মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: সাধারণত আমি ইংরেজিতে বলি, সেটাই সহজ হয়। যখন আমি এই সমাবেশের জন্য আসছিলাম, তখন আমি দেখলাম যে শিশুদের নিজেদের শ্রীল প্রভুপাদের ব্যাসপূজা উদযাপন হচ্ছে। যেহেতু শিশুরা হয়ত জনসমাবেশে বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে, সেইজন্য তাদের নিজেদের ব্যাসপূজা উদযাপন হচ্ছে। শিশুদের দেখে, ছোটদের দেখে, ভগবান শ্রীশ্রী নরসিংহ দেবকে দর্শন করে, শ্রীশ্রীরাধামাধব অষ্টসখী এবং মায়াপুরচন্দ্র, শ্রীশ্রীপঞ্চতত্ত্বকে দর্শন করে খুবই ভালো লাগল। আমি তাঁদের বস্ত্র দেখে অত্যন্ত খুশি হয়েছি এবং আমি সেই সমস্ত ভক্তদেরকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা এর নির্মাণে অংশ ছিলেন— দাতা, নির্মাণকারী। অত্যন্ত সুন্দর পোশাক! আমরা চাই ভক্তরা এটি উপলব্ধি করুন যে, শ্রীবিগ্রহগণকে আজ নতুন বস্ত্র নিবেদন করা হয়েছে।
আমি সান ফ্রান্সিসকো মন্দিরে যুক্ত হয়েছিলাম, তারপরে আমি শুনলাম যে শ্রীল প্রভুপাদ মন্ট্রিয়লে আছেন, তখন আমি নিউইয়র্ক হয়ে মন্ট্রিয়লে যাই। আমার জন্য তা ছিল এক বিশেষ পরিস্থিতি, কারণ আমি ইসকনের সমস্ত মন্দির পরিদর্শন করেছিলাম! তিনটেই! সেখানে আমি আমাদের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। শ্রীল প্রভুপাদ আরো অধিক মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে চাইছিলেন তারপর দু'বছর পর তিনি আমাকে ভারতে পাঠান এবং রাধাষ্টমীর দিনে তিনি আমাকে কলকাতায় সন্ন্যাস দীক্ষা প্রদান করেন। তারপর তিনি আমাকে মায়াপুরে প্রেরণ করেন। তিনি প্রতি বছর এখানে মায়াপুরে আসতেন, দুবার। অবশ্য, আমরা অগ্রিম কিছু গোপন ব্যবস্থাপনা করতাম যে কিছু ভক্তরা দেখতে পারতেন শ্রীল প্রভুপাদ আসছেন নাকি। এরপর তারা কিছু সংকেত দিতেন, ও তখন অন্যরা জানতে পারতেন যে শ্রীল প্রভুপাদ কাছাকাছি এসে গেছেন। প্রথমদিকে আমাদের কেবল ঘাসের ভজন কুটির ছিল। সত্যমেধ গৌরাঙ্গ দাসের পুত্র ভজন কুটির নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছে।
শ্রীল প্রভুপাদের মায়াপুরের সাথে এক অতীব বিশেষ সম্বন্ধ ছিল। ধীরে ধীরে মায়াপুরের উন্নয়ন শুরু হয়েছিল এবং আমাদের কাছে পদ্মভবন ছিল। শ্রীল প্রভুপাদ সেখানে থাকতে তিনি বলেছিলেন যে তিনি চান মায়াপুরে একটি নগরী নির্মাণ হোক, কিন্তু তিনি চাইতেন তা যেন খুব পরিষ্কার, খুবই দৃষ্টান্তমূলক হয় এবং যখন তিনি হাঁটতেন, তখন তিনি যদি কোন নোংরা বা কোন কাগজের টুকরো দেখতেন, তখন তিনি জিজ্ঞেস করতেন, “এটা কি?” আমাদের গোলধরনের স্নানঘর ছিল। ভিতরটি ছিল মহিলাদের জন্য এবং বাইরের অংশটি ছিল পুরুষদের জন্য। শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর ছড়ি দিয়ে একটি দরজায় আঘাত করেন এবং বলেন যে ব্রাহ্মণ মানে স্বচ্ছ। সেখানে কেউ একজন শৌচকার্য করার পর তা পরিষ্কার করেনি, তাই সেখানে নোংরা ছিল। “তোমরা কি ধরনের ব্রাহ্মণ?” আমাদের সবাইকে খুবই দুঃখিত দেখাচ্ছিল। একজন ভক্ত বাইরের দেশ থেকে সবেমাত্র মায়াপুরে এসেছিলেন, তিনি গাড়ি থামিয়ে শ্রীল প্রভুপাদের কাছে দৌড়ে এসেছিলেন, তিনি হাসছিলেন এবং তারপর শ্রীল প্রভুপাদ তার দিকে আঙ্গুল করে বললেন, “তুমি কি ধরনের ব্রাহ্মণ? এখানে নোংরা!” সেই ভক্ত সবেমাত্র এসেছিলেন এবং তিনি হতবাক হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু প্রভুপাদ তিনি প্রত্যেককেই নির্দেশ দিচ্ছিলেন। তখন একজন ভক্ত হাসিমুখে উঠে দাঁড়ান, যদিও আমরা সবাই খুবই দুঃখিত ছিলাম।
এইভাবে শ্রীল প্রভুপাদ চাইতেন যে মায়াপুর যাতে খুবই দৃষ্টান্তমূলক স্থান হয়। ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি মায়াপুরে যেতে চেয়েছিলেন, সেই জন্য তারা তিনটি মার্সিডিস বেঞ্চ গাড়ি ভাড়া করেছিলেন একের পর এক তাঁকে বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কোন না কোনভাবে এই তিনটে গাড়িই চলছিল না। তখন শ্রীল প্রভুপাদ বললেন যে এটাই হচ্ছে সংকেত যে শ্রীকৃষ্ণ চান আমি যেন এখানে থাকি। এটি তাঁর অপ্রকটের কেবল কিছু মাস পূর্বের ঘটনা। তিনি বলেছিলেন যে, যদি আমি বৃন্দাবনে অপ্রকট হই, তাহলে মায়াপুরে আমার জন্য একটি পুষ্প সমাধি নির্মাণ করবে এবং যদি আমি মায়াপুরে অপ্রকট হই, তাহলে সেখানে আমার সমাধি নির্মাণ করবে এবং বৃন্দাবনে পুষ্প সমাধি করবে। আমাদের পরবর্তী ১০ হাজার বছরের জন্য শ্রীল প্রভুপাদের এই ঐতিহ্য বহন করে চলা উচিত, শ্রীধাম মায়াপুরকে এক আদর্শ নগর বানানো উচিত। আমাদের এখন কত ভক্তরা আছেন, শ্রীল প্রভুপাদের কত শীর্ষবর্গ আছেন, তাই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে মায়াপুর যেন ভবিষ্যতেও আদর্শ থাকে। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে তিনি ৫০,০০০ মানুষ বসবাসকারী একটি নগরী চান। এখন আমাদের এখানে প্রায় ৭৫০০ জন থাকেন। সেই সংখ্যা কত গুন হতে হবে? এর থেকে আপনারা বুঝতেই পারেন যে শ্রীল প্রভুপাদের প্রসন্নতার জন্য কতটা সহযোগিতা বজায় রাখতে হবে এবং শ্রীল প্রভুপাদ চাইতেন সমগ্র বিশ্বের কাছে মায়াপুরকে এক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখাতে।
আমরা শ্রীবিগ্রহের কাছে প্রার্থনা করি, আমি জগৎ গুরু জয়দেব প্রভুর কথা এবং কিভাবে রবীন্দ্র স্বরূপ প্রভু ও তার সহধর্মিনী তাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেছেন তা শুনে খুবই অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমাদের শ্রীল প্রভুপাদ ভাবনামৃত বজায় রাখা উচিত।
যেহেতু অন্যান্য বক্তারা আছেন, তাই আমি এখানে বক্তব্য শেষ করব।
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ