Text Size

২০২৪১১১০ কীর্তনের বিধি-নিষেধ

10 Nov 2024|Duration: 02:13:14|Bengali|Public Address|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
  যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
  পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
  হরি ওঁ তৎ সৎ

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: আমি বাংলাতে বলতে পারতাম, কিন্তু আমি পূর্ববর্তী বক্তাদের মত একই ধারায় বলব। আমাদের মায়াপুরের কীর্তনীয়াদের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছিল। শ্রীল প্রভুপাদ চাইতেন যে কীর্তন যাতে সর্বক্ষণ হয়, কিন্তু শ্রীশ্রীমৎ জযয়াদ্বৈত মহারাজ বললেন যে, কিভাবে তিনি মায়াপুরে আসতেন কীর্তন শ্রবণ করার জন্য, কিন্তু এখন তিনি সেই একই ব্যাপার লক্ষ্য করেন না যেমনটা আগে ছিল। বাংলাদেশে পুণ্ডরিক ধামে তাদের ২৪ ঘন্টা কীর্তন হত। একজন মহারাজ সেখানে কীর্তন শ্রবণ করতে বসেছিলেন, ৪৫ মিনিট বা ১ ঘন্টা পর তিনি আমাকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলেন, “তারা কি গাইছে?” তারা কেবল হরেকৃষ্ণ নাম করছিল, কিন্তু তিনি বুঝতে পারছিলেন না যে তারা কি কীর্তন করছে। এটাই হচ্ছে বিষয় যা শ্রিল প্রভুপাদ নিষিদ্ধ করেছিলেন যে—কীর্তনে যেন এত সুর, এত ভাব না থাকে যে তুমি এটাই শুনতে পারবে না যে তারা কি কীর্তন করছে।

একবার আমি এখানে কীর্তন প্রতিযোগিতা করেছিলাম। শ্রীল প্রভুপাদ তা শুনছিলেন, তিনি বললেন— “তারা কীর্তন করছে ‘টাকা’ ‘টাকা’ ‘টাকা’” এবং শ্রীল প্রভুপাদ লোকেদের শ্রবণাতীত বা অননুমোদিত কীর্তনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিলেন এখন এখানে যে কীর্তন হয়, আমার মনে হয় না তা ততটা সেই রকম। রামনবমী বা রাধাষ্টমীতে বিশেষ কীর্তন হয়, যেমন— “জয় রাধে” বা “জয় শ্রীরাম” প্রভুপাদ তা মেনে নিতেন কিন্তু অন্যান্য দিনে তিনি তা মান্য করতেন না।

এখন আমরা চাই যে মায়াপুরে আমাদের একটি কীর্তন অ্যকাডেমী হোক। আমাদের কীর্তন দৃষ্টান্তমূলক হওয়া উচিত। অবশ্য, আমাদের মৃদঙ্গ আছে, করতাল আছে, কিন্তু স্বয়ং কীর্তন অনুমোদিত হওয়া উচিত। বৃহৎ পরিসরে তোমরা সবাই খুবই ভালো করছ। আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি যে শ্রীশ্রীমৎ চন্দ্রমৌলি মহারাজ এবং শ্রীশ্রীমৎ জয়াদ্বৈত স্বামী কীর্তন সম্বন্ধে বলেছেন। আমরা চাই কীর্তন মানুষদের কাছে আকর্ষণীয় হোক, কিন্তু একই সাথে আমাদের সেই মন্ত্র শ্রবণ করা উচিত। যখন আমি দেখি যে আমাদের কয়েকজন কীর্তনীয়া, যারা অন্যান্য দেশে যায়, তারা কখনো কখনো অনুচিতভাবে কীর্তন করে, কিন্তু তাদেরকে সবসময় দেখা হচ্ছে। তাই, আমরা আশা করি যে তোমরা সবাই তোমাদের কীর্তন সেবার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক হবে। শ্রীশ্রীমৎ জয়াদ্বৈত মহারাজ তোমাদেরকে বলেছেন যে কিভাবে শ্রীল প্রভুপাদ কীর্তনে নেতৃত্ব দিতেন। আমরা শুনি যে কিভাবে পবিত্র নাম কত শক্তিশালী, তাই এটা এমন হওয়া উচিত যে মানুষেরা যেন পবিত্র নাম শ্রবণ করতে পারে এবং তাতে তাদের হৃদয় যেন পরিবর্তিত হয়। হরে কৃষ্ণ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 25/06/25
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions