Text Size

20221210 শ্রীমদ্ভাগবতম্ 2.2.27

10 Dec 2022|Duration: 01:05:54|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়

শ্রীমদ্ভাগবতম ২.২.২৭

ন যত্র শোকো ন জরা ন মৃত্যু —
র্নার্তিন চোদ্বেগ ঋতে কুতশ্চিত।
যচ্ছিত্ততোঽদঃ কৃপয়ানিদংবিদং
দুরন্তদুঃখপ্রভবানুদর্শনাৎ॥

অনুবাদ: সত্যলোকে শোক, জরা, মৃত্যু, দুঃখঃ উদ্বেগ এই সমস্ত কিছুই নেই, কেবল চেতনা জনিত এক প্রকার দুঃখ রয়েছে। সেই দুঃখের কারণ এই যে, ভগবদ্ভক্তি সম্বন্ধে অজ্ঞ জড় জগতের বদ্ধ জীবদের অশেষ দুঃখ দর্শন করে তাদের প্রতি তাঁদের করুণার উদ্রেক হয়।

তাৎপর্য: জড় বিষয়াসক্ত মূর্খ মানুষেরা প্রামাণিক জ্ঞানের সদ্ব্যবহার করতে পারে না। বৈদিক জ্ঞান প্রামাণিক এবং তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অর্জন হয় না, পক্ষান্তরে তা মহাজন কর্তৃক প্রদত্ত বৈদিক শাস্ত্রের প্রামাণিক নির্দেশ। কেবল পুঁথিগত পাণ্ডিত্য অর্জন করার মাধ্যমে বেদের নির্দেশ উপলব্ধি করা যায় না, তা লাভ করতে হয় গুরু-পরম্পরার ধারার বৈদিক জ্ঞান লাভ করেছেন যে তত্বদ্রষ্টা পুরুষ তাঁর শরণাগত হওয়ার মাধ্যমে, যে কথা শ্রীমভগবদ্গীতায় (৪/২) স্পষ্টভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রতিপন্ন করেছেন যে শ্রীমভগবদ্গীতায় তিনি যে জ্ঞান দান করেছেন তা পূর্বে তিনি সূর্যদেব বিবস্বানকে দান করেছিলেন, এবং বিবস্বান তাঁর পুত্র মনুকে সেই জ্ঞান দান করেন এবং মনু মহারাজ ইক্ষ্বাকুকে (শ্রীরামচন্দ্রের পূর্ব পুরুষ) সেই জ্ঞান দান করেন। এইভাবে মহর্ষিদের মাধ্যমে পরম্পরা-ধারায় সেই জ্ঞান প্রবাহিত হয়েছে। কিন্তু কাল-প্রভাবে সেই পরম্পরা ছিন্ন হয়, এবং তাই সেই জ্ঞানের প্রকৃত মর্ম পুনঃগ্রতিষ্ঠা করার জন্য ভগবান তা পুনরায় অর্জুনের কাছে বিশ্লেষণ করেছিলেন, কেননা ভগবানের শুদ্ধ ভক্ত হওয়ার ফলে অর্জুন ছিলেন সেই জ্ঞান লাভের উপযুক্ত পাত্র। শ্রীমভগবদ্গীতার মর্মাথ অর্জুন যেভাবে হৃদয়ঙ্গম করেছিলেন তা ভগবদ্গীতার দশম অধ্যায়ের দ্বাদশ এবং ত্রয়োদশ শ্লোকে বর্ণিত হয়েছে, কিন্ত মূর্খ মানুষেরা অর্জুনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভগবদ্গীতার মমার্থ হৃদয়ঙ্গম করতে চায় না। পক্ষান্তরে তারা তাদের মনগড়া অর্থ বিশ্লেষণ করে, যা তাদের মূর্খতারই পরিচায়ক, এবং তার ফলে প্রকৃত অর্থ হৃদয়ঙ্গম করার গথে সেগুলি এক-একটি বিরাট প্রতিবন্ধকস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায় এইভাবে তারা তাদের অনুসরণকারীদের, যারা হচ্ছে অলপ বদ্ধিসম্পন্ন বা শূদ্র, তাদের বিপথগামী করে। শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে বৈদিক জ্ঞান হৃদয়ঙ্গম করতে হলে সর্ব প্রথমে ব্রাহ্মণ হতে হবে। যেমন আইন পরীক্ষায় পাশ করে উপযুক্ত যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত কেউ আইনজ্ঞ হতে পারে না ঠিক তেমনি ব্রাহ্মণোচিত গুণাবলী অর্জন না করে বৈদিক তত্বজ্ঞান হদয়ঙ্গম করা যায় না। এই গ্রকার কঠোরতা পারমার্থিক জীবনে অগ্রসর হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার জন্য নয়, পক্ষান্তরে এই বিশেষ জ্ঞানটি যাতে অযোগ্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে কলুষিত না হয় সেই জন্য। যারা গুণগতভাবে ব্রাহ্মণ নয় তারা বৈদিক জ্ঞানের কদর্থ করে। প্রকৃত ব্রাহ্মণ হচ্ছেন তিনি, যিনি সদ্‌গুরুর নির্দেশনায় যথাযথ ভাবে পারমার্থিক শিক্ষা লাভ করেছেন বৈদিক জ্ঞান পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হৃদয়ঙ্গম করতে এবং আমাদের প্রকৃত আলয় ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার পথে আমাদের পরিচালিত করে। কিন্তু জড় বিষয়াসক্ত মানুষেরা তা বুঝতে পারে না। তারা এমন একটি স্থানে সুখী হওয়ার পরিকল্পনা করে, যেখানে কোনরকম সুখ নেই। সুখ ভোগের ভ্রান্ত প্রচেষ্টায় তারা বৈদিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অথবা অন্তরীক্ষযানের সাহায্যে অন্যান্য গ্রহে যাওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু তাদের নিশ্চিতভাবে জেনে রাখা উচিত যে, দুঃখের আলয়ে সুখভোগের জন্য যতই চেষ্টা করা হোক না কেন, তাদের সে সমস্ত প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হবে। কেননা চরমে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড সমস্ত উপকরণসহ একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। তখন জড়বাদীদের সুখভোগের সমস্ত পরিকল্পনা স্বাভাবিকভাবেই শেষ হয়ে যাবে। তাই বুদ্ধিমান মানুষেরা স্বীয় আলয় ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন। এই প্রকার বুদ্ধিমান মানুষেরা জন্ম-মৃত্যু-জরা-ব্যাধি সমন্বিত জড় জগতের সব রকম দুঃখ অতিক্রম করেন প্রকৃতপক্ষে তিনি সুখী, কেননা, তাঁর কোন রকম জড়জাগতিক উদ্বেগ নেই। কিন্তু সমস্ত জীবের প্রতি তাঁর একাস্তিক করুণা এবং সহানুভূতির ফলে বিষয়াসক্ত মানুষদের দুঃখ-দুর্দশা। দেখে তিনি দুঃখ অনুভব করেন এবং তাই ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে সেই সমস্ত বিষয়াসক্ত মানুষদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য তাঁরা এখানে আসেন। সমস্ত আচার্যেরা ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার শিক্ষা প্রচার করেন, এবং তাঁরা সাধারণ মানুষদের এই বলে সতর্ক করে দেন যে, এই দুঃখের আলয়ে, যেখানে সুখ কেবল আকাশ-কুসুম মাত্র, সেখানে সুখী হওয়ার ভ্রান্ত পরিকল্পনা না করতে।

* * *

জয়পতাকা স্বামী: আমরা সত্য লোকের জীবনযাপন সম্পর্কে শুনেছি। সেটি হল এই জড়জগতের সর্বোচ্চ লোক। সেখানে কোন দুঃখ নাই। কখনো কখনো, কেউ অধঃপতিত জীবদের প্রতি অনুকম্পা অনুভব করে যে সে ভক্তিমূলক সেবা সম্পর্কে কিছু জানে না। তার জন্য তারা দুঃখ পায়। এখানে, শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন আমাদের যোগ্য ব্রাহ্মণ হতে হবে। মনে পড়ছে ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের এক সন্ন্যাসী পাড়ি দিয়েছে লন্ডনে। এবং একটা লর্ড জিজ্ঞাসা করেছিল আমি ব্রাহ্মণ হতে পারি? “হ্যাঁ অবশ্যই, আপনি হতে পারবেন। আপনাকে মাংস, মাছ, ডিম বর্জন করতে হবে। এবং যে কোন প্রকার নেশা দ্রব্য গ্রহণ বন্ধ করতে হবে। এবং আপনি কোন প্রকার দ্যূতক্রীড়া করতে পারবেন না। ও কোন অবৈধ যৌন সঙ্গ নয়এটা কি জীবনতিনি বললেন আমি কিভাবে আমার জীবন ত্যাগ করতে পারি?” তাই লর্ড, তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এইভাবে, এখন সদ্‌গুরুর নির্দেশ অনুসারে জীবনযাপন করলে ভাল হওয়া যায়, একটা ব্রাহ্মণ হওয়া যায়।

আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা রাত্রে বেলায় বলছি। চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি ছিলেন এক বিশেষ অবতার। যদি আপনি কৃষ্ণ প্রেম পেতে চান, তাহলে আপনাকে কৃষ্ণের কাছে তা ভিক্ষা চাইতে হবে। কিন্তু রাধারানী তা অবাধে বিতরণ করেন! চৈতন্য মহাপ্রভু হচ্ছেন স্বয়ং কৃষ্ণ শ্রীমতি রাধারাণীর হৃদয় নিয়ে। তিনি এই কলিযুগে অবতরণ করেছেন লোকেদের তাদের পাপময় জীবন থেকে মুক্ত করতে। তিনি এসেছেন তাদের কৃষ্ণপ্রেম দিতে। হরিবোল! এমনই এমনইভাবে যে যে অবতাররা আসেন, তারা এইভাবে কৃষ্ণপ্রেম বিলি করেনা। এবং জগাই মাধাই খুব পাপী ছিল এবং একবার তারা আশ্রয় নিয়েছে নিতাই গৌরের, তাদের ক্ষমা হয়েছে। মাধাই, তিনি নিত্যানন্দ প্রভুর কাছে যান এবং বলেন, “আমি ক্ষমাপ্রাপ্ত হতে চাইনিত্যানন্দ প্রভু বললেন, “যেমন একটি শিশু যখন তার মায়ের কোলে থাকে, তখন মাঝে মাঝে শিশুটি তার মাকে লাথি মারে, কিন্তু মা কিছু মনে করেন না। অনুরূপভাবে আমি তোমাকে আমার সন্তান মনে করি তাই আমি কোন অপরাধ নেইনি।কিন্তু মাধাই বললেন, “আমি ধাম বাসীদের প্রতি এবং বৈষ্ণবদের প্রতি অনেক অপরাধ করেছি। কিভাবে আমি এটা থেকে ক্ষমা পাবো?” ও তারপর নিত্যানন্দ প্রভু বললেন, “জ্যৈষ্ঠ মাসে, মে মাসে, তুমি একটি স্নানঘাট নির্মাণ করো এবং সকলে তোমার সেই ঘাট ব্যবহার করে স্নান করবে এবং তুমি ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে।আপনারা দেখবেন সেখানে একটি মন্দির আছে যার নাম মাধাই ঘাট মন্দির।

আমরা জানি যে নবদ্বীপ হলো ঔদার্য ধাম, কৃপা ক্ষেত্র। কিন্তু তবুও চৈতন্য মহাপ্রভু বৈষ্ণব অপরাধ সহ্য করেন না। চাপাল গোপাল শ্রীবাস ঠাকুরের প্রতি অপরাধ করেছিলেন। এবং চাপাল গোপাল তার ফলে লেপ্রসি বা কুষ্ঠ রোগ পেয়েছে। একদিন, চৈতন্য মহাপ্রভু, চাপাল গোপাল যেখানে থাকত সেখানে গিয়েছেন। চাপাল গোপাল চৈতন্যদেবের কাছে প্রণাম অফার করেছে এবং বলছে, “আপনি দয়াময়। আমাকে কৃপা করুনচৈতন্য মহাপ্রভু বললেন, “না! না! তুমি আমার ভক্তের প্রতি অপরাধ করেছ, তুমি নরকে জ্বলবে। তোমার এই অপরাধের জন্য তুমি নরকে জ্বলবে, যতক্ষণ না তুমি শ্রীবাস ঠাকুর কর্তৃক ক্ষমাপ্রাপ্ত হচ্ছ, ততক্ষণ আমি তোমাকে ক্ষমা করব না।তারপর কিছু ভক্ত শ্রীবাসের কাছে যান এবং তারা বলেন আপনার উচিত চাপাল গোপালকে ক্ষমা করে দেওয়া। আমি সব থেকে পতিত, কি করে আমার কাছে কেউ অপরাধ করতে পারে না? আমি সবার থেকে পতিতআপনি সেটা ভাবতে পারেন কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু মনে করেন আপনি হলেন ভক্ত”, “আপনি কি কাউকে আপনার কারনে কষ্ট পেতে দিতে চান?” তারা জিজ্ঞেস করলেন। শ্রীবাস ঠাকুর বললেন, “না, না, না, না, আমি তা চাইনা, আমি তা চাইনা।ভক্তরা বললেন, “ঠিক আছে, তাহলে তুমি চাপাল গোপালকে ক্ষমা করো, তা নাহলে চৈতন্যদেব তাকে ক্ষমা করবেন না। তাহলে, চাপাল গোপাল কষ্ট পেতে বাধ্য হবেন।শ্রীবাস ঠাকুর সেই নির্দিষ্ট স্থানে গেলেন যেখানে চাপাল গোপাল থাকছিলেন। এবং চাপাল গোপাল, তিনি শ্রীবাস ঠাকুরের শ্রীচরণে পতিত হন এবং বলেন, “দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমি অপরাধ করেছি।তারপর শ্রীবাস, তিনি বললেন, “যদি আপনি আমার প্রতি কোন অপরাধ করে থাকেন, তাহলে আমি প্রার্থনা করি যে সেই অপরাধের জন্য যাতে আপনাকে ক্ষমা করা হয়।যখনই তিনি তা বললেন তৎক্ষণাৎ চৈতন্য মহাপ্রভু সেখানে উপস্থিত হলেন এবং চাপাল গোপালকে আলিঙ্গন করলেন। হরিবোল! চাপাল গোপাল তার কুষ্ঠ রোগ থেকে সেরে উঠলেন। এবং তারপরে চাপাল গোপাল একটা সংকীর্তন আন্দোলনে অংশীদার ছিল। হরিবোল!

আমি এই লীলাটি সম্পর্কে চিন্তা করছিলাম। এবং এমনকি নবদ্বীপ ধাম যেটি হল ঔদার্য ধাম, সেখানেও আমাদের যেকোনো ধরনের বৈষ্ণব অপরাধ থেকে মুক্ত হওয়া উচিত। এবং তারা বলেন বৈষ্ণব অপরাধের প্রতি শূন্য সহনশীলতা। তো, আমরা শুনেছি যে কিভাবে অতীতে, হয়তো শিশুদের প্রতি কোনরকম নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল। আসলে, এটিও একটি বৈষ্ণব অপরাধ, মায়াপুরে আমাদের এটির প্রতি শূন্য সহনশীল থাকা উচিত। এখন যদি কোনো শিশু অ্যাবিউস হয় তাহলে একটা কেস করতে হবে। এই অভিযোগ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পুলিশের কাছে করতে হবে। যদি কতৃপক্ষ তা না করেন, তাহলে তাদেরকে জেলে যেতে হবে ছয় মাসের জন্য। মায়াপুর ধামে আমরা হলাম এক নাম্বার সংকীর্তন, বড় মন্দিরের ক্ষেত্রে কিন্তু আমাদের অপরাধের ক্ষেত্রে শূন্য হতে হবে। এখন, অত্যাচারের ক্ষেত্রে কি আইন আছে তা আমি জানিনা কিন্তু যাই হোক গৃহে অত্যাচারের বিষয়ে আমাদের শূন্য সহনশীল হতে হবে। যখন আমরা দীক্ষা গ্রহণ করি, আমরা চারটি নিয়মনীতি পালন করার প্রতিজ্ঞা করি। সেটা আমি ভক্তি বৈভব পরীক্ষার জন্য পঞ্চম স্কন্ধ ভাগবত পড়ছিলাম, ২৬ নম্বর অধ্যায়ে নরকের বর্ণনা আছে — ২৮টি নরক। অবশ্য, এটি বলা হয়েছে যে সেখানে লক্ষ ধরনের নরক আছে। কিছু স্থপতি আছে যারা পাপি, তারা যমরাজের দ্বারা বিশেষ নরকের নকশা নির্মাণে নিয়োজিত! একটি নরক যেটা সেই সমস্ত ব্যক্তির জন্য যারা নির্বিচারে যৌনজীবনে লিপ্ত হয় তাদের জন্য। যেমন শিমুল গাছের কাঁটা, যা বজ্রের মতো শক্তিশালী। এবং সেই নরকে আপনাকে গাছের মধ্যে দিয়ে টেনে নিয়ে টুকরো টুকরো করে ফেলা হবে। এবং সাধারন অবৈধ যৌন সঙ্গের জন্য — একজন মহিলাকে একটি লাল গরম লোহার পুরুষকে আলিঙ্গন করতে হবে ও একইভাবে একজন পুরুষকে একটি লাল গরম লোহার মহিলাকে আলিঙ্গন করতে হবে এবং তারা জ্বলে যাবে। কেউ যদি অপরের স্ত্রী পুত্র বিভিন্নভাবে দখল করে তাহলে তারা তামিস্র নামক নরকে যায় এবং যমদূতদের দ্বারা নির্যাতিত হয়। আর যদি তারা এগুলি কোন প্রতারণার উদ্দেশ্যে করে তাহলে তারা অন্ধতামিস্র নামক নরকে যাবে। সেখানে তাদের এত অত্যাচার করা হয় যে তারা অন্ধ হয়ে যায়। তারা তাদের বুদ্ধি হারিয়ে ফেলে ও অত্যাচারিত হয়। অতএব, আপনারা শ্রীমদ্ভাগবতমে এই সব নরক সম্পর্কে পড়তে পারেন, তবে চারটি নিয়মনীতি পালন করার মাধ্যমে আপনি এই সমস্ত নরক থেকে মুক্তি পেতে পারেন:

তামিস্র, অন্ধতামিস্র, রৌরব, মহারৌরব, কুম্ভীপাক, কালসুত্র, অসিপত্রবন, সূকরমুখ, অন্ধকূপ, কৃমিভোজন, সন্দংশ, তপ্তসূর্মি, বজ্রকন্টক-শাল্মলী, বৈতরণী, পূয়োদ, প্রাণরোধ, বিশসন, লালাভক্ষ, সারমেয়াদন, অবীচি, অয়ঃপন, ক্ষারকর্দম, রক্ষোগণ-ভোজন, শূলপ্রোত, দন্দশূক, অবটনিরোধন, পর্যাবর্তন এবং সূচিমুখ। [শ্রীমদ্ভাগবতম ৫.২৬.৭]

এই সব জায়গাগুলো কি আমাদের দেখতে হবে? দেখতে হবে না। যদি আপনারা ৪টে নিয়ম পালন করেন তাহলে আপনাদের এই সব স্থানগুলো দেখতে হবে না। এবং স্বামী এবং স্ত্রী, তাদের সম্পর্কটি এক ধরনের ব্রহ্মচর্য হিসেবে পরিগণিত হয়। তাই, আমি একবার উপস্থিত ছিলাম, শ্রীল প্রভুপাদের সময়ে, যখন একজন স্বামীকে ধরা হয়েছিল যে সে পতিতা স্ত্রীর কাছে যায়। শ্রীল প্রভুপাদ তাকে বলেছিলেন, “তুমি হলে একজন গৃহস্থ, কেন তুমি পতিতা স্ত্রীর কাছে যাও?” এবং সে বলেছিল যে তার স্ত্রী হল সন্তান লাভের জন্য, কিন্তু আমি তার থেকেও বেশি যৌন সঙ্গ করতে চাই, তাই আমি একজন বেশ্যার কাছে গিয়েছি। কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ বলছিলেন যে, “স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গ করলে সেটা পাপ নয় কিন্তু বেশ্যার সাথে সঙ্গ করলে পাপ আছেপঞ্চম স্কন্ধে এটা বলা হয়েছে যে স্বামী এবং স্ত্রী তাদের সম্পর্ক হল ব্রহ্মচর্যের। যদি তুমি শুদ্ধ ভক্তি লাভ করতে চাও তাহলে লক্ষ্য হওয়া উচিত যে সম্পর্ক হবে শুধুমাত্র সন্তান লাভের জন্য। কিন্তু যেকোনো ক্ষেত্রে হোক না কেন, তা পাপময় নয়। আমাদের সব রকমের অবৈধ যৌনসঙ্গ পরিত্যাগ করা উচিত, যার অর্থ হলো সেই যৌনসঙ্গ যা স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে নয়। এখন আমাদের অনেকজন ব্রহ্মচারী আছেন, তাদের শুদ্ধ ব্রহ্মচারী হতে হবে। অন্যথায় একজন বাজে ব্রহ্মচারী হওয়ার থেকে, ভালো হবে যদি তারা ভালো গৃহস্থ হতে পারে। যাই হোক, আমরা মায়াপুরকে যে কোনো ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সহনশীলতায় শূন্য বানাতে চাই।

চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি বিভিন্ন ভক্তদের কৃষ্ণ ভাবনায় উপস্থিত দেখে অত্যন্ত আনন্দ অনুভব করতেন। চৈতন্য মহাপ্রভু নির্দেশ দিয়েছিলেন রামানন্দ রায় এবং প্রদ্যুম্ন মিশ্রকে যারা ছিলেন বৈষ্ণব, প্রদ্যুম্ন মিশ্র ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ কিন্তু রামানন্দ রায় বাহ্যদৃষ্টিতে তিনি ছিলেন শূদ্র কিন্তু তিনি ছিলেন একজন শুদ্ধ ভক্ত। রামানন্দ রায়, তিনি উপদেশ দিয়েছিলেন। অনুরূপভাবে, ঠাকুর হরিদাস যিনি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং চৈতন্য মহাপ্রভু তাকে নামাচার্য বানান। সনাতন গোস্বামী, তিনি ইসলামে রূপান্তরিত হয়েছিলেন কিন্তু তারপর তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং চৈতন্য মহাপ্রভু তাকে বৈষ্ণব শাস্ত্র লিখতে আদেশ দেন। চৈতন্য মহাপ্রভু বৈষ্ণবদের জাত ব্রাহ্মণদের এবং অন্যান্যদের নির্দেশ দিতে দেখে অত্যন্ত আনন্দ পেতেন। এটি বলা হয়েছে, কখনো কখনো দিব্য ব্যক্তিত্বরা আধ্যাত্মিক জগত থেকে এ জগতে অবতরণ করেন অধঃপতিত জীবেদের কৃষ্ণভাবনামৃত শিক্ষা দেওয়ার জন্য এবং তাদের আধ্যাত্মিক জগতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমি মনে করি যে কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ ছিলেন এমন একজন। কোন প্রশ্ন আছে?

প্রশ্ন: ধন্যবাদ মহারাজ এই চমৎকার প্রবচনের জন্য। আপনি আন্তঃগ্রহ ভ্রমণ এবং নৈতিক নির্দেশাবলী সম্পর্কে বলছিলেন, এবং আমরা এখন স্বর্ণযুগে প্রবেশ করছি যেখানে আবার আন্তঃগ্রহ ভ্রমণ সম্ভব। আমাদের কাছে উর্বশী এবং অর্জুনের উদাহরণ রয়েছে ও আমাদের কাছে সূর্যনারায়ণ এবং কুন্তী, ও শান্তনু এবং গঙ্গার দৃষ্টান্ত রয়েছে। আমরা প্রতিদিন শ্রীমদ্ভাগবতমে পড়ি যেখানে এমন উদাহরণ আছে, আপনি কীভাবে এটিকে আপনার আজকের ক্লাসের সাথে সমন্বয় করবেন?

জয়পতাকা স্বামী: আসল লক্ষ্য এক গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে উড়ে যাওয়া নয়। এই শ্লোকটি আমাদের বলে যে এমনকি এই মহাবিশ্বের সর্বোচ্চ গ্রহটিও শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যাবে। সুতরাং, আমাদের আধ্যাত্মিক জগতে ভ্রমণ করা উচিত। ভগবানের কাছে ফিরে যাওয়া! কিন্তু আমরা যদি অন্য গ্রহে যাই তাহলে আমাদের সেখানে প্রচার করা উচিত। আমরা জড়জাগতিকভাবে সুখী হতে চাই না। হরে কৃষ্ণ!

প্রশ্ন: শ্রীমদ্ভাগবতমে প্রবচন দেওয়ার জন্য এবং মায়াপুর ধামকে শিশু নির্যাতন ও গৃহস্ত নির্যাতনের ক্ষেত্রে শুন্য সহণশীল এলাকা হবে বলে ঘোষণা করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। একজন গুরুকুল স্নাতক হিসাবে শ্রীমদ্ভাগবতম প্রবচনে আপনার কাছে এইরকম কথা শ্রবণ করা আমাদের প্রজন্মের কাছে অনেক অর্থবহ। আমরা একটি সম্প্রদায় হিসাবে কীভাবে এই ধরনের বিষয়গুলি যে ঘটবে না তা নিশ্চিত হতে সচেতনতার বিষয়ে আরও ভাল হতে পারি। আমরা জননেতা নই কিন্তু আমরা কিভাবে এইগুলি এড়াতে সাহায্য করতে পারি?

জয়পতাকা স্বামী: আমার কিছু পরিকল্পনা আছে, কিন্তু আমরা যে কোনো পরামর্শ নিতে প্রস্তুত। আমি শুরু করতে চাই, প্রথম হল সিপিও, চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসের জন্য কিছু অর্থ সংগ্রহ করা। আমি চাই যে সিপিও শিশুদের সাথে থাকা লোকেদের সঙ্গে কথা বলুক এবং দেখুক যে সেখানে কোন নির্যাতন হয় না। তবে যদি অন্য কোন পরামর্শ থাকে তাহলে অনুগ্রহ করে বলুন। বলা এক বিষয়, আর একটি নির্যাতন মুক্ত সম্প্রদায় তৈরী করা আরেক বিষয়, কিন্তু আমরা তা অর্জন করতে চাই, তাহলে তা কিভাবে করা যেতে পারে? ধন্যবাদ।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী (20 DEC 2022)
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions