Text Size

২০২৪০৭০৮ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

8 Jul 2024|Duration: 00:25:54|Bengali|Question and Answer Session

নমো ওঁবিষ্ণুপাদায় কৃষ্ণপ্রেষ্ঠায় ভূতলে।
শ্রীমতে ভক্তিবেদান্ত স্বামীনিতি নামিনে॥
নমস্তে সারস্বতে দেবে গৌরবাণী প্রচারিনে।
নির্বিশেষ-শুন্যবাদী পাশ্চাত্যদেশ তারিণে॥

শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু-নিত্যানন্দ
শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ ॥

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে

জয়পতাকা স্বামী: আমার ডাক্তার হরি গুরু গৌর দাস বলছে কেবল একটি প্রশ্ন নিতে।  কিন্তু আমার মনে হচ্ছে সেটা যথেষ্ট নয়।

ভক্তবৃন্দ: হরিবোল!!!

জয়পতাকা স্বামী: ২০১৮ সালে আমার যকৃত ও কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে এবং গত বছর আমার কিডনিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। যাইহোক, আমি এখানে মহোৎসবের জন্য এসেছি এবং আমি তোমাদের প্রশ্নের উত্তর দিলে খুবই খুশি হব।

প্রশ্ন: হরে কৃষ্ণ গুরুমহারাজ। (গুরুমহারাজ : হরে কৃষ্ণ!) কালকে আমি আপনার থেকে দীক্ষা পাব। দীক্ষা লাভের সময় আমার কিরকম মনোভাব থাকা উচিত?

জয়পতাকা স্বামী: যখন আমরা দীক্ষা লাভ করি, তখন আমরা নির্দিষ্ট কিছু প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করি। আমাদের সেই সমস্ত প্রতিজ্ঞার প্রতি খুবই উৎসর্গীত থাকা উচিত।

প্রশ্ন: হরে কৃষ্ণ গুরুমহারাজ। আমি আমার আধ্যাত্মিক গুরু এবং শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশ মান্য করার প্রতি যথেষ্ট দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ নই। আমি কিভাবে সেই দৃঢ় মনোভাব বিকশিত করতে পারব, যাতে আমি খুব সুন্দরভাবে পরম্পরার সেবা করতে পারি? 

জয়পতাকা স্বামী: যদি আমরা চেষ্টা করি বা করার প্রয়াস করি, তাহলে সাধারণত কৃষ্ণ ভাব বিনিময় করেন।

প্রশ্ন: হরে কৃষ্ণ গুরুমহারাজ, দয়া করে আমার বিনম্র প্রণাম গ্রহণ করুন! কিভাবে এই গুণ্ডিচা মন্দিরকে শ্রীবৃন্দাবন রূপে দর্শন করা যেতে পারে? দয়া করে আপনার বাণীর মাধ্যমে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করুন।

জয়পতাকা স্বামী: দেখো, শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমতি রাধারানীকে আমন্ত্রণ করেছিলেন যে, “তুমি দ্বারকা এসো এবং আমি তোমাকে একটি রাজভবন উপহার করব।” কিন্তু শ্রীমতি রাধারানী বলেছিলেন, “তুমি বৃন্দাবনে আসো এবং তাহলে তুমি সকল প্রেমময়ী ভক্তবৃন্দকে লাভ করবে।”

পরবর্তী প্রশ্ন। আমি দশটি প্রশ্ন নেব।

প্রশ্ন: হরে কৃষ্ণ মহারাজ দয়া করে আমার বিনম্র প্রণাম গ্রহণ করুন। কিভাবে কাম ভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে? কিভাবে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আসক্তি বৃদ্ধি করা যাবে? এছাড়াও যদি আমরা কৃষ্ণের সেবার জন্য জড়জাগতিক কোন বিষয় কামনা করি, তাহলে সেটা কি সঠিক?

জয়পতাকা স্বামী: এমনকি যদি আমাদের সামান্যতম ইচ্ছাও জড়জগৎকে উপভোগ করার বাসনার দ্বারা কলুষিত থাকে, তাহলে আমাদেরকে পুনরায় এই জড়জগতে জন্মগ্রহণ করতে হবে। আমরা কেবল কৃষ্ণের সেবা করতে চাই, তাহলে আমরা কৃষ্ণের কাছে ফিরে যেতে পারব এবং ভক্তিমূলক সেবার মাধ্যমে কৃষ্ণের সেবা করাই হচ্ছে আসলে প্রকৃত অমৃত।

আমরা কতগুলি উত্তর দিয়েছি?

ভক্তবৃন্দ: পাঁচটি।

জয়পতাকা স্বামী: আমরা দশটি করব। এটাই!

প্রশ্ন: হরে কৃষ্ণ মহারাজ, দয়া করে আমার বিনম্র প্রণাম গ্রহণ করুন। বিরত থাকার পরিবর্তে অনেক সময় আমরা কোন না কোনভাবে অপরাধমূলক সঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ি এবং সেখানে সবসময় ভক্তদের নিন্দা করার প্রবণতা থাকে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে ভক্তদের বিষয়ে সমালোচনামূলক চিন্তা করা থেকে কিভাবে বিরত থাকা যাবে এবং কিভাবে অপরাধমূলক সঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে দূরে থাকা যাবে?

জয়পতাকা স্বামী: আমাদের অন্যদের ভালো গুণাবলি দেখা উচিত, তাহলে আমরা অপরাধ করা এড়িয়ে চলতে পারব।

প্রশ্ন: হরে কৃষ্ণ গুরুমহারাজ, দয়া করে আমার বিনম্র প্রণাম গ্রহণ করুন। শ্রীল প্রভুপাদের জয় হোক! শ্রী গুরু এবং গৌরাঙ্গের জয় হোক! আপনার অহৈতুকি কৃপার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি আপনার জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে থেকে আজ পর্যন্ত কত বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে দিয়ে গেছেন, আপনাকে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে আক্রমণ করা হয়েছিল, তারপর ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে আপনার স্ট্রোক হয়, আপনি হেপাটাইটিস সি -এর শিকার হন, তারপর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে আপনার যকৃত ও কিডনি প্রতিস্থাপন হয়, আর এখন প্রতি সপ্তাহে আপনার ডায়ালিসিস চলছে। ৭৫ বছর ধরে কায়-মন-বাক্য দ্বারা সেবা করার পরও এমন হওয়ায়, আপনি কি মনে করেন না আপনার সাথে অন্যায় হয়েছে? আপনি কিভাবে এই সবকিছুকে কৃষকের কৃপা হিসেবে দেখেন?

জয়পতাকা স্বামী: আমি চিন্তা করি আমি শ্রীল প্রভুপাদের প্রতি আমার ঋণ কিভাবে মেটাব?

পরবর্তী প্রশ্ন।

প্রশ্ন: হরেকৃষ্ণ গুরু মহারাজ, দণ্ডবৎ প্রণাম। যদি কেউ জীবনের শেষ পর্যায়ে ইসকনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং মৃত্যুকালে যদি তিনি হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করেন, কিন্তু তাদের যদি দীক্ষা না হয়ে থাকেন বা কোন গুরুর সাথে যদি যুক্ত না হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি কি ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে পারবেন?

জয়পতাকা স্বামী: কৃষ্ণ বলেছেন যে আপনি যদি মরণকালে ভগবানের নাম স্মরণ করেন, তাহলে আপনি ভগবানের কাছে ফিরে যাবেন। অজামিলের ইতিহাসে দেখা যায়, তিনি তার কনিষ্ঠ পুত্রের নাম ‘নারায়ন’ উচ্চারণ করেছিলেন এবং তিনি বিষ্ণুদূতদের দ্বারা রক্ষা পেয়েছিলেন। তিনি দীক্ষিত ছিলেন না, তিনি অনেক পাপকর্ম করেছিলেন, কিন্তু কেবল তার পুত্রের নাম ডাকার মাধ্যমে তিনি উদ্ধার লাভ করেছিলেন, তবে কেউ যদি মনে করে যে — “কেন আমার ভক্তি করা উচিত? আমি মৃত্যুর সময় কৃষ্ণের নাম উচ্চারণ করব।” তাহলে তা তত সহজ নয়! অজামিল তার পুত্রের নাম নারায়ণ ডেকেছিলেন এবং উদ্ধার লাভ করেছিলেন, কিন্তু তিনি এমন কোন পরিকল্পনা করেননি (যে তিনি নামকরা এড়িয়ে চলবেন ও জীবনের অন্তিম মুহূর্তে নাম উচ্চারণ করবেন।)

কতগুলো প্রশ্ন হল?

ভক্তবৃন্দ: এটি হচ্ছে অষ্টম প্রশ্ন।

জয়পতাকা স্বামী: কটা বাজে?

ভক্ত: ১০:৪০ (রাত্রি)

প্রশ্ন: প্রিয় গুরু মহারাজ, আমি যখন আপনার সঙ্গ লাভ করার জন্য আসতে গিয়ে আমার পরিবারের কাছে বাঁধার সম্মুখীন হই, তখন আমার প্রতিহিংসার প্রবণতা হয় এবং আমি তাদের সাথে লড়াই করি। এই কারণে আমি অপরাধী অনুভব করি। আমি বিভ্রান্ত যে সেইরূপ পরিস্থিতিতে আমার আচরণ কিরূপ হওয়া উচিত? দয়া করে আমাকে পথনির্দেশনা প্রদান করুন।

জয়পতাকা স্বামী: তুমি তাদেরকে এখানে আসতে নিমন্ত্রণ করতে পারো। যদি তুমি একজন খুব ভালো কন্যা হও, তাহলে এটাই হচ্ছে একমাত্র জিনিস যা হচ্ছে (তাদের কাছে আছে) যে তুমি কৃষ্ণের বিষয়ে শ্রবণ করতে চাও এবং তাদের সেটা স্মরণ করা উচিত। যাইহোক, তোমার এখানে অংশগ্রহণ করার জন্য আমি খুবই কৃতজ্ঞ।

কালকে, আমি আশা করি কম-বেশি পুরো দিন এখানে অতিবাহিত করব।

অচিন্ত চৈতন্য দাস: কালকে গুরুসদয় রোডের হল ঘরে দীক্ষা অনুষ্ঠান হবে এবং তারপর সন্ধ্যায় গুরুমহারাজ এখানে আসবেন।

জয়পতাকা স্বামী: আরো কি প্রশ্ন আছে?

ভক্তবৃন্দ: আমরা সব প্রশ্ন পড়েছি।

সুজিতেন্দ্রিয় দাস: চলো আমরা সবাই গুরু মহারাজের সুস্বাস্থ্যের জন্য হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র উচ্চারণ করি।

ভক্তবৃন্দ:

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।

জয় জগন্নাথ! জয় বলদেব! জয় সুভদ্রা!

জয় জয় শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজ কি জয়!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 29-06-25
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions