নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ, মুরারি সেবক ফার্ম, মালবেরি টেনেসিতে দিয়েছেন। এই প্রবচন শুরু হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতের ১০ম স্কন্ধ, ৮ম অধ্যায়, ৪২ শ্লোক পাঠের মাধ্যমে।
নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ, মুরারি সেবক ফার্ম, মালবেরি টেনেসিতে দিয়েছেন। এই প্রবচন শুরু হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতের ১০ম স্কন্ধ, ৮ম অধ্যায়, ৪২ শ্লোক পাঠের মাধ্যমে।
(শ্রী. ভা. ১০. ৮. ৪২)
অহং মমাসৌ পতিরেষ মে সুতো
ব্রজেশ্বরস্যাখিলবিত্তপা সতী।
গোপ্যশ্চ গোপাঃ সহগোধনাশ্চ মে
যন্মায়য়েত্থুং কুমতিঃ স মে গতিঃ ।।
শ্রীল প্রভুপাদ প্রদত্ত অনুবাদ: ভগবানের মায়ার প্রভাবে আমি ভ্রান্তভাবে মনে করছি যে, নন্দ মহারাজ আমার পতি, কৃষ্ণ আমার পুত্র, এবং যেহেতু আমি নন্দ মহারাজের মহিষী, তাই সমস্ত গোধন সহ গোপ এবং গোপীরা আমার প্রজা। প্রকৃতপক্ষে, আমি ভগবানের নিত্য দাসী এবং তিনিই আমার পরম আশ্রয়।
(অনুবাদ পুনরাবৃত্তি করা হলো)
তাৎপর্য: মা যশোদার পদাঙ্ক অনুসরণ করে, এই প্রকার ত্যাগের মনোবৃত্তি পোষণ করা সকলেরই কর্তব্য। আমাদের সমস্ত সম্পদ, ঐশ্বর্য অথবা যা কিছু রয়েছে তা আমাদের নয়—ভগবানের, যিনি সকলেরই পরম আশ্রয় এবং সব কিছুরই পরম ঈশ্বর। ভগবদ্গীতায় (৫/২৯) ভগবান স্বয়ং বলেছেন —
ভোক্তারং যজ্ঞতপসাং সর্বলোকমহেশ্বরম্ ।
সুহৃদং সর্বভূতানাং জ্ঞাত্বা মাং শান্তিমৃচ্ছতি॥
“আমাকে সমস্ত যজ্ঞ এবং তপস্যার পরম উদ্দেশ্যরূপে জেনে, সর্বলোকের মহেশ্বর এবং সকলের উপকারী সুহৃদরূপে আমাকে জেনে, যোগীরা জড় জগতের দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্ত হয়ে শান্তিলাভ করেন।” আমাদের ঐশ্বর্যের গর্বে কখনও গর্বিত হওয়া উচিত নয়। মা যশোদা সেই সম্বন্ধে এখানে বলেছেন, “আমি নন্দ মহারাজের ঐশ্বর্যশালিনী পত্নী নই, এবং কোন কিছুই আমার নয়। আমার রাজ্য, ধনসম্পদ, গাভী, গোবৎস এবং গোপ ও গোপীগণের মতো প্রজা, সব কিছুই আমাকে দেওয়া হয়েছে।” সকলেরই কর্তব্য, “আমার ধনসম্পদ, আমার পুত্র, আমার পতি” —এই মনোভাব পরিত্যাগ করা (জনস্য মোহোহয়মহং মতেতি)। কোন কিছুই আমাদের নয়, সব কিছুই ভগবানের। মোহাচ্ছন্ন হওয়ার ফলেই কেবল আমরা ভ্রান্তিবশত মনে করি, “আমি আছি অথবা সব কিছু আমার।” এইভাবে মা যশোদা পূর্ণরূপে নিজেকে ভগবানের কাছে সমর্পণ করেছিলেন। তিনি এই মনে করে ক্ষণিকের জন্য নিরাশ হয়েছিলেন — “দান আদি পুণ্যকর্মের দ্বারা আমার পুত্রকে রক্ষা করার প্রচেষ্টা নিরর্থক। ভগবান আমাকে অনেক কিছু দিয়েছেন, কিন্তু তিনি যদি তার দায়িত্ব গ্রহণ না করেন, তা হলে সুরক্ষার কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই চরমে আমাকে ভগবানেরই শরণ গ্রহণ করতে হবে।” প্রহ্লাদ মহারাজ বলেছেন (শ্রীমদ্ভাগবত ৭/৯/১৯), বালস্য নেহ শরণং পিতরৌ নৃসিংহ—পিতা-মাতা চরমে তার সন্তানদের রক্ষা করতে পারে না। অতো গৃহক্ষেত্রসুতাপ্তবিত্তৈর্জনস্য মোহোহয়মহং মমেতি (শ্রীমদ্ভাগবত ৫/৫/৮)। গৃহ, ধনসম্পদ, ভূমি এবং আমাদের যা কিছু তা সবই ভগবানের, যদিও ভ্রান্তিবশত আমরা মনে করি, “আমি এই এবং এই সমস্ত বস্তু আমার।”
ইতি “শ্রীকৃষ্ণের মুখের মধ্যে বিশ্বরূপ প্রদর্শন” নামক শ্রীমদ্ভাগবতের ১০ম স্কন্ধ, ৮ম অধ্যায়, শ্লোক ৪২ -এর ভক্তিবেদান্ত তাৎপর্য সমাপ্ত।
জয়পতাকা স্বামী: শ্রীল প্রভুপাদ কি!
ভক্তগণ: জয়!
জয়পতাকা স্বামী: শ্রীল প্রভুপাদ কি!
ভক্তগণ: জয়!
জয়পতাকা স্বামী: শ্রীল প্রভুপাদ কি!
ভক্তগণ: জয়!
জয়পতাকা স্বামী: আজকে মা যশোদা জীবনের সত্য সম্বন্ধে বুঝতে পেরেছেন, কিন্তু যেহেতু তিনি হচ্ছেন এক পরম ভক্ত, তাই যোগমায়া বা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অন্তরঙ্গ শক্তি আবার তাঁকে শ্রীকৃষ্ণের সাথে সেই (বাৎসল্য) সম্বন্ধে নিমগ্ন করে দেন এবং তিনি সবকিছু ভুলে যান। তার বিস্মরণ এবং আমাদের বিস্মরণ ভিন্ন। আমরা মায়ার কারণে, বহিরঙ্গা শক্তি বা জড়জাগতিক শক্তির কারণে চিন্তা করি যে, “এটা হচ্ছে আমার! এই হচ্ছে আমার স্ত্রী! এই হচ্ছে আমার মা! এই হচ্ছে আমার ছেলে! এই হচ্ছে আমার কন্যা! এটা হচ্ছে আমার”... এবং এরপর আমরা আমাদের পদতথাকথিত পদের সেবা করতে শুরু করি। তারপর আমরা ভুলে যাই যে অবশেষে সবকিছু আমরা কৃষ্ণের থেকে পেয়েছি ও যেকোন মুহূর্তে তিনি আমাদের থেকে সেই সব কিছু কেড়ে নিতে পারেন। তাই পদের প্রশ্ন কোথায়? আসলে কোন ব্যক্তির এটি উপলব্ধি করা উচিত যে স্বয়ং ভগবান হচ্ছেন একমাত্র মালিক, আর আমরা হচ্ছি কেবল তত্ত্বাবধায়ক।
শ্রীল প্রভুপাদ, তিনি কখনও কখনও এই উদাহরণ দিতেন যে একজন অভিভাবক হয়ত চিন্তা করেন যে, “আমি আমার পুত্র বা কন্যাকে রক্ষা করব।” কিন্তু যখন তারা অসুস্থ, তখন আমরা হয়ত তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারি, তবে এর কোন নিশ্চয়তা নেই যে আমরা আসলেই তাদেরকে সাহায্য করতে পারব। এমনকি ডাক্তার, তিনিও এই নিশ্চয়তা দিতে পারেন না যে তিনি সাহায্য করতে পারবেন। বাংলার পর্দায় জন ওয়েন এর মত বিখ্যাত নায়ক ছিলেন। আমার মনে হয় আমি এই সম্পর্কে আগে বলেছি। তার হঠাৎ করে রোগ হয়েছিল এবং তিনি তার ডাক্তারকে ডেকেছিলেন, ডক্টর এসেছিলেন ও বলেছিলেন, “আসলে আপনার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। এমনকি আমি আপনার আর কোন আশা দেখতে পারছি না।” তখন তিনি তার ডাক্তারের হাত জড়িয়ে ধরেছিলেন এবং বলেছিলেন, “ডাক্তার! ডাক্তার!” তিনি ছিলেন তার এক বন্ধু, তাই তিনি তাকে তার নাম ধরে ডাকতেন, “সুধীর তুমি আমার ভাইয়ের মতো, আমাকে বাঁচিয়ে নাও! আমাকে বাঁচিয়ে নাও! আমি বাঁচতে চাই!” তখন যখন তিনি ডাক্তারের হাত জড়িয়ে তা বলছিলেন, তখনই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। যেহেতু তিনি ছিলেন একজন সুবিখ্যাত ব্যক্তি, তাই সাংবাদিক এসেছিল। আমরা সবাই সেখানে ছিলাম। তারা ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করল, ডাক্তার আপনার রোগী আপনার হাত জড়িয়ে ছিলেন এবং তিনি মারা গেলেন, এখন আপনি সেই বিষয়ে কি অনুভব করছেন? এবং আপনার এই সম্পর্কে কি বলার আছে? এটা কি আপনার জন্য লজ্জাজনক নয়?” [ভক্তরা হাসছেন] এইসব সাংবাদিকেরা অন্য এক ধরনের! তখন ডাক্তার বললেন, “দেখুন এটা প্রথম বার নয় যে তিনি আমাকে ডেকেছিলেন এবং আঁকড়িয়ে ধরেছিলেন ও আমাকে তাকে সাহায্য করতে অনুরোধ করেছিলেন। প্রত্যেকবারই আমি তাকে সাহায্য করেছিলাম, কিন্তু কেবল এইবারই আমি ব্যর্থ হলাম। [হাসি]
অবশ্য, এটি আমাকে মনে করায় যে শক্তি, প্রকৃতির সাধকদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা আছে। ভারতে এক বিশেষ শক্তি-উপাসকদের দল আছে, যেখানে তারা প্রকৃতি, বহিরঙ্গা প্রকৃতির বিগ্রহের আরাধনা করে এবং যদিও পরমেশ্বর ভগবানের ভক্তরা জড়জাগতিক শক্তিকে পরমেশ্বর ভগবানের অত্যন্ত আন্তরিক সেবিকা রূপে শ্রদ্ধা করেন, কিন্তু তারা এটা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে যে, তিনি হচ্ছেন আসলে স্বতন্ত্র এবং তিনি কৃষ্ণের সমান বা তাঁর উর্দ্ধে। সাধারণত বলতে গেলে, যে সমস্ত ব্যক্তিরা আসুরিকভাব যুক্ত, তারা এই ধারণা পছন্দ করে, কারণ শ্রীকৃষ্ণ কোন এমনি আশীর্বাদ প্রদান করেন না। তিনি কেবল এমন এক আশীর্বাদ দান করেন যা তার ভক্তের জন্য পরম মঙ্গলময়, কিন্তু যেহেতু জড় প্রকৃতি, মা দুর্গা যেকোনো কিছু প্রদান করেন যা তার ভক্ত তার থেকে চায়, তাই তিনি যদি সন্তুষ্ট হন, তাহলে তিনি চাইলে তখন বর দেন, এমনকি যদি তারা শিবের মত কোন অসম্ভব শক্তিও চায়, যেমন একজন ভক্ত একবার এই শক্তি চেয়েছিল যে সে যার মাথা স্পর্শ করবে তার মাথাই অদৃশ্য হয়ে যাবে। অবশ্যই সেটা অন্য কারও ক্ষেত্রে তেমন ভালো কিছু ফল আনবে না, যতক্ষণ না তারা নিজেরাই তাদের মাথা অদৃশ্য করতে চাইবে—বেশিরভাগ কেউই তা চাইবে না। সেক্ষেত্রে কৃষ্ণ সাধারনত এমন কোন আশীর্বাদ দেন না, যতক্ষণ না তা সেই ব্যক্তি বা তার উদ্দেশ্যের জন্য চরমে শুভ ফল প্রদান করবে। তাই এই হচ্ছে মা দুর্গার ভক্তরা। আমাদের এক তর্ক-বিতর্ক হচ্ছিল এবং তারা বলছিল যে, “আসলে রামায়ণের প্রকৃত নায়ক রাম নয়।” তাদের প্রস্তাব হচ্ছে, “আসলে রাবণ হচ্ছে নায়ক। তিনি দুর্গা পূজা করতেন।” রাবন কি করে নায়ক হয়? তাকে রাম হত্যা করেছিলেন, সে ছিল এক রাক্ষস। সে বলল, “হ্যাঁ! কিন্তু দেখুন প্রথমে তিনি সব রাজাদের জয় করেছিল, তারপর এমনকি রামের স্ত্রীকেও অপহরণ করেছিল, তিনি কত যুদ্ধে রামকে জয়ী হতে দেয়নি, কিন্তু সেই ছিল একমাত্র সময় যখন সে পরাস্ত হয়েছিল।” [হাসি] অবশ্য সেই সময় তা ছিল মারাত্মক আঘাত, ঠিক যেমন মুষ্টিযুদ্ধের ক্ষেত্রে আপনি প্রযুক্তিগতভাবে প্রত্যেকবার জিততে পারেন, কিন্তু দশম বার যদি তিনি (দস্তানা) আপনাকে নিচে ফেলে দেয়, তার মানে আপনি খেলায় হেরে গেছেন। আসলে শ্রীকৃষ্ণ, তিনি কখনো কখনো ক্রীড়া করেন। যখন তিনি নিম্মে অবতীর্ণ হন, তখন তিনি অসুরদের কিছু পরীক্ষায় বেঁচে যেতে দেন, কিন্তু চরমে তিনি সবসময় আসুরিক, নাস্তিক্য প্রভাবের দমন করে বিজয় লাভ করেন। এইভাবে অসুররা তারা সবসময় এই চিন্তা করে যে তারা হচ্ছে আসলে দায়িত্বপ্রাপ্ত, তারা হচ্ছে সবার উপরে, তারা হচ্ছে নিয়ন্ত্রক। সেইজন্য, এমনকি আধ্যাত্মিক উপলব্ধির অন্যান্য পন্থায় যেখানে কেউ তখনও কিছু মাত্রায় সেই রকম নিয়ন্ত্রণ, শ্রেষ্ঠ হওয়ার ভাব পোষণ করে তাদেরকে কম অগ্রশীল বলে গণ্য করা হয় কারণ তারা তখনও পর্যন্ত জড়জাগতিক কলুষতার প্রভাবে পরিপূর্ণ। সেইজন্য, সাধকেরা কমবেশি তাদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল, তারাও উদ্বিগ্নতায় ভরা।
যে সকাম কর্ম অনুশীলন করে, সে সম্পূর্ণ উপভোগ-এর মেজাজে থাকে যে, “আমি কাজ করব এবং আমার পরিশ্রমের ফল লাভ করব। আমি সেটা উপভোগ করব।” এরপর দ্বিতীয় স্তরে কেউ অনুভব করে যে — “আমি যা করব, সেটা দেখতে হবে যে তা কি, জড় এবং চেতনের মধ্যে পার্থক্য কি, আমি কে? আমি আমার বুদ্ধির দ্বারা তা বের করব এবং আমি সেই সম্বন্ধে ভাবতে চলেছি ও ধ্যানমগ্ন হতে চলেছি, আমিই এর সমাধান বের করতে চলেছি। এবং যখন আমি এই চিন্তা ভাবনার মাধ্যমে, এই মানসিক জল্পনা কল্পনার মাধ্যমে, আমার বেদ অধ্যায়ের মাধ্যমে, আমার আধ্যাত্মিক প্রকৃতি উপলব্ধি করব, তখন আমি ভগবান হয়ে যাব, তখন আমি আত্ম উপলব্ধ হব।” তাই তারাও হচ্ছে, সবকিছুই হচ্ছে—“আমি এটা করতে চলেছি এবং আমি এটা করতে চলেছি..।” যোগীরা তাদের নিশ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে, যোগাসন করার মাধ্যমে, তাদেরও এই ধারণা হয়: “আমি”। এখন “আমি আমার ইন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রণ করতে চলেছি, আমি আমার শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করতে চলেছি, আমি আমার মন নিয়ন্ত্রণ করতে চলেছি। আমি এই চিন্তাভাবনার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে চলেছি ও সমাধিতে ধ্যানমগ্ন হতে চলেছি।” এইভাবে এটা হচ্ছে তাদের ভাব, সবকিছু তাদের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার উপর প্রতিষ্ঠিত। সেই জন্য, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন, “ভুক্তি-মুক্তি-সিদ্ধিকামী—সকলই ‘অশান্ত’।” কিন্তু ভক্তরা, ভক্তি-যোগীরা, ভক্তি অনুশীলনকারী যোগীরা, তারা আসলে ভগবানের প্রতি শরণাগত হন। তারা বুঝতে পারেন যে চরমে এইসব চিন্তাভাবনা, কার্যকলাপ, অনুভব-এর এইসব শক্তি কেবল তখনই সফল হতে পারবে যদি ভগবান তা অনুমোদন করেন। সেই জন্য কার্য করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যক্তিগত শক্তির ধারণা ভক্তদের দ্বারা নিবৃত্ত। তারা অনুভব করেন যে তা লাভ করার ইচ্ছাই হচ্ছে একমাত্র বিষয়, তবে চরমে ভগবানের কৃপা, তাঁর আশীর্বাদ থাকতে হবে, সেটাই আসলে পরিণতি। সেই জন্য ভক্ত শান্ত হন, যেহেতু তিনি এটি উপলব্ধি করেন যে আমি যদি কেবল কৃষ্ণের প্রতি আমার সেবা অনুশীলন করি ও তাঁর কৃপার উপর নির্ভরশীল হই, তাহলে তাঁর কৃপায় আমি সফল হব। এবং তিনি আমাকে কখনও পথভ্রষ্ট হতে দেবেন না, যদি আমি কেবল তাঁর উপর ভরসা করে থাকি। আসলে এই নিয়ন্ত্রণের উদ্দীপনা হচ্ছে এক ধরনের পুরুষত্ব ভাবনা, এই কারণে আধ্যাত্মিক জগতের ক্ষেত্রে এটি বর্ণনা করা হয়েছে যে যদিও অনেক ভক্তের অনেক পুরুষ স্বরূপ আছে এবং কিছু সম্ভবত স্ত্রীস্বরূপে আছেন, তবে প্রকৃত অর্থে শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া সবাই হচ্ছেন প্রকৃতি বা উপভোগ্য, কৃষ্ণ হচ্ছেন প্রকৃত উপভোক্তা। তাই ভোগ্য এবং ভোক্তা এর দিক দিয়ে, শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন একমাত্র পুরুষ এবং অন্যান্য সকলেই হচ্ছেন প্রকৃতি, সেই অর্থে প্রকৃতি মানে উপভোগ্য হওয়া। যদিও কিছুজনের পুরুষ দেহ আছে এবং কিছুজনের স্ত্রী দেহ রয়েছে—দেহ নয় স্বরূপ। তাদের সেবার উপর ভিত্তি করে পুরুষ এবং স্ত্রী স্বরূপ আছে। কেউ হয়ত পিতা বা কৃষ্ণ হয়ত তার সখা কিন্তু তারা সবাই, তাঁর সখাগন, তাঁর পিতা—এইসব বিভিন্ন সম্বন্ধ হচ্ছে তাঁর উপভোগের জন্য। সেই জন্য, সেই অর্থে তিনি হচ্ছেন একমাত্র উপভোক্তা এবং বাকি সকলে হচ্ছে উপভোগ্য।
এই জড় জগতে সকলেই হচ্ছে রোগগ্রস্ত, তারা মানসিক রোগগ্রস্ত, আধ্যাত্মিকভাবে রোগগ্রস্ত, কারণ এই জগতে প্রত্যেকেই সে পুরুষ শরীরে থাকুন বা স্ত্রী শরীরে থাকুন, তারা উপভোগ করতে চায়। তারা সবকিছু উপভোগ করতে চায়। সেইজন্য এমনকি যদিও স্ত্রী হয়ত কখনো কখনো অধস্থন ভূমিকা গ্রহণ করে, কিন্তু চরমে সবকিছুর ক্ষেত্রে এই বিবেচনা করা হয় যে সেই ব্যক্তি যা উপভোগ করতে চায়, তিনি তা পাবে নাকি। যদি তারা তাদের উপভোগের বস্তু লাভ করতে পারে, তাহলে তারা সন্তুষ্ট। যদি তারা তাদের উপভোগের বস্তু লাভ করতে না পারে, তাহলে তারা অশান্ত। আসলে তাদের এইরকম সেবার মনোভাব সবথেকে বাহ্যিকভাব যুক্ত। বর্তমানে নারীবাদী আন্দোলন প্রকৃত রূপ দেখিয়েছে যে যাকিছু অন্তর্নিহিতভাবে একটু সেবা মনোবৃত্তির মধ্যে ছিল, সেটাকে দেখা যাচ্ছে যে তারা প্রত্যাখ্যান করছে এবং কেবল স্বভাবগত উপভোগের মানসিকতা রাখছে যে আমরাও পুরুষদের মতো উপভোগ করতে সক্ষম। দেখুন, এটি কেবল তাদের স্বভাবগত উপভোগের জড়জাগতিক মানসিকতা প্রদর্শন করছে। এই হচ্ছে এক প্রাধান্য, যা আধ্যাত্মিক জীবনে মহিলাদের ছিল যে তাদের সেবা মনোবৃত্তি। এমনকি যদিও সম্ভবত অন্তর্নিহিতভাবে উপভোগের উদ্দেশ্য ছিল, কিন্তু তাদের আজ্ঞাবহ বিনয় আচরণ, যা হচ্ছে লজ্জা, সেটা প্রকৃতির দ্বারা স্বাভাবিকভাবেই মেয়েদের মধ্যে আছে যে তারা ভগবানের সামনে মাথা নত করে…এই কারণেই আপনারা দেখবেন যে বেশিরভাগ চার্চে মহিলারাই বেশি যায়, বেশিরভাগ মন্দিরে মহিলারাই বেশি যায়। এমনকি ভারতে আপনারা দেখবেন যে সাধারণত মহিলারাই বেশি আসেন, তারা বেশি নম্র তাই তারা ভগবানের সামনে আসতে পারেন। কখনো কখনো পুরুষেরা অধিক গর্বিত হয়, তারা প্রত্যেকের কাছে, কারো কাছে, এমনকি ভগবানের কাছে মাথানত করতে চায় না। অবশ্য এখন মহিলাদের যা কিছু সুফল ছিল, এখন একটি আন্দোলন হয়েছে তা ধ্বংস করার জন্য যে, প্রত্যেকের সমান উপভোক্ত হওয়া উচিত, এটা হচ্ছে আধ্যাত্মিক জীবনের সম্পূর্ণ বিপরীত।
এমনকি যেমন মহারাজ প্রতাপরুদ্র, গজপতি, উড়িষ্যার রাজা তিনি যখন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্ত হয়েছিলেন—যা হচ্ছে, অবশ্য চৈতন্য মহাপ্রভুর আন্দোলন হচ্ছে শুদ্ধ ভক্তিমূলক আন্দোলন, এখানে প্রত্যেকেই উপভোগের বস্তু হতে চান যে, “আমার সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য হচ্ছে ভগবানের দ্বারা উপভোগ্য হওয়া। আমি যা কিছুই করি না কেন সেটা তাঁর প্রসন্নতার জন্য হওয়া উচিত। কোন কিছুই আমার ব্যক্তিগত ইন্দ্রিয়তৃপ্তির জন্য বা আমার ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত নয়। আমি যা কিছু করি তা তার আনন্দ বিধানের জন্য হওয়া উচিত। যদি আধ্যাত্মিকভাবে তিনি প্রসন্ন হন, তাহলে যেহেতু আমি তাঁর অংশ, তাই সেই অভ্যন্তরীণ আনন্দ আমার প্রকৃত আনন্দ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। বাহ্যিক আনন্দ যা ইন্দ্রিয় দ্বারা লব্ধ হয়, সেটাকে আমার উপভোগের বস্তু হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।” মহারাজ প্রতাপরুদ্র, তিনি এইরকম মনোভাব গ্রহণ করেছিলেন। তাই, কখনো কখনো এইরকম সামরিক অভিযান হত অন্যান্য রাজাদেরকে পরাস্ত করার জন্য, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতেন না, তিনি সেই ব্যাপারে তেমন চিন্তা করতেন না। এটি মূলত কৃষ্ণকে প্রসন্ন করবে না, এটি এক অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি বা এমন কিছু। কোনো না কোনো কারণবশত তিনি যেহেতু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্ত হয়েছিলেন, তাই তারা সমালোচনা করত, “হ্যাঁ! এখন আপনি কম শক্তিশালী, এখন আপনি কম যুদ্ধরত, আক্রমণাত্মক। সেই জন্য আপনি যথার্থ রাজা নন।” অন্যান্য রাজারা তাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করত, তারা ভাবত এখন তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্ত, তার মানে তিনি আরও অহিংস্র, তিনি কম আক্রমণাত্মক হয়েছেন। কিন্তু কেউই মহারাজ প্রতাপরুদ্রকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়নি। তিনি একইভাবে তার রাজত্ব অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। এমনকি ভারতে মোগল আক্রমণে উড়িষ্যা হচ্ছে একমাত্র স্থান যা (পাশে: আমি কি সঠিক?) উড়িষ্যা কখনো মোগলদের দ্বারা দখল হয়নি, কখনো নয়। অন্যান্য সব জায়গায় আরব এবং পারস্য থেকে মুসলিমদের আক্রমণ হয়েছিল, বর্বররাও এসেছিল এবং কিছু সময়ের জন্য ছিল, কেবল উড়িষ্যা বাদে অন্যান্য জায়গা শাসন করতে সক্ষম হয়েছিল আর হয়ত অন্যান্য কিছু বিভিন্ন স্থানে তারা শক্তি লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল না। তাই, আসলে এটি ছিল সম্পূর্ণভাবে মানসিকতার পরিবর্তন, এই জন্য কৃষ্ণভাবনামৃতে আমরা বলি বাহ্যিক পরিবর্তন ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন।
এই জড়জগতে এখানে প্রত্যেকেই আছি কারণ আমরা ভগবানের পদ গ্রহণ করার চেষ্টা করছি। আধ্যাত্মিক জগতে যেখানে প্রত্যেকে ভগবানের সাথে ঐক্যপূর্ণভাবে আছেন, সেখানে প্রত্যেকেই আনন্দিত কারণ তারা কেবল এটি গ্রহণ করেন, তিনি হচ্ছেন মালিক, “আপনি হচ্ছেন সবকিছু, আমরা কেবল আপনার অধীনস্ত।” সেই জন্য তিনি একমাত্র নিয়ন্ত্রক এবং অন্যান্য প্রত্যেকেরই তাঁর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পেরে আনন্দিত। এটিই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্বন্ধ এবং সেখানে প্রত্যেকেই সুখী। সেই জন্য সেই স্থানকে বলা হয় বৈকুন্ঠ—যেখানে কোন কুণ্ঠ নেই, কোন সমস্যা নেই। কিন্তু এই জগৎ হচ্ছে ধর্মত্যাগীদের জন্য। প্রত্যেককেই স্বইচ্ছায় সেই পদ গ্রহণ করতে হবে। যদি আপনি নিজেকে ভগবানের অধীন না করতে চান, তাহলে আপনাকে এই জগতে রাখা হবে, যেখানে আপনি একজন অপরাধীর মতো কাজ করতে পারবেন এবং আপনি নিজে ক্ষুদ্র ভগবানের মতো হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এখানে আপনি আপনার নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছা সর্বোচ্চ মাত্রায় বৃদ্ধি করতে পারেন। আপনি আসলে সমগ্র বিশ্বের নিয়ন্ত্রক হতে পারেন। আপনি ইন্দ্রের মতো স্বর্গ লোকের রাজা হতে পারেন বা আপনি ব্রহ্মার মতো নিয়ন্ত্রক হতে পারেন। কিন্তু আপনি যত উচ্চপর্যায়ে যেতে চাইবেন, চরমে অন্তত আপনাকে বাহ্যিকভাবে ভগবানের প্রতি অধস্থন হতেই হবে যে আমি নিয়ন্ত্রণ করতে চাই, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আপনার তত্ত্বাবধানে ও আপনার দিকনির্দেশনা অনুসারে এবং আপনার পরিকল্পনা অনুসারে।” পদ লাভের জন্য তারা ভগবানকে কিছু শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।
চরমে আসুরিক ব্যক্তিরা কেবল নিয়ন্ত্রণ করতে চায় এবং ভগবানের বা কৃষ্ণের আইন মান্য করতে চায় না। তাই তারা সেই উন্নত পদ অর্জন করতে পারেনা, তাদেরকে সরিয়ে দেওয়ার পূর্বে তারা সর্বোচ্চ কেবল খুব অল্প সময়ের জন্যই তা অর্জন করতে পারে, কারণ একজন অসুর যে কৃষ্ণকে শ্রদ্ধা করে না, সে কৃষ্ণের অংশ, সকল জীবকেও শ্রদ্ধা করে না। এবং এর ফলে যা হয় যে তারা অন্যান্যদের প্রতি অত্যন্ত হিংসা করে। তারা প্রাণী হত্যা করে, তারা মানুষদের হত্যা করে, তারা কোন কাণ্ডজ্ঞান ছাড়াই হত্যা করতে পারে, যা কিছু প্রয়োজন করতে পারে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অর্জনের জন্য। কখনো কখনো তারা এক দেশে জড়ো হয় এবং তাদের দেশের জন্য যা কিছু ভালো, তাদের ও তাদের দেশের প্রজাদের জন্য যা কিছু সুবিধাদায়ক, সেই জন্য দ্বিতীয়বার চিন্তা না করেই কাউকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
আমরা বেদে সেই একই ইতিহাস দেখতে পাই। কিছু অসুরেরা তারা রাজত্বের শক্তি গ্রহণ করত, তারা গ্রহে রাজ করার শক্তি অর্জন করত, সৌরজগতের শক্তি গ্রহণ করত। বেদে সৌরজগতের পুরো ইতিহাস আছে, যেখানে কিছু অসুরেরা সমগ্র সৌরজগতের বা মূলত ব্রহ্মাণ্ডের এক বড় অংশ রাজ করার শক্তি গ্রহণ করত এবং দুই বিশ্বের মধ্যে যুদ্ধ হতো। এই সবকিছু বেদে আছে যে কিভাবে ব্যক্তিরা এক গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে যেত, কিভাবে এমনকি কখনো কখনো এই গ্রহের বাসিন্দারাও যুদ্ধে নিয়োজিত হত, তাদের অন্যান্য গ্রহের অসুরদের বিরুদ্ধে উর্ধ্ব লোকের দেবতাদের হয়ে যুদ্ধ করার জন্য অনুরোধ করা হতো এবং যখন এই যুদ্ধ চলত, যখন অবশেষে অসুরেরা পরাস্ত হত, তখন এই সমস্ত রাজারা পৃথিবীতে ফিরে আসতেন এবং দেখতেন যেহেতু তারা উর্ধ্বলোকে ছিলেন সেখানে তাদের জীবন বৃদ্ধি হয়েছিল সেই জন্য দেখবেন যে তখন এই পৃথিবীতে পুরোপুরি অন্য সময় চলছে এবং এখানে তাদের স্ত্রী সন্তানেরা এমনকি তাদের পুরো রাজত্ব সবকিছুই হাজার হাজার বছর আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে এবং উর্ধলোকে তারা যে সময় অতিবাহিত করেছিলেন সেই কিছু বছরেই এই লোকে হাজার হাজার বছর অতিবাহিত হয়েছে। আর এরপর তারা ফিরে এসেছে। সব কিছুই এখন পরিবর্তন হয়ে গেছে। মানুষেরা ছোট হয়ে গেছে যুগ পরিবর্তন হয়েছে দেখুন মুচোকুণ্ড এটি তার সাথে হয়েছিল এই ধরনের বিষয় বেদে আছে। বর্তমান পাঠকেরা তা করে হয়তো খুবই আশ্চর্যিত হবেন, এটা শুনতে মনে হয় এক ধরনের কল্পবিজ্ঞান।
দেখুন সত্য হচ্ছে বিষয়ের থেকে বলশালী, প্রকৃত সত্য কি সেটা বোঝা খুবই সহজ যদি কেউ তার মধ্যে প্রবেশ করতে চায় বিভিন্ন ধরনের গ্রহ মণ্ডলী এবং কল্প বিজ্ঞানের লেখকদের মধ্যে কি সম্পর্ক? তারা মানুষদের মনকে কত বিভিন্ন ধরনের ধারণার দ্বারা বিক্ষুব্ধ করে কিন্তু আমরা যা জানি তারা আজকাল সব গ্রহণ করে কিন্তু তারা শুধু এর মধ্যে আরও একটু রং মেশায় এবং তা আরো একটু চমৎকার করে তোলার চেষ্টা করে।
যখন কেউ উর্ধ্ব লোকে, ঊর্ধ্ব জগতে যায়, তখন তাকে এইসব স্থূল যন্ত্র ব্যবহার করতে হয় না। মানুষেরা তাদের পেট্রোলিয়াম, কেরোসিন ও হাইড্রোজেন সহ রকেটে চলছে। আপনারা কি মনে করেন যে কেন তাদের আরও সূক্ষ্ম যন্ত্র নেই বা উচ্চ লোকের পরিস্থিতির মত আরো সূক্ষ্ম অস্তিত্ব নেই? উর্দ্ধলোকে তারা মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম এবং জড় বস্তু সমূহ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম সূক্ষ্ম শব্দ তরঙ্গ দ্বারা, যা মন্ত্র নামে পরিচিত। তারা মন্ত্র দ্বারা এবং এইসব শব্দ তরঙ্গের দ্বারা যুদ্ধ করে। এই সমস্ত শব্দ তরঙ্গ এবং এই সমস্ত যোদ্ধাদের তপস্যার দ্বারা তারা তাদের বিপরীত পক্ষের জন্য জিৎ বা হার সৃষ্টি করতে পারে। এবং তা ব্যবহার করেও এইভাবে করে চলেছে। কেউ কেউ পরমেশ্বর ভগবানের শরণ গ্রহণ করে, কেউ কেউ বিভিন্ন দেবতাদের শরণ গ্রহণ করে, কেউ কেউ তাদের তপস্যার শরণ গ্রহন করেন, এইভাবে, এই সবকিছু চলছে এবং বিশ্বে ভালো এবং খারাপ শক্তির মধ্যে বিভিন্ন সংগ্রাম আছে, কিন্তু কৃষ্ণ ভক্তদের ক্ষেত্রে তারা হচ্ছে এই সব ভালো মন্দের ঊর্ধ্বে।
প্রভুপাদ একদিন তিনি মায়াপুরে যাত্রা করছিলেন, হয়ত তা ছিল মায়াপুর থেকে এবং সেখানে কৃষ্ণ বলরাম ছিলেন, তিনি বললেন এই জগতে এই ব্রহ্মাণ্ডে কখনও ভালো কিছু হয়, কখনও খারাপ হয়। কখনও ভাল খারাপকে পরাস্ত করে এবং কখনও খারাপ ভালকে পরাস্ত করে, এই সংগ্রাম সবসময় চলছে। কৃষ্ণ বলরাম তারা হচ্ছেন নিরপেক্ষ, তাঁরা না ভালোর দিকে, আর না খারাপের দিকে। যেহেতু ভালো এবং খারাপ উভয়ই তাদের থেকে স্বতন্ত্র পদ গ্রহণ করেছে, তাই কর্ম অনুসারে, পরিস্থিতি অনুসারে কৃষ্ণবলরাম কখনও কখনও খারাপকে পরাস্ত হতে দেন (খারাপ এর সরল অর্থ হচ্ছে যে তারা কেবল অন্যান্যদের কোন বিচার ছাড়া, কৃষ্ণের কথা বিচার করা ছাড়া উপভোগ করতে চায়) এবং ভালো মানে ঠিক আছে তারা উপভোগও করতে চায়, কিন্তু তাদের এই চিন্তাও আছে যে চরমে কৃষ্ণ কি চান। সেই জন্য অন্যান্য জীবেরা হচ্ছেন সুরক্ষিত, কিন্তু আসলে কৃষ্ণ বলরাম তিনি তাদের ফল প্রদান করছেন কারণ খারাপেরা শোষণ করছে এবং তারা আরো আরো আরো বাজে কর্ম লাভ করছে, সেইজন্য তারা শীঘ্রই পরাস্ত হয়। কারণ ভালোরা কৃষ্ণের প্রতি অধিক অধস্তন, তারা কৃষ্ণের প্রতি অধস্থন হওয়ার দ্বারা সুরক্ষিত, তখন প্রভুপাদ ব্যাখ্যা করেছিলেন যে ভক্তরা ঠিক যেমন কৃষ্ণ বলরাম তারা না ভালোর পক্ষে না খারাপের পক্ষে, তারা এইসবের উর্দ্ধে, তারা হচ্ছেন দিব্য এবং আধ্যাত্মিক জীবনে উন্নতির ক্ষেত্রে অবশেষে কাউকে এই উপভোগের মানসিকতা থেকে মুক্ত হতে হবে। “ভোক্তারং যজ্ঞতপসাং সর্বলোকমহেশ্বরম্”— তিনি হচ্ছেন সকল তপস্যা, সকল যোগ্য, সকল কার্যের একমাত্র উপভোক্তা, সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সেই ভগবান হচ্ছেন কৃষ্ণ। “জ্ঞাত্বা মাং শান্তিমৃচ্ছতি”। তিনি বলেছেন, আমি হচ্ছি সকল জীবের “সুহৃদং সর্বভূতানাং”— যার অর্থ হচ্ছে খারাপ-ভালো উভয়।
শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন, তোমরা জানো না কৃষ্ণের পদ কত কঠিন। চোর প্রার্থনা করছে, “ভগবান দয়া করে আজকে আমাকে বাইরে যেতে অনুমোদন করুন এবং সেই বাড়ির ভেতর ঢুকে সোনা চুরি করে আনতে দিন আর পুলিশের কাছে ধরা না পড়েই যাতে বেরিয়ে আসতে পারি।” আর সেই গৃহকর্তা প্রার্থনা করছে, “ভগবান আমাকে সাহায্য করুন যাতে কোন চোরের দ্বারা আমার বিষয় সম্পত্তি চুরি না হয়।” তাহলে তিনি কার কথা শুনবেন? হরিণ প্রার্থনা করছে যে, “ভগবান আমাকে রক্ষা করুন, আমাকে যাতে বাঘ না খেয়ে ফেলে।” বাঘ প্রার্থনা করছে, “ভগবান আমি ক্ষুধার্ত, আমাকে কিছু খাবার দিন। আমি একটা হরিণ খেতে চাই।” ঠিক আছে! তাই ওঁনার স্থিতি খুবই কষ্টকর। স্বাভাবিকভাবেই তাকে কিছুটা হলেও তাদের পক্ষে যেতে হবে, যে সব ব্যাক্তিরা রক্ষণশীল, রক্ষার জন্য প্রার্থনা করছে। আবার একই সময় বাঘকেও খেতে হবে, তাই উদাহরণস্বরূপ তিনি যা করেন তা হচ্ছে, যেহেতু বাঘ বেশি হিংস্র, হিংস্র জীব, তাই তাকে দীর্ঘ সময় ক্ষুধায় থাকতে হয়। কখনো কখনো তারা ১ সপ্তাহ, ১০ দিন, ২ সপ্তাহ ধরে কোন কিছুই খাবার পায় না এবং সেই বাঘের সাথে, আমি বলতে চাইছি তাঁকে বাঘকেও খাওয়ার একটি সুযোগ দিতে হয়, তাই তিনি যা করেন সেটা হচ্ছে—ছোট পশু, কোন ধরনের ইঁদুর, তারা সবসময় বাঘের পিছু করে যেমন আরাকুন বা এমন কিছু, তারা খুব তাড়াতাড়ি যায় এবং যেখানেই বাঘ যায়, তারা বাঘের পিছু পিছু যায়। ঠিক যখন সে কোন হরিণের উপর বা কোন জলপূর্ণ কোটরের পাশে অপেক্ষারত কোন প্রাণীর উপর ঝাঁপ দিতে যায়, তখন সেই ছোট ছোট গিনিপিগেরা ডেকে ওঠে, “গেই গেই গেই গেই গেই গেই গেই গেই” [হাসি] এইরকম চিৎকার করে, “নিউ নিউ”…এটা খুবই জোরে আওয়াজ এবং তখন সেই সময় হরিণ; যদি হরিণ…সেটাই হচ্ছে একমাত্র সতর্কীকরণ যা কৃষ্ণ দেন এবং প্রাণী এত ছোট যে বাঘ খুঁজে পায় না। সে তাহলে কেবল পিষে ফেলত [হাসি] কিন্তু সেগুলি গর্তের ভিতর চলে যায় ও বাঘ সেই প্রাণীকে খুঁজে পায় না এবং তখন হরিণ একটু চালাক, সে ভাবে এটা কি ছিল? এবং ছুক! তখন সে সেই জায়গা ছেড়ে চলে যায় এবং বাঘ তাকে ধরতে পারেনা। আর যদি সে আশেপাশে কি হচ্ছে তা বুঝতে না পারে [হাসি] একটু অমনোযোগী, অসতর্ক হয় এবং মনে করে “ওহ আমি তৃষ্ণার্ত, আমি একটু এই জল খাব।” তখন সেটাই হচ্ছে তার শেষ জল পান করা। সেই সময় বাঘ জানে যে সেটাই হচ্ছে শেষ সুযোগ…ঝোক! সে ঝাঁপ দেয়। তাকে সুযোগ দেওয়া হয়, যা কেবল এক সেকেন্ডের সময় ব্যবধান। শ্রীল প্রভুপাদও বলেছেন যে, ঠিক যেমন মশা, মশার একমাত্র কাজ হচ্ছে আপনার রক্ত শুষে নেওয়া এবং প্রত্যেকেই প্রার্থনা করছে যে, “ভগবান দয়া করুন যাতে আমাকে এই ভয়ংকর মশারা না কামরায়। কি করা যেতে পারে? উভয় জীবই সেখানে আছে। প্রথম ব্যাপার হচ্ছে মশারা সবসময়, যেমন আপনারা জানেন, ইয় ইয় ইয় [হাসি] কানের পাশে আওয়াজ করে ও আসে। সেটা আপনাকে সাবধান করছে। “এই যে আমি!” [হাসি] এটা হচ্ছে আপনার প্রতি কৃষ্ণের কৃপা। আপনি জানেন যে, ঠিক আছে তারা এখানে আছে, আপনাকে তখন এদের থেকে সতর্কতা গ্রহণ করতে হবে, তখন যাই হোক মশারি টানিয়ে ফেলুন।
এই জড় জগতে যেহেতু চরমে প্রত্যেকেই কম-বেশি তাদের নিজেদের উপভোগের জন্য কাজ করছে, সেই জন্য কৃষ্ণকে নিরপেক্ষ অবস্থা গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু শুদ্ধ ভক্তরা তারা সকল প্রকার ব্যক্তিগত বিবেচনা পরিত্যাগ করেছে এবং বলা যায়, “ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আমি কেবল আপনার প্রতি শরণাগত এখন আমি আমার নিজের স্বার্থের জন্য কোন কিছু করতে চাই না কারণ আমি জানি যে কেবল… আমার স্বার্থের জন্য আমি যা করি, বিশেষত জড়জাগতিকভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে যা কাজ করব তা আসলে আমার প্রকৃত স্বার্থ নয়। আমি কেবল তার ফলের দ্বারা বন্ধনগ্রস্ত হব। কারণ এবং ফল— যাই আমি করি, আমি কেবল সেটার ফল লাভ করব এবং আমি এমন কিছু করতে চাই না যা আপনাকে প্রসন্ন করবে না। আমি জানি যে যা কিছু আপনার প্রসন্নতা বিধান করবে, সেটাই আমার সর্বশ্রেষ্ঠ স্বার্থ। তাই, কৃষ্ণ চান না যে ব্যক্তিরা কোনভাবে অসুখী হোক। এর পরিবর্তে, তিনি তাদের পূর্ণ সুখ চান। আমরা জানি না এই জগতে কিভাবে সুখী হতে পারব কারণ আমরা সব কঠোর আইন জানিনা। আমরা কোন না কোনভাবে সুখী হওয়ার প্রয়াস করি, আর আমরা নির্দিষ্ট কিছু সূক্ষ্ম আইন লঙ্ঘন করলে আবার আমরা পিষ্ট হব। “যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম” —আমরা কেমন ভাবে কাজ করি, সেই অনুসারে আমরা ফল লাভ করব। আপনি যেমন বীজ বপন করবেন, তেমন ফল লাভ করবেন।
এই একই বিষয় বাইবেলে আছে যেমন বেদে আছে, সেখানে কর্মের আইন সম্বন্ধে বর্ণনা করা হয়েছে এটা—চোখের জন্য চোখ দাঁতের জন্য দাঁত। এটা হচ্ছে কেবল এই যে খ্রিস্টানরা এমনকি বাইবেলে যা বলছে তা বিশ্বাস করে না। আপনারা জানেন তাদের মধ্যে অনেকেই এরকম, এটা হচ্ছে এক দুর্ভাগ্যজনক বিষয়। যদি আপনারা সত্যিই বাইবেল পড়েন, তাহলে দেখবেন যে এর ৯০% ইতিমধ্যেই বেদে আছে, ১০% হয়ত ভুল ব্যাখ্যা যা দেওয়া হয়েছে বাইবেলের সকল অনুবাদে তবে অবশ্য বেদ হচ্ছে চরমে জ্ঞানের বৃহৎ উৎস, সমগ্র বিশ্বের সকল ধর্মের সর্ব বিস্তৃত গ্রন্থ হওয়ায় এটি হচ্ছে সবথেকে পুরাতন।
ঠিক যেমন আমরা বলি, আপনি যেমন বীজ বপন করবেন, তেমন ফল পাবেন। কর্মের আইন হচ্ছে ঠিক আপনি যা করবেন আপনাকে তার ফল গ্রহণ করতে হবে, এই জীবনে হোক বা পরবর্তী জীবনে হোক। আপনি যেমন জীবন যাপন করবেন, সেটা ঠিক করবে আপনার বাসনা এবং সেটা ঠিক করবে পরবর্তী জীবনে আপনি কেমন এবং কি জন্ম পাবেন। যদি আপনি ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার প্রতি সম্পূর্ণ উৎসর্গপ্রাণ হন, তাহলে আপনি তার কাছে ফিরে যাবেন এবং আর আপনাকে জন্মগ্রহণ করতে হবে না, আপনি আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যাবেন। সেখানে কাউকে, সেইজন্য কোন ব্যাক্তিকে এই জীবনে নিজেকে কৃষ্ণ চেতনাময় হতে, ভগবত চেতনাময় হতে, কৃষ্ণের প্রতি প্রীতিভাবনাময় হতে প্রশিক্ষিত করতে হবে, তখন ব্যাক্তি আনন্দিত হবে।
কাউকে তার পারিবারিক জীবনে তার সন্তানদের কৃষ্ণভাবনাময় করে বড় করে তোলা উচিত। যদি আপনি সন্তানদেরকে অন্য কোনভাবে বড় করে তোলেন, তাহলে আপনি এই আশা রাখতে পারেন না যে আপনি জড়জাগতিক কার্যকলাপের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হবেন। যদি কেউ ভগবানকে নিবেদিত প্রসাদ গ্রহণ করে তাহলে কোন কর্মফল হয় না। যদি আপনি আপনার ইন্দ্রিয়তৃপ্তির জন্য খাবার খান, তাহলে তার জন্য আপনি দায়ী।
এখানে মা যশোদা এটি অনুভব করছেন, অবশ্য তিনি তার পুরো জীবনে কখনো এমন কোন কিছু করেন নি যা সরাসরি কৃষ্ণের জন্য নয়। কারণ তিনি এতই সৌভাগ্যবতি যে, তিনি কৃষ্ণকে তার সন্তানরূপে লাভ করেছিলেন এবং তিনি সবকিছুই তার সন্তানের জন্য করতেন। এটাই হচ্ছে পরিপূর্ণতা। এই জগতে কৃষ্ণকে সেবা করার ফলস্বরূপ আমরা কৃষ্ণকে আমাদের সখা বা আমাদের সন্তানরূপে পেতে পারি এবং সেই সময় তা হচ্ছে আরো উচ্চ ধরনের মায়া, যাকে বলা হয় যোগমায়া, তখন আমরা মনে করি যে কৃষ্ণ হচ্ছেন আমার প্রিয় সখা বা আমার প্রভু।” এবং আমরা সবকিছু তাঁর স্বার্থে করি। এমনকি এক সরাসরি সম্পর্ক থাকে যাতে আমরা তাঁর সাথে সম্বন্ধ বুঝতে পারি এবং তা এটিকে আরো নিখুঁত এবং আন্তরিক করে তোলে। আমাদের এক ব্যক্তিগত সম্বন্ধ থাকে, বলা যায় কৃষ্ণ আমার প্রিয়তম বা আমার সন্তান, তিনি হচ্ছেন আমার সখা বা তিনি আমার প্রভু যিনি হচ্ছেন আমার আরাধ্য। এইভাবে সবকিছু অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত এবং পূর্ণাঙ্গ হয়ে ওঠে।
এমনকি এই জড় জগতে, আমরা কৃষ্ণের কাছে যাই, “তিনি হচ্ছেন আমার প্রভু।” আমরা সেই ভাবে সেবা করি যে এই পুরো জগৎ হচ্ছে কৃষ্ণের, আমাদের কিছু নয়। এমনকি যদি একজন ভক্ত উন্নতি করতে চেষ্টা করেন, সেখানে অনেক কিছু সুক্ষ আসক্তি আছে যা হয়ত আমাদের কাছে আবার ফিরে আসতে পারে, তাদেরকে বিভ্রান্ত করতে পারে। কেউ হয়ত ভাবতে পারে আমি তা উপভোগ করব, কোন অবৈধ কাজের দ্বারা তাড়াতাড়ি অর্থ পাব, কিন্তু দেখুন অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন সেটা হচ্ছে একধরনের সূক্ষ্ম ভ্রম। এমনকি একজন ব্যক্তির উদ্দেশ্য হয়তো এই যে আমি কৃষ্ণের সেবা করতে পারব, আমাকে কৃষ্ণের জন্য অর্থ দিন, আমি অবৈধ কোন কিছু করব ও তার দ্বারা তাড়াতাড়ি অর্থ লাভ করব। তাহলে তখন কেউ আবার সুক্ষ ভাবে এই সব ধরনের অবাঞ্ছিত অনর্থের মধ্যে পড়ে যাবে, তাই প্রত্যেকের অকপটভাবে আচরণ করা উচিত। কখনো কখনো ভক্তরা তারা ভক্ত হওয়ার চেষ্টা করে, এই সব থেকে বেরিয়ে গিয়ে কিছু অবৈধ কাজ করে এবং অসুবিধার মধ্যে পড়ে, কারণ কৃষ্ণ এটা চান না। যদি কৃষ্ণ চান, তাহলে চরমে ব্যক্তি তার কর্মের থেকেও অধিক জড়জাগতিক সাফল্য লাভ করতে পারবে। যদি ব্যক্তি অবৈধভাবে তা করার চেষ্টা করেন বা এইরকম কিছু করার চেষ্টা করেন, এক্ষেত্রে এর কোন সহজ ছোট পথ নেই। কেউ এমনকি বৈধভাবেও তা পেতে পারবেন, যদি কৃষ্ণভাবনামৃতের পরিপ্রেক্ষিতে সেটা তার পাওয়ার হয় এবং যদি আপনি অবৈধ কোন কিছু করেন, তাহলে তা পুরোপুরি দুতক্রীড়ার মত হবে। শ্রীকৃষ্ণের সম্বন্ধে চিন্তা করার পরিবর্তে, তখন ব্যক্তি সবসময় চিন্তা করবে আমি কি ধরা পড়ব নাকি বা আমি কি সফল হব নাকি, ইত্যাদি এবং তখন তা পুরো দূতক্রীড়ার মত হয়ে যাবে, তা হবে পুরোপুরি সকাম কর্ম, এমনকি যদিও তা কৃষ্ণের জন্য হওয়ার কথা ছিল, কৃষ্ণ এটি চান না। একজন নবাগত ভক্তের ক্ষেত্রে এমনকি সরাসরি কৃষ্ণের সেবা করার মধ্যেও যথেষ্ট উদ্বিগ্নতা থাকে, যদি তা কৃষ্ণ সরাসরিভাবে তার পরিশুদ্ধির জন্য চান। যদি কেউ গুরুদেবের অনুমোদন ছাড়া কোন কিছু করতে থাকে, তখন তা অধিক থেকে অধিকতর বিপদজনক হয়ে ওঠে, তাহলে কিভাবে সেই ব্যক্তি নিজেকে কৃষ্ণের অধীন হতে প্রশিক্ষিত করবে? অনেক পথ দেওয়া আছে, প্রথম হচ্ছে প্রত্যেকের নিজেকে আধ্যাত্মিক গুরুর অনুগত হওয়ার মাধ্যমে নিজেকে কৃষ্ণের অধস্তন হওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত, যেখানে তিনি এটি উপলব্ধি করতে পারবেন যে আমার নিজের মন, আমার নিজের বুদ্ধি, কৃষ্ণের কাছে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট নয়। আমি এমন কারও নির্দেশনা চাই যিনি ইতিমধ্যেই গুরুপরম্পরার মাধ্যমে কৃষ্ণের সংস্পর্শে আছেন।
তদ্বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া।
উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ।।
(গীতা ৪.৩৪)
আমার তার কাছে যাওয়া উচিত, প্রশ্ন করা উচিত, সেবা করা উচিত তারপর প্রশ্ন করা উচিত, আত্মসমর্পণ করা উচিত। এইভাবে আমি সত্য অনুধাবন করতে পারব। যতক্ষণ না কেউ আধ্যাত্মিক গুরু যা কিছু বলছেন তা কৃষ্ণের উপদেশ হিসেবে গ্রহণ করছেন এবং অনুগতভাবে তা পালন করছেন, ততক্ষণ আধ্যাত্মিক গুরু থাকার কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। যখন কোন ব্যক্তি দীক্ষা গ্রহণের কথা চিন্তা করে, তখন তার তৎক্ষণাৎ সেই স্তরে উন্নীত হওয়া উচিত যে তাদের সম্পূর্ণ বিশ্বাস থাকবে যে আধ্যাত্মিক গুরু যা উপদেশ দিচ্ছেন তা চরমে আমার ভালোর জন্য এবং সেটা আমাকে কৃষ্ণের উপদেশ প্রদানের মতোই উত্তম, কারণ আধ্যাত্মিক গুরু গুরুপরম্পরার মাধ্যমে সরাসরি কৃষ্ণের সংস্পর্শে আছেন, তিনি জানেন সত্য কি, সেই জন্য তিনি যা নির্দেশ দিচ্ছেন আমার শুধু তাই করা উচিত, সেটা হচ্ছে অত্যন্ত... অবশ্য কেউ বলতে পারে, “এটা একটু বেশি মনে হচ্ছে, কে গ্রহণ করতে পারবে এমন এক…” তাহলে দীক্ষা গ্রহণ করবেন না। শ্রীল প্রভুপাদ কখনও বলেননি যে আমাদের আন্দোলনে থাকতে গেলে কাউকে দীক্ষিত হতে হবে না, আপনি থাকতে পারেন। এই আন্দোলনে থেকে বা আপনার গৃহে দীক্ষা গ্রহণ না করে এই হরে কৃষ্ণ নাম জপ করতে পারেন, কিন্তু কোন ব্যক্তি যখন দীক্ষা গ্রহণ করেন, তার অর্থ হচ্ছে — “ঠিক আছে এখন আমি আধ্যাত্মিক গুরু গ্রহণ করছি যাতে আমি ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে পারি।” শুদ্ধ ভক্ত হওয়ার কথা চিন্তা করতে হবে না। একজন শুদ্ধ ভক্ত এত উন্নত যে আমরা শুদ্ধ ভক্ত হওয়ার চিন্তাও করতে পারি না, কেবল পূর্ণ বিশ্বাস সহ গুরুদেবের আদেশ পালন করতে হবে। শুদ্ধ ভক্ত মানে আমরা এমনকি কৃষ্ণকে অনুসরণ না করার ব্যাপারে চিন্তাও করতে পারি না। আমাদের মন কখনও এমনকি জড়জাগতিক জীবনের উপভোগের কথা চিন্তাও করতে পারে না। যদি মন এইরকম কোন চিন্তা আনে, তাহলে তৎক্ষণাৎ আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি। তখন মন এতই প্রশিক্ষিত বা সেটা সম্পূর্ণ শুদ্ধ, তাই তা এমনকি এমন কোন কিছুর চিন্তা করেনা যার সাথে ভক্তিমূলক সেবার সম্বন্ধ নেই। এমনকি যদি আমাদের মন অবাধ্য হয়, এমনকি যদি আমাদের মন সেই দিকে টেনে নিয়ে যায়, রশ্মি দিয়ে এদিকে ওদিকে টানে ইন্দ্রিয়কে অনুসরণ করতে, এমনকি যদি আমরা শুদ্ধ না হই, কিন্তু আমরা যদি আধ্যাত্মিক গুরু গ্রহণ করি তাহলে তিনি পথপ্রদর্শন করবেন যে কোনটি আমাদের জন্য ভালো। কেমন হবে যদি আপনি বিষ গ্রহণ করেন? যেহেতু আমদের মধ্যে বাসনা আছে, তাই আমরা বলব, “না আমি কোনোভাবেই এই বিষ গ্রহণ করব না।” সেক্ষেত্রে গুরু গ্রহণের কি মানে আছে? আধ্যাত্মিক গুরু এর অর্থ হচ্ছে, তিনি হচ্ছেন দায়িত্বপূর্ণ। কৃষ্ণের সামনে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন যে, “আমি এই শিষ্যকে ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে, তোমার কাছে ফিরে যেতে পথনির্দেশনা প্রদান করব” এবং সেই শিষ্য কৃষ্ণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, “এখন আমি এই আধ্যাত্মিক গুরুকে গ্রহণ করছি, যিনি আমাকে আপনার কাছে ফিরে যেতে পথ দেখাবেন, তাই তিনি যা বলবেন সেটা আমি আপনার বলা বাক্যের মতো সমান হিসেবে গ্রহণ করব। তিনি যা কিছু সেবা দেবেন, আমি তা করব। আপনি দয়া করে সেই সেবা আপনার প্রতি নিবেদন হিসেবে গ্রহণ করুন।” তখন যদি কারও আধ্যাত্মিক গুরু থাকে এবং সে যদি তার নির্দেশ পালন করতে না চায়, তার সেবা করতে না চায়, নির্দেশ গ্রহণ করতে না চায়, তাহলে সেই সুরক্ষা কোথায়? তখন সেখানে কোন সুরক্ষা নেই। আধ্যাত্মিক গুরুর অর্থ যে তিনি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত, সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। যেকোনো উদ্বিগ্নতা থেকে পুরোপুরি মুক্ত। আধ্যাত্মিক গুরু ছাড়া কোন ব্যাক্তি সর্বদা উদ্বিগ্ন যে কি করব? পরবর্তীতে কি করব? এটা কি আমার জন্য ভালো হবে? আমি যা চাই এটা কি এর দ্বারা পাবো? যখন কারো আধ্যাত্মিক গুরু থাকে, তখন তার কোন উদ্বিগ্নতা থাকে না। তিনি জানেন কোনটা ভালো, কোনটা ভালো নয়। তাই নিশ্চিতরূপে আধ্যাত্মিক গুরু গ্রহণ করার পূর্বে কোন ব্যক্তির তার প্রতি প্রচন্ড বিশ্বাস গড়ে তোলা উচিত। এটা খামখেয়ালি হওয়া উচিত নয়।
সাধারণত কেউ হয়তো অনেক মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেন, যারা কাউকে পথ দেখান, কাউকে উপদেশ দেন। প্রথম যে ব্যক্তির সাথে কোন ব্যক্তি সাক্ষাৎ করেন এবং তিনি যিনি কৃষ্ণভাবনামৃতের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথ দেখান, তিনিও পথপ্রদর্শক আধ্যাত্মিক গুরুরূপে পরিচিত যিনি পথপ্রদর্শন করান। এরপর আধ্যাত্মিক গুরুবর্গ আছেন, যারা কাউকে উপদেশ দেন, পরম নির্দেশাবলী দেন, তারা শিক্ষাগুরু রূপে পরিচিত এবং এরপর হচ্ছেন যিনি অবিরতভাবে ভালো উপদেশ প্রদান করছেন, সাধারণত সেই ব্যক্তিকে একজনের দীক্ষাগুরু হিসেবে গ্রহণ করা হয়, কারণ উনি ইতিমধ্যেই, সেই আধ্যাত্মিক গুরুদেব ইতিমধ্যেই তাঁর বাস্তব নির্দেশাবলী এবং সঙ্গের মাধ্যমে প্রদান করেন যে, কেবল তার হৃদয়েই শিষ্যের উদ্দেশ্যে আন্তরিক ইচ্ছাই নেই— সেটা একজন মা-বাবারও হয়ত আন্তরিক ইচ্ছা থাকতে পারে, কিন্তু তারা হয়তো সত্য সম্বন্ধে জানেন না তবে তিনি সত্য সম্বন্ধে জানেন, তিনি জানেন যে কিভাবে শিষ্যকে জাগতিক মায়ার বিপরীতে চালিত করতে হবে। শিষ্য সেই সমস্ত নির্দেশ পালনের মাধ্যমে বাস্তবিকভাবে তা দেখতে পারেন। তাই, আমাদেরকে এই উপভোগের মানসিকতা পরিত্যাগ করতে হবে, এর মানে হচ্ছে এক ধরনের… এর মানে এই না যে মানুষেরা পৌরুষহীন হবে, কিন্তু এর পরিবর্তে এক ভিন্ন আচরণ যে— কেউ স্বার্থেপরের মতো ইন্দ্রিয় উপভোগের দ্বারা অনুপ্রাণিত হওয়ার বদলে আধ্যাত্মিকভাবে অনুপ্রাণিত হবে। কোন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব হয়তো যেকোনো রূপের হতে পারে, ব্যক্তিত্ব হয়তো কোন বিশেষ ধরনের হতে পারে, কিন্তু চরমে এটাতে মনোযোগ রাখা হয় যে ব্যাক্তি কৃষ্ণের প্রতি আত্মসমর্পণের ভাব গ্রহণ করেন এবং যখনই তিনি শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয় গ্রহণ করেন, তিনি তাকে সকল প্রকার কর্ম থেকে রক্ষা করেন, তখন কেউ তখন আরও স্বস্তি অনুভব করতে পারেন। যখন কেউ স্বতন্ত্র মনোভাব, বিচ্ছিন্নতার মনোভাব বজায় রাখে, তার মানে ভক্তিমূলক সেবা হয় সত্ত্ব গুণে বা রজো গুনে বা তম গুনে আছে। তখন সেই ব্যক্তি স্বস্তি অনুভব করে না, সব সময় কিছু না কিছু উদ্বিগ্নতা চলতে থাকে। তারা চিন্তা করে আমি কেন আমার ভক্তিমূলক সেবার দ্বারা সন্তুষ্ট হচ্ছে না? কারণ তারা আত্মসমর্পণ করেনি। যদিও তারা কিছু ভক্তিমূলক সেবা অনুশীলন করছে, যার জন্য তারা কিছু কৃতিত্ব পাচ্ছে, কিন্তু তা সত্ত্ব, রজ এবং তম গুণের সাথে সংমিশ্রিত।
কখনো কখনো মানুষেরা কৃষ্ণের কাছে আছে আসেন অর্থ লাভের জন্য, কখনো কখনো তারা আসেন যাতে তারা তাদের সমস্যা থেকে মুক্ত হতে পারে, কখনো কখনো তারা কৃষ্ণের কাছে আসে যখন তারা জিজ্ঞাসু। এমনকি কখনো কখনো মানুষেরা আসে যেমন.... পুলিশ অধিকারী আসে, তারা এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসও করে যে এখানে কি হচ্ছে, এখানে কি কোন অবৈধ কাজ হচ্ছে? কিছু কিছু পুলিশ, তারা এসেছিলেন এবং মন্দিরে থেকেছিলেন। তারা এত আনন্দিত হয়েছিলেন ভক্তদের সাথে থেকে যে তারাও ভক্ত হয়ে যান। অবশ্য এটা… তারা আসলে শ্রবণ করেন না, তাই কখনো কখনো… কিন্তু তারা যদি শ্রবন করেন এবং এই সঙ্গ গ্রহণ করেন, তাহলে তাদের হৃদয় পরিবর্তিত হয়, কিন্তু যদি তারা লোক দেখাতে থাকে এবং শ্রবণ না করে, তাহলে বেশ বিপদজনক পরিস্থিতি। দেখুন এটা তাদের পক্ষে কঠিন যদি তারা প্রকৃতপক্ষে তাদের মনকে শ্রবণে না লাগায়।
কৃষ্ণভাবনামৃতের ভিত্তি হচ্ছে যে ব্যাক্তি সন্তুষ্ট অনুভব করেন, আনন্দ অনুভব করেন, তখন তিনি বুঝতে পারেন যে এই পন্থা কাজ করছে। ঠিক যেমন যদি কেউ অসুস্থ থাকে, আপনি ওষুধ গ্রহণ করুন, আপনি স্বস্তি অনুভব করবেন। আমরা সবাই এই জড়জগতে রোগগ্রস্ত কারণ আমরা সবাই জড়াপ্রকৃতির উপর আধিপত্য স্থাপন করার মাধ্যমে পরমেশ্বর ভগবানের নকল করার চেষ্টা করছি। আমরা যখন আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করি, সেবা মনোবৃত্তি গ্রহণ করি, তখন আমরা কৃষ্ণের মাধ্যমে অন্যান্যদের সেবা করি, কিভাবে জরা প্রকৃতির সেবা করা যাবে জড়া প্রকৃতিকে সেবায় লাগিয়ে… চরমের সবকিছুই কৃষ্ণের সেবা এবং প্রীতিবিধানের জন্য। তারপর কেউ তৃপ্তি অনুভব করেন কারণ এটাই হচ্ছে আমাদের প্রকৃত স্থিতি যে আমরা ভগবানের অংশ। আমাদের পূর্ণের সেবা করার কথা, যেমন হাত হচ্ছে আমার শরীরের অংশ, এটা আমার পুরো শরীরের সেবা করি, সেটা হচ্ছে খুবই স্বাভাবিক, এর জন্য ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন প্রয়োজন নয়, প্রয়োজন মানসিক… এমনকি তেমন সমন্বয় দরকার নেই, কেবল কিছুটা সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে তা হচ্ছে আমাদের আচরণ, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির। জগতকে এইভাবে দেখার পরিবর্তে যে, “এই হচ্ছে আমার উপভোগের স্থান এবং আমি এর উপর আধিপত্য ফলাব।” আমরা দেখি যে এই হচ্ছে আমার কর্মক্ষেত্র, এই হচ্ছে সেই স্থান, যেখানে এখন আমি এইসব শক্তি যা হচ্ছে কৃষ্ণের শক্তি, তা তাঁর সেবায় ব্যবহার করব এবং এগুলি হচ্ছে আমার ভগবানের কাছে ফিরে যাওয়ার, আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যাওয়ার মাধ্যম। যদি আমি এগুলি উপভোগ করতে চাই, তাহলে আমি এর মধ্যে জড়িয়ে পড়ব, আর যদি আমি এই সব কিছুড় কৃষ্ণের জন্য সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করি, তাহলে আমি মুক্ত হব।
জয় শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ।।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে
কোন প্রশ্ন আছে? হ্যাঁ?
প্রশ্ন:- যখন কোন জীব আধ্যাত্মিক জগৎ থেকে পতিত হয়, তখন কি সে প্রথমে মানব দেহ পায়?
জয়পতাকা স্বামী:- কখনও কখনও তারা প্রথম দেহে ব্রহ্মা হয়ে আসে। মনুষ্য জীবনই হচ্ছে প্রথম জন্ম, যার দ্বারা কেউ ফিরে যাওয়ার সুযোগ পায়। ব্রহ্মা তার সেই ব্রহ্মাণ্ডের শেষে সরাসরি ফিরে যেতে পারেন, যদি না তিনি জড়জাগতিক হয়ে ওঠেন, আর তারপর ব্রহ্মা থেকে কেউ একটি পোকা বা মানুষ হিসাবে জন্ম নিয়ে তাদের নিজ যাত্রা শুরু করে, সেটা নির্ভর করে। কেউ তা বলতে পারবে না কি হবে, এবং বেদেও কিছু বিভিন্ন প্রমাণ পাবে। ব্রহ্মা রূপে আসা বা মানুষ রূপে আসা, তা ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। আমরা দেখি যে জয়, বিজয়, তারা রাক্ষস হয়ে এসেছেন। তাই প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রেই কেন তারা এখানে সেটা কেউই সঠিকভাবে বলতে পারবে না কারণ প্রত্যেকেই ভিন্ন। এবং কিভাবে আমরা এই জড়জগতে প্রবেশ করেছি, তার সঠিক কারণ জানার একমাত্র উপায় হচ্ছে যখন আমরা শেষে আবার আমাদের মুক্তি পাব তখন। এটি যেন স্বপ্নাবস্থার মত, এই মুহূর্তে আমরা স্বপ্নের মধ্যে আটকে আছি এবং আমাদের এই সব প্রচেষ্টাই হচ্ছে স্বপ্ন থেকে বেরিয়ে আসার বা জেগে ওঠার জন্য। এটা ঠিক যেন কেউ এক ধরনের কোমায় আছে। আর কোমায় সে অনেক স্বপ্ন দেখছে এবং সেই স্বপ্নের মধ্যে সে এক স্বপ্নে আছে এবং তারপর লাফ দিয়ে আরেকটি স্বপ্নে যাচ্ছে, অবশেষে যতক্ষণ না সে মনে করতে পারছে যে কেউ এসে বলছে, “হ্যারি! হ্যারি!” এবং তখন সে স্বপ্ন থেকে বেরিয়ে আসে, “আমি কোথায়?” “ঠিক তো?” “আমি কোথায় ছিলাম।” এটি এমন যে একবার তুমি এই জড়জগৎ থেকে বেরিয়ে প্রকৃত কৃষ্ণচেতনায় ফিরে গেলে, এমন ভাববে যে, “আমি সেই সব কাজ করেছি! আমি একটি প্রাণী ছিলাম, মানুষ ছিলাম এবং আমি কৃষ্ণ সম্পর্কে ও আমার নিত্য আধ্যাত্মিক প্রকৃতি সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে ভুলে গিয়েছিলাম।” ঠিক স্বপ্নের মতো। তুমি আর কখনও ঘুমাতে চাইবে না, আর কখনও জড় জগতে আসতে চাইবে না। বিষয়টা হচ্ছে কাউকে ঘুম থেকে উঠতে চাইতে হবে। তাই এই কারণে আধ্যাত্মিক গুরু এত দয়ালু যে এমনকি একজন মানুষ যে ঘুমিয়ে আছে, জাগতে চায় না, তিনি তাকে ডাকছে, জীব জাগো, “জাগো! জাগো! তুমি এই দেহ নও। তুমি নিত্য জীবাত্মা।”
এবং সেই আত্মা তার জীবনে কত কিছু শুনেছে, “তুমি হচ্ছ আমেরিকান! তুমি হচ্ছ বোহেমিয়ান! তুমি হচ্ছো হিপ্পি! তুমি হচ্ছো সংরক্ষণশীল! তুমি হচ্ছ প্রজাতান্ত্রিক! তুমি হচ্ছ সাম্যবাদী! ইত্যাদি এবং এমনকি তখন জীবাত্মা জেগে ওঠার ধারে কাছেও আসেনি। এটাই হচ্ছে কেবল পার্থক্য! তা কেবল আপনার স্বপ্নের ধরন পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু যখন সেই শুদ্ধ ভক্ত বলেন, “না আপনি হচ্ছেন কৃষ্ণের নিত্য দাস, আপনি এই শরীর নয়।” তখন তত্ক্ষণাত সেই জীব পথ চলা শুরু করে। এই প্রথম বার কোন কিছু বলা হলো যা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে আত্মা বিষয়ক, তখন পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু হয়, জেগে ওঠার প্রারম্ভ হয়। তখন আত্মা বুদ্ধি কে নির্দেশনা দেওয়া শুরু করে — “সেটা কি ছিল? তিনি কি বলছিলেন?” এটা আশ্চর্য লাগে যে প্রথমবার যখন কেউ শুনছেন যে তিনি হচ্ছেন ভক্ত, তখন তা হয়ত এমনকি এক প্রচন্ড অভিঘাতের মত আসে। যখন ভক্ত প্রথম বলছেন, তা সরাসরি আত্মার কাছে যায়। তারা এমনকি শরীর এবং মনের সাথে কথা বলেন না, এটা সরাসরি আত্মার কাছে যায়, কারণ আত্মা প্রভাব প্রয়োগ করতে পারে এবং মন এবং দেহের উপর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তবে তা জাগ্রত হতে হবে, তা প্রকৃতপক্ষে আত্মার থেকে আসতে হবে, প্রকৃত স্থিতির দ্বারা সাধিত কার্য হতে হবে।
হ্যাঁ?
প্রশ্ন: (শ্রুতিহীন)
জয়পতাকা স্বামী: যখন আমরা বলি, “প্রসাদ গ্রহণ করুন, আপনি মানব জীবন লাভ করবেন।” তখন তাতে মানুষেরা প্রসাদ গ্রহণ করেন এবং মুক্তি লাভ করেন। তাই প্রসাদের মহিমা বর্ণনায়… কৃষ্ণপ্রসাদ-এর ক্ষেত্রে আপনি কোন সীমাবদ্ধতা রাখতে পারবেন না। কিছু ব্যক্তি তারা কেবল একবার ‘হরে কৃষ্ণ’ নাম করার মাধ্যমে মুক্তি লাভ করে, যেমন অজামিল। কেবল হরে কৃষ্ণ নামের মাধ্যমে এত পাপ কর্মফল বিনষ্ট হয়, যা কেউ কখনো করতে পারবে না। একই সময় কেউ হয়তো হরে কৃষ্ণ সহস্র বার করতে পারে… এবং তবুও আসলে কৃষ্ণের কাছে ফিরে যেতে না পারে। সেটা কিভাবে সম্ভব? বিষয় হচ্ছে কোন ব্যক্তির এই ব্যাপারে সংশয় থাকা উচিত নয় যে ‘হরে কৃষ্ণ’ নাম করলে তার কোন প্রভাব হবে নাকি। এর মানে সম্ভবত এটি যা কারোর কাছে আসতে পারে, কিন্তু প্রত্যেক ব্যক্তির পরিস্থিতি ভিন্ন। যদি কোন ব্যক্তি অত্যন্ত অপরাধজনক হয়, তাহলে এমনকি তারা ‘হরে কৃষ্ণ’ নাম করতে পারে, প্রসাদ গ্রহণ করতে পারে কিন্তু যেহেতু তারা ভক্তদের প্রতি অপরাধ করেছে, সেই অপরাধের কারণে কৃষ্ণ হয়তো তাঁর কৃপা করতে অসম্মত হবেন।
অপরাধ সরাসরি হওয়ায়… অপরাধ এবং পাপকর্মের মধ্যে পার্থক্য আছে। একজন ব্যক্তি হয়ত সবথেকে পাপী, হয়ত খুনি, হয়ত ধর্ষণকারী হয়ত… কিন্তু এই সব কিছুই জড়জাগতিক স্তরে। এটির সাথে অন্যান্য ব্যক্তিদের জড়জাগতিক শরীরের সম্পর্ক আছে। এটার সাথে ভগবানের কোন সম্পর্ক নেই। তাই এর ফলে তারা যে পাপের ফল পাবে, সেটিও জড়জাগতিক। তাদের যা কিছু কষ্ট হয়, যা তারা তাদের বা অন্যান্যদের শরীরে করেছিল, তা ভোগ করতে হবে। কিন্তু অপরাধ মানে ভগবানের সাথে বা যারা ভগবানের সাথে সম্বন্ধীয় তার শুদ্ধ ভক্ত তাদের সাথে সরাসরি সম্বন্ধিত। সেইজন্য, এক্ষেত্রে সবথেকে শক্তিশালী হচ্ছে কৃষ্ণের কৃপা, সেই কৃপা জড়জাগতিক পাপ ফল বিনষ্ট করতে পারে এবং কাউকে স্বচ্ছ অবস্থা প্রদান করতে পারে, কাউকে ভগবদ্ধামে ফিরিয়ে আনতে পারে। যদি কেউ সরাসরি ভগবানের বিরোধিতা করে, এমনকি তবুও তিনি ক্ষমা করে দিতে পারেন, কিন্তু কখনো কখনো যদি আপনি সরাসরি তার ভক্তের প্রতি অপরাধ করেন, তাহলে কৃষ্ণ সেটির এতটাই অসমর্থন করেন যে তিনি হয়ত ততক্ষণ পর্যন্ত সেই ব্যক্তিকে কৃপা করতে অসম্মত হবেন যতক্ষণ না সে তার ভক্তদের প্রতি অপরাধ করার মানসিকতা থেকে বের হতে পারছে বা সে যা অপরাধ করেছিল তা থেকে মুক্ত হতে পারছে। এইভাবে যদি কোন ব্যক্তি অপরাধমুক্ত হয়, তাহলে প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে কেউ এমনকি মুক্তি লাভ করতে পারে, কেউ এমনকি কৃষ্ণভাবনামৃত অর্জন করতে পারে। এটি নির্ভর করছে অপরাধের উপর, অপরাধ কম হলে এবং অন্যান্য এত কিছু পরিস্থিতিতে কেউ মুক্তি লাভ করতে পারে। কেউ হয়তো আন্তরিকভাবে সত্যের অনুসন্ধান করছেন বা কেবল জাগতিক কাজ করছেন, একজন নিরীহ ব্যক্তি, যে ভগবানের প্রতি অত্যন্ত শত্রুতাপরায়ণ, কেবল নিজের ইন্দ্রিয় ভোগ করার চেষ্টা করছে, ইন্দ্রিয় উপভোগ করার চেষ্টা করছে এবং ভুল পথে চালিত হয়ে আনন্দে আছে, এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে, বিভিন্নভাবে উপভোগের চেষ্টা করছে এবং তাতে সফল হচ্ছে না। সে ভক্তদের সঙ্গ করলে, তারা তাকে প্রসাদ দিলে, তারা তাকে আধ্যাত্মিক উপদেশ দিলে, তখন সে প্রারম্ভ করে, সেই ব্যক্তি নাম করা শুরু করে এবং তখন স্বাভাবিকভাবেই সে তৎক্ষণাৎ উন্নতি অনুভব করে।
অন্য ব্যক্তি হয়ত, দেখুন তারা যারা ভক্তদের প্রতি শত্রুতাপরায়ন, এর ফলস্বরূপ এর প্রভাব কম হবে কারণ অপরাধ হচ্ছে সবথেকে ভয়ংকর জিনিস। পরবর্তী ভয়ঙ্কর বিষয় হচ্ছে অবশ্য বাজে অভ্যাস এবং এইরকম কিছু, যখন আমরা ইতিমধ্যেই নাম জপ করা শুরু করেছি। কেউ যখন নাম করাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে, তখন তার যতদূর সম্ভব অনুমোদিত কার্যকলাপ এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ তারা কোন ব্যক্তির উন্নতিকে বিলম্বিত করবে। তাই প্রসাদ গ্রহণের ফলে চরমে সেই ব্যক্তি অন্তত মনুষ্য জীবন লাভ করার নিশ্চয়তা পেতে পারেন, কিন্তু এতে ব্যতিক্রম থাকতে পারে যদি সেই ব্যক্তি ব্যতিক্রমীভাবে ভক্তদের প্রতি অপরাধী হন। সাধারণ ক্ষেত্রে বলতে গেলে কাউকে অন্তত মনুষ্য জীবন প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেওয়া হয় এবং কেউ এমনকি প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে এর থেকে অধিক কিছু লাভ করতে পারে। যদি তিনি প্রসাদ গ্রহণ করেন, সেই ব্যক্তি তার সমস্ত কর্মফলের থেকে শুদ্ধ হয়। তার অপরাধের পর তিনি প্রসাদ গ্রহণ করেছেন, তাতে তিনি শুদ্ধ হয়েছেন, তবে তিনি আবার পরমহুর্তে আরো কিছু করলে, তিনি আরও কর্মফল পায়, আরো কিছু করলে তাকে তার ফল পেতে হবে। এবং সেই সব কর্মফলের কারণে তাদের জন্মগ্রহণ করতে হবে, কিন্তু অন্ততপক্ষে তারা মনুষ্য জীবন লাভ করতে পারে। তবে যদি প্রসাদ গ্রহণের পর তারা আর কোন জাগতিক কার্যকলাপে লিপ্ত না হয়, তাহলে তারা ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে পারে।
হ্যাঁ?
প্রশ্ন: (শ্রুতিহীন) প্রাণীরা যাদেরকে আমরা প্রসাদ পাওয়াই, তারা.. এটা কি এমন যে অপরাধ করছে, কারণ তারা হচ্ছে…?
জয়পতাকা স্বামী: তারা হচ্ছে পশু শ্রেণী। এরপর তারা অন্তত মনুষ্য শরীর লাভ করতে পারে। দেখুন একজন পশু, … সেই কুকুর, শিবানন্দ সেন একটি কুকুরকে প্রসাদ দিয়েছিলেন এবং সে ভগবদ্ধামে ফিরে গিয়েছিলেন, কারণ তার সব কর্ম বিনষ্ট হয়ে গিয়েছিল, তাকে আর পুরুষ বা মানব বা কুকুর হিসেবে আসতে হবে না। তাই সে তার প্রকৃত আধ্যাত্মিক স্থিতিতে ফিরে গিয়েছিল।
হ্যাঁ?
প্রশ্ন: আপনি কি জানেন কোন কারনে, কেন কেউ তুলসী দেবীর যত্ন গ্রহণ করেন? কেন আমাদের শৃঙ্গার করা উচিত এবং মঞ্জুরী দেওয়া উচিত ও আরতি করা উচিত? আমি প্রভুপাদের প্রবচন থেকে পড়েছি যে বিভিন্ন স্থান… ( শ্রুতিহীন)
জয়পতাকা স্বামী: আমি এখন একটি গ্রন্থ সংকলন করছি, যার মধ্যে নতুন অর্চন পদ্ধতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত আছে। তাই আপনি যা কিছু জানতে চান, যেমন অন্যান্য প্রশ্ন সেটাকে লিখুন এবং লিখে আমার কাছে চিঠি পাঠান। আমি যতক্ষণ আমেরিকাতে আছি, আপনি আটলান্টাতে তা লিখে পাঠাতে পারেন বা তা আমাকে দিতে পারেন। নয়তো কলকাতাতে আমাকে লিখে পাঠান। এই রকম ধরনের যে কোন প্রশ্নের ক্ষেত্রে আমি কেবল তুলসী মহারানীর সাধারণ ইতিহাস বা এইরকম কিছু লিখতে চলেছি কারণ এগুলি হচ্ছে সব সময়ের প্রশ্ন। আর কিছু?
জয় নিতাই গৌর চন্দ্র কী জয়!
ভক্তগণ: শ্রীল আচার্য পদ কি জয়!
জয়পতাকা স্বামী: তোমার নাম কি?
ভক্ত: স্কট।
জয়পতাকা স্বামী: তোমার কি কোন প্রশ্ন আছে স্কট?
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২