Text Size

২০২৩০৯২৭ সান্ধ্যকালীন প্রবচন

27 Sep 2023|Bengali|Evening Darśana|Bangalore, India

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
   যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
   পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
   হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- আমার এই মন্দির ঘুরে দেখার সেই রকম সুযোগ ছিল না। মনে হচ্ছে যে অনেক সুযোগ-সুবিধা আছে। পূজারী এবং পুরোহিতরা, তারা অত্যন্ত সবিস্তারিতভাবে ভগবানের প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠান করছে। একে বলা হয় প্রাণ প্রতিষ্ঠা। আমরা একটি মূর্তি নেই যা জাগতিক উপাদানসমূহ দিয়ে তৈরি এবং বিভিন্ন মন্ত্র, যজ্ঞ এবং অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা সেই বিগ্রহের শুদ্ধিকরণ করি। আমরা সেই শ্রীবিগ্রহকে আমন্ত্রণ জানাই ও আমাদের পূজা গ্রহণ করার অনুরোধ করি। আমি এখানে কত ভক্তদের দেখতে পাচ্ছি, এখানে থাকা কতজন শ্রীবিগ্রহের পূজার্চনা করার জন্য প্রস্তুত? কাদের বেশি ভক্তি আছে — পুরুষ নাকি মহিলাদের? আমরা হাত গুনবো। এখন শক্তি, অবশ্য আজকে এর কোন তুলনা নেই। দেখুন দুই ধরনের ভক্ত আছেন — সকাম ভক্ত এবং নিষ্কাম ভক্ত। আর আছে সাধারণ মানুষেরা। সকাম ভক্তরা তারা কিছু পাবে এই কামনা করে নাম জপ করে, ঠিক যেমন দেবতারা, তাদের কিছু বাসনা থাকে। তারাও ভক্ত, তারাও সম্মানযোগ্য।  তারপর আছে নিষ্কাম ভক্ত, তারা হচ্ছে এমন ভক্তগণ, যারা কেবল ভগবানের প্রীতিবিধান করতে চান। সেই সব ভক্তরা তাদের জীবনের শেষে ভগবান ধামে ফিরে যান। কিছু ভক্তরা তারা ভগবানের আশীর্বাদ পান এবং কিছু জাগতিক বস্তু লাভ করেন, কিন্তু জাগতিক বস্তু অস্থায়ী। কিছু ভক্তরা তারা ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেন, ভগবানের সেবা করেন কেবল ভগবানের প্রীতিবিধানের জন্য। তাই ভগবান তাদেরকে কিছু আধ্যাত্মিক উপহার প্রদান করেন, তারা আধ্যাত্মিক জগতে ভগবানের সাথে থাকতে পারেন। সমগ্র সৃষ্টির এক চতুর্থাংশ হচ্ছে জড়জগৎ, তিন চতুর্থাংশ হচ্ছে আধ্যাত্মিক জগত। আধ্যাত্মিক জগত হরি ধাম এবং গোলক ধামে বিভক্ত। হরি ধাম হচ্ছে সম্ভ্রম ও শ্রদ্ধাভাবযুক্ত আধ্যাত্মিক জগত, সেখানে নারায়ণের বিভিন্ন রূপের অগণিত গ্রহণমন্ডলী আছে। সেখানে হয়ত নরসিংহ দেব ও অন্যান্য বিভিন্ন স্বরূপেরা আছেন। তারপর হরি ধামের প্রান্ত স্থানে ভগবান রামচন্দ্র আছেন। তারপর আপনি কৃষ্ণলোকে প্রবেশ করতে পারবেন এবং কৃষ্ণলোকের চারটি অংশ আছে — দ্বারকা, মথুরা, তারপর ব্রজধাম। এটি বলা হয় যে দ্বারকা হচ্ছে মধুর মধুর, মথুরা হচ্ছে মধুরতর এবং ব্রজধাম হচ্ছে মধুরতম। কৃষ্ণ এটি অনুধাবন করতে চান যে রাধা তাঁর(কৃষ্ণের) মধ্যে কি মধুরতা আস্বাদন করেন।

যেহেতু রুক্মিণী দ্বারকায় আছেন, তিনি কৃষ্ণকে বলেছিলেন যে, “আপনি সবকিছু জানেন, আপনি জানেন যে ব্রহ্মাদেব সত্যলোকে কি করছেন, আপনি জানেন মহাদেব শিব কৈলাসে কি করছেন, আপনি অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ডে সবাই কি করছে তা জানেন, কিন্তু একটি বিষয় আছে যা আপনি জানেন না। রাধারানী জানেন, আমি জানি, আপনি জানেন না।” শক্তিতত্ত্বগণ জানেন, কিন্তু কৃষ্ণ জানেন না। তাই কৃষ্ণ আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলেন, কেউ কখনও তাঁকে বলেননি যে এমন কিছু আছে যা তিনি জানেন না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “সেটা কি?” রুক্মিণী কৃষ্ণকে বললেন, “দেখুন আপনি জানেন না যে আপনার ভক্তরা আপনাকে কত ভালোবাসে, আপনি জানেন না তারা আপনাকে কিভাবে ভালোবাসে, কৃষ্ণ আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলেন, তারপর তিনি বললেন, “আমি কলিযুগে একজন ভক্তরূপে আসব! আমি একজন ভক্তরূপে আসব! আমি কলিযুগে একজন ভক্তরূপে আসব!”গোলক বৃন্দাবনের চতুর্থ দিকের রহস্য হচ্ছে কৃষ্ণ তাঁর নিজ ভক্তরূপে এসেছিলেন। গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! তিনি রাধারানীর ভাব এবং অঙ্গ কান্তি নিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি ছিলেন কৃষ্ণ এবং এই কারণে চৈতন্য মহাপ্রভুরূপে এসেছিলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ব্রহ্মবৈবর্ত পুরানে বলেছেন যে কলিযুগের প্রারম্ভের ৫০০০ বছর পর ১০,০০০ বছরের জন্য এক স্বর্ণযুগ হবে। এখন ৫০০০ বছর হয়েছে, চৈতন্য মহাপ্রভু এসেছিলেন ৪৫০০ বছর পর এবং তিনি রাধারানীর মত অবাধে ভগবৎ প্রেম প্রদান করছিলেন। তিনি কর্নাটকে এসেছিলেন, এটিও সত্য যে তিনি নিত্যানন্দ প্রভুর সাথে এসেছিলেন। দেখুন ভগবান কৃষ্ণও তাঁর ভ্রাতার সাথে এসেছিলেন। যখন তিনি কৃষ্ণ রূপে এসেছিলেন, তখন তিনি ভগবান বলরামের সাথে এসেছিলেন। যখন তিনি রামচন্দ্র রূপে এসেছিলেন, তখন উনি লক্ষণ রূপে এসেছিলেন। যখন তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুরূপে এসেছিলেন, তখন উনি নিত্যানন্দ প্রভু রূপে এসেছিলেন। গৌরাঙ্গ! নিত্যানন্দ!

তাঁরা সমগ্র বিশ্বে ভগবৎ প্রেম প্রদান করতে চাইছিলেন। এটি হচ্ছে যুগধর্ম। আমাদেরও একটি গোপনীয় উদ্দেশ্য আছে। তিনি সেই জিনিসটি অন্বেষণ করতে চাইছিলেন যা রুক্মিণী তাঁকে বলেছিলেন। আপনি কেন সেই রহস্য প্রকাশ করছেন? তিনি অনুধাবন করতে চাইছিলেন যে তাঁর ভক্তরা তাঁকে কত ভালোবাসেন এবং কিভাবে তাঁকে ভালবাসেন। কত বড় রহস্য! কিন্তু আপনারা তা বুঝতে পারেন, কারণ আপনারা ভক্ত হওয়ায়, আপনারাও চৈতন্য মহাপ্রভুকে এক নির্দিষ্টভাবে ভালোবাসেন। সাধারণত এই জড় জগতে আমরা ভগবানের কাছে সকাম ভক্তিতে প্রার্থনা করি — আমরা বাড়ি চাই, গাড়ি চাই, ভালো স্ত্রী, ভালো বর ইত্যাদি ইত্যাদি চাই, কিন্তু আসলে সব থেকে দারুন বিষয় হচ্ছে কৃষ্ণকে পাওয়া এবং সব থেকে দারুন জিনিস হচ্ছে কৃষ্ণের সেবা করা এবং এটাই আপনারা এই মন্দিরে করছেন। শ্রীকৃষ্ণের সেবা করার এক মহান সুযোগ পাচ্ছেন। গৃহস্থ হিসেবে আপনারা কৃষ্ণভাবনাময় সন্তান পেতে পারেন যে তাদের পিতা-মাতা তাদের সমাজকে উদ্ধার করতে পারবে। সংস্কৃতে বালক শিশুকে বলা হয় পুত্র এবং কন্যাকে বলা হয় পুত্রী। এর মানে পু হচ্ছে নরক, ত্র মানে হচ্ছে ত্রাণ করা। পুত্র বা পুত্রী হচ্ছে তাদের পূর্বপুরুষদের নরক থেকে উদ্ধার করার জন্য। আমি ভাবছিলাম যে এটা খুব ভালো হবে যদি অন্যান্য ভক্তরাও কিছু বলেন এবং তাহলে সেইভাবে বিভিন্ন ধরনের আধ্যাত্মিক নির্দেশ পাওয়া যাবে। আমি শুধু দেখব যে কিভাবে অন্যান্য মানুষেরাও কিছু বলে। শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি প্রচার পরিব্রাজক স্বামী বাংলা থেকে আছেন, সাম্প্রতিক তিনি উত্তর ভারতে অনেক সাহায্য করছেন, তিনি ইসকন ভাগবত মহাবিদ্যালয়ের প্রধান। তিনি এখানে শ্রীবিগ্রহের প্রাণ প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহণ করার জন্য এসেছেন।

ধন্যবাদ শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি প্রচার পরিব্রাজক। আমি আশা করি যে এই মন্দিরে আরশোলা থাকবে না! তা আপনাদের সবার উপর নির্ভর করে। নরহরি চৈতন্য দাস প্রভু কি এখানে আছেন? এখানে আসুন। তিনি এই মন্দির তৈরির জন্য খুব কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন, আমরা শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি প্রচার পরিব্রাজক স্বামীর থেকে শুনেছি যে কিভাবে এই মন্দিরের বিভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। ভক্তরা এখানে আসেন, পূজা করেন। [শব্দ বিচ্ছেদ] আমরা শ্রীপাদ নরহরি চৈতন্য দাস প্রভুর থেকে শুনতে চাইব যে কিভাবে তিনি এই মন্দির তৈরির বিষয়ে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।

আমার মুখ্য সচিব মহাবরাহ দাস, তিনি মালয়েশিয়াতে গিয়েছিলেন এবং তিনি হয়ত কালকে এখানে আসতে পারেন। আমার বরিষ্ঠ সচিব হিসেবে তার পরিবর্তে মাধবকান্ত দাস আছেন, সে গ্যাংটক ভুটানে একটি নতুন মন্দির শুরু করছেন। এটি এক দুরূহ স্থান, অত্যন্ত শীত, সেখানে মানুষেরা নেপালি বলে, যা তাকে শিখতে হবে। কিন্তু সে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আসে, বিভিন্ন কিছুতে অংশগ্রহণ করে, হয়ত সে কিছু বলতে চাইবে। এখন আমাকে আমার ঘরে ফিরে যেতে হবে।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 24/1/2024
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions