Text Size

২০২৩০৯২১ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

21 Sep 2023|Duration: 00:44:04|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

 মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ 

শান্ত গোপী দেবী দাসীর প্রশ্ন, মায়াপুর:- সাধারণত কেউ যখন বিরহে থাকে, তখন মন বিচলিত অবস্থায় থাকে এবং সরাসরি কিছু ভাবতে পারে না। তাহলে কিভাবে সেই বিরহের প্রেম ও ভক্তিমূলক সেবা ভালো?

জয়পতাকা স্বামী:- যখন কেউ বিরহে কৃষ্ণের সেবা করে এবং বিরক্ত অনুভব করে, তখন সেই ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের বিরহের প্রেম। তাই কেউ যখন কৃষ্ণের প্রতি প্রেম অনুভব করে, সেই প্রেম হচ্ছে স্বাভাবিক, তা কোন ভক্তের কৃষ্ণের প্রতি স্নেহ ভাবকে দেখায়।

আয়ুষ্মতী মাধবী দেবী দাসীর প্রশ্ন, মায়াপুর:- কখনো কখনো মনে কিছু অপরাধমূলক চিন্তা আসে, কিন্তু আমি সেই রকম কিছু ভাবি না, তা জোরপূর্বক আসে। দয়া করে আমাকে নির্দেশ দিন যে তখন সেই অবস্থা কিভাবে অতিক্রম করতে পারব?

জয়পতাকা স্বামী:- কেউ যখন যথাযথভাবে কৃষ্ণের কথা স্মরণ করার চেষ্টা করছে তবে কখনো কখনো কিছু অনুচিত ভাবনা মাথায় আসে, তাহলে কৃষ্ণের সম্পর্কে খুব যথার্থভাবে চিন্তা করার মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই কিছু সময় পর মন যথোপযুক্ত হয়ে যাবে।

YouTube থেকে প্রশ্ন:- কিভাবে আধ্যাত্মিক জীবন এবং জড়জাগতিক পড়াশোনা একই সাথে ঠিকভাবে করা যাবে

জয়পতাকা স্বামী:-  দেখো কাউকে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে ও তার পড়াশোনা করতে হবে। একই সাথে আমরা চাইনা যে তুমি এমন কিছু কর যা আধ্যাত্মিক জীবনের বিরুদ্ধে, আর অনুশীলন করার মাধ্যমে কেউ নিখুঁত হতে পারবে। আমরা আমাদের মনকে কৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত করতে চাই — এই চিন্তা করার মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই আমরা ধীরে ধীরে ঠিক কাজ করতে সক্ষম হব। 

প্রেমেশ্বরী শ্রীরাধা দেবী দাসীর প্রশ্ন:- কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলনের সময় কৃষ্ণ আমাদের পথে যে বিভিন্ন পরীক্ষা পাঠান, সেই সবকিছুর সম্মুখীন হওয়ার ক্ষেত্রে কিভাবে সব সময় দৃঢ় থাকতে পারব? সেবা করার ক্ষেত্রে সঠিক মনোভাব ও উৎসাহ গড়ে তুলতে যথেষ্ট সময় লাগে, কিন্তু কোন নেতিবাচক ঘটনা বা সেবা করার ক্ষেত্রে আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন কিছু হলে তা দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের নিরুৎসাহিত করে। দয়া করে পথনির্দেশনা প্রদান করুন যে কিভাবে এই সমস্ত বাঁধার সম্মুখীন হওয়া যায়। 

জয়পতাকা স্বামী:- নবীন পর্যায়ে আমরা বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন হই, কিন্তু ধীরে ধীরে আমরা সেই সব অতিক্রম করতে পারি। আমরা দেখি যে [শব্দ বিচ্ছেদ]

ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসীর প্রশ্ন:- এমনকি দীক্ষা লাভের পরও আমার আগের কিছু কিছু বাজে অভ্যাস পরিত্যাগ করতে খুব সংগ্রাম করতে হচ্ছে ও তাতে নিখুঁত হতে কিছু সময় লাগে। এছাড়া আমি অনেক ভুলও করি, আমি লজ্জিত! আমি কিভাবে ক্ষমা প্রাপ্ত হব?

জয়পতাকা স্বামী:- আমি আনন্দিত যে তুমি সেই স্তরে যাচ্ছ যে তুমি নিখুঁত হচ্ছ। আমার মনে হয় না আমি এখনও নিঁখুত স্তরে আছি। আমাকে বল এর রহস্য কি! হা! আমি সব সময় নিঁখুত হওয়ার চেষ্টা করছি। এমনকি রাধারানীও অনুভব করেন যে তিনি নিখুঁত নন, তাঁর এখনও কিছু শতাংশ বাকি আছে নিখুঁত হতে, কিন্তু তুমি সেই নিঁখুত স্তরে পৌঁছে গেছ। নিখুঁত হতে কিছু সময় লাগে! তা এখানে কে আছে নিখুঁত? দয়া করে উঠে দাঁড়াও! তুমি কি নিখুঁত? আমি লজ্জিত, আমি কিভাবে ক্ষমা প্রাপ্ত হব? পরশু রাধাষ্টমী আছে, রাধারানী অত্যন্ত কৃপাময় আর অত্যন্ত বিনয়ী হলে তিনি আমাদেরকে ক্ষমা করবেন। 

স্বপ্নীল হালদারের প্রশ্ন:- আমরা কিভাবে আমাদের গুরুর কৃপা খুব তাড়াতাড়ি লাভ করতে পারব এবং খুব ভালো ভক্ত হতে পারব? দয়া করে আমার অপরাধ ক্ষমা করবেন। 

জয়পতাকা স্বামী:- আমরা এটার চেষ্টা করতে পারি যে কিভাবে ভালো ভক্ত হওয়া যায়। রাধারানীর কৃপায় আমরা ভালো ভক্ত হতে পারব। সে বলছে গুরু মহারাজ দয়া করে আমার মত পতিত জীবকে আপনার কৃপা প্রদান করুন। কখনো কখনো তারা বলে — দয়া করে আমার পতিত প্রণাম গ্রহণ করুন, কখনো কেউ একজন বলছিল যে আমার প্রণাম বিষ্ঠার মতো, তা আমি আপনার শ্রীচরণে নিবেদন করি! এটা ভালো!

অখিল বর্মার প্রশ্ন:- গুরুমহারাজ এই জগতে আমাদের কি ন্যায় আশা করা উচিত?  

জয়পতাকা স্বামী:- যদি আমরা ন্যায় বিচার পাই, তাহলে আমরা ভাগ্যবান। এই জগত সবসময় ন্যায়বিচার দেবে না, সেই কারণে আমরা এখানে থাকতে চাই না, আমরা আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যেতে চাই। কে ফিরে যেতে চায়? ঠিক আছে! তোমাকে ধন্যবাদ। কে এখানে থাকতে চায়

নন্দপ্রিয়া পদ্ম দেবী দাসীর প্রশ্ন:- আমি এই সম্পর্কে খুবই ভাবছি — আমরা কিভাবে জানব যে কে আমাদের ইষ্টদেব? যখন আমরা কৃষ্ণকে স্মরণ করি, তখন কি আমাদের কোন বিশেষ শ্রীবিগ্রহ বা ভগবানের কোন বিশেষ রূপকে স্মরণ করা উচিতযেমন জগন্নাথদেব?

জয়পতাকা স্বামী:- ভক্তদের ইষ্টদেব আছে। তারা হচ্ছে ভক্ত। তাদের ভগবানের একটি রূপ আছে, তারা যাঁর চিন্তা করে। এখানে একজন ব্যক্তি ভগবানের রূপের বিষয়ে চিন্তা করছে এবং আমাকে জিজ্ঞেস করছে — কে আমার ইষ্টদেব? যেমন কখনো কখনো কেউ ভগবান কৃষ্ণ সম্পর্কে চিন্তা করে, তারপর তিনি হয়ত ভাবছেন কে আমার ইষ্টদেব? হয়ত তুমি যেই রূপের কথা চিন্তা করছ, সেই তোমার ইষ্টদেব। শ্রীল প্রভুপাদকে জিজ্ঞাস করা হয়েছিল যে, “কেন তিনি বৃন্দাবনে কৃষ্ণ বলরামের শ্রীবিগ্রহ রেখেছেন?” তিনি বলেছিলেন যে, “আসলে নিতাই গৌর এসে ষড়গোস্বামীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন নিতাই গৌরকে বৃন্দাবনে স্থাপনা করার জন্য, কিন্তু আসলে তারা ৫০০০ যে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছেন তা সব রাধা কৃষ্ণের, তাই আমি এটা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছিলাম।” শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন, “কৃষ্ণ বলরাম এবং নিতাই গৌর ও রাধে শ্যাম। তাই আমি নিতাই গৌর কৃষ্ণ বলরাম এবং রাধে শ্যাম প্রতিষ্ঠা করেছি।” দেখো এর পিছনে সহজিয়ারাও ছিল, যারা কীর্তন করত — নিতাই গৌর রাধে শ্যাম, জপ হরে কৃষ্ণ হরে রাম। শ্রীল প্রভুপাদ প্রত্যেকদিন তা শুনছিলেন, তিনি বললেন, “আমরা কেন নিতাই গৌর রাধে শ্যাম, জয় কৃষ্ণ বলরাম কীর্তন করি না?” 

অনুজের প্রশ্ন:- আমি আপনার আশ্রয় পেয়ে ভাগ্যবান এবং আপনার থেকে শীঘ্রই দীক্ষা লাভের প্রার্থনা করছি। গুরু মহারাজ আমার একটি প্রশ্ন আছে যে যদি কেউ ইসকনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পূর্বে চার নিয়মের মধ্যে কারো সাথে সম্পর্ক রাখার বিষয়টি না পালন করে থাকে, তবে আশ্রয় নেওয়ার পর যদি সে খুব দৃঢ়ভাবে সেই চার নিয়ম পালন করে, তাহলে কি সে ব্রহ্মচারী আশ্রমের সব সময়ের ভক্ত হতে পারবে? নাকি তার জন্য গৃহস্থ হওয়া ভালো হবে? এই কোন একটি আশ্রমে তার সফল হওয়ার কতটা সম্ভাবনা আছে

জয়পতাকা স্বামী:- শ্রীমদ্ভাগবতমের অষ্টম স্কন্ধে গজেন্দ্র মোক্ষ লীলায় গজেন্দ্র তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কুমিরের সাথে লড়াই করছিল, কিন্তু সে ছিল স্থলের প্রাণী আর কুমির ছিল জলের প্রাণী। সে অনুভব করছিল যে সে হেরে যাচ্ছে ও দুর্বল হয়ে পড়ছে, কিন্তু সেই কুমির জলের প্রাণী হওয়ায় সে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছিল। তারপর গজেন্দ্র ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করতে থাকে এবং সে প্রার্থনা করতে থাকলে ও পূর্ব জন্মের প্রার্থনা স্মরণ হল। সেইভাবে সে প্রার্থনা করতে থাকে এবং সেই তাৎপর্যে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে আমরা যদি পূর্ববর্তী জীবনের প্রার্থনা স্মরণ করতে পারি, তাহলে আমরা তা বলতে পারি, তা আমাদেরকে ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে সাহায্য করবে। সেই তাৎপর্যে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে প্রত্যেকের মায়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষেত্রে শক্তিশালী হওয়া উচিত এবং কোনভাবে গজেন্দ্র স্থলে শক্তিশালী ছিল, কিন্তু কুমির জলে শক্তিশালী ছিল। এইভাবে প্রত্যেকেই ভিন্ন এবং তারা হয়ত কোন ভিন্ন পরিস্থিতিতে শক্তিশালী, তাই এইটা কোন ব্যাপার নয়, কিন্তু কাউকে তার সেই অবস্থানে শক্তিশালী থাকতে হবে ও মায়ার সাথে বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। কেউ হয়ত গৃহস্থ হিসেবে শক্তিশালী, কেউ হয়ত ব্রহ্মচারী হিসেবে শক্তিশালী, ঠিক যেমন জল এবং স্থল। এইভাবে গজেন্দ্র হাতি হিসেবে শক্তিশালী ছিল, সেইভাবে সে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছিল।

বৃন্দাবন থেকে সুচিত্রা ব্রজগোপি দেবী দাসীর প্রশ্ন:- আমার একমাত্র ছেলে আছে যে নবম ক্লাসে পড়ছে। ছোটবেলা থেকে সে ভক্তিমূলক সেবা অনুশীলন করছিল, কিন্তু এখন সে জপ করার প্রতি তার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে, এই জন্য আমরা আমাদের ছেলেকে দৃষ্টান্তরূপে গড়ে তুলতে পারছি না। এটি আমাদের প্রচার জীবনকেও প্রভাবিত করছে। দয়া করে নির্দেশ দিন যে কিভাবে এই পরিস্থিতিকে অনুকূল করা যাবে

জয়পতাকা স্বামী:- তুমি এবং তোমার স্বামী তোমার ছেলের সাথে কথা বলতে পার ও দেখো সে কিসে আগ্রহী আর সেইরকম কিছু সেবায় তাকে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করো। হরে কৃষ্ণ! 

ঠিক আছে ৯:৩০ বাজে। আমি চাই এখন তোমরা সবাই বিশ্রাম নাও, কালকে রাধাষ্টমীর অধিবাস আছে। হরে কৃষ্ণ! 

দেখো এটা ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয় যে আমরা ব্রহ্মচারী আশ্রমেই থাকব। কলিযুগে চৈতন্য মহাপ্রভুর সব অনুসারীরাই প্রায় গৃহস্থ ছিলেন। যেটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হচ্ছে কারোর শ্রীকৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত থাকা উচিত।  

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 7/10/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions