Text Size

২০২৬০৬০৬ দীক্ষা বক্তৃতা

6 Jun 2026|Bengali|Initiation Address|Atlanta, USA

মুখম করোতি বাচালম পংগুম লংঘায়তে গিরিম
ইয়াত-কৃপা তম অহং বন্দে শ্রী-গুরু দীনা তারিণম
পরমানন্দ-মাধবম শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম
তারিৎ সতীহি

জয়পতাকা স্বামী: তো, আজ সকালে আমার জ্বর ছিল এবং আমি রথযাত্রায় যোগ দিতে পারিনি। এখন আমার জ্বর সেরে গেছে এবং আমি এখন কথা বলার চেষ্টা করছি। ১৯৬৮ সালে যখন আমি ইসকনে যোগ দিই, তখন আমি শ্রীল প্রভুপাদের সঙ্গে দেখা করতে মন্ট্রিলে গিয়েছিলাম। আর শ্রীল প্রভুপাদ ভেবেছিলেন যে আমার বাবা-মা খুশি হবেন এবং আমি আমার বাবা-মাকে লিখেছিলাম যে আমি ভক্ত হয়েছি! কিন্তু আমার বাবা বললেন, তুমি এক্ষুনি ফিরে এসো! নইলে আমি তোমাকে ভিয়েতনাম সেনাবাহিনীতে পাঠিয়ে দেব। সেই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার নিয়ম চালু ছিল। আমি শ্রীল প্রভুপাদকে জিজ্ঞাসা করলাম আমার কী করা উচিত? তিনি বললেন, কৃষ্ণের সেনাবাহিনীতে থাকাই ভালো! তাই আমি কৃষ্ণের সেনাবাহিনীতে যোগ দিলাম। তখন থেকেই আমি কৃষ্ণের সেনাবাহিনীতে আছি। এর কোনো অবসর নেই! আমি কৃষ্ণের সৈন্যদলে দীক্ষা নিয়েছি এবং আমরা মায়া দেবীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত! আমরা এই মন্ত্র জপ করে কলিযুগের প্রভাব থেকে নিজেদের রক্ষা করি:

হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, হরে হরে/
হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম, হরে হরে!

এটাই একমাত্র উপায়। ভগবানের নাম জপ করুন। আমাদের দিনে ১৬ মালা জপ করা উচিত। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীল প্রভুপাদ আমাদের এই কর্মসূচিটি দিয়েছেন। তাই, আমরা প্রতিদিন ন্যূনতম ১৬ মালা জপ করি। এইভাবে আমরা আমাদের চারপাশের কলিযুগের প্রভাবকে প্রতিহত করতে পারি। আমরা দেখি যে মানুষ অজ্ঞানতা এবং রজোগুণের প্রভাবে রয়েছে। এমনকি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুও বৈষ্ণব ও বৈষ্ণবীদের জন্য এই প্রক্রিয়াটি দিয়েছেন। সেটাই আমাদের একমাত্র ভরসা। আমরা চাই আপনারা খুব কঠোর হোন এবং শ্রীল প্রভুপাদের সেবা করুন। তাই, পাপকর্ম পরিহার করার জন্য আমাদের চারটি বিধানও রয়েছে। আপনারা এগুলো আগেও শুনেছেন। আজ, পরম পূজ্য ভক্তি পুরুষোত্তম স্বামী একটি বক্তৃতা দিয়েছেন। এছাড়াও, পবিত্র নাম আমাদের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। তাই, আমরা পবিত্র নামের প্রতি দশটি অপরাধই পরিহার করতে চাই। অমনোযোগী থাকার কারণে আমরা আসলে অনেক নীতি ভঙ্গ করি এবং পবিত্র নামের প্রতি অনেক অপরাধ করি, এবং ধীরে ধীরে আমরা আরও মনোযোগী হতে পারি। তখন আমরা পবিত্র নাম জপ করতে পারি, শুদ্ধিকরণ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারি এবং অবশেষে অপরাধমুক্ত পর্যায়ে যেতে পারি। কিন্তু অজমিলও কেবল তাঁর পুত্র নারায়ণ বলেই ডাকছিলেন। কিন্তু কোনোভাবে নামটি ভগবান থেকে অভিন্ন। তাই, তিনি নারায়ণ নামটি জপ করেছিলেন, তিনি ভেবেছিলেন যে তিনি তাঁর পুত্রকে বোঝাচ্ছেন। যাইহোক, সেই জপের দ্বারা তিনি শুদ্ধ হয়েছিলেন এবং বিষ্ণুদূতরা তাঁকে রক্ষা করতে এসেছিলেন। তাই আপনি সর্বদা জপ করুন:

হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, হরে হরে/
হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম, হরে হরে!

মরীচি দাস আমাকে বলেছেন কৃষ্ণের বাঁশি কী চমৎকার! গোপীদের কান কৃষ্ণের বাঁশির শব্দে ভরে যায়। আর হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রটি কৃষ্ণের বাঁশিরই প্রতীক । তাই, শিষ্যরা মাঝে মাঝে আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমি কি কম মালা জপ করতে পারি? মানে, আপনারা কি কলিযুগের প্রভাবে আরও বেশি উন্মুক্ত হতে চান? আমি তো স্নান করার সময় এক মালা জপ করি! আমি ১৬ মালারও বেশি জপ করি। কিন্তু যখন পারি না, যেমন যখন আমার স্ট্রোক হয়েছিল, তখন আমার ডান পাশে পক্ষাঘাতের মতো প্যারেসিস হয়েছিল এবং আমি জপ করতে পারিনি। তাই আমি আমার গণনাকারী দিয়ে গুনি, কমপক্ষে ১৭২৮। আমি সব সময়ই জপ করি!

আমার সাম্প্রতিক ব্যাস-পূজা বক্তৃতায় আমি কিছু ধারণা দিয়েছিলাম যে কীভাবে ভক্তরা তাঁদের কৃষ্ণভাবনায় অগ্রসর হতে পারেন। যেমন, যাঁরা এখনও গায়ত্রী জপ করেন না, তাঁদের জন্য হরিনামের আয়োজন করা। তাঁরা প্রত্যেক সন্ধ্যায় একবার করে জপ করতে পারেন এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে এর মহিমা বর্ণনা করা হয়েছে। আমার প্রথম দীক্ষা গ্রহণের আগে, শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে ভগবদ্গীতা দশবার পড়তে বলেছিলেন । দশবার! তারপর থেকে, আমি ভগবদ্গীতা ১০ বা ২০ বার পড়েছি । আমি ভগবদ্গীতা থেকে বর্ণাশ্রম ব্যবস্থা বোঝার চেষ্টা করছিলাম । শ্রীল প্রভুপাদ বর্ণাশ্রম ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন । এই বর্ণাশ্রম ব্যবস্থাকে আমরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করি। বর্ণাশ্রম একটি ধীর প্রক্রিয়া, যা বহু জন্ম ধরে চলে। আমরা অপেক্ষা করতে পারি না। এটা কলিযুগ! আমরা জানি না পরের জন্ম কী হবে। তাই আমরা এই জীবনেই ভগবানের কাছে ফিরে যেতে চাই! আমাদের গুণ সত্ত্ব , রজঃতমঃ নয় । আমরা বৈষ্ণব বা বৈষ্ণবী। যদি আমরা হরে কৃষ্ণ জপ করি, তবে এই জীবনেই ভগবানের কাছে ফিরে যেতে পারি। একই সাথে, আপনি যে কাজ করছেন, সেই কাজ কৃষ্ণের জন্য এবং আপনার সেভাবেই চিন্তা করা উচিত। কলিযুগে আমাদের লিঙ্গ সমতা, সাম্যবাদসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। আমরা তা পরিবর্তন করতে পারি না। কিন্তু আমরা যা করতে পারি তা হলো মানুষকে কৃষ্ণভাবনাময় করে তোলা। তারা তাদের কাজ কৃষ্ণের জন্য, ঈশ্বরের জন্য করতে পারে। আমরা ঈশ্বরের জন্য কাজ করি, আপনারও ঈশ্বরের জন্য কাজ করা উচিত। তারা যিশুকে গ্রহণ করুক বা আল্লাহকে বা অন্য যা-ই হোক, আমরা কৃষ্ণকে গ্রহণ করি। তাই, শ্রীলা রূপ ও সনাতনের মতো অনেকেই যখন অবসর গ্রহণ করেন, তখন তাঁরা তাঁদের সঞ্চয়ের ৫০% কৃষ্ণকে দান করেন। কিন্তু অনেকেই অবসর নিচ্ছেন না। যদিও শ্রীলা রূপ ও সনাতন গৃহস্থ থাকাকালীনও প্রচুর দান করতেন এবং তাঁদের কাছ থেকে দান পাওয়ার জন্য লোকেরা লাইনে দাঁড়াত। আমি সুপারিশ করি যে লোকেরা যেন তাদের বেতনের ন্যূনতম ১১% দান করে। যদি তারা ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে, তবে ১১ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। যাইহোক, আমাকে কিছুটা বলতে বলা হয়েছিল। আমার মনে হয় আমি একটু বেশিই বলে ফেলেছি! ( হাসি )

সুতরাং, এটা কলিযুগ, আমরা ব্রত গ্রহণ করেছি। এখানে কারা ব্রত গ্রহণ করেছেন? যারা ব্রত গ্রহণ করেননি, তাদের মধ্যে কে দীক্ষা নিচ্ছেন? সুতরাং এই অঙ্গীকারগুলো আপনার সারাজীবনের জন্য। আর মাতাজীদের যখন সন্তান হয়, আমি তাঁদের কিছুটা বিবেচনার ক্ষমতা দিই। যখন আমি স্ট্রোকের কারণে কোমায় ছিলাম, স্বাভাবিকভাবেই, আমি জপ করতে পারিনি, কিন্তু জ্ঞান ফেরার পর আমি আবার জপ শুরু করি। সুতরাং, কলিযুগ চলছে। এটি একটি ক্ষণস্থায়ী প্রভাব। আমি আগেই উল্লেখ করেছি যে নারদ মুনি ভগবান ব্রহ্মাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “আমি কীভাবে কলিযুগের প্রভাব থেকে মুক্ত হব?” ভগবান ব্রহ্মা বলেছিলেন, “একটি গুপ্ত মন্ত্র আছে ।” তখন নারদ মুনি জিজ্ঞাসা করলেন, “সেটি কী?”

হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, হরে হরে/
হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম, হরে হরে!

ইতি ষোড়শকং নামনাং - এই ১৬টি নাম। কলি-কল্মষ-নাশনম্ – এগুলি আমাদের কলিযুগের প্রভাব থেকে মুক্ত করে, সর্ব-বেদেষু দৃশ্যতে – সমস্ত বেদে এর চেয়ে উত্তম ব্যবস্থা পাওয়া যায় না ।

তাই, শ্রীল প্রভুপাদ পশ্চিমে এসে আমাদের এই মন্ত্রটি দিয়েছিলেন । আমরা সেটি জপ করছি এবং যত বেশি জপ করি, তত বেশি আস্বাদ লাভ করি। শ্রীল রূপ গোস্বামী বলেছিলেন যে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ ও শ্রবণ করার জন্য তাঁর লক্ষ লক্ষ কান ও লক্ষ লক্ষ জিহ্বা থাকা উচিত । তিনি অভিযোগ করছিলেন যে ভগবান ব্রহ্মা তাঁকে হরে কৃষ্ণ শোনার জন্য যথেষ্ট কান দেননি। আমরা প্রজল্প শুনতে চাই না , আমরা শুনতে চাই।

হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, হরে হরে/
হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম, হরে হরে!

কেউ নামগুলো পড়বে।

হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, হরে হরে/
হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম, হরে হরে!

হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, হরে হরে/
হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম, হরে হরে!

হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, হরে হরে/
হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম, হরে হরে!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by Jayarāseśvarī devī dāsī
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions