকে। তিনি তুলনা করেছেন…
জয়পতাকা স্বামী: এর মৃত্যু হয় রাত্রে এবং সকালে আবার এর জন্ম হয়।
বরাহ: এটিকে শ্রীকৃষ্ণের লীলার সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা কোন না কোন স্থানে সবসময় সংঘটিত হচ্ছে। ঠিক যেমন সূর্য সবসময় উদিত হচ্ছে।
জয়পতাকা স্বামী: তোমার জন্য একটা বলো, রঘু।
ভক্ত: আমি আচার্যদেবের একটি টেপ শুনছিলাম, তিনি বলছিলেন যে সূর্য তার কক্ষপথে ভ্রমণ করছে এবং একইভাবে ব্রহ্মাণ্ডের চারিদিকে তার গন্তব্য অনুসারে চলমান। যদি এমনকি তা সামান্যতম বিচ্যুত হয়, তাহলে সমগ্র গ্রহলোক ধ্বংস হয়ে যাবে, তিনি এমন বলছিলেন। তিনি বলছিলেন যে এই সূর্যকে কে নিয়ন্ত্রণ করছেন? তারা জানে না, কিন্তু আসলে শ্রীকৃষ্ণ এর রশ্মী কেন্দ্রীভূত করছেন।
জয়পতাকা স্বামী: তোমার হয়ে এটা কে? (হাসি) চৈতন্য চরিতামৃতের বিষয়টি কী আছে? সেখানে নিতাই গৌরের সম্বন্ধে একটি উদাহরণ আছে।
ভক্ত: ও হ্যাঁ!
ভক্ত: ঠিক যেমন সূর্যের অস্ত যাওয়া, যেন তা বিনষ্ট হয়েছে কিন্তু…
জয়পতাকা স্বামী: কি, তুমি এখনও একটাও ভাবনি?
ভক্ত: ও! (হাসি)
Lecture Suggetions
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees