Text Size

২০২৪০৮০৯ হাওড়া জেলায় নামহট্ট সম্মেলনে প্রদত্ত প্রবচন

9 Aug 2024|Duration: 00:21:44|Bengali|Nāmahaṭṭa Programs|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ 

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: যদি আমি বাংলা বলি তোমাদের কি অনুবাদের প্রয়োজন হবে? হাওড়া জেলা হচ্ছে গঙ্গার পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত। এবং এখানে অনেক ভক্ত হাওড়া জেলায় আছে। এখন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি পানিহাটি লীলা করলেন। সেই পানিহাটি হচ্ছে পূর্ব দিকে গঙ্গার। কিন্তু পশ্চিম দিকে বিভিন্ন লীলা স্থান রয়েছে। এখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, তিনি ভেবেছেন আমি এত আনন্দ পেয়েছি ব্রজধামে, কিন্তু কলিযুগের মানুষ এইসব আনন্দ থেকে বঞ্চিত। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভেবেছেন আমি ভক্তরূপে আসব এবং সমস্ত মানুষকে বৃন্দাবনের প্রেম শিখাব। এখন অদ্বৈত গোঁসাই তিনি মহাবিষ্ণুর অবতার। তিনি ইচ্ছা করলে সবাইকে উদ্ধার করতে পারেন। কিন্তু তিনি ভেবেছেন যে এটা প্রেম ভক্তি বিতরণ করতে গেলে, যদি শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং আসেন তাহলে ভালো হবে। তিনি শালগ্রাম শিলায় তুলসী মঞ্জুরী অর্পণ করলেন, অনেক গঙ্গা জল দিয়েছেন, তিনি উপবাস করলেন, তিনি জোর করে শ্রীকৃষ্ণকে আসার জন্য আহ্বান করছেন—আমি যদি অদ্বৈত, আমি যদি বলি কৃষ্ণ আসার জন্য তিনি নিশ্চয়ই করবেন। এখন হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র বলে চিৎকার (৭:০৫)। শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভু এইভাবে সংকীর্তন যজ্ঞ স্থাপনা করলেন। তারপর তিনি ভক্ত ওঁনার জন্য কি প্রেম করে, সেটা উনি বুঝবেন না ভক্ত না হলে। তাই তিনি ভক্ত হয়ে এভাবে তিনি অবতীর্ণ হলেন। একদিকে তিনি সবাইকে প্রেম বিতরণ করলেন। কে যোগ্য অযোগ্য তিনি এসব বিচার করলেন না।

তিনি সর্বশক্তিমান, ষড় ঐশ্বর্যপূর্ণ ইত্যাদি। কিন্তু এসব চিন্তা করে যারা পূজা করেন তাতে খুব একটা আনন্দিত নয়। ব্রজবাসী কৃষ্ণকে ভালবাসত এবং কৃষ্ণ যে ভগবান, কৃষ্ণ সর্বশক্তিমান ইত্যাদি খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। তো বিভিন্ন ভক্ত বিভিন্ন রসে তাঁর সেবা করেন—কেউ সেবক, কেউ বন্ধু,  কেউ পিতা, কেউ মাধুর্য রসে। তো এইভাবে ব্যক্তি হিসেবে ভক্তরা কৃষ্ণকে ভালবাসেন। তো তাই শ্রীকৃষ্ণের এটা সব থেকে ভালো লাগে। আমরা চাই যারা নামহট্ট সদস্য, নামহট্টের মধ্যে কৃষ্ণকে ভালবাসবে। এটা সম্ভব হয় চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপার দ্বারা। এখন সাধারণত এই ভগবত প্রেম খুব একটা সম্ভব হয় না পাওয়ার জন্য। কিন্তু গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু, নিতাই, তাঁরা প্রেম বিতরণ করছেন। 

এখন ভক্ত সবসময় যদি হরিনাম করে এবং এই কৃষ্ণের প্রতি তার চিন্তা শুদ্ধ হবে, কৃষ্ণের প্রতি প্রেম হবে। তো কৃষ্ণ গীতাতে বলেছেন, কেউ যদি জানে ওঁনার জন্ম এবং কর্ম দিব্য তার আর জন্ম নিতে হয় না। ১ কিলোমিটার উত্তর দিকে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান। শ্রীল প্রভুপাদ বলতেন ওটা জন্মস্থান, এটা কর্মস্থান হোক। তো এখানে আমরা ভগবানের সেবা, চৈতন্য মহাপ্রভুর সেবা করার জন্য প্রস্তুত। এই যে নামহট্ট মহারাজ এবং সমস্ত ত্রিদণ্ডীবৃন্দ তারা আপনাদেরকে মায়াপুরে নিয়ে এসেছেন। যেহেতু আপনাদের চৈতন্য মহাপ্রভুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকে। এবং যখন আপনারা হাওড়া ফিরে যাবেন, আপনারা চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রতিনিধি হয়ে থাকবেন। এবং সেখানে মানুষ যাতে চৈতন্য মহাপ্রভুকে ভালোবাসেন এবং অনুশীলন করেন, সেটা হবে।

আমি শুনছি হাওড়া জেলায় সবাই হরিধ্বনি করতে পারে‌। এবং মহিলা হরিধ্বনি, উলুধ্বনি করতে পারে। চৈতন্য মহাপ্রভু এত কীর্তন করতেন যে সবাই কীর্তন যোগদান করে তারা আনন্দ পেয়েছেন। আপনারা এখানে চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা, নামহট্টের কৃপা পেয়ে আপনারা যখন ফিরে যাবেন হাওড়া জেলায়, সেখানে গিয়ে চৈতন্যদেবের কৃপা সবাইকে দেবেন।

আপনাদের সকলকে স্বাগত জানাতে চাই এবং আশা করি আপনারা সকলে আবার আসবেন। গৌরাঙ্গ নিতাই অদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by আনন্দলীলা পদ্ম দেবী দাসী 18/07/2025
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions