Text Size

২০২৩০৬২৪ সন্ধ্যায় প্যান্ডেলে প্রদত্ত বক্তব্য

24 Jun 2023|Duration: 00:28:36|Bengali|Public Address|Kolkata, India

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- সুধীবৃন্দ আজকে আমি কলকাতার প্রিয় দুর্গা দেবী সম্বন্ধে বলব। এখন উনি হচ্ছেন এই অধীশ্বরী এই জড়জগতের, কিন্তু উনার সম্পর্ক আছে জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রার সাথে। নারদ মুনি ১২ বছর লক্ষ্মী রানীকে সেবা করেছেন, এবং লক্ষ্মী খুব খুশি, তাই তিনি নারদ মুনিকে জিজ্ঞেস করলেন যে তিনি কি চান — “তুমি যা চাও তাই দেব” নারদ মুনি বললেন, “আমি এমন কিছু চাই না, শুধু একটু নারায়ণের প্রসাদ, তাঁর থালা থেকে প্রসাদ চাই।” লক্ষ্মী দেবীকে নারায়ণ বলেছেন যে কেউ আমার থালা থেকে প্রসাদ খেতে পারবে না। লক্ষ্মী দেবী অনেক চিন্তিত ছিলেন। বৈকুন্ঠে কেউ চিন্তিত থাকে না। তো নারায়ণ জিজ্ঞেস করছেন, “কেন?! তুমি কোন একটা সংশয়ের মধ্যে আছ কি?” লক্ষ্মী দেবী বলছিলেন, তখন নারায়ণ বলেছেন, “ঠিক আছে আমার সামনে দিও না।” নারায়ণ যখন... থাকেন, কিছু নারায়ণের উচ্ছিষ্ট প্রসাদ নিয়ে লক্ষ্মী রানী এসছেন। তো নারদ মনি কে বলছেন, “এটা পাওয়া কঠিন! তুমি চেয়েছ, তাই আমি দিচ্ছি।” তার হাতে এক মুষ্টিক  প্রসাদ দিয়েছেন।  এখন এই নিয়ে নারদ মুনি সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে ফেলছেন। এবং সে অনেক উৎসাহ পেয়েছিলেন। হরিবোল! হরিবোল! হরিবোল! এবং সমস্ত আকাশে এদিক ওদিকে যান। এবং তিনি যেতে যেতে কৈলাসের কাছে গেছেন, এবং সেখানে কৈলাসের শিব দেখছেন কি নারদমুনি এত জ্যোতির্ময় হল কেন? তখন মহাদেব শিব, বৈষ্ণবানাং যথা শম্ভুঃ, সমস্ত বৈষ্ণবদের মধ্যে প্রথম দিকের। তিনি জিজ্ঞেস করলেন নারদ মুনিকে, “কি হল তোমার?” তখন নারদ মনি সব ব্যাখ্যা করলেন যে কিভাবে লক্ষ্মী রানী তাকে নারায়নের প্রসাদ দিয়েছেন। সেই ভাবে দিব্য আনন্দ পেয়েছেন, অসীম আনন্দ। মহাদেব শিব বলছেন, “তুমি আমার বন্ধু! এখন নিশ্চয়ই তুমি প্রসাদ পেয়ে বন্ধুর জন্য রেখেছ।” কিন্তু তখন একটু লজ্জিত হয়ে নারদ মুনি বললেন, “না আমি রাখিনি।” “সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে ফেলেছ?” তিনি লজ্জিত হয়ে মাথা নিচু করেছেন, তখন দেখছেন যে কিছু একটা মহাপ্রসাদ মুখের মধ্যে রইল। তখন মহাদেব কে বলছেন, “কিছু আমার নখের মধ্যে আছে।” এখন এটা বাংলায় প্রসিদ্ধ হচ্ছে — মহাদেব বলছেন, “কণিকা মাত্র হলেও হবে।” কণিকা! এটা হল মহাদেব শিবের কথা। এখন সেটা নারদ মুনি মহাদেবকে দিয়েছেন। এবং তিনি সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে ফেলেছেন। হরিবোল! হরিবোল! হরিবোল! মহাদেব নটরাজ, তিনি নাচতে শুরু করলেন। তখন দুর্গা দেবী ...দেখছেন যে বিশ্ব কাপছে।  এখন মহাপ্রলয়ের সময় নয়, তখন গিয়ে দেখছেন যে মহাদেব নাচছেন এবং মহাদেব বলছেন, “হরিবোল! হরিবোল! হরিবোল!” “স্বামী! স্বামী!” দুর্গা দেবী বলছেন। মহাদেব তার কথা শুনে নাচ থামিয়ে দিয়েছেন। “আমি সব থেকে ভালো আনন্দ পাচ্ছি, তুমি বন্ধ করছো কেন?” “আমি দুঃখিত, আমাকে ক্ষমা কর। এখন তুমি এমন নৃত্য করছ যে বিশ্ব কাঁপতে শুরু করেছে। আমি মাতৃভাবে চিন্তা করছি যে মহাপ্রলয়ের সময় হয়নি, কষ্ট পাচ্ছে জীব। কেন তুমি আজকে এত বিশেষভাবে আনন্দ পাচ্ছ?” তখন মহাদেব বলছেন কিভাবে কণিকা প্রসাদ নারদ মুনির কাছ থেকে পেয়েছেন। তখন দুর্গাদেবী বললেন, “আমি তোমার অর্ধাঙ্গিনী, আমি গাছের নিচে তোমার সাথে থাকি, নিশ্চয়ই আমার জন্য কিছু রেখেছো?” তখন মহাদেব বললেন, “না রাখিনি।” “কেন রাখোনি? এত সব কথা বলছ, আমার জন্য রাখনি? আমি খুব দুঃখ পাচ্ছি! এই দুঃখ যাতে আর কেউ না পায় তাই চাই। আমার জন্য কেন রাখা হয়নি?” তখন মহাদেব বললেন, “আমি ভেবেছি তুমি যোগ্যতা নাই।” “যোগ্যতা নেই? কি করে? আমার নাম বৈষ্ণবী নয়? ভগবতী নয়? কেন আমি প্রসাদ পাবো না? আমি বিষ্ণুর ভক্ত।” এইভাবে মহাদেবের পার্বতীর সাথে এইভাবে একটা মতবিরোধ হল। এখন সাধারণ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হয়, কিন্তু শিব এবং দুর্গাদেবীর মধ্যে এমন হয় না। এটা হয়ে গেলে সারা বিশ্ব বিপদের মধ্যে। তখন বিষ্ণু এসেছেন, যেহেতু দুর্গা হচ্ছেন তার ছোট বোন। তখন তিনি বললেন, “আমি আসব জগন্নাথ দারুব্রহ্ম রূপে এবং আমার যত প্রসাদ তোমাকে আগে দেওয়া হবে।” এইভাবে যে প্রসাদ জগন্নাথ দেবের হয়, পুরীতে বিমলা দেবীকে আগে দেওয়া হয়।

আবার দুর্গাদেবীর একটা লীলা আছে নবদ্বীপ ধামে। নবদ্বীপ ধাম নয় দ্বীপ। এই নবদ্বীপ রাধারানীর দ্বারা তৈরি হলো  উপহার দেওয়ার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কে। … ওখানে বিশেষ জগন্নাথ মন্দির আছে। যাই হোক,  একদিন মহাদেব বলছেন, “গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ!” তখন দুর্গা দেবী বিশ্বতে ভ্রমণ করছেন। উনি দেখছেন পাতাল লোক পর্যন্ত ভূমিকম্প হচ্ছে। মহাদেব এমন নৃত্য করছেন। “কি হচ্ছে? এখন মহাপ্রলয়ের সময় হয়নি।” তিনি ফিরে এসেছেন কৈলাসে। তখন উনি দেখছেন যে উনার স্বামী কীর্তনে নাচছেন। “গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ!” “মহাদেব! মহাদেব! স্বামী!” এই বলায় মহাদেব বন্ধ করেছেন। “আমি অসীম আনন্দ পাচ্ছি, তুমি আমার আনন্দে বাধা দিচ্ছ কেন?” “আমি দুঃখিত! এখন সারাবিশ্বে মহাপ্রলয়ের মতো ভূমিকম্প ইত্যাদি হচ্ছে। এখন মহাপ্রলয়ের সময় নয়। তুমি কেন এত আনন্দ পাচ্ছ?” “এবং কি বলছেন গৌরাঙ্গ? এর মানে কি?” “গৌরাঙ্গ হচ্ছেন এই কলিযুগে কৃষ্ণের অবতার হয়ে, সবাইকে বিতরণ করেন কৃষ্ণ প্রেম।”  “ওহ! আমি কৃষ্ণ প্রেম উনার কাছ থেকে পেতে পারি?” “কেন নয়?” “ওঁনাকে কোথায় পাওয়া যায়?” “আমি নবদ্বীপে সব সময় থাকেন। ওখানে প্রকট লীলা, অপ্রকট লীলা হয়। ওখানে গেলে নিশ্চয়ই ওঁনাকে পাবে।” দুর্গা দেবী পশ্চিমবাংলায় নবদ্বীপ আছে, ওখানে চলে এসেছেন। এবং তিনি ওঁনাকে ডাকতে শুরু করলেন, “গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ!” এবং সেখানে চৈতন্য মহাপ্রভু বিরাজমান হলেন। উনি জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি চাও? তুমি আমাকে ডাকছ?” “তুমি আমার প্রণাম গ্রহণ কর। আমি শুনছি তুমি কৃষ্ণ প্রেম বিতরণ কর, আমার দুর্ভাগ্য আমি কৃষ্ণ প্রেম পাচ্ছিনা। তোমার সব ভক্ত এমনই আমার থেকে দূরে থাকে। তারা বলে মায়া পিশাচী এবং সেভাবে আমি কোন ভক্ত সঙ্গ পাইনা। আমি কিভাবে কৃষ্ণ প্রেম পাব?” তখন চৈতন্য মহাপ্রভু বললেন, “তুমি আদ্যা শক্তি, তুমি আর রাধারানী অভিন্ন এবং যাতে তোমার অভিন্নতা রাধারানীর থেকে উপলব্ধি করতে পার, এটা আশীর্বাদ করছি।” তখন দুর্গা দেবী বুঝতে পেরেছেন তিনি আদ্দাশক্তি হয়ে রাধারানীর থেকে অভিন্নতা। এবং চৈতন্যদেবের চরণ থেকে ধুলি নিয়া সিঁথিতে দিয়েছেন। এই জন্য ওই দ্বীপের নাম হইল সীমন্ত দ্বীপ। যেহেতু উনি ওইখানে চৈতন্যদেবের চরণধূলি নিয়া সীমন্তে রেখেছেন। তাই এখানে নয়টি দ্বীপের মধ্যে প্রথম দ্বীপ হচ্ছে সীমন্ত দ্বীপ। এবং এই সমস্ত লীলা সংঘটিত হয়েছে।

যাইহোক,  আজকে আমি একটু অসুস্থ তাই ঠিক ছিল না আমি এখানে আসতে পারবো কিনা, কন্তু কৃষ্ণ কৃপায় আমি আসতে পেরেছি। আমি এখানে কিছু ভক্তকে ভক্তি শাস্ত্রী সার্টিফিকেট বিতরণ করব। ভক্তিশাস্ত্রী পাওয়া হয় ভগবদগীতা, ভক্তিরসামৃতসিন্ধু, ঈষোপনিষদ, উপদেশামৃত অধ্যায়ন করার মাধ্যমে। এবং ভক্তিশাস্ত্রী না পেলে আমাদের কাছ থেকে গোপাল মন্ত্র বা গায়ত্রী মন্ত্র দেওয়া হয় না। ভক্তিশাস্ত্রী পড়ার পরে ভক্তিবৈভব আছে, এবং সেটা হচ্ছে শ্রীমদ্ভাগবতের প্রথম ছটা স্কন্ধ। এবং ভক্তিবেদান্ত হচ্ছে দ্বিতীয় ছয় স্কন্ধ ভাগবত। ভক্তি সার্বভৌম হচ্ছে চৈতন্যচরিতামৃত ইত্যাদি অধ্যয়ন করা। আপনারা যদি ডিগ্রি পেতে পার, ভক্তিশাস্ত্রী দ্বারা পেতে পারো। এইটা উপাধি দেওয়া হবে। আজকে আমি এই ডিগ্রী যারা স্টাডি কোর্সে পাস করেছে, তাদের দিচ্ছি। 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 15/1/2024
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions