Text Size

২০২৫০৩২৯ ‘গুরু আজ্ঞা’ প্রাত:কালীন প্রবচন

29 Mar 2025|Duration: 03:40:24|Bengali|Public Address|Madurai, India

নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী ২৯ শে মার্চ, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ইসকন মাদুরাই, ভারতে প্রদান করেছেন।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎ কৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রীচৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী : সকল ভক্তবৃন্দকে একত্রে এখানে দেখে খুব ভালো লাগছে! আমরা আপনাদের সঙ্গে কিছু জিনিস ভাগাভাগি করে নিতে চাইছি। আমরা আশা করি আপনারা সকলে সফল হন। শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে অনেক নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই সব নির্দেশগুলি আমার জয়পতাকা স্বামী অ্যাপের মধ্যে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তার মধ্যে, প্রচারকার্যকে অসীমিত পরিমাণে বৃদ্ধি করার একটি নির্দেশ ছিল। কিন্তু বর্তমানে আমি তা করতে শারীরিকভাবে অসমর্থ, তাই আমার আপনাদের সকলের সহায়তা প্রয়োজন। যার সঙ্গেই আপনার সাক্ষাৎ হবে তাকেই আপনাকে কৃষ্ণের মহিমা সম্বন্ধে বলতে হবে, শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র নামের উচ্চারণ করতে অনুরোধ জানাতে হবে। আমি বারংবার একথা বলছি যে আমার আপনাদের সহায়তা প্রয়োজন! অপরিসীম সহায়তা প্রয়োজন! শ্রীল প্রভুপাদ সকলকে বিশেষ একটি নির্দেশ দিয়েছেন যে তার প্রত্যেক অনুগামীকেই অবশেষে গুরু হতে হবে। প্রাথমিকভাবে আপনি একজন শিক্ষার্থী থাকলেও এমনটা নয় যে আপনি সারা জীবনই শিক্ষার্থী থেকে যাবেন! কিছু সময়ের জন্য আপনাকে শিক্ষার্থী থাকতে হবে কিন্তু অবশেষে আপনাকেও গুরু হতে হবে।

শ্রীল প্রভুপাদ: “প্রত্যেকের গুরু হয়ে ওঠা উচিত। ‘যারে দেখো তারে কহ কৃষ্ণ উপদেশ’- আপনাকে কেবল শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর এই উপদেশকে অনুসরণ করতে হবে, তাহলেই আপনি গুরু হতে পারবেন। যদি কেউ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আদেশকে যথাযথভাবে পালন করে তবে গুরু হওয়া একেবারেই কঠিন কোন বিষয় নয়। তাহলে সকলেই গুরু হতে পারে এবং এই আন্দোলনকে আরো আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে। আপনি কৃষ্ণভাবনামৃত সম্বন্ধে যদি কিছু উপলব্ধি করতে পেরেছেন, তাহলে এবার যথাযথভাবে সেই জ্ঞানকে বিতরণ করুন আর এভাবে আপনি এই আন্দোলনের সদস্য সংখ্যা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারবেন।” [শ্রীমদ্ভাগবতের ১ম স্কন্ধ, ১২শ অধ্যায়ের ২৮তম শ্লোকের উপর প্রদত্ত প্রবচন, লস এঙ্গেলস, ৬ই ডিসেম্বর ১৯৭৩]

এ বছর আমরা পোঙ্গল প্রসাদ পেলাম অর্থাৎ মকর সংক্রান্তি উৎসব উদযাপিত হলো। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি নবী মুম্বাইয়ের খাড়গড়ে ইসকনের একটি শাখার উদ্বোধনে বক্তব্য রেখেছেন। তিনি শ্রীল প্রভুপাদের মহিমা বর্ণনা করে বলছিলেন যে, সাধারণ মানুষ যে বয়সে অবসর গ্রহণ করে এবং সকল কাজ করা বন্ধ করে দেয় সেই বয়সে তিনি প্রচারকার্যে বেরিয়েছিলেন। উনি হিন্দিতে কথা বলছিলেন এবং আমি খুবই অল্প হিন্দি জানি। তিনি বলছিলেন শ্রীল প্রভুপাদ সারা পৃথিবীর কোনায় কোনায় গিয়েছেন প্রচার করতে!হিন্দিতে বলা এই ‘কোনে কোনে’ শব্দবন্ধটি আমার মনে আছে। তিনি পৃথিবীর প্রত্যেক কোনায় গিয়েছিলেন, যে কারণে আজ আমি উদ্ধার হতে পেরেছি।

শ্রীল প্রভুপাদ: “আমরা প্রত্যেক ভারতবাসীকে অনুরোধ জানাচ্ছি এই কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনে যুক্ত হন এবং আনন্দিত হন, গুরু হয়ে উঠুন এবং যে সকল বদ্ধ জীব অজ্ঞানের অন্ধকারে রয়েছে তাদের সকলকেও উদ্ধার করুন আর গুরু হয়ে ওঠা অতি কঠিন কোন ব্যাপার নয়।” [একজন অনুবাদকের সাথে কথোপকথন, ২৫ডিসেম্বর ১৯৭৫]   

শ্রীল প্রভুপাদ বলছিলেন যে কিভাবে প্রত্যেকের গুরু হয়ে ওঠা উচিত, বিশেষ করে প্রত্যেক ভারতীয়র গুরু হয়ে ওঠা উচিত। আমরা চাই প্রত্যেকে যেন শ্রীমদ্ভগবত গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করে, শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত পাঠ করে, আমি শ্রীল প্রভুপাদের কাছ থেকে আমার ভক্তি শাস্ত্রী ডিগ্রি অর্জন করেছিলাম। সম্প্রতিও আমি আমার গ্রন্থ অধ্যয়ন চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ভক্তিবৈভব এবং ভক্তিবেদান্ত ডিগ্রি প্রাপ্ত হয়েছি। তারা আমাকে বিনা গ্রন্থ অধ্যয়নেই সান্মানিকভাবে এই ডিগ্রীগুলি দিতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি বলেছিলাম না! আমি ভক্তদের কাছে এবং আমার শিষ্যদের কাছে আদর্শ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই! আর বর্তমানে আমি ভক্তিসার্বভৌম ডিগ্রি লাভ করার জন্য পড়াশোনা করছি। তাই আমি চাই আপনারা সকলে শ্রীল প্রভুপাদের  এই সকল গ্রন্থ অধ্যয়ন করুন এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য প্রবচন দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

শ্রীল প্রভুপাদ: “সুতরাং সকলের জন্য সৌভাগ্য তৈরি করে দেওয়া একজন গুরুর দায়িত্ব আর কিভাবে সে সকলকে সৌভাগ্যশালী করে তুলতে পারে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তা বলে গিয়েছেন ‘আমার আজ্ঞায় গুরু হইয়া’ (চৈ.চ.মধ্য ৭.১২৮) অর্থাৎ সর্বপ্রথমে নিজে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আদেশ পালন করো।”

শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাস আদি গৌর ভক্তবৃন্দ।

আপনি কেবল এনাদের কৃপা যাচনা করুন। তাহলেই আপনি গুরু হয়ে উঠতে পারবেন আর তারপর আপনার কাজ কি হবে? আপনার কাজ হবে: যারে দেখো তারে কহ কৃষ্ণ উপদেশ।

গুরু-কৃষ্ণ, গুরু সকলকে সৌভাগ্য প্রদান করবে অর্থাৎ তার মাধ্যমে সকলে কৃষ্ণভাবনাময় হয়ে উঠবে এবং ফলে তারা সৌভাগ্যশালী হবে। এটিই কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের পন্থা এখানে সকলকে গুরু হয়ে ওঠার উপদেশ দেওয়া হচ্ছে, বিশেষত যারা ভারতবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছে।

শ্রীল প্রভুপাদ: “ভগবদ্গীতায় সমস্ত কিছু দেওয়া রয়েছে। আপনি কেবল তারই পুনরাবৃত্তি করুন। তাহলেই হবে। আপনি গুরু হয়ে উঠবেন। গুরু হওয়া কোন কঠিন কাজ নয়। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ পালন করুন এবং কৃষ্ণ যা বলেছেন একমাত্র তাই বলুন। ব্যাস!তাহলেই আপনি গুরু হতে পারবেন।” [জাতীয়তাবাদ এবং প্রতারণা বিষয়ে পার্লামেন্টের সদস্য রতন সিং রাজধার সঙ্গে কক্ষে আলোচনা মুম্বাই ১৫ই এপ্রিল ১৯৭৭]

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো এই যে আপনি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, শ্রীমদ্ভাগবত এবং শ্রী চৈতন্যচরিতামৃতে যা অধ্যয়ন করবেন কেবল তারই পুনরাবৃত্তি আপনাকে করতে হবে। আপনি শ্রীল প্রভুপাদের থেকে যা শ্রবণ করেছেন এবং আপনার নিজ গুরুদেবের মুখ থেকে যা শ্রবন করেছেন আপনাকে কেবল তারই পুনরাবৃত্তি করতে হবে। আর যদি আপনি এর বাইরে কিছু না বলেন তাহলেই আপনি গুরু। কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যারা কৃষ্ণভাবনাবিহীন অনর্থক এবং মনগড়া কথা বলে, তারা কখনোই গুরু নয়। তাই যথাযথভাবে শাস্ত্র জানা দরকার এবং যারা এরকম অনর্থক কথা বলে তাদের কথা না শোনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সমবেত ভক্তবৃন্দরা বেশির ভাগই দক্ষিণ ভারতীয় অর্থাৎ এখানে তামিল, কন্নড়, তেলেগু, মালায়ালাম ভাষাভাষী ভক্তরাও রয়েছেন। আপনারা তামিলে অনুবাদ করছেন, সকলেই কি তামিল জানেন?(তেলেগু এবং কন্নড় ভাষাতেও অনুবাদ হচ্ছে) খুব ভালো! অন্য ভাষাগুলিতেও অনুবাদ করা হচ্ছে।

শ্রীল প্রভুপাদ: “শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই আদেশ দিয়েছেন যে ‘যারে দেখো তারে কহ কৃষ্ণ উপদেশ’ যার সাথেই তোমার দেখা অথবা সাক্ষাৎ হবে তাকে কৃষ্ণ সম্বন্ধে কিছু বলো। ‘আমার আজ্ঞায় গুরু হইয়া তারো এই দেশ’ আমার নির্দেশ পালনের মাধ্যমে তুমি গুরু হয়ে ওঠো এবং অন্যদেরকে উদ্ধার করো। এটি আমার গুরু মহারাজের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল এবং এটি আমারও উদ্দেশ্য। আপনার জীবনও সফল হয়ে উঠতে পারে যদি আপনি একে আপনারও জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য বানাতে পারেন”(জগতজীবনকে পত্র, ১লা সেপ্টেম্বর ১৯৭৬, নিউ দিল্লি)

কিভাবে একজন শিষ্য আমাকে প্রসন্ন করতে পারে আজ এই বিষয় সম্বন্ধে আমাকে বলতে বলা হয়েছিল। তো আমি শ্রীল প্রভুপাদের উদ্দেশ্যকে আমারও জীবনের উদ্দেশ্য বানিয়েছি এবং আপনি আমাকে প্রসন্ন করতে পারেন যদি আপনি একে আপনারও জীবনের উদ্দেশ্য বানান। দক্ষিণ ভারতে এখনো বহু লোক রয়েছে যারা অজ্ঞানের অন্ধকারে আচ্ছন্ন। ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কাছে এবং শ্রীল প্রভুপাদের কাছে প্রার্থনা করি যেন তারা আপনাদের প্রত্যেককে এই সকল বদ্ধজীবদের উদ্ধার করার ক্ষমতা প্রদান করেন।

শ্রীল প্রভুপাদ: “গুরু হওয়া কঠিন নয়।” [ভ.গী. ৯ম অধ্যায় শ্লোক ৩ এর উপর প্রদত্ত প্রবচন, টরন্টো, ২০ জুন ১৯৭৬] 

“সারমর্মটি আসলে কি? সেটি ভগবদ্গীতায় ১৮ অধ্যায়ের ৬৫ নম্বর শ্লোকে কৃষ্ণ নিজেই বলেছেন: ‘সর্বধর্মান পরিত্যাজ্য মামেকম শরণং ব্রজ’(ভ.গী.১৮.৬৫)। অর্থাৎ গুরু হওয়া কোন কঠিন ব্যাপার নয়।  কেবল কৃষ্ণের প্রতি পূর্ণ শরনাগত হোন, আপনি ‘অভয়ম স্বত্ব:সংশুদ্ধির’ হয়ে উঠুন।  নির্ভয় হন এটা ভেবে যে এখন আমি কৃষ্ণের আশ্রয়ে রয়েছি, আমার আর কোন ভয় নেই, আমি কারো পরোয়া করি না। কেবল কৃষ্ণকেই গ্রহণ করুন।”[শ্রীমদ্ভাগবত ৩য় স্কন্ধ ২৫ অধ্যায়ের শ্লোক ৪৩ এর ওপর প্রদত্ত প্রবচন, বম্বে, ১১ই ডিসেম্বর ১৯৭৪]  

যেমনটা আমি পূর্বেই বললাম যে কেবল গ্রন্থে যা বলা রয়েছে তারই পুনরাবৃত্তি করুন তাহলেই আপনি একজন গুরু। আর যদি আপনি মনগড়া কথা বলেন তাহলে আপনি একজন ভন্ড সুতরাং গুরু হওয়া খুবই সহজ।  প্রতিদিন সকালে আমরা গুর্বষ্টকমে যেটা বলি ‘সাক্ষাদ্ধরিত্রেন’। দেখুন, স্বয়ং কথাটির অর্থ হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবান নিজে কিন্তু সাক্ষাৎ কথাটির অর্থ তা নয়। সাক্ষাৎ কথাটির অর্থ পরমেশ্বর ভগবানের প্রতিনিধি, পরমেশ্বর ভগবানের থেকে অভিন্ন।  খুব সম্ভবত ১৯৬৯ সালে শ্রীল প্রভুপাদ যখন বোষ্টনে এসেছিলেন আমি কানাডা থেকে তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। বহু ভক্তরা নৃত্য কীর্তন করছিল। তারপর শ্রীল প্রভুপাদ শুল্কবিভাগ থেকে বেরিয়ে এলেন এবং আমরা সকলেই ওনাকে প্রণাম নিবেদন করলাম। তারপর তিনি বসলেন এবং আমরা ওনাকে মাল্যপ্রদান করলাম। একের পর এক মালা পরানোয় সেগুলি জড়ো হয়ে তার মাথা পর্যন্ত উঠে যাচ্ছিল। তিনি সেগুলি খুলে রাখছিলেন তারপর আবার ক্রমাগত মালা পরানোয় আবার সেগুলি মাথা পর্যন্ত উঠে যাচ্ছিল।  অবশেষে তিনি সকলের উদ্দেশ্যে কিছু বললেন।  তিনি বললেন, ‘সকলে যে সম্মান পরমেশ্বর ভগবানকে প্রদান করতেন একজন গুরু হওয়ার দরুন এবং ভগবানের প্রতিনিধি হওয়ার দরুন সেই একই প্রকার সম্মান সকলে তাকে প্রদান করেছেন। তবে তিনি যদি মনে করেন যে তিনি ভগবান তাহলে তিনি ভগবান নন তিনি জি-ও-ডি গড বা ভগবান নন বরং ঠিক তার উল্টোটা ডি-ও-জি ডগ অর্থাৎ কুকুর!’ হরিবোল!

শ্রীল প্রভুপাদ: “আপনারা সকলে প্রত্যেকেই গুরু হয়ে উঠুন এবং আপনারা যে যেখানেই অবস্থান করছেন সেখানকার সকল বদ্ধ জীবাত্মাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করুন। কিভাবে আমি গুরু হবো?সত্যি এটা খুবই সোজা। তা কিভাবে? ‘যারে দেখো তারে কহ কৃষ্ণ উপদেশ’ তাহলেই আপনি গুরু হতে পারবেন আপনি কেবল ভগবদ্গীতায় কৃষ্ণ যেমনটা বলেছেন তেমনটা পুনরাবৃত্তি করুন তাহলেই আপনি একজন গুরু। কিন্তু যদি আপনি প্রতারক এবং ঠগ হতে চান তাহলে আপনি আপনার মনগড়া বিভিন্ন কিছু বলতে পারেন।  কিন্তু যদি আপনি কেবল কৃষ্ণেরই কথার পুনরাবৃত্তি করেন তাহলে আপনি প্রকৃত গুরু হয়ে উঠতে পারবেন। এটা কোন কঠিন বিষয় নয়”

শ্রীল প্রভুপাদ দেখিয়েছেন কিভাবে গুরু হওয়া কোন কঠিন বিষয় নয়।  আপনাকে কেবল কৃষ্ণের কথার পুনরাবৃত্তি করতে হবে! তাহলেই হবে! এটাই হচ্ছে রহস্য!  একবার আমার উপস্থিতিতে শ্রীল প্রভুপাদকে কেউ একজন কিছু একটা প্রশ্ন করেছিল। প্রশ্নটা অত্যন্ত জটিল ছিল এবং প্রভুপাদ উত্তরে বলেছিলেন, ‘আমি জানিনা’ অর্থাৎ নিজের মনগড়া কিছু বানিয়ে বলার থেকে আমি জানিনা বলাটা বেশি ভালো! আপনি এমনটা বলতে পারেন যে আমি পরে আমার গুরুর থেকে জেনে আপনাকে জানাবো।

অর্থাৎ এটা অত্যন্ত কঠিন কিছু ব্যাপার নয়। আমি ১৯৬৮তে সংস্থায় যোগদান করি। আমি মন্ট্রিয়লে দুটো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভগবদ্গীতার শিক্ষাদান করছিলাম। যেহেতু শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে বলেছিলেন যে দীক্ষার পূর্বে আমাকে দশবার সম্পূর্ণ ভগবদ্গীতা অধ্যয়ন করতে হবে, তাই আমি দুটো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভগবদ্গীতা পড়াতে পারতাম। বিশ্ববিদ্যালয় দুটিতে তারা যদি আমার ক্লাসে যোগদান করত তবে তারা দুটো ক্রেডিট পেতো।  শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে ১৯৭৭ সালে গুরু হিসেবে নির্বাচন করেন অর্থাৎ মাত্র নয় বছরের মধ্যেই।  তবে বর্তমানে যদি আপনি গুরু হতে চান তাহলে আপনার গুরু যদি জীবিত থাকেন তবে আপনাকে ২৫ বছর পূর্বে দীক্ষা প্রাপ্ত হতে হবে এবং যদি না থাকেন তাহলে মাত্র ১০ বছর পূর্বে দীক্ষা প্রাপ্ত হলেই চলবে।

যাইহোক, আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে আমরা এই কৃষ্ণভাবনামৃতে যোগদান করতে পেরেছি এবং আমরা সর্বদাই আনন্দে থাকতে পারি এবং নিত্য আনন্দ অনুভব করতে পারি। জড় জগতে সুখ এবং দুঃখ দুইই রয়েছে কিন্তু পারমার্থিক জগতে কেবলই নিত্য আনন্দ বিরাজ করে! কোন রকমের দুঃখ নেই! কোন রকমের উদ্বেগ নেই! বৈকুণ্ঠ অর্থাৎ যেখানে কোন কুন্ঠা নেই! এই সাফারিতে আমরা ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু দক্ষিণ ভারতের যে সকল স্থানে ভ্রমণ করেছিলেন সেখানে তাঁর শ্রীপাদপীঠ স্থাপন করার প্রয়াস করছি। তার মধ্যে একটি জায়গায় যেখানে আমরা গত পরশুদিন গিয়েছিলাম সেখানে অন্ডাল দেবী বড় হয়ে উঠেছেন। ওনার শ্রীকৃষ্ণের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল। আমি কিছু বছর পূর্বে রামেশ্বরমে গিয়েছিলাম এবং সেখানকার একজন স্থানীয় গুরু বা জিয়ার এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। আমি সাফারি ভক্তদের সঙ্গে ছিলাম এবং আমরা সকলে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তন করছিলাম। সেই জিয়ার বলেছিলেন আপনারা সকলে অন্ডাল দেবীর প্রতিনিধি! হরিবোল!

গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু প্রায় ছয় মাস ধরে সমগ্র দক্ষিণ ভারত এবং ভারতের অন্যান্য স্থান ভ্রমণ করেছিলেন এই কলিযুগে বহু দোষ রয়েছে তবে তার মধ্যে একটি গুণও রয়েছে যে এই যুগে আপনি কেবল হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তন করলেই ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে পারবেন! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! নিত্যানন্দ! অদ্বৈত গোঁসাই! গদাধর!শ্রীবাস আদি গৌর ভক্তবৃন্দ!

আচার্যদের সংস্থা বিষয়ে শ্রীল প্রভুপাদের উক্তি: (নিম্নোক্ত অংশটি চৈতন্য চরিতামৃতের আদিলীলা ১.১৩র উপর মায়াপুরে প্রদত্ত প্রবচন থেকে গৃহীত)  

“আমরা কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের আরো বিস্তার ঘটাতে চাই। কেবল নিজেকে প্রস্তুত করো যে কিভাবে তুমি কেবলই কৃষ্ণের কথার পুনরাবৃত্তি করতে পারবে, সকল প্রকার জল্পনা-কল্পনা বাদ দিয়ে। ধরা যাক এখন আমাদের ১০ হাজার ভক্ত রয়েছে, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে এটি ১০০ হাজার হতে পারে। এমনটাই হওয়া দরকার। ১০০ হাজার থেকে ১০ লক্ষ তারপর ১০০ লক্ষ।”

শ্রীল প্রভুপাদ: “যখন আচার্যের কোন অভাব থাকবে না এবং সকলেই খুব সহজে কৃষ্ণভাবনামৃতকে বুঝতে পারবে। সংস্থাকে এমনভাবে গড়ে তোলো।”

আমার মনে হয় আমরা শ্রীল প্রভুপাদের উদ্দেশ্যকে যথাযথভাবে বুঝতে পারিনি।  প্রভুপাদ বলেছেন দশ হাজার, একশ হাজার, দশ লক্ষ, একশ লক্ষ কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদের তিরোভাবের পর তাঁর শিষ্যদের মধ্যে মাত্র ১০০ জনই গুরু হয়েছেন। এখন তাঁর শিষ্যদের শিষ্যরা গুরু হয়েছেন, তবে আমাদের কাছে ২০০ জনেরও কম গুরু রয়েছেন।  দশ হাজার কোথায়? দশ লক্ষ কোথায়? এমনটা ছিল প্রভুপাদের উদ্দেশ্য এবং উনি ভবিষ্যতে এমনটাই হোক তা চেয়েছিলেন কিন্তু আমরা সেই উদ্দেশ্যকে পূর্ণ করতে পারিনি। আমাদের শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থকে অধ্যয়ন করতে হবে, তা বিতরণ করতে হবে, তাঁর শিক্ষাকে উপলব্ধি করতে হবে। ১৯৭৩ সালে লন্ডনে শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর একটি প্রবচনে বলছিলেন, ‘আমি গৈরিক বসনধারী সন্ন্যাসীদের দেখতে পাচ্ছি না, তবে আমি বহু গৃহস্থদের এখানে দেখতে পাচ্ছি এবং লন্ডনে তিনি বলেছিলেন যে তিনি চান তার সকল গৃহস্থ ভক্তরা পরমহংস স্তরে উন্নীত হোক। শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর একজন গৃহস্থ ছিলেন। শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর প্রভুপাদ তাঁর পুত্র ছিলেন আর তিনি ছিলেন প্রভুপাদের গুরু মহারাজ। তাই শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন প্রত্যেক গৃহস্থের উচিত আচার্য সন্তানের জন্ম দেওয়া। এটি একটি অত্যন্ত কঠিন নির্দেশ! তবে আমাদের আচার্য সন্তানের খুবই প্রয়োজন।  প্রত্যেক গর্ভবতী মায়েরা আমার কাছে আসেন আশীর্বাদ চাইতে। আমি প্রার্থনা করি যেন আপনাদের সন্তানেরা সকলেই কৃষ্ণভাবনাময়, দীর্ঘায়ু, স্বাস্থ্যবান সুপুত্র অথবা সুপুত্রী হয়। কিভাবে গর্ভাধান সংস্কার অনুষ্ঠান করতে হয় সে সম্বন্ধে এই দক্ষিণ ভারতেরই গোপালভট্ট গোস্বামী আমাদের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

আপনাদের সকলকে আজ এখানে উপস্থিত থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ! হরে কৃষ্ণ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! নিত্যানন্দ! অদ্বৈত গোঁসাই!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by পায়েল চন্দ্র 19/3/2025
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions