Text Size

২০২২০৩২৬ সান্ধ্যকালীন কৃষ্ণ কথা

26 Mar 2022|Duration: 03:15:04|Bengali|Evening Darśana|New Jersey, USA

 মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

জয়পতাকা স্বামী:- এখানে অনেক ভক্তরা আছে! এখানে হয়ত কোন বাঙালি ভক্তও আছে! এছাড়াও আমাদের দক্ষিণ আমেরিকার ভক্তরা আছে। আমি ইংরেজিতে বলব এবং আশা করি আমার বলা কথা বোধগম্য হবে। যেহেতু আমার অর্ধেক মুখ প্যারালাইজ, তাই কেউ একজন তা পুনরাবৃত্তি করবে। 

আমরা শ্রীমদ্ভাগবতমের পঞ্চম স্কন্ধ পঞ্চম অধ্যায়ে পড়ছিলাম যে কিভাবে ঋষভ দেব তাঁর শত পুত্রকে নির্দেশ দিচ্ছিলেন এবং তাদেরকে বলেছিলেন যে এই মনুষ্য দেহ তপস্যা করার জন্য। এমনকি পশু জীবনেও কষ্ট আছে কিন্তু মানুষেরা তপস্যা করে, সেটি তাদের কষ্ট। তবে পানিহাটি ধামে শ্রীল প্রভুপাদ লোচন দাস ঠাকুরের একটি ভজন গেয়েছিলেন:

পরম করুণ পহুঁ দুই জন
নিতাই গৌরচন্দ্র ।
সব অবতার- সার শিরোমণি
কেবল আনন্দ কন্দ ॥

ঋষভ দেব সত্য যুগের সময়কার ছিলেন এবং সেই সময় মানুষেরা অনেক তপস্যা করতেন। ঋষভ দেবের পিতা-মাতাও শ্রীকৃষ্ণের অবতারকে তাদের সন্তানরূপে পাওয়ার জন্য যজ্ঞ এবং তপস্যা করেছিলেন। কিন্তু আমরা এখানে কলি যুগে আছি, যেখানে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আমাদেরকেকেবল আনন্দ কন্দসরল আনন্দময় পন্থা প্রদান করেছেন! 

কেউ একজন বলল যে সে ছুটিতে গিয়েছিল।

সে বলল, “আমি নেচেছি, আমি গান গেয়েছি, আমি মহাভোজ খেয়েছি

ওহ আপনি তো দারুন সময় কাটিয়েছেন!

এটাই তো আমাদের আত্ম উপলব্ধির পন্থা — কীর্তন করা, নৃত্য করা, মহাপ্রসাদ পাওয়া! অবশ্য আমরা চারটি বিষয় এড়িয়ে চলি — অবৈধ সঙ্গ, দূত ক্রীড়া, আমিষ আহার (মাছ, ডিম) এবং নেশা করা। কলিযুগে এইসব জিনিস খুবই স্বাভাবিক এবং চৈতন্য মহাপ্রভুকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে এই কলিযুগে কি সমস্যা আছে? তিনি বলেছিলেন যে আমাদের অসৎ সঙ্গ পরিত্যাগ করতে হবে। দুই ধরনের অসৎ সঙ্গ আছে —  স্ত্রী-স্বীকারীর সঙ্গ (অসৎ চরিত্র ব্যক্তি) এবং অভক্ত সঙ্গ। একসময় দুবাইতে একজন মহিলা জিজ্ঞেস করেছিলেন যে মনে হচ্ছে শাস্ত্রে অনেকবার মহিলাদের বিরুদ্ধে কথা বলা আছে। তাই আমি বর্ণনা করছিলাম যে এটি স্ত্রী-স্বীকারী ব্যক্তিদের জন্য এবং স্ত্রীরা যারা বিবাহিত হয়, তাদের সন্তান আছে আর পুরুষেরা পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয়। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে স্ত্রী তার স্বামীকে কৃষ্ণভাবনাময় হতে সাহায্য করে। 

আমি দেখেছি চেন্নাইতে আমাদের প্রায় ১২০টি ভক্তিবৃক্ষ দল আছে এবং কিছু শিশুরা একটি নাটক করেছিল। একজন মেয়ে যমরাজের অভিনয় করেছিল, সে একটি মোচ লাগিয়েছিল এবং একটি ছেলে ও মেয়ে যমদূতের অভিনয় করেছিল, আর যমদূতরা অভিযোগ করছিল, “ওহ! প্রত্যেক ঘরে তাদের শ্রীমদ্ভাগবত রয়েছে, তারা হরে কৃষ্ণ জপ করে, তাদের জগন্নাথ দেব ও অন্যান্য শ্রীবিগ্রহ আছে। আমরা তাদেরকে নরকে নিয়ে যেতে পারছি না। আমরা কি করব? আমাদের কোন কাজ নেই! আমাদের একটা নতুন কাজ পেতে হবে।এইভাবে এটা একটা খুব ভালো নাটক হয়েছিল, আমি এত আনন্দিত ছিলাম এই দেখে যে আমরা চাই সকল পুরুষ ও মহিলারা যাতে কৃষ্ণভাবনাময় হয়, কৃষ্ণের সেবা করে, কৃষ্ণের পূজা করে, হরে কৃষ্ণ জপ করে, আমাদের ভজনগুলি কীর্তন করে ও আরো অন্যান্য অনেক কিছু। এখানে আমরা অনেক মহিলা ও পুরুষদের দেখছি যে তারা শ্রীবিগ্রহ অর্চন করছে ও আমরা চাই যাতে তারা তা করতে থাকে, তাহলে যমদূতদের আর কোন কাজ থাকবে না। অবশ্য অনেক অভক্তরা আছে এবং আমরা তাদের জন্য দুঃখ অনুভব করি, পর-দুঃখ-দুঃখী। আমরা আশা করি যে তারাও ভক্ত হবে, তাই তোমরা অন্যান্যদের ভক্ত হতে উৎসাহিত করার প্রয়াস করতে পার, যাতে তারা হরে কৃষ্ণ জপ করে, তাদের গৃহে কৃষ্ণ পূজা করে এবং প্রত্যেক গৃহকে মন্দির করে তোলে; এইভাবে সমগ্র বিশ্ব শুদ্ধ হবে।  

প্রত্যেক অবতারের একটি নির্দিষ্ট ভাব থাকে। নরসিংহ দেব একটু ক্রোধভাবের, কারণ প্রহ্লাদ মহারাজকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। বরাহ দেব পৃথিবীকে বাঁচাতে এসেছিলেন, যা কক্ষপথ থেকে নিচে পতিত হয়েছিল। মানুষেরা চিন্তাগ্রস্ত থাকে যে কখন এই পৃথিবী ধ্বংস হবে, অবশ্য তারা মনে করে যে এটিই একটি বিশ্ব, কিন্তু প্রত্যেক গ্রহেই জীব আছে। কিন্তু হয়ত এই বিষয়ে আমরা যা জানি, তা সেই একইভাবে হয় না। প্রত্যেক অবতারের একটি বিশেষ ভাব থাকে এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর ভাব হচ্ছে কৃপা, তিনি প্রত্যেককে কৃপা প্রদান করতে চান, তাই তিনি এই যে কৃপা দিচ্ছেন, আমাদের তার সুযোগ গ্রহণ করা উচিত এবং এইভাবে খুব সহজেই আমাদের জীবন সার্থক হবে।

আমি প্রায় দুই বছর মায়াপুরে ছিলাম। আমাকে চেন্নাইতে ডাক্তার দেখাতে যেতে হত। আমি একজন ভারতীয় নাগরিক। আমার সবুজ কার্ডের মেয়াদ দুদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে, তাই আমি এখানে এসেছি। আমি ভাবলাম আমার সরাসরি জেএফকে (নিউইয়র্ক বিমানবন্দর) থেকে এখানে আসা সরাসরি উচিত, কিন্তু মহাবরাহ দাস আমাকে রাজি করাল যে এখানে কানাডা, হস্টন, ফিলাডালফিয়া ইত্যাদি বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক ভক্তরা  আসবে, তাই আমার এখানে কিছু সময় কাটানো উচিত। এখানে কত ভক্তরা এসেছে, তাই নিশ্চিতরূপে এটি একটি ভালো পরিকল্পনা। মধুপতিপ্রভু আমাকে এখানে নিমন্ত্রণ করেছিলেন, অবশ্য আমি হংসস্বরূপ প্রভুর থেকেও নিমন্ত্রণ পেয়েছিলাম, তা আমি কিছু পরে পূর্ণ করার চেষ্টা করব। তাই এটি এক দীর্ঘ বিমান যাত্রা দুবাই থেকে নিউইয়র্ক এবং সাধারণত বিমান ভ্রমণের অসুস্থতা আমার হত না, কারণ আমি সর্বদা দুই-চার ধাপ এগিয়ে থাকতাম। যেহেতু আমি মহামারীর কারণে দুবছর ধরে একই স্থানে ছিলাম, তাই এখন আর আমি এই জেট-ল্যাগে (বিমান ভ্রমণের অসুস্থতা) অভ্যস্ত নই। 

আমি চৈতন্য লীলা অনুবাদ করছিলাম। আমি কৃষ্ণ বইয়ের মত চৈতন্য লীলার নয়-দশটি বইয়ের ব্যাখ্যা সংকলিত করে চৈতন্য গ্রন্থ করছি। আমরা পড়ছি যে কিভাবে মহাপ্রভু বৃন্দাবন থেকে ফিরে আসছেন জগন্নাথ পুরীর উদ্দেশ্যে, তাঁর কিছু লীলা সত্যিই অসাধারণ! যেমন যখন চাঁদ কাজী মৃদঙ্গ ভেঙে দিয়েছিল এবং চৈতন্য মহাপ্রভু ভক্তদের বলেছিলেন যে আমরা একটি আইন অমান্য মিছিল করব। তাতে চারটি দল ছিল, একটিতে অদ্বৈত গোঁসাই নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, একটিতে ছিলেন হরিদাস ঠাকুর, আরেকটিতে শ্রীবাস ঠাকুর এবং অন্যটিতে মহাপ্রভু তার দুই পাশে নিত্যানন্দ প্রভু এবং গদাধর পণ্ডিতকে নিয়ে ছিলেন। এত অসাধারণ ছিল যে লক্ষ লক্ষ মানুষেরা বেরিয়ে এসেছিলেন। যেমন শ্রীকৃষ্ণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ করেছিলেন, তেমনই চৈতন্য মহাপ্রভু এই লীলা করেছিলেন। সকল মানুষেরা বেরিয়ে এসে এই সব ভক্তদের সাথে কীর্তন করতে থাকেন। সেই কীর্তন এত উচ্চ স্বরে হচ্ছিল, যে তা সমগ্র বিশ্বে শোনা যাচ্ছিল, এমনকি বৈকুন্ঠ লোকে পর্যন্ত শোনা যাচ্ছিল। ইন্দ্র দেব, বায়ু দেব তারা নিন্মে নেমে এসেছিলেন, তারা পরম পুরুষোত্তম ভগবানকে এইরকম মহাভাবে বিভোর হয়ে নৃত্য করতে দেখে মূর্ছিত হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন, তারা হতবাক হয়ে পড়েছিলেন। তারা যখন নিজেদের চেতনা ফিরে পান, তখন তারা মনুষ্য শরীর নিয়ে সেই কীর্তনে যুক্ত হয়েছিলেন। এবং নবদ্বীপ শহরের সর্বত্র সেই বিভিন্ন দল কীর্তন করেছিলেন ও সব মানুষেরা একত্রিত হয়েছিলেন। স্বর্গলোক থেকে অপ্সরাগণ ফুল ছুড়ছিল। এমনকি কিছু নাস্তিকরা এসব দেখছিল, তারা যখন দেখল যে চৈতন্য মহাপ্রভু কীর্তন করছেন, তখন তারাও সম্পূর্ণ অভিভূত হয়ে হরিবোল কীর্তন করতে করতে নৃত্য করতে শুরু করে দেয়, আর কেউ কেউ মাটিতে গড়াগড়ি দিতে থাকে। এই কীর্তন এত অসাধারণ ছিল যে এটি ব্রহ্মার এক রাত সময় ধরে চলেছিল, এটি চলতেই থাকছিল। তারপর চাঁদ কাজী সেই কীর্তন শুনতে পেরে বললেন, “কি হচ্ছে? হিন্দুদের বিবাহ হচ্ছে নাকি?” তিনি তার সৈনিকদের তাদেরকে চুপ করাতে আদেশ দিলেন। সৈনিকরা এসে দেখল যে সেখানে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষেরা একত্রিত হয়েছে, সেই দদেখে তারা তাদের পাগড়ী বের করে নেয় ও হরিবোল কীর্তন করতে শুরু করে, কারণ তারা চাইছিল না যে কেউ তাদের ধরে ফেলুক। অবশ্য তারপর আলোচনা হয়েছিল, সেটি চৈতন্য-চরিতামৃতে আছে, আপনারা তা জানেন।

এমন বিভিন্ন লীলা আছে এবং এই ঘটনা ঘটার আগে চৈতন্য মহাপ্রভু শ্রীবাস ঠাকুরের গৃহে কীর্তন করছিলেন এবং যখন এটি হয়েছিল, তখন প্রত্যেকে চৈতন্য মহাপ্রভুকে দর্শন করে এত আনন্দিত হয়েছিলেন যে তারা ওঁনার আনন্দপূর্ন কীর্তন দেখে অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি যখন সন্ন্যাস গ্রহণের পর জগন্নাথপুরীতে গেলেন, তখনও তিনি মন্দিরের চারিদিকে কীর্তন করতেন। উনি বলেছিলেন যে তিনি দক্ষিণ ভারতে তাঁর ভাইকে খুঁজতে যেতে চান, সেখানে তিনি এত ভাবে বিভোর ছিলেন যে তিনি যখন কাউকে রাস্তায় দেখতেন, তখন তাকে আলিঙ্গন করতেন এবং সে কৃষ্ণ প্রেমে পূর্ণ হত। এইভাবে যাই হোক, আমাদের এখানে মুম্বাইতে ও বিভিন্ন মন্দিরে নিতাই গৌর, গৌর নিতাই আছে, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষেরা রাধা শ্যামসুন্দর ও অন্যান্য শ্রীবিগ্রহের সামনে ভিড় করে। কিন্তু নিতাই গৌরের কৃপা আপনার আগে দরকার, তাহলে তারপর আপনি রাধাশ্যাম, কৃষ্ণ বলরাম জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রার কৃপা পেতে পারবেন। 

এই মনুষ্য জীবন লাভ করে আমাদের এই জড় জগতে থাকার কথা নয়, মনুষ্য জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়া, আমরা দেখি রাশিয়া ইউক্রেনকে আক্রমণ করছে, তারা সবকিছু ধ্বংস করছে এবং এই জড় জগতে প্রত্যেক পদক্ষেপে বিপদ আছে, কিন্তু আমরা যদি চৈতন্য মহাপ্রভুকে স্মরণ করি, তাহলে সবকিছু অত্যন্ত সরলভাবে হবে আর আমরা যদি চৈতন্য মহাপ্রভুকে ভুলে যাই, তাহলে খুব সহজ জিনিসও কঠিন হয়ে যাবে। তাই আমরা আশা করি যে প্রত্যেকে চৈতন্য মহাপ্রভু, নিত্যানন্দ প্রভুর কৃপা গ্রহন করবে এবং তারপর তারা রাধাকৃষ্ণ, জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা সুদর্শন চক্রের কৃপা প্রাপ্ত হবে। হরে কৃষ্ণ! গৌরাঙ্গ!

কোন প্রশ্ন আছে কি? কেউ একজন আমাকে বলেছিল যে আপনি কি চান? তিনি বলেছিলেন, “আমি শুধু আপনাকে দেখতে চাইছিলাম!দেখুন একজন সাধুকে কর্ণ দ্বারা দর্শন করা যায়, তাই আপনাদের কি প্রশ্ন আছে

প্রশ্ন:- হরে কৃষ্ণ মহারাজ, কৃপা করে আমার বিনম্র প্রণাম গ্রহণ করুন। শ্রীল প্রভুপাদের জয় হোক! আমার প্রশ্নটি অনুপ্রেরণার সাথে সম্পর্কিত। কুড়ি বছর আগে আমি যখন প্রথমবার আপনাকে গীতা নগরীতে দর্শন করেছিলাম, তখন আপনার বপু দেখে আমি অত্যন্ত আকর্ষিত হয়েছিলাম, আপনি একটি গেরুয়া পাগড়ি পড়েছিলেন আর আপনার গলায় অনেক মালা ছিল এবং সেখানে কীর্তন অনুষ্ঠান চলছিল।  কিন্তু মহারাজ এখন আপনাকে দেখা আরো অনুপ্রেরণাদায়ক কারণ আমরা আপনার সমর্পণ দেখছি এবং এত কিছু সত্বেও আপনি সেবা করছেন। মহারাজ এটি অভূতপূর্ব এবং আমার একমাত্র আসা হচ্ছে আপনি যদি আমাদেরকে কোন নির্দেশ দেন যে কিভাবে আমরাও আপনার ক্ষুদ্রাংশ পরিমাণ সমর্পণের ভাব বিকশিত করতে পারব যে আমাদের জীবনে যাই আসুক না কেন, উত্থান-পতন থাকা সত্ত্বেও আমরা নিজেদের সাধনায়, ভক্ত সঙ্গ করার ক্ষেত্রে ও শ্রীল প্রভুপাদের সেবায় স্থির থাকতে পারব? আপনি যদি কৃপা করে কিছু বলেন মহারাজ।  

জয়পতাকা স্বামী:- আমি শুধু স্মরণ করি যে কিভাবে শ্রীল প্রভুপাদ অনেক কঠিনতা সত্ত্বেও আমাদেরকে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রদান করার জন্য পাশ্চাত্যে গিয়েছিলেন। আমি তাঁর প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ অনুভব করি, আমার যত দিন শ্বাস আছে, আমি শ্রীল প্রভুপাদের সেবা করতে চাই। 

প্রশ্ন:- প্রভুপাদের গ্রন্থ পড়ার ক্ষেত্রে সবথেকে ভালো মনোভাব কি এবং আমরা কিভাবে তা আমাদের সাধনার নৃত্য কর্মের একটি অংশ মনে না করে, নিজেদের পরিবর্তনের জন্য অধ্যয়ন করতে পারব?

জয়পতাকা স্বামী:- এই সুন্দর প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। দেখো পদ্ম পুরাণ ও বিভিন্ন পুরাণে শ্রীমদ্ভাগবতের মহিমা বর্ণিত আছে। শ্রীমদ্ভাগবতমে সকল ভক্তিমূলক সেবা সম্পর্কে বর্ণিত আছে, বিভিন্ন অবতার ও ভক্তদের সম্পর্কে আছে। আর এটি পড়ার মাধ্যমে, অধ্যয়ন করার মাধ্যমে কেউ কৃষ্ণের সাথে অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। তাই এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা যাতে তা অধ্যায়ন করি, এমনকি আমরা আমাদের এই আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়েও দেখেছি যে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে যদি তার মহিলা বা পুরুষ শিষ্যরা শ্রীমদ্ভাগবতম সম্পূর্ণ অধ্যয়ন করত, চৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা পড়ত, তাহলে পূর্ব শর্ত অনুসারে তারা ভক্তিবেদান্ত ডিগ্রি পেত এবং এর মাধ্যমে তারা দীক্ষা প্রদানের জন্য বিবেচিত হত। তাই শ্রীমদ্ভাগবত অতি অতি পবিত্রকারি এবং অবশ্য তা এত পবিত্র করে যে তা ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। যেমন কৃষ্ণ এবং কৃষ্ণ নামের মধ্যে কোন ভিন্নতা নেই, তেমনই কৃষ্ণ সম্পর্কে বর্ণিত গ্রন্থ কৃষ্ণের থেকে অভিন্ন, তাই কৃষ্ণের গ্রন্থাবতার থাকার বিষয়টি আমাদেরকে অত্যন্ত গম্ভীরতার সাথে নিতে হবে এবং এইভাবে আমরা কৃষ্ণের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারব। 

প্রশ্ন:- দয়া করে আমাকে ক্ষমা করুন যদি এটি বিতর্কিত প্রশ্ন হয়। কিন্তু আমার মনে হয় এই প্রশ্নের উত্তর কেবল আপনি দিতে পারেন, এখন আমরা কর্পোরেট জগতে এক্স গুগল, এক্স ফেসবুক এই সমস্ত কোম্পানি দেখি।  আমরা দেখি যে মানুষেরা নিজেদেরকে এক্স ইসকন ভক্ত বলে দাবি করছে এবং অনেক  ঘৃণা পূর্ণ ও নেতিবাচক কথোপকথন বলছে। আমরা এটিকে কিভাবে বুঝব? এই বিষয়ে দয়া করে কিছু বলুন। 

জয়পতাকা স্বামী:- চৈতন্য মহাপ্রভু শিক্ষাষ্টকমের তৃতীয় শ্লোকে বলেছেন যে আমাদের গাছের থেকেও অধিক সহনশীল হওয়া উচিত, আমাদের ঘাসের থেকেও অধিক বিনয়ী হওয়া উচিত। আমাদের অন্যদেরকে সম্মান দেওয়া উচিত ও নিজেদের জন্য কোন সম্মান আশা করা উচিত নয়। মানুষেরা ঘৃণামূলক কথা ছড়িয়ে দিচ্ছে, তারা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং কোন বৈষ্ণবের নিন্দা করা তাদের ভক্তি জীবনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন যদি কেউ এমনকি জগাই মাধাইয়ের আত্মসমর্পণ করার পর তাদের নিন্দা করে, তাহলে সেই ব্যক্তি উদ্ধার প্রাপ্ত হবে না। আমরা দেখি যে কিভাবে নিত্যানন্দ প্রভুর মাথায় মদ্য পাত্র দ্বারা আঘাত করা হয়েছিল তার ফলে তাঁর রক্ত বের হয়ে গিয়েছিল, তিনি বলেছিলেন যে, “তুমি আমার রক্তক্ষরণ করেছ বলে কি আমি তোমাকে প্রশ্ন প্রেম দেব না?” তাই আমাদেরকে প্রেম দিয়ে ঘৃণার উত্তর দেওয়া উচিত। 

প্রশ্ন:- কিভাবে কৃষ্ণভাবনায় থাকা যাবে যেহেতু আমার স্বামী আমাকে ভক্তিমূলক সেবায় সমর্থন করে না, আমাকে মালা জপ করতে অনুমতি দেয় না। মহারাজ দয়া করে আমাকে এবং আমার স্বামীকে আশীর্বাদ করুনযাতে সে একজন ভক্ত হতে পারে। 

জয়পতাকা স্বামী:- বর্নাশ্রম ধর্মের ক্ষেত্রে স্বামীকে কৃষ্ণভাবনাময় হতে হবে তার স্ত্রীকে পথপ্রদর্শন করার জন্য, কিন্তু যাইহোক এই কলি যুগে কখনও কখনও স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের তুলনায় কৃষ্ণভাবনাময়। শ্রীল  প্রভুপাদ লস এঞ্জেলসে একটি মহিলাকে বলেছিলেন যে তুমি যদি তোমার স্বামীকে কৃষ্ণভাবনায় আনতে পার, তাহলে তুমি তার গুরু হবে। এমনকি যদিও সাধারণ এটি বর্ণাশ্রম পন্থায় নেই কিন্তু তুমি তার গুরু হবে। অবশ্য তুমি জানো যে নারীরা তাদের মেয়েলী ধূর্ততা ব্যবহার করে পারে যে কিভাবে স্বামীকে কৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত করা যায়। আমি একজন স্ত্রী কে জানি, সে তার স্বামীর কাছে গিয়ে বলত, “স্বামী আমি এই ভগবদ্গীতা বুঝতে পারছি না, আর তুমি আমার স্বামী, তুমি আমাকে এটি বলতে পার।এইভাবে সে ভগবদ্গীতা পড়ত ও এর ফলে শুদ্ধ হয়েছিল। যদি কোন মহিলা মৃত্যুর সময় পুরুষকে মনে করে, তাহলে সেই স্ত্রী পুরুষ হিসেবে জন্ম নেবে এবং যদি কোন পুরুষ মৃত্যুর সময় তার স্ত্রীকে মনে করে, তাহলে সে স্ত্রী হিসেবে জন্ম নেবে। যদি কোন নারী মৃত্যুর সময় কৃষ্ণকে মনে করে, তাহলে নারায়ন (অতশয়ী) — সে ভগবদ্ধামে ফিরে যাবে।

ঠিক আছে!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 30/8/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions