মুখম করোতি বাচালম পংগুম লংঘায়তে গিরিম
ইয়াত-কৃপা তম অহং বন্দে শ্রী-গুরু দীনা তারিণম
পরমানন্দ-মাধবম শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম
তারিৎ সতীহি
জয়পতাকা স্বামী: হরে কৃষ্ণ! আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান। আমি এই বিষয়ে আরও অনেক কথা বলেছি, কিন্তু আপনারা সবাই নাম জপ করছেন, তাই আমি আর বেশি কিছু বলব না! আপনার নাম আপনার থেকে আলাদা। কারণ আমরা সবাই এই জড় জগতের জীব। কিন্তু কৃষ্ণ এবং তাঁর নাম অভিন্ন। আপনি কৃষ্ণকে ডাকেন, আসলে তা তাঁর নাম, লীলা ইত্যাদি থেকে অভিন্ন। সুতরাং আপনি কৃষ্ণের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এবং তা করার মাধ্যমে আপনি শুদ্ধ হন। ঠিক যেমন আগুনে লোহা দিলে তা খুব গরম হয়ে যায়। তা আগুনের মতো হয়ে যায়! তাই আপনি যদি হরে কৃষ্ণ জপ করেন, তাহলে আপনি ভগবান কৃষ্ণের সঙ্গ লাভ করেন এবং আধ্যাত্মিক হয়ে ওঠেন! এটি হয়তো বাইরে থেকে দেখা যায় না, কিন্তু আপনার সূক্ষ্ম শরীর পরিবর্তিত হয়ে যায়! অবৈধভাবে ইন্দ্রিয় তৃপ্তির পরিবর্তে আমরা কৃষ্ণের সেবা করতে চাই। তাই গৃহিণীদের সন্তান থাকে, গৃহকর্ম থাকে, কিন্তু তাঁরাও হরে কৃষ্ণ জপ করতে পারেন। তাঁরা ধর্মপ্রচার করেন এবং বিভিন্ন কাজকর্ম করেন। ঠিক তেমনি, সমাজের আধুনিক মানুষেরা তাঁদের মূল বর্ণাশ্রমে সাধনা করতে পারেন বা নাও করতে পারেন, তাঁদের অনেক কাজ থাকতে পারে। কিন্তু তাঁরা যা-ই করুন না কেন, তা কৃষ্ণভাবনায় করুন। সেটাই হলো কৃষ্ণভাবনাময় দৈব-বর্ণাশ্রম । তাই, আমি এই বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী।
আমরা চাই ভক্তরা এটি জনসাধারণের কাছে তুলে ধরুন। আপনাদের সকলের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, প্রতিবেশী, সহকর্মী, সহপাঠী, বা অন্য যে কেউই থাকতে পারে। তাই আমরা তাঁদেরকে এই কাজে যুক্ত করতে চাই – শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন, ‘ যারে দেখা, তারে কহ ‘কৃষ্ণ’-উপদেশ’ [ চৈতন্যচরিতামৃত, মধ্য ৭.১২৮]। এক মাসে আপনি কতজন নতুন লোককে হরে কৃষ্ণ কীর্তনে দীক্ষিত করতে পারেন? কখনও স্ত্রী স্বামীকে দীক্ষিত করতে পারেন, আবার কখনও স্বামী স্ত্রীকে দীক্ষিত করতে পারেন। সুতরাং এটা সম্ভব। কখনও স্ত্রী স্বামীকে দীক্ষিত করতে পারেন না, আবার কখনও স্বামীও স্ত্রীকে দীক্ষিত করতে পারেন না! এটাই কলিযুগ। কাউকে দীক্ষিত করানো, আসলে কেউ কৃষ্ণকে আলিঙ্গন করতে পারে। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যখন দক্ষিণ ভারতে ভ্রমণ করছিলেন, তখন তিনি রাস্তার লোকদের আলিঙ্গন করতেন, এবং তারা তৎক্ষণাৎ কৃষ্ণের প্রেমে অভিভূত হয়ে পড়তেন। আমাদের সেই একই ক্ষমতা নেই। কিন্তু কোনো না কোনোভাবে যদি আমরা মানুষকে, এমনকি দৈবক্রমেও, কী জপ করতে উৎসাহিত করতে পারি – যেমন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর এক ভক্ত এক মহান কাজীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কাজী হলেন এক ধরনের মুসলিম ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি চাঁদ কাজী ছিলেন না, অন্য কোনো কাজী। ভক্তটি বললেন, “আপনি খুব সুদর্শন, আপনি খুব শক্তিশালী, আপনি খুব ধার্মিক,” এইভাবে তিনি তাঁর অনেক প্রশংসা করলেন। কিন্তু আমার একটি অনুরোধ আছে, “আমি কি আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে পারি?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ! অবশ্যই!” কাজী বললেন, “নিশ্চয়ই।” “দয়া করে এসব ভুলে যান এবং হরে কৃষ্ণ জপ করুন!” কাজী বললেন, “আমি আগামীকাল হরে কৃষ্ণ জপ করব!” ভক্তটি হাততালি দিয়ে বললেন, “আপনি তো এখনই শুরু করে দিয়েছেন!” সুতরাং এইভাবে কোনো না কোনোভাবে মানুষকে কী জপ করতে উৎসাহিত করুন, তারা যদি একবারও জপ করে, তবে তারা কিছুটা কৃপা পাবে। আর যদি তারা সারাক্ষণ জপ করে, তবে তারা পূর্ণ কৃপা পাবে!
তাই আমি ভাবছিলাম, এটা তো ডিজিটাল যুগ, আর ভক্তদের দিয়ে বিভিন্ন ভিডিও তৈরি করানো যায়। যাতে কেউ কিছু বললে, তা এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে ছেড়ে দেওয়া যায়। যদি এমন কোনো ভিডিও থাকে যা বারবার দেখানো যায়, তাহলে হয়তো সেটা মনে আরও বেশি গেঁথে যায়। কিন্তু ভিডিওটা ছোট হওয়া উচিত, কারণ মানুষের মনোযোগের সময়কাল কম। একজন বৈষ্ণবী গৃহবধূর একটি ভিডিও আছে, সেটা কতবার সম্পাদনা করা হয়েছে? ওটা প্রায় তিন মিনিটের একটা ভিডিও! আমি কৃষ্ণভাবনাময় দৈব-বর্ণাশ্রমের উপর ভিডিও তৈরি করছি । ওটা প্রায় চারবার সম্পাদনা করা হয়েছে, খুব ভালো হয়েছে। আমি তাকে সবকিছু সম্পাদনা করতে বলিনি, কিন্তু সে-ই করেছে। আর এখন একটা নতুন কপি তৈরি হয়েছে। আমি ওটা দেখিনি। আমি দেখতে চাই – আপনি কি আমার সাথে দেখতে এবং সম্পাদনা করতে সাহায্য করতে চান? মানে, কৃষ্ণভাবনা অনেক আনন্দের! এটা এক দিব্য আনন্দ! মানে, সত্যিই পরম আনন্দ! আমি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না! মানুষ যদি এই আনন্দ অনুভব না করে, তবে তারা তা থেকে বঞ্চিত হবে! অনেক বছর পর আমি উত্তর আমেরিকা যাচ্ছি। তাই মায়াপুরের পবিত্র ধামে থাকাটা খুব জরুরি। আমি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা পড়ছিলাম, তিনি চান যেন সবাই ভক্ত হয়ে ওঠে! হরিদাস ঠাকুর তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “গাছপালা আর পোকামাকড়ের কী হবে?” আপনি পোকামাকড় আর মশা নিয়ে চিন্তা করেন!
আপনার কাছে কি কেসিডিভি-র সেই ভিডিওটা, ‘হরিদাস চৈতন্য দাস’ আছে? আচ্ছা!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ