Text Size

২০২৩১১০৬ মেঙ্গালুরু ভক্তদের উদ্দেশ্যে বার্তা

6 Nov 2023|Duration: 00:36:52|Bengali|Public Address|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
   যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
   পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
   হরি ওঁ তৎ সৎ

নিন্মোক্ত ম্যাঙ্গালোর ভক্তদের উদ্দেশ্যে বার্তাটি শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ৬ নভেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন।

জয়পতাকা স্বামী:- আমি আশা করি যে তোমাদের এই মায়াপুর যাত্রা ভালো লেগেছে এবং তোমরা সবাই উরুপির পবিত্র ধামের কাছে থাকো। আমরা ম্যাঙ্গালুরুতে এসেছিলাম এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রীচরণপদ্মের অভিষেক করেছিলাম। অবশ্য, তিনি এই স্থানে এসেছিলেন। এটা লিখিত আছে যে তিনি উরুপিতে এবং অন্যান্য কিছু স্থানে এসেছিলেন। এছাড়া, তিনি মাধ্বাচার্যের আবির্ভাব স্থান ও অন্য কিছুর স্থানেও গিয়েছিলেন। আমি এখানে দুটি শ্রীচরণ চিহ্ন দুটি মুখ্য স্থানের জন্য রেখেছি। আমার মনে হয় তোমরা সবাই যখন ফিরে যাবে, তখন তোমরা এই শ্রীচরণ চিহ্নগুলি প্রতিষ্ঠা করবে।

সেখানে একটি মন্দির আছে শিবলিঙ্গ, গোকর্ণ, গাভীর কর্ণ। রাবণ তা তুলতে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি এবং এটা গাভীর কর্ণের মত হয়ে গিয়েছিল। তবে এখানে রাধারানী তিনি নবদ্বীপ ধামে কৃষ্ণের বাঁশি বাজাচ্ছিলেন, তখন শ্রীকৃষ্ণ আসলেন ও বললেন, “কে এত সুন্দর ভাবে বাঁশি বাজাচ্ছে?” তারপর তিনি দেখলেন যে তিনি হচ্ছেন রাধারানী, এরপর তিনি নয় দ্বীপসহ নবদ্বীপকে দেখলেন, “তুমি আমার জন্য এত সুন্দর ধাম তৈরি করেছ! এই জন্য এই স্থান বৃন্দাবন থেকে অভিন্ন হবে এবং আমি সকল পবিত্র স্থানকে এখানে এসে অবস্থান করতে বলব।” এই নটি দ্বীপ ভক্তিযোগের নটি পন্থার সঙ্গে সংযুক্ত — শ্রবণং, কীর্তনং, স্মরণং, বন্দনং, এখন আমার আর সেই নাম মনে পড়ছে না। সীমন্ত দ্বীপ, ঋতু দ্বীপ, জাহ্নু দ্বীপ, মোদাদ্রম দ্বীপ, রুদ্র দীপ এবং অন্তর্দ্বীপ। অন্তর্দ্বীপ হচ্ছে প্রথম, তোমরা কোন স্থান দেখেছ? অন্তর্দ্বীপ হচ্ছে এই দ্বীপটাই। সীমন্ত দ্বীপ এই দ্বীপের দূরে আছে, সেখানে জগন্নাথ দেব আছেন। চৈতন্য মহাপ্রভু —  তোমরা কি সেই মদনগোপালের শ্রীবিগ্রহ দর্শন করেছ? তারা আমাকে প্রত্যেকদিন ওঁনার শৃঙ্গার হওয়ার পর ছবি পাঠান। সেখানে চৈতন্য মহাপ্রভুর মা, শচী দেবী এবং তার পিতাও আছেন। সেখানে আরো কিছু পবিত্র স্থান আছে, সীমন্ত দ্বীপ এবং গোদদ্রুম দ্বীপ।

তোমরা দেখেছ অন্তর্দ্বীপ হচ্ছে চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব স্থান, এখানে তোমরা যেস্থানে বসে আছ, তা হচ্ছে রুদ্র দ্বীপ, রাধামাধব রুদ্র দ্বীপে আছেন এবং পঞ্চতত্ত্ব অন্তর্দ্বীপে আছেন, আর জগন্নাথ সীমন্ত দ্বীপে আছেন। সেখানে নটি দ্বীপ আছে আর বিভিন্ন লীলাস্থলী আছে, যেমন ভক্তিযোগের নটি পন্থা। এই নবদ্বীপে তুমি যা কিছু করবে, তার সহস্র গুণ বেশি ফল পাবে। এটি ঔদার্য ধাম নামে পরিচিত। বৃন্দাবনেও সহস্র গুন অধিক ফল লাভ হয়, কিন্তু অপরাধ করলে তারও সহস্রগুন অধিক ফল হয়। তাই আমাদের পরম গুরু জগন্নাথ দাস বাবাজী, তিনি বৃন্দাবন থেকে এখানে নবদ্বীপে এসেছিলেন, কারণ তিনি ভাবছিলেন যে বৃন্দাবন অনেক বিপজ্জনক, জড়জাগতিকভাবে নয়, তবে বিপজ্জনক এই অর্থে যে তুমি যদি কোন অপরাধ কর, তাহলে তা হাজার গুন হবে। কিন্তু এখানে নবদ্বীপ ধামে তুমি যেকোনো আধ্যাত্মিক কার্যকলাপের সহস্র গুন অধিক ফল পাবে, তবে অপরাধের ক্ষেত্রে সহস্র গুন যুক্ত হয় না।

এমনকি এটা বলা আছে যে যদি তুমি এই স্থানে বিশ্রাম নাও, তাহলে তা প্রণাম নিবেদনের সমান। সেই জন্য কেউ হয়তো বলতে পারে যে তাহলে আমরা সব সময় কেন বিশ্রাম নেব না? ভাবো যদি তুমি শুয়ে থাকো, তাহলে তা প্রণাম হয়, তাহলে সক্রিয় সেবা করার মাধ্যমে তুমি কত সুফল লাভ করবে! সেই জন্য যখন তুমি এখানে আসবে, দেখবে যে সকল ভক্তরা যত বেশি সম্ভব ভক্তিমূলক সেবা করার প্রচেষ্টা করছে। অবশ্য তারা মঙ্গল আরতি এবং সন্ধ্যা আরতিতে যান, কিছু ব্যক্তিরা তারা মধ্যাহ্ন আরতিতে যান, সাধারণত প্রত্যেককেই যত বেশি সম্ভব সেবা করার প্রচেষ্টা করে। যদি তুমি সহস্র গুন অধিক ফল পাও, তাহলে যত সম্ভব বেশি সেবা করার প্রচেষ্টা কর।

যেমন ভক্তির প্রথম অঙ্গ হচ্ছে শ্রবণ এবং কীর্তন। প্রথম দ্বীপ হচ্ছে সীমন্ত দ্বীপ এবং গোদদ্রোম দ্বীপ, যেই দ্বীপ হচ্ছে শ্রবণ এবং কীর্তনের। আর মধ্য দীপ হচ্ছে ধ্যানের দ্বীপ। প্রত্যেক দ্বীপ কোন না কোন ভক্তিমূলক সেবা অঙ্গের সাথে যুক্ত। আমরা সকলেই এখন সংযুক্ত আছি, আমি জানিনা ঠিক উরুপিতে কি আছে, তবে যাইহোক উরূপিতে তোমরা কিছু বিশেষ পাবে। এখানে আমরা জানি যে এটি সহস্র গুন ফল প্রদান করে এবং এখানে থেকে গঙ্গা প্রায় দের মাইল দূরে, সেই জন্য এটি এক লক্ষ গুনের সমান, সহস্র গুন ১ লক্ষ। তাই যতক্ষণ তোমরা এখানে আছ, তোমরা অনেক পারমার্থিক সুকৃতি লাভ করতে পারছ।

চৈতন্য মহাপ্রভু আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যে আসলে আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে বিরহভাবে সেবা করতে পারি। ঠিক যেমন, কৃষ্ণ ১৬ বছর বয়সে মথুরায় গিয়েছিলেন এবং তাঁর মাতা পিতা বসুদেব এবং দেবকীকে মুক্ত করেছিলেন, তারপর তিনি শুনেছিলেন যে কংসের সকল বন্ধুরা জরাসন্ধ ও অন্যান্যরা তাঁকে হত্যা করতে চায়, যদি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে ফিরে যেতেন, তাহলে সকল অসুরেরও সেখানে যেত। তাই তিনি মথুরাতেই ছিলেন এবং তারপর সেখান থেকে দ্বারকায় গিয়েছিলেন। আসলে বলা হয়েছে যে কৃষ্ণ কখনও বৃন্দাবন ছেড়ে যান না, তিনি সব সময় ব্রজবাসীদের বিরহভাব উপভোগ করছিলেন, তিনি আসলে ব্রজেই তাঁর  বাল রূপে ছিলেন। এইভাবে, তোমরা হয়ত ভাবতে পারো যে এটি পাঁচ হাজার বছর আগে হয়েছে এবং চৈতন্য মহাপ্রভু এখানে এসেছিলেন ৫০০ বছর আগে, তাহলে আমরা কিভাবে তাঁর সাথে ওঁনাকে যুক্ত করতে পারি? কিন্তু আসলে বিরহ ভাবে সংযোগই হচ্ছে প্রকৃত রহস্য। আমি বলতে চাইছি, যদি তুমি কৃষ্ণ বই পড়ো, তাহলে সেখানে বর্ণনা করা হয়েছে যে কিভাবে কংস, সে কৃষ্ণচেতনায় ছিল, কিন্তু নেতিবাচকভাবে। সে সব সময় ভাবত যে কৃষ্ণ আমাকে হত্যা করবে, সে কখনো কৃষ্ণকে দেখেনি, কিন্তু সে বিরহে ছিল, তবে ভীত ছিল। একদিন তার দুই রানী এসেছিল, একজন সাদা শাড়ি পড়ে ও আরেকজন কালো শাড়ি পড়ে, সে বলল, “কৃষ্ণ এবং বলরাম আমাকে হত্যা করতে এসেছে।” তার মন্ত্রী বলল, “মহারাজ এরা আপনার রানী!” আমরা তার থেকে শিক্ষা নিতে পারি, সে সব সময় কৃষ্ণভাবনাময় ছিল! সে সবকিছু দেখত এবং ভাবত যে কৃষ্ণ আমাকে হত্যা করবে। এবং সে সবসময় কৃষ্ণভাবনাময় ছিল, তবে নেতিবাচকভাবে।

তাই আমাদেরও একইভাবে কৃষ্ণভাবনাময় থাকা উচিত, তবে ইতিবাচকভাবে। বৃন্দাবনের ষড় গোস্বামীগণ দৌড়ে যেতেন ও বলতেন, “কোথায় রাধামাধব?” তাঁরা কখনও বলতে না, “ওঃ! আমি রাধামাধবকে পেয়ে গেছি।” তারা সব কিছু দেখে বলতেন, “কোথায় রাধা মাধব?”  তারা সবসময় এইভাবে খুঁজছিলেন, “কোথায় রাধা মাধব!” এইভাবে প্রত্যেকেরই ইচ্ছা আছে কৃষ্ণকে দর্শন করার, কৃষ্ণকে সেবা করার এবং এইভাবে তোমরা কৃষ্ণভাবনাময় হতে পারবে, চৈতন্য মহাপ্রভু প্রদর্শন করেছেন যে হরে কৃষ্ণ জপ করার মাধ্যমে, কীর্তন করার মাধ্যমে ও বিভিন্নভাবে তিনি সবসময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা চিন্তন করছিলেন। আসলে আমরা মহাদেব শিবের প্রশংসা করি — “বৈষ্ণবানাং যথা শম্ভুঃ” — যেহেতু মহাদেব শিব শ্রীকৃষ্ণের অতি প্রিয় ভক্ত।

একবার চৈতন্য মহাপ্রভু পূর্ণিমার রাতে বঙ্গোপসাগর দেখে ভাবছিলেন যে এটি যমুনা এবং ভাবাবেগে তিনি সেই সমুদ্রের দিকে দৌড়ে যান, কেউ তাঁকে দেখতে পারেননি। তারপর তারা তাঁকে খুঁজছিলেন এবং খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তারপর তিনি জেলের জালে ধরা পড়েন, সেই জেলে তাঁকে কোনারকের কাছে তটে নিয়ে আসেন এবং তা পুরী থেকে প্রায় ১৬ মাইল দূরে। ভক্তরা সমুদ্রতটের এদিক ওদিক খুঁজছিলেন যে চৈতন্য মহাপ্রভু কোথায়, তারা এত দুঃখিত ছিলেন যে চৈতন্য মহাপ্রভু কোথায় আছেন। তারপর তারা দেখলেন যে এক জেলে, যে বলছে, “আমি এক ভূত ধরেছি! হরেকৃষ্ণ! হরেকৃষ্ণ! ভুত! ভুত! যখন আমি ভগবান নরসিংহদেবের নাম উচ্চারণ করছি, সেই ভূত আমার উপর আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে।” স্বরূপ দামোদর অত্যন্ত বুদ্ধিমান ছিলেন, কাউকে সত্যিই ভূত ধরলে সে হরে কৃষ্ণ উচ্চারণ করবে না এবং যদি সে নরসিংহদেবের নাম উচ্চারণ করে, তাহলে তিনি আরো উচ্চস্বরে তা উচ্চারণ করছেন। তাই তিনি সেই জেলেকে বললেন যে কিভাবে ভূত দূর করতে হয়। সু! সু! তারপর তিনি তাকে তিনবার থাপ্পড় মারলেন, “এখন তুমি ভুত থেকে মুক্ত হয়েছ। সেই ভূত কোথায় আছে?” “না! না! আমি চৈতন্য মহাপ্রভুকে দেখেছি, তিনি সুন্দর। তিনি নিশ্চই… তাঁকে ভয়ানক দেখাচ্ছে। তখন ভক্তরা হরে কৃষ্ণ কীর্তন করতে লাগলেন। এইভাবে চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর অন্তিম লীলাগুলিতে সম্পূর্ণরূপে শ্রীকৃষ্ণের লীলায় নিমগ্ন ছিলেন। এখানে নবদ্বীপে তিনি মূলত কীর্তনে নিমগ্ন ছিলেন, কখনও কখনও তিনি অন্তরঙ্গ লীলাতেও নিমগ্ন হয়ে পড়তেন।

মুরারি গুপ্ত বিষ্ণুর সহস্রনাম পাঠ করছিলেন, তখন তিনি সেখানে নরসিংহদেবের নাম উচ্চারণ করেছিলেন। সেই শুনে চৈতন্য মহাপ্রভু নরসিংহদেবের ভাবে এসে গিয়েছিলেন এবং তিনি একটি লাঠি নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে যান এবং বলেন, “অসুরেরা কোথায়? অসুরেরা কোথায়? আমি অসুরদের হত্যা করব।” প্রত্যেকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে শুরু করে, তারপর যখন তিনি দেখলেন যে মানুষেরা পালিয়ে যাচ্ছে, তিনি একটু খারাপ অনুভব করলেন যে আমি তাদের ভয়ের কারণ হয়েছি। আসলে শ্রীবাস ঠাকুর সেই সময় এসেছিলেন ও বললেন, “মানুষেরা আপনাকে এইরকম ভাবা বেগে দেখেছেন এবং তাই জন্য তারা মুক্তি পেয়েছেন, তারা ভগবদ্ধামে ফিরে গেছেন!” 

তাই, চৈতন্য মহাপ্রভুর ভাবকে প্রশংসা করা আমাদের পক্ষে কঠিন। রাধা কৃষ্ণের মিলিত তনু হচ্ছেন চৈতন্য মহাপ্রভু। আমি জানিনা আমি তোমাদেরকে বলেছি নাকি, তবে দ্বারকায় রুক্মিণী কৃষ্ণকে বলেছিলেন যে, “আপনি সবকিছু জানেন, আপনি জানেন যে ব্রহ্মা সত্য লোকে কি করছেন, আপনি জানেন মহাদেব শিব কৈলাসে কি করছেন, আপনি জানেন এই অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ডে কি হচ্ছে, কিন্তু একটি বিষয় আছে যা আপনি জানেন না! রাধারানী জানেন, আমি জানি, আপনি জানেন না।” কৃষ্ণ হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন, কেউ তাকে এর আগে কখনও এমন বলেননি যে এমন কিছু আছে যা তিনি জানেন না। তাই তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “আমি কি জানি না?” “আপনার ভক্তরা আপনাকে কত ভালোবাসে আপনি তা জানেন না, কিভাবে আপনার ভক্তরা আপনাকে ভালবাসে তা আপনি জানেন না।” তাই তিনি লীলা উপভোগের জন্য রাধারানীর রূপে নিজের বিস্তার করেন। তারপর, তিনি রাধারানীর সাথে পুনরায় মিলিত হন সেই রহস্য অনুধাবন করার জন্য যে তাঁকে ভক্তরা কত ভালোবাসে এবং কিভাবে তাঁরা তাঁকে ভালোবাসেন। আর সেই রূপ হচ্ছে চৈতন্য মহাপ্রভু। চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি হচ্ছেন রাধারানীর হৃদয় ও অঙ্গকান্তি সহ স্বয়ং কৃষ্ণ এবং তিনি কৃপা প্রদান করেন ও আপনারা সকলেই চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা পেতে চলেছেন।

হরে কৃষ্ণ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 30/1/2024
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions