১৯৯১০১০৮ শ্রীমদ্ভাগবতম্ ১.১.৯
নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী ৮ জানুয়ারি, ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ, মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়াতে প্রদান করেছিলেন। এই প্রবচনটি শুরু হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতের ১ম স্কন্ধ, ১ম অধ্যায়, ৯ নং শ্লোক পাঠের মাধ্যমে।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১.৯
তত্র তত্রাঞ্জসায়ুষ্মন্ ভবতা যদ্বিনিশ্চিতম্।
পুংসামেকান্তত শ্রেয়স্তন্নঃ শংসিতুমরহসি।।
অনুবাদ- হে আয়ুষ্মান্! আপনি জনসাধারণের পরম মঙ্গল কিভাবে সাধিত হয়, তা সহজবোধ্যভাবে আমাদের কাছে শোনান।
তাৎপর্য- ভগবদ্গীতায় আচার্য উপাসনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আচার্য ও গোস্বামীরা সর্বদাই জনসাধারণের মঙ্গল চিন্তায় মগ্ন থাকেন, বিশেষ করে তাদের পরমার্থিক মঙ্গলের জন্য। পারমার্থিক মঙ্গল সাধিত হলে পার্থিক হিত আপনা থেকেই সাধিত হয়ে যায়। তাই আচার্যরা জনসাধারণের পরমার্থিক মঙ্গলের নির্দেশ দিয়ে থাকেন। কলিযুগের মানুষদের অধঃপতিত অবস্থা দর্শন করে ঋষিরা সূত গোস্বামীকে অনুরোধ করেছিলেন সমস্ত শাস্ত্রের সারমর্ম প্রদান করতে, কেন না এই কলিযুগের মানুষরা সম্পুর্ণভাবে অধঃপতিত। তাই ঋষিরা জনসাধারণের হিত-সাধনের জন্য পরম মঙ্গল সম্মন্ধে প্রশ্ন করেছিলেন। কলিযুগের মানুষের অধঃপতিত অবস্থা পরবর্তী কয়েকটি শ্লোকে বর্ণনা করা হয়েছে।
***
জয়পতাকা স্বামী:- নৈমিষারণ্যের ঋষিরা সূত গোস্বামীকে আশীর্বাদ দিচ্ছিলেন, এক দীর্ঘ রাত্রি ছিল, তারা ১০০০ বছর ধরে ভাগবত কথা বলতে চেয়েছিলেন। তারা ১০০০ বছরের যজ্ঞ করতে চেয়েছিলেন কেবল নৈমিষারণ্যে ভাগবত শ্রবণ করে যাওয়ার জন্য, কারণ নৈমিষারণ্যে যেকোনো পারমার্থিক কার্য করা হলে তা সমগ্র বিশ্বকে শুদ্ধ করার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। পুরানে এটি বলা আছে যে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এক ধরনের সূক্ষ্ম কেন্দ্র আছে যা নৈমিষারণ্যে অবস্থিত। সেখানে কোন দিব্য কার্যক্রম করা হলে তা মনুষ্য এবং বিশ্ববাসীর আশুরিক ভাব কমিয়ে দিয়ে, তাদের দিব্য ঐশ্বরিক ভাব বৃদ্ধি করে।
এখানে সূত গোস্বামীকেও পূজা করা হচ্ছে, প্রভুপাদ ভগবদগীতায় লিখেছেন যে আচার্যের পূজা হচ্ছে অনুমোদিত। আচার্য এবং গোস্বামীরা সবসময় জনসাধারণের কল্যাণের বিষয়ে চিন্তিত থাকেন, বিশেষত তাদের পারমার্থিক কল্যাণ বিষয়ে। আচার্য মানে তাঁরা, যাঁরা হচ্ছেন শাস্ত্রের প্রধান অংশ এবং যাঁরা তা বোধগম্যভাবে তাঁর অনুসারীদের কাছে বা শ্রোতাদের কাছে ব্যাখ্যা করেন। যাঁরা শাস্ত্রের শিক্ষা কি তা অনুশীলন করেন এবং যিনি নিজে দৃষ্টান্তস্বরূপ শিক্ষা দেন ও যিনি মানুষের সন্দেহ দূরীভূত করতে পারেন। আচার্য — যিনি জানেন, অনুশীলন করেন এবং ব্যাখ্যা করেন। তিনটি বিষয়: জানা, ব্যাখ্যা করা এবং অনুশীলন করা। যে জানে, ব্যাখ্যা করে, কিন্তু অনুশীলন করে না, তা কার্যকর হয় না। কেউ যদি না জানে, তাহলে সে তা ব্যাখ্যা করতে পারবে না। এই তিনটি বিষয় থাকলে, তাহলে সেই ব্যক্তিকে বলা হয় আচার্য। অবশ্য আচার্যের দুই ধরনের অর্থ আছে। এটি হচ্ছে এক সাধারণ অর্থ। এছাড়াও, আচার্য মানে সেই ব্যক্তি যিনি পুরো সম্প্রদায়ের হয়ে কর্তৃত্বমূলকভাবে কার্য করেন। ইনি হচ্ছে তিনি, যাকে আমরা বলি সম্প্রদায় আচার্য। আগে একজন বা অধিক সম্প্রদায় আচার্য হত। এই সময় ইসকনে আমাদের এইরকম কোন সম্প্রদায় আচার্য নেই, কারণ কেউ যদি আচার্য হন, তাহলে তার মানে তিনি শাস্ত্রের তাৎপর্য বুঝতে সক্ষম, তা ব্যাখ্যা করতে পারেন এবং তা অনুশীলন করেন। এইভাবে ভক্তদের জন্য তিনি এক পাবক অনুপ্রেরণা যা [০০:০৬:৫৪] এবং এমন নয় যে এই ব্যক্তি সমগ্র সম্প্রদায়ের জন্য পরম কর্তৃত্ব হবেন।
যে কোন ক্ষেত্রেই গোস্বামী এবং আচার্য গোস্বামী, গো মানে ইন্দ্রিয়, স্বামী মানে নিয়ন্ত্রক। তিনি হচ্ছেন ইন্দ্রিয়ের নিয়ন্ত্রক। গোস্বামীর বিপরীত হচ্ছে গো দাস, ইন্দ্রিয়ের দাস। আমরা আমাদের ইন্দ্রিয় কৃষ্ণভাবনামৃতে নিযুক্ত করি, এইটাই হচ্ছে গোস্বামী হওয়ার পন্থা। ভারতে অনেক তথাকথিত গোস্বামী আছে। আসলে জীবনে গোস্বামী না, তাদের অনেক শিষ্যবর্গ আছে, তাদের মধ্যে এক শিষ্য হচ্ছে গৃহস্থ। আর যারা গৃহস্থ শিষ্যবর্গ, স্বাভাবিকভাবেই তাদের সন্তান থাকে, এবং তাদের সন্তানদের গোস্বামী বলে, কারণ তারা হচ্ছে গোস্বামীর শিষ্যগণ। এইভাবে উত্তরাধিকার সূত্রে গোস্বামীদের অস্তিত্ব হয়। প্রকৃত গোস্বামীর হওয়া উচিত এমন কেউ, যিনি তার ইন্দ্রিয়কে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রিত করে রাখেন। এটা কোন বংশগত ব্যাপার নয়, এখন আমাদের তথাকথিত গোস্বামীরা আছেন, যারা আসলে কোনভাবেই কোন ধরনের নিয়ম বা নিষেধাজ্ঞা পালন করে না। প্রভুপাদ বলেছিলেন যে এটা এখন বেশ একটা সামাজিক চল হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি আপনি এক মহান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সেই নির্বিশেষে, কিন্তু যতক্ষণ না তারা অনুশীলন করছে, ততক্ষণ তারা পূজার যোগ্য নয়। সব বৈদিক শাস্ত্রে পূজাকে অনুমোদিত করা হয়েছে, যা এখানে শ্রীল প্রভুপাদের দ্বারা প্রতিপাদিত হয়েছে। এটা হচ্ছে ভক্তদের কাছে তাদের ভক্তি প্রকাশ করার এক সুযোগ। ঠিক যেমন আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা করি, যা আমাদেরকে একটি মাধ্যম করে দেয় যার মাধ্যমে আমরা আমাদের ভক্তি, আমাদের প্রেম প্রকাশ করতে পারি, আমাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারি ও ভগবানকে সেবা করতে পারি। একইভাবে, এইরকম পূজা শাস্ত্রে আচার্যের জন্য বা আধ্যাত্মিক গুরুর জন্য অনুমোদিত হয়েছে। একটি বৈদিক বিবৃতি আছে “আচার্যপাসনং” — আধ্যাত্মিক গুরুদেবের উপাসনা।
অবশ্য, একবার শ্রীল প্রভুপাদ প্রায় হয়ত ১ বছর বা ৮ মাস পরে বস্টন আমেরিকায় আসছিলেন। ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে তখন তিনি অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন এবং ভারতে গিয়েছিলেন। ১৯৬৯-এর শেষের দিকে তিনি ফিরে আসেন এবং আপনারা ভাবতে পারছেন যে ভক্তরা কত আনন্দিত ছিল যে শ্রীল প্রভুপাদ ফিরে আসছেন। আমরা সবাই কীর্তন করছিলাম, আমরা জানতাম না তিনি তাঁর অসুস্থতা থেকে সুস্থ হবেন কিনা। যখন তিনি বিমানবন্দরে পৌঁছান, তখন কেউ একজন শুল্ক বিভাগে তাকিয়ে দেখে এবং বলে যে তিনি ভিতরে আছেন।
প্রত্যেকে কীর্তন করছিল —
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে
সবাই কীর্তন করছিল এবং অপেক্ষা করছিল। তাদের এক ধরনের বেড়া বা বিচ্ছিন্ন রাখার জন্য ঘের দেওয়া ছিল এবং সেই গণ্ডির উপর দিয়ে আপনারা শুল্ক বিভাগের ভিতরের মানুষদের দেখতে পারবেন। তখন হঠাৎ করে তারা শ্রীল প্রভুপাদের হাত এবং তাঁর জপ মালা দেখতে পায়। তারা আরও উর্দ্ধভাগে যায়, যখন ভক্তরা তা দেখেন, তারা বলে “হরিবোল! শ্রীল প্রভুপাদ কি জয়!” তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে, উপর-নিচ করে লাফাতে থাকে এবং একজন ভক্ত এত আনন্দে বিভোর হয়ে লাফাচ্ছিল যে অন্য কোন ভক্ত তার মাথায় করতাল দিয়ে আঘাত দিলেও, সে এমন কি তা জানতও না, সেই ভক্ত শ্রীল প্রভুপাদের হাত দেখে এতই আনন্দে পরিপূর্ণ হয়েছিল যে সে উপর-নিচ লাফাচ্ছিল, আর তার মাথা থেকে রক্ত পড়ছিল। তখন এক সংবাদ পত্রিকা, তারা সেই ছবি তোলে এবং তারা বলেছে “হরে কৃষ্ণ উপর-নীচ লাফাচ্ছে, তার শরীর কাঁপছে, চোখ দিয়ে জল পড়ছে এবং মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছে।” [ভক্তরা হাসছেন] সেই সংবাদ পত্রিকার তারা দেখতে পারছিল যে সে এইসব ভাব প্রকাশ করছে। [ভক্তরা হাসছেন] তারা তার দ্বারা খুবই প্রভাবিত হয়েছিল।
এরপর অবশেষে শ্রীল প্রভুপাদ শুল্ক বিভাগ থেকে বের হয়ে আসেন এবং প্রত্যেকে, ভক্তরা সকলে হঠাৎ খুব জোরে কীর্তন করতে থাকে, সবাই মাটিতে পরে তাদের প্রণাম জানায়। হঠাৎ টেলিভিশন, খবরের কাগজ, সাধারণ জনতা তারা সেখানে দাঁড়িয়ে প্রভুপাদকে দেখতে থাকে এবং এই জন সমুদ্র সবাই বিমানবন্দরে প্রণাম জানাচ্ছে আর তারা তা দেখছে যে এটা কি হচ্ছে! তারপর প্রভুপাদ বসলেন, তিনি তার ব্যাস আসনে বসেন এবং তারা প্রত্যেক ভক্ত মালা এনেছিলেন। সেখানে নিশ্চয়ই একশত মালা ছিল এবং তারা প্রভুপাদকে মালা দিচ্ছিল। এতে তাঁর চোখ পর্যন্ত মালা ভরে গিয়েছিল, তারপর তিনি সেগুলি খুলে ফেলেন, তারপর আবার মালা পরানো হয়, মালা পরানো হয়, তারপর তিনি তা খুলে দেন। প্রত্যেকে একটা করে মালা নিবেদন করেছে, এইভাবে বিমানবন্দরেই প্রতিষ্ঠাতা আচার্যের পূজা হচ্ছিল। এখানকার মানুষেরা তারা কখনও এমনটা আশা করেনি, তারা জানে না এই সব কিছু সম্পর্কে কি ভাববে। হয়ত তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে এটা এক সাধারণ মানুষের পূজা করা। আমি বলছিনা যে আমরা একজন প্রতিনিধি বা পরমেশ্বর ভগবানের, পারমার্থিক বিশ্বের একজন গুরুর পূজা করছিলাম।
যাইহোক এইসব অভ্যর্থনা বা স্বাগত অনুষ্ঠানের পর টেলিভিশন [০০:১২:৪১] অনুগ্রহ করুন! আমরা সাক্ষাতকার করতে চাই।” তারা এগিয়ে আসে এবং সাক্ষাৎকার করে। প্রভুপাদ বলেছিলেন যে এখানে তারা পূজা করছে, শ্রদ্ধা জানাচ্ছে, আধ্যাত্মিক গুরুকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। গুরু হচ্ছেন ভগবানের প্রতিনিধি এবং তিনি নিজেকে পরমেশ্বর ভগবানের বিনয়ী সেবক হিসেবে ভাবেন। যাইহোক, যদি গুরু নিজেকে ভগবান মনে করে তাহলে সে ভগবান G-O-D নয়, সে হচ্ছে কুকুর D-O-G। প্রভুপাদ GOD অর্থাৎ ভগবান শব্দটি উল্টে দেন, এর বিপরীত আর এর মানে তাহলে D-O-G অর্থাৎ কুকুর। এই হচ্ছে সেই বিবরণ যা তিনি টেলিভিশনে দিয়েছিলেন। প্রত্যেকে অত্যন্ত আশ্চর্য হয়েছিল। এইভাবে, শ্রীল প্রভুপাদ, তিনি কারোর যে সন্দেহ আছে তা ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন যে আমরা এইভাবে গুরুর পূজা করছি না যে তিনি হচ্ছেন ভগবান, তিনি হচ্ছেন ভগবানের অন্তরঙ্গ এবং বিশ্বস্ত সেবক।
গুরু অষ্টকের ব্যাখ্যা —
সাক্ষদ-ধরিত্বেনা সমস্ত-শাস্ত্রৈর
উক্তস্তথা ভাব্যতা এব সদ্ভিঃ
কিন্তু প্রভোর য প্রিয়া এব তস্য
বন্দে গুরু শ্রী-চরণরবিন্দম্
সাক্ষদ-ধরিত্বেনা – তার পরমেশ্বর ভগবানের মতো গুণ আছে। ত্বেন – গুণ আছে। হয়তো মনে হতে পারে যে তিনি হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান, কিন্তু তাঁর পরমেশ্বর ভগবানের মতো গুণ আছে কারণ তিনি অন্তরঙ্গ সেবক। তিনি অন্তরঙ্গ সেবায় নিযুক্ত। সেই অন্তরঙ্গ সেবা কি? এই জড় জগৎ থেকে পতিত জীবদের উদ্ধার করা। আমরা গতকাল চৈতন্য চরিতামৃতে পড়লাম যে কিভাবে চৈতন্য মহাপ্রভুর আধ্যাত্মিক গুরু তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে তুমি নাম করো —
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
রাম রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে
[ভক্তরা পুনরাবৃত্তি করলেন]
এবং তুমি হরিনাম সংকীর্তন প্রক্রিয়ার মহিমা ব্যাপকভাবে মানুষের কাছে ব্যাখ্যা কর। এবং তাদেরকে উদ্ধার কর। সেখানে সেই তাৎপর্যে, সেই শ্লোকে, শ্রীল প্রভুপাদ সেই শ্লোক উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন যেখানে প্রহ্লাদ মহারাজ ব্যাখ্যা করছেন যে কিভাবে তাঁর ভগবান নরসিংহদেবের থেকে কোন ব্যক্তিগত কিছু চাওয়ার নেই, তিনি পবিত্র নাম জপ করেই সুখী কিন্তু দিকভ্রান্ত ও বিপথগামী জনতাদের জন্য কিভাবে এটা অত্যন্ত জরুরী যে তাদের যাতে উদ্ধার হয়, আর সেই ভেবে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগে আছেন। তিনি তাদেরকে উদ্ধার করতে চান ও নিজেকে বদ্ধ জীবদের উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনায় নিমগ্ন করছেন। আমরা দেখি যে শ্রীল প্রভুপাদ, তিনি সব সময় এতেই যুক্ত থাকতেন এবং বদ্ধ জীবদের উদ্ধারের জন্য পরিকল্পনা করতেন। এইসব মন্দির, তাঁর ফার্ম প্রজেক্ট, তাঁর গ্রন্থ মুদ্রণ, পবিত্র ধাম শ্রীবৃন্দাবনের উন্নতি, শ্রীধাম মায়াপুরের মাস্টার ডেভেলপমেন্ট, এগুলি হচ্ছে শ্রীল প্রভুপাদের বদ্ধ জীবদের উদ্ধার করার পরিকল্পনার মধ্যে কিছু কিছু। তাঁর নির্দেশ ছিল যে বর্ণাশ্রম পালন, গোষ্ঠীর প্রচার করা, গ্রামে প্রচার করা। তাঁর কত পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু তিনি সেইসব প্রকাশ করতে পারেননি, কারণ আমরা সব কিছু করার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। তিনি এটাও বলেছিলেন যে তিনি অর্ধেক কাজ করেছেন, অর্ধেক কাজ এখনও বাকি আছে। তাই তিনি আমাদেরকে প্রচুর অন্তরঙ্গ সেবা প্রদান করেছেন, কৃষ্ণভাবনামৃতের দ্বারা বদ্ধ জীবদের উদ্ধার করার জন্য অনেক পরিকল্পনা দিয়েছেন।
নৈমিষারণ্যে ঋষিরা বসেছিলেন এবং ভাগবত শ্রবণ করছিলেন। তারা ছিলেন গোষ্ঠীয়ানন্দী। তাদের মনোভাব ছিল সমগ্র জগত যাতে উদ্ধার পায়, সমগ্র জগতে যাতে ভক্তিমূলক সেবা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাই তাঁরা বেশিরভাগ মানুষের কাছে, বৃহৎ সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হওয়ার জন্য তা নৈমিষারণ্যে করার সিদ্ধান্ত নেন। কোন কিছু করার আগে তাঁরা তাঁদের প্রচারক আচার্য আধ্যাত্মিক গুরুদেবের থেকে তা প্রত্যাশা করছেন। যদিও প্রথম গুরুর পূজা হয়, তারপর অন্যান্য বৈষ্ণব এবং মাধব (সম্প্রদায়)এর পূর্ববর্তী কথকদের পূজা হয়। এইভাবে সবকিছু শুরু হয়। তারা চাইছিলেন যে তিনি তা ব্যাখ্যা করুন। তারা চাইছিলেন যে তিনি সব থেকে সহজ এবং নিশ্চিত পন্থার ব্যাখ্যা করুন, যা সব ব্যক্তিদের জন্য পরম সর্বোচ্চ হিতকর। কলিযুগের মানুষেরা এসবের জন্য প্রস্তুত নয়। ভাগ্যক্রমে নারদ মুনি, তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন। যখন তিনি এটি বিবেচনা করছিলেন যে কলি যুগের কার্যকলাপ কেমন ধরনের হবে, তখন তিনি এত উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন যে তিনি দ্বারকায় শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করতে যান এটি জানার জন্য যে কি হবে এবং শ্রীকৃষ্ণ তাকে বলেছিলেন যে তিনি আবার আসবেন, এই কলি যুগে তিনি তাঁর ভক্তরূপে আসবেন। তারপর তিনি প্রত্যেককে কৃষ্ণ প্রেম প্রদান করবেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। তারপর নারদ মুনি চলে যান এবং তার উদ্ধবের সাথে দেখা হয় এবং উদ্ভব এই নিয়ে অত্যন্ত চিন্তায় ছিলেন যে যখন শ্রীকৃষ্ণ এই জগত থেকে অপ্রকট হবেন, যখন কলিযুগের শুরু হবে, তখন কি হবে? এবং নারদ তাকে বললেন যে, “আমারও এই একই চিন্তা, তবে আমি কোন উদ্বিগ্নতা অনুভব করছি না যে কলিযুগ হচ্ছে সব যুগের মধ্যে সবথেকে খারাপ এবং এখন আমি দেখছি যে ভগবান স্বয়ং অবতীর্ণ হবেন ও যেই হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে জপ করবে, ভগবানের অবতারের নির্দেশ পালন করবে, তারাই খুব সহজেই কৃষ্ণ প্রেম প্রাপ্ত হবে; যা এমনকি পূর্ববর্তী যুগেও এত সহজে পাওয়া যেত না। এই সরল পন্থার মাধ্যমে যে কেউ তা পাবে।” [শ্রুতিহীন] এইভাবে এখন আমি বুঝতে পারছি যে এই কলিযুগ সব যুগের মধ্যে খারাপ নয়, এটাই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ। এটাই হচ্ছে সার শিরোমনি, যদি মানুষেরা তা গ্রহণ করে। সহজেই উপলব্ধ এই কৃষ্ণভাবনামৃত পন্থা গ্রহণের মাধ্যমে তা হবে।
মহাপ্রভুর ভিন্ন দূরদৃষ্টিতে, তিনি ভগবদগীতা থেকে একটি শ্লোক উদ্ধৃতি করেছিলেন যে কেবল তাঁদের নাম স্মরণ করার মাধ্যমে, মানুষেরা কেবল জপের এই পন্থার মাধ্যমে আপনার সাথে যুক্ত হবে। তারপরে বদ্ধ জীবাত্মারা ভগবানের প্রতি আকর্ষিত হবে। ভক্তরা ভগবানের মহিমায় হয়ত হরিনামে যুক্ত হতে পারে, যাতে ভগবানের কথা শ্রবণ করে, ভগবানের পবিত্র নাম জপ করে তারা কৃষ্ণের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এটি হচ্ছে এক বিশেষ আশীর্বাদ, এই আশীর্বাদ প্রভুপাদ ব্যাখ্যা করেন যে এটি এত মহান যে এমনকি সর্বলোকের বাসিন্দারাও এখানে এসে চৈতন্য মহাপ্রভুর সংকীর্তন আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী। স্বর্গলোকে তারা তাদের পদ ছাড়তেও প্রস্তুত। যখন বৃহস্পতি শুনেছিলেন যে কৃষ্ণ আবির্ভূত হতে চলেছেন, তখন দেবগুরু তিনি নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন, চৈতন্য মহাপ্রভুর আধ্যাত্মিক গুরু হওয়ার জন্য। যদি আপনি আপনার পূর্ব জীবনে দেবতা হন, তবে একবার যদি আপনি অন্য জন্মগ্রহণ করেন, তাহলে আপনি সেই নির্দিষ্ট শরীর, বদ্ধ শরীর না ছাড়া পর্যন্ত আপনি আপনার পূর্ব জন্মে কি ছিলেন তা স্মরণ করতে পারবেন না এটা একটি আকর্ষণীয় দিক যে দেবতারা নিন্মে আসতে পারে এবং জন্মগ্রহণ করতে পারে ও আবার তাদের দেবতাদের পদে ফিরে যেতে পারে। তাদের জীবনকাল লক্ষ লক্ষ বছর, তাই তারা নিম্নে আসে ও আবার ছুটিতে যাওয়ার মতো উপরে চলে যায়। শুকর হয়ে নিম্নে আসা, এটি হচ্ছে আরেক ধরনের অবসর, তারা এই অভিশাপ দিয়েছিলেন যে তিনি যাতে এই দেহ গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে বৃহস্পতি নিম্নে এসেছিলেন কৃষ্ণের সেবার জন্য, যখন তিনি নবদ্বীপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন, তখন সম্ভবত সেখানে অনেক মায়াবাদী ছিল। মায়াবাদী বা নির্বিশেষবাদীদের সঙ্গ লাভ করে তিনিও মায়াবাদী হয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি কি জন্য এসেছেন তা ভুলে গিয়েছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভুর বিদ্যানগরে পাঠশালায় আসার আগে, তিনি জানতেন যে চৈতন্য মহাপ্রভু বিদ্যানগরে পাঠশালায় আসতেন। চৈতন্য মহাপ্রভু যেখানে পাঠশালায় যেতেন, সেখান থেকে তিনি আরো ১০০ মিটার দূরে ছিলেন, কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভুর সেখানে যাওয়ার আগেই তিনি জগন্নাথপুরীতে চলে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তিনি শঙ্কর পাঠশালায় একজন অধ্যাপক, শিক্ষক এবং সব সন্ন্যাসীদের বেদান্তের আচার্য হন। চৈতন্য মহাপ্রভু পাঠশালায় যেতেন, তবে তিনি (সার্বভৌম ভট্টাচার্য) ইতিমধ্যেই চলে গিয়েছিলেন। তার নাম ছিল সার্বভৌম ভট্টাচার্য, বৃহস্পতি এইরূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আপনারা তার আবির্ভাব স্থান বিদ্যানগর পাঠশালা যেখানে চৈতন্য মহাপ্রভু যেতেন, তার ঠিক পাশেই দেখতে পারবেন। এটি এক অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান। চৈতন্য মহাপ্রভু একদিন কিছু নিতে ভুলে গিয়েছিলেন, তখন শিক্ষক তাকে বকছিলেন, “তোমার কলম কোথায়?” বা এমন কিছু, তখন তার কাছে একটি গাছের ডাল ছিল যা হচ্ছে কলম তৈরির জন্য শ্রেষ্ঠ ডাল। সেই সময় তারা কাঠ থেকে তা উৎকীর্ণ করত। তিনি এটাকে মাটিতে রাখেন এবং [গুরুমহারাজ কিছু আওয়াজ করলেন ফিউউউ] এটা পুরো আকৃতি সহ বেড়ে ওঠে এবং সব শিক্ষকেরা ও ছাত্ররা গিয়ে কলম তৈরির জন্য সেই গাছের ডাল নিয়ে আসে। তাদেরকে নিয়ে আসতেও হয়নি, এটা সেখানে উঠোনেই ছিল। [ভক্তরা হাসছেন] এবং সেই গাছ এখনও সেখানে আছে। উদ্ভিদবিদদের মতে সেটা ওই গাছের বৈকল্পিক নয়, এটা এই বিশ্বে এক অনন্য গাছ। আমি জানিনা এগুলি স্থানীয়। যাইহোক, আমাদের এটি কে যাচাই করতে হবে। ভারতে এইরকম আর কোন গাছ নেই, তারপর চৈতন্য মহাপ্রভু অবশ্য পরে জগন্নাথপুরীতে গিয়েছিলেন এবং তারপর তিনি সার্বভৌম ভট্টাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সার্বভৌম ভট্টাচার্য তাঁকে জগন্নাথপুরী মন্দির থেকে তুলে এনেছিলেন। তিনি জগন্নাথদেবকে দর্শন করে ভাবেবিভোর হয়ে অচেতন হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন, তিনি তাঁকে তার গৃহে নিয়ে আসেন এবং দেখেন যে চৈতন্য মহাপ্রভু গভীর সমাধিতে আছেন, তাই তিনি এমনকি প্রশ্বাসও নিচ্ছেন না। মনে হচ্ছিল যেন কোন হৃদস্পন্দন হচ্ছে না, কিন্তু তারপর তিনি তাঁর নাকের সামনে একটি সুতি বস্ত্র ধরেন এবং দেখেন যে হাওয়া আসার কারনে তা একটু নড়ল আর এইভাবে তিনি বুঝেছিলেন যে তিনি হচ্ছেন এক মহান ভক্ত। তিনি বোঝেননি যে ইনি হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণ। গোপীনাথ আচার্য যিনি এই সম্প্রদায়ের, তিনি এটি প্রচার করেছিলেন যে চৈতন্য মহাপ্রভু হচ্ছেন স্বয়ং কৃষ্ণ, কিন্তু সার্বভৌম ভট্টাচার্য তা তত সহজে গ্রহণ করেন নি। তিনি পারমার্থিক প্রমাণ চাইছিলেন। যাইহোক তারপর যখন তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুকে বেদান্ত শিক্ষা দেওয়ার কথা বলেন, ৭ দিন ধরে তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুকে বেদান্তের শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর কেবল তা শ্রবণ করে যেতেন।
তারপর তিনি বললেন, “কোন প্রশ্ন আছে?”
উনি বললেন, “না!”
“সাত দিন ধরে আমি আপনাকে বেদান্ত শিক্ষা দিচ্ছি এবং আপনার কোন প্রশ্ন নেই? আপনি কি বুঝতে পারছেন না?”
উনি বললেন, “না আপনি যেই সব শ্লোক বলছেন তা আমি বুঝতে পারছি, কিন্তু আমি আপনার বক্তব্য বুঝতে পারছি না।”
“আপনি শ্লোক বুঝতে পারছেন, কিন্তু আমার বক্তব্য বুঝতে পারছেন না।”
ভাষ্য থাকে সেই শ্লোককে আরো বোধগম্য করার জন্য, আর তিনি বলেছিলেন যে আমি শ্লোক বুঝতে পারছি কিন্তু আপনার ভাষ্য বুঝতে পারছি না। তারপর সেই ব্যক্তি বললেন যে পরোক্ষভাবে তিনি তার গালে এক ছোট্ট থাপ্পড় মেরেছিলেন যে “আমি তোমার এই ভাষ্য গ্রহণ করছি না!”
এইভাবে তারপর তিনি বললেন যে, “ঠিক আছে! আপনার ব্যাখা কি?”
তখন চৈতন্য মহাপ্রভু ভাগবত ধর্মের উপর ভিত্তি করে সেই শ্লোকের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন এবং তারপর এটি আত্মরামের ব্যাখায় যায় এবং সেই শ্লোকটি চৈতন্য মহাপ্রভু ৬৪ভিন্ন প্রকারে ব্যাখ্যা করেছিলেন। তা এমন ছিল যে সার্বভৌম ভট্টাচার্য মনে করছিলেন যে তিনি বুঝতে পারছেন যে চৈতন্য মহাপ্রভু হচ্ছেন স্বয়ং কৃষ্ণ। পরমেশ্বর ভগবান ছাড়া কেউই এইভাবে এত নিখুঁতভাবে তা ব্যাখ্যা করতে পারে না [স্পষ্ট নয়] তারপর তিনি সেই সব শ্লোক বলেছিলেন যা গোপিনাথ আচার্য বলেছিলেন যে ভগবান নবদ্বীপে আবির্ভূত হবেন, ২৪ বছর তিনি গৃহস্থ থাকবেন এবং ২৪ বছর তিনি সন্ন্যাসী থাকবেন। চৈতন্য মহাপ্রভুর হচ্ছেন আসলে কৃষ্ণ, তারপর তিনি বললেন, “দয়া করে আপনি আমার কাছে আপনার প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ করুন।” সেই সময় তিনি তাকে তাঁর ষড়ভূজ রূপ দেখিয়েছিলেন। তখন সার্বভৌম ভট্টাচার্য তার প্রণাম নিবেদন করেছিলেন। সেই মন্দিরটি এখনও আছে, যেখানে চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর ষড়ভূজ রূপ সার্বভৌম ভট্টাচার্যকে দেখিয়েছিলেন। সেখানে আমরা সেই শ্রীবিগ্রহ দেখতে পাই, চৈতন্য মহাপ্রভুর ষড়ভুজ রূপ। ভগবান এসে তাঁর ভক্ত বৃহস্পতিকে উদ্ধার করেছিলেন। এই জন্মগ্রহণ করে তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর সংকীর্তন আন্দোলনে যুক্ত হতে চেয়েছিলেন, তিনি [স্পষ্ট নয়]
এইভাবে এখন যখন আমরা এই কৃষ্ণভাবনামৃতে আছি, আমরা হয়ত বলতে পারি যে চৈতন্য মহাপ্রভুর আন্দোলন এখানে ১০,০০০ হাজার বছরের জন্য আছে; তাই এমনকি যদি আমি এই শরীর ছাড়ি ও কৃষ্ণের কাছে ফিরে না যাই, তবে পরবর্তী জন্মে আমি আবার একজন ভক্তরূপে জন্মগ্রহণ করব। দেখুন ভগবদগীতা অনুসারে পরবর্তী জন্ম ব্যবসায়ী হিসেবে ধনী পরিবারে হতে পারে, বা একজন ব্রাহ্মণের পুত্র হিসেবে হতে পারে। তাই হতে পারে তিনি কোন মায়াবাদী ব্রাহ্মণ বা যোগী হতে পারেন অথবা হতে পারে ভক্তি যোগী বা অন্য যোগী। যদি আমরা ভক্তিযোগী পরিবারে জন্মগ্রহণ করি, তাহলে আমাদের ভাগ্য ভাল, নয়ত কম-বেশি অন্যান্য সব জন্মেই নির্দিষ্ট কিছু ঝুঁকি আছে। আপনি ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করলে, আপনার হয়ত কোন আর্থিক প্রয়োজন থাকবে না কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ধনী পরিবারে এত ইন্দ্রিয়তৃপ্তি আছে যে মানুষেরা আধ্যাত্মিকভাবে তত সমন্বয়সাধনকারী নয়। যখন এমন ব্যক্তিরা সদ-প্রচারকের সম্পর্কে আসে, তখন তারা আধ্যাত্মিক পথে ফিরতে পারে এবং যেখানে ছেড়েছিল, সেখান থেকে আবার শুরু করতে পারে। সাধারণত মানুষের জন্য এমনটা হওয়া স্বাভাবিক নয় যে তৎক্ষণাৎ তারা ১৬ মালা জপ করা শুরু করবে এবং সম্পূর্ণরূপে ভক্তিমূলক সেবা অনুশীলন করা শুরু করবে। এর জন্য অনেক সঙ্গ প্রয়োজন, একটু অগ্রগতি প্রয়োজন। যিনি সঙ্গে সঙ্গেই এটি গ্রহণ করছেন ও এর প্রতি আকর্ষিত হয়েছেন। সেটি এই ইঙ্গিত হতে পারে যে পূর্ববর্তী জন্মে তারা ভক্তিমূলক সেবা অনুশীলন করেছেন, কিন্তু তারা তা সম্পন্ন করতে পারেননি। যখন আমাদের কাছে ভক্তিমূলক সেবা করার এই সুযোগ আছে, তখন আমাদের এই জীবনেই কৃষ্ণভাবনামৃত সম্পূর্ণরূপে সম্পন্ন করার এই ঝুঁকি গ্রহণ করা উচিত, কারণ আমরা জানি না আমার পরবর্তী জীবন কি হবে। অবশ্য কোন ভক্ত, হয়ত একজন আধ্যাত্মিক গুরু হয়ত কোন ভাবে আসতে পারেন এবং এমনকি অদ্ভুত কোন স্থান থেকেও আমাদেরকে রক্ষা করতে পারেন কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ তিনি বলেছিলেন যে গুরু কে আবার ফিরিয়ে নিয়ে এসো না। তিনি বিল্বমঙ্গল ঠাকুরের কাহিনী বলেছিলেন যিনি বেশ্যা চিন্তামণির প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিলেন। কিন্তু আসলে চিন্তামণি ছিলেন গুরু, তার পূর্ব জন্মের দীক্ষাগুরু, যিনি এক সুন্দরী মহিলা রূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই জেনে যে তাঁর শিষ্য অবৈধ সঙ্গ করার প্রতি অত্যন্ত আসক্ত, এই পরিস্থিতিতে তার শিষ্যকে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি তার কাছে প্রচার করেছিলেন যে “তোমার এই ক্ষণস্থায়ী মাংস, হাড় ও শ্লেষ্মার শরীরের প্রতি যে আসক্তি আছে, সেই আসক্তি পরমেশ্বর, নিত্য যৌবনময় ভগবান কৃষ্ণের প্রতি থাকা উচিত।” সেটি তাকে অভিঘাত করেছিল এবং তারপর তার জীবন পরিবর্তিত হয়ে যায়।
সেই তাৎপর্যে শ্রীল প্রভুপাদ ব্যাখ্যা করেছেন যে আমাদের নিজেদের কৃষ্ণভাবনামৃতের অনুশীলনে অবহেলা করে গুরুকে পতিতা স্ত্রীরূপে ফিরিয়ে আনার জন্য বাধ্য করা উচিত নয়। শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন এই বলে যে যদি শিষ্য আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে না যায়, তাহলে সেই শিষ্যের উদ্ধারের জন্য আধ্যাত্মিক গুরু ফিরে আসতে পূর্ণরূপে দায়ী। কৃষ্ণ কি কোন বিধান দেন নাকি বা এটা মানুষদের আলোচনার বিষয় হতে পারে, কিন্তু আমি এই ঠিক ভুল সম্পর্কে বেশি কিছু পড়িনি, তবে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে অনেক ক্ষেত্রে গুরুই হচ্ছেন দায়ী। তাকে এটা গ্রহণ করতেই হবে যে যখন তিনি শিষ্য গ্রহণ করছেন, যদি সেই শিষ্য কৃষ্ণভাবনামৃত পূর্ণ করতে না পারে, তবে সর্বশেষে তাকেই আসতে হবে শিষ্যকে রক্ষা করার জন্য; সেই জন্য প্রস্তুত থাকা। সেই জন্য শাস্ত্রে বলা হয় যে গুরুর শিষ্যকে পরীক্ষা করা উচিত যে সেই শিষ্য আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে আন্তরিক কিনা। দীক্ষা গ্রহণ করা কোন সাধারণ বিষয় নয়। এটা এমন কিছু নয় যা আপনি হালকাভাবে নিতে পারবেন কারণ এর মানে আমরা আধ্যাত্মিক গুরুর সাথে আমাদের জীবনকে বন্ধন যুক্ত করছি, কিন্তু পরে আমরা এই পথ ছেড়ে দিলে, তার মানে এটা কেবল আমাদের উপর প্রভাব ফেলছে, আমাদের আধ্যাত্মিক গুরুর উপর প্রভাব ফেলছে, বিভিন্ন প্রভাব। যে গুরুর আজ্ঞা অমান্য করে, মানে গুরুর দেওয়া পথ এবং নির্দেশ অমান্য করে, সেক্ষেত্রে গুরুকে আবার জন্ম নিতে বাধ্য করার জন্য তাকে গুরু দ্রোহী, গুরু হত্যাকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমরা যদি আবার জন্মগ্রহণ করি, তাহলে মৃত্যু আমাদের হবেই, কোন ব্যক্তির অত্যন্ত সতর্ক হওয়া উচিত। অবশ্য অন্যদিকে আরেকজন শিষ্য যেও দুদিন আগে এই সম্পর্কে পড়েছিল যে যদি কোন শীষ্য আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যায়, ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর বলেছেন যে তার পুরো আন্দোলন সবকিছু, সমস্ত ভবন ও এই সবকিছুতে তার আপত্তি নেই, যদি কোন একজন ব্যক্তি শুদ্ধ ভক্ত হয় তাহলে তিনি এই সবকিছুকে তার সফলতা হিসেবে মনে করেন। অবশ্য আমরা অনেক ভক্তদের শুদ্ধভক্ত রূপে চাই, যারা চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা গ্রহণ করছে। প্রভুপাদ আমাদেরকে এটি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করতে অনুরোধ করেছেন। আবার জন্মগ্রহণ করার ঝুঁকি নেবেন না। এই জীবনে সম্পূর্ণরূপে কৃষ্ণভাবনাময় হওয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রয়াস করুন।
শ্রীকৃষ্ণের তাঁর ভক্তদের সঙ্গে এক অত্যন্ত অন্তরঙ্গ রস আছে। তার প্রত্যেক রসে নিজস্ব ভাব আছে। বৃহস্পতির সাথেও তার এক প্রকার রস ছিল, তিনি হচ্ছেন উর্ধ্বলোকের মহান ভক্ত, তিনিও হচ্ছেন বৈষ্ণব, একজন গুরু। যদিও তিনি ছিলেন মূলত, যেমন তিনি হয়ত সবসময় আধ্যাত্মিক জগতে বা স্বর্গলোকে শুদ্ধ ভক্তিমূলক সেবার কথা প্রচার করেননি কিন্তু ভগবানের কৃপায় এই সময় তিনি শুদ্ধ কৃষ্ণভাবনামৃতের শুদ্ধ ঔষধি পেয়েছিলেন। যখন তিনি নিন্মে এসেছিলেন, তখন তিনি কিছুটা বিভ্রান্ত ছিলেন। তাই এই জীবনেই কৃষ্ণ ভাবনামৃত হওয়ার প্রতি পূর্ণ মনোযোগী হয়ে আমাদের কার্যসম্পন্ন করা ভাল। আধ্যাত্মিক গুরুদেব কত দায়িত্ব গ্রহণ করছেন, তাই আমরা তাকে আমাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করি। কখনও কখনও আধ্যাত্মিক গুরু হয়ত এত শিষ্যদের জন্য বা তারা নিয়ম অনুশীলন করছে না বলে ভারাক্রান্ত হতে পারে, এক্ষেত্রে আরো অন্যান্য ঝুঁকিও আছে যে ঠিক মতো পরীক্ষা না করে অনেক বেশি শিষ্য গ্রহণ করলে গুরুর মনও দূষিত হতে পারে, তিনিও জড়জাগতিক হতে পারেন। এর থেকে বাজে আর কি হতে পারে? এটাই হচ্ছে সবথেকে বড় অভিশাপ – অত্যাধিক ভার। সেই জন্য শাস্ত্রে বলা আছে যে অনেক বেশি শিষ্য গ্রহণ কর না, আবার একই সাথে শ্রীল প্রভুপাদ কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করার জন্য এই নির্দেশ দিয়েছেন যে গুরুকে শিষ্য গ্রহণ করতে হবে। আদর্শ অনুযায়ী এই দুটি পরস্পর বিরোধী। একটি স্থানে এটি বলা হচ্ছে যে অনেক বেশি শিষ্য গ্রহণ কর না, আবার অন্য জায়গায় প্রচারের জন্য এটি বলা হচ্ছে যে আপনাকে শিষ্য গ্রহণ করতেই হবে। তখন প্রভুপাদ বলেছিলেন যে কেউ যদি ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে ঐকান্তিক হয়, যদি কৃষ্ণভাবনাময় হতে চায়, নিত্য ভাবে কৃষ্ণের সেবা করতে চায় ও আধ্যাত্মিক গুরুর কাছে আসে, তাহলে গুরুর দায়িত্ব হচ্ছে এইরকম ঐকান্তিক প্রার্থীকে কৃষ্ণের কাছে ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করা। তখন তিনি তাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন না। আপনাদের সকলকে যেটা করতে হবে, তা হচ্ছে একটু পরীক্ষা করা। পরীক্ষা করুন যে তারা আসলে ঐকান্তিক কিনা, তারা কি এই বিষয়ে গুরুগম্ভীর নাকি। কখনও কখনও আমরা মানুষদের জিজ্ঞেস করি যে আপনি কি গম্বীর? আপনি কি ভগবত ধামে ফিরে যেতে চান? তারা বলে হ্যাঁ। আমার মনে পড়ে একজন ব্যক্তি যে বলছিল, “আমি একটি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমি সেই প্রতিজ্ঞা ভেঙেছি, আমি কত প্রতিজ্ঞা করেছি এবং কত প্রতিজ্ঞা ভেঙেছি” [শব্দ স্পষ্ট নয়] কৃপার অভাব...আপনি মহাভারত পড়ুন। মহাভারত হচ্ছে এক মহান ইতিহাস, এতে অনেক নীতিগত নির্দেশ আছে। এতে দেখবেন যে কেউ যদি বচন দেয়, তাহলে তা কত দৃঢ়। আমি বলতে চাইছি পুরো যুদ্ধ বনে গিয়েছে কারণ আমি আমার বচন দিয়েছি, মানুষদের এত সুন্দর চরিত্র ছিল যে তারা যদি কিছু বলে, কোন ব্রাহ্মণকে বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রতিজ্ঞা নেয়, তাহলে তারা তাতেই অটল থাকে। তাতে তার ফলাফল যাই হোক না কেন। যেমন বলি মহারাজ তিনি তার বচন দিয়েছিলেন, তার গুরু বলেছিলেন “আমি তোমাকে অভিশাপ দেব। তুমি সব কিছু হারিয়ে ফেলবে!” তিনি বলেছিলেন, “সে যাইহোক না কেন আমি এই বামন ব্রাহ্মণকে আমার কথা দিয়ে দিয়েছি।” এটাই হচ্ছে, ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়কে একদিকে সরিয়ে রাখে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বৈশ্যরাও, বর্ণাশ্রমের উপরের বর্ণরাও এইরকম। তারা অত্যন্ত উচ্চ সততা যুক্ত এবং এর সন্মান ছিল এমন কিছু, যা প্রচারিত হয়েছিল যে কেউ যদি শপথ নেয়, তাহলে আপনি সেটির উপর নির্ভর করতে পারেন।
আমার মনে পড়ে যে ভারতে সেখানে একজন ব্যক্তি ছিলেন, তিনি সব নিয়ম পালন করছিলেন কিন্তু তিনি তখনও চা গ্রহণ করছিলেন। তবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সম্মানীয় ব্যক্তি এবং তিনি দীক্ষার জন্য ভিক্ষা চাইছিলেন। প্রভুপাদ বললেন, “কিন্তু তুমি চা পান কর! (শব্দ স্পষ্ট নয়) তোমার এটা গ্রহণ করা উচিত নয়।” তিনি বললেন, “আমি জানিনা আমি আর কতদিন বাঁচব, আমি আর কতদিন থাকব, তাই এটাই আমার জীবনের সুযোগ, আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি যে আমি আর কখনও চা গ্রহণ করব না।” তখন প্রভুপাদ সেই ব্যক্তি অত্যন্ত সম্মানীয় পরিবারের ছিলেন এবং এই সব কিছু দেখে তিনি বলেছিলেন যে, “ঠিক আছে আমি তোমার কাজের উপর ভিত্তি করে একটি ব্যতিক্রম করব। অবশ্য তিনি সবকিছু পালন করেছিলেন, কেবল চা-এর ব্যাপারটা ছিল, কিন্তু প্রভুপাদ অবশ্য তিনি আর তা গ্রহণ করেননি। আর কখনও তা গ্রহণ করেনি। তিনি খুব কঠোরভাবে সব পালন করেছিলেন এবং প্রভুপাদ হয়ত ছাড়পত্র দিতে পারেন, কিন্তু আমরা সাধারণত সেই ঝুঁকি গ্রহণ করি না, কারণ আমরা নিজেদেরকে এমনকি আরও বেশি বিনীত অবস্থায় রাখি কারণ আমরা দেখি যে প্রভুপাদ উচ্চক্ষেত্রে বা মানুষেরা যারা এটি আরও গুরুগম্ভীর ভাবে গ্রহণ করছেন তাদের ক্ষেত্রে কিছু স্বাধীনতা দিতে পারেন। এটা পাশ্চাত্যে ছিল, যা শ্রীল প্রভুপাদের কাছে একটু বিরক্তিকর ছিল। মানুষেরা বিবাহের সময় প্রতিজ্ঞা নিত এবং তারা তাতে অটল থাকত না। পরবর্তীতে তারা বন্ধন ছিন্ন করত। তারা সন্ন্যাসের প্রতিজ্ঞা নিত এবং তাতে তারা অটল থাকত না। তারা সংস্কৃতির অভাবে দীক্ষা থেকে পতিত হত। আধ্যাত্মিক সংস্কৃতি যখন আমরা ভগবানের সামনে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করি ও আমরা তাতে স্থির থাকি। (শব্দ স্পষ্ট নয়) শুধু প্রতিজ্ঞা হচ্ছে এমন কিছু যা ভগবানের সামনে নেওয়া হয়, তার প্রীতিবিধানের জন্য বিবাহিত হওয়া হয়, আধ্যাত্মিক পারিবারিক জীবনের জন্য, কৃষ্ণের প্রীতিবিধানের জন্য। দীক্ষার সময় প্রতিজ্ঞা নেওয়া হয়, আধ্যাত্মিক গুরু এবং গুরুপরম্পরার মাধ্যমে কৃষ্ণের সেবা করার জন্য আমরা জানি যে এই ঋষিরা তাদের প্রতিজ্ঞা নিয়েছিলেন যে আমরা এখানে থাকব এবং আমরা আপনার থেকে শ্রবণ করতে চাই। তারা এতে স্থির ছিলেন কারণ তাদের সেই ধরনের চরিত্র ছিল।
যখন পরীক্ষিত মহারাজ বলেছিলেন যে আমি এখানে বসতে চলেছি এবং মৃত্যুর আগে পর্যন্ত উপবাস থাকব, আমি শ্রবণ করতে চাই – আমি পরম সত্যকে পেতে চাই। তাঁরা তাতে স্থির ছিলেন, আমাদের প্রতিজ্ঞা গ্রহন করার মত এত বড় সামর্থ্য নেই, বড় প্রতিজ্ঞা। আমরা কেবল প্রতিজ্ঞা নেই যে মাংস, মাছ, ডিম, পিয়াজ, রসুন খাব না; নেশা করব না; জুয়া খেলব না; অবৈধ সঙ্গ করব না। এগুলি হচ্ছে প্রতিজ্ঞা। আমাদের এই সবগুলি এড়িয়ে চলা উচিত, কিন্তু অনিবার্যভাবে যদি কিছু ঘটে, তাহলে তখনও আপনার কাছে সারা জীবনের জন্য তা এড়িয়ে চলার এই প্রতিজ্ঞা আছে। এমনকি যদি ঘটনাক্রমে আমরা পিছলেও যাই, তবুও তৎক্ষণাৎ আপনাকে নিজেকে আবার সঠিক অবস্থানে পুনঃস্থাপন করাতে হবে। তবুও আমাদেরকে এটি থেকে বিরত থাকতে হবে, যার মানে হচ্ছে নিত্যভাবে আমরা তা থেকে বিরত থাকব এবং তারপর যদি কেউ এর গুরুত্ব না জানে বা এই সম্পর্কে না জানে, তাহলে এমন প্রতিজ্ঞা নেওয়ার আগে আমাদের পরীক্ষা করে দেখা উচিত। যদি আপনি তা গ্রহণ করেন, তাহলে এটি পালনের মাধ্যমে আপনি শক্তি পাবেন। এটি উভয়ভাবে হয়। যদি আপনি কৃষ্ণের সামনে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেন, কৃষ্ণ আপনাকে এটি পালন করতে শক্তি দেবেন, যদি আপনি চেষ্টা করতেই থাকেন। অন্যটি হচ্ছে যদি আপনি আপনার প্রতিজ্ঞা অবহেলা করেন, তাহলে এতে ক্ষতি হয় না, তবে কিছু বিলম্ব হবে। আপনার কাছে এই জীবনেই সেখানে পৌঁছে যাওয়ার এই সুযোগ আছে, তবে এখন অবশ্য তাতে বিলম্ব হবে। তাই আমাদের কৃষ্ণভাবনামৃতে নিজেদের প্রতিজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা উচিত। আপনার সর্বোচ্চ প্রয়াস করুন!
শ্রীল প্রভুপাদ, সফলতার বিভিন্ন ধরনের রহস্যের মধ্যে একটি জিনিস তিনি বলেছিলেন যে, আমি ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের লেখা থেকে বুঝি যে, শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে আধ্যাত্মিক গুরুদেবের নির্দেশ পালন করা শিষ্যের কাছে তার নিজের জীবনের থেকেও প্রিয় হওয়া উচিত। যখন তিনি শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের কাছ থেকে সমগ্র বিশ্বে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করা, গ্রন্থ ছাপানো ইত্যাদি ইত্যাদি নির্দেশ পেয়েছিলেন, সেগুলি তাঁর নিজের জীবনের থেকেও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং গুরুদেবের নির্দেশ পালন করার সেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, সেটি হচ্ছে সফলতার রহস্য। এবং এরপর তারা তর্ক করছিলেন, আমাদেরকে কয়েকজন অত্যন্ত বরিষ্ঠ বৈষ্ণবদের সঙ্গে এমন এক পরিস্থিতিতে রাখা হয়েছিল, তারা আমার থেকে অনেক বেশি বরিষ্ঠ, আমাকে এমন একটি পরিস্থিতিতে ফেলা হয়েছিল যেখানে তারা বলছিলেন যে আপনাকে গুরুর নির্দেশ পালন করতে হবে না। এটি আধ্যাত্মিকভাবে ভালো অনুভব করায় যে আধ্যাত্মিক গুরু সম্পর্কে আমরা যা বলছি এটি তা নয়, আমরা বলি যে আমাদেরকে তার নির্দেশ পালন করতেই হবে, সেটিই হচ্ছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেই মুহূর্তের জন্য তা ভালো অনুভব করাক বা না করাক, কিন্তু চরমে এটি আমাদের নিজেদের ভালোর জন্য যে তার নির্দেশ পালন করতেই হবে। (মায়া) কোন বড় বৈষ্ণব রূপেই হোক, এমনকি বন্ধু, পারিবারিক সদস্য বা কোন সাধারণ মানুষ বা যা কিছু ভাবে সে আমাদের কাছে আসতে পারে আমাদেরকে দিয়ে গুরু পরম্পরার অনুসরণ না করানোর জন্য বা ভক্তিমূলক সেবা অনুশীলন না করানোর জন্য। এটি বলা হয়েছে যে কখনও কখনও দেবতারা, তারাও বিভিন্ন রূপে আসে, যদি তারা মনে করে যে কোন ভক্ত অধিক শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তারা মনে করে যে হয়ত সেই ভক্ত কোন একটি ঊর্ধ্বলোকে জন্মগ্রহণ করবে এবং আমার পদ নিয়ে নেবে। তাই কখনও কখনও দেবতারা এবং অপ্সরারা বা অন্যান্য কেউ স্বপ্নে আসে এবং বিভিন্নভাবে তারা কোন ভক্তের বা বিশেষত সন্ন্যাসীদের জোর কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই অনেক কিছু পরীক্ষা থাকতে পারে। এর সমাধান কি? শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে তোমাকে কেবল গৌর-নিতাইয়ের শ্রীপাদপদ্ম আঁকড়ে ধরে থাকতে হবে। এটা এক ভক্তের সাথে হয়েছিল, যিনি মায়াপুরে থাকছিলেন, তিনি আমাকে বলেছিলেন যে বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি মন্দিরে আসতেন কিন্তু কখনই এটাকে অত্যন্ত গম্ভীরভাবে গ্রহণ করেননি। এক সময় তিনি হাওয়াইয়ের সমুদ্রের ধার দিয়ে হাঁটছিলেন এবং এটা ছিল প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে এক বড় পাহাড় এবং তখনও তিনি ইন্দ্রিয়তৃপ্তির প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিলেন, একটুখানি এটা, একটুখানি ওটা করছিল। আত্মসমর্পণ করছিল না, এমন কি যদিও তিনি জপ করতেন। হঠাৎ তিনি পিছলে যান এবং পাহাড় থেকে পড়ে যান, তারপর মনে হচ্ছে “কেন আমি কৃষ্ণের কাছে আত্মসমর্পণ করলাম না? (শব্দ স্পষ্ট নয়) কেন আমি দেরি করলাম? কৃষ্ণ যদি আমি এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাই, তাহলে আমি সোজা মন্দিরে যাব, আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি!” [ভক্তরা হাসছেন] তিনি এইভাবে কয়েক ঘন্টা ধরে ঝুলে ছিলেন, বলছিলেন যে তিনি মনে করেন নিশ্চয়ই প্রায় ছয় ঘন্টা ধরে সেই রকমভাবে ছিলেন। তার কেবল ঘাম ঝরছিল, যদি হাত ছেড়ে দেন, তাহলে মারা যাবেন। কেবল আঁকড়ে ধরে আছেন এবং তিনি প্রায় এমন অবস্থায় যে “আমি আর বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারছি না! কৃষ্ণ! কৃষ্ণ!” এবং তারপর সেখানে এক দম্পতি হেঁটে যাচ্ছিল, তারা সেখানে তাকিয়ে দেখে যে দুটো আঙ্গুল। প্রথম তারা ভাবছে যে কি হচ্ছে? “আমাকে সাহায্য করুন!” তারা তাকে তোলে এবং তারপর তিনি বলেছিলেন যে তিনি সোজা মন্দিরে গিয়েছিলেন, শ্রীবিগ্রহের সামনে পতিত হয়েছিলেন, “আমি আত্মসমর্পণ করছি।” [ভক্তরা এবং গুরুমহারাজ হাসছেন] (শব্দ স্পষ্ট নয়) ... যাইহোক ভুলে যান, এগুলো ...পদং পদং যদ্ বিপদাং, আমাদের হচ্ছে পদং পদং যদ্ বিপদাং ন তেষাম্ — আমাদের প্রতি পদক্ষেপে বিপদ আছে, আমাদের এখনই শরণ গ্রহণ করা উচিত। যখন আমাদের কাছে সময় আছে যেমন রাজা কূলশেখর প্রার্থনা করছিলেন, “আমি বৃদ্ধ বয়সে মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইনা তখন আমার গলা ধরে আসবে, আমার দাঁত পড়ে যাবে, এবং আমি কোন কিছু শুনতে পারব না আর আমি শ্লেষ্মা দারা পূর্ণ হয়ে যাব এবং আমি কৃষ্ণের পবিত্র নাম জপ করতে চাইব, আর এর পরিবর্তে আমার গলায় যে শব্দ আসবে তা হচ্ছে কিছু [কফ পরিষ্কারের শব্দ নকল করলেন] ভালো হবে আমাকে এখনই গ্রহণ করুন; যখন আমি সুস্থ আছি এবং মানসিকভাবেও শরীর এবং মন দিয়ে আমি আপনার পবিত্র নাম সম্পর্কে চিন্তা করতে পারব। আমার চেতনাকে পদ্ম বীজ মধ্যে আবদ্ধ রাখুন, যেমন রাজহাঁস নিজেকে জলের তলায় পদ্মবৃন্তের সাথে আবদ্ধ রাখে। তারা সুযোগ গ্রহণ করতে চায়, অবশ্য কৃষ্ণ তাঁর ভক্তদের রক্ষা করেন। যদি আমরা ভক্তিমূলক সেবায় অবিচলিত থাকি, তাহলে কৃষ্ণ থাকেন। শ্রীল প্রভুপাদ আশ্বস্ত করেছেন যে সবশেষে তিনি আমাদেরকে হতাশ করবেন না। প্রস্তুত থাকুন আমরা জানি যে যেকোনো সময় বিপদ আসতে পারে, যে কোন সময় হঠাৎ মৃত্যু হতে পারে।
এক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে আমার একের অধিক বার অভিজ্ঞতা আছে এবং খুব স্পষ্টভাবে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ৯৮ সালে। কোন সর্তকতা ছাড়া মৃত্যু উপস্থিত থাকতে পারে, তখন আপনাকে এই শরীর হয়ত ছাড়তেই হবে। তাই আমাদের কোন আমন্ত্রণ দেওয়া উচিত নয় এবং আমি পরে কৃষ্ণভাবনাময় হব এটা এক অনর্থ। এখন আমাদের প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করা উচিত, ব্রহ্ম জিজ্ঞাসা — পরম সত্যকে উপলব্ধি করতে আমাদের জিজ্ঞাসা সমাপ্ত করা। নৈমিষারণ্যের ঋষিরা তারা এক সদ্গুরু পেয়েছিলেন, তারা তার শরণ গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন, তারা তার কাছ থেকে পরম সত্য সম্বন্ধে শ্রবণ করতে চেয়েছিলেন, তারা এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি এবং তারা কেবলমাত্র তাদের নিজেদেরই ভালো করছিলেন না, তারা ভাবছিলেন যে সব মানুষেরা যাতে লাভবান হয়। ভক্তরা হচ্ছে তরুর মতো, যারা তাদের ছায়া এবং সুরক্ষা কেউ তাদের শরণ গ্রহণ করলে তাকে প্রদান করেন। তারা দেখতে চায় যে সমগ্র বিশ্ব যাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয় প্রদান করা হয়। একদিকে তারা ভগবানের পূর্ণ আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং অন্যদিকে তারা দেখতে চায় যে অন্যরাও যাতে রক্ষিত হয়। শ্রীমদ্ভাগবতের এই পরিচায়ক শ্লোকগুলি অত্যন্ত নির্দেশমূলক, কালকে সুহত্র মহারাজের জন্য খুব ভালো একটি শ্লোক আছে। যা হচ্ছে কলিযুগের বৃত্তান্ত। তার রসিকভাবের জন্য আমি নিশ্চিত যে তিনি নিশ্চয়ই খুব আকর্ষণীয় ও নির্দেশমূলকভাবে তা বলবেন। আমাদের কলিযুগের প্রভাব থেকে বিরত থাকা উচিত। আমাদের এই বিশেষ আশীর্বাদ গ্রহণ করা উচিত, আমরা এই শ্রেষ্ঠ যুগে থাকতে পারি, আবার আমরা সব থেকে বাজে যুগেও থাকতে পারি। ভালো দিকে যুক্ত হওয়া। আজ, কাল আমরা অভাগা, অলস, বিপথগামী কলহের কলিযুগের কারণে বিরক্ত হতে পারি, যা হচ্ছে আমরা যদি কৃষ্ণভাবনামৃত গ্রহণ না করি, তাহলে তার বিকল্প এবং এটি আমরা দেখতে পারছি। আজ সকালে আমি তাড়াতাড়ি সমুদ্রের পাড়ে সমুদ্রে গিয়েছিলাম, মঙ্গল আরতির আগে তাড়াতাড়ি দর্শনের জন্য আমি এক ছেলেকে শুভ সকাল বললাম এবং আমাদের সে অশ্লীল ভাষা বলে কুকথা বলতে শুরু করে। আমি এমন কি জানিনা যে সেই অস্ট্রেলিয়ান কি বলছিল, কিন্তু এমন কিছু বলেছিল যা আমি আপনাদের কাছে পুনরাবৃত্তি করে বলতে পারব না যে সে কি বলছিল [ভক্তরা এবং গুরু মহারাজ হাসছেন]। এই সকাল, সকালে ভালো সূর্য উদয় হয়েছে এবং তারা সম্পূর্ণ তম গুণে আছে, বিপথগামীএবং কোন কারণ ছাড়াই বিরক্ত। তাই মানুষেরা এত কষ্ট ভোগ করছে, এখন মানসিক অস্থিরতাও আছে যা তারা ভোগ করছে এবং কিছু কৃষ্ণ প্রসাদ পাওয়ার মাধ্যমে, হরিনাম শ্রবনের মাধ্যমে, বাস্তবিকভাবে বলতে গেলে এই সমস্ত ব্যক্তির আর কি আশা আছে? আধ্যাত্মিক জীবনের দিকে কোন আগ্রহ নেই বা এমন কি ভক্তদের প্রতি প্রতিকূল কিন্তু তবুও ভক্তরা এত দয়ালু যে প্রত্যেককে প্রসাদ নেওয়ার, পবিত্র নাম শ্রবণ করার, রথযাত্রা দর্শনের সুযোগ দেয়। ভক্তরা হচ্ছে বাঞ্ছা কল্পতরু এবং প্রত্যেককে সর্বোচ্চ আশির্বাদ প্রদান করছে।
প্রভুপাদ আমাদেরকে সেই সুযোগ দিচ্ছেন, তিনি বলেছেন, “যদি তুমি মনে কর যে তুমি আমার জন্য কিছু পেয়েছ বা যদি তুমি ঋণী অনুভব কর, তাহলে অন্যদেরকে তা দেওয়ার প্রচেষ্টা কর।” আমাদের শ্রীল প্রভুপাদ যা প্রদান করেছেন তা গ্রহণ করা উচিত, নিজেদের জন্য তা সম্পূর্ণরূপে সদ্ব্যবহার করা উচিত এবং এরপর তা অন্যদেরকে প্রদান করার চেষ্টা করা উচিত।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে
কোন প্রশ্ন আছে?
ভক্ত :- [স্পষ্ট নয় 00:48:56]
জয়পতাকা স্বামী:- কৃষ্ণ সবসময় তাঁর নাম থেকে অভিন্ন।
ভক্ত:- [স্পষ্ট নয় 00:49:00]
জয়পতাকা স্বামী:- অন্যান্য যুগে, যদি আপনি অপরাধযুক্ত ভাবে পবিত্র নাম কীর্তন করেন, তাহলে আপনি কৃষ্ণ প্রেম পাবেন না, আপনাকে অপরাধশূন্য ভাবে নাম কীর্তন করতে হবে। অজামিল কোন অপরাধ ছাড়া নাম উচ্চারণ করেছিলেন, তাই তিনি উদ্ধার পেয়েছিলেন, কিন্তু পবিত্র নাম অপরাধ শূন্যভাবে করা অত্যন্ত কঠিন। চৈতন্য মহাপ্রভু এক বিশেষ বিধান দিয়েছেন যে প্রথমে তাঁর নাম কীর্তন করার মাধ্যমে, তাঁর পূজা করার মাধ্যমে তাহলে কোন অপরাধ হবে না এবং তখন আপনি চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপায় পবিত্র নাম কীর্তন করতে পারবেন। কার্যত অপরাধ শূন্য নাম। এমনকি যদি কিছু অপরাধ থাকেও তবে চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপায় তবুও আমরা অমৃত পেতে পারবো। প্রভুপাদ বর্ণনা করছিলেন যে সহজিয়ারা অপরাধ করে, কিন্তু যখন তারা চৈতন্য মহাপ্রভুর নাম নেয়, তারা মহাভাব অনুভব করে। অবশ্য তাদের অপরাধ হয়ত নিত্য কৃষ্ণ প্রেম লাভ করা থেকে তাদেরকে বাধা প্রদান করে, কিন্তু ক্ষণস্থায়ীভাবে অন্ততপক্ষে তারা ভাব অনুভব করে এবং যদি আমরা দেখি যে তারা নাম কীর্তন করছে ও অপরাধ মুক্তভাবে নাম জপ করছে, তাহলে সেটা স্থায়ী হয়। [স্পষ্ট নয় - ০০:৫০:১৭] তবে উদাহরণস্বরূপ, চৈতন্য ভাগবতে অনেক উদাহরণ দেওয়া আছে, দৃষ্টান্ত স্বরূপ এটি বলা হয়েছে যে অজামিল তিনি সত্য যুগে নারায়ণের নাম গ্রহণ করেছিলেন, আমি বিশ্বাস করি এবং কেবল এই নাম উচ্চারণের মাধ্যমে তিনি উদ্ধার পেয়েছিলেন। এছাড়াও দ্বাপর যুগে দ্রৌপদী উচ্চারণ করেছিলেন “কেশব! কৃষ্ণ!”, যখন বস্ত্র বা শাড়ি ছিঁড়ে দেওয়া হচ্ছিল এবং সেই নাম উচ্চারণের মাধ্যমে কৃষ্ণ তিনি তৎক্ষণাৎ সেই স্থানে গিয়েছিলেন এবং তিনি এসে তাঁর অপরাধশূণ্য নাম উচ্চারণের জন্য তাকে উদ্ধার করেছিলেন। যদি কেউ অপরাধশূন্যভাবে নাম কীর্তন করে, তাহলে পবিত্র নাম সর্বদাই শক্তিশালী কিন্তু এই কলিযুগে এটা হচ্ছে যুগধর্ম, এটাই হচ্ছে নির্দেশিত পন্থা। দৃষ্টান্তস্বরূপ প্রত্যেক যুগে একটি পন্থা আছে; নাম অন্যান্য যুগেও কীর্তন করা হত, কিন্তু যেমন সত্যযুগে মূল পন্থাটি ছিল ধ্যান করা, কেউ যদি নাম উচ্চারণ করতেন, তাহলে হয়ত মানসিকভাবে কিছু মন্ত্র উচ্চারণ করতেন, কিন্তু তারা মূলত ধ্যান অনুশীলন করতেন। যেমন ধ্রুব মহারাজ তিনি যদিও নাম জপ করছিলেন, কিন্তু একইসময় মানসিকভাবে তিনি অত্যন্ত গভীর যোগ ও ধ্যান করছিলেন। যখন ত্রেতা যুগ ছিল, অগ্নিযজ্ঞ হত, তবুও কিছুজন ধ্যান করতেন, কিছু জন কিছুটা মন্দিরে পূজা করতেন, কয়েকজন নাম জপ করতেন; তবে মূল বিষয়টি হচ্ছে অগ্নিযজ্ঞ। দ্বাপর যুগে মন্দিরে পূজা হত, তবুও আপনি দেখবেন যে অশ্বমেধ যজ্ঞ ও অন্যান্য কিছু যজ্ঞ ছিল। কিন্তু মূল পন্থা বা মূল প্রক্রিয়া ছিল মন্দিরে পূজা, কৃষ্ণের পূজা। কলিযুগে আমাদের এখনও বিবাহ, দীক্ষা বা কোন বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য অগ্নিযজ্ঞ হয়, কিন্তু এটা আত্ম-উপলব্ধির মূল প্রক্রিয়া নয়, অগ্নিযজ্ঞের সাথে আমরা কীর্তন করি হরে কৃষ্ণ। আমাদের শ্রীবিগ্রহ অর্চন হয়, কিন্তু তার সাথে আমাদের এইটাও আছে যে আমরা নাম কীর্তন করি, আরতি, অনুষ্ঠান করি যা ভজন এবং কীর্তনে পূর্ণ। আমরাও ধ্যান করি, যদি আপনারা এটাকে বলতে চান যে দিনে ৫ মিনিট গায়ত্রী মন্ত্রে ধ্যান করা, কিন্তু আমরা হরেকৃষ্ণ কীর্তন করি। তাই সব যুগেই সব পন্থা আছে কিন্তু এর অনুপাত আছে। যেমন এই যুগ ধর্ম হচ্ছে হরিনাম, আমরা হরিনামের উপর নির্ভরশীল, মন্দিরে পূজা-অর্চনা হচ্ছে এরপরে সবথেকে লক্ষ্যণীয় এবং তারপরে কখনও কখনও অগ্নিযজ্ঞ হয় এবং ধ্যান অত্যন্ত বিরল ব্যাপার। মানুষেরা আজকাল ধ্যান করে, কিন্তু এই সব প্রক্রিয়া থাকলেও একমাত্র যা সবথেকে প্রভাবশালী, যা নির্দেশিত, তা হচ্ছে সেই পন্থা যা আমাদেরকে লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাবে, তা হল এই যুগে হরিনাম কীর্তন করা। হরিনাম... কলিকালে ধর্ম, হরিনাম সংকীর্তন। [স্পষ্ট নয় ৫৩:২৫] এখন হচ্ছে অবতার।
নাম চিন্তামণিঃ কৃষ্ণশ্চৈতন্যরসবিগ্রহঃ।
পূর্ণঃ শুদ্ধো নিত্যমুক্তোভিন্নতানামনামিনোঃ॥
(চৈ চ মধ্য ১৭.১৩৩)
আপনারা কি এই শ্লোকটি জানেন? নামনামিনোঃ – কৃষ্ণ এবং তাঁর নাম হচ্ছে অভিন্ন। চিন্তামণিঃ কৃষ্ণ – কৃষ্ণের নাম হচ্ছে দিব্য, চিন্তামণির দিব্য গুণাবলী। নাম কৃষ্ণশ চিন্তামণিঃ, চৈতন্যরসবিগ্রহঃ – ভক্তিমূলক প্রেমময় ভাবের দিব্য আনন্দময় রস স্বরূপ। রসবিগ্রহঃ – অমৃতে পরিপূর্ণ। পূর্ণঃ শুদ্ধো নিত্যমুক্তো – হচ্ছে সম্পূর্ণরূপে শুদ্ধ, নিত্যমুক্তো – নিত্য মুক্ত। সব জড়জাগতিক গুণাবলী থেকে দিব্যভাবে মুক্ত এবং এটি অভিন্ন কৃষ্ণ এবং তাঁর নাম হচ্ছে অভিন্ন। অভিন্ননামনামিনোঃ; অভিন্ন ভিন্ন মানে আলাদা [গীতা ৭.৪] – ভিন্ন শক্তি। এটা হচ্ছে অভিন্ন – অভিন্ন, আলাদা নয়। সব সময় কিন্তু এই যুগে বিশেষত এটা সবথেকে শক্তিশালী, কারণ কৃষ্ণ এবং তাঁর নাম হচ্ছে অভিন্ন। আপনি সরাসরি কৃষ্ণের সঙ্গ পাবেন, কৃষ্ণের স্পর্শ পাবেন, কৃষ্ণের উপস্থিতি বুঝতে পারবেন তাঁর নাম কীর্তন করার মাধ্যমে। এবং সরাসরিভাবে কৃষ্ণের সঙ্গে থাকার থেকে বেশি শুদ্ধকারী কি আছে? কৃষ্ণ সূর্য শম, মায়া অন্ধকার, যাঁহা কৃষ্ণ তাঁহা নাহি মায়ার অধিকার — কৃষ্ণ হচ্ছেন সূর্যের মতো, মায়া হচ্ছে অন্ধকার, যেখানে কৃষ্ণ আছেন সেখানে কোন মায়া নেই। আমরা কৃষ্ণের উপস্থিতিতে থাকব এবং তা অন্ধকার দূরীভূত করে দেবে। ঠিক আছে?
ভক্ত:- [স্পষ্ট নয় – ০০:৫৫:০৮] এবং শ্রীল প্রভুপাদ এগিয়ে যান ও যদি আমরা, শিষ্য ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে না পারে, তাহলে সেই শিষ্যকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য গুরুকে ফিরে আসতে হবে।
জয়পতাকা স্বামী:- গুরু হচ্ছেন দায়ী।
ভক্ত:- দায়ী ... বাহ! আমি এক্ষুনি ভাবছিলাম যে এটাই হয়ত!
জয়পতাকা স্বামী:- এটা আকর্ষণীয়! আমরা সব সময় তা দেখি না, অবশ্য একজন নিত্যমুক্ত জীবাত্মা অনেক কিছু করতে পারে। জড় জগতে ফিরে আসা মানে এমন নয় যে তার জন্ম নেওয়া প্রয়োজন। যদি আপনি মুক্ত হন, তাহলে আপনি এমনকি ১০মিনিটের জন্য, একদিনের জন্য বা এক বছরের জন্যও আসতে পারেন। ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের সাথে এক আকর্ষণীয় লীলা হয়েছিল যে একদিন একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি আশ্রমে যুক্ত হন, তিন দিন ধরে তার কাছে আসছিলেন এবং তাকে কিছু প্রশ্ন করছিলেন, ভক্তিসিদ্ধান্ত তাঁর সাথে একাকী কথা বলতেন এবং তারপর তিনদিন পরে তিনি মারা যান আর ভক্তিসিদ্ধান্ত অত্যন্ত গভীর ধ্যানে ছিলেন, তিনি তার কিছু শিষ্যদের বলছিলেন যে আমার গুরু এই রূপে এসেছেন এবং আমি তাকে বুঝতে পারিনি, এখন তিনি চলে গেছেন। এই দিনের আগে পর্যন্ত কেউই তা জানত না। এটাও কোন বিষয়ের মধ্যে একটি, এছাড়া কোনভাবে তার গুরু অন্য স্বরূপে এসেছিলেন কিন্তু, এর মানে এই নয় যে গুরুকে আসতে হবে এবং জন্মগ্রহণ করতে হবে। এটা হচ্ছে সর্বশেষে কৃষ্ণ তাকে পাঠাতে পারেন, তখন তাকে আসতেই হবে, কিন্তু এটা প্রাধান্য নয়। শীষ্যকে রক্ষা করার হয়তো অন্যান্য কিছু পথও আছে। তিনি হয়ত রক্ষা করবেন, প্রতিনিধি পাঠাবেন, সর্বশেষ হচ্ছে তাকেই হয়তো ফিরে আসতে হবে, এছাড়া তিনি তা পারেন। শুধু মনে রাখুন যে একই সাথে এর মানে এই নয়, সেক্ষেত্রে হয়ত অন্য কোন পথ থাকবে যাতে তিনি তাকে সাহায্য করতে পারেন। [স্পষ্ট নয় ৫৭:২০] সেই শিষ্যকে ফিরিয়ে আন, জন্মগ্রহণ না করা পর্যন্ত। দিব্য জগৎ, আমি এটাও বলব, আমি জানিনা যে ভাবপ্রবণতা বা যাইহোক আমি একবার সেখানে ছিলাম এবং বিবেচনা করছিলাম যে কিভাবে কিছু ভক্তরা কত গ্রন্থ বিতরণ করছে, আমি দেখছিলাম কিভাবে কিছু ভক্তরা শ্রীল প্রভুপাদের আন্দোলনের জন্য কত আত্মত্যাগ করছে। আমি যেন অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম এবং আমি কত কৃতজ্ঞ অনুভব করছিলাম। শ্রীল প্রভুপাদের আন্দোলনে ভক্তদের উত্সাহী সেবার দ্বারা। তারপর আমি ভাবছিলাম যে পরবর্তীতে যদি এমন ভক্ত জড়জগতে হারিয়ে যেত, তাহলে তিনি কোন দ্বিধাবোধ করতে না। এমনকি যদি তিনি শিষ্য না হন তবুও, কারণ যে কেউ ফিরে আসার জন্য আশ্রয়ে আসতে পারে এবং এই রকম ব্যক্তিকে বাঁচানোর প্রচেষ্টা করতে পারে, যাতে তারা তাদের আধ্যাত্মিক জীবন অব্যাহত রাখে। এটা হচ্ছে, আধ্যাত্মিক জীবন হচ্ছে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ঠিক যেমন যদি কোন ব্যক্তি আগুনে মারা যাচ্ছে, তাহলে মানুষেরা সেই আগুন লাগা গৃহের দিকে ছুটে যায় এবং তাদের প্রিয়জনকে বার করে নিয়ে আসে, এমন নয় যে, অবশ্য প্রথমে সবকিছুই নিয়ম-নীতি কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে যে এটাও ব্যক্তিগত সম্পর্ক। গুরু তার শিষ্যকে এত ভালবাসেন যে তিনি প্রেমবশতই তা করতে চান, এমন নয় যে আপনি তা করতে বাধ্য। শ্রীল প্রভুপাদের কৃপায় আমি কিছু উপলব্ধি করেছি এবং আমি এরও প্রশংসা করি যে কিভাবে একটি নির্দিষ্ট সময়ে আমি এক গভীর উপলব্ধি পেয়েছিলাম যে এটি আপনাকে ভক্তদের প্রতি কিছু বিশেষ প্রেম ও স্নেহ অনুভব করাবে। আমরা এইভাবে গ্রহণ করতে পারি, এটা অবশ্যই কোন স্বইচ্ছাশূণ্য বোঝা নয়, প্রাথমিক ক্ষেত্রে আমরা হয়ত তা এমন ভাবে নিতে পারি। প্রচেষ্টা করো এবং বোঝো। প্রভুপাদ বলেছিলেন যে কিভাবে আধ্যাত্মিক গুরু হয়ত ফিরে আসতে পারেন, এমনকি যদি সেই ব্যক্তি দীক্ষিত শিষ্য না হয় তবুও। একজন শিক্ষা শিষ্য, প্রেমবশত, কৃপাবশত তিনি হয়ত ফিরে অসবেন। যদি আপনি শোনেন যে কেউ ডাকছে, তাদের প্রার্থনায় তাদের মনে তারা ক্রন্দন করছে, তারা মায়ায় আটকে আছে, কৃষ্ণ জানেন যে প্রিয় জীব সেই জন্য দৌড়াচ্ছে। তাই কোন আধ্যাত্মিক গুরুর হয়ত সেই স্নেহ আছে, যাওয়া এবং আসার জন্য আত্মত্যাগ করা ও শিষ্যকে রক্ষা করা। আধ্যাত্মিক গুরু এত কৃপালু, তিনি এত দয়ালু, তাই আমাদের কেন এমন করা উচিত? এটা এমনকি এইরকম নয় যে ঠিক আছে কৃষ্ণ বলছেন তাই আমাকে ফিরে যেতে হবে। আসলে আমরা নিজেদের ইচ্ছায় ফিরে যেতে চাই, প্রেমের কারনে, স্নেহবশত। কিন্তু কেন আমাদের জোর করা উচিত? কেন আমাদের গ্রহণ করা উচিত? এটিকে বলা হয় কৃপণ। কৃপাহীন। কেউ যদি আমাদেরকে এত ভালবাসে এবং আমরা কেবল নির্দয়ের মতো আছি ও ভালো যত্ন নিচ্ছি না। আমাদের কৃষ্ণভাবনামৃত পালন করা উচিত এই জেনে যে শ্রীল প্রভুপাদ কত, গুরুদেব কত, বৈষ্ণবরা আসলে কত আমাদের কথা ভাবেন। এবং যখন তাদের আমাদের প্রতি এত ভালোবাসা আছে, তাহলে আমরা তাদেরকে কোন অসুবিধার সম্ভাবনার কথাও কেন বলতে চাইব। প্রেমবশত আপনি অসীম কার্যাবলী করতে পারেন, নিয়ম-নীতি হচ্ছে প্রারম্ভক কিন্তু প্রেমবশত আপনি আরো কিছু করতে পারেন। মানুষেরা বলে যে আমি কি করতে পারি? আপনি যদি আসলে পরম্পরার মাধ্যমে কিভাবে প্রেম নিন্মে এসেছে তা একটু কৃতজ্ঞতার সাথে অনুভব করেন, তাহলে বলার কোনো কিছুই নেই যে আপনি কি করতে পারেন। যেমন তারা বলে যে ভালোবাসা পর্বতকেও হিলিয়ে দিতে পারে, কিন্তু কৃষ্ণ আমাদেরকে কত ভালোবাসেন। আমরা তাঁদের দিকে এক পদক্ষেপ নিলে, তাঁরা আমাদের দিকে দশ পদক্ষেপ নেয়। তাই আমাদের কেন দেরি করা উচিত? বৃহৎ ভাগবতামৃতে আছে যা হচ্ছে জীবাত্মার ভ্রমণ বর্ণনা, যা সনাতন গোস্বামী কর্তৃক আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে। অবশেষে যখন সেই জীবাত্মা কৃষ্ণের কাছে গিয়েছিলেন, সেটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। অবশেষে আধ্যাত্মিক জগতে ঊর্ধ্বে যাওয়া, আবার জড় জগতে নিন্মে আসার পর, আপনারা জানেন যে তিনি ১৪ ভুবনে মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন, ব্রহ্মজ্যোতি, কৈলাস, ব্রহ্মজ্যোতি, বৈকুণ্ঠ অযোধ্যা, দারোকা, আপনারা নাম বলতে পারেন। তিনি জাগতিক এবং আধ্যাত্মিক পুরো সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন, কৃষ্ণের খোঁজ করছিলেন এবং অবশেষে যখন তিনি কৃষ্ণের সাথে সাক্ষাত করেন, তখন কৃষ্ণ তাকে আলিঙ্গন করেন এবং তিনি কেবল অভিভূত হয়ে গিয়েছিলেন, তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝড়ছিল এবং তিনি কেবল ক্রন্দন করছিলেন। কৃষ্ণ বলছিলেন, “আমি তোমার জন্য কত দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছিলাম। তোমার এত সময় লাগল কেন?” কেন আমরা কৃষ্ণকে দূরে হতে দিতে চাই? তিনি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন, আমাদের ভাবনার থেকেও বেশি তিনি আমাদের ফেরার জন্য অধিক আগ্রহী এবং আমরা কেবল দেরি করছি। আরও দেরি করছি। আমাদের পা পিছনে টানছি, কত কিছু তুচ্ছ জিনিসকে আমাদের মূল প্রাধান্য করে রাখছি, কিন্তু ভক্তিমূলক সেবাকে পিছনে রাখছি। আমাদের ভক্তিমূলক সেবাকে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রাধান্য হিসেবে রাখা উচিত এবং আমাদের বেঁচে থাকার জন্য যা করতেই হবে, আমরা তা করব।
ভক্ত:- প্রভুপাদ ভগবদগীতায় বলেছেন, যে ভক্তিমূলক সেবার এই পন্থা গ্রহণ করে, তা কম বেশি জাগতিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার মত। কিভাবে একজন ভক্ত তা ব্যবহার করবে না এবং এটিকে ভক্তিমূলক সেবায় উন্নতির ক্ষেত্রে এক বাধা হিসেবে দেখবে?
জয়পতাকা স্বামী:- আমরা কোনটাকে বাধা হিসেবে দেখব? যুদ্ধ ঘোষণা করা...
ভক্ত:- হ্যাঁ! মায়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা, যার মানে হচ্ছে যে... আমি পড়েছি যে মায়ার দুটি শক্তি আছে, চৈতন্যচরিতামৃতে এটি বর্ণনা করা আছে যে মায়ার দুটি শক্তি আছে এবং তাদের মধ্যে একটি হচ্ছে আকাঙ্ক্ষী সাধককে ভক্তি সেবার পথ থেকে ছুড়ে ফেলা।
জয়পতাকা স্বামী:- রামায়ণের কাহিনী? আপনি জানেন যে যখন মরিচি এসেছিল এবং সেই স্বর্ণ, বিভিন্ন রংয়ের রামধনু হরিণ, আর তারপর শ্রীরাম তা সীতার অনুরোধে ধরতে গিয়েছিলেন ও সীতাকে লক্ষণের সুরক্ষায় রেখেছিলেন, কিন্তু তারপর সেখানে সেই গুরুগম্ভীর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে মরীচি রামের স্বর করে। তখন সীতা বলেছিলেন যে “তুমি যাও এবং রামকে রক্ষা করো।” তিনি বললেন, রামের কোন সুরক্ষার প্রয়োজন নেই। কেউই তার কাছে আসতে পারবে না, তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন। তখন লক্ষণ একটি গোলাবৃত রেখা করেছিলেন, তিনি বলেছিলেন যে এই রহস্যময় রেখা ছেড়ে না যেতে, কেউ এর ভিতর প্রবেশ করতে পারবে না। যখন রাবণ এক সাধুর বেশে এসেছিল, সে প্রবেশ করার চেষ্টা করেছিল। তখন তিনি (সীতা দেবী) কিছু খাবার আনতে যান এবং সেও সেখানে যায়। [গুরু মহারাজ এবং ভক্তরা হাসছেন] “আমি এর মধ্যে দিয়ে যেতে পারছি না” তখন তিনি বললেন যে, “ভিতরে আসুন!” কারণ যেহেতু সে ছিল শত্রু, তাই প্রবেশ করতে পারছিল না। সে বলল, “না! না! আমি সেখানে যেতে পারবো না! আমি অত্যন্ত ক্লান্ত। আপনি এখানে বের হয়ে আসুন।” যেহেতু সে একজন সাধুর বেশ ধরে ছিল, একজন সন্ন্যাসী বা একধরনের সাধুর মতো ছিল, আর সীতা সবসময় ভক্তদের সেবা করতেন, তাই এইভাবে সে তাকে ঠকিয়ে ছিলেন। অবশ্য প্রকৃত সীতা দেবী বের হয়ে আসেননি, মায়া সীতা বেরিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সেই রহস্যময় রেখা, আপনি এটি বিভিন্ন বর্ণনায় ব্যবহার করতে পারেন কিন্তু একটি বিষয় যা আপনি বলতে পারেন, তা হচ্ছে যে তিনি সুরক্ষিত ছিলেন, কিন্তু তার সেটি ছেড়ে আসা উচিত হয়নি। এইভাবে এখানেও একটি রহস্যময় বেষ্টনী রেখা আছে — আপনি গুরুর নির্দেশ পালন করুন এবং মায়া আপনার কাছে যেতে পারবে না, কিন্তু যখন আমরা পথ ভ্রষ্ট হই, যখন আমরা আধ্যাত্মিক গুরুর নির্দেশ উপেক্ষা করি, যখন আমরা একজন বৈষ্ণবের প্রতি অপরাধ করি, তখন আমরা পবিত্র নামের প্রতি অপরাধ করি। আমাদের সেই সব কিছু করতে হবে যা আমাদেরকে সেই সুরক্ষিত রেখার বাইরে নিয়ে যাবে, নয়ত আমরা সুরক্ষিত। মায়া অপেক্ষা করছে, সে দোর গোড়ায় অপেক্ষা করছে, কিন্তু ভক্তরা তারা কিভাবে কৃষ্ণভাবনাময় হবে এটা কোন সাধারণ বিষয় নয়, কৃষ্ণভাবনাময় হওয়ার জন্য আপনার গুরু এবং কৃষ্ণের কৃপা থাকতে হবে, কেবল ভক্ত। এটি বলা হয়েছে যে ভক্তের কখনও অধঃপতন হয় না, আমরা কতবার সেটি শুনেছি, এর মানে কি? কারণ যদি কৃষ্ণ ভক্তকে রক্ষা করেন, তাহলে কিভাবে ভক্তদের অধঃপতন হয়? কারণ তারা কিছু সময়ের জন্য ভক্তদের মত আচরণ করা বন্ধ করে দেয়। কারণ আপনারা জানেন বস্তুত ভক্তের মত আচরণ না করলে তাদের অধঃপতন হয়, এই কারণে এটি বলা হয় যে আপনাকে নিতাই গৌরের শ্রীপাদপদ্ম আঁকড়ে ধরে রাখতে হবে। আমাদেরকে সেই সুরক্ষিত আশ্রয়ের মধ্যে থাকতে হবে। কঠিনতার সম্মুখীন হচ্ছেন, এর উপযোগ কী? একসময় এক ভক্ত উদ্বিগ্ন ছিল এবং প্রভুপাদ বললেন, “তুমি উদ্বিগ্ন কেন? তোমার গুরু এখনো এই জগতে আছে, তুমি তাকে প্রশ্ন করতে পারো, তুমি কার কাছে সন্দেহ দূর করতে পারো। গুরু থাকা মানে তোমার সব সমস্যা সমাধান।” যদি তোমার কাছে একজন সৎ গুরু থাকেন।[শব্দ স্পষ্ট নয়] আমরা আমাদের আধ্যাত্মিক গুরুর কাছে বলতে পারি আপনার আদেশ কি? আপনার নির্দেশ কি? সেটা আমরা পালন করি। আমরা সুরক্ষিত ছিলাম কিন্তু যখন আমরা আধ্যাত্মিক গুরুর সাথে আলোচনা করি না, বৈষ্ণবের সাথে আলোচনা করি না, শাস্ত্র অনুসরণ করি না, তখন আমরা সেই সুরক্ষিত রেখার বাইরে চলে যাই। যেকোনো ভাবে সে আমাদেরকে নিতে চায়। মায়া অপেক্ষা করছে এই কারণে আমরা বলি কৃষ্ণ হচ্ছেন সূর্য, যেখানে কৃষ্ণ আছেন, সেখানে কোন মায়া নেই। আমাদের সবসময় কৃষ্ণকে দেখতে হবে, আপনি কৃষ্ণের থেকে ভিন্ন দিকে দেখুন, আপনি সূর্যের থেকে অন্য দিকে দেখুন, আপনি পিছনে কি দেখতে পাবেন? আপনার ছায়া। মায়া হচ্ছে সেই ছায়ার মত, সে আপনার পিছনেই আছে, আপনাকে তাকে খুঁজতে হবে না, আপনি কৃষ্ণের থেকে ভিন্ন দিকে দেখলে সে সেখানে উপস্থিত, এরপর এর তাৎপর্য কি? কখন আমাদের কৃষ্ণের থেকে অন্যদিকে তাকানো উচিত? আমাদের নিজেদের মনোযোগ কৃষ্ণে রাখতে হবে, মুখ....
কৃষ্ণ ভুলি যেই জীব অনাদি বহির্মুখ ।
অতএব মায়া তারে দেয় সংসার দুঃখ ।।
(চৈ চ মধ্য ২০.১১৭)
আপনারা সেই শ্লোক কি জানেন? কৃষ্ণ, যখন আমরা আমাদের মুখ সরিয়ে নেই, বহির্মুখ, বহির মুখের আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে নিজেদের মুখ দূরে করে নেওয়া বা এটি বাইরের দিকে করে নেওয়া এবং আসলে এটা অনুবাদ করা যায় যে আপনার মুখ ইন্দ্রিয়তৃপ্তির দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া। ভক্তিমূলক সেবা হচ্ছে আচরণ — আমি সবকিছু কৃষ্ণের প্রীতিবিধানের জন্য করি, কৃষ্ণ প্রতিকূল সবকিছু বর্জন করি। যখন আমরা আমাদের মুখ সেবা ভাবনা থেকে দূরে সরিয়ে দিই এবং এর পরিবর্তে আমরা ভোগ করতে চাই, ইচ্ছামত ভোগ অর্থাৎ ইন্দ্রিয়তৃপ্তি করার বাসনা করি, তখন কি হয়? তখন আমরা সংসার আদি দুঃখ লাভ করি, তারপর আমরা জাগতিক দুঃখ ভোগ করি। সব দুঃখ, আমি কত দুঃখ পাই, এইসব দুঃখ হচ্ছে আমাদের ইন্দ্রিয়তৃপ্তির বাসনার জন্য। যদি আমরা কেবল আমাদের মুখ কৃষ্ণের দিকে রাখে, যদি আমরা কেবল কৃষ্ণের সেবা করার ইচ্ছা রাখি, তাহলে কোন কষ্ট নেই। কষ্ট তখন থেকে শুরু হয়, যখন আমরা বাসনা করি। যেই মুহূর্তে আমরা কোন কিছু উপভোগ করার বাসনা করি, সেটাই হচ্ছে দুঃখ। বিলাপ, আকাঙ্ক্ষা এবং উদ্বিগ্নতা ও ভয়। এইরকম আরেকটি শ্লোক আছে [স্পষ্ট নয় – ০১:০৮:০৯]
কৃষ্ণ ভুলিয়া জীব ভোগবাঞ্চা করে
নিকটস্থ মায়া তারে ঝপটিয়া ধরে।।
তুমি তোমার মুখ কৃষ্ণের থেকে অন্যদিকে কর, এটি একই রকমের শ্লোক, অনেকটা একই রকমের। আপনি কৃষ্ণের থেকে মুখ অন্য দিকে করুন, ইন্দ্রিয়তৃপ্তির বাসনা করুন, নিকটস্থ মায়া আছে, মায়া আপনার কাছেই আছে, সে ঝাপটিয়া ধরে এবং ঠিক যেমন আপনার ফুটবল বল দখল করার মতো। সে আপনাকে ধরে ফেলবে, মায়া। আপনি অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলের ধরনের মতো ভাবতে পারেন। সেখানে অনেক এইরকম কুস্তি হয়, ঠিক তো? আপনি ভাবতে পারেন যে তারা পুরো দল আপনাকে জুড়ে আছে, কেবল একটা ভুল পদক্ষেপের অপেক্ষা করছে এবং তখনই তারা ঝাঁপ দিয়ে পড়তে পারে। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি এগিয়ে যাচ্ছেন, কৃষ্ণের দিকে চোখ আছে, তারা কিছুই করতে পারবে না, যখনই আপনি ইন্দ্রিয়তৃপ্তির দিকে তাকাবেন হঠাৎই আপনি সেখানে স্ক্রামের মাঝখানে পড়ে যাবেন। এটা তাদের জন্য যারা রাগবি-এর ব্যাপারে জানে।
মায়া, তিনি এখানে আছে কিন্তু আপনারা বলবেন যে কিভাবে আমরা কৃষ্ণভাবনাময় হতে পারব? এই কারণে এটি বলা হয়েছে যে ছোট শিশুর মত হতে। কেবল নিজের অভিভাবকের উপর নির্ভর করা, কেবল গুরু ও কৃষ্ণের ওপর নির্ভরশীল হওয়া, কেবল তাই করা। আমি এত দুর্বল, আমার কৃষ্ণভাবনাময় হওয়ার কোন যোগ্যতা নেই, আমি বড় পণ্ডিত নই, আমি বড় ভক্ত নই, আমি কেবল তুচ্ছ পতিত জীব। আমি কেবল চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপায়, পরম্পরায় তাঁর শুদ্ধ প্রতিনিধিকে সত্যিই অনুসরণ করার মাধ্যমে কৃষ্ণভাবনাময় হতে পারব। এবং এইভাবে, আমাকে তা হতেই হবে, কারণ এটাই হচ্ছে সফলতার রহস্য। এইভাবে আপনি সফল হতে পারবেন। যদি আপনি মনে করেন আমি বড় পণ্ডিত, আমি এটা করতে পারব, এটা ছোট কিছু আমি মহান ভক্ত, এটা কোন বিষয় নয়, আমি পুরনো ভক্ত, ঠিক আছে আমি যদি কিছুটা মায়ায় দিকে যাই, তাহলে আমি এর দ্বারা প্রভাবিত হব না। হা! হা!
[ভক্তরা: হাসছেন] নিজের সাথে ছেলে খেলা করবেন না।
মায়া আপনার থেকেও অধিক শক্তিশালী। এর পরিবর্তে সর্বদা বিনয়ী অবস্থায় থাকুন, কেন মহান আচার্যরা প্রার্থনা করেছেন?
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু দয়া কর মোরে
তোমা বিনা কে দয়ালু জগৎ-সংসারে
পতিত পাবন হেতু তব অবতার
মো-সম পতিত প্রভু না পাইবে আর
আমার থেকে অধিক পাপী আর কাউকে পাবেন না। পাপী – কেউ আমার থেকে অধিক পাপী নয়। নরোত্তম দাস ঠাকুর শুদ্ধ ভক্ত, তিনি বলছেন। ভক্ত হোক বা ভক্তিম যাই হোক না কেন তারা বলছে যে আমরা সব থেকে পাপী, সবার থেকে বেশি পাপী। এটাই হচ্ছে সেই অবস্থা যা তিনি গ্রহণ করছেন। আপনি হচ্ছেন সব থেকে কৃপালু, আপনি পতিত জীবদের উদ্ধারকারী, আমি সব থেকে পতিত, সেই জন্য প্রথমে আমার উদ্ধার হওয়া উচিত। যদি আমরা মনে করি যে আমার বিনয়ী, গুরু এবং গৌরাঙ্গের কৃপার উপর নির্ভর করছি, তাহলে মায়া হয়ত ধরার জন্য প্রস্তুত থাকবে, কিন্তু সে কোন সুযোগ পাচ্ছে না। কঠিন নিয়তি! যদি আপনি তাকে একটি সুযোগ দিতে চান, তাহলে তিনি তা নেবে। তাকে কোন সুযোগ দেবেন না। এটাই ভক্তরা অনুভব করে। বিনয়ী থাকুন, জানুন যে আমার সব সময় তাদের কৃপা প্রয়োজন। কেন মহান আচার্যরা এইরকম প্রার্থনা করছেন? তারা এমন প্রার্থনা করছেন না যে “আমি একজন পুরাতন ভক্ত, আমি একজন আচার্য, আমার কঠোরভাবে সব পালন করতে হবে না, আমাকে এসব করতে হবে না, আমি এসব একটু এড়িয়ে যেতে পারি।” আপনারা শুনবেন না যে ভক্তিবিনোদ ঠাকুর এটা এমন বলেছেন, আপনারা কেবল শুনবেন যে কিছু ৭ বছর বা ১০-১২ বছর পুরনো ইসকনের ভক্ত এমন বলছে যে আমি পুরনো ভক্ত।
এই কলি যুগে আমরা কোথা থেকে আসছি? এখানে খুব কমই কেউ বৈষ্ণব, প্রত্যেকেই মায়াবাদ বা স্মার্ত থেকে আসছে। শ্রীল প্রভুপাদ মানুষদেরকে ধরে নিয়েছেন, আপনারা জানেন কিছু ব্যক্তিরা তারা বৈষ্ণব পরিবারে জন্মগ্রহণ করার দাবি করে। আমরা জানি যে প্রভুপাদ তাদেরকে মায়াবাদ থেকে তুলে নিয়েছেন। এটা কোন ব্যাপার নয়, একবার আপনি শুদ্ধ ভক্তিমূলক সেবায় যুক্ত হলে সেটাই গণ্য করা হয়। এটি বলা হয়েছে যে কোন ব্যক্তি ভক্তিমূলক সেবায় যুক্ত হওয়ার আগে কি ছিল সেটা কোন উচিত যুক্তি নয়। এটি এমন যে এক সময় আমার মা বিবস্ত্র ছিলেন – যুক্তি। তিনি একসময় ছোট শিশু কন্যা ছিলেন, তিনি তখন বিবস্ত্র ছিলেন কিন্তু এখন তিনি আর বিবস্ত্র নয়, এখন তিনি একজন মাতা, তিনি একজন শ্রদ্ধেয় মহিলা। তাই, একজন ব্যক্তি আগে কি ছিল এবং এখন তারা কি, এটার আর কোন তৎক্ষণাৎ গুরুত্ব নেই। প্রভুপাদ বলতেন যে যদি আপনি ভক্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, তাহলে তা এক ভালো ইঙ্গিত। বিষয়টি হচ্ছে এখন আমাদের বর্তমানটি দেখতে হবে। আমাদের ভক্তিমূলক সেবায় স্থির হওয়া উচিত। আমাদের এই বিনয়ীভাব রাখা উচিত।
আপনারা দেখবেন যে কিভাবে নরোত্তম ঠাকুর হচ্ছেন এক বড় রাজকুমার, যদি তিনি চাইতেন তাহলে তিনি রাজা হতে পারতেন। তিনি ছিলেন রাজকুমার। তিনি রাজ সিংহাসন অন্য কারো হতে দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি ছিলেন আজীবন ব্রহ্মচারী প্রচারক, তিনি নিজেকে সব থেকে পতিত হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন, আমার আপনার কৃপা আরো দরকার। এটা চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা পাওয়ার সাফল্য। চৈতন্য মহাপ্রভু আমার আপনার কৃপা দরকার কারণ আমার এই গুণ আছে, আমার পিএইচডি আছে, আমার এমবিএ আছে, আমি কত দীর্ঘ সময় ধরে ভক্ত, আমি কালকে সংকীর্তন থেকে ১৭টা বই নিয়েছি তা নয়। আমরা সবকিছুই এমনভাবে গ্রহণ করি যে আমার আপনার কৃপা দরকার কারণ আমি হচ্ছি সবথেকে পতিত এবং আমরা জানি যে যদি আমি এছাড়াও সবকিছু করি কেবল নিজেকে বিনয়ী রাখার জন্য, তাহলে এটা হচ্ছে গুরু এবং কৃষ্ণের কৃপা। যদি আমি ২৫টি গ্রন্থ পাই বা ১৫০টি গ্রন্থ বা ১০০০গ্রন্থ পাই তাহলে গর্বিত না হয়ে কিভাবে থাকতে পারি? সেটা কৃষ্ণের কৃপায় হয়েছে, কৃষ্ণ আমার মাধ্যমে যন্ত্র স্বরূপ কার্য করছেন। যদি আমি ততটা পতিত না হতাম, তাহলে আমি আরো অনেক কিছু করতে পারতাম, আমি এর দ্বিগুণ করতে পারতাম। ভক্তরা সব সময় মনকে সেই বিনয়ী অবস্থায় থাকার প্রশিক্ষণ দেয় এবং এইভাবে আপনি মায়া থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারবেন। যেমন প্রভুপাদ বলেন, সব থেকে পতিত, আমাদের আরো অনেক গুণ আছে এটা বলার জন্য যে আমি অধিক পতিত। সনাতন গোস্বামী বলেছেন যে, “আমরা জগাই মাধাইয়ের থেকেও অধিক পতিত। তারা হচ্ছেন নবদ্বীপে ব্রাহ্মণ বালক। আমরা রাজার জন্য কার্য করেছি, আমরা এখানে সরকারের জন্য কার্য করেছি। তারা হচ্ছে গো-হত্যাকারী এবং আর সবকিছুই। তাই আমরা অধিক পতিত।” চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছিলেন, “তোমরা আমার হৃদয় ভঙ্গ করছ।” শুদ্ধ ব্রাহ্মণ পরিবারের তারা হয়ত কাজ করে, কিন্তু তাদের রোজ ভাগবত পাঠ হত এবং ও পুরো নবদ্বীপ তাদের অনুদানে চলত। তারা প্রত্যেকদিন জপ করতেন, কৃষ্ণ পূজা করতেন কিন্তু তারা নিজেদেরকে এইভাবে উপস্থাপন করছেন, তারা দেখছেন যে আমার মধ্যে কি দোষ আছে এবং তারা সেটিকে প্রকাশ করছেন যে আমরা হচ্ছি সবথেকে পতিত। জগাই মাধাই, তারা মহান ভক্ত ছিলেন, আপনি তাদের উদ্ধার করেছিলেন। আমরা তাদের থেকেও পতিত, তাই আমাদের আপনার কৃপা বাকি সবকিছু থেকে বেশি প্রয়োজন। চৈতন্য মহাপ্রভু বললেন, “থাম! তোমরা আমার হৃদয় এত ভঙ্গ করছো যে আমি এটা মানতে পারছি না।” তারপর তিনি তাঁর শ্রীচরণ বের করে তাদের মাথায় রাখলেন। আমরা ভাগবতমের মতো আমাদের কল্পনাকে ব্যবহার করতে পারি, সেইটুকু কল্পনা করা দরকার। আমরা আমাদের বুদ্ধিকে ব্যবহার করতে পারি যে কিভাবে আমাদের চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা দরকার, আমরা কত পতিতই আর চৈতন্য মহাপ্রভু হচ্ছেন সব থেকে কৃপালু। সেই জন্য আমাদের তাঁর কৃপা অধিক প্রয়োজন। এখানে কেউ কি চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা চান? আপনার হাত তুলুন!
ঠিক আছে, যদি আপনি আমায় বলেন যে এত কৃপালু, তাহলে আপনাকে মায়ার সম্পর্কে ভাবতে হবে না, না আমরা মায়ার প্রতি ভীত। সেইভাবে আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করি। আমরা এইরকম ভাবেই থাকি, যদি আমরা মায়াকে আর ভয় না করি, তাহলে আমরা সমস্যায় পড়ব। যদি আপনি মায়াকে ভয় করেন, তাহলে তা ঠিক আছে। এমনকি দেবকী মায়াকে ভয় করেছিলেন। প্রভুপাদ বলেছিলেন যে ভক্তরা মায়াকে ভয় করলে তা খুবই ভালো, যখন ভক্তরা মায়াকে ভয় করে না, সেটাই সমস্যার কারণ মায়া আমাদের একে অপরের থেকেও অধিক শক্তিশালী, কিন্তু আমরা কৃষ্ণের আশ্রয়ে আছি। কৃষ্ণের হাত ধরে থাকলে মায়া কিছু করতে পারবে না, মায়া কৃষ্ণের থেকে বেশি শক্তিশালী নয়।
শ্রীল প্রভুপাদ কি!
ভক্তগণ:- জয়!
চৈতন্য মহাপ্রভু কি!
ভক্তগণ:- জয়!
শ্রীমদ্ভাগবতম কি!
ভক্তগণ:- জয়!
নিতাই গৌর প্রেমানন্দে!
ভক্তগণ:- হরি হরি বোল!
Lecture Suggetions
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ