Text Size

২০২৪০৮১৯ হুগলি জেলায় নামহট্ট সম্মেলনে প্রদত্ত প্রবচন

19 Aug 2024|Duration: 00:18:55|Bengali|Nāmahaṭṭa Programs|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: হুগলি জেলাতে অনেক নিত্যানন্দ প্রভুর পূজা হয়েছে। নিত্যানন্দ প্রভু হচ্ছেন বলরামের অবতার। আজকে হচ্ছে বলরাম পূর্ণিমা। তো আপনাদের উপর নিতাই গৌরের আশীর্বাদ নিশ্চয়ই আছে। নিতাই এবং গৌরের হুগলি জেলাতে অনেক গৌরের ভক্তবৃন্দের অনেক শ্রীপাট রয়েছে। এবং আশা করছি যে নামহট্ট এই সমস্ত শ্রীপাট কেন্দ্র করে প্রচার করবেন। তো আমরা চৈতন্য ভাগবত, চৈতন্য মঙ্গল এবং চৈতন্য চরিতামৃত এই সমস্ত ইতিহাস হুগলি জেলার সেখানে অভাব নেই। নিতাই গৌর অনেক প্রচার করলেন নবদ্বীপে। তারপরে যখন গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু সন্ন্যাস নিয়েছেন, তিনি চলে গেলেন নীলাচলে। নীলাচলে মহাপ্রভুর সঙ্গে ছিলেন নিতাই। কিন্তু ভগবান শ্রীচৈতন্যদেব আদেশ দিয়েছেন নিত্যানন্দ প্রভুকে এবং নিত্যানন্দ প্রভু কিছু ভক্ত নিয়ে ফিরে গিয়েছেন বাংলায়। তো নবদ্বীপে এভাবে গৌর নিতাই প্রচার করলেন, কিন্তু নিতাই হুগলি জেলায় প্রচুর প্রচার করেছেন। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে এই হুগলি জেলায় যাতে প্রচার হয় সেই দায়িত্ব নিতে হবে। প্রতিবেশী, আত্মীয় সবাইকে কৃষ্ণ নামের মহিমা বলতে হয় এবং এইভাবে হুগলি জেলায় প্রচুর প্রচার থাকতে হবে।

আমি সুযোগ নিয়ে আমাদের জগন্নাথ, বলদেব, সুভদ্রা, সুদর্শন চক্র দর্শন করলাম। আজকে যে জগন্নাথ, বলদেব, সুভদ্রার দর্শন নিলাম, আজকে বলরাম পূর্ণিমা তাই তাঁদের দর্শন নিলাম। আমি শুনছি যে হুগলি জেলার ভক্তরা হরিধ্বনি করতে পারে। এবং আমি শুনছি যে হুগলি জেলার মহিলারা উলুধ্বনি করতে পারে।

এখন নবদ্বীপ ধামে কয়েকটা জায়গা আছে যেখানে বলরাম লীলা করেছিলেন। উত্তর দিকে একটি জায়গা রয়েছে যেখানে কার্তিক মাসে স্নান করলে বিশেষ কৃপা পাওয়া যায়। এবং জলঙ্গি নদীর পাশে কিছু জায়গা রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে জগন্নাথ মন্দিরের। যেখানে বলরামের মায়াসুরের সাথে যুদ্ধ লেগেছে। এবং আমরা খুঁজে পাচ্ছি না কোথায় এই স্থান। কিন্তু একটা বৃদ্ধ গ্রামবাসী উনি বলছিলেন যে একটা মাঠ আছে, যার নাম হচ্ছে মায়ামারি ক্ষেত। এর থেকে আমরা দেখছি যে বলরাম মায়াসুরকে মেরেছেন। এখন প্রভুপাদ বলেছিলেন তার পূর্বপুরুষগণ হুগলি জেলা থেকে এসেছেন। তাই তিনি আমাকে বলেছিলেন যে হুগলি জেলা বাদ দিয়ে পদ্ম ভবনে ফিরে যেতে। কিন্তু আমি বাদ দিতে পারি না। এই হুগলি জেলার দুই ভাগ হয়েছে। তার মানে অনেক ভক্ত রয়েছে। আমি অনেক জায়গায় কিছু বলেছি এখানে নামহট্টের সম্মেলনে। কিন্তু এরকম একটা জেলাকে দু’ভাগ করতে হল, এটা আমি প্রথম শুনছি। আপনাদের ওখানে অনেক ভক্ত, অবিরাম ঠাকুর হুগলি জেলায় ছিলেন। এবং আদি সপ্তগ্রাম ওখানেও অনেক ভক্ত ছিল। তো আপনারা এই প্রচার ছাড়বেন না। চেষ্টা করুন আত্মীয়, প্রতিবেশী, বন্ধুগণ, সবাই যাতে চৈতন্য মহাপ্রভুর অনুগামী হয়।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে!

আশা করি মায়াপুরে আপনারা যা কিছু সেবা করবেন, তার হাজার গুণ বেশি ফল পাবেন।

আমি এখানেই সমাপ্ত করছি। আমি সকলকে আশীর্বাদ দিব— কৃষ্ণে মতি রস্তু!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by আনন্দলীলা পদ্ম দেবী দাসী 18/07/2025
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions