Text Size

২০২৩১১২৫ শ্রীমদ্ভাগবতম ৩.১.২২

25 Nov 2023|Duration: 00:49:51|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

 মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
    ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
    ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!

শ্লোক ২২
তস্যাং ত্রিতস্যোশনসো মনোশ্চ
পৃথোরথাগ্নেরসিতস্য বায়োঃ
তীর্থং সুদাসস্য গবাং গুহস্য
যচ্ছ্রাদ্ধদেবস্য স আসিষেবে॥

অনুবাদ:- সরস্বতী নদীর তীরে এগারোটি তীর্থ রয়েছে, যথা — ১) ত্রিত, (২) উশনা, (৩) মনু, ৫৪) পৃথু, ৫) অগ্নি, (৬) অসিত, (৭) বায়ু, (৮) সুদাস, (৯) গো, (১০) গুহ ও (১১) শ্রাদ্ধদেব। বিদুর সেই সমস্ত তীর্থ ভ্রমণ করে যথাবিধি ধর্মীয় অনুষ্ঠান করেছিলেন।

***

জয়পতাকা স্বামী:- আজকে আমরা বিদুরের তীর্থ যাত্রা সম্পন্ন করা সম্পর্কে শুনলাম এবং আমরা শুনলাম যে কিভাবে প্রত্যেক কৃষ্ণ মন্দিরের উপর এক চক্র থাকে ও এই কারণে কখনো কখনো শ্রীকৃষ্ণকে চক্রি বলা হয়। ঠিক যেমন শিব মন্দিরের উপরে ত্রিশূল থাকে, বিষ্ণু মন্দিরের উপরে চক্র থাকে। আপনারা দেখতে পারবেন যে কিভাবে বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দিরের উপর একটি চক্র স্থাপিত আছে। একবার অভিমন্যু (অশ্বথামা) তিনি দ্বারকায় কৃষ্ণের কাছে গিয়েছিলেন, এবং কৃষ্ণ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমি তোমার জন্য কি করতে পারি?” তখন তিনি বললেন, “আমি আপনার চক্রটি পেতে চাই, কারণ চক্র অপরাজেয়, তাই যদি আমার কাছে চক্র থাকে, তাহলে কেউই আমাকে পরাজিত করতে পারবে না।” কৃষ্ণ বললেন, “হম্ম! দারুন ব্যাপার! আমি এই একই অস্ত্র বহন করে একটু ক্লান্তও, তাই তুমি যদি চাও, তাহলে এই চক্রটা নিতে পার, কিন্তু যদি তুমি তা তুলতে পার তাহলে।” তখন অভিমন্যু (অশ্বথামা) অত্যন্ত প্রসন্ন ছিল, বাহ! আমার কাছে এখন থেকে চক্র থাকবে, আমি অপরাজেয় হব, এই জগতের কেউ আমাকে পরাজিত করতে পারবে না। তখন সে গিয়ে চক্র নিতে যায়, কিন্তু চক্র অত্যন্ত ভারী ছিল, তাই তা তুলতে পারছিল না। সে তার সর্বোচ্চ প্রয়াস করেছিল কিন্তু কোনভাবেই সেটা তুলতে পারল না। ওওও! কত দুঃখজনক! যেহেতু সেই চক্র কৃষ্ণের প্রকাশ, তাই সেই সম্পর্কে এই ইতিহাস আছে, কৃষ্ণ চক্রী নামে পরিচিত, যাঁর চক্র আছে এবং কেউই তা ধারণ করতে পারবে না।

বিদুর তিনি সমগ্র ভারতের বিভিন্ন পবিত্র স্থানে ব্যাপকভাবে যাত্রা করেছিলেন, সেই সময় কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ হয়েছিল। তাই যুধিষ্ঠির তিনি সমগ্র বিশ্বের সম্রাট হিসেবে ঘোষিত হন, বিদুর সেই বার্তা পেয়েছিলেন। দূর্যোধন তাকে হুমকি দিয়েছিল এবং সেই কারণে তিনি ছেড়ে চলে এসেছিলেন। এই নবদ্বীপ ধাম হচ্ছে একটি ধাম এবং এত মানুষেরা এখানে আসে, দেবতাগণ এবং অন্যান্যরা আসেন গঙ্গাস্নান করার জন্য, তারা হরিনাম সংকীর্তন করেন। নবদ্বীপ ধামও হচ্ছে এক তীর্থক্ষেত্র, কৃষ্ণ বলেছেন যে বৃন্দাবন যাত্রা করে কেউ যা গুণ বা ফল লাভ হয়, নবদ্বীপ ধান পরিদর্শন করেও সেই একই ফল লাভ হয়।

নিত্যানন্দ প্রভু তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর সাথে জগন্নাথপুরীতে ছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি নিত্যানন্দ প্রভুর সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছিলেন যে বাংলার নবদ্বীপ ধামে আমরা যে আন্দোলন শুরু করেছিলাম সেই আন্দোলন এখন সম্পূর্ণ করা প্রয়োজন, এখন তুমি বাংলায় ফিরে যাও এবং সেই সংকীর্তন আন্দোলনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা কর, যা ইতিমধ্যেই চৈতন্য মহাপ্রভুর দ্বারা প্রারম্ভ হয়েছিল, তবে তারা তা ছেড়ে এসেছিলেন, তাই তা সম্পন্ন হয়নি। সেই জন্য চৈতন্য মহাপ্রভু নিত্যানন্দ প্রভুকে গিয়ে তা সম্পন্ন করতে বলছিলেন। নিত্যানন্দ প্রভু তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর থেকে আদেশ প্রাপ্ত হওয়ার পর বাংলায় ফিরে আসেন, প্রথমে তিনি পানিহাটিতে আসেন এবং তারপর সেখানে তাঁর বিভিন্ন লীলা হয়, তারপর তিনি আদি সপ্তগ্রামে যান। সেখানে শাস্ত্রে বলা আছে যে তাঁর সংকীর্তন আন্দোলন নবদ্বীপে যেমন জয় লাভ করেছিল, তেমন আদি সপ্তগ্রামেও তা সাফল্যমণ্ডিত হয়েছিল। যদিও আদি সপ্তগ্রাম স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দ্বারা পরিপূর্ণ, সাধারণত তারা তাদের ব্যবসায় অত্যন্ত ব্যস্ত থাকে, কিন্তু নিত্যানন্দ প্রভুর সঙ্গ প্রভাবে তারা হরিনাম সংকীর্তনে সম্পূর্ণরূপে নিমগ্ন হয়েছিলেন। এইভাবে নিত্যানন্দ প্রভু বিভিন্ন স্থানে গিয়েছিলেন তবে অবশেষে তিনি নবদ্বীপ ধামে আসেন। তখন তিনি শচীমাতার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, শচীমাতা তাঁকে কিছু সময়ের জন্য নবদ্বীপে থাকতে অনুরোধ করেছিলেন, তাই নিত্যানন্দ প্রভু নবদ্বীপে ছিলেন।

তিনি নামহট্ট প্রতিষ্ঠা করছিলেন। তিনি কীর্তন নিয়ে বের হচ্ছিলেন, নিত্যানন্দ প্রভু তিনি বিভিন্ন ধরনের অলংকারের দ্বারা সুসজ্জিত ছিলেন। তিনি হীরের কর্ণকুণ্ডল, মুক্তাহার পরিধান করেছিলেন। তাঁর প্রত্যেক অঙ্গুলিতে বিভিন্ন রত্নখচিত স্বর্ণ আংটি ছিল, তাঁর শ্রীচরণপদ্মে রত্নখচিত নুপুর ছিল, রুপোর নুপুর। সেখানে এক ব্রাহ্মণ ছিল, যে ছিল ডাকাতদের দলের সরদার, সে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ছিল এবং পাপী ব্রাহ্মণ। সে মানুষদের ঠান্ডা রক্তে খুন করতে পারত, সে ছিল সেই ডাকাতদের সর্দার। সে ডাকাতদেরকে বলেছিল যে, “আমাদেরকে অনেক খোঁজাখুঁজি করতে হয় যে কোথায় অর্থ আছে, কিন্তু মা চণ্ডী আমাদেরকে এত কৃপা করছেন যে নিত্যানন্দ প্রভুর সাথে সব অর্থ এসেছে। হীরে, মুক্ত এবং বিভিন্ন অলংকার, যার মূল্য কোটি কোটি। আমাদের আর কোন সম্পদ খোঁজার প্রয়োজন নেই।” তাই তারা সিদ্ধান্ত করে যে তারা সেই রাতে চুরি করবে, তারা একজন ব্যক্তিকে গুপ্তচর হিসেবে পাঠায় এটি দেখার জন্য যে কি হচ্ছে, সে দেখে যে নিত্যানন্দ প্রভু অন্য প্রসাদ পাচ্ছিলেন, কিন্তু সেখানে বহু মানুষেরা তাকে ঘিরে কীর্তন করছিল, তখন সেই গুপ্তচর ফিরে আসে এবং খবর দেয় যে নিত্যানন্দ সে ভাত খাচ্ছে। ডাকাতেরা অত্যন্ত অভদ্রভাবে কথা বলে, আমরা বলি অন্ন, যা হচ্ছে পুঁথিগত শব্দ কিন্তু তারা বলে ভাত। যাইহোক, সেই ডাকাতেরা বর্ণনা করছিল যে অনেক মানুষেরা তাকে ঘিরে নৃত্য-কীর্তন করছে,, তখন সেই সর্দার বলল, “ঠিক আছে কিছু সময় পরে তারা ঘুমিয়ে পড়বে, আর তারপর আমরা আঘাত হানব! তাই ততক্ষণ পর্যন্ত চল গাছের নিচে বিশ্রাম নেই।” তখন সেইসব ডাকাতেরা গাছের তলায় যায় এবং কথা বলতে শুরু করে, তারা বলে যে, “আমার তাঁর হীরের কর্ণকুণ্ডল চাই।” আরেকজন বলল, “আমার তার মুক্তা হার চাই।” আরেকজন বলল, “আমি তাঁর কিছু স্বর্ণ আংটি নিতে চাই।” একজন বলল, “আমার তাঁর নুপুর চাই।” এইভাবে তারা নিত্যানন্দ প্রভুর রূপের প্রতি ধ্যান মগ্ন হচ্ছিল। কিন্তু তারপর তারা সবাই ঘুমিয়ে পড়ে! নাক ডাকছে! নাক ডাকছে! এইভাবে পুরো রাত কেটে যায় এমনকি সূর্য উদিত হয়ে যায়, কিন্তু তারা জেগে ওঠেনি। তখন কাকেরা কা! কা! কা! করতে শুরু করে, তার ফলে তারা উঠে পড়ে, একজন বলল “তোমরা ঘুমাচ্ছ?” তখন তারা বলল, “তা তুমি কি করছ?” তারপর এটি ছিল সকালের সময়, তাই তারা আর আঘাত হানতে পারেনি, তখন তারা সবাই তাদের অস্ত্রশস্ত্র সেই বনের মধ্যে রেখে দেয়, এবং তাদের ঘরে ফিরে যায়। সেই ডাকাতদের সর্দার বলে যে, “আমরা চণ্ডী পূজা করিনি, আমরা তাকে নৈবেদ্য নিবেদন করিনি, তাই আমাদেরকে খুব ভালোভাবে তাঁর পূজা করতে হবে, মাংস ও মদ নিবেদন করতে হবে। তারপর আমরা আবার কালকে ফিরে আসব এবং আমরা সেই সোনা পাব, হীরে আর অন্যান্য সবকিছু পাব, মুক্ত পাব!” 

তারপর পরের দিন চণ্ডী পূজা করে তারা আবার ফিরে আসে, কিন্তু সেই গৃহের চারিপাশে চারদিকেই সেখানে সৈনিকরা ছিল। তারা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী সৈনিক। তাদের প্রত্যেকের গলায় কন্ঠি ছিল, কিন্তু তাদেরকে দেখে মনে হচ্ছিল যে তারা কোন অন্য গ্রহ থেকে এসেছে। প্রত্যেককেই এত শক্তিশালী দেখাচ্ছিল, এবং তাদের এক একজন কমপক্ষে ১০০ জনের সাথে লড়াই করতে সক্ষম। তাই তারা চিন্তা করছিল যে এনারা কোত্থেকে এসেছে? হয়ত কোন রাজা নিত্যানন্দ প্রভুর সাথে দেখা করছেন, যিনি বাইরে তার সৈনিকদের ছেড়ে গেছেন। ভালো হবে আমরা তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়ি, কারণ যদি তারা আমাদেরকে খুঁজে পায়, তাহলে আমরা শেষ হয়ে যাব। আমরা আরেক সপ্তাহ পরে আসব। তাই এক সপ্তাহ বা দশ দিন পরে তারা আবার তাদের সব অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ফিরে আসে, কিন্তু তখন তা ছিল এত মেঘঘন এবং অন্ধকার, সেই জন্য তারা কিছুই দেখতে পারছিল না। তখন তারা সেই গৃহের কাছে যায় এবং সেই গৃহের চারপাশে খাল ছিল, কেউ কেউ সেই খালে পড়ে যায়, সেখানে একটি গর্ত ছিল যেখানে সব ময়লা ফেলা হয়, কিন্তু এত অন্ধকার ছিল যে তারা কিছুই দেখতে পারছিল না, তাই কেউ কেউ সেই ময়লার গর্তের মধ্যে পড়ে যায় এবং তাদের হাড় ভেঙে যায়। জোঁক, কৃমি তাদেরকে কামড়াতে শুরু করে, তারা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়, তখন শিলা বৃষ্টি হতে শুরু করে, তারা সেই শিলার দাঁড়াও আঘাত পাচ্ছিল। তখন সেই ডাকাতদের সর্দার, সে হঠাৎ তার বুদ্ধি ফিরে পায় যে আমরা যতই চেষ্টা করি না কেন সব সময় বাজেই হচ্ছে, কারণ নিত্যানন্দ প্রভু তিনি কোন সাধারণ ব্যক্তি নন, তখন সেই ডাকাত ব্রাহ্মণ সে নিত্যানন্দ প্রভুর কাছে যায়। সে বলে, “আমি আপনার শরণ গ্রহণ করতে চাই।” কিন্তু অন্যান্য ভক্তরা বলছিলেন যে, “না! সে হয়ত কোন গুপ্তচর হবে, আপনি কিভাবে ডাকাতের ওপর বিশ্বাস করতে পারেন? ডাকাতকে বিশ্বাস করা মানে তারা মিথ্যে ছাড়া আর কিছুই বলে না।” নিত্যানন্দ প্রভু তখন সেই পতিত ডাকাত ব্রাহ্মণকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার উদ্দেশ্য কি? আমাকে এই ঘটনা বল। তুমি এখানে কি জন্য এসেছ?” তখন সেই ব্রাহ্মণ ক্রন্দন করছিল, সে বলল, “আমরা আপনার প্রতি আঘাত হানতে এসেছিলাম, আমরা আপনার রত্ন চুরি করতে চাইছিলাম, কিন্তু এই সবকিছু আমাদের সাথে ঘটেছে। আমার মনে হয় এখন আমরা বুঝতে পারছি যে আপনি হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান, তাই আমরা আপনাকে এভাবে আঘাত করতে পারিনি।” সে এই ভাবে সত্য বলেছিল এবং প্রত্যেকে বিশ্বাস করেছিল যে সে নকল নয়। সে নিত্যানন্দ প্রভুকে কৃপা করতে বলেছিল, নিত্যানন্দ প্রভু বললেন যে তিনি তাঁর কৃপা প্রদান করবেন, কিন্তু তিনি চান সে যাতে অন্যান্য ডাকাতদের শরণাগত করায়। আমি এই কাহিনীটি ছোট করছি, কারণ দেরি হয়ে গেছে। এইভাবে নিত্যানন্দ প্রভু তিনি পুরো ডাকাতদের সংকীর্তন আন্দোলনে যুক্ত করিয়েছিলেন।

যেমন বিদুর বিভিন্ন তীর্থস্থানে ভ্রমণ করছিলেন, নিত্যানন্দ প্রভু নবদ্বীপ ধামে গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তার উপস্থিতির মাধ্যমে সব জায়গাকে পবিত্র স্থানে পরিণত করেছিলেন। নিত্যানন্দ প্রভু তিনি হচ্ছেন চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রকাশ, তিনি জানেন যে কিভাবে এই ডাকাতদের আনতে হত, তাই আমরা চৈতন্য মহাপ্রভু, নিত্যানন্দ প্রভুর কাছে প্রার্থনা করি, নিত্যানন্দ প্রভু তিনি পাপী মানুষদের উদ্ধার করার জন্য নিম্নে এসেছিলেন। তখন সব ডাকাতেরা তারা প্রতিজ্ঞা করেছিল যে তারা আর কোন ডাকাতি করবে না, তাই একটি ভাবে আমরা পাপকর্ম থেকে মুক্ত হতে পারি, একটি দিক হচ্ছে হরে কৃষ্ণ কীর্তন করা, কিন্তু এক বিশেষ পন্থা আছে যা হচ্ছে কেউ হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র লিখতে পারেন।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 17/9/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions