মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী:- আজকে আমি গৌর পূর্ণিমার দিন কথা বলছি। মায়াপুরে আমাদের তিনটি ক্লাস আছে। একটি লীলার ওপর, একটি তত্ত্বের ওপর এবং একটি সাধারণ প্রবচন। তাই, আমি কিছুটা লীলা বলবো এবং কিছুটা সাধারণ বিষয় সম্পর্কে বলব।
চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি পূর্ণচন্দ্র দিবসে আবির্ভূত হয়েছিলেন। সেই সময় ছিল চন্দ্রগ্রহণ। সব মানুষেরা গঙ্গায় জপ করছিলেন। কারণ সেই সময়... ধারণা ছিল জপ করতে কাউকে শুদ্ধ হতে হত। এবং যেহেতু তারা সকলে গঙ্গায় ছিলেন, সেই চন্দ্রগ্রহণের সময়, তখন তারা নিজেদেরকে পরিশুদ্ধ মনে করছিলেন। এরপর তারা জপ করতে শুরু করেন, “হরিবোল, হরে কৃষ্ণ!” এবং এমনকি মুসলিমরা, তারা তাদের নকল করছিল, “দেখো তারা কিভাবে জপ করছে হরিবোল! হরেকৃষ্ণ!” [হাসি!] কিন্তু কোন না কোনভাবে প্রত্যেকে জপ করছিলেন।
চৈতন্য মহাপ্রভু আবির্ভূত হলেন এবং তাঁর আবির্ভাবে সময় সকলে পবিত্র নাম জপ করছিলেন। তো ভাগী মহারাজ গঙ্গাকে নিন্মে নিয়ে আসেন, এই কারণে তিনি ভাগীরথী নামে পরিচিত। জাহ্নু মুনি তাকে পান করে ফেলেন এবং পুনরায় তার জানু থেকে তাঁকে পুনরুৎপাদিত করেন। কিন্তু তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব স্থানে থেমে যান এবং ভাগি মহারাজ তিনি বুঝতে পারছিলেন না কেন তিনি এখানে থেমে গেছেন। এবং তিনি ধ্যানস্ত হয়েছিলেন ও প্রার্থনা করছিলেন, বোঝার চেষ্টা করছিলেন কেন গঙ্গা থেমে গেছেন। তারপর তিনি প্রকাশ করেন যে, “এটি হলো গঙ্গা নগর, এই সেই স্থান যেখানে চৈতন্য মহাপ্রভু গৌর পূর্ণিমার দিনে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাই, যেই এই স্থানে গৌর পূর্ণিমার দিন স্নান করবে সেই কৃষ্ণ প্রেম প্রাপ্ত হবে। তাই আমি গৌর পূর্ণিমা পর্যন্ত এখানে অপেক্ষা করতে চাই, শুধু কিছুদিন বাকি।”
তাই, এই কারণে আজকে, গৌর পূর্ণিমার দিনে, গঙ্গায় স্নান করা অত্যন্ত বিশেষ। অবশ্য, হিন্দুরা আজকের দিনটি হলি হিসেবে উদযাপন করে। তাই, বিকেলে আপনি এই চত্বরের বাইরে গেলে, তা সাধারণত নিরাপদ কিন্তু বিকেলের আগে আপনি গেলে রঙ্গিন হয়ে যাবেন! তাই আজকে, বিকেলে সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে, চন্দ্র উদিত হওয়ার আগে, আমরা চেষ্টা করি গঙ্গায় স্নান করার। এই কারণে আমরা বিকেল থেকে চন্দ্র উদিত হওয়া পর্যন্ত সেই সময়ে অভিষেক করি।
অতএব, চৈতন্য মহাপ্রভু এসেছিলেন সংকীর্তন আন্দোলনের প্রসার করতে। এবং এই কলিযুগে একজন, তিনি গৃহস্থ হতে পারেন, তিনি বৈরাগী হতে পারেন তবে তাদের সকলের হরে কৃষ্ণ জপ কীর্তন করা উচিত। এবং এই জপ করার মাধ্যমে, কৃষ্ণ তাঁর পবিত্র নামরূপে উপস্থিত এবং আমরা পরিশুদ্ধ হই। তাই, এই দিনটি হরে কৃষ্ণ জপ করার জন্য এবং ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত থাকার জন্য অত্যন্ত বিশেষ। চৈতন্য মহাপ্রভু শিক্ষা দিয়েছেন, “গৃহে থাকো বনে থাকো সদা হরি বলে ডাকো।” এবং তিনি বলেছেন, তাঁর জীবনের প্রথম ২৪ বছর তিনি ছিলেন গৃহস্ত এবং পরের ২৪ বছর তিনি ছিলেন সন্ন্যাসী। শান্তিপুরে, তিনি গৃহস্থ ভক্তদের উপদেশ দিয়েছিলেন নবদ্বীপে ফিরে যেতে এবং অবিরতভাবে পবিত্র নাম কীর্তন করতে।
তাই, এই ছিল তাঁর বিশেষ কৃপা এবং তাঁর বিশেষ বার্তা। আমরা চাই ভক্তরা চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপার এই সুযোগ গ্রহণ করুন এবং সব সময় হরে কৃষ্ণ জপ করুন। এখন যখন চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি বৃন্দাবনের লীলা সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন, তিনি শত গুণ আনন্দে বিভোর হয়ে যেতেন। তারপর যখন তিনি মথুরায় যান, তখন যেন তা ছিল হাজার গুণ বেশি এবং যখন তিনি বৃন্দাবনে যান তখন তা ছিল যেন একশত হাজারগুণ বেশি। তাই, সেই সময় চৈতন্য মহাপ্রভুর সচিব ভাবলেন, “তিনি সম্পূর্ণরূপে অনিয়ন্ত্রিত এবং কখনো কখনো তিনি হয়ত যমুনায় ঝাঁপ দেবেন এবং যদি আমি সেখানে উপস্থিত না থাকি তাহলে কে তাঁকে বের করে আনবে?” তাই, এরপর তিনি বৃন্দাবন ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কারণ তিনি জানেন না চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর মহাভাবে কি করে ফেলবেন।
তাই, চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি রূপ গোস্বামী এবং সনাতন গোস্বামীকে শিক্ষা দেন তারপর তিনি বেনারসে মায়াবাদী সন্ন্যাসীদের শিক্ষা দেন, বেদের আসল উদ্দেশ্য, বেদ হল নারায়ণের শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে আগত এবং তাই বেদ যথাযথ। তাই তিনি তাদেরকে উপদেশ দিচ্ছিলেন শরীরক ভাষ্যের মতো এর ব্যাখ্যা করার কোন দরকার নেই, তারা বেদ যথাযথভাবে গ্রহণ করতে পারে। তিনি তাদের বললেন যে, “তাঁর গুরু তাঁকে বলেছেন হরে কৃষ্ণ জপ করতে।” অবশেষে সকল মায়াবাদী সন্ন্যাসীরা বৈষ্ণবে রূপান্তরিত হন।
আজ হল অত্যন্ত বিশেষ দিন এবং চৈতন্য মহাপ্রভু আধ্যাত্মিক জগত থেকে আবির্ভূত হয়েছিলেন তাই তিনি সেই কৃপা বিতরণ করেছেন যা ভগবান কৃষ্ণ এত সহজে প্রদান করেন না। কৃষ্ণের কৃপা প্রাপ্ত হতে একজনকে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করতে হয়। কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি কে যোগ্য এবং কে অযোগ্য সেই বিচার বিবেচনা না করেই তাঁর কৃপা প্রদান করেন এবং নিত্যানন্দ প্রভু তিনি ও চৈতন্য মহাপ্রভুর হয়ে কৃপা প্রদান করেন। আমি আশা করি যে, প্রত্যেকে চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা প্রাপ্ত হবেন। আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর মহিমা প্রকাশে বৈদিক তারামণ্ডলী (TOVP) নির্মাণ করছি, শ্রীল প্রভুপাদের বাসনা পূরণ করার জন্য। হরে কৃষ্ণ!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ