Text Size

20221203 শ্রীমদ্ভাগবতম 2.2.20

3 Dec 2022|Duration: 05:59:33|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়

শ্রীমদ্ভাগবতম ২.২.২০

নাভ্যাং স্থিতং হৃদ্যধিরোপ্য তস্মা —
দুদানগত্যোরসি তং নয়েন্মুনিঃ ।
ততোঽনুসন্ধায় ধিয়া মনস্বী
স্বতালুমূলং শনকৈর্ণয়েত।।

অনুবাদ:- ধ্যানপরায়ণ ভক্ত নাভি থেকে প্রাণবায়ুকে হৃদয়েঃ তারপর সেখান থেকে কণ্ঠের অধোদেশস্থিত বিশুদ্ধ চক্রে নিয়ে যাবেন। তারপর জিতচিত্ত মুনি বুদ্ধির দ্বারা অনুসরণ করে তাকে ধীরে ধীরে তালুমূলে নিয়ে যাবেন।

শ্রীল প্রভুপাদ কর্তৃক তাৎপর্য:- প্রাণবায়ুর গতির ছ'টি চক্র রয়েছে, এবং বুদ্ধিমান ভক্তিযোগীর বুদ্ধির দ্বারা ধ্যানস্থ চিতে সেই স্থানগুলির অনুসন্ধান করা উচিত। পূর্বোল্লিখিত চক্রগুলি হচ্ছে স্বধিষ্ঠান-চক্র, বা প্রাণ বায়ুর উৎস স্থল এবং তার উধের্ব নাভিমূলে রয়েছে মণিপূরক-চক্র। ক্রমে ক্রমে হৃদয়ের যে স্থানকে অনুসন্ধান করে খুঁজে বের করা হয়, তাকে বলা হয় অনাহত-চত্র। তারও উধর্ব তালুমূলে যখন তা স্থাপন করা হয়, তাকে বলে বিশুদ্ধি-চক্র।

* * *

জয়পতাকা স্বামী:- যেহেতু অন্যান্য সহ পরিচালকেরা বক্তব্য রেখেছেন, শ্রীপাদ হৃদয় চৈতন্য, আপনি কি কিছু বলতে চান?

আজকে হচ্ছে ভগবদ্‌গীতা জয়ন্তী দিন। এই তিথিতে ৫০০০ বছর আগে ওরকমই, ভগবদ্‌গীতা শ্রীকৃষ্ণ কুরুক্ষেত্রে উচ্চারণ করেছিলেন। ভগবদ্‌গীতা পাঁচ হাজার বছর আগে উপযুক্ত ছিল এখনো উপযুক্ত আছে। যে তত্ত্ব আছে, সেই তত্ব হচ্ছে নিত্য। ভগবদ্‌গীতার ষষ্ঠ অধ্যায়, যোগ করার পদ্ধতি বর্ণিত আছে। আজকের ক্লাসটি শ্রীমদ্ভাগতামের যোগ পদ্ধতির থেকে পাঠ করা হয়েছে। কিন্তু অর্জুন বলছিলেন, এটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, এইভাবে অষ্টাঙ্গ যোগ করা। তারপর কৃষ্ণ বললেন, ঠিক আছে, আপনি ইতিমধ্যেই ভক্তিযোগ অনুশীল করছেন, যা হল সর্বশ্রেষ্ঠ যোগ।

যোগিনামপি সর্বেষাং মদগতেনান্তরাত্মনা।
শ্রদ্ধাবান্ ভজতে যো মাং স মে যুক্ততমো মতঃ।।
[গীতা ৬.৪৭]

আমার মনে হয় যে, যারা ভক্তিযোগ অনুশীলন করছে, এটি হলো সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা। তাই, এইভাবে ভক্তিযোগ করার জন্য আপনারা সবাই উপস্থিত আছেন। এখন যারা ভক্তিযোগ পালন করে, তাদের নিয়ে কৃষ্ণ বলছেন ওঁনার কাছে ফিরে যাবেন। কালকে আমি বিবাহযজ্ঞ অনুষ্ঠান যোগদান করছিলাম। আমি পাঁচ-ছয় মিনিট ছিলাম, কিছু বলছিলাম। কিন্তু আমার ধারণা হলো যে, ভগবদ্‌গীতা বলছে যে যে ধর্মে আমরা আছি সেটা পালন করা উচিত। তাই ব্রহ্মচারী, সন্ন্যাসী (একধরনের সন্ন্যাসীর নাম হল ত্রিদণ্ডি-ভিক্ষু)। আমরা ভিক্ষা করার জন্য অনুমোদিত। আমি যখন ভক্তি বৈভবের জন্য অধ্যয়ন করছিলাম তখন আমি দেখলাম, নরকে সেখানে কিছু বিশেষ নরক আছে, যেগুলি বিশেষভাবে সেই সমস্ত গৃহস্থদের জন্য যারা তাদের ধর্ম অনুশীলন করে না। তাই ব্রহ্মচারী, সন্ন্যাসী তাদের বিশেষ নিয়ম আছে। কিন্তু এটা নাই যে গৃহস্থ কোন নিয়ম নেই, তাদের অনেক নিয়ম আছে। যদি গৃহস্থ নিয়ম পালন না করে, কোন এমার্জেন্সি নাহলে একটা নরক তাদের জন্য আছে কৃমিভোজন। ওয়া! সেইখানে ৮ লক্ষ মাইল একটা সরোবর থাকে এবং তারা কৃমি রূপে জন্ম পায়। ওখানে এক কৃমি আরেক কৃমির কাছে এইভাবে কৃমি ভোজন হয়ে থাকতে হবে, হয়ে সরোবরের মধ্যে যতসব আছে। সে যদি গৃহস্থ ধর্ম পালন না করে। এইভাবে বিভিন্ন নরক আছে। যদি একজন খায়, তার পরিবার যে বৃদ্ধ, বালক, স্ত্রীলোক আছে যারা না খায়, সে খাচ্ছে, তার জন্য একটা নরক আছে। তো এইভাবে গৃহস্থদের অতিথিদের ভোজন করাতে হয়। কিন্তু সেই অতিথি যদি চোখ দিয়া হিংসা করে, চোখ দিয়ে, দৃষ্টি দিয়া মনে হচ্ছে মরে যাবে। এর ফলস্বরূপ, এই সমস্ত ব্যক্তিদের জন্য একটি বিশেষ নরক আছে। এক রকম পাখি হং করে গিয়া চোখটা খুলে নেবে। তাই গৃহস্ত হওয়া মানে হলো, সেখানে অনেক বড় দায়িত্বভার আছে। কিন্তু সে যদি এই গীতা, ভাগবত, হরিনাম করে, তাহলে এই সমস্ত নরক দেখতে হয় না। এবং সাধারণত ভক্তরা প্রসাদ বিতরণ করতে চান। এইভাবে, আমরা বুঝতে পারছি যারা ভক্ত নয়, তাদের অনেক বিপদ আছে। তাই আপনি তাদেরকে ভগবদ্‌গীতা দেওয়ার মাধ্যমে, সংকীর্তন যজ্ঞে অংশগ্রহণ করানোর মাধ্যমে সাহায্য করতে পারেন। কৃষ্ণ ভগবদ্‌গীতাতে বলেছেন যে যদি আপনি সর্ব ধর্ম পরিত্যাগ করেন এবং শুধু তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেন, তাহলে তিনি আপনাকে সমস্ত রকম পাপ কর্মের ফল থেকে রক্ষা করবেন।

সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ।
অহং ত্বাং সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ।।
[গীতা ১৮.৬৬]

প্রভুপাদ বলেছেন যে এটি হলো ভগবদ্‌গীতার মূল শিক্ষা। তিনি অষ্টাদশ অধ্যায়ে পরবর্তীতে বলেছেন যে যিনি ভগবদ্‌গীতা লোকেদের কাছে প্রচার করেন তারা তাঁর কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয়। এইভাবে এখানে ইস্‌কনের ভক্ত, নামহট্ট ভক্ত, ভগবদ্‌গীতা, ভক্ত এরা সবথেকে কৃষ্ণ প্রিয় কার্য করছে এবং এই গীতা বাণী প্রচার করে।

প্রত্যেক ভগবদ্‌গীতা অধ্যায়ে এক মাহাত্ম্য আছে। এবং প্রথম স্কন্দে একটি কাহানি আছে যে একটি বৃষ ছিল, তার প্রভু তার ওপর অধিক বোঝা চাপায়। সেই বৃষকে জল দেওয়া হতনা। তাই সে মূর্ছিত হয়ে পড়ে যায় এবং তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। এই অবস্থা দেখে এক মহিলা অর্ধেক তার যে সুকর্ম ছিল দান করেছে। তখন সে যখন মরে গেছে পরে জন্ম নিয়েছে ব্রাহ্মণ পুরুষ। তিনি কোনভাবে জানতেন যে সেই মহিলা তাকে তার অর্ধেক সুকর্ম দিয়েছিলেন। তাই তারপর তিনি তার বাড়িতে গেলেন এবং দরজায় ঠোকা দিলেন। তিনি দরজা খুললেন এবং দেখলেন এই ৯ বছর বয়সী বালক দাঁড়িয়ে আছে তাই তিনি বললেন, “হ্যাঁ?” বালক বলছে, “ আমাকে নিশ্চয়ই চেনো না, কিন্তু আমি সেই বুলক তুমি যার অর্ধেক তোমার সুকর্ম দান করেছো, আমি সেই বুলক ছিলাম। তাই আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাই।” “আসুন, আসুন।তিনি বললেন, “সাধারণত মানুষেরা তাদের সুকর্ম দান করে না, তাহলে কেন আপনি আপনার সুকর্ম আমাকে দান করেছিলেন? আপনি কি ভেবে করেছিলেন? আপনার এত সুকর্ম আছে নাকি? কোথা থেকে আসছে?” তখন মহিলা বললেন, “আমি প্রতিদিন প্রথম অধ্যায় ভগবদ্‌গীতা পড়ি। তাই এইজন্য আমার অনেক পূর্ণ কর্ম আছে।তাই ভগবদ্‌গীতা অধ্যয়ন করলে তা সুকৃতি প্রদান করে এবং এছাড়াও কৃষ্ণভক্তি প্রদান করে। কৃষ্ণভক্তি হল অমূল্য। ভগবদ্‌গীতা অধ্যয়নে কৃষ্ণভক্তি পাওয়া যায়, এটা সাধারনত পাওয়া যায় না। তাই ভগবদ্‌গীতা অধ্যয়ন করা এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ কাজকর্ম করা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে, কেউ শুদ্ধ ভক্তি লাভ করতে পারে।

আজকে হলো সেই দিন যেদিন ভগবদ্‌গীতা বলা হয়েছিল। তাই বলে আমরা ভগবদ্‌গীতা বিশেষ পূজা করি। আসলে ভগবদ্‌গীতা কৃষ্ণের থেকে ভিন্ন নয় কারণ এটি কৃষ্ণ কর্তৃক কথিত হয়েছে। এইভাবে, প্রতিদিন গীতা অধ্যয়ন করলে, আমি কালকে ভক্তি শাস্ত্রী সার্টিফিকেট দিয়েছি, অনেক ভক্ত পেয়েছে। আমি কৃতজ্ঞ যে এইভাবে ভগবদ্‌গীতা শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। প্রভুপাদের ভগবদ্‌গীতা সরাসরি উপদেশ দেওয়া হচ্ছে সেটা আশা করি সবাই ভগবদ্‌গীতা যথাযথ সংগ্রহ করবে। শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর প্রবচনে, বেশিরভাগ ভগবদ্‌গীতার শ্লোক উদ্ধৃতি করতেন। তাই আমি আশা করি যে আমাদের কাছে ভগবদ্‌গীতার অনেক পন্ডিত থাকবে। কোন প্রশ্ন আছে কি?

প্রেমঞ্জন দাস:- সাধারণত গীতা জয়ন্তী একাদশী তিথিতে পড়ে, কিন্তু এই বছর আমরা দেখি যে এটা দশমীর দিন পড়েছে, এর পিছনে কি কোন কারণ আছে? আমি তা জানতে আগ্রহী।

জয়পতাকা স্বামী:- আমি চিন্তা করছিলাম যে সাধারণত একাদশীর দিনে আমরা শ্রীল প্রভুপাদের প্রবচন শুনি। এই বছর, গীতা জয়ন্তী, হয়তো দশমীতে, যাতে আমি প্রবচন দিতে পারি! কিন্তু আমিও বিশেষভাবে এর উত্তর জানি না কেন। আমরা জানি যে একাদশীর দিনে গীতা কথিত হয়েছিল। আমি জানিনা, জ্যোতিষীরা, জ্যোতির্বিদরা বলতে পারবেন কেন এটা আজকের দিনে হয়েছে।

কেশবি দেবি দাসী:- হরে কৃষ্ণ গুরু মহারাজ। গতকাল আমরা জাপানি ভক্তদের জন্য ভক্তি শাস্ত্রী সার্টিফিকেট বিতরণের অনুষ্ঠান উদযাপন করব। তাই দয়া করে যারা জাপানে ভক্তি শাস্ত্রী কোর্সটি করছেন তাদেরকে আপনার আশীর্বাদ দিন। আরেকটি বিষয় হলো শেষ বার আপনি বলেছিলেন যে যারা পড়তে পারেনা আপনি তাদের জন্যও ভক্তিশাস্ত্রী করার সুযোগ প্রদান করতে চান। আমার প্রশ্ন হল, সেখানে একজন ভক্ত আছেন যিনি হলেন বধির তিনি শুনতে এবং বলতে পারেন না। তিনিও আপনার শিষ্য। কিন্তু তিনি পড়তে পারেন। যদি এটি আপনাকে প্রসন্ন করে, তাহলে ভক্তিশাস্ত্রী করার জন্য তাকে কি সুযোগ প্রদান করা যেতে পারে? তিনি ভক্তিশাস্ত্রী ডিগ্রী অর্জন করতে চান। কিন্তু শ্লোক পরীক্ষা কিভাবে করা যেতে পারে? যদি আপনি কিছু পরামর্শ দেন।

জয়পতাকা স্বামী:- অবশ্যই। এটি প্রধানত বোর্ড পরীক্ষার পরিষদের ওপর নির্ভর করে। তবে আমার মনে হয় যদি তিনি শ্লোকগুলি লিখতে পারেন তাহলে সেটা ঠিক আছে। এবং এছাড়াও আপনি পরীক্ষা পর্ষদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারেন এই ক্ষেত্রে কি করনীয়।

ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী আমাকে শীঘ্রই সমাপ্ত করতে বলছিলেন কারণ কিছু মানুষেরা চৈতন্য চরিতামৃত পেতে চান।

ব্রজ বিলাস দাস:- মহারাজ এই চমত্কার প্রবচনের জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। এখানে যে সমস্ত ভক্তরা সম্মিলিত হয়েছেন তাদের মধ্যে যারা ভগবদ্‌গীতা আনতে ভুলে গেছেন এবং যারা ভগবদ্‌গীতা এনেছেন তাদের পক্ষ থেকে আমার একটি প্রশ্ন আছে। আমার প্রশ্ন হল — আজকের দিনে সংকীর্তন বিভাগ থেকে একটি ভগবদ্‌গীতা সংগ্রহ করা এবং এখানে পড়া এই বিষয়টি কত মঙ্গলজনক? আমাদের শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি বিজয় ভাগবত মহারাজ এবং গৌরধাম প্রভু এখানে ভগবদ্‌গীতা বিতরণ করার জন্য প্রস্তুত আছেন। আমি আপনার থেকে শুনতে চাই, আপনার কি অভিমত।

জয়পতাকা স্বামী:- ভগবদ্‌গীতা, গীতা জয়ন্তির দিন ভগবদ্‌গীতা সংগ্রহ করা হল অত্যন্ত, অত্যন্ত শুভ।

গীতার স্টাডি কোর্স এবং গীতার জ্ঞান বিভিন্ন স্থানে প্রচার করার জন্য আমরা লক্ষী গোবিন্দকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। শ্রীল প্রভুপাদ ভগবদ্‌গীতাকে বাংলা কবিতার মতো করে গীতার গান হিসেবে লিখেছিলেন। যখন আপনারা এখানে আহুতি পড়বেন, তখন কেউ একজন মন্দিরে গীতার গান গাইতে পারেন। ঠিক যেমন হিন্দিতে তারা রামচরিত মানস গায়, বাংলাতে তারা গীতার গান গাইতে পারেন। হরি বোল!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 12/JAN/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions