মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎ কৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রীচৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: মাধবেন্দ্রপুরী রেমুনায় গিয়েছিলেন ও সেখানে ভগবানের ভোগ দেখে তিনি চিন্তা করছিলেন—“আমিও এইরকম ভোগ নিবেদন করতে চাই!” তখন তিনি এসে দেখলেন শ্রীবিগ্রহ সেখানে নেই। তিনি ভাবলেন, ‘আমি এটা কি করলাম? আমি প্রসাদের উপর লোভ করলাম?’ কিন্তু আসলে তা ছিল শুদ্ধ ভক্তি। সেই রাত্রে আরেকটি ঘটনা ঘটে—গোপিনাথজির শ্রীবিগ্রহ পূজারীকে জাগিয়ে তোলেন ও বলেন, “আমি এক পাত্র ক্ষীর লুকিয়ে রেখেছি।” তখন পূজারী স্নান শেষে সেখানে গিয়ে দেখেন, সত্যি ভগবানের বস্ত্রের পিছনে এক পাত্র ক্ষীর আছে। এরপর তিনি বাজারে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন—“মাধবেন্দ্রপুরি কে? মাধবেন্দ্রপুরি তখন জপ করছিলেন ও খুবই মানসিক বেদনা অনুভব করছিলেন।” তিনি বললেন, “আমি মাধবীন্দ্রপুরী।” তখন পূজারী বললেন, “আপনি হচ্ছেন সমগ্র বিশ্বের সবথেকে সৌভাগ্যবান ব্যক্তি। আপনার জন্য গোপীনাথ ক্ষীর চুরি করেছেন।” হরিবোল!! সেই সময় থেকে তিনি ক্ষীর-চোড়া গোপীনাথ নামে পরিচিত।
মাধবেন্দ্রপুরি সেই ক্ষীর গ্রহণ করলেন ও তিনি জানতেন যে এই কথা সর্বত্র ছড়িয়ে যাবে আর লোকেরা এসে তার চরণ স্পর্শ করবে ও আরো বিভিন্ন কিছু ঘটবে, তাই তিনি সেই স্থান ছেড়ে চলে যান। তিনি জগন্নাথপুরী যান ও সেখানে রাজার কাছে তাঁকে কিছু চন্দন কাষ্ঠ দেওয়ার আবেদন করেন, যাতে তিনি সেই চন্দন দ্বারা তাঁর শ্রীনাথজি শ্রীবিগ্রহের শ্রীঅঙ্গ আবৃত করতে পারেন। চন্দন কাষ্ঠ খুবই দামি, এবং এরপর তিনি বাংলা, বেনারস, প্রয়াগে আসতেন যে সম্বন্ধে চৈতন্য-ভাগবতে বিস্তারিতভাবে বলা আছে। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু শুল্ক আধারকারীদের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি সন্ন্যাসী হিসেবে বিনাশুল্কে চলে যেতে, কিন্তু অন্যান্য সবাইকে আটকে দেওয়া হতো ও তাঁদেরকে বলা হতো—“কর দিন।” আপনাদের কর দিতেই হবে। তারা তাদেরকে আটক করতেন, “আমরা তো তার সঙ্গে আছি!” এই হচ্ছে শুল্ক আদায়কারী লোকেরা, তাহলে মুসলমান, চোর ও অন্যান্য বিষয় সম্বন্ধে আর কি বলার আছে? তবে তিনি(মাধবেন্দ্রপুরী) দৃঢ় মনস্থ ছিলেন যে তিনি এইসব চন্দন ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। কিন্তু তিনি রেমুনায় একটি স্বপ্ন দেখতে পান যে, গোবর্ধনরূপে শ্রীবিগ্রহ তাঁর নিকট প্রকাশিত হয়ে বললেন—“গোপীনাথের এই স্বরূপ আমার থেকে অভিন্ন, তাই তুমি যদি তাকে চন্দন দ্বারা মালিশ করো, তাহলে গোপীনাথ তা গ্রহণ করবেন।”
আজকে আমরা শান্তিপুরে ৪০-৫০,০০০ মানুষের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করেছি। চৈতন্য মহাপ্রভু যখন বৃন্দাবন থেকে ফিরে এসেছিলেন, তখন তিনি আবার শান্তিপুরে এসেছিলেন এবং সেই সময়টি ছিল গোবিন্দ দ্বাদশী মহোৎসব, যা হচ্ছে শ্রীল মাধবেন্দ্রপুরীপাদের তিরোভাব তিথি এবং অদ্বৈত গোঁসাই সেই উপলক্ষে এক প্রীতিভোজের আয়োজন করেছিলেন। তিনি কুটির ধরে ভোগের হিসাব করেছিলেন। ১০ কুটির এই পদ, ১০কুটির ওই পদ। তা দেখে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছিলেন—“অদ্বৈত গোঁসাই কোন সাধারণ ব্যক্তি নন। কোন সাধারণ মানুষের পক্ষে এমন অসাধারণ ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেছিলেন, “যে ব্যক্তি আজকের দিনে এই স্থানে প্রসাদ গ্রহণ করবে, তিনি গোবিন্দ ভক্তি লাভ করবে।” পূর্ববর্তী সেবায়েত শান্তি সখা গোস্বামী আমাকে শ্রীল প্রভুপাদের একটি চিঠি দেখিয়েছিলেন, তিনি বলছিলেন, “ইসকনের এই মহোৎসব উদযাপন করা উচিত। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আর কোথায় এমন বলেছেন যে কেবল প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে আপনি কৃষ্ণপ্রেম প্রাপ্ত হবেন।” হরিবোল! তখন থেকে আমরা এই মহোৎসব উদযাপন করে আসছি। সব ভক্তরা এসে প্রসাদ বিতরণে সাহায্য করেন। কিছু কিছু ভক্ত খিচুড়ি, চাটনি ও বিভিন্ন পদ রন্ধন করেন। আজ হচ্ছে এক বিশেষ দিন। মাধবেন্দ্রপুরী কি জয়! আমি ভাবলাম আমি এটা বলব। শ্রীল লোচন দাস ঠাকুর যে ভজনটি কীর্তন করেছিলেন, তা শ্রীল প্রভুপাদ আটলান্টার নিউ পানিহাটি ধামেও কীর্তন করেছিলেন। সেখানে তাদের সিংহাসনের মাঝে নিতাই গৌরের শ্রীবীগ্রহ আছে। সাধারণত নিতাই গৌর সিংহাসনের ডানদিকে বা বাঁদিকে থাকেন, কিন্তু সেখানে তাঁরা সিংহাসনের মধ্যবর্তী স্থানে বিরাজমান। তিনি বলেছিলেন, “তোমরা খুবই সৌভাগ্যবান কারণ নিতাই গৌর এখানে আছেন।” হরিবোল! ‘পরম করুণা’ এক অসাধারণ ভজন। আপনাদেরকে ধন্যবাদ।
Lecture Suggetions
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address