Text Size

২০২৪০৮১২ কলকাতা নামহট্ট সম্মেলনে প্রদত্ত প্রবচন

12 Aug 2024|Duration: 00:29:10|Bengali|Nāmahaṭṭa Programs|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: তো আমি স্বাগত জানাতে চাই কলকাতার সমস্ত নামহট্ট ভক্ত। আপনারা এসেছেন মায়াপুর ধামে, সেই জন্য আমি কৃতজ্ঞ। কলকাতা হচ্ছে রাজধানী পশ্চিমবঙ্গের, সেখানে আপনারা প্রচার করছেন। এবং শ্রীচৈতন্যদেব উনি চেয়েছেন যে সকলে প্রচার করবে যাতে ওঁনার ভবিষ্যৎবাণী সফল হয়। উনি বলেছেন —

পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম।
সর্বত্র প্রচারিত হইবে মোর নাম ।।
(চৈ.ভা. অন্ত্য খন্ড ৪.১২৬)

আপনারা যার সঙ্গ দেখা হয়, সেই গৌরাঙ্গের মহিমা দেওয়া উচিত। গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু এসছেন, তিনিই কৃষ্ণ। উনি এসেছেন এই যুগধর্ম স্থাপন করার জন্য। এছাড়াও কিছু গোপনীয় উদ্দেশ্য ছিল। তিনি ভক্তের কি মনোভাব, রাধারানীর কি মনোভাব এটা বোঝার জন্য তিনি এসেছিলেন। তো কৃষ্ণের কি মনোভাব সেটা বোঝার জন্য তিনি ভক্তরূপে এসেছিলেন এবং উনি সবার কাছে কৃষ্ণ প্রেম বিতরণ করেছেন কে যোগ্য কে অযোগ্য এইসব বিচার না করে। তো আপনারা ক্যালকাটাবাসী। এটা গৌর মণ্ডল ভূমির অন্তর্গত। নরোত্তম দাস ঠাকুর বলছিলেন— “গৌর মণ্ডল ভূমি যেবা জানে চিন্তামণি তার হয় ব্রজভূমে বাস।” তাই আপনারা সবাই ব্রজভূমে বাস করতে পারো। এখন চৈতন্যদেবের ভূমি হচ্ছে দিব্য। আপনারা ব্রজবাসী। 

এখন অনেকে জানে না যে মনুষ্যের জন্ম কি উদ্দেশ্য হয়? আমরা কৃষ্ণকে ভালোবাসব এবং তাঁকে বিশেষ সেবা করব। এখন অনেকে কৃষ্ণকে পূজা করে আনুষ্ঠানিকভাবে। তিনি হচ্ছেন সর্বশক্তিমান, উনি ভগবান—এই চিন্তা করে ওনারা নিয়মানুসারে পূজা করে, কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন এরকমভাবে পূজা করলে আমি মনের তৃপ্তি পাই না। এইসব ভক্ত বৈকুন্ঠ পর্যন্ত যেতে পারে। ওঁনার সঙ্গে থাকতে গেলে, ওঁনার সেবা করতে গেলে, ব্রজবাসীরা যেভাবে কৃষ্ণের পূজা করে সেটা। জানিনা আমি বাংলায় ঠিকমত বিশ্লেষণ করতে পারি কিনা। ব্রজবাসী, তারা কৃষ্ণ যে ভগবান এটা তারা জানতো না বা জেনেও সেটা বলতে পারেনি। তারা কৃষ্ণকে সেবা করত অন্তরঙ্গভাবে। তারা চেয়েছে কৃষ্ণের সঙ্গে থাকার জন্য তারা কৃষ্ণকে ভালবাসে। এইটা হচ্ছে গোপনীয় কথা। এটা সবাইকে বলা হয় না। কৃষ্ণকে আনুষ্ঠানিকভাবে পূজা করলে বৈকুন্ঠ প্রাপ্তি হওয়া যায়। এটা একটা কৃষ্ণের ভক্তের জন্য সহজ। চৈতন্যদেব যেটা আশীর্বাদ দিচ্ছেন যে কৃষ্ণকে ব্রজবাসীরা যেরম ভালোবাসে বা চায়, সেইভাবে আমাদের চাইতে হবে বা কৃষ্ণকে ভালবাসতে হবে। চৈতন্যদেব যখন দক্ষিণ ভারত, পশ্চিম ভারত ঘুরেছিলেন, তিনি আদেশ দিয়েছিলেন —

“যারে দেখ, তারে কহ কৃষ্ণ-উপদেশ ।
আমার আজ্ঞায় ‘গুরু’ হঞা তার’ এই দেশ॥”

এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী এই সম্পদ নিয়ে গিয়েছিলেন পাশ্চাত্য দেশে। তারা মানে না যে এই দেশে এটা প্রচার করতে হয়। কিন্তু চৈতন্যদেব এসেছেন—“পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম সর্বত্র প্রচারিত হইবে মোর নাম।” —সেটা সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু প্রভুপাদ আমাকে পাঠিয়েছিলেন এইখানে সেই প্রচার করার জন্য। আপনারা এই গ্রন্থ বিতরণ, হরিনাম যজ্ঞ, পাঠ কীর্তন সবকিছু করবেন। পুরুষরা সবাই হরিধ্বনি করতে পারো। মহিলারা ভালো হরিধ্বনি করছে। কিন্তু স্ত্রীলোক বিশেষ করতে পারে উলুধ্বনি। ভক্তিবিনোদ ঠাকুর তিনি কীর্তন করে আনন্দ পেয়েছিলেন যখন পাড়ার মহিলারা উলুধ্বনি করলেন।

চৈতন্য মহাপ্রভু এই নবদ্বীপে অবতীর্ণ হইলেন ১ কিলোমিটার উত্তর দিকে। প্রভুপাদ বলছিলেন এটা কৃষ্ণের কর্মস্থান হয়ে গেল। কৃষ্ণ গীতায় বলছিলেন — “জন্ম-কর্ম চ মে দিব্যম।” ওইটা ওঁনর জন্মস্থান, আর এখানে এটা হচ্ছে কর্মস্থান। নামহট্ট থেকে সমস্ত নামহট্টের সদস্যরা কৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুর যে বাণী সেটা প্রচার করছেন। আমি আশা করি যে আপনারা চৈতন্যদেবের বাণী প্রচার করবেন। এখন নবদ্বীপ ধাম এসছেন সেইজন্য আপনারা ধন্য হয়ে গেলেন। এবং আশা করিআপনারা নবদ্বীপ ধামে এসেছেন, নামহট্টের সম্মেলন থেকে আপনারা অনেক কিছু শিখবেন। সামনে ভাদ্র মাস এই ভাদ্র পূর্ণিমার দিনে ভাগবতম সেট দান করলে আপনারা ভগবানের নিজ ধামে আপনারা ফিরে যেতে পারবেন। কৃষ্ণ ভাবছেন আমি এসেছি, ব্রজ প্রেম আস্বাদন করছি, কিন্তু যারা জরজগতে আছেন তারা যদি সেই প্রেম না পায় (২০:৪৮)

তাই নামহট্ট থেকে কৃষ্ণ নাম কীর্তন করার জন্য আদেশ দিচ্ছি। প্রভুপাদের গ্রন্থ পড়তে পারো। আমি ভক্তিবেদান্ত ডিগ্রি লাভ করেছি। ভক্তি শাস্ত্রী, ভক্তি বৈভব হয়ে গেল তারপরে ভক্তিবেদান্ত। এখন আমি করছি ভক্তি-সার্বভৌম। আপনারা প্রত্যেকে প্রভুপাদের গ্রন্থ পড়ুন। প্রভুপাদের গ্রন্থ অপর ব্যক্তিকে পড়তে বলুন। সাধারণত আমি প্রত্যেকদিন রাত্রি বেলা ক্লাস দেই। কিন্তু আজকে নামহট্ট থেকে আমাকে আমন্ত্রণ দিয়েছে, তাই আমি এসেছি।

এখানে ভক্তরা বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন। আশা করি আহ্লাদীনি শক্তি দেবী দাসী বাংলা অনুবাদ করছেন। আপনারা বিদেশ থেকে (২৩:৫৪) করুন উলুধ্বনি। এইভাবে শিখতে চায় বাংলা চৈতন্যদেবের দিব্য সংকীর্তন। এই শিক্ষা তারা চেষ্টা করছে পাওয়ার জন্য। এখন এই সুযোগ নিয়ে সকল কলকাতা নামহট্ট ভক্তদেরকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি। যদি দুটো প্রশ্ন থাকে আমি চেষ্টা করব যদি উত্তর দেওয়া যায়। একটা পুরুষ, একটা মহিলা।

প্রশ্ন: গুরু মহারাজ, আপনার চরণে আমার দণ্ডবৎ প্রণতি। আমার প্রশ্ন — এই প্রচারকার্যে আমরা কিভাবে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং মনোভাব ঠিক রেখে প্রচারকার্যে সহযোগিতা করতে পারি, সেই বিষয়ে যদি একটু আলোকপাত করেন।

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: আশা করি সবাই মিলেমিশে একসাথে প্রচার করবে। আমি সকলকে অনুরোধ করছি, যারা করেন না সেটা আপনারা চিন্তা করে করুন। এটা একজনের কর্তব্য নয়। এটা সবার কর্তব্য। আপনারা যারা প্রচার করছেন, আপনারা অপর ভক্তের সাথে মিলেমিশে প্রচার করুন। কে কে প্রচার করতে রাজি আছে? কোন আপত্তি নেই!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by আনন্দলীলা পদ্ম দেবী দাসী 18/07/2025
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions