Text Size

২০২৩১১১০ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

10 Nov 2023|Duration: 00:12:47|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ

প্রশ্ন:- আমরা চৈতন্য-চরিতামৃততে পড়েছি, সেখানে কৃষ্ণদাস কবিরাজ উল্লেখ করেছেন যে ব্রহ্মার একদিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হন এবং তারপর সেই দ্বাপর যুগের পরে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আবির্ভূত হন, তাই অন্যান্য দ্বাপর যুগ এবং কলিযুগের ক্ষেত্রে, বিশেষত কলিযুগে কি চৈতন্য মহাপ্রভু আবির্ভূত হন? না কি অন্য কোন অবতার আবির্ভূত হন? কারণ শাস্ত্রে তা উল্লেখ করা আছে যে ভগবান প্রত্যেক যুগে আসেন।  

জয়পতাকা স্বামী:- (চৈতন্য মহাপ্রভু প্রত্যেক কলিযুগে আসেন কিনা?) না! আমি তিরুমালাতে গিয়েছিলাম এবং সেখানে তারা বলেছে যে বালাজি তিনি হচ্ছেন শেষ কলিযুগের যুগাবতার। চৈতন্য মহাপ্রভু কেবল কৃষ্ণের পরে আবির্ভূত হন এবং তিনি প্রত্যেক সময় আসেন না, আমাদের অনেক কৃতজ্ঞতাপূর্ণ থাকা উচিত যে তিনি কিছু সময় পূর্বেই আবির্ভূত হয়েছিলেন। 

প্রশ্ন :- যদিও আমি জানি যে মায়াপুর এবং বৃন্দাবন অভিন্ন এবং তাদেরকে আলাদা মনে করা অপরাধজনক, তবুও আমার মন সবসময় দুটির মধ্যে তুলনা করে চলে। দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন যে আমি কিভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারব? শ্যাম কৃষ্ণপ্রিয়া দেবী দাসী।  

জয়পতাকা স্বামী:- দেখো, নবদ্বীপে আমরা সেই একই লাভ পাই যা আমরা বৃন্দাবনে লাভ করি, ১০০০ গুন। তবে একটি পার্থক্য আছে। বৃন্দাবনে তুমি যা কিছু ভুল করবে, তারও প্রতিক্রিয়া স্বরূপ ১০০০ গুন ফল লাভ করবে। বৃন্দাবনে তুমি যদি কোন অপরাধ কর, তাহলে সেই অপরাধেরও ১০০০ গুন ফল লাভ হবে। জগন্নাথ দাস বাবাজী তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে বৃন্দাবন একটু বেশি গুরুতর কারণ তাঁর বিভিন্ন অপরাধ হয়েছে, তাই তিনি বৃন্দাবন থেকে নবদ্বীপে চলে এসেছিলেন এবং এখানে তিনি একটি সিদ্ধ দেহ প্রাপ্ত হয়েছিলেন, এই কারণে তিনি সিদ্ধ জগন্নাথ দাস বাবাজি নামে পরিচিত। হয়ত বৃন্দাবনে তিনি এত তাড়াতাড়ি তাঁর পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারতেন না। যাইহোক, কিছু কিছু বিষয় একই এবং কিছু কিছু বিষয় আলাদা। বৃন্দাবন মাধুর্য ধাম নামে পরিচিত এবং নবদ্বীপ ঔদার্য ধাম নামে পরিচিত।  

জয়পতাকা স্বামী:- সহস্র-কোটি প্রণাম মানে ১০০০ লক্ষ, আমার এত সময় নেই! 

প্রশ্ন:- যদি প্রত্যেক মন্বন্তরে চৈতন্য মহাপ্রভু আবির্ভূত না হন, তাহলে অন্যান্য মন্বন্তরে আমাদেরকে কি হরিনাম যুগধর্ম প্রদান করা হয় না? যদি তা হয়, তাহলে তা কে প্রদান করেন?

জয়পতাকা স্বামী:- দেখোচৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি হরিনাম প্রচার করেন এবং তিনি অবাধে তাঁর কৃপা প্রদান করেন, তাই যখন তিনি আবির্ভূত হন না, তখন তা সহজ হয় না। যেহেতু তিনি কেবল ৫০০ বছর আগে আবির্ভূত হয়েছেন, তাই আমাদের এই সুযোগ গ্রহণ করা উচিত এবং তাঁর কৃপা প্রাপ্ত হওয়া উচিত। হরিবোল!  ঠিক আছে

প্রশ্ন :- আমরা কিভাবে রাধা কৃষ্ণের পরিবর্তে চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রতি মনস্থির রাখতে পারব যেহেতু চৈতন্য মহাপ্রভু অত্যন্ত কৃপাময় তাই আমি সব সময় তার আশ্রয়ে থাকতে চাই এবং আপনার দিব্য শ্রীপদপদ্মে ধ্যান করতে চাই। কৃষ্ণ সেবিনি চিত্রা দেবী দাসী।

জয়পতাকা স্বামী:- যখন আমি জগন্নাথ পুরীতে গিয়েছিলাম, সেখানে আমি এক পাণ্ডার সাথে সাক্ষাৎ করি, যিনি ছিলেন চৈতন্য তত্ত্বে দক্ষ। তিনি বললেন যে যারা চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্ত, তারা একইভাবে চৈতন্য লীলা এবং কৃষ্ণ লীলার অংশ হতে পারবে। আমরা জিজ্ঞেস করেছিলাম আমরা কিভাবে তা করতে পারি? সেটাই হচ্ছে চৈতন্য লীলার বিশেষতা। একজন যুগপৎভাবে একই সময় গৌর লীলা এবং রাধা-কৃষ্ণ লীলায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 25/11/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions