মুখম করোতি বাচালম পংগুম লংঘায়তে গিরিম
ইয়াত-কৃপা তম অহং বন্দে শ্রী-গুরু দীনা তারিণম
পরমানন্দ-মাধবম শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম
তারিৎ সতীহি
জয়পতাকা স্বামীঃ সু-স্বাগতম ! আজ আমরা একটি দীক্ষা অনুষ্ঠান পালন করছি। প্রার্থীরা বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করেছেন। এবং আপনারা সকলেই পবিত্র নামের প্রতি দশটি অপরাধ বিষয়ে বক্তৃতা শুনেছেন। আমাদের এই দশটি অপরাধ খুব সতর্কতার সাথে পরিহার করা উচিত। প্রকৃতপক্ষে, কলিযুগে কোনো সদ্গুণ নেই। এটি দোষের মহাসাগর।
কালের দোষ-নিধে রাজন
অস্তি হাই একো মহান গুণঃ
[ SB 12.3.51]
একমাত্র উত্তম গুণ হলো কীর্তন , অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণের শ্রীনাম জপ! এটিই আমাদের দিব্য সঙ্গ দান করে, আধ্যাত্মিক জগতে নিয়ে যায়! সুতরাং, কলিযুগে শ্রীনাম ছাড়া আর কোনো আশা নেই! এখন, যদি আমরা শ্রীনামের অবমাননা করি, তবে অন্য কেউ আমাদের সাহায্য করতে পারবে না। যদি আমরা দেবতাদের অবমাননা করি, তবে শ্রীনাম আমাদের সাহায্য করতে ও মুক্ত করতে পারে। কিন্তু যদি আমরা শ্রীনামের অবমাননা করি, তবে শ্রীনাম ছাড়া আর কেউ আমাদের সাহায্য করবে না! তাই আমাদের নিরন্তর শ্রীনাম জপ করতে হবে, ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এবং হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করতে হবে । হরিনাম পরম করুণাময়ী! সুতরাং, তিনি আমাদের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু! তাই যাঁরা দীক্ষা নিচ্ছেন, তাঁরা মায়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন ! আধুনিক যুগের সৈন্যরা রাইফেল ইত্যাদি বহন করে। মায়ার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে আমাদের আছেন ভক্তি — যোগী ও যোগিনীরা , এবং আমরা হরিনামের অস্ত্র ধারণ করি! হরিবোল! গৌরাঙ্গ!
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই সংকীর্তন - যজ্ঞটি উপস্থাপন করার জন্য গোলক বৃন্দাবন থেকে অবতীর্ণ হয়েছিলেন ! শ্রীমৎ এ. সি. ভক্তিবদন্ত স্বামী প্রভুপাদ এটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন! এবং তাঁর অনুগামীরা এখন এটি আরও ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বলা হয় যে, একজন গুরুর উচিত তাঁর শিষ্যদের উদ্ধার করা। আমি তা করতে পেরেছি কারণ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই মহৎ প্রক্রিয়াটি দিয়েছেন! কিন্তু আমি কেবল তখনই তা করতে পারব, যদি আপনারা অনুসরণ করেন! যদি আপনারা অনুসরণ না করেন, আপনারা ভাববেন আমি দীক্ষা নেব, ব্যস! এটুকুই! যদি আপনারা এভাবে ভাবেন, তাহলে আপনারা এই প্রেক্ষাগৃহ থেকে চলে যেতে পারেন! এখন, আমরা একসাথে এর মধ্যে আছি! এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তাই, আমরা চাই আপনারা সকলে খুব কঠোরভাবে এটি অনুসরণ করুন। কোনো অজুহাত চলবে না! তো, কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমি কীভাবে আমার এই উৎসাহ সারাজীবন ধরে রাখতে পারি? জীবন সংক্ষিপ্ত এবং আমরা দীক্ষা নিচ্ছি তার মানে, হ্যাঁ, আমি কৃষ্ণভক্তি করতে ইচ্ছুক ! আর আমি গুরু - পরম্পরা , শ্রীল প্রভুপাদ এবং পূর্ববর্তী সমস্ত আচার্যদের অনুসরণ করতে চাই । সুতরাং, দীক্ষার উদ্দেশ্য হলো গুরু - পরম্পরার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক স্থাপন করা । এমনও হতে পারে যে আপনি অনানুষ্ঠানিকভাবে ইতোমধ্যেই তা গ্রহণ করেছেন। তাই এটি একটি অত্যন্ত গুরুগম্ভীর অনুষ্ঠান, আমি একটি বড় দায়িত্ব নিচ্ছি, আপনিও একটি দায়িত্ব নিচ্ছেন। আর আপনি আপনার ব্রত গ্রহণ করেছেন, তাই না? তাহলে, যারা ব্রত গ্রহণ করেননি? সেক্ষেত্রে আপনি প্রতিদিন হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রের ১৭২৮ টি মন্ত্র ১৬ মালা জপ করবেন । এবং আপনি চারটি বিধান লঙ্ঘন না করার জন্য তা অনুসরণ করবেন। এইভাবে, আপনি কৃষ্ণের ভক্তি সেবায় সবকিছু নিয়মতান্ত্রিকভাবে করার চেষ্টা করবেন। আসলে, যদিও আমরা এখন এটি খুব গুরুত্বের সাথে বলছি, এটি প্রকৃতপক্ষে অত্যন্ত আনন্দময়! সেই কারণেই, আমরা এত বছর ধরে এটি করে আসছি! যদি তা আমাদের সুখ না দেয়, তবে আমরা তা করতে পারতাম না! তাই এই জড় জগতে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। কলিযুগে মানুষ হতভাগ্য, দুর্ভাগা, অলস, অসন্তুষ্ট এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ইত্যাদি। অকারণে মানুষ তর্ক করছে, বিবাহবিচ্ছেদ করছে, নানা রকম মন্দ কাজ করছে। দেখুন, পরমেশ্বর ভগবান সর্বতো মঙ্গলময়! এবং তাঁর সান্নিধ্যে সবকিছু ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু এই কলিযুগ ঈশ্বরবিহীন। সুতরাং, এটাই দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি! তাই আমরা মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে—কৃষ্ণের নাম, যশ, লীলা ইত্যাদি সবই দিব্য। মানুষ যদি কৃষ্ণের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, তবে তা তাদের জন্য সবই মঙ্গলজনক!
আজ সেই অত্যন্ত শুভ দিন, ভগবান নৃসিংহদেব তাঁর ভক্ত প্রহ্লাদকে রক্ষা করতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। আমরা ভগবান নৃসিংহদেব, ভক্ত প্রহ্লাদ, লক্ষ্মী দেবীর কাছে প্রার্থনা করি, যেন সকল প্রার্থী মায়ার দেওয়া সমস্ত বাধা অতিক্রম করে তাদের ভক্তি সেবায় অত্যন্ত সফল হন। এই মানব জীবন হলো কৃষ্ণের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে বোঝার জন্য। খাওয়া, সঙ্গম, ঘুম, যুদ্ধ, আত্মরক্ষা—এগুলো পশুদেরও আছে। কিন্তু মানুষের কৃষ্ণকে বোঝার মতো বুদ্ধি ও ক্ষমতা রয়েছে। তাঁর ভক্তি সেবায় নিযুক্ত হলে জীবন সফল হয়। হরে কৃষ্ণ!
কিছু মহিলা শাড়ি সরিয়ে ডান কান খুলছেন না – আপনার ডান কান খোলা রাখা উচিত।
সুতরাং, আমি ‘হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র’ তিনবার জপ করব :
হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, হরে হরে/
হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম, হরে হরে!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ