নিম্নোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী ১৫ অক্টোবর, ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ, মুরারি সেবক ফার্ম, মালবেরি, টেনিসে দিয়েছেন। এই প্রবচন শুরু হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতের ২য় স্কন্ধ, ৩য় অধ্যায়, ১৯ শ্লোক পাঠের মাধ্যমে।
শ্লোক ২.৩.১৯
শ্ববিড়বরাহোষ্ট্রখরৈঃ
সংস্তুতঃ পুরুষঃ পশুঃ।
ন যৎ কর্ণপথোপেতো
জাতু নাম গদাগ্রজঃ।।
অনুবাদ: কুকুর, শূকর, উট এবং গর্দভের মতো মানুষেরা তাদেরই প্রশংসা করে, যারা সমস্ত অশুভ থেকে উদ্ধারকারী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দিব্য লীলাসমূহ কখনো শ্রবণ করে না।
তাৎপর্য: জনসাধারণ যদি যথাযথভাবে পারমার্থিক মূল্য সমন্বিত উচ্চতর জীবন যাপনের শিক্ষা লাভ না করে, তাহলে তারা পশুদের থেকে কোন মতেই উন্নত নয়, এবং এই শ্লোকে তাদের বিশেষ করে কুকুর, শূকর, উট এবং গর্দভের সমপর্যায়ভুক্ত করা হয়েছে। আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলি শিক্ষা দিচ্ছে কুকুরোচিত মনোভাব অর্জন করে একজন প্রভুর সেবা স্বীকার করার। তথাকথিত শিক্ষা শেষ করে, তথাকথিত বিদ্বান ব্যক্তি একটি চাকরির আশায় একটি কুকুরের মতো দরখাস্ত হাতে নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায়, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে চাকরি খালি নেই বলে তাদের দূর দূর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। কুকুর যেমন একটি উপেক্ষিত পশু এবং এক টুকরো রুটির জন্য সে তার প্রভুর দাসত্ব করে, তেমনই সেই সমস্ত মানুষেরা উপযুক্ত পারিশ্রমিক ব্যতীত বিশ্বস্তভাবে তাদের প্রভুর সেবা করে।
যে সমস্ত মানুষের আহার্য সম্বন্ধে কোন বাছ-বিচার নেই এবং যারা সবরকম অখাদ্য খায়, তাদের শূকরের সঙ্গে তুলনা করা হয়। শূকরেরা বিষ্ঠা আহার করতে অত্যন্ত ভালবাসে। অতএব বিষ্ঠা কোন বিশেষ পশুর খাদ্য। এমনকি পাথরও কোন বিশেষ প্রকার পশু বা পাখীর আহার্য। কিন্তু যা ইচ্ছা তাই খাওয়াটা মানুষের ধর্ম নয়। মানুষের খাদ্য হচ্ছে শস্য, শাক-সব্জি, ফলমূল, দুধ, চিনি ইত্যাদি। পশুদের আহার মানুষদের আহার্য নয়। মানুষদের দন্ত-পংক্তি ফল-মূল, শাক-সব্জি ইত্যাদি কাঁটার জন্য বা চর্বণ করার জন্য বিশেষভাবে গঠিত। যে সমস্ত মানুষ পশুদের খাদ্য আহার না করে থাকতে পারবে না, তাদের জন্য দুটি শ্বপদ-দন্ত দেওয়া হয়েছে। সকলেই জানে যে, একজনের আহার আর একজনের বিষ। মানুষের কর্তব্য হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণকে নিবেদিত প্রসাদ গ্রহণ করা। তাই শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার (৯/২৬) বর্ণনা অনুসারে ভগবান পত্র, পুষ্প, ফল, জল ইত্যাদি গ্রহণ করেন। বৈদিক শাস্ত্রে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোনরকম পশুর আহার ভগবানকে নিবেদন না করতে। তাই মানুষের আহার এক বিশেষ প্রকারের খাদ্য। তথাকথিত ভিটামিন সংগ্রহের জন্য তার পশুদের অনুকরণ করা উচিত নয়। তাই যে মানুষের খাদ্যদ্রব্য সম্বন্ধে কোন বাছবিচার নেই, তাকে একটি শূকরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
[তাৎপর্যের কিছুটা অংশ পড়ার পর গুরুমহারাজ ব্যাখ্যা করছেন]
জয়পতাকা স্বামী: উট, এরপর তিনি লিখেছেন…এখানে আমরা ইতিমধ্যেই কুকুর ও শুকুরের মতো মানুষের বিষয়ে আলোচনা করেছি।
আসলে বৈদিক সভ্যতায় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্যরা ছিলেন, সেক্ষেত্রে ব্রাহ্মণরা এমনকি হয়ত রাজা বা ব্যবসায়ীর পেশা গ্রহণ করতেন, কিন্তু তারা কখনই পারিশ্রমিক পাওয়া ব্যক্তির মতো কাজ গ্রহণ করতেন না, যা হচ্ছে শূদ্রের কাজ। চাণক্য পণ্ডিত ছিলেন এক জন মহান ব্রাহ্মণ, রাজা তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ দিয়েছিলেন। তিনি একটি শর্তে সেই পদ গ্রহণে সহমত হয়েছিলেন যে — তিনি কোন পারিশ্রমিক গ্রহণ করবেন না, তিনি রাজার রাজভবনে থাকবেন না বা তিনি চেয়েছিলেন যে তার জন্য রাজভবনের বাইরে যাতে একটি ভিন্ন ব্যবস্থা থাকে। তিনি কোন পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন না, কারণ তিনি চাননি… যখন তুমি পারিশ্রমিক গ্রহণ করবে, তখন তোমার পরিচালক তোমাকে যা বলবে তোমাকে তা করতে হবে, তা ঠিক এক কুকুরের মত।
শুল্ক বিভাগ এবং অভিবাসনের কর্মক্ষেত্রে লোকেদেরকে দেখুন কেবল পারিশ্রমিক পাওয়ার কারণে তাদেরকে লোকেদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে হয়, তাদেরকে এমন সমস্যাকর পরিস্থিতিতে ফেলা হয়। যদি তুমি কোন কর্পোরেশনের যেকোনো কর্মকর্তার সাথে দেখা করতে চাও, তাহলে তোমাকে প্রহরী, সচিব ও কত সব মানুষদের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে, যারা কেবল সেখানে আছে তোমাকে এটি বলার জন্য — “না!” তারা রুক্ষভাবে বলবে, “না তুমি তাকে দেখতে পারবে না!” (হাসি) এটি হচ্ছে কুকুরের মত মানসিকতা। যাইহোক এটি পাশ্চাত্য দেশীয় সংস্কৃতির দ্বারা প্রচারিত হয়েছে। কেবল পাশ্চাত্য নয়, সমগ্র পাশ্চাত্যেই তা সে পুঁজিবাদী হোক বা সাম্যবাদী, প্রত্যেকে অপর্যাপ্ত প্রতিদান লাভের আশায় কেবল বিশ্বস্তভাবে কাজ করতে বাধ্য। অন্তত পাশ্চাত্য দেশগুলিতে এই ধারণা আছে যে তুমি তোমার চাকরি ছেড়ে দিতে পারো এবং অন্য চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করতে পারো, যেখানে তোমাকে আরো পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। সেখানে এমন কিছু প্রলোভন দেওয়া হয় যে, “আচ্ছা, হয়ত এখানে যথেষ্ট প্রতিদান লাভের আশা আছে।” তবে দেখ সাম্যবাদী রাষ্ট্রগুলিতে তুমি সম্পূর্ণ অপর্যাপ্ত অর্থ পাবে, কিন্তু কোন না কোনভাবে তোমাকে কাজ করতেই হবে। এমন কেউ নেই.. এই সমগ্র বৈদিক সভ্যতায় যে তাদের অতিমাত্রায় কেবল…কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সাম্যবাদী দলের সদস্যদের কেবল কিছু প্রকৃত স্বাধীনতা থাকে, নয়ত প্রত্যেককেই কেবল সেই প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাপনায় বিশ্বস্তভাবে সেবা করতে হবে।
এমনকি আমেরিকাতে এখনও সেখানে বণিক এবং ব্যবসায়িক শ্রেণী আছে, সেখানে অনেক বৈশ্য আছে, কিন্তু সমস্ত বুদ্ধিজীবী এবং সামরিক শ্রেণী, তারা সবাই কেবল সরকার প্রদত্ত বেতনভুক্ত ব্যক্তি হয়ে উঠেছে, যা শুল্কের দ্বারা বজায় রাখা হয় ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর আইনি প্রভাবের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এইভাবে বড় বড় বুদ্ধিজীবীরা তারা বিদ্যালয়ে যায়, সেখানে তারা তাদের পুরো সময় কেবল কোন বড় ধরনের বস্তু নির্মাণের পিছনে অতিবাহিত করে, যা হচ্ছে ক্রেতাদের বিতরণের জন্য, সেই জন্য আসলে সেখানে উন্মুক্ত চিন্তা ধারার বা প্রকৃত মনুষ্য বৈশিষ্ট্য বিকাশের কোন প্রশ্নই নেই। তারা হচ্ছে আসলে বিশ্বস্ত কুকুরদের মতো। তারা কেবল অর্থের জন্য বিশ্বস্তভাবে তাদের প্রভুর সেবা করছে, তাদের সুখ্যাতি করা হয় এবং তাদের নাম, প্রসিদ্ধি হয়, এইভাবে তাদের কিছু প্রতিষ্ঠা লাভ হয়, কিন্তু আসলে মানুষের মঙ্গলার্থে এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজের ক্ষেত্রে বা সত্যের প্রকৃত অনুসন্ধান-এর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষদের খুব কমই সেই প্রকৃত স্বাধীন সক্ষমতা দেওয়া হয়। হয়ত মাত্র কয়েকজনই আসলে এই ধরনের স্বাধীনতা পেয়ে থাকেন এবং প্রভুপাদ পর্যাপ্তভাবে শুকরের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। আমাদেরকে আসলে এর মধ্যে আর বেশি প্রবেশ করতে হবে না। উটের বিষয়ে, তিনি বলেছেন:
তাৎপর্য: উট কাঁটা খেতে ভালবাসে। যে মানুষ পারিবারিক সুখ বা তথাকথিত জাগতিক আনন্দ ভোগ করতে চায়, তাকে একটি উটের সঙ্গে তুলনা করা হয়। জড় সুখ নানারকম কণ্টকে পূর্ণ, তাই মানুষের কর্তব্য জড় জগতের প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে যথাসম্ভব কল্যাণ সাধনের জন্য বৈদিক বিধি-নিষেধের নির্দেশানুসারে জীবন যাপন করা। জড় জগতে জীবন ধারণ করাটা এক রকম নিজের রক্ত শোষণ করার মতো। জড় সুখভোগের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে মৈথুন। মৈথুন সুখ উপভোগ নিজের রক্ত শোষণ করারই মতো এবং সে সম্বন্ধে বিশ্লেষণ করার বিশেষ কিছু নেই। উট যখন কাঁটা চর্বণ করে, তখন সে তার নিজের রক্তই গলাধঃকরণ করে। কাঁটা চর্বণের ফলে তার জিহ্বা ক্ষত বিক্ষত হয়, এবং তার মুখে রক্ত ঝরতে থাকে। সেই রক্ত মিশ্রিত কাঁটা খেয়ে উট মনে করে সেই কাঁটাগুলি কত সুস্বাদু।
[তাৎপর্যের কিছুটা অংশ পড়ার পর গুরুমহারাজ ব্যাখ্যা করছেন]
জয়পতাকা স্বামী: ভারতে তোমরা এটি দেখতে পার। আসলে তারা যেটা খায় তা হল, তারা কাঁটা গাছের কাছে যায় এবং সেটি খায়। তারা এত মূর্খ যে তারা মনে করে সেই সব কাঁটাগুলির স্বাদ মিষ্টি কারণ যখন তারা সেই কাঁটা চর্বণ করে, তখন তারা কিছু সুমিষ্ট স্বাদ পায়, তারা এটি উপলব্ধি করতে পারে না যে এই মিষ্টি স্বাদ হচ্ছে তাদের রক্ত। যদি একজন তোমাকে আপেল দেয়, তখন তুমি তা খেলে বুঝবে খুব মিষ্টি স্বাদ। এটাও সেই রকম! তারা দেখে না যে তাদের মুখের মধ্যে কি হচ্ছে। তারা এত মূর্খ যে তারা এটা উপলব্ধি করতে পারে না যে তাদের জিহ্বা কেটে যাচ্ছে। নিশ্চয়ই তা খুবই অনুভূতিশীল নয় (ভক্তরা হাসছেন) যখন তারা কাঁটা চর্বণ করে, তখন তারা রক্ত মিশ্রিত কাঁটার স্বাদ গ্রহণ করে মনে করে যে এটি খুবই সুমিষ্ট স্বাদযুক্ত আহার্য, “আমি ভাবছি কেন অন্য কেউ এটি খায় না?” (ভক্তরা হাসছেন) “তারা সবাই এইসব আমার জন্য রেখে গেছে।” [উট চিন্তা করে] (সবাই ক্রমাগত হাসছেন)
তাই, শ্রীল প্রভুপাদ বলছেন:
তাৎপর্য: তেমনই বড় বড় ব্যবসাদার ও শিল্পপতিরা যে অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে নানা প্রকার অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে, তা তাদের নিজেদের রক্তমিশ্রিত কর্মের কণ্টকময় ফল ভোগ করার মতো। তাই শ্রীমদ্ভাগবতে এই সমস্ত অসুস্থ ব্যক্তিদের উটের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
গর্দভ এমনই একটি পশু যে পশুদের মধ্যে সবচাইতে বড় মূর্খ বলে বিদিত। গর্দভ অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে এবং তার নিজের কোন রকম লাভ ছাড়াই বিরাট বিরাট ভারি বোঝা বহন করে। গর্দভেরা সাধারণত ধোপার কাজে নিযুক্ত থাকে, যার সামাজিক অবস্থা খুব একটা সম্মানজনক নয়। আর গর্দভের একটি বিশেষ গুণ হচ্ছে যে, সে গর্দভীর লাথি খেতে খুব অভ্যস্ত। গর্দভ যখন মৈথুন আকাঙ্ক্ষা করে তখন গর্দভী তাকে লাথি মারে, তথাপি মৈথুন-সুখের জন্য গর্দভ তার পিছন পিছন যায়। তাই স্ত্রৈন ব্যক্তিদের গর্দভের সঙ্গে তুলনা করা হয়। সাধারণ মানুষ অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে, বিশেষ করে এই কলিযুগে। এই যুগে মানুষ ঠেলাগাড়িতে অথবা রিকশায় অত্যন্ত ভারি বোঝা বহন করে গর্দভের কাজে লিপ্ত।
[তাৎপর্যের কিছুটা অংশ পড়ার পর গুরুমহারাজ ব্যাখ্যা করছেন]
জয়পতাকা স্বামী: তোমরা ঠেলা জান? ভারতে বলদের গাড়ি আছে। কলকাতাতে আমি দেখেছি যে তাদের বলদ ছাড়া বলদের গাড়ি আছে, এর পরিবর্তে সেটিকে মানুষ ঠেলে নিয়ে যায়। এটা হচ্ছে ছোট এবং কখনো কখনো তারা তাতে অর্ধেক টন, এক টন স্টিল বা অন্যান্য কিছু বোঝাই করে। তোমরা দেখবে যে সেটা ঠেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য দু’জন মানুষ সামনে থাকে এবং একজন পিছনে থাকে, ঠিক যেমন বলদরা তারা টেনে নিয়ে যায়। তোমরাও তাদেরকে রাস্তা দিয়ে আসতে দেখবে, আর হঠাৎ করে কোন বড় বাস বা এমন কোনো যান এলে, তখন তারা সেটিকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে যে এক টন বোঝাই করা আছে, তা তাদের কাছে তত বেশি ভার নয়। তখন তার যে এক টন ভরবেগ আছে, তারা সেটিকে থামানোর চেষ্টা করে। তুমি তাদেরকে সেটি চাপ দিয়ে থামাতে দেখতে পারবে এবং তখন তাদের ঘাম ঝরে, তারা সেটিকে থামানোর চেষ্টা করে, (ভক্তরা হাসছেন) কিন্তু তারা সেই বাসের দিকে ছুটে যেতে চায় না। আমি বলতে চাইছি, কেন মানুষেরা গর্ধবের মত কাজ করছে? তারা এই সব কিছু করছে কারণ তারা এর জন্য ভালো পারিশ্রমিক পায়। ছোট ট্রাকে করে বহন করার পরিবর্তে, বলা যাক তুমি শহরের মধ্যে কোনকিছুর স্থান পরিবর্তন করতে চাও, যা ট্রাকের ক্ষেত্রে ততটা বেশি ভারবাহী নয়, অথবা একটি ট্রাক এর ক্ষেত্রে হয়ত ৫০ টাকা খরচ হবে, আর তারা এটি ১২ টাকা বা ২০ টাকায় তা করে দেয়, যাতে তারা অধিক দুইবার ভার বহন করতে পারে ও এইভাবে তারা একদিনে ৭০ থেকে ৮০ ডলার উপার্জন করে। তারা অনেক অর্থ পায়, তাই তারা রিক্সা টানে। ভারতে একজন রিকশা চালকের গড় আয়ু প্রায় ৩৫ বছর, কিন্তু কেবল অর্থ এর জন্য তারা সেটি করে। এইভাবে তারা যদি গ্রামে থাকত তাহলে যা আয় করত, তার থেকে বেশি অর্থ তারা আয় করে।
তাৎপর্য: মানব সভ্যতার তথাকথিত প্রগতি মানুষকে গর্দভের কাজে লিপ্ত করেছে। বড় বড় কলকারখানায় শ্রমিকেরাও এই প্রকার ভারবাহী কার্যে যুক্ত, এবং দিনের বেলায় কঠোর পরিশ্রম করার পর সেই সমস্ত দুর্ভাগা শ্রমিকেরা কেবল মৈথুন সুখের জন্যই নয়, নানা প্রকার গৃহস্থালী ব্যাপারেও তাদের স্ত্রীর লাথি খায়।
অতএব শ্রীমদ্ভাগবতে আধ্যাত্মিক চেতনাবিহীন মানুষদের যে কুকুর, শূকর, উট এবং গর্দভের শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছে তা মোটেই অত্যুক্তি নয়। এই প্রকার মূর্খ জনসাধারণের নেতারা এই সমস্ত কুকুর-শূকরদের দ্বারা পূজিত হয়ে অত্যন্ত গর্ব অনুভব করতে পারে, কিন্তু সেটি খুব একটা সম্মানজনক নয়।
[তাৎপর্যের কিছুটা অংশ পড়ার পর গুরুমহারাজ ব্যাখ্যা করছেন]
জয়পতাকা স্বামী: একবার আমি দেখেছিলাম, আমার পূর্বাশ্রমে কোন এক চলচ্চিত্র। আমি ভুলে গেছি চলচ্চিত্রটি কি ছিল, কিন্তু আমার মনে আছে যে একজন ব্যক্তি গাড়ি চালাচ্ছিল এবং সে দেখল, তখন ছিল এক ট্রাফিক জ্যাম এবং সে দেখল যে ট্রাফিক জামে প্রত্যেকেই তারা সবাই ভেড়া এবং ছাগল হয়ে গেল এবং সেইসময় তারা গাড়ির মধ্যেই বসেছিল। আমি জানিনা এটা কোন হাস্যকৌতুক বা এমন কিছু ছিল নাকি, কিন্তু তারা এটা দেখাতে চাইছিল যে প্রত্যেকেই পশুর মত বা এইরকম কিছু। এটি দেখিয়েছিলে যে সব কুকুর, ভেড়া, প্রত্যেকে, সব মানুষেরা পশু হয়ে গেছে, তারা ট্রাফিক জ্যামে অপেক্ষা করছে। আমার মনে হয় এটা ছিল যেন নিজের স্বার্থসিদ্ধির পিছনে ছুটে চলার মত।
ভক্ত: হ্যাঁ!
জয়পতাকা স্বামী: তোমরা এখানে সেই ছবি দেখতে পারছ, সেখানে নেত্রীরা বলছে, আমি গতকাল খবরের কাগজে দেখলাম, এটি দেখানো হয়েছে যে সেখানে কিছু হাতি এবং একটি গর্ধব একে অপরকে আলিঙ্গন করছে, হাত মেলাচ্ছে। এগুলি হচ্ছে রাজনীতির প্রতীক। তারা ইতিমধ্যেই দেখো (ভক্তরা হাসছেন) তাদের পরবর্তী দেহের প্রস্তুতি করছে। (ভক্তরা হাসছেন) নেত্রীরা যখন তারা বক্তব্য রাখছে, তখন তোমরা দেখতে পারো যে সব মানুষেরা গর্ধব, কুকুর, শুকর, উট-এ রূপান্তরিত হয়ে সেই সব ব্যক্তিদের জন্য হাততালি দিচ্ছে। উফ উফ (হাসি)
ভক্তিন: যখন আমরা ফুটবল খেলতাম, আমরা ফুটবল খেলার বিভিন্ন ভাগ করে দিতাম। যেমন জর্জিয়াতে তারা নিজেদেরকে বুল ডগ বলে এবং প্রত্যেকে, জর্জিয়ার সমস্ত সমর্থকেরা চারিদিকে যেত এবং তারা “রউফ”(কুকুরের ডাক) করত... তারা কুকুরের মত চিৎকার করত, তারপর তারা দৌড়ে যেত এবং তাদের গায়ে কিছু ফুটিয়ে দিয়ে বলত, “তুমি কি এক নোংরা কুকুর?” “হ্যাঁ আমি হচ্ছি সত্যিই নোংরা কুকুর।” এবং তারপর সেখানে ছিল রেজরব্যাক (শুকর বিশেষ), শুকর, কার্ডিনাল (পাখি) (ভক্তরা হাসছেন) তারা বলত, “তুমি কি শুকর?” “হ্যাঁ!” এইভাবে তারা সম্পূর্ণরূপে নিজেদেরকে এইভাবে সনাক্ত করত যে, তারা হচ্ছে কুমির বা তারা হচ্ছে বাঘ… এইভাবে তারা ছিল উন্মাদ।
জয়পতাকা স্বামী: তারা যদি সেই চেতনা নিয়ে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে তাদের পরবর্তী জীবনে তারা কি জন্ম পাবে স্টিভ? যদি তারা এই চিন্তা করে মৃত্যুবরণ করে যে তারা হচ্ছে এক কুকুর?
স্টিভ: সে একটি কুকুর হবে, হম?
জয়পতাকা স্বামী: সেই জন্য…
তাতপর্য: শ্রীমদ্ভাগবতে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, কেউ মনুষ্যবেশী এই সমস্ত কুকুর-শূকরদের নেতা হতে পারে, কিন্তু তার যদি কৃষ্ণভাবনামৃত-বিজ্ঞানের আলোকে উদ্ভাসিত হওয়ার অভিরুচি না থাকে, তা হলে সেই সমস্ত নেতারাও এক-একটি পশু ছাড়া আর কিছুই নয়। তাকে একটি শক্তিশালী পশু বা বিশাল পশু বলে বিবেচনা করা যেতে পারে, কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবতের বিচারে, তার নাস্তিক মনোভাবের জন্য তাকে মনুষ্য শ্রেণীভুক্ত করা হয়নি। পক্ষান্তরে বলা যায় যে, কুকুর-শূকরের মতো ব্যক্তিদের ভগবদ্বিহীন এই সমস্ত নেতারা অধিক পরিমাণে পাশবিক গুণসম্পন্ন বড় বড় এক-একটি পশু।
জয়পতাকা স্বামী: ঠিক যেমন এখন ফ্লোরিডাতে পাম সৈকতের আদালতে একটি মামলা চলছে, পুলিৎজার-এর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা। আমার মনে হয়, আমি জানিনা, পুলিৎজারের পুলিৎজার পুরস্কারের সাথে কোন সম্বন্ধ আছে নাকি, আমার মনে হয় সে সেই একই পরিবারের। তবে আমি জানিনা সেটা সে নাকি বা সে সেই একই পরিবার নাকি। সে একজন বিরাট বিখ্যাত ব্যক্তি, সেখানে এই পুরো মামলা হয়েছিল যে কে তত্ত্বাবধান করতে পারবে। এটি ছিল একটা বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা, তাই সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষণ কে করবে? এই মামলায় তারা একে অপরকে দোষারোপ করছিল যে কিভাবে সে কোকেন গ্রহণ করে এবং সেই মহিলা হচ্ছে এক সমকামী এবং সেই ব্যক্তি সমকামী, আর কিভাবে সেই স্ত্রী সম্ভবত কসাই থেকে শুরু করে, যে রুটি বানায় ও যে গাড়ি চালক এইভাবে ১২ জনের সাথে বিছানায় সম্পর্ক করেছে এবং তাদের কাছে কিছু ভিডিও ছিল যে কিভাবে সে কত নীচ এবং এরপর সে এসেছিল এবং বলছিল যে, কিভাবে অন্যজন কত অধঃপতিত।
ভক্ত: তাদের উভয়কেই একে অপরের থেকে দূরে নিয়ে যাওয়া উচিত।
জয়পতাকা স্বামী: ঠিক! (হাসি) এই হচ্ছে উন্নত সমাজ। এখানে এটি বলা হচ্ছে .... ভগবতচেতনাবিহীন এই সমস্ত তথাকথিত বড় বড় শক্তিশালী প্রভাবসম্পন্ন ব্যক্তিরা যারা আছে, আসলে এর থেকে যা বের হয়ে আসে, তা হচ্ছে তারা কেবল শক্তিশালী, ক্ষমতাশালী এবং এমনকি সাধারণ মানুষ যারা সব ম্যাগাজিন দেখে, অন্যান্য বড় বড় ব্যক্তিদেরকে দেখে, তাদের থেকে আরও অধিক অধিক পাশবিক। আর সমাজ তাদেরকে অনুকরণ করছে, তাদেরকে নকল করছে, তাদের উপভোগের মানদণ্ড অনুকরণ করতে চাইছে, এবং তারা হচ্ছে হীন থেকে হীনতর। তারা হয়ত এমনকি এই জড়জগতে যারা গর্ধব বা উটের মত কাজ করছে, সেই সমস্ত সাধারণ মানুষের থেকেও অধিক পাপী। এই সমস্ত ব্যক্তিরা তারা হচ্ছে মহাপশু। এই হচ্ছে পরিস্থিতি যে এই জগতের তথাকথিত নেতারা, যদি তুমি তাদের ব্যক্তিগত জীবন দেখ, তাহলে বেশিরভাগ প্রায় ৯৯% ক্ষেত্রে দেখবে যে তারা আসলে নৈতিকভাবে ফতুর, আধ্যাত্মিকভাবে নিঃস্ব। আমার কলেজের দিনের অভিজ্ঞতায় আমি এটি বুঝেছি এবং চাই যে…. এটি অবশ্য খবরের কাগজেও প্রকাশ হয়েছিল। এখন এক বড় সমস্যা হচ্ছে যে সমস্ত কলেজের শিক্ষকরা তাদের শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়মিতভাবে যৌনসঙ্গ করে চলেছে এবং সেটি এক মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করছে, কারণ শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদের দিকে কাল্পনিকভাবধারা নিয়ে দেখছে এবং তাই এখন শিক্ষকরা তারা পড়াতে এলে, সেটির পরিবর্তে শিক্ষার্থীরা দেখছে যে ভালো নম্বর পাওয়া খুবই সহজ যে শিক্ষকের সাথে শুধু এক সম্পর্ক করতে হবে। তারা সকলের সাথে সব বিভিন্ন ধরনের সম্পর্ক রাখছে। বিষয়টি হচ্ছে যে সমাজের এই সমস্ত তথাকথিত প্রতিপালনীয় সংস্থাগুলি ধীরে ধীরে পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে।
আমরা ফ্লোরিডাতে ছিলাম, সেখানে এইরকম বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনী দেখেছিলাম। তারা ইতিহাস দেখাচ্ছিল, তারা দেখাচ্ছিল যে কিভাবে রোম ছিল এক বিরাট সাফল্য। তারা কত অর্থনৈতিক বিকাশ করেছিল, তারপর তারা দেখাল যে রোমে আনন্দের প্রবণতার কারণে অত্যাধিক উপভোগ করার ফলে তা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। কিন্তু কোন না কোনভাবে সেই পুরো প্রদর্শনী ছিল এই ধারণায় আধারিত যে মানুষদের তাদের উপভোগের প্রবণতা সীমাবদ্ধ করা উচিত। এমনকি যদিও তারা সেটা প্রদর্শন করেছিল, কিন্তু বর্তমানে জগতে কোথায় লোকেদের মধ্যে সামান্যতম সর্তকতা আছে? আমি এর কোন লক্ষণ দেখিনি, এমনকি নৈতিকদিক থেকেও সামান্যতম সর্তকতা নেই।
এখন রেগান, রাষ্ট্রপতি বলেছেন যে তিনি মাদক বন্ধের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলারের অভিযানে অংশ নিতে চলেছেন, কিন্তু লোকেদেরকে উচ্চতর স্বাদের শিক্ষা দেওয়ার কোন কার্যক্রম নেই, এটা বোঝানোর কোন কার্যক্রম নেই যে জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কি, যা বুঝলে তারা আর ড্রাগ গ্রহণ করতে চাইবে না। তারা বলেছে, আমরা অবৈধ মাদক বিক্রেতাদের পিছনে পড়ে নেই, আমরা মাদক ক্রয়কারীদের পিছনে নেই, আমরা সংঘটিত অপরাধ রুখতে চাই। আমরা এক অধ্যায় সমাপ্ত করে নতুনভাবে শুরু করতে চাই, কিন্তু মানুষেরা তারা এই সমস্ত জিনিস গ্রহণ করতে চায় কারণ তারা আধ্যাত্মিকভাবে নিঃস্ব। কেবল সংঘটিত অপরাধে সহায়তাকারিদের গ্রেপ্তার করা হলে হবে না এবং অবশ্য এই সমস্ত মানুষদেরকে ধরার জন্য তারা কত অর্থ ব্যয় করছে। এর ফলে যেটা হতে চলেছে, তা আসলে আরেকটি ভিন্ন ব্যাপার। সাধারণত এই সমস্ত বিষয়গুলি হচ্ছে কেবল রাজনৈতিক কার্যকলাপ, কিন্তু আসলে বিষয়টি হচ্ছে....আসলে মানুষদের জন্য কি করা হচ্ছে? মূল বিষয় হচ্ছে যে কেবল উত্তর আমেরিকাতেই সরকারের দ্বারা ৮০ বিলিয়ন ডলারের একটি ড্রাগের ব্যবসা চলছে বলে জানা গেছে। ৮০ বিলিয়ন ডলার তা সম্ভবত....
ভক্ত: এক ভগ্নাংশ।
জয়পতাকা স্বামী: প্রকৃতপক্ষে মোটের ঠিক এক ভগ্নাংশ। ৮০ মিলিয়ন কালোবাজারি, যা সম্ভবত এই বিশ্বে থাকা বেশিরভাগ দেশের মোট দেশীয় পণ্যের থেকে অধিক, কিন্তু মানুষদের ড্রাগ না গ্রহণ করার জন্য আসলে কি শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে? তোমাদের পুলিৎজার এবং এইসব বড় বড় মানুষ আছে, যারা সবাই ড্রাগ গ্রহণ করে, প্রত্যেকেই এই সবকিছু করছে। তোমরা দেখবে খবরের কাগজে বেরিয়েছে যে কংগ্রেসের সেনেট এর সদস্যরা কোকেন গ্রহণ করে বা বড় ভাষণ দেওয়ার আগে এমন কোন কিছু গ্রহণ করে…
ভক্ত: আমি এক্ষুনি রেডিওতে শুনলাম যে এখানে শহরে সবেমাত্র এই ঘটনাটি ঘটেছে যে, মারিজুয়ানা কারবারি করার জন্য যীশু খ্রিস্টের চার্চের ধর্মযাজককে গ্রেফতার করা হয়েছে। (হাসি) এই ব্যক্তি ৪৫ বা ঐরকম বয়সি।
ভক্ত: এখানে লাঞ্চ বার্গে, আমার মনে হয় ফুটবল প্রশিক্ষক খেলোয়াড়দের সাথে জুয়া খেলার কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
জয়পতাকা স্বামী: জুয়া খেলেছে কিভাবে?
প্রত্যুত্তর: টাকার জন্য কার্ড খেলেছে।
জয়পতাকা স্বামী: অবশ্য, এটা হচ্ছে রাজার দায়িত্ব, শাসকের দায়িত্ব, এক দিক থেকে প্রশাসনের এটি দেখার দায়িত্ব যে কালোবাজারি যাতে বন্ধ হয়। বৈদিক সভ্যতায় এই কারণে সমর্থিত ব্রাহ্মণীয় প্রচারকরা থাকতেন, যারা আসলে মানুষদেরকে যথার্থ নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতেন যে আসলে জীবনের যথার্থ আধ্যাত্মিক লক্ষ্য কি, যাতে মানুষেরা নিজেরাই এই সমস্ত কিছুর প্রতি আগ্রহী না হয়। এবং এখন যেমন তুমি বললে, তথাকথিত খ্রিস্টান ধর্মযাজকরা, যাদের প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভবত এখানে সেই দায়িত্ব পালনের কথা, তারাও অন্যান্যদের মতো এসবের প্রতি আগ্রহী। হয়ত তাদের মধ্যে কেউ কেউ সাধারণ জনতার থেকে সামান্য ভালো, তবে সাধারণত… এই কাজটি খুবই বড় কাজ এবং এর জন্য প্রয়োজন যথার্থ দৃষ্টান্তের। এই কারণে ব্যক্তি ভাগবত বা শুদ্ধ ভক্তরা যারা আসলে শুদ্ধ আধ্যাত্মিক জীবনযাপন করছে, তারা লোকেদের মনুষ্য জীবনযাপনের যথার্থ মানদণ্ড প্রদর্শন করতে পারেন। এটি মনুষ্য সমাজের প্রয়োজনীয়তা। মানুষেরা বলে যে আপনারা সমাজে পরাশ্রয়ী ব্যক্তি, কিন্তু আসলে যদি ব্রাহ্মণেরা পরাশ্রয়ী হয়, তাহলে এই সমস্ত আইন প্রয়োগকারী ব্যক্তিরা কি? এইসব কার্যকলাপ পরিচালিত হওয়ার গোপন স্থানে গিয়ে যাদের এই ড্রাগ চোরাই চালানের বিষয়টি বন্ধ করার কথা, সেই সমস্ত ব্যক্তিদের তারা পারিশ্রমিক হিসেবে ২০০ মিলিয়ন ডলার অর্থ দিচ্ছে, তারা এইজন্য ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে, কিন্তু কতজন ব্যক্তি কৃষ্ণভাবনামৃত থেকে সহায়তা প্রাপ্ত হয়েছে? এবং কৃষ্ণভাবনাময় হয়ে আরও অধিকভাবে ধীরে ধীরে এই সমস্ত ধরনের বাজে অভ্যাস পরিত্যাগ করেছে? চিন্তা করো তাহলে তারা কত কত লক্ষাধিক ও কোটি কোটি ডলার সংরক্ষণ করতে পারত। আসলে আমরা সমাজের জন্য সর্বোচ্চ সেবা করছি এবং আমরা এমনকি এর জন্য তাদের থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলারও চাইছি না। কিন্তু তারা যদি আমাদেরকে তা দিতে চায়, তাহলে আমরা সেটাও ব্যবহার করব… (ভক্তরা হাসছেন) এমনকি আমাদের হয়ত রেগানের কাছে এটি লেখা উচিত যে ড্রাগ বন্ধ করার জন্য তার সেই পরিমাণ অর্থের অর্ধেক আমাদেরকে দেওয়া উচিত এবং আমরা অনেক প্রসাদ বিতরণ করব, বড় অনুষ্ঠান করব, প্রত্যেককে দিয়ে হরে কৃষ্ণ নাম করাব, তাহলে তখন আর তাদের কোনো ড্রাগ ব্যবহার করতে হবে না। তাই তো, স্টিভ?
স্টিভ: একদম ঠিক!
জয়পতাকা স্বামী: হরিবোল!
ভক্তগণ: (হাসছেন) হরিবোল!
ভক্ত: কখনো কখনো যা শ্রীল প্রভুপাদ এই বিষয়ে বলেছিলেন, ড্রাগ.... তারা তাকে জিজ্ঞেস করেছিল… আমার মনে হয় এটি ছিল নিউইয়র্ক। কেউ একজন তাকে জিজ্ঞেস করেছিল বা নয়ত তিনি এই বিষয়ে বলছিলেন তোমরা আসলে ড্রাগ গ্রহণ করো না, তুমি সদাসর্বদা উচ্চ স্থিতিতে থাকতে পারবে। আমার মনে পড়ছে না তিনি সেটি বলেছিলেন নাকি …
জয়পতাকা স্বামী: তারা এইরকম জিনিস হাতে হাতে বিলি করত যে, “স্টে হাই ফরেভার” (সর্বদা উচ্চস্থিতিতে থাক) অবশ্য এখন আমরা সেই সমস্ত কিছু এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি, কারণ আমরা জানি যে এটি আসলে এক ন্যূনোক্তি। কিন্তু সেটাই হচ্ছে প্রকৃত বিষয় যে হরে কৃষ্ণ নাম জপের মাধ্যমে কেউ সবসময় আনন্দে থাকতে পারে। তখন এই সমস্ত কৃত্রিম সহায়তা বা কৃত্রিম ধরনের রাসায়নিক বা এই সমস্ত ব্যবস্থাসমূহের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কোথায় সেই ব্যক্তি, কোথায় সেই নেত্রী? যদি বাস্তবে প্রত্যেকেই মার্জিত পশুর মত হয়, তাহলে তারা কিভাবে আসলে সমাজকে উন্নত করার আশা রাখতে পারে? সেখানে আধ্যাত্মিক মানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের থাকতে হবে এবং তাদের প্রভাবে তাহলে আসলে এক ধরনের আধ্যাত্মিক বিপ্লব হবে যা বিপথগামী সভ্যতা, যারা এই যে নাস্তিক সভ্যতা গঠিত হয়েছে তার পুরো দিক পরিবর্তন করবে। এটি হচ্ছে এই হরে কৃষ্ণ আন্দোলনের উদ্দেশ্য, যা শ্রীমদ্ভাগবতে উল্লেখ করা হয়েছে যে সমাজে এক আধ্যাত্মিক বিপ্লব সৃষ্টি করা, যাতে মানুষ, অন্তত বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা তাদের সমস্ত বাজে অভ্যাস পরিত্যাগ করে।
এখন বিশ্বে এত বড় বেকারত্বের সমস্যা আছে। মানুষেরা তারা খুবই দুঃখ অনুভব করে যে তাদের কোন চাকরি নেই। তারা তাদের প্রভুর জন্য ঠিক এক কুকুরের মত কাজ করতে পারছে না, তাই তারা খুবই দুঃখিত। এবং প্রত্যেকেরই এইভাবে কাজ করার কথা, তবে এটির পরিবর্তে এখন তাদেরকে কিভাবে ব্রাহ্মণ হতে হয় সেই শিক্ষা দেওয়া উচিত। এবং মানুষদের বোঝা উচিত যে যদি তারা সরল জীবনযাপন করে, আধ্যাত্মিক জীবন অনুশীলন করে, তাহলে সেই সমস্ত ব্যক্তি যারা ঘরে বসে সারাদিন কার্ড খেলে, টিভি দেখে এবং কথা বলে, তারা তাদের থেকে ভালো। এটিকে তোমরা কি বল?… কল্যান ভাতা। আসলে এই বেকারত্বের সমস্যার সমাধান হবে যদি এক ভালো শতাংশ ব্যক্তিরা আধ্যাত্মিক জীবনে যুক্ত হয়। বর্তমানে যদি তুমি এই সমস্ত খ্রিস্টান চার্চের একজন মন্ত্রী হতে চাও, তাহলে তুমি এক বছরে ৩০ হাজার ডলার পারিশ্রমিক পাবে। যদি বড় প্যারিস চার্চের রোমান ক্যাথলিক হও, তাহলে তুমি ৩০,০০০ পাবে এবং সর্বনিম্ন ২০,০০০ পাবে, এছাড়া গাড়ি, টিভি, তোমার নিজের বাড়ি। যদি তুমি ক্যাথলিক হও, তাহলে তোমাকে ব্রহ্মচারী হতে হবে, কিন্তু তুমি যদি প্রোটেস্ট্যান্ট হও, তাহলে তুমি বিবাহ করতে পারো। এক বড় পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, আর তোমাকে কেবল ৮ ঘন্টার জন্য… এক সপ্তাহে রবিবারে ৩ ঘন্টার জন্য কাজ করতে হবে।
ভক্ত: এক বছরে ৫২ দিন।
জয়পতাকা স্বামী: হম? (হাসি) এক বছরে ৫২ দিন। আচ্ছা, তারা আরও কিছু ছুটির দিন পেয়ে থাকে। মূল বিষয়টি হচ্ছে ভক্তরা তারা কোনো বড় পারিশ্রমিক নেয় না কিন্তু আসলে তারা মানুষদের উন্নতির জন্য কার্য করছে। এটিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক সেবা হিসেবে স্বীকার করা উচিত। হরে কৃষ্ণ!
ভক্তগণ: হরে কৃষ্ণ!
জয়পতাকা স্বামী: প্রশ্ন আছে? হম?
ভক্তিন: আমরা কি বাকি কাহিনী শুনতে পারি, যেটি আপনি নিউ অরলেন্সে বলা শুরু করেছিলেন যে প্রথম গ্রন্থ বিতরক দলের বিষয়ে? আপনি বলেছিলেন যে পরবর্তী দর্শনে আপনি এটি বলবেন। (ভক্তরা হাসছেন)
জয়পতাকা স্বামী: আমি কোথায় বলা শেষ করেছিলাম?
ভক্ত: যখন গ্রন্থগুলি চুরি হয়ে গিয়েছিল। গ্রন্থগুলি চুরি হয়ে গিয়েছিল। সেখানে আপনি বলা থামিয়েছিলেন।
জয়পতাকা স্বামী: তোমরা আগে কখনও তা শোনোনি?
ভক্ত: আমার মনে পড়ছে একটা ঘটনা শুনেছিলাম, কিন্তু আমার মনে পড়ছে না তা কিভাবে শেষ হয়েছিল।
জয়পতাকা স্বামী: আচ্ছা, প্রথম অংশটি ছিল যে গোবিন্দজির শ্রীবিগ্রহ শ্রীনিবাস আচার্যকে বলেছিলেন যে বৃন্দাবনের গৌরীয় বৈষ্ণবগণ, ষড়্ গোস্বামীগণ লিখিত গ্রন্থগুলি নিয়ে যেতে। এরপর তারা…কেবল সংক্ষেপে বলছি… এরপর শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর, শ্রীনিবাস আচার্য এবং শ্যামানন্দ পণ্ডিতকে সশস্ত্র প্রহরী ও গ্রন্থসমূহ সহ ষড়্ গোস্বামীগন তাদেরকে প্রেরণ করেন। তারা শ্রীল জীব গোস্বামী, শ্রীল গোপাল ভট্ট গোস্বামী, শ্রীল রঘুনাথ দাস গোস্বামী, শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী, শ্রীল লোকনাথ গোস্বামী, এবং অন্যান্য গোস্বামীগন যেমন শ্রীল ভূগর্ভ গোস্বামী ও দ্বিজ হরিদাস ও অন্যান্য যারা সেই সময় ছিলেন, তারা সকলে তাদেরকে বিদায় দিলেন। তারা পূর্বদিকে গিয়েছিলেন এবং সেখানে যা হয়েছিল যে, সেখানে বিরামবীরবিক্রম মহাদেব শাহ নামে বা এইরকম নামে এক রাজা ছিল। এবং তিনি ছিল বিষ্ণুপুরের রাজা, তার কাছে এক জ্যোতিষী ছিল যে তার রাজধানীর ভিতরের মুখ্য পথ দিয়ে যখন কোন অত্যন্ত মূল্যবান ধন-সম্পদ আসত, তখন সে তাকে অবগত করাত এবং তার বিশেষ CIA (গোয়েন্দা গোষ্টি) ছিল, সবুজ ব্যারেট, কালো ব্যারেট, যাই হোক যারা চোরদের মত বসন পরিধান করত এবং বাইরে গিয়ে তারপর চুরি করে সেই সমস্ত কিছু রাজার কাছে নিয়ে আসত। তখন যখন মানুষেরা রাজার কাছে আসত। তিনি বলত “আমি সেইসব চোরদেরকে ধরার চেষ্টা করব।” কিন্তু আসলে সেই ছিল সবথেকে বড় চোর। (ভক্তরা হাসছেন) তার জ্যোতিষী তাকে বলল যে, “এক অতি অতি মহা মূল্যবান সম্পদ কয়েকজন ব্যক্তি বহন করে নিয়ে আসছে। এটি তত ভালোভাবে সুরক্ষিত নয় এবং এটি হচ্ছে সবথেকে অমূল্য, অমূল্য সম্পদ।” তার গণনা অনুসারে — এটি ছিল সবথেকে মূল্যবান বস্তু, তখন রাজা অত্যন্ত উতলা হয়ে পড়ল এবং তিনি তার লোকেদেরকে ডেকে বলল, “বাইরে যাও! সেখানে এক বড় বাক্স আছে, তোমরা সেটি নিয়ে এসো।” সে খুব ভালো জ্যোতিষী। তখন তারা আসে এবং শ্রীনিবাস আচার্য, শ্রীল নরোত্তমের শিবির চারিদিকে ঘিরে ফেলে এবং অপেক্ষা করতে থাকে। যখন রাত্রে তারা সবাই নিদ্রা গিয়েছিলেন, তখন সেই সমস্ত প্রহরী যারা সেখানে ছিল, তারা নিদ্রাহীন অবস্থায় ছিল এবং তখন তারা ভিতরে এসে বহনকারী গাড়ির মধ্য থেকে সেই পাণ্ডুলিপির বড় বাক্সটি চুরি করে নেয়। তার মধ্যে ছিল শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, যা ছিল একমাত্র হস্তলিখিত গ্রন্থ। তাঁরা সেগুলিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন নবদ্বীপে অনুলিপি তৈরি করার জন্য এবং আসল গ্রন্থটি তারা চুরি করে নিয়েছিল ও সেই বাক্সের মধ্যে এক বড় তালা ছিল, তাই তারা রাজার কাছে সেটিকে নিয়ে আসে। রাজা তাদের সবাইকে ২০০ স্বর্ণ মুদ্রা উপহার দিয়েছিল। তারপর তিনি তাদেরকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়ে, সেটি নিয়ে তার ঘরের ভিতর ফিরে আসে। তিনি তার সচিবদের দিয়ে সেই সম্পদের বাক্সের তালা ভাঙে ও বাক্সটি খোলে। (ভক্তরা হাসছেন) এখানে কোন মনি মানিক্য নেই! এর পরিবর্তে তিনি দেখল যে এই সব হচ্ছে পাণ্ডুলিপি। তিনি বলল, “এটা কি!!” এবং তারপর তিনি দেখল যে এই সব কিছু হচ্ছে হস্তলিখিত গ্রন্থ এবং তিনি দেখল যে চৈতন্য চরিতামৃত নিচে রাখা হয়েছিল, কিন্তু কোন না কোনভাবে নিজে থেকেই এটি উপরে চলে এসেছে এবং তিনি সেটি দেখছিল, তবে কিছু বুঝতে পারছিল না। তিনি বলল, “এইসব কিছু হচ্ছে পবিত্র শাস্ত্র গ্রন্থ। এগুলি হচ্ছে বেদের থেকে সংগৃহীত উধৃতি এবং অন্যান্য কিছু।” তারপর তিনি খুবই ভয় পেল যে—এখন আমার পাপ সীমা ছাড়িয়েছে, তিনি মানুষদের থেকে স্বর্ণ এবং অন্যান্য বস্তু চুরি করছিল, কিন্তু ব্রাহ্মণদের দান দিয়ে এই পাপ মোচনের চেষ্টাও করত, কিন্তু এখন তিনি উপলব্ধি করতে পারছিল যে, “এটি হচ্ছে কোন মহান সাধুর বা কোন মহান বৈষ্ণবের সম্পত্তি যা চুরি হয়েছে, এবং আমি সেটা চুরি করেছি, আমি কোন মহান পণ্ডিতের সম্পত্তি চুরি করেছি, বেদ চুরি করেছি, এখন আমি এক মহা অপরাধে দোষী। আমার সমস্ত পুন্যকর্ম শেষ হয়ে গেল! এখন সবকিছু শেষ হয়ে গেল! আমি এই মহা অপরাধের জন্য কঠোর দণ্ড ভোগ করব।” এবং তিনি বুঝতে পারছিল না যে এই গ্রন্থগুলিতে কি বলা হয়েছে, কারণ তা এতই গভীর তত্ত্ব সমন্বিত। তিনি তার কিছু পণ্ডিতদের দিয়ে তা তার কাছে পড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তারা সবাই সব বিভ্রান্তিমূলক নির্বোধের মত ধারণা প্রদান করছিল, তাই তিনি সবকিছু তালা বন্ধ করে রেখে দিয়েছিল এবং কে এই সমস্ত গ্রন্থের মালিক তা খোঁজার জন্য এক বিশেষ বার্তা প্রেরণ করেছিল।
এরই মধ্যে সকাল হল, শ্রীনিবাস, নরোত্তম এবং প্রত্যেকেই ঘুম থেকে উঠলেন। তারা দেখলেন যে গ্রন্থগুলি নেই। তাঁরা মহান মহান মহান ভক্তদের দ্বারা, শ্রীবিগ্রহগণের দ্বারা শক্ত্যাবিষ্ট হয়েছিলেন, আর এখন গ্রন্থগুলি নেই। সেই মুহূর্তে তারা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন, আমি বলতে চাইছি, তাঁরা মূর্ছিত হয়ে পড়ছিলেন, তাঁরা তাঁদের কেশ ধরে টানছিলেন, গাছে নিজেদের মাথা ঠুকে আঘাত করছিলেন এবং ক্রন্দন করছিলেন। এইভাবে তারা পুরোপুরি উন্মাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন যে কিভাবে এমনকি তাদের অস্তিত্ব থাকবে! তারা জানতেন যে একবার এই খবর বৃন্দাবনবাসীদের কাছে পৌঁছলে, তা তাঁদের প্রতি মারাত্মক আঘাত হানবে। মূল এবং একমাত্র হস্তলিখিত গ্রন্থ, যা শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীর পুরো জীবনের সেবা, সেই সবকিছু চলে গেল। এরপর শ্রীনিবাস আচার্য বললেন যে, “আচ্ছা, কৃষ্ণ যা করেন তার নিশ্চিতরূপে কোন উদ্দেশ্য থাকে। আমি এটা ভাবতেই পারছি না যে এই সব কিছু পুরোপুরি হারিয়ে গেল। আমি সেগুলিকে খুঁজে বার করব। তোমরা দুজনে তোমাদের প্রচার স্থানে যাও এবং যখনই আমি এইসব খুঁজে পাব,... এক্ষেত্রে আমাদের তিনজনেরই এই স্থানে থাকার কোন মানে হয় না। আমি খুঁজব, চেষ্টা করব, যতক্ষণ না আমি তা খুঁজে পাচ্ছি, আমি বিশ্রাম গ্রহণ করব না। তোমরা যাও।” এরপর তারা তাঁর দৃঢ়বাক্য শুনে সেখান থেকে চলে যান। সেইসময় তিনি সমগ্র বিভিন্ন নগর এবং গ্রামে তা খুঁজছিলেন এবং অন্যদের জিজ্ঞেস করছিলেন। তিনি কোন সংকেত পাচ্ছিল না। তখন কেউ একজন তাঁকে বলেছিলেন যে, “রাজার কাছে যান। আপনি যান রাজা বিরমবিক্রম মহাদেব শাহের সাথে দেখা করুন।” এরপর তিনি ভাউনাপুর রাজার দরবারে যান এবং যখন তিনি সেখানে যান, তিনি দেখেন যে তারা ভাগবত কথা বলছে, কিন্তু তারা কোন এক প্রকার মায়াবাদী ভাষ্য প্রদান করছে, যা যথার্থ ভাষ্য নয়। তখন তিনি তাতে আপত্তি ব্যক্ত করেন যে, “এটা অর্থ নয়। এটা যথার্থ ব্যাখ্যা নয়।” সেসমস্ত দিনে আপনি রাজার মুখ্য পণ্ডিতকে বিরুদ্ধ বাক্য প্রয়োগ করে আহ্বান করতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপনি সেই বিষয়ে খুবই নিশ্চিত হন যে আপনি কি করছেন, কারণ নয়ত আপনি নিজেকে মস্তিষ্কভারশূন্য অবস্থায় খুজে পাবেন (হাসি)
ভক্ত: মস্তিষ্কভারশূন্যতা?
জয়পতাকা স্বামী: এটি মস্তিষ্কে ভারশূন্যতা অনুভবের চরম ধরন যে মস্তকহীন হওয়া। এরপর রাজা তিনি বলল, “ঠিক আছে তাহলে আপনি ব্যাখ্যা করুন। আপনি নিজের প্রতি এত সুনিশ্চিত যখন, তাহলে আপনি এটি ব্যাখ্যা করুন।” তারপর তিনি ব্যাখ্যা করা শুরু করলেন এবং তিনি এত অসাধারণ ব্যাখ্যা করলেন যে প্রত্যেকেই অভিভূত হয়ে গিয়েছিলেন। তারপর রাজার মাথায় এক ধারণা আসে যে হয়ত এই সেই ব্যক্তি, যিনি এই সমস্ত গ্রন্থগুলির মালিক বা এই সমস্ত গ্রন্থগুলি যার তিনি সেই। তখন তিনি তাকে পিছন দিকে নিয়ে যান এবং তিনি বলেন যে, “আপনি আমাকে আপনার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বলুন। আপনি কে? আপনি কেন এখানে এসেছেন।” সেই সব রাজা তাকে জিজ্ঞেস করেন। তারপর শ্রীনিবাস আচার্য এটি ব্যাখ্যা করে বলেন যে কিভাবে প্রত্যেক যুগে ভগবান পরম পুরুষোত্তম পরমেশ্বর রূপে আবির্ভূত হন, কিন্তু এই কলিযুগে তিনি এক প্রচ্ছন্ন স্বরূপে আবির্ভূত হন। পরম পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুররূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন, যিনি নবদ্বীপে নিমাই পণ্ডিতরূপে পরিচিত ছিলেন। তিনি মহাত্মা মহান সঙ্গীগণ যেমন নিত্যানন্দ প্রভু এবং অন্যান্যদের সঙ্গে বিরাজমান ছিলেন। তখন তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পুরো আন্দোলন বিষয়ে ব্যাখ্যা করলেন যে কিভাবে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হুসেন সাহ-র প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধার করেছিলেন, আর এই রাজা ছিলেন সেই শাসকের অধীনস্থ রাজা। তাই স্বাভাবিকভাবে এই রাজা ছিলেন সনাতন এবং রূপ স্বামীর অধস্তন। যদিও তিনি ছিলেন এক রাজা, তার জন্য হয়ত ২১ বার বন্দুক স্যালুট হত, কিন্তু শাসকের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাদের আসলে তার থেকে অধিক শক্তি ছিল। কারণ সমগ্র শাসকের সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য সবকিছুই তাদের অধীনে ছিল। এরপর তিনি ব্যাখ্যা করলেন যে কিভাবে শ্রীরূপ এবং শ্রীসনাতন ছেড়ে গিয়েছিলেন এবং এই রাজা সবসময় চিন্তা করত যে রূপ এবং সনাতন তাদের পদ ছাড়ার জন্য দুঃখিত ছিলেন, কিন্তু তিনি কখনই বুঝতে পারেনি যে কেন তারা চলে গিয়ে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সাথে যুক্ত হয়েছিলেন, তবে এখন শ্রীনিবাস আচার্য ব্যক্তিগতভাবে তার কাছে তা ব্যাখ্যা করছিলেন যে কিভাবে এই সবকিছু ঘটেছিল, কীভাবে তাঁরা এবং অন্যান্য অনেক মহাত্মগণ বৃন্দাবনে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন এবং কিভাবে সেখানে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নিজে কখনও কোন শাস্ত্র লেখেননি, কিন্তু তিনি তাঁদেরকে সেই নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, সেইজন্য তাঁরা সকল মানুষদের সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক কল্যাণের জন্য সমস্ত দিব্য শাস্ত্রগ্রন্থ লিখেছিলেন এবং তার উপর এই সমস্ত শাস্ত্র গ্রন্থ বৃন্দাবন থেকে নবদ্বীপে নিয়ে যাওয়ার ভার অর্পিত হয়েছিল বাংলায় পণ্ডিতদের দ্বারা সেখানে সেইগুলির অনুলিপি তৈরি করার জন্য এবং তাঁর সাথে খেতুরী গ্রামের রাজকুমারও ছিলেন, যিনি ও এক বৈরাগী হয়েছিলেন। শ্রীল নরোত্তম আসলে ছিলেন একজন রাজকুমার, তিনি উত্তরাধিকারী সূত্রে সিংহাসন লাভ করেছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এক সন্ন্যাসীর মত, এক প্রচারকের মত তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তারপর তিনি এই সমস্ত কিছু ব্যাখ্যা করলেন এবং নরোত্তমের অসাধারণ গুনাবলির ব্যাখ্যা করলেন এবং বললেন যে — কিভাবে তারা এসেছিলেন, এই সমস্ত গ্রন্থসমূহ বহন করে নিয়ে আসছিলেন, তারপর সেগুলি চুরি হয়ে যায় এবং এই সমস্ত গ্রন্থসমূহ ফিরে পাওয়া ছাড়া তাঁর জীবনের আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। এরপর যখন রাজা সেইসব কিছু শুনল, তখন তিনি বুঝতে পেরেছিল যে এই হচ্ছে সেই ব্যক্তি। “আসলে আমি হচ্ছি সেই ব্যক্তি যে এই সমস্ত গ্রন্থসমূহ চুরি করেছে।” আমি আমার চোরদেরকে পাঠিয়েছিলাম এবং…” এই রাজা প্রাত্যহিক ভাগবত শ্রবণ করতেন, কিন্তু তিনি ভাগবত শ্রবণ করলেও তার এই সমস্ত জড়জাগতিক আসক্তি ছিল, কারণ তিনি কখনো শুদ্ধ ভক্তের থেকে শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করেনি, আর তাই এর সেই একই প্রভাব ছিল না। কোন না কোনভাবে শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণের কারণে, এমনকি যদিও তা শুদ্ধ ভক্তের শ্রবণ করা হয়নি এবং এমনকি যদিও তিনি জড় বিষয়ের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিল, কিন্তু তবুও যেহেতু তিনি প্রতিদিন ভাগবত শ্রবণ করত, তাই কোন না কোনভাবে তিনি শ্রীনিবাস আচার্যের মতো মহান আচার্যের সঙ্গ লাভ করার এই বিশেষ কৃপা প্রাপ্ত হয়েছিল। তিনি সমস্ত কিছু স্বীকার করেছিল এবং সেই কর্মফল যা তাকে ভোগ করতে হবে, সেই বিষয়ে খুবই ভীত ছিল এবং প্রার্থনা করছিল যে কোন না কোনভাবে তার ক্ষমা প্রাপ্ত হওয়া উচিত।
যখনই শ্রীনিবাস এই সমস্ত কিছু শুনলেন, তিনি বললেন, “ঠিক আছে আমি কি গ্রন্থগুলি দেখতে পারি? আমাকে সেখানে নিয়ে চলো। আমাকে দেখতে দাও।” তারপর তাঁকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তিনি সেই বাক্স খোলেন এবং দেখেন যে, শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত এটি অস্বাভাবিকভাবে উপরে আছে এবং রাজা তাকে বললেন যে, এই ভাবেই তিনি সবকিছু পেয়েছিলেন, তিনি এইসব নড়চড় করেননি। তারপর রাজা আসলে শ্রীনিবাসকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি বললেন তিনি খুবই আসক্ত হয়ে পড়েছেন.... তিনি শ্রীনিবাসকে বললেন যে দয়া করে তার কাছে এই সমস্ত গ্রন্থসমূহ বিষয়ে ব্যাখ্যা করতে, তিনি সেই সব অনুধাবনের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী হয়েছিলেন। তারপর শ্রীনিবাস তাকে কিছু গ্রন্থ সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করা শুরু করলেন, এরপর… সংক্ষেপে বলি — সেই রাজা অনুরোধ করেছিলেন যে, “আপনি আমার রাজগুরু হন। আপনি আমার সমগ্র রাজ্যের গুরু হন। আমি এই সমস্ত শাস্ত্রসমূহ অনুলিপি করাব। আমি দেখব যে এগুলি যাতে প্রচারিত হয়। আমি আপনার জন্য সবকিছু করব। আপনি দয়া করে আমার গুরু হন। আপনি এখানে থাকুন এবং আপনি আমাকে দীক্ষা প্রদান করুন।” কিন্তু শ্রীনিবাস বললেন, “আমি এখনই তোমাকে দীক্ষা দান করব না, তোমাকে আগে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।” প্রথমত তিনি তাকে দিয়ে কিছু গ্রন্থ অনুলিপি করিয়েছিলেন এবং তারপর তিনি বললেন যে, “আমি এগুলি প্রেরণ করতে চাই।” তিনি তৎক্ষণাৎ নরোত্তম এবং শ্যামানন্দের কাছে একটি বার্তা পাঠান যে সবকিছু ঠিক আছে, কারণ তারা এই বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং তিনি একজন বার্তাবহককে বৃন্দাবনে পাঠান, কারণ ততক্ষণে এই সমস্ত কথা ইতিমধ্যেই বৃন্দাবনে পৌঁছেছিল, তাঁরাও প্রায় মৃত্যুবরণের পর্যায়ে ছিলেন এই চিন্তা করে যে গ্রন্থসমূহ হারিয়ে গেছে। এরই মধ্যে রাজার মহিষী এই সমস্ত বিষয়ে কিছু শুনেছিল এবং তিনি শ্রীনিবাসের শ্রীপাদপদ্মে পতিত হয়ে তাকে দীক্ষা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল এবং তিনিও নরোত্তম দাস ঠাকুরের বিষয়ে এত কিছু শ্রবণ করে, তার প্রতি অত্যন্ত আকৃষ্ট হয়ে, তাকে দর্শন করতে চেয়েছিল। তাই তখন তিনি(শ্রীনিবাস) বললেন যে, “তিনি তাকে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করবেন।”
এরপর যখন গ্রন্থগুলির অনলিপি করা হয়, তখন শ্রীনিবাস আচার্য নরহরি সরকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান এবং নরহরি সরকার তাকে বলেন যে, তার বিবাহিত হওয়া উচিত, না হলে তার সেখানে থাকা উচিত নয় এবং রাজার গুরু হওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করা উচিত নয়… যাইহোক রাজার গুরু হওয়া উচিত নয়, তার বিবাহিত হওয়া উচিত, কারণ একজন গৃহস্থ হিসেবে তিনি পারবেন, তবে তখনকার দিনে একজন সন্ন্যাসী হলে তারা সেই রাজকীয় পদ কখনোই গ্রহণ করতে পারতেন না। যেমন আপনারা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মহারাজ প্রতাপরুদ্রের সাথে ব্যাবহার বিষয়ে জানেন এবং অন্যান্য এইরকম বিষয়। তখন শ্রীনিবাস আচার্য বিবাহিত হন এবং তারপর তিনি রাজার গুরু হওয়ার পদ গ্রহণ করেন। তিনি ফিরে আসেন এবং দেখেন যে, রাজা নাম জপ করছে, সবকিছু করছে এবং তাই তিনি তাকে প্রথম দীক্ষা প্রদান করেছিলেন। এর অনেক পরে তিনি তাকে দ্বিতীয় দীক্ষাও প্রদান করেছিলেন। এইভাবে গ্রন্থগুলি অনুলিপি হয়েছিল ও সেখান থেকে সমস্ত ভক্তবৃন্দের কাছে তা প্রচারিত হয়েছিল, এবং বিষ্ণুপুরে এখনও শ্রীনিবাস আচার্যের আশ্রম আছে। সেই রাজাকে নাম দেওয়া হয়েছিল শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য দাস।
ভক্তিন: তিনি কি বিবাহিত হয়ে সন্ন্যাস ত্যাগ করেছিলেন?
জয়পতাকা স্বামী: তিনি সন্ন্যাসী ছিলেন না।
ভক্তিন: তিনি সন্ন্যাসী ছিলেন না ?
জয়পতাকা স্বামী: তিনি একজন যুবক হিসেবেই বহির্গমন করেছিলেন।
ভক্তিন: একজন বৈরাগীর মত।
জয়পতাকা স্বামী: হ্যাঁ! তিনি ছিলেন ব্রহ্মচারীর মত, তিনি তার গুরুর খোঁজ করছিলেন, তিনি সমগ্র ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন ও তারপর অবশেষে যখন তিনি বৃন্দাবনে আসেন, সেখানে তিনি গোপাল ভট্ট গোস্বামীকে পেয়েছিলেন। শ্রীল জীব গোস্বামী তাঁকে খুঁজে পেয়েছিলেন এবং তাঁকে নিয়ে এসেছিলেন ও তাঁর স্বপ্নে শ্রীরূপ এবং শ্রীসনাতন গোস্বামী তাঁকে বলেছিলেন যে তাঁর দীক্ষা গ্রহণ করা উচিত… তাঁরা জীব গোস্বামী এবং গোপাল ভট্ট গোস্বামীকে বলেছিলেন যে তাঁকে গোপাল ভট্ট গোস্বামীর কাছে নিয়ে আসা উচিত এবং গোপাল ভট্টকে বলেছিলেন যে তাঁর তাঁকে নিজ শিষ্যরূপে গ্রহণ করা উচিত। তারপর শ্রীল গোপাল ভট্ট গোস্বামীর থেকে তিনি দীক্ষিত হন এবং তিনি শ্রীল জীব গোস্বামীর অধীনে ভাগবত অধ্যয়ন করেছিলেন, কিন্তু তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করেননি, তিনি কেবল এরকম ছিলেন। সেই সময় তিনি খুবই তরুণ ছিলেন, আমি বলতে চাইছি এক তরুণ যুবক, সম্ভবত হয়ত তার কুড়ি-র কোঠায় ছিলেন। তাঁর বয়স ছিল তেরোর উর্ধ্বে, বিশ-এর কোঠায়। এবং তিনি তার তরুণ বয়সেই ছেড়ে চলে এসেছিলেন, তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে খোঁজার জন্য জগন্নাথপুরীতে এসেছিলেন, কিন্তু আমি জানিনা নিশ্চয়ই তাঁর আসলে বৃন্দাবন যেতে কিছু বছর সময় লেগেছিল, কারণ তিনি বারংবার পুরী এবং নবদ্বীপ যাতায়াত করেছিলেন। তিনি দুবার গিয়েছিলেন… বৃন্দাবন পর্যন্ত পুরো হেঁটে যাওয়া বেশ ভালই পদব্রজে ভ্রমণ… হাজার মাইল? (ভক্তরা হাসছেন)
ভক্ত: সাত মাস লাগবে?
জয়পতাকা স্বামী: তারা বর্ষা ঋতুতে ভ্রমন করতেন না। তাহলে মায়াপুর থেকে বৃন্দাবন যেতে কত সময় লাগবে?
ভারতীয় ব্যক্তি: আমি জানি না এখন কত সময় লাগে, আমার কাছে কেবল এক মোটরসাইকেল আছে।
জয়পতাকা স্বামী: মায়াপুর থেকে পুরী?
ভারতীয় ব্যক্তি: আমি জানি না, ট্রেনে করে যেতে ১০ ঘন্টা সময় লাগে। (সবাই হাসছে)
জয়পতাকা স্বামী: সুযোগ-সুবিধা পেয়ে তোমার স্বভাব বিগরে গেছে! (সবাই হাসছে) আধুনিক সাধু! এইভাবে প্রথম গ্রন্থ বিতরণ-এর ঘটনাটি ঘটেছিল। কালকে সকাল বেলা আমাদের কটায় পাঠ আছে?
ভক্ত: আমাদের সাধারণত ৬ টার সময় পাঠ হয়, কিন্তু সময় পরিবর্তন করা যেতে পারে।
জয়পতাকা স্বামী: ঠিক আছে, এটা বেশ ভালো, কারণ আমাদেরকে ৮টার মধ্যে যেতে হবে। তাই তো? বিমান ১১:০০… ১১:১৫ … ১০:৫৯ এ আছে।
ভক্ত: হ্যাঁ!
জয়পতাকা স্বামী: ঠিক তো?
ভক্ত: হ্যাঁ! দু'ঘণ্টা আগে বের হতে হবে।
জয়পতাকা স্বামী: এর মানে ৮:৩০, তা ৮:০০টা ।
ভক্ত: এখনকার হিসাবে ৯:৩০ হবে, মহারাজ।
ভক্ত (২): হ্যাঁ! সবে দু’ঘণ্টার মতো লাগবে।
ভক্ত: প্লেন ছাড়বে ১০:৩০-এ।
ভক্ত (২): ১০... ১০... মানে, ১০:৫৮-এ ছাড়বে বোধহয়।
ভক্ত: প্রায় ১১টা, আমাদের সময় অনুযায়ী সেটা হবে ১২টা।
ভক্ত (২): হ্যাঁ, তা ধরলে আড়াই ঘণ্টা সময় হাতে থাকবে। তা পর্যাপ্ত সময়। সাড়ে ন’টা।
ভক্ত: সাড়ে ন’টা, মহারাজ।
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: এখন ন্যাশভিলের সময় অনুসারে ৯টা বাজে, তাই আমরা ১ ঘণ্টা এগিয়ে রয়েছি।
ভক্ত: ঠিক।
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: অর্থাৎ, আমরা এখানে থেকে ৯টায় রওনা দিলে সেটা ওদের সময় অনুসারে ৮টা হবে।
ভক্ত (২): তাহলে দুই ঘণ্টার মতো সময় পাব।
ভক্ত: সাড়ে ন’টায় বের হলেই আড়াই ঘণ্টা পাওয়া যাবে।
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: আমি তোমাদের একটা কথা বলি... সাধারণত বিমান ছাড়ার ২০ মিনিট আগে বোর্ডিং শুরু হয়। তার আগে উপস্থিত হওয়াতে তো কোনো নিষেধ নেই (ভক্তরা হাসছেন)। আমি তো প্রায়ই দেরি করি... তাই এটা নজর রাখা ভালো যেন—
ভক্ত: তাহলে বলা যায়, ৯টার দিকেই বের হওয়া যাক।
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: যদি আমরা ৯টায় লক্ষ্য রাখি, শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে তা সাড়ে ন’টাই হয়ে যাবে (সবাই হাসছেন)।
ভারতীয় ব্যক্তি: ভারতীয় টাইমটেবিল।
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: কী বললে?
ভারতীয় ব্যক্তি: এটা ভারতীয় টাইমটেবিল। এখনই আসছি…
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: যেমন আজ সকালে আমার রওনা দেওয়ার কথা ছিল ১০টায়। বিমান ছিল ১০:৩০-এ। আমরা ঠিক করেছিলাম ৯টা বা ৯:১৫-তে বের হব। কিন্তু বের হলাম ৯:৪৫-এ।
ভক্ত: ওহ!
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: বিমানবন্দর যেতে লাগে আধ ঘণ্টা, খুব বেশি ৪০ মিনিট। তবুও আমরা কোনোভাবে ১৮ মিনিটেই পৌঁছে গেলাম (ভক্তরা হাসছেন)।
ভক্ত: এলায়েন্স...
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: এখন একটু কীর্তন করি, তারপর কিছু প্রসাদ বিতরণ করা যাক। আমি শুনেছি, ভক্তিবিনোদ ঠাকুর, তিনি বিমান বা ট্রেন ধরার আগে প্রায় ৫ ঘণ্টা আগে স্টেশনে চলে যেতেন, যাতে দুশ্চিন্তা না থাকে— ‘যাব কি যাব না, এটা মিস হবে কি হবে না।’
ভক্ত: শ্রীল প্রভুপাদও মনে হয় এক ঘণ্টা আগে পৌঁছাতে পছন্দ করতেন। একবার তারা দেরি করেছিল, তখন তিনি বেশ বিরক্ত হয়েছিলেন।
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: হ্যাঁ! কৃত্তিম, নিজেদের উপর থাকা একধরনের অপ্রয়োজনীয় উদ্বিগ্নতা।
Lecture Suggetions
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees