20250819 পরম পবিত্র গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী মহারাজের 81 তম ব্যাস-পূজা মহোৎসবের প্রতি শ্রদ্ধা
আমার প্রিয় ভক্তবৃন্দ,
আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন।
শ্রীলা প্রভুপাদের জয় হোক।
পরম পূজ্য গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী মহারাজের জয় হোক।
আমার নিজ বাসস্থান থেকে লেখা: শ্রী মায়াপুর চন্দ্রোদয় মন্দির।
আজ পরম পূজ্য গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী মহারাজকে স্মরণ করতে গিয়ে আমার মনে দুঃখ ও কৃতজ্ঞতা উভয়ই জাগছে। দুঃখ, কারণ আমরা একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে হারিয়েছি এবং আমি হারিয়েছি একজন অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু ও গুরুভাইকে। কৃতজ্ঞতা, তাঁর সান্নিধ্য এবং সেবার যে চমৎকার দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তার জন্য।
১৯৬৮ সাল থেকে ইসকনে মহারাজকে আমার চিনত, আমরা একসাথে ভক্ত ছিলাম । তিনি শ্রীল প্রভুপাদের সেবায় সর্বদা অত্যন্ত স্থির ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর উপর বড় বড় দায়িত্ব অর্পণ করে আস্থা রাখতেন এবং মহারাজ অত্যন্ত যত্ন সহকারে সেগুলি পালন করতেন। তাঁকে যেখানেই পাঠানো হতো, তিনি আন্তরিকভাবে সেই কাজ গ্রহণ করতেন।
তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদানগুলোর মধ্যে একটি ছিল দিল্লিতে। যখন শ্রীল প্রভুপাদ ভারতের রাজধানীতে একটি শক্তিশালী কেন্দ্র চেয়েছিলেন, তখন মহারাজ সেই নির্দেশটি আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন। তিনি ইসকন দিল্লি প্রতিষ্ঠা করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন। আজ আমরা যা দেখি—পূর্ব কৈলাস, দ্বারকা, রোহিণী, পাঞ্জাবি বাগের মতো সুন্দর মন্দিরগুলো—তাঁর দৃঢ় সংকল্পের সাক্ষ্য বহন করে। তিনি দিল্লিকে ভারতের অন্যতম শক্তিশালী ইসকন ঘাঁটিতে পরিণত করেছিলেন, যেখানে হাজার হাজার ভক্ত, বড় মাপের উৎসব এবং শক্তিশালী প্রচার কার্যক্রম ছিল।
মহারাজ বিবিটি-র একজন ট্রাস্টি এবং ভারতে গ্রন্থ বিতরণের এক স্তম্ভ ছিলেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভক্তদের উৎসাহিত করতেন, বার্ষিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিতেন এবং সেই লক্ষ্য অতিক্রম করতে তাঁদের অনুপ্রাণিত করতেন। তাঁর নেতৃত্বে, শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ বিতরণে ভারত অন্যতম শীর্ষ দেশ হয়ে ওঠে। স্বাস্থ্য দুর্বল থাকা সত্ত্বেও, তিনি ভ্রমণ করতেন, ধর্মপ্রচার করতেন এবং ভক্তদের এই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেবা কখনও বন্ধ না করার জন্য অনুপ্রাণিত করতেন।
তাঁর আরেকটি বড় অবদান ছিল রাশিয়া ও প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নে শ্রীল প্রভুপাদের আন্দোলনের প্রতি তাঁর যত্ন। সেই প্রাথমিক দিনগুলিতে, যখন পরিস্থিতি খুব কঠিন ছিল, তখন সেখানকার ভক্তদের সমর্থন ও নির্দেশনা দিয়ে তিনি অনেক ঝুঁকি নিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে, তিনি বিশ্বের সেই অংশে মন্দিরের প্রসারে উৎসাহ জুগিয়ে এবং প্রচারকার্য চালিয়ে গিয়ে যাত্রাকে লালন-পালন করতে থাকেন।
তিনি উত্তর আমেরিকাতেও খুব সক্রিয় ছিলেন, সেখানে জিবিসি সদস্য হিসেবে সেবা করতেন এবং ভক্তদের দেখাশোনা করতেন। তাঁর উপস্থিতি অনেক মণ্ডলীকে আত্মবিশ্বাস জোগাতো এবং তাঁর শান্ত, অবিচল নেতৃত্ব তাদের এগিয়ে চলার শক্তি দিত।
মহারাজের ব্যক্তিগত গুণাবলী তাঁকে বিশেষ করে তুলেছিল। তিনি অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ ছিলেন; সর্বদা ভোরে ঘুম থেকে উঠতেন, মনোযোগ সহকারে স্তবগান করতেন এবং নিজের জীবনে একটি কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখতেন। একই সাথে, তিনি স্নেহশীল ও সহজগম্য ছিলেন। তাঁর কয়েকটি কথাতেই বহু ভক্ত উৎসাহিত বোধ করতেন। তিনি বলিষ্ঠ ব্যবস্থাপনার সাথে ভক্তদের প্রতি প্রকৃত যত্নের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। এই কারণেই তাঁর পরিচালনায় বহু মন্দির সমৃদ্ধি লাভ করেছিল।
মহারাজের তিরোধানের ফলে এক বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি শ্রীল প্রভুপাদ এবং ইসকনের সেবার এক অত্যন্ত গুরুভার বহন করেছিলেন। তাঁকে সম্মান জানাতে, আমাদের সেই ভার যেন পড়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর বিশেষ করে, গোপাল কৃষ্ণ মহারাজের বয়োজ্যেষ্ঠ শিষ্যদেরও দীক্ষা-গুরুর সেবাভার গ্রহণের জন্য এগিয়ে আসা উচিত। মহারাজ এক বিশাল ভক্ত-পরিবার রেখে গেছেন, এবং তাঁদের আশ্রয় ও পথনির্দেশনার প্রয়োজন হবে।
ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে গোপাল কৃষ্ণ মহারাজ সর্বদা একজন স্থির, নির্ভরযোগ্য এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। শ্রীল প্রভুপাদ প্রায়শই শক্তিশালী ব্যবস্থাপক এবং শক্তিশালী প্রচারক চাওয়ার কথা বলতেন—মহারাজ উভয়ই ছিলেন। তাঁর জীবন গুরু এবং কৃষ্ণের উদ্দেশ্যের প্রতি আনুগত্যের এক সুস্পষ্ট উদাহরণ।
তিনি শ্রীল প্রভুপাদের স্বয়ং নিযুক্ত এমভিটি-র একজন ট্রাস্টি ছিলেন এবং সর্বদা বিভিন্ন সেবাকার্যে ব্যস্ত থাকতেন। কিন্তু তবুও তিনি মায়াপুরকে সময় দিতেন। তিনি এমইবি (মায়াপুর কার্যনির্বাহী পর্ষদ)-এর সদস্য ছিলেন এবং দিল্লিতে নৃসিংহদেবের প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত প্রতি বছর নৃসিংহ চতুর্দশীর জন্য মায়াপুরে আসতেন।
তাঁকে সম্মান জানানোর সর্বোত্তম উপায় হলো তাঁর প্রকল্পগুলি চালিয়ে যাওয়া, গ্রন্থ বিতরণ প্রসারিত করা, মন্দির নির্মাণ করা, মানুষের কাছে ধর্মপ্রচার করা এবং তাঁর দ্বারা লালিত ভক্তদের সাহায্য করা। এইভাবে আমরা তাঁর উত্তরাধিকারকে বাঁচিয়ে রাখতে পারি এবং শ্রীল প্রভুপাদকে সন্তুষ্ট করতে পারি।
আমি পরম পূজ্য গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী মহারাজকে প্রণাম জানাই। প্রার্থনা করি, আমরা যেন তাঁর সেবার ভাবকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি এবং শ্রীলা প্রভুপাদের উদ্দেশ্য সাধনে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি।
সেবায় আপনার,
জয়পতাকা স্বামী
Lecture Suggetions
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants