Text Size

২০২৩১২০৫ কর্ণাটক নামহট্ট ভক্তবৃন্দের উদ্দেশ্যে প্রবচন

5 Dec 2023|Duration: 00:13:05|Bengali|Public Address|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী কর্ণাটক নামহট্ট ভক্তদের উদ্দেশ্যে ৫ ডিসেম্বর ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীমায়াপুর ধাম, ভারতে প্রদান করেছেন।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী: প্রথমত আমি আপনাদের সকলকে মায়াপুর ধামে স্বাগত জানাতে চাই। বৃন্দাবন মাধুর্য ধাম হিসেবে পরিচিত, জগন্নাথপুরী ধাম ঐশ্বর্য ধাম রূপে পরিচিত, এই নবদ্বীপ ধাম হচ্ছে ঔদার্য ধাম বা কৃপা ভূমি। শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপর যুগে আবির্ভূত হয়েছিলেন, তিনি মথুরায় আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং সেখান থেকে সরাসরি তাঁকে বৃন্দাবনে নিয়ে আসা হয়, পরবর্তীতে তিনি মথুরায় ফিরে যান ও এরপর তিনি দ্বারকায় তাঁর নগর করেছিলেন। তিনি পরম পুরুষোত্তম ভগবান রূপে এসেছিলেন ও প্রত্যেক অবতারে তাঁর এক বিশেষ মনভাব আছে। যেমন নরসিংহদেব, তিনি ক্রোধী। বরাহাদেব, তিনি পৃথিবীকে উত্তোলন করেছিলেন, যা তার কক্ষপথ চ্যুত হয়েছিল। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তিনি মনুষ্য রূপে লীলা করেছিলেন এবং প্রকৃতপক্ষে এটা হচ্ছে ওঁনার প্রকৃত স্বরূপ। যখন তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন, তিনি ছিলেন শ্রীকৃষ্ণ এবং রাধার মিলিত স্বরূপ, এই কারণে তিনি গৌর বর্ণ। যার জন্য তিনি গৌরাঙ্গ রূপে পরিচিত। গৌরাঙ্গ অত্যন্ত বিশেষ। তাঁর মনভাব হচ্ছে কিভাবে প্রত্যেককে কৃষ্ণ প্রেম দেওয়া যাবে।

কৃষ্ণভাবনাময় হওয়া, কৃষ্ণের সম্বন্ধে চিন্তা করা, তত কঠিন নয়। যেমন কংস নঞর্থকভাবে কৃষ্ণভাবনাময় ছিল, সে সবসময় কৃষ্ণের কথাই চিন্তা করত, কিন্তু চিন্তা করত — “কৃষ্ণ আসবে এবং আমাকে হত্যা করবে।” ব্রজবাসীগণ ইতিবাচকভাবে কৃষ্ণভাবনাময় ছিলেন। এই কলি যুগে মানুষেরা শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধে ভুলে গেছে কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু এই শিক্ষা দেওয়ার জন্য এসেছেন যে, যদি আপনি কৃষ্ণের পবিত্র নাম উচ্চারণ করেন, তাহলে তিনি উপস্থিত থাকবেন।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।

সব সময় কৃষ্ণের কথা স্মরণ করলে আমাদের জীবন অত্যন্ত পবিত্র হয়। ঠিক যেমন আমরা জীবাণু প্রতিরোধক ঔষধি গ্রহণ করি, এটাও হচ্ছে আধ্যাত্মিক ঔষধি কৃষ্ণকে সবসময় মনে করার জন্য। চৈতন্য মহাপ্রভু আবির্ভূত হয়েছিলেন আমাদেরকে আশীর্বাদ দেওয়ার জন্য, তিনি কর্নাটকেও এসেছিলেন। হরিবোল! হরিবোল! তিনি এখানে আবির্ভূত হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি ৬ বছর ধরে দক্ষিণ ভারত ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি ম্যাঙ্গালোরে, উরুপিতে সমুদ্রের তীর ধরে গিয়েছিলেন। তিনি যেখানে যেখানে গিয়েছিলেন, সেই সব স্থানে আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রীপাদচিহ্ন রাখতে চাই। হরিবোল! হরিবোল! যাতে মানুষেরা এটি স্মরণ করতে পারেন যে চৈতন্য মহাপ্রভু এখানে এসেছিলেন। সাধারণত মানুষেরা কৃষ্ণের প্রতি প্রেম বিকশিত করতে পারে না কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভুকে অনুসরণ করলে প্রেম স্বাভাবিকভাবেই আসবে।

আমার এখন নামহট্টে দীক্ষা দেওয়ার কথা, তাই আপনারা যদি আসতে চান তাহলে আপনারা আসতে পারেন। হরিবোল! হরিবোল! আমি জানিনা আপনারা কতক্ষণ এখানে শ্রীবিগ্রহ দর্শন করার জন্য ও আরতি দর্শন করার জন্য থাকবেন। তারা আমাকে বলছে যে আমার এখানেই শেষ করা উচিত যাতে আমি দীক্ষা অনুষ্ঠানে যেতে পারি। আমি খুবই খুশি যে আপনারা এসেছেন এবং আমি আপনাদের সকলকে আমার বিশেষ আশীর্বাদ প্রদান করতে চাই।

কৃষ্ণে মতি রস্ত! হরিবোল!

শ্রীল গুরুমহারাজ কি জয়!

শ্রীল প্রভুপাদ কি জয়!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 23 / Dec / 2024
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions